বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতে দাখিলের কথা রয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে তদন্ত চললেও এখনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় এরই মধ্যে ৯৭তম বারের মতো সময় পেয়েছে সংস্থাটি।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় করা এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আজ জমা হবে কি না তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
এর আগে গত ৯ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। সেদিন সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় শুনানি শেষে আদালত নতুন করে ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সাইবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশের ভেতরের একটি চক্রের সহায়তায় এ অর্থ চুরি ও পরে পাচার করা হয়েছিল।
ঘটনার পর একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় মামলা করেন। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
পরদিন ১৬ মার্চ মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় এক দশক ধরে মামলাটির তদন্ত করছে সংস্থাটি। তবে এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা সম্ভব হয়নি।
দেশে করা মূল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ সোমবার দিন নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে ৯ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ দেন। এতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৯৭তমবারের মতো পিছিয়ে যায়।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বর্তমানে তদন্ত সংস্থা সিআইডি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এর আগে অর্থ সরাতে ৩৫টি ভুয়া সুইফট বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
এসবের মধ্যে পাঁচটি নির্দেশনা কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) চারটি হিসাবে এবং ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়।
শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থের লেনদেনে নামের বানান ভুল থাকায় সেটি আটকে যায়। পরে পুরো ২ কোটি ডলারই বাংলাদেশে ফেরত আসে।
অন্যদিকে ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের বড় অংশ বিভিন্ন ক্যাসিনোর মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ফিলিপাইন থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে চুরি যাওয়া অর্থের প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার এখনো উদ্ধারের বাইরে রয়েছে।
রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত ও সম্ভাব্য অভিযোগপত্র নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে নানা তথ্য প্রকাশিত হলেও এসব তথ্যের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান জানিয়েছে সিআইডি।
চলতি বছরের ১৯ জুন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত ও খসড়া অভিযোগপত্র নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে গণ্য না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত শেষ না হলেও চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে দেশি-বিদেশি পর্যায়ে আইনি ও আর্থিক তৎপরতা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে ফিলিপাইনের আরসিবিসির সঙ্গে সালিশ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে চলমান মামলাও এগিয়ে নিচ্ছে।
এর আগে কয়েকটি গণমাধ্যমে মামলার খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত এবং এতে ৬৪ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার খবর প্রকাশিত হয়। তবে সিআইডি ওই তথ্য সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান ও নাকচ করে দেয়। সংস্থাটি জানায়, প্রতিবেদন তৈরির তথ্য ভিত্তিহীন এবং মামলাটির তদন্ত তখনও চলমান ছিল।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত ও খসড়া চার্জশিট সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে সিআইডির কর্মকর্তাদের বরাতে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সিআইডির কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে দেননি।
তিনি বলেন, এসব বক্তব্যকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর সিআইডি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য জানাবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
একই সঙ্গে রিজার্ভ চুরি মামলার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সিআইডির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অথবা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসরণ করার জন্য গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়।
সিআইডির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পেশাদারত্ব ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
মামলার তদন্ত শেষ না হলেও চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে দেশি-বিদেশি পর্যায়ে আইনি ও আর্থিক তৎপরতা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে ফিলিপাইনের আরসিবিসির সঙ্গে সালিশ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে চলমান মামলাও এগিয়ে নিচ্ছে। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট এক বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছিলেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, আরসিবিসির কাছে চুরি যাওয়া মূল অর্থের পাশাপাশি সুদ ও আইনি খরচও দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরে আরসিবির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছিল বলে তিনি জানান।
চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেও আইনি পদক্ষেপ নেয়। ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে অর্থ উদ্ধারের মামলা করা হয়। পরে ২০২০ সালের ২৭ মে নিউইয়র্কের সুপ্রিম কোর্টে আরসিবিসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্ট মামলার তিনটি অভিযোগ—কনভার্সন, কনভার্সনে সহায়তা এবং কনভার্সনের ষড়যন্ত্র—খারিজ করে। তবে মামলার অন্য অভিযোগগুলো নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যে ঢাকার একটি সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের আরসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতের আদেশের অনুলিপি ফিলিপাইনে আরসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৭(২)(৭) ধারার আওতায় এ আদেশ দেওয়া হয় বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। আদালতের নির্দেশনায় বাজেয়াপ্ত অর্থ বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত আনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সিআইডির তৎকালীন প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে আরসিবিসির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লরেঞ্জো টান, জুপিটার শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া হিসাব খোলা এবং চুরি করা অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা সিআইডি জানিয়েছে।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ করার বার্তা পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্টরা অর্থ বিতরণে ভূমিকা রাখেন। ফিলিপাইনের আদালতে আরসিবিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দণ্ডিত হওয়ার তথ্যও সিআইডির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরসিবিসিকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছিল।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আরসিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংককে ৬৮ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছিল। সংস্থাটির তদন্তে আরসিবিসিকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৭ ধারার আওতায় করপোরেট সত্তা হিসেবে অর্থ পাচারের ঘটনায় দায়ী করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান তখন জানিয়েছিলেন, ঢাকার আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এমডিএএ/এমআইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বরিশালে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। প্রতি কেজি সবজির দাম ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেট, পাইকারি সবজির বাজার ও পোর্ট রোড মাছের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ গত সপ্তাহে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ১১০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পটল গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৮০, ধুন্দল ৮০, ঝিঙা ১০০, করলা ৭০ থেকে ৮০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, বরবটি ১০০, লাউ ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পাকা মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর বাংলাবাজারে আসা ক্রেতা জাকির বলেন, গত সপ্তাহেও সবজির দাম নাগালের মধ্যে ছিল, এখন আবার সব ধরনের সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এভাবে দাম বাড়লে সবজি কিনে খাওয়া সম্ভব হবে না। ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছা মতো দাম নির্ধারণ করে। এজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং দরকার। বহুমুখী সিটি মার্কেট পাইকারি সবজির বাজারের দুলাল বানিজ্যালয়ের আমিনুল ইসলাম শুভ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ কমে গেলেই দাম বৃদ্ধি পায়। এর আগে বৃষ্টির কারণে দাম কিছুটা বেশি ছিল, পরে আবার কমেছে। এখন সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাবে।’ এদিকে নগরীর পোর্ট রোড পাইকারি মাছ বাজারে দেখা গেছে, নদীর মাছের সরবরাহ না থাকায় চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে চাষের মাছের। সপ্তাহ ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে পছন্দের মাছ কিনতে না পারার আক্ষেপ ক্রেতাদের কণ্ঠে। দেলোয়ার হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, আগে এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি। এখন সেই চিংড়ি মাছ ১৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে না পেরে তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ মাছ কিনতে হয়। এদিকে কিছু দিন ধরে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৬৫-১৭০ টাকা, লেয়ার ৩৬৫, আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। শাওন খান/কেজে/জেআইএম
জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি হবে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুপুরের পরে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান ইরফান গত ১৩ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। এতে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে থাকা উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা ও মহিউদ্দিন মহারাজ। এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া বড় ছেলে আবু তালেবকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হন রাজমিস্ত্রি বাবুল মৃধা। লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পৌঁছালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার পিঠে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে বিজিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ২২ আগস্ট তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সিএমএইচ হাসপাতালে বাবুল মৃধা মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সীমা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। এমডিএএ/এসএনআর
জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইরান ওই ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জুলাইয়ে ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সম্প্রতি ওই হামলা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির ছবি সংগ্রহ করার কথা বলা হয়।চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে ট্রাম্প বিষয়টি তুলবেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। বরং তিনি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি কার্যক্রম একই রকম বলে উল্লেখ করেন।জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, তিন সেনা নিহতগতকাল রোববার ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মূলত তারা যা করে, আমরাও তা-ই করি। যখন তারা বলে, চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে, তখন আমি বলি—আপনারা ঠিকই বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।’আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প ও সির একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্টমূলত তারা যা করে, আমরাও তা-ই করি। যখন তারা বলে, চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে, তখন আমি বলি—আপনারা ঠিকই বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।আয়ারল্যান্ড সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে গতকাল রোববার ট্রাম্প আবারও বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে।ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি মোটামুটি ভালো আচরণই করেছেন, আমরাও ভালো আচরণ করছি।’ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে স্যাটেলাইটের ছবি সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এতে বেইজিং সরাসরি জড়িত ছিল, এমন কথাও তাঁরা বলেননি।এখন ট্রাম্প যেভাবে সরাসরি চীনের জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন তাতে মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রশাসন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নানা উত্তেজনা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর হতাশা রয়েছে।ইরানের ৫টি ট্যাংকারে হামলা, জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও হরমুজে ১০টি জাহাজে হামলা তেহরানের