সরকার নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা ভাবছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকেই কোটাবিরোধী মনোভাব জাগরিত হয়। তখন ডেইলি স্টার-এ এক লেখায় আমি যুক্তি দেখিয়েছিলাম যে সরকারি নিয়োগে কোটা এবং ভাইভা হচ্ছে বৈষম্যকরণের দুটি মোক্ষম হাতিয়ার।
২০১৮ সালে ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। তখন এর সপক্ষেও একাধিকবার লিখেছি। আমার একটি ইংরেজি গ্রন্থেও কোটা ও ভাইভাবিরোধী লেখা রয়েছে। আজ কেউ যেন না ভাবেন যে রাজনৈতিক পছন্দ বা অপছন্দ থেকে নতুন সরকারের ‘ভাইভা মোটাতাজাকরণ’ উদ্যোগের বিরোধিতা করছি।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান স্লোগান ছিল সরকারি নিয়োগে বৈষম্যের বিরোধিতা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বহু সংস্কারের ওয়াদা করে শেষে রাখতে পারেনি। তবে সরকারি চাকরির ভাইভায় দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে বিধায় এর পরিধি ও তেজ কমিয়েছিল। বিসিএস পরীক্ষার মোট নম্বর ছিল ১১০০, যার মধ্যে ভাইভায় থাকত ২০০ নম্বর।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়োগপদ্ধতিকে আরও ‘স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক’ করার যুক্তিতে ভাইভার পরিধি ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ নম্বরে সংকুচিত করেছিল।
গত জুনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করলেন যে বিসিএস পরীক্ষার ভাইভায় ইউনূস প্রবর্তিত সেই ১০০ নম্বরই রাখা হচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি ‘স্বচ্ছতা ও অনিয়ম কমানোর কথা’ উল্লেখ করলেন। তিন মাস না যেতেই সরকার ভাইভার নম্বর চার গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা এই বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাহলে কি সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর ‘স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার’ যুক্তি মাত্র তিন মাসেই মাঠে মারা পড়ল?
উপদেষ্টার যুক্তিতে ভাইভায় বেশি নম্বর থাকলে চাকরির সঙ্গে জুতসই মেধাবীকে টেনে তোলা যায়। একাডেমিক ফলাফল ও লিখিত পরীক্ষায় ভালো না করা কিঞ্চিৎ অপদার্থ ভাতিজাকেও যে ভাইভায় বেশি নম্বর থাকলে টেনে তোলা যায়, সে কথা কি উপদেষ্টা ভুলে গেলেন? আবার বিদ্বেষ থাকলেও একজন ভালো প্রার্থীকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করা যায়, সে কথাই–বা উপদেষ্টা ভুললেন কী করে?

সরকারের নিয়োগপদ্ধতি যদি এ রকম স্ববিরোধী হয়, তাহলে একটি মেধাসম্পন্ন আমলাতন্ত্র গড়ে উঠবে কী করে? বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে একটি ‘মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। ‘ভাইভার মোটাতাজাকরণ’ প্রকল্প এই প্রত্যয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
ভাইভার অপব্যবহার ঘটিয়ে দলীয় নিয়োগ বাড়ানোর অভিযোগ আওয়ামী আমলেও উঠেছিল। তখন ওই সরকারের একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা দলীয় ছাত্রদের সভায় গিয়ে তাঁদের সরকারি চাকরিপ্রাপ্তি নিয়ে চিন্তা না করতে উপদেশ দিয়েছিলেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘তোমরা খালি রিটেনটা পাস কোরো।’ এ নিয়ে মিডিয়ায় সমালোচনা হলে সেই উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলন করে নিজের কথার আরেক মাহাত্ম্য খাড়া করেন। উপদেষ্টাদের বাচালতায় সরকারের বিপদ ঘটে। এর আলামত এখনো শুরু হয়েছে।
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর এক গ্রামে আমার বাস। সব আমলেই দেখেছি সরকারদলীয় স্থানীয় নেতার বাড়িতে বেকার যুবকদের ভিড়। একটা সনদ নিতে হবে, যেখানে লেখা থাকবে, ‘এই রত্নটি একজন একনিষ্ঠ দলীয় কর্মী।’ শুনেছি এ-জাতীয় সনদ নাকি সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে মহৌষধের ভূমিকা পালন করে থাকে। এতটা দলীয় কর্মীভিত্তিক প্রশাসন গড়েও কি শেষরক্ষা হয়? ক্ষমতার ভাগ্য তো জনতারই হাতে নির্ধারিত হয়ে থাকে।
ধরা যাক সরকারি কর্ম-কাঠামোর পুরোটাই, অর্থাৎ ১৪ লাখ কর্মচারীই আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপির কর্মী। তাতেই কি সরকার শক্তিশালী হয়ে গেল? প্রতিবছর বেকারের জনস্রোতেই বের হয় ২২ লাখ মানুষ। এর মধ্য থেকে জাত-ধর্ম ও দলমত-নির্বিশেষে একটি মেধাবী ও দক্ষ জনবল সরকারি নিয়োগ পেলে দীর্ঘ মেয়াদে জাতিকে উৎপাদনশীল করা সম্ভব।
জাতি-ধর্ম, লিঙ্গ, আঞ্চলিকতা ও দলীয় আনুগত্যের পছন্দে কর্মী বাহিনী গড়ে তুললে সেখানে মেধার প্রশ্ন গৌণ হয়ে যায়। ফলে একটা মানহীন গড় মেধাসম্পন্ন বা ‘মিডিওকার’ চরিত্রের লোকবল জাতিকে পেছনে টেনে ধরে। যে দল অযোগ্যকে খাতির করে চাকরি দেয়, সে দলেরই সমূহ পতনের আয়োজন করে থাকেন স্বজনপ্রীতির বরপুত্রগণ। ছাগল-কাণ্ড তারই প্রমাণ।
তথ্য উপদেষ্টার দাবি অনুযায়ী ভাইভার আনুপাতিক পরিধি বাড়িয়ে চাকরির জুতসই প্রকৃত মেধাবী কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাবে। ভাইভা বোর্ডের ওই পাঁচজন জ্ঞানী ব্যক্তি কি কোনো অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন জহুরি যে তাঁরা মাত্র আধা ঘণ্টায় এক গুণধর রত্নকে চিনে ফেলবেন। এটি কি ‘ছাইচাপা আগুন’ আবিষ্কারের সদিচ্ছা, নাকি নিজেদের পক্ষপাতিত্ব জায়েজ করার একটা ঢাল? বিস্তর গবেষণা ভাইভাকে স্বজনপ্রীতি বা বর্ণবিদ্বেষের হাতিয়ার মনে করে থাকে। তাই এটিকে একেবারে তুলে না দিয়ে এর কঠিন সংস্কার করা হয়েছে পশ্চিমা দুনিয়ায়।
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কমিটিতে কাজ করার সুযোগ হয়েছে একাধিকবার। চাকরিপ্রার্থীদের কী কী প্রশ্ন করা হবে, তা আমাদের মানবসম্পদ অফিস থেকে পাস করিয়ে নিয়ে আসতে হতো। সবাইকে এই এক সেট প্রশ্নের মধ্য দিয়েই বিচার করতে হবে এবং এর বাইরে একটি প্রশ্নও করা যাবে না। বিশেষ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে আমাদের শেখানো হয়েছে—ভাইভার সময় কোনোরূপ বৈষম্যমূলক প্রশ্ন করা যাবে না। চাকরিপ্রার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস, রাষ্ট্রীয় পরিচয়, বয়স কিংবা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি—এর কোনো কিছু নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। কারও চেহারা দেখে পছন্দ হয়ে গেলে সেটিও প্রকাশ করা যাবে না।
মিতব্যয়িতা ও দালিলিক প্রমাণের প্রয়োজনে আজকাল অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভাইভা নিয়ে থাকে। মানবসম্পদ কর্মকর্তা ভদ্রমহিলাটি বললেন, সব ইন্টারভিউ রেকর্ড করা থাকবে। ‘আমি বললাম, রেকর্ডের কী প্রয়োজন?’ মহিলা বললেন, ‘ভাইভাতে বৈষম্য করা হয়েছে’ এই অভিযোগে কেউ কখনো মামলা দিলে আমরা রেকর্ডকৃত ভাইভা আদালতে পাঠাতে বাধ্য। শুনে আমি ভয়ে জড়সড়।
মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম ভাইভার সময় কোনো বাঙালি প্রার্থী পেলেই উচ্ছ্বসিত হব না। কিংবা কাউকে দেখে যেন কোনোভাবেই আমার বিগলিত মন ধরা না পড়ে যায়। মনস্তত্ত্ববিদেরা এই ‘বিগলিত হয়ে যাওয়া’র স্বভাবকে অসচেতন পক্ষপাতিত্ব বা ‘আনকনশাস বায়াস’ বলে উল্লেখ করেছেন।
একবার জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মৌখিক পরীক্ষাকে বৈষম্যকরণের হাতিয়ার বলে মিছিল করেছিলেন। কিন্তু লিখিত পরীক্ষা বৈষম্যকরণের হাতিয়ার কি না—এ নিয়ে কোনো মিছিল আমাদের নজরে আসেনি। অভিযোগ রয়েছে যে ভাইভা কাউকে অতিরিক্ত মানসিক চাপে নার্ভাস বা দুশ্চিন্তায় কাতর করে ফেলে। প্রশ্নকর্তারা অনেক সময় হয়ে পড়েন ‘জাজমেন্টাল’। নিজস্ব খাপের মধ্য থেকে অন্যকে বিচার করেন।
কখনো উত্তরদাতার ঘটে যায় ‘নিউরোডাইভার্জেন্স’ বা স্নায়ুগত বিক্ষিপ্ততা। দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে যখন বিজ্ঞ প্রশ্নকর্তারা পরীক্ষার্থীকে ‘চাঁদের ওজন’ কিংবা ‘রাশিয়ার আয়তন’ জিজ্ঞেস করে বসেন। আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকে আমার ভাইভার সময় গর্বাচেভের পেরেস্ত্রইকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু ব্যাংকের কর্মজীবনে ব্যালান্স শিট মেলাতে গিয়ে কোথাও ওই পেরেস্ত্রইকার সন্ধান পাইনি। শুধু ভাইভার তামাশা নিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক বিশাল মহাকাব্য রচনা সম্ভব।
সরকার যদি সত্যিই মেধাসম্পন্ন একটি কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে চায়, তাহলে ভাইভার সংস্কারকর্মে তার দুটি পথ খোলা রয়েছে। এক. ভাইভা একেবারে তুলে দেওয়া। দুই. ভাইভার নম্বর যথাসম্ভব কম রেখে এর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।
ভারসাম্যপূর্ণ জ্ঞানী মানুষকেই বোর্ড মেম্বার করতে হবে। অতি উচ্চ বা অতি নিম্ন নম্বর দিলে ভাইভার প্রশ্নকর্তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। ভাইভার রেকর্ড থাকলে ভবিষ্যতে একজন সংক্ষুব্ধ মেধাবী আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন। নিষ্ঠা ও সদিচ্ছা দিয়ে ভাইভার সংস্কার করলে সরকারি কর্মী বাহিনীর মেধা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে। দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত হবে অর্থনীতি।
ড. বিরূপাক্ষ পাল যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট কোর্টল্যান্ড-এ অর্থনীতির অধ্যাপক
মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বরিশালে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। প্রতি কেজি সবজির দাম ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেট, পাইকারি সবজির বাজার ও পোর্ট রোড মাছের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ গত সপ্তাহে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ১১০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পটল গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৮০, ধুন্দল ৮০, ঝিঙা ১০০, করলা ৭০ থেকে ৮০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, বরবটি ১০০, লাউ ৫০ থেকে ৬০, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পাকা মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর বাংলাবাজারে আসা ক্রেতা জাকির বলেন, গত সপ্তাহেও সবজির দাম নাগালের মধ্যে ছিল, এখন আবার সব ধরনের সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এভাবে দাম বাড়লে সবজি কিনে খাওয়া সম্ভব হবে না। ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছা মতো দাম নির্ধারণ করে। এজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং দরকার। বহুমুখী সিটি মার্কেট পাইকারি সবজির বাজারের দুলাল বানিজ্যালয়ের আমিনুল ইসলাম শুভ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ কমে গেলেই দাম বৃদ্ধি পায়। এর আগে বৃষ্টির কারণে দাম কিছুটা বেশি ছিল, পরে আবার কমেছে। এখন সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাবে।’ এদিকে নগরীর পোর্ট রোড পাইকারি মাছ বাজারে দেখা গেছে, নদীর মাছের সরবরাহ না থাকায় চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে চাষের মাছের। সপ্তাহ ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে পছন্দের মাছ কিনতে না পারার আক্ষেপ ক্রেতাদের কণ্ঠে। দেলোয়ার হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, আগে এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি। এখন সেই চিংড়ি মাছ ১৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে না পেরে তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ মাছ কিনতে হয়। এদিকে কিছু দিন ধরে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৬৫-১৭০ টাকা, লেয়ার ৩৬৫, আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। শাওন খান/কেজে/জেআইএম
জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি হবে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুপুরের পরে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান ইরফান গত ১৩ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। এতে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে থাকা উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা ও মহিউদ্দিন মহারাজ। এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া বড় ছেলে আবু তালেবকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হন রাজমিস্ত্রি বাবুল মৃধা। লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পৌঁছালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার পিঠে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে বিজিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ২২ আগস্ট তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সিএমএইচ হাসপাতালে বাবুল মৃধা মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সীমা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। এমডিএএ/এসএনআর
জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইরান ওই ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জুলাইয়ে ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সম্প্রতি ওই হামলা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির ছবি সংগ্রহ করার কথা বলা হয়।চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে ট্রাম্প বিষয়টি তুলবেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। বরং তিনি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি কার্যক্রম একই রকম বলে উল্লেখ করেন।জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, তিন সেনা নিহতগতকাল রোববার ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মূলত তারা যা করে, আমরাও তা-ই করি। যখন তারা বলে, চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে, তখন আমি বলি—আপনারা ঠিকই বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।’আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প ও সির একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্টমূলত তারা যা করে, আমরাও তা-ই করি। যখন তারা বলে, চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে, তখন আমি বলি—আপনারা ঠিকই বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।আয়ারল্যান্ড সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে গতকাল রোববার ট্রাম্প আবারও বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে।ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি মোটামুটি ভালো আচরণই করেছেন, আমরাও ভালো আচরণ করছি।’ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে স্যাটেলাইটের ছবি সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এতে বেইজিং সরাসরি জড়িত ছিল, এমন কথাও তাঁরা বলেননি।এখন ট্রাম্প যেভাবে সরাসরি চীনের জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন তাতে মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রশাসন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নানা উত্তেজনা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর হতাশা রয়েছে।ইরানের ৫টি ট্যাংকারে হামলা, জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও হরমুজে ১০টি জাহাজে হামলা তেহরানের