জাতীয়

কোচ বাটলারের শিশুসুলভ পরীক্ষার ফল ‘লজ্জাজনক হার বাংলাদেশের’

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
কোচ বাটলারের শিশুসুলভ পরীক্ষার ফল ‘লজ্জাজনক হার বাংলাদেশের’
কোচ বাটলারের শিশুসুলভ পরীক্ষার ফল ‘লজ্জাজনক হার বাংলাদেশের’

নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার কী খুব ‘বাজি’ ধরতে ভালোবাসেন? একজন কোচকে অনেক সময় অনেক রিস্ক নিতে হয়। দলের প্রয়োজনে কখনো কখনো কোনো খেলোয়াড়কে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে, অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়ার রেওয়ারজ অনেক রয়েছে।

কিন্তু তাই বলে, একটি দলের পুরো খোলনলচে পাল্টে দেয়ার মত রিস্ক সম্ভবত আর কেউ নেন না। দল নিয়ে ‘গেম’ খেলতে খেলতে সেটা যখন ভারসাম্যহীন একটি পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়, তখনই বিপর্যয় শুরু হয়। যে বিপর্যয়ের ঢেউ সামলানো হয়ে পড়ে অনেক কঠিন।

এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার মত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই ‘গেমটা’ই খেলতে চেয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। তার সিদ্ধান্ত যে পুরোপুরি বাচ্চাসুলভ ছিল তা প্রমাণ করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

আরও পড়ুন

এশিয়ান গেমস নারী ফুটবল / প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

 ১০-০ গোলে বাংলাদেশ বিধ্বস্ত হয়েছে কোরিয়ানদের কাছে। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এতবড় ব্যবধানে আর কখনো হারেনি। ২০১৩ সালে ঢাকায় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে থাইল্যান্ডের কাছে সর্বোচ্চ ৯-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবলাররা।

নারী ফুটবলের ফিফা র‌্যাংকিংয়ে উত্তর কোরিয়া রয়েছে ১১তম স্থানে। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে। অন্যদিকে বাংলাদেশ র‌্যাংকিংয়ে রয়েছে ১০৭ নম্বরে। এর অর্থ, র‌্যাংকিংয়েই দুই দেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

এমন পার্থক্য যখন, তখন কোচ পিটার বাটলার নিলেন শিশুসুলভ সিদ্ধান্ত। দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার মনিকা চাকমা, ঋতুপর্না চাকমা, রুপনা চাকমা, দুই শামসুন্নাহার ও শিউলি আজিমের মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামনে মাঠে নামিয়ে দিলেন সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে তৈরি একটি কচিকাচার একাদশকে। যেন ক্ষুদার্ত বাঘের সামনে একদল অসহায় হরিণ!

ফল যা হওয়ার তাই হলো! দুর্বল বাংলাদেশকে পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে উত্তর কোরিয়ার নারী ফুটবলাররা। তাদের সামনে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভরাডুবির শিকার হলো বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ এই ফুটবলারদের নিয়ে একাদশ গঠন করলে হয়তো বাংলাদেশ জিততো না; কিন্তু ব্যবধানটা তো কমে আসতো! এমন ভরাডুবির শিকার হয়তো হতে হতো না বাংলাদেশ দলকে।

আরও পড়ুন

এশিয়ান গেমস / প্রথমার্ধেই বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার ৭ গোল

বৃটিশ কোচ পিটার বাটলার বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি দলের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র ফুবলারদের বাদ দিয়ে দেন। সাবিনা, কৃষ্ণাদের বাদ দিয়ে দল গঠন করেন। এসব নিয়ে তখন কম জল ঘোলা হয়নি। ফুটবলাররা বিদ্রোহ পর্যন্ত করেছিল।

আরও পড়ুন

এশিয়ান গেমস / একাদশে নেই ঋতুপর্ণা, ১২ মিনিটে ৩ গোল হজম বাংলাদেশের

বাটলারের কোচিং দর্শনই হলো সিনিয়রদের বাদ দিয়ে কম বয়সীদের সুযোগ দিতে হবে। তাতেই সাফল্য ধরা দেবে। তা হয়তো সাউথ এশিয়ান (সাফ) অঞ্চলে ভালো করা সম্ভব। কিন্তু এর বাইরে এশিয়ান পর্যায়েও ন্যুনতম লড়াই করা যে যাবে না, সেটা এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ হয়ে গেলো। বাটলার মনে করেছিল, অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুন ফুটবলারদের নিয়ে দল গঠন করি, তাতে দলেরই ভালো হবে। কিন্তু সিদ্ধান্তটা যে বুমেরাং হলো, তা উত্তর কোরিয়ার ফুটবলাররা দেখিয়ে দিলো।

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে যে একাদশ মাঠে নামিয়েছিলেন বাটলার

মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, আইরিন খাতুন, সুরভী আক্তার আরফিন, অর্পিতা বিশ্বাস, কোহাতি কিসকু, মোমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, সুলতানা।

আইএইচএস/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রাজশাহীর পবার ১৯ জলাশয়ে ৫৪৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত
রাজশাহীর পবার ১৯ জলাশয়ে ৫৪৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

রাজশাহীর পবা উপজেলার ১৯টি জলাশয়ে চলতি অর্থবছরে মোট ৫৪৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পবা উপজেলার কর্ণহার বড়বিলা জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। এ সময় তিনি বলেন, মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা মাছের পোনা বড় হলে স্থানীয় জলাশয়গুলো আরও সমৃদ্ধ হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং সরকারি এ কর্মসূচির সুফল পেতে এলাকাবাসীকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় পবা উপজেলার ১৯টি জলাশয়ে মোট ৫৪৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ জলাভূমি, বর্ষাপ্লাবিত ধানখেত, প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির সফলতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে শফিকুল হক মিলন বলেন, “আমার বিশ্বাস, সর্বসাধারণের জন্য আজ ক্ষেত-খামার ও বিলে যে মাছ অবমুক্ত করা হলো, সেই খবরটি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছাবে। তিনি হয়তো পবাকে একটি মডেল হিসেবে ধরে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য স্থানেও এমন গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবেন।” অবমুক্ত করা মাছের পোনা বড় হওয়ার সুযোগ দিতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অবমুক্ত করা মাছগুলোকে একটু বড় হতে দেবেন। মাছ ধরা নিয়ে নিজেদের মধ্যে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা গোলমাল সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সরকারি নিয়মকানুন মেনেই আপনাদের এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।” আরও পড়ুন ব্রিজের নিচে পড়ে ছিলেন যুবক, প্রাণ গেল হাসপাতালে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি। এমপি মিলন আরও বলেন, মানুষের ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। তবে আমাদের সবাইকে একটি টিমের মতো কাজ করতে হবে। দেশ গড়ার কাজে আমরা সবাই একসঙ্গে নিয়োজিত থাকব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, পবার বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। অবমুক্ত করা পোনাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠতে পারে, সে জন্য স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি এ উদ্যোগ সফল করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে জলাশয়ের মাছ রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে সহযোগিতা করতে হবে। পবা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ মোল্লাহ। মনির হোসেন মাহিন/এনএইচআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ফরিদগঞ্জের ‘প্রভাবশালী’ আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ গ্রেফতার

ফরিদগঞ্জের ‘প্রভাবশালী’ আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ গ্রেফতার

অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন

অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন

গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: আরও ৯ আসামি কারাগারে

গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: আরও ৯ আসামি কারাগারে

পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে, টি-বাঁধে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে, টি-বাঁধে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীর দক্ষিণে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকার কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু পরিবারের সদস্যরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২৮ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। নদীর পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ৫ মিটার। সে হিসেবে বর্তমানে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় অবস্থিত টি-বাঁধে জনসাধারণের চলাচল ও পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাঁধ এলাকায় থাকা ব্যবসায়ীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পুলিশ লাইনস-সংলগ্ন শ্রীরামপুর এলাকায় অবস্থিত টি-বাঁধটি ইংরেজি ‘টি’ অক্ষরের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মার স্রোত সরাসরি নগরীর অন্যান্য এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতে বাঁধটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাঁধের একপাশে স্রোত আঘাত করে পানি আবার গভীর পদ্মার দিকে প্রবাহিত হয়। এতে নগরীর বড় একটি এলাকা সুরক্ষিত থাকে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, পদ্মার পানি বাড়লেও এখনো শহর রক্ষা বাঁধে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে টি-বাঁধ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং সংকট কেটে গেলে আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সোমবার পদ্মার পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২৮ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩০ মিটার। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ২ সেন্টিমিটার কমেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৭ দশমিক ২৯ মিটার। পার্থ সরকার আরও বলেন, রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এখনো পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। মনির হোসেন মাহিন/এসজেডএইচ/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে না

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে না

১০ গোলে হারের পর কিরণের সমালোচনা ও তাবিথের প্রশংসা বাটলারের!

১০ গোলে হারের পর কিরণের সমালোচনা ও তাবিথের প্রশংসা বাটলারের!

শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেবে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ

শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেবে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ

চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি-এআই ব্যবহার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ১২ নির্দেশনা
চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি-এআই ব্যবহার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ১২ নির্দেশনা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ঠেকাতে ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত, ছবি যাচাই, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিতে বলা হয়, গত ১১ আগস্ট এ সংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হলো। আরও পড়ুন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ঠেকাতে বায়োমেট্রিকসহ ১২ নির্দেশনা চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রক্সি বা ভুয়া পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১২ নির্দেশনা ১. আবেদনপত্রে আবশ্যিকভাবে প্রার্থীর সদ্য তোলা (আবেদন দাখিলের একমাস পূর্বে) রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে। ২. লিখিত পরীক্ষার পূর্বে চাকরি প্রার্থীর আবেদন ভালোভাবে যাচাই করা। ৩. লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনোভাবেই ইলেকট্রনিক ডিভাইস (যেমন- স্মার্ট ঘড়ি যুক্ত ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়ি), ব্যাগ, বই-পুস্তকসহ সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি নিশ্চিত করা। ৪. পরীক্ষা শুরুর পর কোনোভাবেই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র প্রবেশ করতে না দেওয়া। ৫. পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করা। ৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কেন্দ্র পরিদর্শনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করা এবং কোনো অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা। ৭. মৌখিক পরীক্ষার সময়ে প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করা। প্রয়োজনে উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে পুনরায় সংশ্লিষ্ট আকৃতির লেখা পরীক্ষা করা। ৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখা এবং পরে ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সঙ্গে এই ছবি মিলিয়ে দেখা। আরও পড়ুন পিএসসিতে চাকরি / লিখিত-মৌখিক পরীক্ষায় প্রক্সি, যোগদান করতে এসে ধরা ৯. আবশ্যিকভাবে মৌখিক, ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে এবং পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর যোগদানের সময় ছবি পরীক্ষা করে তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করা। ১০. পরীক্ষা শুরুর আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করা। ১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট ও মামলা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা এবং ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, মামলা দায়ের, নিয়মিত মামলা দায়ের করা। ১১. ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে অন্যান্য প্রযুক্তি যেমন- বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বিষয়টি তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার এবং পরীক্ষা চলাকালীন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল টিমের মাধ্যমে বিষয়টি অবলোকনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এএএইচ/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ একদিন পেছাতে পারে

একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ একদিন পেছাতে পারে

উপমহাদেশের অস্ত্রোপচার বিস্ময়: সার্জারির জনক সুশ্রুত

উপমহাদেশের অস্ত্রোপচার বিস্ময়: সার্জারির জনক সুশ্রুত

হামে চলতি মাসে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু

হামে চলতি মাসে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু

0 Comments