আধুনিক বিজ্ঞানের জন্ম বলতেই আমরা বুঝি পশ্চিমা বিশ্বকে। যেকোনো আবিষ্কার হোক বা বৈজ্ঞানিক সূত্র, বইয়ের পাতায় খুঁজে বেড়াই পশ্চিমা কোনো নাম। তবে অসংখ্য আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের শুরু হয়েছিল আমাদের এই উপমহাদেশ থেকেও।
বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু এই উপমহাদেশেরই সন্তান। গাছের জীবন আছে যে তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন তিনি।
তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত ও বর্তমান বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী এক মহান বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু। তিনি সবার আগে বেতার তরঙ্গ সফলভাবে প্রদর্শন করলেও বাণিজ্যিক পেটেন্ট না করায় জগদীশ চন্দ্র বসুর আবিষ্কারের স্বীকৃতি হাতিয়ে নেন বিজ্ঞানী মার্কোনি।
এমন অনেক আবিষ্কারের সঙ্গেই জড়িত এই উপমহাদেশের অসংখ্য বিজ্ঞানীর নাম।
আজ এমনই এক মহান শল্যচিকিৎসকের গল্প বলি, যাঁর প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত ‘রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব সার্জনস’-এর প্রাঙ্গণে। যাঁর হাত ধরে আধুনিক শল্যচিকিৎসার সূচনা হয়েছিল।
আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের কথা, যখন ছিল না কোনো আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট কিংবা উন্নত অ্যানেসথেসিয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু প্রাচীন ভারতের এক শহর কাশীতে বসে এক দূরদর্শী মনীষী মানুষের শরীর কেটে রোগ নিরাময় থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচারকে বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত করেছিলেন। তাঁকে বলা হয় শল্যচিকিৎসা ও প্লাস্টিক সার্জারির জনক।
তিনি মূলত অস্ত্রোপচারকে হাতুড়ে চিকিৎসা বা অন্ধবিশ্বাসের জগৎ থেকে বের করে একটি সুশৃঙ্খল ও বিজ্ঞানসম্মত শল্যবিদ্যায় রূপ দিয়েছিলেন। যাঁর অমর কীর্তি ‘সুশ্রুত সংহিতা’ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়ে থাকে।
এই প্রাচীন গ্রন্থে প্রায় ১ হাজার ১২০টি রোগের নিখুঁত বিবরণ, ৭০০টির বেশি ঔষধি উদ্ভিদের ব্যবহার এবং অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন তিনি, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম পূর্ণাঙ্গ শল্যচিকিৎসার দলিল এবং পরবর্তীকালে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
শুধু তা–ই নয়, অস্ত্রোপচারকে নিখুঁত ও সফল করার জন্য সুশ্রুত প্রায় ১২১ ধরনের বিশেষ শল্যযন্ত্র ডিজাইন করেছিলেন সেই সময়ে, যার মধ্যে প্রায় ২০টি ছিল ধারালো অস্ত্র বা ‘শস্ত্র’ এবং ১০১টি সহায়ক যন্ত্র। তিনি অস্ত্রোপচারকে সুনির্দিষ্ট করতে শল্যকর্মকে মোট ৮টি প্রধান ভাগে ভাগ করেছিলেন।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সেই প্রাচীন যুগেও তিনি অস্ত্রোপচারের আগে যন্ত্রগুলো আগুনে পুড়িয়ে জীবাণুমুক্ত করার বিধান দিয়ে গিয়েছিলেন।
মহর্ষি সুশ্রুতকে ‘প্লাস্টিক সার্জারির জনক’-ও বলা হয়। সেই সময়ে বসেই তিনি ‘রাইনোপ্লাস্টি’ বা কাটা নাক পুনর্গঠন করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন ও তার ব্যবহার করেন। আরও মজার বিষয় হলো সেই সময়ে বসে তিনি রোগীর কপাল বা গাল থেকে ত্বকের অংশ কেটে এনে নিখুঁতভাবে নতুন নাক তৈরি করার এই কৌশলও ব্যবহার করেছিলেন, যা আজও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। এ বাদেও তিনি বিশেষ একধরনের সুচ দিয়ে চোখের ছানি অপসারণ এবং হাড় ভাঙা জোড়া লাগানোর মতো জটিল অপারেশনও করতেন বলে জানা যায়।
বর্তমান যুগে রোগীর কষ্ট দূর করতে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও তৎকালীন সময়ে তা মানুষের অজানা ছিল। সেই সময়ে বসেও এই মহান চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর ব্যথা ও কষ্ট কমাতে পরিমিত পরিমাণে শক্তিশালী মদ্য বা ওয়াইন এবং নির্দিষ্ট কিছু ভেষজ উপাদানের ব্যবহার চালু করেছিলেন, যা রোগীর স্নায়ু অবশ করতে সাহায্য করত।

তাঁর আবিষ্কৃত ক্ষার সূত্র নামক এক বিশেষ সুতা, যা তিনি ফিস্টুলা অপারেশনে ব্যবহার করতেন, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ফিস্টুলা চিকিৎসায় ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ও রক্তপাত ছাড়াই রোগ নিরাময় করা হতো। ভেঙে যাওয়া হাড় অস্ত্রোপচারের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধে গরম শলাকার ছ্যাঁকা দিয়ে রক্তনালি সিল করার মতো যুগান্তকারী পদ্ধতিগুলোর প্রবর্তনও করেন তিনি।
তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান দিতে মৃতদেহের ব্যবহারও করতেন তিনি। ফল, সবজি কিংবা মোমের মডেলে নিপুণভাবে অপারেশন করার প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিনব পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন তিনি, যা আজকের যুগের আধুনিক সিমুলেটেড মেডিকেল ট্রেনিংয়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
মূলত মহর্ষি সুশ্রুতই প্রথম এই সুদূরপ্রসারী চিন্তা করেছিলেন এবং তাঁর এসব যুগান্তকারী উদ্ভাবন শল্যবিদ্যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে সাহায্য করেছিল। তাঁর এই আবিষ্কারগুলোই মানবসভ্যতাকে যুগ যুগ ধরে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখিয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্ব যখন এই পদ্ধতির কথা ভাবতেও পারত না, সেই সময়ে মহান এই শল্যচিকিৎসক পথ দেখিয়েছিলেন। যাঁর হাত ধরেই এক নতুন বিপ্লব শুরু হয়েছিল শল্যচিকিৎসায়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
একসময় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। আর এখন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন তিনি। বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আয়ুষ্মান খুরানার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা। অভিনয়, গান, সঞ্চালনা, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন বিনিয়োগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই অবস্থানে পৌঁছেছেন তিনি। ১৪ সেপ্টেম্বর ৪২ বছরে পা দিলেন আয়ুষ্মান। অভিনয়ের পাশাপাশি গায়ক ও সঞ্চালক হিসেবেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পথটা খুব সহজ ছিল না। বড় পর্দায় পা রাখার আগে মঞ্চ, বেতার ও ছোটপর্দায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এই অভিনেতা। ২০০৪ সালে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘রোডিজ’ জিতে প্রথমবার আলোচনায় আসেন আয়ুষ্মান। এরপর টেলিভিশনে সঞ্চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। একের পর এক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। তবে অভিনয় ছিল তার মূল স্বপ্ন। ২০১২ সালে সুজিত সরকার পরিচালিত ‘ভিকি ডোনর’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় আয়ুষ্মানের। প্রথম সিনেমাতেই প্রচলিত নায়কোচিত চরিত্রের বাইরে গিয়ে শুক্রাণু-দাতার ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ভিন্নধারার গল্প ও চরিত্রের কারণে সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। একই সিনেমার ‘পানি দা রং’ গানেও কণ্ঠ দেন আয়ুষ্মান। অভিষেক সিনেমার জন্যই শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতার পুরস্কার পান তিনি। এরপর একের পর এক ভিন্নধারার সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জায়গা শক্ত করেন আয়ুষ্মান। ‘দম লগা কে হইশা’, ‘বরেলী কি বরফী’, ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’, ‘বধাই হো’, ‘অন্ধাধুন’, ‘আর্টিকল ১৫’, ‘ড্রিম গার্ল’ ও ‘বালা’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়ান তিনি। বিশেষ করে ‘অন্ধাধুন’ সিনেমায় অন্ধ পিয়ানোবাদকের চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান আয়ুষ্মান। আরও পড়ুন হেমা মালিনীর আগে যে পাকিস্তানি মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন ধর্মেন্দ্র আয়ুষ্মানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সাধারণত প্রচলিত নায়কোচিত চরিত্রের বাইরে থাকা গল্প বেছে নেন। সামাজিক সমস্যা, সম্পর্কের জটিলতা, সাধারণ মানুষের জীবন কিংবা সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ধারণাকে কেন্দ্র করে নির্মিত গল্পে অভিনয় করেছেন তিনি। তার এই ভিন্নধারার কাজই বলিউডে তাকে আলাদা দর্শক তৈরি করে দিয়েছে। সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার পারিশ্রমিকও। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে প্রতি সিনেমার জন্য প্রায় ৮ থেকে ১৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন আয়ুষ্মান। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থাম্মা’ সিনেমার জন্য তার পারিশ্রমিক প্রায় ১০ কোটি টাকা ছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু সিনেমার পারিশ্রমিকই নয়, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকেও আয় করেন আয়ুষ্মান। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগের মাধ্যমেও তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে তার বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক সাফল্যের বাইরেও আয়ুষ্মানের ব্যক্তিজীবন বেশ আলোচিত। ছোটবেলার বন্ধু তাহিরা কশ্যপকে ২০০৮ সালে বিয়ে করেন তিনি। তাদের দুই সন্তান-এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাহিরা লেখালেখি ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। আরও পড়ুন কনসার্ট নিয়ে নতুন চমক দিলেন দিলজিৎ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের পাশাপাশি গায়ক ও সঞ্চালক হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন আয়ুষ্মান। শূন্য থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। একসময় ব্যাংকে মাত্র ১০ হাজার টাকা থাকা সেই আয়ুষ্মানই আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। তবে অর্থের চেয়েও তার সবচেয়ে বড় অর্জন- ভিন্নধারার চরিত্র ও গল্পের মাধ্যমে বলিউডে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করা। এমএমএফ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...
নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক তরুণীর ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দেবর-ভাবিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম। এর আগে ভোরের দিকে সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়া লিচুবাগান এলাকার নিজের বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন কামাল হোসেনের ছোট ছেলে সুজন মিয়া (২৫), মেজ ছেলে শাকির রানা (৩০) ও শাকির রানার স্ত্রী মাহিমা ইসলাম শাম্মী (২৫)। ভুক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন সুজন মিয়া। পরে তিনি ওই তরুণীকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে গোপনে বিয়ে করেন। পরে বিষয়টি তরুণীর পরিবার জানতে পারলে সেটি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুজনের পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে দেখতে তাদের বাড়িতে গিয়ে তার ছবি তুলে নিয়ে আসেন। আরও পড়ুন ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি মামলায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা গ্রেফতার পরে আসামিরা সেই ছবি এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অশ্লীলভাবে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। রোববার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, আসামিদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমিরুল হক/এসআর/এএসএম