কক্সবাজারে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ভবিষ্যতে বিমানের বহর বাড়ানো এবং নতুন বিমানবন্দর নিমাণ প্রসঙ্গে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বছরে আন্তর্জাতিক যাত্রীসংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি তিন কোটি যাত্রীও হতে পারে। তখন বেশি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ আসবে। বিদ্যমান বিমানবন্দরে সব উড়োজাহাজের জায়গা হবে না। নতুন বিমানবন্দরের কথা ভাবতে হবে।
‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকেরা। দেশের বিমান পরিচালনা খাতের বিদ্যমান সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগের সুযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার, আগামীর করণীয় নিয়ে এই নীতি সম্মেলনের আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেশন সেন্টারে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশকে বিমান হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানান রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, বিমানবন্দর ও কার্গো–সুবিধা আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে। উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড (অবতরণ ও পুনরায় উড্ডয়নের মাঝখানের সময়) ২৫ মিনিটে নামিয়ে আনতে হবে। কম খরচে সেবা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা বাংলাদেশেও করতে হবে। এই খাতে বেসরকারি খাত ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলেন মন্ত্রী।
বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বিমান খাতের অংশীজনদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা ৪২ বছরের পুরোনো বেসামরিক বিমান চলাচল–সংক্রান্ত বিধি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো অংশীজনদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং বাংলাদেশকে একটি বিমান হাব হিসেবে গড়ে তোলা। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, যাত্রী ও কার্গো–সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমানবহর বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু মার্চ–এপ্রিল
সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেদের বিমানবহর বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিশ্চিত করা, রুট ও ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং কার্গো পরিবহন সক্ষমতা উন্নত করতে হবে।
নিজেদের উড়োজাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং স্থানীয় প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তুলে নতুন প্রজন্মের পাইলট, এয়ারলাইনস প্রকৌশলী ও গ্রাউন্ড স্টাফ তৈরি করার ওপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে বাংলাদেশের বিমান খাতের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, টার্মিনালটি নিয়ে সরকারের গঠিত কমিটির আলোচনা দ্রুত এগিয়েছে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এতে বাংলাদেশের রাজস্ব অংশ আগের ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি হবে। টার্মিনালটি ডিসেম্বরে সীমিতভাবে (সফট ওপেনিং) এবং মার্চ–এপ্রিলে পূর্ণ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। টার্মিনালটি বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি করবে। তাঁর মতে, পূর্ব এশিয়া, চীন, জাপান ও কোরিয়ার সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারের প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।
জটিলতা ব্যবসার খরচ বাড়াচ্ছে

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল্লাহ আল মামুন এভিয়েশন ব্যবসার বড় চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের এয়ারলাইনসগুলোকে বিভিন্ন ধরনের কর ও চার্জ দিতে হয়, যা টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেয় এবং ব্যবসার সক্ষমতা কমায়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড়োজাহাজকে দীর্ঘ সময় ট্যাক্সিং করতে হয়। এর ফলে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, তৃতীয় টার্মিনালসহ বড় অবকাঠামো নির্মাণের আগে এয়ারলাইন পরিচালনকারী কোম্পানির প্রয়োজন ও মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ আমদানি ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিগত জটিলতা ব্যবসার খরচ বাড়াচ্ছে।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এয়ারলাইনসের ওপর কর-চার্জের চাপ কমানো, নীতিগত সংস্কার এবং অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।
অনুষ্ঠানে দেশের এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অংশীজনেরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
‘এভিয়েশন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে’
আয়োজনে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। প্রবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিমান খাতের সবচেয়ে বড় সংকট উড়োজাহাজ নয়; দক্ষ জনবলের ঘাটতি। চাহিদা বাড়লেও দেশে পাইলট ও লাইসেন্সধারী উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলীর সংকট রয়েছে। পাইলট প্রশিক্ষণের অবকাঠামোর ঘাটতি, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন বাধার কারণে প্রয়োজনীয় জনবল তৈরি হচ্ছে না। তাঁর মতে, এ খাতের টেকসই বিকাশে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, এয়ারলাইনস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বিত একটি এভিয়েশন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।
সংলাপে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এটিএম) এয়ার কমোডর নূর-ই-আলম বলেন, দেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পাশাপাশি কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন এবং অব্যবহৃত বা সীমিত ব্যবহারের বিমানবন্দরগুলো পর্যায়ক্রমে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৬টি দেশের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। ৩৪টি বিদেশি যাত্রীবাহী এয়ারলাইনস, সাতটি কার্গো এয়ারলাইনস ও চারটি দেশীয় এয়ারলাইনস নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, কুমিল্লাসহ অব্যবহৃত বা সীমিত ব্যবহারের বিমানবন্দরগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় এসব অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।
নীতি সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক, ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার। আয়োজনের প্রধান সহযোগী বিমান সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার এশিয়া’ এবং প্লাটিনাম স্পনসর ইউনাইটেড গ্রুপ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
লিভারপুল ০ : ০ ফুলহাম লিভারপুলের ঘরের মাঠ এখন ‘পরের মাঠ’ হয়ে গেছে?আরও একবার অ্যানফিল্ডে আটকে গেছে দলটি। আজ প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে লিভারপুল। এ নিয়ে অ্যানফিল্ডে খেলা টানা চারটি লিগ ম্যাচে পয়েন্ট খোয়াল অলরেডরা। অথচ আজকের ড্রয়ের আগেই অ্যাওয়েতে টানা দুই ম্যাচে জয় ছিল তাদের।অ্যানফিল্ডে খেলা লিগের সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে ড্র আর একটিতে হেরেছে লিভারপুল। ২০১১ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম অ্যানফিল্ডে টানা চার লিগ ম্যাচে জয়হীন থাকল দলটি।আজ ফুলহামের বিপক্ষে লিভারপুলের আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নির্বিষ। বড় অঙ্কের দলবদলে আসা ব্র্যাডলি বারকোলা প্রথমবারের মতো একাদশে শুরু করলেও আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি আলেক্সান্দার ইসাক আর ফ্লোরিয়ান ভির্টজও। বিরতির পর মিলোস কেরকেজ, কোডি গাকপো আর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে নামিয়েও ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেননি কোচ আন্দোনি ইরাওলা।অন্যদিকে ফুলহামের জন্য গোলশূন্য ড্রটি বেশ স্বস্তিরই। মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে হারের পর অবশেষে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে দলটি। তাতে ছাঁটাইয়ের শঙ্কায় থাকা কোচ আরবেলোয়ার চাকরিটা হয়তো আরও কয়েক দিনের জন্য টিকেই গেল।অ্যানফিল্ডে আরও একবার নিজেদের সমর্থকদের হতাশ করেছে লিভারপুলএ দিকে লিভারপুলের ড্রয়ের দিনে পয়েন্ট খুইয়েছে চেলসিও। হাল সিটির সঙ্গে জাবি আলোনসোর দলের ফল ২-২। চেলসির হয়ে গোল করেছেন মরগান রজার্স ও জোয়াও পেদ্রো। হাল সিটির হয়ে দুটিই মোহাম্মদ বেলুমি। ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনাল প্রথম তিন ম্যাচের সব কটি জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুইয়ে আছে। লিভারপুলের অবস্থান ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠে। সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চারে চেলসি।হ্যাটট্রিকের ‘মাস্তানি’তে মেসির রেকর্ড মাস্তানতুয়োনোর
সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেও কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, এখন স্বৈরাচার ফিরে আসবে—এমন কথা বলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।আজ শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের আমির এ কথা বলেন।দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই মন্তব্য করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হয়। দেশের যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই তাঁরা কথা বলবেন।শফিকুর রহমান বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন আরও কমতে থাকলে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে কাটছাঁট করে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ। চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। জনগণ আমাদের কাছে বলে, আপনাদের (সরকারের কাছে) কাছেও নিশ্চয় বলেন, দুর্নীতির মাত্রা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটার যদি আমরা লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে যত পরিকল্পনাই আমরা নিই—আসলে তা সফলতার মুখ দেখবে না।’বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেছিলেন, চার-পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটা আমার কথা নয়, এটা মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের কথা।’সরকারের ইঙ্গিতেই আওয়ামী লীগ সারা দেশে মিছিল করেছে, অভিযোগ পরওয়ারের
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর বাজারে সাপ্তাহিক হাট চলাকালে কবির ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বোরকা পরা একদল দুর্বৃত্ত। পরে তাঁর মরদেহ পাশের একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়। আজ শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে কবিরের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত কবির ব্যাপারী (৫৫) পার্শ্ববর্তী মুলাদী উপজেলার নামার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক, সদাই করতে ভাসানচর বাজারে গিয়েছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় দুজন ব্যক্তি জানান, বিকেলে ভাসানচর বাজারে সাপ্তাহিক হাটের ব্যস্ততা চলছিল। এর মধ্যে বাজারসংলগ্ন খালপাড়ে বোরকা পরা ছয় থেকে সাতজন দুর্বৃত্ত কবির ব্যাপারীর ওপর হামলা চালায়। তারা কবিরের হাত-পা, গলা ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপ দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে পাশের খালে ফেলে তারা পালিয়ে যায়।প্রকাশ্য বাজারে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও বাজারে আসা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেক ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে দেন। সন্ধ্যার পর বাজারটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে।হত্যার ঘটনার পর বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর বাজারে সাপ্তাহিক হাট জনশূন্য হয়ে পড়ে। শনিবার রাত ৮ টার দিকেখবর পেয়ে মেহেন্দীগঞ্জের কাজীরহাট থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। খালপাড় থেকে কবির ব্যাপারীর মরদেহ উদ্ধার করে তারা। কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, এ বিষয়ে স্থানীয় কেউ নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।কাজীরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করছে পুলি