ইতিহাসে অনেক শাসক বিশাল সাম্রাজ্য জয় করেছেন, কিন্তু বিজিত ভূখণ্ডকে সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রে রূপ দিতে পেরেছেন খুব কম জনই। আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছেন, কিন্তু সেই কাঠামোর কেন্দ্রে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিকে স্থান দিতে পারেননি। খোলাফায়ে রাশেদিনের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এর শাসনামল এই দুই দিক থেকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তার সময়ে মুসলিম রাষ্ট্র দ্রুত বিস্তৃত হয়ে বিশাল ভূখণ্ডে পরিণত হয়। সেই বিস্তৃত রাষ্ট্রকে পরিচালনার জন্য তিনি যে প্রশাসনিক ও রাজস্বব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, তার মূল ভিত্তি ছিল যোগ্যতা, জবাবদিহি, ন্যায়বিচার এবং জনকল্যাণ।
হজরত ওমর (রা.) খলিফা হওয়ার পর মুসলিম রাষ্ট্রের পরিধি দ্রুত বাড়তে থাকে। ইরাক, সিরিয়া, মিসর, পারস্যসহ একের পর এক অঞ্চল মুসলিম শাসনের অধীনে আসে। এত বিশাল ভূখণ্ডকে কেন্দ্র থেকে সরাসরি পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। তাই তিনি রাষ্ট্রকে বিভিন্ন প্রদেশ ও প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করেন।
প্রতিটি প্রদেশে নিযুক্ত করা হয় একজন ওয়ালি বা গভর্নর। তার অধীনে থাকত রাজস্ব, বিচার, সেনাবাহিনী, কোষাগার ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিভাগ। স্থানীয় পর্যায়েও আমিল ও কাজি নিয়োগ করা হতো। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনা হয়ে ওঠে বিকেন্দ্রীভূত, কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত।
ওমরের (রা.) প্রশাসনিক দক্ষতার সবচেয়ে বড় দিক ছিল শুধু দফতর সৃষ্টি নয়; বরং সঠিক পদে সঠিক মানুষ নির্বাচন। কোনো ব্যক্তি শুধু প্রভাবশালী বা অভিজাত হওয়ার কারণে সরকারি পদ পেতেন না। তার যোগ্যতা, সততা, ব্যক্তিত্ব ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনা করা হতো।
ওমরের (রা.) প্রশাসনিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল একটি মৌলিক ধারণা; রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা জনগণের মালিক নন, বরং জনগণের সেবক।
কর্মকর্তাদের নিয়োগের সময় তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা লিখিতভাবে নির্ধারণ করা হতো। কর্মস্থলে গিয়ে সেই নির্দেশনামা জনগণের সামনে পাঠ করতে হতো। এর ফলে জনগণ জানতে পারত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ক্ষমতার সীমা কোথায় এবং তার কাছ থেকে কী ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত।
তিনি কর্মকর্তাদের বিলাসিতা থেকেও দূরে থাকতে নির্দেশ দিতেন। তাদের প্রাসাদসদৃশ বাসস্থান, দেহরক্ষী কিংবা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করে এমন জীবনযাপন পছন্দ করতেন না। তার আশঙ্কা ছিল, শাসক ও জনগণের মধ্যে দেয়াল তৈরি হলে ক্ষমতার অপব্যবহার সহজ হয়ে যাবে।

ওমর (রা.) বুঝেছিলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের সময় নিজের সম্পদের হিসাব দিতেন। পরে সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেলে তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হতো।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। অর্থাৎ সরকারি পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের পথ তিনি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার নিয়মিত পরিদর্শন ও অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা। প্রতি বছর হজের সময় প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের মক্কায় উপস্থিত হতে হতো। সেখানে তাদের কর্মকাণ্ডের হিসাব নেওয়া হতো এবং জনগণের অভিযোগ শোনা হতো।
কোনো কর্মকর্তা অন্যায় করলে তার পদমর্যাদা তাকে রক্ষা করতে পারত না। একবার একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে এক ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওমর (রা.) তার বিরুদ্ধে শাস্তির নির্দেশ দেন। এতে তার প্রশাসনিক দর্শনের একটি বিষয় স্পষ্ট হয়, আইনের কাছে কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকের মর্যাদা সমান।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ওমর (রা.) তা উপেক্ষা করতেন না। বরং তদন্তের জন্য বিশ্বস্ত সাহাবিদের দায়িত্ব দিতেন। মুহাম্মদ ইবন মুসলিমাহ (রা.) এর মতো ব্যক্তিদের এ কাজে ব্যবহার করা হতো। তাদের দায়িত্ব ছিল অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং সরাসরি খলিফার কাছে রিপোর্ট পেশ করা।
কোনো গভর্নর বা সেনাপতি যতই জনপ্রিয় কিংবা সফল হোন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত হতে পারত। সা‘দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.) এর মতো বিশিষ্ট সেনাপতির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছিল।
এখানে প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি দেখা যায়। ব্যক্তির মর্যাদা নয়, অভিযোগের সত্যতা বিবেচ্য।
ওমর (রা.) এর রাজস্বব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোর একটি ছিল বিজিত কৃষিজমির মালিকানা নিয়ে তার সিদ্ধান্ত।
অনেক সাহাবি ও সেনাপতি মত দিয়েছিলেন, বিজিত জমি মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হোক। কিন্তু ওমর (রা.) এর বিরোধিতা করেন। তার যুক্তি ছিল, আজকের বিজয়ীদের মধ্যে সব জমি ভাগ করে দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী থাকবে? আর স্থানীয় কৃষকদের উৎখাত করা হলে উৎপাদনব্যবস্থা ধ্বংস হবে এবং সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি হবে।
তিনি কোরআনের সুরা হাশরের আয়াতের আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করেন। বিশেষত আল্লাহ বলেন, বিজিত সম্পদ যেন কেবল ধনীদের মধ্যে আবর্তিত না হয়; একই সঙ্গে মুহাজির, আনসার এবং পরবর্তী প্রজন্মের অধিকারও আয়াতে বিবেচিত হয়েছে।
ফলে বিজিত অঞ্চলের কৃষিজমি স্থানীয় কৃষকদের দখলে রাখার নীতি গ্রহণ করা হয়। তারা জমি চাষ করবে, উৎপাদন করবে এবং রাষ্ট্রকে নির্ধারিত হারে খরাজ বা ভূমি-কর দেবে। এর ফলে একদিকে কৃষকের অধিকার রক্ষা পেল, অন্যদিকে রাষ্ট্রও একটি স্থায়ী রাজস্বব্যবস্থা পেল।
ওমর (রা.) শুধু কর আদায়ের কথা ভাবেননি; বরং কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন।
অনাবাদী জমি আবাদ করার জন্য তিনি উৎসাহ প্রদান করেন। কেউ অনাবাদী জমিকে আবাদ করলে তার মালিকানা স্বীকৃত হওয়ার নীতি চালু করা হয়। আবার দীর্ঘদিন জমি অনাবাদী ফেলে রাখলে মালিকানা হারানোর বিধানও ইসলামী ভূমিনীতি-সংক্রান্ত সাহিত্যে আলোচিত হয়েছে।
সেচব্যবস্থার উন্নয়নেও তিনি গুরুত্ব দেন। খাল খনন, বাঁধ নির্মাণ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। কারণ তার কাছে রাজস্ব আদায়ের মূল শর্ত ছিল উৎপাদনশীল অর্থনীতি। কৃষকের ফসল নষ্ট করে রাজস্ব বাড়ানো নয়; বরং কৃষককে উৎপাদনে সক্ষম করাই ছিল তার লক্ষ্য।
এমন কি সামরিক অভিযানের সময়ও কৃষিজমি ও ফসলের ক্ষতি না করার নির্দেশ দেওয়া হতো। কোনো সৈন্যের কারণে কৃষকের ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নজিরও পাওয়া যায়।
রাষ্ট্রের আয় বাড়তে থাকলে তা সংরক্ষণ ও সুষ্ঠুভাবে ব্যয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। ওমর (রা.) এর আমলেই কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সুসংগঠিত রূপ গড়ে ওঠে।
মদিনায় কেন্দ্রীয় কোষাগার স্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাদেশিক রাজধানীতেও কোষাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় কোষাগারে পাঠানো হতো।
এই অর্থ শুধু রাজপ্রাসাদ বা শাসকদের বিলাসিতায় ব্যয় করা হতো না। সৈন্যদের বেতন, সরকারি কর্মচারীদের পারিশ্রমিক, জনকল্যাণ, প্রশাসনিক ব্যয় এবং নাগরিকদের নির্দিষ্ট ভাতা প্রদানে তা ব্যবহার করা হতো।
এখানে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে পৃথক রাখার একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেখা যায়।
প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নথিপত্র সংরক্ষণের প্রয়োজনও বাড়ে। ওমর (রা.) এ ক্ষেত্রে দিওয়ান ব্যবস্থা চালু করেন। নাগরিকদের তালিকা, সৈন্যদের বেতন ও ভাতা, সরকারি আয়-ব্যয় সবকিছু নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় বণ্টন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আদমশুমারিও গ্রহণ করা হয়।
এমন কি সরকারি নথিপত্রে সময়ের হিসাব নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন দেখা দিলে ওমর (রা.) এর আমলেই হিজরি সাল চালু হয়। হিজরতকে ইসলামী বর্ষপঞ্জির সূচনাবিন্দু হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এর ফলে প্রশাসনিক নথি, চিঠিপত্র ও সরকারি হিসাব সংরক্ষণে একটি অভিন্ন কালপঞ্জি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ওমরের (রা.) প্রশাসনিক সংস্কারকে শুধু প্রাচীন যুগের বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যাবে না। এর পেছনে ছিল একটি সুসংহত রাষ্ট্রদর্শন।
তিনি জানতেন, শক্তিশালী রাষ্ট্র মানে শক্তিশালী শাসক নয়; বরং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। কর্মকর্তা নিয়োগে যোগ্যতা, ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ, সম্পদের হিসাব, নিয়মিত তদন্ত, জনগণের অভিযোগ গ্রহণ, কৃষকের অধিকার রক্ষা, রাজস্বের ন্যায়সংগত বণ্টন, কোষাগারের স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার—সবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে রাষ্ট্রের শক্তির চেয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল বড়।
আজকের পৃথিবীতে প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি, ভূমি ব্যবস্থাপনা কিংবা জনকল্যাণমূলক অর্থনীতি নিয়ে যত আলোচনা হয়, ওমর (রা.) এর শাসনামলের অভিজ্ঞতা সেখানে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
তথ্যসূত্র:
ওএফএফ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯২ রাউন্ড রিমফায়ার লং রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বাসুপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব গুলি উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১৩ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর রংপুর সদর কোম্পানির একটি দল বাসুপাড়া মোড়ে বদরগঞ্জ-পার্বতীপুরগামী পাকা সড়কে তল্লাশি চালায়। এ সময় মালিকবিহীন পরিত্যক্ত দুটি ব্যাগ থেকে মোট ৯২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি ব্যাগে ৫০ রাউন্ড এবং অন্যটিতে ৪২ রাউন্ড গুলি ছিল। র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, রোববার দুপুরে উদ্ধার করা গুলি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে পার্বতীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। এমদাদুল হক মিলন/কেএইচকে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করে একটি দল মানুষের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রির চেষ্টা করছে। অথচ তারাই এলাকায় দোজখের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাসকরা গ্রামে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা মিলনের পরিবারের জন্য নবনির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ইসলামের মূল শিক্ষা হচ্ছে মানবতার সেবা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করে একটি পক্ষ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। তারা মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে রাজনৈতিক লাভের পেছনে ছুটছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বারবার মানুষের সঙ্গে মোনাফেকি করেছে। এখন তারা ত্রাসের রাজনীতি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে।’ আরও পড়ুন রুহুল কবির রিজভী / দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে রিজভী বলেন, ‘আমরা বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য এই ঘরটি উপহার দিয়েছি। বিএনপি সবসময় অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে।’ অনুষ্ঠানে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মিলন পরিবারের পাঁচ সদস্যের হাতে নবনির্মিত ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। এসময় পরিবারটিকে একটি ছাগলও উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংগঠনটির সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হিরা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল হুদাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর/এএসএম
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফ্রান্সের তিন সিনেটরের একটি প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে এ আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা, বিশেষ করে দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফরাসি সিনেটরদের স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরাসি সিনেটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মাধ্যমে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক মতবিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আরও পড়ুন বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্তের আলোচনা ফ্রান্সে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম ওষুধ, চামড়া, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে রপ্তানি বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এসব খাতে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অভিবাসন ও শ্রমিকদের চলাচলসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়। একই সঙ্গে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আরও পড়ুন দেশে-বিদেশে মব রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়: শামা ওবায়েদ অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি এ ধরনের অভিবাসন প্রতিরোধে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান। এছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা। বহুপাক্ষিক বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয়পক্ষ। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি শেষ হয়। দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং দুই গণতান্ত্রিক দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করবে। ইএ