ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আলোচনা ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এক পক্ষ তাঁকে উপমহাদেশের মুসলমানদের প্রধান নেতা হিসেবে তুলে ধরছে। অন্য পক্ষ মনে করিয়ে দিচ্ছে, এই জিন্নাহই ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলেছিলেন। তাঁর সেই ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি আদায় করেছিলেন রফিক, জব্বার, সালাম, বরকতরা।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের গভর্নর জেনারেল হয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এই দেশভাগের পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নটি দ্রুত পূর্ব বাংলার রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে তমদ্দুন মজলিসের প্রকাশিত পুস্তিকায় পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় জিন্নাহ ঘোষণা দেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। মার্কিন ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি ওলপার্টের মতে, ভাষাসংক্রান্ত জিন্নাহর এই বক্তব্য ছিল তৎকালীন পাকিস্তান রাজনীতির সবচেয়ে উদ্বায়ী, বিতর্কিত ও বিভাজন সৃষ্টিকারী বিষয়।

‘ঢাকায় জিন্নাহ’ বইয়ের ভূমিকায় মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় জিন্নাহর জনপ্রিয়তা ছিল প্রবাদপ্রতিম। তাঁকে বলা হতো ‘কায়েদে আজম’ অর্থাৎ মহান নেতা। তবে জিন্নাহর ওই ভাষণের পর বাঙালি ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সমাজ সেটিকে বাংলা ভাষার অস্তিত্ব ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করে। এর ফলে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে চলমান আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের পটভূমি প্রস্তুত করে।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্ম ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানের করাচিতে। করাচির নিউনহাম রোডের ‘ওয়াজির ম্যানশন’ তাঁর জন্মস্থান। করাচি তখন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ছিল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ করাচি ও বোম্বে লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে যান। সেখানে আইন পড়ে ব্যারিস্টার হন। পরে বোম্বে এসে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা পান।

মার্কিন ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি ওলপার্টের লেখা ‘জিন্নাহ অব পাকিস্তান’ গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনে ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতির প্রতি জিন্নাহর আগ্রহ তৈরি হয়। লন্ডনে আইন পড়ার সময় তিনি নিয়মিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিতর্ক পর্যবেক্ষণ করতেন এবং ১৮৯২ সালে দাদাভাই নওরোজির (ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব) নির্বাচনী প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেন।
নওরোজির উদারনৈতিক চিন্তাধারা তাঁকে প্রভাবিত করে। ভারতে ফিরে বোম্বে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জিন্নাহ ১৯০৪ সালে প্রথম কংগ্রেসের অধিবেশনে অংশ নেন। ১৯০৫ সালে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা গোপাল কৃষ্ণ গোখলের সঙ্গে লন্ডন সফরের সুযোগ পান। গোপাল কৃষ্ণ গোখলকে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে মানতেন জিন্নাহ। ১৯০৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতি দাদাভাই নওরোজির ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পালন করে জিন্নাহ সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান জোরালো করেন।
নিউজিল্যান্ডের লেখক হেক্টর বলথো জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ‘জিন্নাহ: ক্রিয়েটর অব পাকিস্তান’ নামে একটি বই লিখেছেন। বইটিতে জিন্নাহর রাজনীতিতে প্রবেশ থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনা পাওয়া যায়।
বইটিতে বলা হয়েছে, ১৯১০ সালে জিন্নাহ ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দিলেও কংগ্রেসের সঙ্গেও তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তিতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ক্ষেত্রে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে ১৯২০ সালে গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পদ্ধতির সঙ্গে মতবিরোধের জেরে কংগ্রেস ছাড়েন তিনি। এরপর লন্ডনে কিছু সময় কাটিয়ে ১৯৩৪ সালে ভারতে ফিরে মুসলিম লীগকে পুনর্গঠনে মনোযোগ দেন। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি আরও দৃঢ় অবস্থান নেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল হন জিন্নাহ। যক্ষ্মা ও দীর্ঘদিনের ফুসফুসের অসুস্থতায় ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর করাচিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতেই ভারত ভাগ হয়েছিল বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। ভারত ভাগের পেছনে তাহলে একক ভূমিকা কি জিন্নাহরই ছিল?
ভারতীয় লেখক যশবন্ত সিং তাঁর ‘জিন্নাহ: ইন্ডিয়া–পার্টিশন–ইনডিপেনডেন্স’ বইয়ে উপমহাদেশ ভাগের জন্য জিন্নাহকে এককভাবে দায়ী করার প্রচলিত ধারণা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণে, দেশভাগ শুধু জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্ব বা রাজনৈতিক অবস্থানের ফল ছিল না; এর পেছনে কংগ্রেসের কিছু রাজনৈতিক ভুল, মুসলিম লীগের কৌশল এবং ব্রিটিশদের নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
বইটিতে বলা হয়েছে, ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের পর উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস মুসলিম লীগের সঙ্গে সরকার গঠনে রাজি না হওয়ায় জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হয়। একইভাবে ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা (ব্রিটিশ সরকারের একটি প্রস্তাব, যা ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের জন্য আনা হয়েছিল) নিয়ে জওহরলাল নেহরুর বক্তব্য জিন্নাহর মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে। পরে জিন্নাহ পরিকল্পনা থেকে সরে গিয়ে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’–এর ডাক দেন।
যশবন্ত সিংয়ের বিশ্লেষণে ব্রিটিশদের ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতি এবং শেষ পর্যায়ে লর্ড মাউন্টব্যাটেনের তড়িঘড়ি করে ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও দেশভাগের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অর্থাৎ তাঁর দৃষ্টিতে দেশভাগ ছিল জিন্নাহ, মুসলিম লীগ, কংগ্রেস ও ব্রিটিশ শাসকদের নানা সিদ্ধান্ত ও ব্যর্থতার সম্মিলিত ফল।
বাংলাদেশের লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর ‘ঢাকায় জিন্নাহ’ বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একক নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও পাকিস্তান আন্দোলনের কারণে কোটি কোটি মানুষকে অবর্ণনীয় দুঃখ–কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রাণ গেছে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের। এক কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে এত বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা সাম্প্রতিক ইতিহাসে আর নেই।
ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি ওলপার্টের গ্রন্থে জিন্নাহর ধর্মীয় পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়। বইটিতে বলা হয়েছে, জন্মসূত্রে তিনি আগা খানপন্থী ইসমাইলি খোজা সম্প্রদায়ের ছিলেন। পরে তিনি ইশনা আশারি বা বারো ইমামি শিয়া ধারার অনুসারী হন। তাঁর পাশ্চাত্য পোশাক, ইংরেজিতে কথা বলা ও জীবনযাপন নিয়ে রক্ষণশীল মুসলিম ও ওলামাদের একাংশের সমালোচনাও ছিল। জিন্নাহর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ধর্মীয় বিতর্ক ছিল।

জিন্নাহ নিজেও নিজেকে ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে আগ্রহী ছিলেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের লেখক হেক্টর বলথোর গ্রন্থে। সেখানে বলা হয়েছে, একবার একটি শোভাযাত্রায় তাঁকে ‘মাওলানা জিন্নাহ’ বলা হলে তিনি শোভাযাত্রা থামিয়ে জানান, তিনি কোনো ধর্মীয় নেতা নন, তিনি রাজনৈতিক নেতা। তবে ভারতীয় মুসলিমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিয়ে তাঁর অবস্থানকে কেউ ‘সাম্প্রদায়িক’ বললে তিনি সেই পরিচয় গ্রহণ করতেও আপত্তি করেননি।
হেক্টর বলথোর ও যশবন্ত সিংয়ের লেখায় জিন্নাহর বক্তব্য ও রাজনৈতিক চিন্তার আলোকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত পাকিস্তানের একটি ধারণা পাওয়া যায়। সেখানে জিন্নাহকে কেবল মুসলিমদের জন্য একটি রাষ্ট্রের প্রবক্তা হিসেবে নয়; বরং গণতন্ত্র, সম–অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশী নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আবুল আ’লা মওদুদি ১৯৪১ সালে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেননি এবং জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগের রাজনীতির সমালোচনা করেন। মওদুদির আপত্তি ছিল, শুধু মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একটি ভূখণ্ডভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরি করলেই সেটি ইসলামি রাষ্ট্র হবে না। তাঁর মতে, পশ্চিমা ধাঁচের আইন, গণতন্ত্র ও জনপ্রভুত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের পরিচালিত রাষ্ট্রও অনৈসলামিক হতে পারে। মুসলিম লীগ ‘মুসলমানের শাসন’ চাইছিল, কিন্তু মওদুদি চাইছিলেন ‘ইসলামের শাসন’।
ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের পর গত রোববার চালু করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কোনো ঐতিহাসিক ছবি রাখা হয়নি, যুক্ত করা হয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এ খবর প্রকাশের পর রোববার রাত থেকেই ফেসবুকে সমালোচনা শুরু হয়।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মুসতাক ফেসবুকে লেখেন, ‘আর কত সময় হলে বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে এই ডাকসুর? রাষ্ট্রভাষা বাংলার বিরোধিতাকারীর ছবি স্থান পায় ডাকসুর সংগ্রহশালায়!’
এরপর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার প্রতিবাদ জানানো হয়। ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংগঠনগুলো।

এর মধ্যে গতকাল দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটা জিন্নাহর বাংলাদেশ নয়, এটা শেখ মুজিবের বাংলাদেশ, ভাসানীর বাংলাদেশ; এটা ভাসানীর বাংলাদেশ, জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশ। এখানে কোনো খলনায়কের ছবি থাকতে পারে না।’
আবু তৈয়ব হাবিলদার জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর ও বক্তব্য দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। জিন্নাহর ছবি রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, জিন্নাহর ছবি রাখার পাশাপাশি ছবির নিচে তাঁর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর যুক্তি, ছবি না রাখলে জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান ইতিহাস থেকে আড়াল করা হয়েছে—এমন প্রশ্ন উঠতে পারত।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান মনে করছেন, ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও স্মারকগুলোকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে এসব ছবি যুক্ত করে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন ইতিহাস তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনার সঙ্গে যায় না।

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি টাঙানোয় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের বহনকারী তিনটি হায়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, সোমবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদর ও শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে শ্রীনগরের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এলাকা থেকে ১০ জন এবং মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার দুটি এলাকা থেকে ২১ জন রয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার একটি চেকপোস্টে প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে একটি হায়েস মাইক্রোবাস থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় ১০ জনকে আটক করা হয়। এরপর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে সদর থানার হাতিমারা মোড়ের চেকপোস্টে আরেকটি হায়েস মাইক্রোবাস থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়। রাত ২টার দিকে শ্রীনগর থানাধীন ছনবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্টে তৃতীয় মাইক্রোবাস থেকে আরও ১০ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তিরা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে আওয়ামী লীগের পক্ষে ঝটিকা মিছিল করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তাদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগের মিছিল হতে পারে এমন খবর পেয়ে এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস সড়কের ছনবাড়ি এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি মাইক্রোবাস থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানান। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, সদর উপজেলার সিপাহিপাড়া থেকে ১১ জন ও নয়াগাঁও এলাকা থেকে ১০ জনকে দুটি মাইক্রোবাসসহ আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শুভ ঘোষ/কেএইচকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সহকারী প্রক্টররা গিয়েছেন। তাঁরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।এর আগে আজ দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের সড়কসংলগ্ন মূল ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিস্ফোরণকারী দুজনকে চিহ্নিত করা গেছে। তারা আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারী কেউ হতে পারে। সরকার এ বিষয়ে তদন্ত করছে।
আগেও বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলা গানের প্রতি ভালোবাসার নজির রেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের ভিডিওতে তিনি হাবিব ওয়াহিদের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘মহাজাদু’ ব্যবহার করেছিলেন। সংগীতের মাধ্যমে কূটনৈতিক বার্তা তুলে ধরার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে অনেকেই ‘সং ডিপ্লোম্যাসি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রেই এবার শাহরুখ খানের অমর গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’। বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান অভিনীত কালজয়ী সিনেমা দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে' ছবির জনপ্রিয় গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’। এটি এবার জায়গা করে নিল কূটনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত এক ভিডিওতে। ভারতের ব্রিকস সম্মেলন সফরের স্মৃতি ভাগ করে নিতে এই গানই বেছে নিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভ্যর্থনার মুহূর্ত নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও তিনি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। ভিডিওটির আবহে শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত ১৯৯৫ সালের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র 'দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে' ছবির এই রোমান্টিক গান ব্যবহার করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। শুধু এই একটি গানই নয়, সফরের বিভিন্ন মুহূর্তে আনোয়ার ইব্রাহিম আরও কয়েকটি জনপ্রিয় বলিউড গান ব্যবহার করেছেন। মোদির সঙ্গে আরেকটি ছবিতে ছিল 'দিল তো পাগল হ্যায়' ছবির শিরোনাম গান, ব্রিকস সম্মেলনের বক্তব্যের ছবিতে 'হর দিল জো পেয়ার করেগা' এবং ভারত ছাড়ার ভিডিওতে 'লক্ষ্য' সিনেমার ‘কান্ধোঁ সে মিলতে হ্যায় কান্ধে’ গান। ভারত সফরের ফাঁকে তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সেই ভোজের ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা যায় 'ভীর-জারা' সিনেমার ‘আইসা দেশ হ্যায় মেরা’ গান। এলআইএ/কেএইচকে