প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মদে ডুবে যাওয়া, পার্বতীকে হারিয়ে নিজের জীবন শেষের দিকে ঠেলে দেওয়া—‘দেবদাসের’ এই চেনা ছবি বহুবার সিনেমায় এসেছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ বাংলা সাহিত্যের এমন এক প্রেমিক চরিত্র, যার ব্যর্থতা, আত্মবিনাশ আর বিরহ পপ কালচারে প্রায় মিথে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তামিল নির্মাতা অরুণ মাথেশ্বরনের ‘ডিসি’ সেই চেনা দেবদাসকে একেবারে অন্য জগতে নিয়ে যায়। এখানে দেবদাস মদে ডুবে নিঃশেষ হন না, বরং হতাশা সহিংস হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেমের ব্যর্থতা তাকে আত্মবিনাশী না করে করে তোলে প্রতিশোধপরায়ণ। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন, এ উপলক্ষে দেখতেই পারেন দেবদাসের সহিংস রূপ।
একনজরেসিনেমা: ‘ডিসি’ধরন: রোমান্টিক অ্যাকশনপরিচালনা: অরুণ মাথেশ্বরনঅভিনয়: লোকেশ কঙ্গরাজ, ওয়ামিকা গাব্বি, সানজানা কৃষ্ণমূর্তি, অবিনাশ রঘুদেবন ও কৃষ্ণ দয়ালস্ট্রিমিং: সান নেক্সটদৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট
ছবির নামের ‘ডি’ এসেছে দেবদাসের নতুন রূপ দাস থেকে; আর ‘সি’ মূলত চন্দ্রাকে ঘিরে। ছবির সবচেয়ে বড় চমক লোকেশ কঙ্গগরাজ। এ সময়ের আলোচিত এই দক্ষিণি নির্মাতা অভিনয় করেছেন সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে! তাঁর দাস চরিত্রটি এক পলাতক গ্যাংস্টার। যুক্ত সশস্ত্র ডাকাত দলের সঙ্গে। পুলিশের অস্ত্রের চালান লুট, এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা—এসবের পর পুলিশ তার পেছনে নামে। কর্মকর্তা ভোগরাজকে (কৃষ্ণ দয়াল) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ, ‘নিষ্ঠুর হও’। ফলে মরিয়া ভোগরাজ দাস ও তার দলের পিছু নেয়। যার পরিণতি অনিবার্য সংঘর্ষ।
উপন্যাসে ‘দেবদাস’-এ নায়ক ধীরে ধীরে নিজের জীবন নষ্ট করে। ‘ডিসি’ সেই জায়গাটাই উল্টে দেয়। দাসের ভেতরের যন্ত্রণা তাকে নিষ্ক্রিয় করে না, বরং সহিংস করে তোলে। সে মানুষ হত্যা করে, পুলিশের সঙ্গে লড়াই করে, আবার একই সঙ্গে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এই দ্বৈততাই তাকে প্রচলিত নায়ক নয়, অ্যান্টিহিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
শরৎচন্দ্রের গল্পের পার্বতী এখানে পার্বতীই—চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন সানজানা কৃষ্ণমূর্তি। তবে এই পার্বতী সেই জমিদারবাড়ির মেয়ে নন। তিনি একজন ক্লাব গায়িকা। দাসের সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও হয় খুব সংক্ষিপ্ত এক সময়ে। দুজন ঠিক করেন, তাঁরা একে অপরের কাছে অপরিচিতই থাকবেন। অথচ সেই অপরিচয়ই তাঁদের কাছে স্বীকারোক্তির নিরাপদ জায়গা হয়ে ওঠে। পার্বতী দাসের মায়ের প্রিয় গান গাওয়ায় তার প্রতি দাসের টান তৈরি হয়। দুজনের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য তৈরি হয় একধরনের আশ্রয়।
এই সম্পর্ককে দীর্ঘ সময় দেওয়ার সুযোগ পায় না ছবি। পুলিশের হামলায় পার্বতী আহত হয়, আর দাস আবার পালাতে বাধ্য হয়। কিন্তু সম্পর্কটির স্বল্পস্থায়িত্বই যেন ছবির নতুন দেবদাসের চরিত্রটি বোঝানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সে ভালোবাসতে চায়, কিন্তু তার জীবন এমন এক সহিংস বাস্তবতায় আটকে আছে, যেখানে ভালোবাসার জন্য সময়ই নেই।
এরপর গল্পে আসে চন্দ্রা—মূল ‘দেবদাস’-এর চন্দ্রমুখীর নতুন রূপ। ওয়ামিকা গাব্বির অভিনয়ে চন্দ্রা একজন যৌনকর্মী, যাকে শৈশব থেকেই একটি যৌনপল্লিতে আটকে রাখা হয়েছে। প্রায় ১৮ বছর ধরে সে বন্দী। প্রতিদিন অসংখ্য পুরুষের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া এই নারী যখন দাসের সামনে আসে, তখন তার গল্প দাসকে নাড়া দেয়। সে চন্দ্রাকে সেই বন্দিদশা থেকে বের করে আনে। চন্দ্রাও স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে চলে আসে।

‘ডিসি’র অ্যাডাপ্টেশন সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এই অংশে। মূল ‘দেবদাস’-এ পার্বতী ও চন্দ্রমুখী নায়কের জীবনে দুই ভিন্ন আবেগের প্রতীক। ‘ডিসি’ তাঁদের চরিত্রকে নতুন সামাজিক বাস্তবতায় বসিয়েছে। পার্বতী এখানে ক্ষণস্থায়ী ভালোবাসা, আর চন্দ্রা হয়ে উঠেছে বন্দিত্ব থেকে মুক্তির প্রতীক। দাস ও চন্দ্রার সম্পর্ক শুধু প্রেম নয়; দুজন বিধ্বস্ত মানুষ একে অপরের মধ্যে নিজেদের ক্ষত চিনে নেওয়া। চন্দ্রার সঙ্গে দাসের সম্পর্ককে ‘বনি অ্যান্ড ক্লাইড’-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়। যৌনপল্লির দেয়ালে থাকা আর্থার পেনের ছবির পোস্টারও সে ইঙ্গিতই দিয়েছে। তবে ‘ডিসি’ শেষ পর্যন্ত শুধু সেই সিনেমার বিখ্যাত অপরাধী-জুটির অনুকরণে আটকে থাকে না। বরং দাস ও চন্দ্রাকে নিয়ে নিজের নতুন দুনিয়া তৈরি করতে চায়—যেখানে প্রেমের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেঁচে থাকা।
এ সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি চন্দ্রার প্রথম সমুদ্র দেখা। জীবনের এতটা সময় চার দেয়ালের মধ্যে কাটানোর পর বিশাল সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তার বিস্ময় দর্শককে চরিত্রটির অতীত বুঝতে সাহায্য করে। কোনো বড় সংলাপ ছাড়াই মুকেশ জির ক্যামেরা সেই মুহূর্তকে বড় করে তোলে। আরেকটি মুহূর্তে দাস চন্দ্রার আঙুল খুঁজে নেয়—ঘনিষ্ঠতার জন্য নয়, শুধু নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে সে এখনো তার পাশে আছে। এমন ছোট দৃশ্যগুলোই ‘ডিসি’কে নিছক গ্যাংস্টার ছবি হয়ে উঠতে দেয় না।
অরুণ মাথেশ্বরনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর দৃশ্য নির্মাণ। ‘সানি কায়িধাম’ ও ‘ক্যাপ্টেন মিলার’-এর মতো ছবিতে যে স্টাইলাইজড সহিংসতার ভাষা তিনি তৈরি করেছেন, ‘ডিসি’তেও তার ব্যবহার করেছেন। অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর কোরিওগ্রাফি, রক্তপাতকে নান্দনিকভাবে ফ্রেমবন্দী, আর ক্যামেরা ও সম্পাদনা মিলে সহিংসতাকে প্রায় কবিতার মতো উপস্থাপন করেছে।

বিশেষ করে দাস ও চন্দ্রার সাক্ষাতের পরের দীর্ঘ করিডর-অ্যাকশন দৃশ্যটি ছবির অন্যতম সেরা অংশ। অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্রনের ‘রাগা অব রিভেঞ্জ’ বাজতে শুরু করলে রক্তাক্ত সংঘর্ষটি শুধু অ্যাকশন থাকে না, যেন দুই চরিত্রের পুরোনো জীবন শেষ হয়ে নতুন জীবনের শুরু হয়।
আরেকটি দুর্দান্ত মুহূর্ত তৈরি হয়েছে ‘বাম বা দিগা’ গানে। একদিকে দেখা যায় দাসের ওপরে পুলিশের নির্যাতন, অন্যদিকে চন্দ্রার ওপর চলা যৌন নিপীড়ন। গানটি প্রাণবন্ত, প্রায় আনন্দময়; অথচ পর্দায় চলছে ভয়াবহ সহিংসতা। এই অদ্ভুত বৈপরীত্য দুই চরিত্রের আলাদা বন্দিত্বকে এক জায়গায় নিয়ে আসে। তাঁদের শরীর ভিন্ন জায়গায় বন্দী, কিন্তু যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা একই।
‘ডিসি’র সংগীত তাই শুধু দৃশ্যের পেছনে বাজে না, অনেক সময় দৃশ্যের আবেগ তৈরি করে। অনিরুদ্ধের আবহসংগীত ছবির অন্যতম বড় শক্তি। কোথাও কোথাও মনে হয়, চিত্রনাট্য যে আবেগ পুরোপুরি তৈরি করতে পারেনি, সংগীত সেটিকে পূরণ করছে। ফলে ‘ডিসি’ দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করে অনিরুদ্ধ সংগীতের ওপর।
মুকেশ জির ক্যামেরায় মাটির কাছাকাছি থাকা রঙের সঙ্গে রক্তের লালকে বারবার আলাদা করে তোলা হয়েছে। চন্দ্রার যৌনপল্লির ঘরকে প্রায় পরাবাস্তব এক ক্যানভাসের মতো সাজানো হয়েছে। দেয়ালে ভ্যান গঘ ও দালির ছবি, বড় বড় দেয়ালচিত্র, উজ্জ্বল রং—সবকিছু চরিত্রটির বন্দিত্বের ভেতরকার অদ্ভুত জগৎকে তুলে ধরে।
চন্দ্রার সাজেও রয়েছে আরেকটি সিনেম্যাটিক ইঙ্গিত। শাড়ি, টকটকে লাল লিপস্টিক, চুলে লাল গোলাপ—সব মিলিয়ে সিল্ক স্মিতার স্মৃতি উসকে দেয়। এক দৃশ্যে তাকে ‘সিল্ক’ বলেও ডাকা হয়। দাসের হাতে রুপালি কড়া আবার বিজয়ের ‘মাস্টার’ ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়।

তবে এত সব নান্দনিকতা সত্ত্বেও ‘ডিসি’র সবচেয়ে বড় সমস্যা চিত্রনাট্যে। ছবির গল্পের কাঠামো যতটা চমকপ্রদ, চরিত্র নির্মাণ ততটা গভীর নয়। পুলিশি দুর্নীতি, অপরাধীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, নারী নির্যাতন—এতগুলো বিষয় ছবিতে এসেছে, কিন্তু সব কটিকে সমান গভীরতায় অনুসন্ধান করা হয়নি।
ফলে কোনো কোনো জায়গায় মনে হয়, গল্পের ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে অ্যাকশন ব্যবহার করা হয়েছে। ১৪২ মিনিটের দৈর্ঘ্যও তখন কিছুটা বেশি মনে হয়। একের পর এক বন্দুকযুদ্ধ, ছুরিকাঘাত ও হত্যাকাণ্ড দর্শককে রোমাঞ্চ দিলেও সব সময় আবেগগতভাবে নাড়া দিতে পারে না।
দাস চরিত্রটিও একই সমস্যায় ভোগে। লোকেশের অভিনয়ে সংযম আছে, চোখে রাগ আছে, শরীরী ভাষায় যন্ত্রণা আছে। তিনি চিৎকার করে আবেগ প্রকাশ করেন না; নীরবতাতেই চরিত্রটিকে বহন করেন। প্রথমবার অভিনেতা হিসেবে তাঁর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ। কিন্তু চিত্রনাট্য চরিত্রটির ভেতরের দ্বন্দ্বকে যতটা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা দরকার ছিল, তা করেনি। ফলে কোথাও কোথাও দাস রহস্যময় না হয়ে অস্বচ্ছ মনে হয়—সে কেন এতটা সহিংস, তার নৈতিক সীমা কোথায়, সেই প্রশ্নের সব উত্তর মেলে না।
ওয়ামিকা গাব্বিও চন্দ্রাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। তাঁর অভিনয়ে একদিকে শিশুসুলভ বিস্ময়, অন্যদিকে পৃথিবীর কাছে বহুবার পরাজিত এক নারীর কঠোরতা। বন্দিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার পর চন্দ্রার আচরণে যে পরিবর্তন আসে, সেটি বিশ্বাসযোগ্য। তবে চন্দ্রাকে স্বাধীন নারীর চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও ছবিটি পুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হতে পারে না। একজন পুরুষ তাকে উদ্ধার করবে, তারপর সে নিজের শক্তি আবিষ্কার করবে—এই পরিচিত কাঠামোই শেষ পর্যন্ত থেকে যায়।
সানজানা পার্বতীর চরিত্রে সংযত অভিনয় করেছেন। চন্দ্রার বিপরীতে তাঁর চরিত্রের কোমলতা দাসের জীবনে দুই নারীর আলাদা অবস্থান স্পষ্ট করে। অন্যদিকে কিটি চরিত্রে অবিনাশ রঘুদেবন ও ভোগরাজের চরিত্রে কৃষ্ণ দয়ালও উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে নিষ্ঠুর পুলিশ কর্মকর্তা ভোগরাজ ছবির ক্ষমতার কাঠামোকে প্রতিনিধিত্ব করে।
ছবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নৈতিকতা। দাস ও তার দল অপরাধী, কিন্তু তাদের পেছনে ছুটতে থাকা পুলিশও যখন ‘নিষ্ঠুর হও’ নির্দেশ পায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—আইনের নামে সংঘটিত সহিংসতা কি অপরাধীদের সহিংসতার চেয়ে আলাদা? দাসের গ্যাংয়ের নামের সঙ্গেও এখানে একধরনের ব্যঙ্গ আছে। তাদের নেতা আরাসু—তামিল ভাষায় যার অর্থ ‘সরকার’। রাষ্ট্র যে পরিবেশ তৈরি করে, সেই পরিবেশই যখন অপরাধী তৈরি করে, তখন অপরাধী ও রাষ্ট্রের সহিংসতার সীমারেখা কোথায়—ছবিটি এই প্রশ্ন তোলে।
‘ডিসি’ সিনেমা হিসেবে আরও শক্তিশালী হতে পারত। কারণ, তার ভিজ্যুয়াল ভাষায় যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চিত্রনাট্য সব সময় সেই উচ্চতায় পৌঁছায় না।
তবু ছবিটিকে একেবারে ব্যর্থ বলা যায় না। কারণ, শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’-এর মতো বহুল ব্যবহৃত একটি গল্পকে তামিল গ্যাংস্টার জগতের মধ্যে বসানো সহজ কাজ নয়। অরুণ মাথেশ্বরন সেই ঝুঁকি নিয়েছেন এবং অন্তত দৃশ্যগতভাবে একটি স্বতন্ত্র জগৎ তৈরি করেছেন। মূল গল্পের প্রেম, বিরহকে তিনি রূপান্তর করেছেন সহিংসতা, মুক্তি, বেঁচে থাকা ও প্রতিশোধের গল্পে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে সিগারেট তৈরির মেশিনসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ভারতীয় ‘মেসি’ ব্র্যান্ডের ছয় কার্টন সিগারেট ও একটি মেশিন জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘীসংলগ্ন এলাকায় একটি অবৈধ ডিপুতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। রাতে নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রাম থেকে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে একটি সিগারেট তৈরির মেশিন জব্দ করা হয়। এ সময় কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় মেশিনটি পেরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়। পরদিন ৫ আগস্ট মেশিনটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘীসংলগ্ন এলাকায় একটি অবৈধ ডিপুতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে চোরাই সিগারেট তৈরির মেশিন দিয়ে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির সময় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় মেশিনটি ও ছয় কার্টন নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রশাসন অভিযানে পাওয়া সিগারেট তৈরির মেশিনটি আমার জিম্মায় রেখেছিল। চোরের দল ৫ আগস্ট মেশিনটি চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি ৬ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করি। মঙ্গলবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে মেশিনটি উদ্ধার করেছে বলে জানতে পেরেছি।’ নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস বলেন, ‘নাঙ্গলকোট থানায় দায়ের হওয়া সিগারেট তৈরির মেশিন চুরির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চৌদ্দগ্রামের বাতিসা এলাকায় একটি ডিপুতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে মেশিন দিয়ে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির সময় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মেশিন ও ছয় কার্টন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট জব্দ করা হয়।’ তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানাননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে
সামাজিক অবক্ষয় রোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দেশের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, ‘সামাজিক অবক্ষয় এক দিনে ঘটে না। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে সঠিকভাবে সমাজকে খাপ খাওয়াতে হয়। এর দায়িত্ব পিতা-মাতা, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক ও রাষ্ট্রের।’ মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সরকারি কার্যাবলির তদারকি ও সমন্বয়-সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরিবেশমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুর জেলার তদারকির দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম সভা। কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সব সমস্যা শুধু রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও দেশের কল্যাণে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।’ এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটি কাজ করার নির্দেশনা দেন।লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা শাহাদাত হোসেন সেলিম।এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ভার্চ্যুয়ালি সভায় যুক্ত হন।সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ২০৮টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ২৬টি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ৬৬টি এবং অন্যান্য অপরাধ ৯১টি।একই মাসে (আগস্ট) জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ৮৫২টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে মোট অমীমাংসিত (পেন্ডিং) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৪টি। পরোয়ানা তামিলের হার আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।পরিবেশ সুরক্ষায় জেলার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানানো হয়, গত এক বছরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে ৬৫টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন আইনে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে জমির ওপরের মাটি (টপসয়েল) কাটা বন্ধে ৬৬টি অভিযানে ৫৯টি মামলা ও ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নদী-খাল ও পরিবেশ রক্ষা এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়।মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মোট ৯৮৭টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ১৮৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ৫১টি নিয়মিত মামলাসহ মোট ২৪০টি মামলা হয়েছে। এ সময় ১৭ হাজার ২৫০টি ইয়াবা বড়ি এবং ২৮ দশমিক ৮৫৯ কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক আলোচনা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি খাল-বিল ও নদ-নদী দূষণ, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের বিষয়েও আলোচনা হয়।সভায় জেলার চলমান সড়ক উন্নয়নকাজের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ, পৌর এলাকায় অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল, অবৈধ ইটভাটা, মাদক ও পরিবেশদূষণসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।সভায় লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ বাহারুল আলমসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা এবং সেখানে গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি লাগানোকে ‘মব’ হিসেবে উল্লেখ করে এতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন ডাকসুর নেতারা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর কার্যালয়ে যান ডাকসুর নেতারা। উপাচার্য চীন সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ায় তাঁকে না পেয়ে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর কাছে এ দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।সাক্ষাৎ শেষে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছি, যারা ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা করে ঐতিহাসিক সম্পদ ও ছবি নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? একই সাথে ডাকসু সংগ্রহশালা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য, শাহবাগ থানায় সাংবাদিক ও ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলা, ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীকে প্রভোস্ট কর্তৃক নির্যাতন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।’ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা ফরহাদ বলেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালা উদ্বোধনের আগে উপাচার্য দুবার সেটি পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি ডাকসুর সভাপতি হিসেবে সেখানে কী কাজ হচ্ছে, কী ছবি লাগানো হচ্ছে, এসব জানার সুযোগও তাঁর ছিল। যদি প্রশাসন মনে করে, ওই ছবি সরানো প্রয়োজন, তাহলে তারা আমাদের সেটা স্পষ্টভাবে বলুক। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া দেয়নি।’ডাকসু সংগ্রহশালা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্যের বিষয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্যের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আমরা ছবি ও বক্তব্য প্রকাশ করেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। আমরা প্রশ্ন করেছি, জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্য তো বাংলাদেশের বিভিন্ন পাঠ্যবই ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে উল্লেখ আছে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা এসব বই প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে?’ফরহাদ বলেন, ‘যারা ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা করে ঐতিহাসিক সম্পদ ও ছবি নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও আমরা কথা বলেছি।’প্রসঙ্গত ডাকসু সংগ্রহশালা গত রোববার উদ্বোধন করার পর সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার ঐতিহাসিক কোনো ছবি দেখা যায়নি। দেখা যায়, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা জিন্নাহর ছবির স্থানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে জুতাপেটার একটি ছবি টাঙিয়ে দেন। এসব ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডাকসুর নেতারা।এ ছাড়া ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে কেন উল্টো শোকজ করা হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ডাকসু প্রতিনিধিদেরও কেন শোকজ করা হয়েছে, তা–ও জানতে চেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়েও আমরা স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছি। সংবিধান অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা না হলে তিন মাস মেয়াদ বাড়ার সুযোগ থাকলেও আমরা সে মেয়াদ বাড়াতে চাই না। আমরা দ্রুত নির্বাচনের তফসিল চাই।’বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডাকসুর নেতারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আজকে এসেছিল। আমরা তাদের জানিয়েছি, ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এ ছাড়া ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন কার্যক্রম শুরু করেছে জানিয়ে অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটিও তদন্তাধীন। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বলেও জানান তিনি।