এটি আফ্রিকার সান জনগোষ্ঠীর লোককাহিনি। সানরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শিকারি-সংগ্রাহক সম্প্রদায়ের সমষ্টি। তাদের বুশম্যান নামেও ডাকা হয়। আফ্রিকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন রকম লোকগল্প আছে। তার মধ্যে প্রাণীদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সূচনা নিয়ে অসংখ্য লোককাহিনি প্রচলিত রয়েছে।
অনেক দিন হলো বৃষ্টি নেই। মাটি শুকিয়ে কাঠ। মাঠ ফেটে চৌচির। মাটির ওপর পড়েছে গাছের দীর্ঘ ছায়া। এই খরার দশা দেখে জেব্রা খুবই চিন্তায় আছে। তার ছোট ছেলেটা অবশ্য নিশ্চিন্তে লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু জেব্রা জানত, সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
এর আগেও একবার এমন ভয়াবহ খরা নেমে এসেছিল। তখন সে ছিল অনেক ছোট। তবু সেই সময়ের কথা আজও তার মনে আছে। তাদের দলকে কত কষ্টই–না সহ্য করতে হয়েছিল! দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়া তার বাবা তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি এগিয়ে যাও। অন্য কোনো নদী খুঁজে বের করো। আমি একটু বিশ্রাম নিয়ে তোমার কাছে চলে আসব।’
কিন্তু জেব্রা আর কোনো দিন তার বাবাকে দেখেনি। কোনো সিংহ কি তাকে ধরে ফেলেছিল? নাকি তৃষ্ণায় মারা গিয়েছিল? সে কথা জেব্রা কখনো জানতে চায়নি।
‘বাবা! এদিকে এসো! এটা কী, দেখো!’ চিন্তার সুতা ছিঁড়ে গেল ছেলের ডাক শুনে।
অজান্তেই জেব্রার মুখে হাসি ফুটল। ছেলেটা সব সময়ই তার নতুন নতুন আবিষ্কার বাবাকে দেখাতে ভালোবাসে। হয়তো হালকা রঙের একটা পাথর খুঁজে পেল বা কমলা রঙের একটি প্রজাপতি, কিংবা বাতাসে ঘাসের নাচ; সবই বাপকে দেখাতে হবে তার!
সেই সময় জেব্রার চোখ পড়ল ঘাসের দিকে। সবই শুকিয়ে বাদামি হয়ে গেছে। সামান্য আগুন লাগলেই মুহূর্তে দাবানল ছড়িয়ে পড়বে...
‘বাবা!’ অধৈর্য কণ্ঠে আবার ডাকল ছেলেটি। ‘দেখো, আমি কী খুঁজে পেয়েছি!’
জেব্রা তাকিয়ে দেখল, সুন্দর সবুজ রঙের একটি গুবরে পোকা। কিন্তু পোকাটা মরে গিয়েছিল। অবশ্য কথাটা সে ছেলেকে বলতে চাইল না। মৃত্যুর কথা জানলে কষ্ট পাবে বাচ্চা ছেলেটা।
সে বরং ছেলেকে বলল, ‘চলো। আমরা একটু ঘুরেফিরে আসি। আমরা একটা ভ্রমণে যাই।’
‘কোথায়?’ বেড়াতে যাওয়ার উত্তেজনায় ছেলের চোখ গোল হয়ে গেল।
জেব্রা নিজেও অবশ্য জানত না সে কোথায় যাবে। তাই হেসে বলল,
‘এখনই তো সেটা বলব না। ধরে নে তোকে একটা চমক দেব!’
‘আমরা কি মায়ের কাছে যাচ্ছি?’ ছেলেটা জিজ্ঞেস করল।
জেব্রা বিষণ্ন চোখে ছেলের দিকে তাকাল। ছেলেটির মা মানুষের হাতে মারা গিয়েছিল। মানুষের শিকার উৎসবে এমন অনেকই মারা যায়। কিন্তু সত্যিটা এখনো ছেলেকে জানায়নি জেব্রা।
সে শুধু বলল, ‘আমরা একটা জায়গায় যাচ্ছি। সেখানে পৌঁছলেই বুঝবে।’

জেব্রা আসলে এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাইছিল। একটা নদী তাকে খুঁজে নিতে হবে। তাদের পালের অনেকেই ইতিমধ্যে চলে গেছে। জেব্রা এত দিন অপেক্ষা করেছিল। কারণ, সে নিশ্চিত ছিল না বাচ্চাটা দীর্ঘ পথ হাঁটতে পারবে কি না। আর পথের শেষে আদৌ নদী পাওয়া যাবে কি না।
জেব্রার কাকা তাকে বলেছিল, বড় পাহাড়টার ওপারে একটা নদী আছে। কিন্তু আসলেও আছে কি না, সেটা নিয়ে কেউ নিশ্চিত ছিল না। এর আগে অত দূর পর্যন্ত কেউ কখনো যায়নি।
জেব্রা আর তার ছেলে হাঁটতেই থাকল। ছোট ছেলেটা প্রচুর কথা বলে। একটানা গল্প করেই যাচ্ছিল। তার বলার আছে অনেক কিছু।
বাবা কি জানে, একেবারে অন্ধকার রাতে, যখন চাঁদের আলোও থাকে না, তখন ছোট ছোট কিছু পোকা আগুনের মতো জ্বলে ওঠে? তার বন্ধু বলেছে, ওদের নাম জোনাকি। কিন্তু তাদের ছুঁলেও নাকি কিছু হয় না!
আর বাবা কি এটা জানে, যে নদীটা এখন প্রায় শুকিয়ে গেছে, সেখানে একসময় এমন বিশাল মাছ ছিল? মাছটা নাকি হাতির শুঁড়ের চেয়েও বড়।
বাবা কি জানে, উটপাখি পাখি হয়েও উড়তে পারে না?
আহা, তার বোকা বাবাটা তো কিছুই জানে না!
জেব্রা স্নেহভরে হাসল। আহা, কত খুশিই–না সে হবে যখন ছেলেটা বড় হয়ে অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
হঠাৎ ছেলেটা থমকে গেল। একটা পাখি দেখেছে সে।
উচ্চস্বরে বলল, ‘দেখো বাবা! ওই হলুদ পাখিটাকে দেখো!’
বলেই সে ঝোপের ভেতর দৌড়ে ঢুকে পড়ল।
‘দাঁড়া!’ আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল জেব্রা। কিন্তু ততক্ষণে ছেলে চোখের আড়াল।
জেব্রা ছুটে গেল তার পেছনে। সেখানে গিয়েই চোখে পড়ল এক ঝলমলে জলাশয়। চারপাশের গাছের সবুজ ছায়া পড়ে জল যেন পান্নার মতো ঝিকমিক করছে।
‘বাবা দেখো, একটা পুকুর!’ আনন্দে বলে উঠল ছেলেটি।
কত দিন! কত দিন পর একটা জলাশয় চোখে পড়ল। প্রচণ্ড তৃষ্ণা তখন। পানি খেতে সেই পুকুরের দিকে এগোল জেব্রা। ঠিক তখনই গম্ভীর একটি কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
‘দূরে সরে যাও। আমি ওই পুকুরের মালিক। এই রাজ্য আমার, পানিও আমার’, ঘোষণা করল কেউ।
জেব্রা তাকিয়ে দেখল এক বিশাল বেবুন বসে আছে আগুনের পাশে। সে-ই কথা বলে উঠেছে। জেব্রা দেখল বেবুনের মুখটা সিংহের মতোই ভয়ানক। তেমনই কেশর।
কিন্তু ওই কথা শুনে ছোট্ট জেব্রা হেসে ফেলল। কিন্তু তার বাবা মোটেই হাসল না। সে দৃঢ় কণ্ঠে বলল, ‘পানি সবার। একটা পুকুরকে কেউ একার সম্পত্তি বলতে পারে না।’
‘আমি পারি’, বলে উঠে দাঁড়াল বেবুন। আর তখনই বোঝা গেল সে জেব্রার ধারণার চেয়েও বড়।
বাচ্চা ছেলেটার মুখে হঠাৎ ভয়ের ছাপ ফুটে উঠল। বড় জেব্রা শান্ত গলায় বলল, ‘চারদিকে ভয়াবহ খরা চলছে। তুমি যদি এই পানি অন্যদের সঙ্গে ভাগ না করো, সেটা অন্যায়। এত প্রাণী তৃষ্ণায় মরছে, তাতে তোমার কিছু যায় আসে না?’

বেবুন কাঁধ ঝাঁকাল। অর্থাৎ কে মরল তাকে সে কী করবে! সে আবারও বলল, ‘এই পানি শুধুই আমার।’ বলে সে জেব্রার দিকে এগোতে লাগল।
জেব্রা কিন্তু একচুলও পিছু হটল না। সে বেবুনের দাপটের কাছে মাথা নোয়াবে না। জেব্রা আবার বলল, ‘যুক্তি আছে আমার কথায়। মেনে নাও। বিষয়টাকে নোংরা করো না।’
বেবুন শুনবে না সেসব। সে এক লাফে জেব্রার পিঠে উঠে বেধড়ক মারতে শুরু করল।
‘থামো! থামো!’ চিৎকার করে উঠল জেব্রার ছোট্ট ছেলেটা।
কিন্তু বেবুন তো থামার পাত্র না। জেব্রাও এত সহজে হার মানবে না। সে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁকুনি দিল। বেবুন ছিটকে মাটিতে পড়ল।
কিন্তু লড়াই তখনো শেষ হয়নি।
ছোট্ট জেব্রা আতঙ্কে চিৎকার করতে লাগল, আর এদিকে জেব্রা ও বেবুনের মধ্যে তুমুল মারামারি। একজন লাথি মারে তো একজন ঘুষি। একজন কাটে আঁচড়।
গাছের ডালে বসে থাকা পাখিরা ভয়ে উড়ে পালাল। শেষ পর্যন্ত জেব্রা এমন জোরে বেবুনকে লাথি মারল যে সে আকাশে উড়ে গিয়ে দূরের পাথরের ওপর গিয়ে পড়ল।
এত জোরে পড়ল যে তার পশ্চাদ্দেশ লাল হয়ে গেল।
জেব্রা খুব ক্লান্ত হয়ে গেল। কিন্তু সে খুশি হয়েছে। কেননা, সে পানি খুঁজে পেয়েছে! পানির অধিকারও দখল করেছে। এখন সে তার পালকে খবর দিতে পারবে। সবার জীবন বাঁচানো যাবে।
সে উঠে এগোতে লাগল। আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে খেয়ালই করল না কোথায় পা ফেলছে। হঠাৎ সে বেবুনের জ্বালানো আগুনের ওপর পড়ে গেল।
জেব্রার শরীর ছিল ধবধবে সাদা। কিন্তু ডালপালা দিয়ে জ্বালানো আগুন প্রথমে তার পায়ে লাগল, ফেলল কালো ছোপ। আগুন থেকে বাঁচতে দিয়ে আবারও সে গা ঝাড়া দিতে আগুন থেকে ডালপালা উঠে তার গায়েই পড়ল। মুহূর্তেই তার সুন্দর সাদা গায়ে আগুনের দাগ পড়ে কালো ডোরা তৈরি হয়ে গেল।
আতঙ্কিত তার ছেলে মুখ ভর্তি করে পানি নিয়ে আগুনের ওপর ছুড়ে দিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। জেব্রার সারা শরীরে কালো ডোরা পড়ে গেছে।
‘চলো বাড়ি ফিরি’, মন খারাপ করে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে বলল ছোট্ট ছেলেটি। এক পা এগোতেই আবার বলল, ‘দেখো! বৃষ্টি শুরু হয়েছে!’
সত্যিই তাই। জেব্রা আকাশের দিকে তাকাল। নীল আকাশজুড়ে ধূসর মেঘ ছুটে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘ খরার পর অবশেষে বৃষ্টি এসেছে।
জেব্রা আর তার ছেলে সমতলের নিজের বাড়িতে ফিরে গেল। এইবারের মতো লড়াই শেষ। কিন্তু জেব্রা জানত, বেবুন কোনো দিন তাকে ভুলবে না।
সেই কারণেই নাকি আজও জেব্রার গায়ে কালো ডোরা দেখা যায়। আর বেবুনদের পশ্চাদ্দেশ আজও লাল। ব্যথা কমানোর জন্য তারা এখনো লেজ উঁচু করে হাঁটে!
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনেই রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজার ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ ঘটনায় রাপা প্লাজা কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার কারণে ডিএসসিসির এক কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্থাপিত ডেঙ্গু প্রতিরোধের স্টল পরিদর্শন করেন। সেখানে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমরুল কায়েস চৌধুরী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।উদ্বোধনের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে দুই সিটি করপোরেশন।দক্ষিণ সিটির অভিযানের অংশ হিসেবে ধানমন্ডির রাপা প্লাজার গ্রাউন্ড পার্কিং জোন পরিদর্শনে যায় ডিএসসিসির একটি দল। সেখানে লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়ার্ড-১৫, অঞ্চল-১–এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী সুশীল চন্দ্র রবিদাসকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।ডিএসসিসির কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের ক্ষেত্রে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী—যাঁরই অবহেলা পাওয়া যাবে, তাঁর বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ ও উৎস নির্মূলের লক্ষ্যে শনিবার রাজধানীর একটি রাস্তায় বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ডিএসসিসির কর্মীরা। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬মাঠে ডিএনসিসির দেড় হাজার কর্মীজাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটিও তাদের আওতাধীন ৫৪টি ওয়ার্ডে দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে ২৪টি দলে ভাগ হয়ে প্রায় দেড় হাজার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এতে অংশ নেন। মশক সুপারভাইজার ও কর্মীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং স্কাউট সদস্যরাও এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিমানবন্দর এলাকা, মণিপুরিপাড়া, রাজাবাজার, লালমাটিয়া, ইকবাল রোড, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। এ সময় বিমানবন্দর এলাকার একটি দোকানে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সোর্স রিডাকশন, লার্ভিসাইডিং, ছাদবাগান পরিদর্শন, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং নোভালিউরন ট্যাবলেট প্রয়োগ করা হয়।ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমরুল কায়েস চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন ১০০ জন প্রশিক্ষিত কর্মী মাঠে কাজ করবেন এবং তাঁরা অ্যাপভিত্তিক রিপোর্টিং করবেন। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এরপর দুই সপ্তাহ পরপর নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন করে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চলবে।নতুন এ কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘১০০ জন, ১০০ দিন, ১০০ হটস্পট’। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ১০০ জন প্রশিক্ষিত কর্মী ১০০ দিনে ১০০টি নির্দিষ্ট হটস্পটের ১০০ শতাংশ প্রজননস্থল অপসারণ অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট করবেন। আগে হটস্পট বলতে পুরো ওয়ার্ডকে বিবেচনা করা হতো, যেখানে প্রায় আট হাজার হোল্ডিং থাকে। এবার নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কাজ করা হচ্ছে। এই ১০০ জনের দলে বিডি ক্লিন, মানবিক সাহায্য সংস্থা এবং এলআইইউপিসির সদস্যরাও থাকবেন।ডিএনসিসি জানিয়েছে, এবারের কর্মসূচিতে শুধু পূর্ণাঙ্গ মশা নিধন নয়; বরং প্রজননস্থল শনাক্ত, উৎস ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে ‘সোর্স রিডাকশন’ বা উৎস নির্মূলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
লিভারপুল ০ : ০ ফুলহাম লিভারপুলের ঘরের মাঠ এখন ‘পরের মাঠ’ হয়ে গেছে?আরও একবার অ্যানফিল্ডে আটকে গেছে দলটি। আজ প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে লিভারপুল। এ নিয়ে অ্যানফিল্ডে খেলা টানা চারটি লিগ ম্যাচে পয়েন্ট খোয়াল অলরেডরা। অথচ আজকের ড্রয়ের আগেই অ্যাওয়েতে টানা দুই ম্যাচে জয় ছিল তাদের।অ্যানফিল্ডে খেলা লিগের সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে ড্র আর একটিতে হেরেছে লিভারপুল। ২০১১ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম অ্যানফিল্ডে টানা চার লিগ ম্যাচে জয়হীন থাকল দলটি।আজ ফুলহামের বিপক্ষে লিভারপুলের আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নির্বিষ। বড় অঙ্কের দলবদলে আসা ব্র্যাডলি বারকোলা প্রথমবারের মতো একাদশে শুরু করলেও আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি আলেক্সান্দার ইসাক আর ফ্লোরিয়ান ভির্টজও। বিরতির পর মিলোস কেরকেজ, কোডি গাকপো আর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে নামিয়েও ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেননি কোচ আন্দোনি ইরাওলা।অন্যদিকে ফুলহামের জন্য গোলশূন্য ড্রটি বেশ স্বস্তিরই। মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে হারের পর অবশেষে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে দলটি। তাতে ছাঁটাইয়ের শঙ্কায় থাকা কোচ আরবেলোয়ার চাকরিটা হয়তো আরও কয়েক দিনের জন্য টিকেই গেল।অ্যানফিল্ডে আরও একবার নিজেদের সমর্থকদের হতাশ করেছে লিভারপুলএ দিকে লিভারপুলের ড্রয়ের দিনে পয়েন্ট খুইয়েছে চেলসিও। হাল সিটির সঙ্গে জাবি আলোনসোর দলের ফল ২-২। চেলসির হয়ে গোল করেছেন মরগান রজার্স ও জোয়াও পেদ্রো। হাল সিটির হয়ে দুটিই মোহাম্মদ বেলুমি। ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনাল প্রথম তিন ম্যাচের সব কটি জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুইয়ে আছে। লিভারপুলের অবস্থান ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠে। সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চারে চেলসি।হ্যাটট্রিকের ‘মাস্তানি’তে মেসির রেকর্ড মাস্তানতুয়োনোর
সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেও কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, এখন স্বৈরাচার ফিরে আসবে—এমন কথা বলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।আজ শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের আমির এ কথা বলেন।দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই মন্তব্য করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হয়। দেশের যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই তাঁরা কথা বলবেন।শফিকুর রহমান বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন আরও কমতে থাকলে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে কাটছাঁট করে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ। চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। জনগণ আমাদের কাছে বলে, আপনাদের (সরকারের কাছে) কাছেও নিশ্চয় বলেন, দুর্নীতির মাত্রা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটার যদি আমরা লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে যত পরিকল্পনাই আমরা নিই—আসলে তা সফলতার মুখ দেখবে না।’বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেছিলেন, চার-পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটা আমার কথা নয়, এটা মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের কথা।’সরকারের ইঙ্গিতেই আওয়ামী লীগ সারা দেশে মিছিল করেছে, অভিযোগ পরওয়ারের