বিগত ১৮ বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
তিনি বলেন, এই ধ্বংসস্তূপ থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারকে সময় দিতে হবে। সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিলে বর্তমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, একটা বাচ্চা যখন জন্মগ্রহণ করে, তারপরই যদি তাকে ‘আব্বা’ ডাকতে বলা হয়—কোনোদিন তা সম্ভব হবে? বাচ্চাকে সময় দিতে হবে, বড় করতে হবে। যখন বাচ্চা বড় হবে তখন সে অটোমেটিক আব্বা ডাকবে। ঠিক তেমনি বর্তমান সরকারকেও পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
ধর্মমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারকে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিলে ইনশা আল্লাহ বর্তমান অবস্থা থাকবে না। মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক পথে কাজ করে যাওয়া এবং সরকারকে সময় ও সহযোগিতা দিলে দেশের সব সংকটের সমাধান সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে মাসব্যাপী এই ইসলামী বইমেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর মহান জীবন-আদর্শ এবং ইসলামের শান্তি ও কল্যাণময় বার্তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৮ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার ও আওয়ামী লীগীকরণ করা হয়েছিল। অতীতের মুজিববাদী প্রভাব থেকে মুক্ত করে এই প্রতিষ্ঠানকে পবিত্র কোরআন ও হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সর্বপ্রকার অন্যায় ও অবিচার চিরতরে দূর করতে হবে। কোনো হালাল কাজের জন্য যেন কাউকেই এক পয়সাও দিতে না হয়, সেভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অব্যয়িত মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে বর্তমান সরকার এক নতুন নজীর স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ বছর হজের বিমানভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা ২০২৩ সালেও ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর অন্য কোনো সরকার উদ্যোগ না নিলেও তিনি দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি জানান, ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনতে এরই মধ্যেই ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবাইতকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বর্তমান সরকার ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পাশাপাশি সারাদেশে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এমইউ/এমআইএইচএস
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও পাসপোর্টের কোনো হদিস মেলেনি। ফলে গ্রেফতার ব্যক্তিরা কোন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে তথ্যও এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ। তিনি জানান, গ্রেফতার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল। অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, বিদেশিদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও কম্বোডিয়ার একটি চাকরির কার্ড পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবন পুরোপুরি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। প্রায় ছয় মাস আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ভবনটি মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে দেশভেদে আলাদা করে বিদেশি নাগরিকদের রাখা হয়েছিল এবং তাদের জন্য রান্নার ব্যবস্থাও ছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মহসিন নামে এক ব্যক্তির কাছে অধিকাংশ বিদেশির পাসপোর্ট রয়েছে। তিনিই ভবনটি ভাড়া নিয়ে বিদেশিদের থাকা ও অন্যান্য বিষয় দেখভাল করতেন। বর্তমানে তাকে খুঁজছে পুলিশ। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের ধারণা, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব বিদেশিকে বাংলাদেশে আনা হয়ে থাকতে পারে। তাদের কেউ কেউ অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে পণ্য দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়া কিংবা হানিট্র্যাপের মতো প্রতারণায় জড়িত থাকতে পারেন। তবে কী ধরনের প্রতারণা করা হতো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ বলেন, পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে দেশি-বিদেশি কয়েকটি চক্র অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। প্রতারণার ধরন বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কবে এবং কোন ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন, তা জানার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস/
মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, তদন্তে গতি আনা, সময়মতো অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল, মেডিক্যাল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে উপস্থাপন এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আদালত, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।শনিবার রাজধানীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঢাকা জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি এ কনফারেন্সের আয়োজন করে।চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। এতে জেলার মামলা নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ।বৈষম্যবিরোধী মামলার অগ্রগতি ও সম্পূরক অভিযোগপত্রকনফারেন্সে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পুলিশ সুপারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তদন্তে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।তবে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় মূল অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত আসামি যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। পাশাপাশি দ্রুত পরোয়ানা তামিল এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।রাজধানীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সম্মেলনকক্ষে শনিবার অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে অংশ নেন বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠাতে নির্দেশনাহত্যা মামলার ক্ষেত্রে মামলার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সুরতহাল প্রতিবেদন, জব্দতালিকা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সময়মতো না আসার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মামলার পরপরই ভিকটিমের সুরতহাল প্রতিবেদন ও জব্দতালিকা এবং পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠানো নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল না হওয়ার বিষয়েও সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দ্রুত পরোয়ানা তামিল এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়।ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রেও আইনগত শর্ত, স্বেচ্ছাস্বীকৃতি এবং নির্ধারিত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইনের বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।মেডিক্যাল প্রতিবেদন ও ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণকনফারেন্সে মেডিক্যাল প্রতিবেদন চাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট থানা থেকে যথাযথ রিকুইজিশন পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসক কর্মরত না থাকলে সংশ্লিষ্ট পদে থাকা চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বোর্ড গঠন করে যথাযথ স্বাক্ষরে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করে মামলা গ্রহণ ও তদন্ত পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিসি ক্যামেরার ডিভিআরসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস সঠিকভাবে জব্দ করা এবং মুঠোফোন জব্দের সময় সিমের তথ্য এবং আইএমইআই নম্বর যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত শর্ত, স্বেচ্ছাস্বীকৃতি ও নির্ধারিত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।কনফারেন্সে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিআইডির পুলিশ সুপার, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেল সুপার, সিভিল সার্জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন থানার ওসি, জেলা পিপি, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিলেন সৌরভ মিয়া। তখন নদীতে গোসল করতে নামা কয়েকজন তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে স্থির থাকতে পারেননি তিনি। তৎক্ষণাৎ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে শিশুসন্তানসহ এক নারীকে টেনে তুলে আনেন। পরে অন্যদের উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই নদীতে তলিয়ে যান। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর তাঁর লাশ উদ্ধার হয়েছে।সৌরভ মিয়া (১৮) নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামের মো. মজনু মিয়ার ছেলে। স্থানীয় পাড়াতলা শিকদার আবদুল মান্নান উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় একটি সারের দোকানে কাজ নেওয়ায় আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।শুক্রবার লাখপুরে শীতলক্ষ্যায় তলিয়ে যাওয়া পাঁচজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি মারা যান। দুজনকে উদ্ধার করতে পারলেও তিনিসহ চারজন নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার তিনজনের লাশ উদ্ধার হয়। শান্ত মিয়া নামের এক তরুণ এখনো নিখোঁজ। তাঁকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।সৌরভের পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন সৌরভ। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ভাই হযরত আলী প্রবাসী। এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছেন। বাবা মজনু মিয়া পেশায় কৃষক আর মা গৃহিণী। বাড়ির ছোট ছেলেকে হারিয়ে পরিবারে মাতম চলছে।সৌরভের চাচা লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নদীর পাড়ে আমাদের মুরগির ফার্ম আছে। বিকেলে সেখানে দাঁড়িয়ে দুজনের সঙ্গে কথা বলছিল সৌরভ। তখন কয়েকজনকে নদীতে হাবুডুবু খেতে দেখে তাদের বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘অভাব থাকায় সংসারে সহযোগিতা করার জন্য পড়ালেখা ছেড়ে কাজে নেমেছিল সৌরভ। সেই ছেলেকে আমরা হারালাম। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।’শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামার আগে সেলফিতে নারী–শিশুসহ ছয়জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন তলিয়ে গিয়েছিলেনঘটনার সময় সৌরভের সঙ্গে ছিলেন মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে সৌরভসহ তাঁরা তিনজন দৌড়ে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, কয়েকজন নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। এরপর সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দুজনকে পাড়ে নিয়ে আসেন। বাকিদের উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, ‘পানি নিচের দিকে টানছে।’ এর পরই একবার ডুব দিয়ে আর ওঠেনি। সে সাঁতার জানত, আত্মবিশ্বাস ছিল পারবে; কিন্তু স্রোতের সঙ্গে টিকতে পারেনি।ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে তলিয়ে যান পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে উদ্ধারের পর বাকিতে তুলে আনতে গিয়ে সৌরভ নিখোঁজ হন। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালালেও কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।শনিবার ভোরে ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দল অভিযান শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে সৌরভসহ দুজনের এবং দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কালীগঞ্জের দীঘুয়ায় একজনের লাশ ভেসে ওঠে। নিখোঁজ আরেকজনকে উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নাসির মিয়া বলেন, ‘সৌরভ পরোপকারী ছেলে। অন্যের বিপদে এগিয়ে যেত। গতকালও (শুক্রবার) অন্যের বিপদে এগিয়ে গিয়েছিল। তাঁর এমন মৃত্যু খুবই কষ্টের।’সৌরভের মৃত্যুতে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে বড় ভাই হযরত আলী বলেন, ‘লাশটি কাটাছেঁড়া হোক চাই না। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।’শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনুর মিয়া বলেন, কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের আবেদন করেন। এ জন্য সৌরভের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন পাঁচজন, ঝাঁপ দিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে মারা গেলেন তরুণ