শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিলেন সৌরভ মিয়া। তখন নদীতে গোসল করতে নামা কয়েকজন তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে স্থির থাকতে পারেননি তিনি। তৎক্ষণাৎ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে শিশুসন্তানসহ এক নারীকে টেনে তুলে আনেন। পরে অন্যদের উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই নদীতে তলিয়ে যান। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর তাঁর লাশ উদ্ধার হয়েছে।
সৌরভ মিয়া (১৮) নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামের মো. মজনু মিয়ার ছেলে। স্থানীয় পাড়াতলা শিকদার আবদুল মান্নান উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় একটি সারের দোকানে কাজ নেওয়ায় আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার লাখপুরে শীতলক্ষ্যায় তলিয়ে যাওয়া পাঁচজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি মারা যান। দুজনকে উদ্ধার করতে পারলেও তিনিসহ চারজন নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার তিনজনের লাশ উদ্ধার হয়। শান্ত মিয়া নামের এক তরুণ এখনো নিখোঁজ। তাঁকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
সৌরভের পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন সৌরভ। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ভাই হযরত আলী প্রবাসী। এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছেন। বাবা মজনু মিয়া পেশায় কৃষক আর মা গৃহিণী। বাড়ির ছোট ছেলেকে হারিয়ে পরিবারে মাতম চলছে।
সৌরভের চাচা লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নদীর পাড়ে আমাদের মুরগির ফার্ম আছে। বিকেলে সেখানে দাঁড়িয়ে দুজনের সঙ্গে কথা বলছিল সৌরভ। তখন কয়েকজনকে নদীতে হাবুডুবু খেতে দেখে তাদের বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘অভাব থাকায় সংসারে সহযোগিতা করার জন্য পড়ালেখা ছেড়ে কাজে নেমেছিল সৌরভ। সেই ছেলেকে আমরা হারালাম। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।’

ঘটনার সময় সৌরভের সঙ্গে ছিলেন মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে সৌরভসহ তাঁরা তিনজন দৌড়ে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, কয়েকজন নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। এরপর সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দুজনকে পাড়ে নিয়ে আসেন। বাকিদের উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, ‘পানি নিচের দিকে টানছে।’ এর পরই একবার ডুব দিয়ে আর ওঠেনি। সে সাঁতার জানত, আত্মবিশ্বাস ছিল পারবে; কিন্তু স্রোতের সঙ্গে টিকতে পারেনি।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে তলিয়ে যান পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে উদ্ধারের পর বাকিতে তুলে আনতে গিয়ে সৌরভ নিখোঁজ হন। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালালেও কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার ভোরে ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দল অভিযান শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে সৌরভসহ দুজনের এবং দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কালীগঞ্জের দীঘুয়ায় একজনের লাশ ভেসে ওঠে। নিখোঁজ আরেকজনকে উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নাসির মিয়া বলেন, ‘সৌরভ পরোপকারী ছেলে। অন্যের বিপদে এগিয়ে যেত। গতকালও (শুক্রবার) অন্যের বিপদে এগিয়ে গিয়েছিল। তাঁর এমন মৃত্যু খুবই কষ্টের।’
সৌরভের মৃত্যুতে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে বড় ভাই হযরত আলী বলেন, ‘লাশটি কাটাছেঁড়া হোক চাই না। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।’
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনুর মিয়া বলেন, কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের আবেদন করেন। এ জন্য সৌরভের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে ‘মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে কারখানার মালিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার আধুনগর বাজারে অবস্থিত কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজীদ বিন আখন্দ। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কারখানাটিতে কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত আইসক্রিম ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন মালামাল পাওয়া যায়। পরে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানাটির মালিক মো. আব্দুল মান্নানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অভিযানে লোহাগাড়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহবুব সারোয়ারসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও ভেজাল পণ্য বাজারজাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভেজাল পণ্য রোধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস
আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও ডব্লিউটিওর সংস্কারের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা ব্রিকসের।পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো নীতির বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শনের চিন্তা।উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন জোটের নেতারা। নয়াদিল্লিতে গতকাল শনিবার দুই দিনের এ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। জোটের বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।এমন এক সময়ে এ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়েও সমঝোতার কোনো আভাস নেই। এ যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত জটিল আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর অঞ্চলে তাদের অবস্থান সংহত করেছে। ব্রিকস জোটের দুই সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সরাসরি এ সংঘাতের শিকার। ব্রিকসের সদস্যরা ওই দুই দেশের মতপার্থক্য কমিয়ে আনতেও কাজ করছে।সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জোটের সদস্যদেশগুলোর নেতারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে একমত হয়েছেন। যদিও ঘোষণাপত্রে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে একপক্ষীয় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানানো হবে। গতকালই জোটের নেতারা ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী বছর ব্রিকস সম্মেলন চীনে অনুষ্ঠিত হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।ঘোষণাপত্রের বিষয়ে জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও দিল্লির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই জোটের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে এমন একটি কূটনৈতিক ভাষা চূড়ান্ত করা, যা আবুধাবি ও তেহরান—উভয় পক্ষই মেনে নিতে পারে, যাতে যৌথ ঘোষণাপত্রের পথ সুগম হয়। সেখানে তারা সফল হয়েছে।এর আগে গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের মতভেদের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে, গতকাল একমত হওয়া যৌথ ঘোষণাপত্র বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুব বড় পরিবর্তন না আনলেও পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো নীতির বিরুদ্ধে উদীয়মান দেশগুলোর এই জোটের ঐক্য প্রদর্শন করবে।আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যব্রিকস জোট আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টার করছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। জোটের অনেক সদস্যের মতে, এই সংস্থাগুলোতে পশ্চিমা শক্তির প্রভাব রয়েছে।সম্মেলনে অংশ নেওয়া শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিল রামাফোসা, আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ অনেকে।যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা ভারত বর্তমানে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাধা দূরীকরণ ও ব্যবসার সুযোগ প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন।তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব ঘিরে ইরান ও আমিরাতের দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করা ব্রিকসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে আমিরাত গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে।ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে ব্রিকস জোট গঠিত। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ব জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই জোটের অন্তর্ভুক্ত।সম্পর্ক জোরদারে সম্মত রাশিয়া–ভারতরাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত শুক্রবার বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছেন। পুতিন বলেছেন, পশ্চিমা নিয়মকানুন থেকে মুক্ত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্রিকস জোটের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা উচিত। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগের দিন ভারতের রাজধানীতে বৈঠকে বসেন মোদি ও পুতিন।পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানিয়েছেন, ব্রিকস এখন ভূরাজনৈতিক জোট থেকে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তরিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতা সহজ করা। পাশাপাশি পেমেন্ট সিস্টেম ও যৌথ অবকাঠামোর উন্নতি করা।দিল্লিতে শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামের এক অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আজ পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের আগের নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য যেকোনো পথ অবলম্বন করছে।পেজেশকিয়ান, মোদি ও রামাফোসার উপস্থিতিতে পুতিন বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা কখনো কখনো কুরুচিকর রূপ নিচ্ছে। এমনকি এর মধ্যে সরাসরি শারীরিক আক্রমণ বা শিল্প ও লজিস্টিক সুবিধা, পাইপলাইন ইত্যাদির ধ্বংসসাধনও করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর বন্ধ করা এবং জাহাজ জব্দের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা অন্যদের স্বার্থে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তথাকথিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলে অবৈধ বিধিনিষেধও আরোপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্রিকস ‘বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নতুন ও টেকসই প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তুলবে।গত বছর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণ হয়েছিল। তিনি ব্রিকস জোটের ‘আমেরিকাবিরোধী নীতি’র সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা যেকোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।ভারত, চীনের মতো বড় ক্রেতাসহ রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন।এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মোদি ও পুতিন পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন, যা সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দেশের মধ্যকার বিশেষ ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকতে দুই নেতা একমত হয়েছেন।
এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি এবং সরকারের সদিচ্ছার অভাবই এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রধান অন্তরায় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয়করণের যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ এবং সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। দেশের প্রায় সাড়ে ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের ন্যায্য অধিকার ও দাবিগুলো সবসময় উপেক্ষিত হয়ে আসছে। শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা কোনো অনুকম্পার বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষকদের বারবার রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য না করে সরকারকে তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে।’ একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতি, ঘুষ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে শায়খে চরমোনাই বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো শিক্ষক সমাজ। শিক্ষকদের একাংশকে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের মধ্যে রেখে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই জাতীয় স্বার্থেই এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনতিবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া এবং তা বাস্তবায়নে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এই ইসলামি বক্তা। জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবিএম জাকারিয়ার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক আব্দুস সবুরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আ. খ. ম. ইউনুস, সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাছির উদ্দীন খানসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। এমইউ/এমআইএইচএস