আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও ডব্লিউটিওর সংস্কারের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা ব্রিকসের।
পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো নীতির বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শনের চিন্তা।
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন জোটের নেতারা। নয়াদিল্লিতে গতকাল শনিবার দুই দিনের এ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। জোটের বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
এমন এক সময়ে এ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়েও সমঝোতার কোনো আভাস নেই। এ যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত জটিল আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর অঞ্চলে তাদের অবস্থান সংহত করেছে। ব্রিকস জোটের দুই সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সরাসরি এ সংঘাতের শিকার। ব্রিকসের সদস্যরা ওই দুই দেশের মতপার্থক্য কমিয়ে আনতেও কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জোটের সদস্যদেশগুলোর নেতারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে একমত হয়েছেন। যদিও ঘোষণাপত্রে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে একপক্ষীয় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানানো হবে। গতকালই জোটের নেতারা ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী বছর ব্রিকস সম্মেলন চীনে অনুষ্ঠিত হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
ঘোষণাপত্রের বিষয়ে জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও দিল্লির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই জোটের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে এমন একটি কূটনৈতিক ভাষা চূড়ান্ত করা, যা আবুধাবি ও তেহরান—উভয় পক্ষই মেনে নিতে পারে, যাতে যৌথ ঘোষণাপত্রের পথ সুগম হয়। সেখানে তারা সফল হয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের মতভেদের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, গতকাল একমত হওয়া যৌথ ঘোষণাপত্র বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুব বড় পরিবর্তন না আনলেও পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো নীতির বিরুদ্ধে উদীয়মান দেশগুলোর এই জোটের ঐক্য প্রদর্শন করবে।
ব্রিকস জোট আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টার করছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। জোটের অনেক সদস্যের মতে, এই সংস্থাগুলোতে পশ্চিমা শক্তির প্রভাব রয়েছে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিল রামাফোসা, আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা ভারত বর্তমানে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাধা দূরীকরণ ও ব্যবসার সুযোগ প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব ঘিরে ইরান ও আমিরাতের দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করা ব্রিকসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে আমিরাত গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে ব্রিকস জোট গঠিত। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ব জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই জোটের অন্তর্ভুক্ত।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত শুক্রবার বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছেন। পুতিন বলেছেন, পশ্চিমা নিয়মকানুন থেকে মুক্ত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্রিকস জোটের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা উচিত। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগের দিন ভারতের রাজধানীতে বৈঠকে বসেন মোদি ও পুতিন।
পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানিয়েছেন, ব্রিকস এখন ভূরাজনৈতিক জোট থেকে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তরিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতা সহজ করা। পাশাপাশি পেমেন্ট সিস্টেম ও যৌথ অবকাঠামোর উন্নতি করা।
দিল্লিতে শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামের এক অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আজ পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের আগের নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য যেকোনো পথ অবলম্বন করছে।
পেজেশকিয়ান, মোদি ও রামাফোসার উপস্থিতিতে পুতিন বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা কখনো কখনো কুরুচিকর রূপ নিচ্ছে। এমনকি এর মধ্যে সরাসরি শারীরিক আক্রমণ বা শিল্প ও লজিস্টিক সুবিধা, পাইপলাইন ইত্যাদির ধ্বংসসাধনও করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর বন্ধ করা এবং জাহাজ জব্দের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা অন্যদের স্বার্থে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তথাকথিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলে অবৈধ বিধিনিষেধও আরোপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্রিকস ‘বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নতুন ও টেকসই প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তুলবে।
গত বছর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণ হয়েছিল। তিনি ব্রিকস জোটের ‘আমেরিকাবিরোধী নীতি’র সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা যেকোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
ভারত, চীনের মতো বড় ক্রেতাসহ রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মোদি ও পুতিন পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন, যা সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দেশের মধ্যকার বিশেষ ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকতে দুই নেতা একমত হয়েছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে নতুন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের এই মূল্যায়ন করা হবে। নির্ধারিত সূচকে এমডির পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তার নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বেতন-ভাতা ও প্রণোদনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি এমডির কর্মদক্ষতা ছয় মাসের জন্য মূল্যায়ন করা হবে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা এমডিদের প্রথম মূল্যায়নকাল ধরা হবে আগামী অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। এরপর নতুন কোনো এমডি নিয়োগ হলে তার দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী ছয় মাসের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। পাঁচ দৃষ্টিভঙ্গিতে ১০০ নম্বর এমডিদের কর্মদক্ষতা ও ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মোট ১০০ নম্বরের একটি অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের প্রান্তিকের পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট সূচকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের পরই তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, জরুরি পরিস্থিতিতে তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতার জন্য রাখা হয়েছে ২৫ নম্বর। খেলাপি ঋণ কমানো, অবলোপন করা ঋণ আদায় এবং শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের কেন্দ্রীভবন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরও ২৫ নম্বর। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর দেওয়া হবে ২৫ নম্বর। আরও পড়ুন বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, যারা পাবেন আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাংকের ভূমিকার জন্য রয়েছে ১৫ নম্বর। এর মধ্যে সিএমএসএমই ও কৃষিঋণ, গ্রিন ফাইন্যান্স, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার প্রসার, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ব্যাংকের মুনাফা অর্জন এবং পরিচালন ব্যয়ের দক্ষতার জন্য রাখা হয়েছে ১০ নম্বর। ৫০ শতাংশের কম অর্জনে শূন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি নির্ধারিত সূচকে এমডিদের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। কোনো সূচকে অর্জন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ওই সূচকে এমডি কোনো নম্বর পাবেন না। তবে, ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বিশেষ সূচকে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঋণ-আমানত অনুপাত, খেলাপি ঋণের অনুপাত, ঋণ আদায় ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে কোনো এমডি ৫০ শতাংশের কম অর্জন করলে বা শূন্য পেলে তার মোট অর্জিত নম্বর থেকে নির্দিষ্ট হারে পেনাল্টি কেটে নেওয়া হবে। তিন স্তরে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন সামগ্রিক মূল্যায়নে ৭৫ বা তার বেশি নম্বর অর্জন করলে এমডির কর্মদক্ষতাকে ‘গড়পড়তার চেয়ে ভালো’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ৬৫ থেকে ৭৫-এর কম নম্বর পেলে তা ‘গড়পড়তা’ পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য হবে। আর ৬৫-এর নিচে নম্বর পেলে সংশ্লিষ্ট এমডির কর্মদক্ষতা ‘নিম্নমানের পারফরম্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, অভিন্ন এই মূল্যায়ন কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি ও কর্মদক্ষতা আরও স্পষ্টভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে। ইএআর/এএমএ
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে নাটক, বিতর্ক আর উত্তেজনার শেষটা হলো ম্যানচেস্টার সিটির জয় দিয়ে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববারের ১৯৯তম ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। জয়সূচক গোলটি করেছেন আরলিং হালান্ড। তবে, ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রে গোলের চেয়েও বেশি জায়গা করে নিয়েছে রেফারির দুটি সিদ্ধান্ত- ফিল ফোডেনের লাল কার্ড এবং হালান্ডের বিতর্কিত গোল। পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর দুই দলের প্রথম মুখোমুখি লড়াই ছিল এটি। গ্রীষ্মের দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এলেও হালান্ড যেন রয়ে গেছেন ইউনাইটেডের চেনা আতঙ্ক হয়ে। এই ম্যাচেও সেটিই প্রমাণ করেছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে নিজের নবম গোল করে এই ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্বও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে ২৩ মিনিটে ফিল ফোডেনকে লাল কার্ড দেখানোর পর ম্যাচের চিত্রই যেন বদলে যায়। ব্রুনো ফার্নান্দেসের একটি কিকের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন ফোডেন। রেফারি সেটিকে শাস্তিযোগ্য আচরণ হিসেবে বিবেচনা করে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর সিটি বড় ধাক্কা খেলেও ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায়নি। বরং ইউনাইটেড সেই বাড়তি একজন খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। একের পর এক আক্রমণ করেও তারা কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করতে পারেনি। স্বাগতিকদের হয়ে মার্কাস রাশফোর্ড ও কোবি মেইনু গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। দুজনের প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত গোলের বদলে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও সিটির রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ইউনাইটেড। এরপর আসে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত। ৬০ মিনিটে হালান্ডকে প্রথমে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। কিন্তু, ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। অফসাইডের সিদ্ধান্ত বাতিল করে হালান্ডের গোল বৈধ ঘোষণা করা হয়। তাতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইউনাইটেড শিবিরে। শুরুতে অফসাইড দেওয়ার পর কীভাবে সেটি বাতিল হলো, তা নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ। সিটির জন্য অবশ্য সেই সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে ম্যাচ জয়ের মুহূর্ত। হালান্ড সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান এবং ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলেও সেই লিড শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে সিটি। ম্যাচের শেষদিকে ইউনাইটেড সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। যোগ করা সময়ে ব্রায়ান এমবেউমো প্রায় গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন। কিন্তু, সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন। তার সেই সেভই শেষ পর্যন্ত সিটির জয় নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সিটির খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। নতুন কোচ এনজো মারেস্কাও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছুটে যান সিটি সমর্থকদের দিকে। একদিকে ডার্বির জয়, অন্যদিকে একজন খেলোয়াড় কম নিয়েও তিন পয়েন্ট আদায়-সব মিলিয়ে তার উদযাপনও ছিল স্মরণীয়। তবে, জয় পেলেও সিটির এই ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক সহজে থামছে না। ফোডেনকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত এবং হালান্ডের গোলের আগে-পরের অফসাইড সিদ্ধান্ত-দুটিই ম্যাচের পর আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত বিতর্কের মাঝেও হালান্ডের একমাত্র গোলেই ম্যানচেস্টার ডার্বির তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে সিটি। আর ইউনাইটেডের সামনে রয়ে গেল আরও বড় হতাশা। এ জয়ে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে ২য় স্থানে সিটি। গোল ব্যবধানে আর্সেনালের চেয়ে পিছিয়ে তারা। ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। আইএইচএস/এএমএ
রাজধানীর ইনোভেশন ফেয়ারে নজর কেড়েছে সৌরবিদ্যুৎচালিত ‘সানকার’সহ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নানা পরিবেশবান্ধব ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন। দেখা গেছে সবজির চারার রোগ নির্ণয় করার যন্ত্র এগ্রো-বট। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...