
বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে সহজে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু, সম্প্রসারণ, পুনর্গঠন ও পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তারা অর্থবাজার ও পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। তবে ব্যবসায়ের টেকসই উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করা বেশি কার্যকর। তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় অনেকে অর্থবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। এতে পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আসে না এবং ব্যবসায়ের টেকসই প্রসারও বাধাগ্রস্ত হয়।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে আজ শনিবার চট্টগ্রাম চেম্বার ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: গ্রোথ ডায়ালগ-পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ খান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলো করপোরেট করহারে ছাড়, সহজে ব্যাংক ঋণ পাওয়া, কৌশলগত ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণসহ বিভিন্ন সুবিধা পায়। বর্তমানে যেসব বড় কোম্পানির বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা, তারা সহজে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য একবার নিরীক্ষা করলেই হবে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের গড় লেনদেন বাজার মূলধনের শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। গড় লেনদেন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা গেলে তা শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছাবে।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ না করলেও লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী পুঁজিবাজারে আসতে চান না। তালিকাভুক্তির পর বিভিন্ন নিয়মের জটিলতায়ও পড়তে হয়। ব্যবসায় লাভ হলে লভ্যাংশ দেওয়া এবং লোকসান হলে না দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। পুঁজিবাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পৃক্ত। তাই আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য প্রয়োজন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের পুঁজিবাজার পঙ্গু হয়ে আছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার পাশাপাশি শক্তিশালী কমিশনও প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান করপোরেট সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদ সাত্তার পুঁজিবাজারের করসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে বিএসইসি ও এনবিআরের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
সংলাপে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার বিএসইসির সঙ্গে কাজ করবে বলে জানান চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী।
সংলাপে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি মো. জামাল উদ্দিন, সিএসইর এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন সালেহ জহুর, বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান, মোদাচ্ছের এ সিদ্দিক অ্যান্ড কোম্পানির মোদাচ্ছের আহমেদ সিদ্দিকী, পিডব্লিউসির সহযোগী পরিচালক (ডিজিটাল রূপান্তর) শাদাব মাহমুদ, বিএসএম গ্রুপের আবুল বাশার চৌধুরী ও আইআইএবির সভাপতি এম নুরুল আলম বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, এ এস এম ইসমাইল খান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম, মো. সেলিম নুর প্রমুখ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফেনীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাত, একাধিক মামলার আসামি, মাদক কারবারি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় আসামিদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ, বিয়ার ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযান শেষে গ্রেফতারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী মডেল থানা-পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে মহিপাল এলাকা থেকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি আশ্রাফুজ জামান সোহাগ (২০) এবং শহরের এসএসকে রোড থেকে ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলাম রিয়াজকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। পৃথক অভিযানে ধর্মপুর এলাকা থেকে ৫০ বোতল বিদেশি মদসহ একাধিক মাদক মামলার আসামি মো. সেলিম (২৪) এবং চাটপুর খাজুরিয়া জজ কোর্ট কলোনি এলাকা থেকে ১০ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ মো. হৃদয় (২০) ও তার মা রাবেয়া আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অভিযানকালে ৫৭ ইয়াবাসহ শাহরিয়ার হোসেন (২২), নাজমুল ইসলাম (২১), শহিদুল ইসলাম সুমন (৫৪), ইসমাইল হোসেন ইমন (২৬) ও মো. রুবেলকে (২৬) এবং ৩ বোতল বিয়ারসহ আবু ছায়াদ (২০) ও মো. ইকবাল হোসেনকে (৫২) গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার বাকি আসামিরা বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত। অভিযান শেষে পুলিশ মোট ৫০ বোতল বিদেশি মদ, ১০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ, ৩ বোতল বিয়ার ও ৫৭ পিস ইয়াবা বাজেয়াপ্ত করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমআইএইচএস
হরমোন ও বিপাকীয় সমস্যাসংক্রান্ত ব্যাধি পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমকে (পিসিওএস) পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়াস সিনড্রোম (পিএমওএস) নামে ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিসিওএস শুধু ডিম্বাশয়ের সমস্যা নয়, এর সঙ্গে হরমোন ও বিপাকীয় নানা জটিলতা জড়িত। তাই একে পরিবর্তিত নামে ডাকা জরুরি। তবে রোগটির চিকিৎসাপদ্ধতি একই থাকবে।গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে কথাগুলো বলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। ‘পিসিওএস থেকে পিএমওএস: নাম পরিবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টেরিলিটি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এফএসএসবি)। আয়োজনের সায়েন্টিফিক পার্টনার ছিল এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফএসএসবির সভাপতি অধ্যাপক রাশিদা বেগম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মারুফ সিদ্দিকী।অধ্যাপক রাশিদা বেগম বলেন, পিসিওএসের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের সমস্যাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু এর সঙ্গে এন্ডোক্রাইন ও মেটাবলিক নানা সমস্যা জড়িত। অ্যান্ড্রোজেন ও ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে ডিম্বস্ফোটন করিয়ে সন্তান ধারণ সম্ভব হলেও এর সঙ্গে থাকা মেটাবলিক সমস্যা থেকে যায়। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়া ও হৃদ্রোগের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিগুলোকে বিবেচনায় নিতে নতুন নামটি গুরুত্বপূর্ণ।অধ্যাপক মারুফ সিদ্দিকী বলেন, নতুন নামটি প্রতিষ্ঠা করতে প্রকাশনার ওপর জোর দিতে হবে। তিনি পাঠ্যবই এবং ক্লিনিকাল রিভিউগুলোতে পিসিওএসের পরিবর্তে পিএমওএস লেখার আহ্বান জানান। মারুফ সিদ্দিকী বলেন, ‘স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এটাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পলিসি ও গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিতে হবে। এই উত্তরণের জন্য আমাদের একটা সময় লাগবে। আমরা আশাবাদী, ২০২৮ সালের মধ্যে ১৯৫টি দেশের উপযোগী করে আমরা একটা গাইডলাইন তৈরি করতে পারব।’সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের ব্যাপারে আমি খুবই খুশি। আজ আমি একটা প্রেসক্রিপশন দেখলাম, যেখানে পিএমওএস লিখেছে। সেটা দেখে আমি ভীষণ আনন্দিত হয়েছি।’ নাম পরিবর্তনের ফলে রোগীদের ডিম্বাশয়ের সিস্টের অস্ত্রোপচারকেন্দ্রিক উদ্বেগ কমবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সেমিনারের বিশেষ অতিথি ছিলেন ওজিএসবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সায়েবা আখতার ও অধ্যাপক রওশন আরা বেগম। অধ্যাপক সায়েবা আখতার বলেন, নামের এই পরিবর্তন মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনবে। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জ্ঞান ও চর্চার মধ্যে একটা পার্থক্য সব সময়ই থাকে। আজ আমরা যে জ্ঞান অর্জন করলাম, এটা আমাদের কাজে দেখাতে হবে। কেননা প্রয়োগটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ পিসিওএস রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক রওশন আরা বেগম। তিনি নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের পরামর্শ দেন। মুঠোফোন ব্যবহার কমিয়ে নিয়মিত শরীরচর্চার আহ্বান জানান তিনি।সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশের (এসিইডিবি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ এবং বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) সভাপতি ফারিয়া আফসানা। অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, প্রতি তিনজন পিএমওএস রোগীর একজনের প্রিডায়াবেটিস রয়েছে। তাঁদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি। এই রোগীদের লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ।সেমিনারের শেষে কেক কেটে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের হরমোন ব্র্যান্ডগুলোর উদ্বোধন করা হয়। এসকেএফের সেলস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘এসকেএফ হরমোন প্রোডাক্ট বিশ্বমানের প্ল্যান্টে উৎপাদিত। আমরা বিশ্বাস করি, আপনাদের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে বিশ্বমানের ওষুধগুলো রোগীদের মাতৃত্বের স্বপ্ন পূরণ করবে।’বৈজ্ঞানিক সেমিনারটির চেয়ারপারসন ছিলেন ওজিএসবির সভাপতি এবং এফএসএসবির সহসভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন এফএসএসবির সায়েন্টিফিক সেক্রেটারি অধ্যাপক তানজিম সাবিনা চৌধুরী। এফএসএসবির যুগ্ম সম্পাদক ফাহমিদা রশিদ এবং ইসি মেম্বার ফাহমিদা শারমিন সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন।
নোয়াখালী পৌর বণিক সমিতির নির্বাচনে আব্দুল মোতালেব আপেল সভাপতি ও মো. মনিরুল ইসলাম মুকুল সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষে রাতে উৎসবমুখর এ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে সমিতির দুই হাজার ৮৯ জন ভোটারের মধ্যে এক হাজার ৬২৪ জন ভোটার সরাসরি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিজয়ীদের মধ্যে সভাপতি পদে আব্দুল মোতালেব আপেল ৮৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৩৩ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মনিরুল ইসলাম মুকুল এক হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম রায়হান পেয়েছেন ৪২০ ভোট। এছাড়া সহ-সভাপতি পদে হারুন নূর রশিদ খান ৬৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য সহ-সভাপতি পদে মোয়াজ্জেম হোসেন ৬০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুর রহমান ৮১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে মোট ১৯টি পদের মধ্যে আগেই ১১টি পদে আব্দুল মোতালেব আপেল ও সিরাজুল ইসলাম রায়হান পরিষদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি আটটি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে দীর্ঘ ২৩ বছর পর বণিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নোয়াখালীর ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মোতালেব আপেল জাগো নিউজকে বলেন, আজকের সুশৃঙ্খল নির্বাচনে আমরা নয়, ভেটাররা জয়ী হয়েছেন। সবাই মিলে একসঙ্গে ব্যবসায়ীদের কল্যাণে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। ইকবাল হোসেন মজনু/এমআইএইচএস