বরগুনায় আদালতের এজলাসে এক আসামির হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জামিন না পেয়ে ওই আসামি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। হাতকড়া পরাতে গেলে তিনি পুলিশের ওপর হামলা করেন। আজ বুধবার দুপুরে বরগুনায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম ওই আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরে তাঁকে বরগুনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাদিরা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দণ্ড পাওয়া আসামি মো. বশির ( ৪৫) বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ছোট গৌরীচন্না এলাকার বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় আসামি মো. বশির অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। আজ মামলার শুনানি চলাকালে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. বশির এজলাসেই বিচারকের উদ্দেশে কটু ও অশ্লীল মন্তব্য করেন। আইনজীবীরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে হাতকড়া পরাতে যায়। বিচারকের উপস্থিতিতেই তিনি পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করেন। এতে পুলিশ সদস্য মো. সিদ্দিক, মো. শাহজাহান ও হনুফা বেগম আহত হন।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি কামরুল ইসলাম ফরাজি বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম একটি সিআর মামলা আমলে নিয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বশিরকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও স্বেচ্ছায় আঘাত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আগামী নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য এক বিরল সন্ধিক্ষণ। একদিকে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় বসছে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১, অন্যদিকে এই একই মাসে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তীর্ণ হওয়ার প্রস্তাবনা উঠবে। এবারের সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, দর-কষাকষির নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া, আর প্রাক্-সম্মেলন বসছে প্রশান্ত মহাসাগরের দুই দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি ও টুভালুতে। আয়োজকেরা একে বলছেন ‘বাস্তবায়নের সম্মেলন’, অর্থাৎ নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, পুরোনো অঙ্গীকার মাঠে নামানোর পালা। এই দুই ঘটনার সংযোগেই বাংলাদেশের এবারের অবস্থানের মূল সুরটি বাঁধা উচিত।এত দিন বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, বিশেষ বাণিজ্যসুবিধা ও কারিগরি সহায়তার অনেকটা পেয়ে এসেছে স্বল্পোন্নত দেশের পরিচয়ের সূত্রে। যদি উত্তরণের জন্য তিন বছর সময়ও পাই, এরপর সেই অগ্রাধিকারের দরজাগুলো একে একে সরু হয়ে আসবে। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকির সূচকে বাংলাদেশ এখনো বিশ্বের সপ্তম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, যদিও বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে আমাদের অবদান আধা শতাংশেরও কম। মাথাপিছু আয় খানিকটা বাড়ল বলে একটি বদ্বীপের বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা কিংবা নদীভাঙনের ঝুঁকি একবিন্দুও কমেনি। তাই কপ৩১-এ বাংলাদেশের প্রথম ও কৌশলগত দাবিটি এখনই স্পষ্ট হওয়া উচিত: জলবায়ু অর্থায়নের মাপকাঠি হোক আয় নয়, ঝুঁকি। আর উত্তরণ যেন শাস্তিতে পরিণত না হয়, সে জন্য চাইতে হবে উত্তরণ-পরবর্তী একটি বিশেষ সহায়তার সুযোগ, যাতে উত্তরণের অন্তত পাঁচ থেকে সাত বছর আমরা আগের মতোই সহজ শর্তে জলবায়ু তহবিলে প্রবেশ করতে পারি।জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়াই কপ৩০ চুক্তি: শক্তি রূপান্তর কি তাহলে থমকে গেলঅর্থের পরিমাণ নয়, চরিত্রআমাদের আলোচনায় জলবায়ু অর্থায়নকে প্রায়ই কেবল অঙ্কের হিসাবে দেখা হয়, কত বিলিয়ন এল সেটিই যেন সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি। কিন্তু আমার কাছে প্রশ্নটি ভিন্ন: অর্থ কোন চরিত্রে আসছে, অনুদান নাকি ঋণ? গত দুই সম্মেলনে ঘোষিত বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন অর্থায়ন লক্ষ্য এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অঙ্গীকার শুনতে বড়, কিন্তু এর বড় অংশ যদি ঋণের মোড়কে আসে, তবে যে সংকটের জন্য বাংলাদেশ কার্যত দায়ী নয়, সেটি সামলাতে গিয়েই দেশটির ঋণের বোঝা বাড়বে। এ এক নিষ্ঠুর পরিহাস।বাংলাদেশের নিজের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বলছে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রয়োজন প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার, যার একটি বড় অংশ, বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার, আসতে হবে বাইরের উৎস থেকে। এই বিপুল চাহিদার পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের দাবি হওয়া উচিত অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে অনুদান ও সহজ শর্তের অর্থায়ন, যাতে আজকের দুর্যোগ আগামী প্রজন্মের ঋণে পরিণত না হয়।গত সম্মেলন অভিযোজন অর্থায়ন তিন গুণ করার সময়সীমা ২০৩০ থেকে ঠেলে ২০৩৫-এ নিয়ে গেছে; যাদের ঘরে আজ পানি উঠছে, তাদের জন্য এই পাঁচ বছরের বিলম্ব বিলাসিতা। বিশ্বব্যাংকসহ কয়েকটি সংস্থা সম্প্রতি জলবায়ু-বরাদ্দের লক্ষ্য শিথিলের ইঙ্গিত দিয়েছে, ধনী দেশগুলোর কারও কারও পিছুটানও আছে। এই অনিশ্চয়তার বাজারে অনুমেয় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নিশ্চয়তা আদায় করাই আমাদের কূটনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া চাই।জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে কত জনপদ। ক্ষয়ক্ষতি: কাগজ থেকে হাতেক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার আন্তর্জাতিক তহবিল কাগজে-কলমে গঠিত হয়েছে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে অর্থ এখনো পৌঁছায়নি। বাংলাদেশের দাবি হওয়া উচিত এই তহবিলকে সরাসরি জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য ও দ্রুত ছাড়যোগ্য করা। নদীভাঙনে এক রাতে গ্রাম বিলীন হলে সেই পরিবার তিন বছরের প্রকল্প প্রস্তাব লিখে অপেক্ষা করতে পারে না; তাই দরকার একটি দ্রুত সাড়ার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে ভিটেমাটি, ভাষা কিংবা সংস্কৃতি হারানোর মতো যেসব ক্ষতি টাকায় মাপা যায় না, তারও স্বীকৃতি এই কাঠামোয় থাকা চাই।আর অভিযোজনই যে আমাদের মূল লড়াই, সেটি ভুললে চলবে না। উপকূলের বাঁধ, লবণসহিষ্ণু ফসল, সুপেয় পানির সংস্থান, নগরের জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-অভিবাসীদের পুনর্বাসন—এসবই আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। অভিযোজনের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা ও তার সূচক নির্ধারণের আলোচনায় বাংলাদেশকে সক্রিয় কণ্ঠস্বর হতে হবে, জোর দিতে হবে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বাধীন অভিযোজনে। কারণ, ঢাকায় বসে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, সাতক্ষীরা বা কুড়িগ্রামের মানুষ নিজেরাই ভালো জানে তাঁদের কী দরকার।জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে দরিদ্রকে যেভাবে দরিদ্রতম করছেনতুন লড়াই: বাণিজ্য ও কার্বনএবার এমন একটি প্রসঙ্গ, যা আগের সম্মেলনগুলোয় আমাদের আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত ছিল, অথচ যা আমাদের অর্থনীতির মূলে আঘাত হানতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন সীমান্ত কর ব্যবস্থা এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে কার্যকর হয়েছে, আপাতত সিমেন্ট, সার, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর। কিন্তু ঘোষণা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এর আওতায় আসতে পারে তৈরি পোশাকসহ প্রায় সব পণ্য। বাংলাদেশের রপ্তানির চতুর্থ-পঞ্চমাংশই যেখানে পোশাক এবং তার অর্ধেকের বেশি যায় ইউরোপে, সেখানে এটি নিছক পরিবেশ-বিতর্ক নয়, আমাদের অর্থনীতির টিকে থাকার প্রশ্ন। হিসাব বলছে, পোশাক এই করের আওতায় এলে প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তি বোঝা যুক্ত হতে পারে, আর উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর ধাক্কা মিলিয়ে মোট বোঝা ঠেকতে পারে ১৭ শতাংশের কাছাকাছি।অর্থাৎ উত্তরণ আর কার্বন কর, দুই আঘাত আসছে প্রায় একসঙ্গে। কপ৩১-এ তাই বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত দ্ব্যর্থহীন: কার্বন কমানোর নামে যেন উন্নয়নশীল দেশের সামনে নতুন বাণিজ্যপ্রাচীর তৈরি না হয়। আমরা শিল্পের সবুজ রূপান্তরে রাজি, কিন্তু তার জন্য চাই প্রযুক্তি, অর্থ ও যুক্তিসংগত সময়। গত সম্মেলনে এই কর নিয়ে যে বৈশ্বিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা থেকেই এ বছরের জুন থেকে বাণিজ্য ও জলবায়ু নিয়ে বার্ষিক সংলাপ শুরু হয়েছে। সেই মঞ্চে বাংলাদেশকে পোশাক, চামড়া, সিমেন্টের মতো খাতের সবুজ রূপান্তরের জন্য ন্যায্য সহায়তার দাবি জোরালোভাবে তুলতে হবে। তবে এই রূপান্তর হতে হবে ন্যায্য: পোশাকশিল্পের নারী শ্রমিকসহ প্রান্তিক মানুষের জীবিকা যেন সবুজ অর্থনীতির পথে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে বরং সুরক্ষা পায়, সেটিও একই সঙ্গে চাইতে হবে।আমাদের নতুন জলবায়ু অঙ্গীকারে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে, অথচ এখন তা ৫ শতাংশের ঘরেও পৌঁছায়নি, আর ওই লক্ষ্যের সিংহভাগই আন্তর্জাতিক সহায়তা-নির্ভর। প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের এই দূরত্ব কমাতে হলে চাই প্রস্তুত ও স্বচ্ছ প্রকল্প তালিকা, অর্থ কাজে লাগানোর সক্ষমতা এবং একটি নির্ভরযোগ্য পরিমাপ, প্রতিবেদন ও যাচাইব্যবস্থা।একই সঙ্গে সতর্ক থাকতে হবে কার্বন বাজার নিয়ে। কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে সাময়িক কিছু বৈদেশিক মুদ্রা আনা যায় বটে, কিন্তু সুন্দরবন বা উপকূলীয় বনভূমিকে বিদেশি কোম্পানির সস্তা ‘অফসেটে’ পরিণত করা যাবে না। আমাদের সবুজ সম্পদ আমাদের ভবিষ্যতের পুঁজি, কোনো বাজারের পণ্য নয়।সম্প্রতি সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জলবায়ু অর্থায়ন–সংক্রান্ত একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছে, যার ওপর কার্বন ক্রেডিট, কার্বন–বাণিজ্য ও প্যারিস চুক্তির ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের নীতিগত ভার। এমন একটি সমন্বিত কাঠামো জরুরি ছিল, তবে এর সার্থকতা নির্ভর করবে অর্থ আকর্ষণ আর জাতীয় সম্পদ রক্ষার ভারসাম্য কতটা রক্ষা করা যায়, তার ওপর।শুধু চাওয়া নয়, দেখানোওআন্তর্জাতিক টেবিলে আমাদের নৈতিক অবস্থান দৃঢ়, কিন্তু কেবল ন্যায্যতার আবেদন দিয়ে আর বেশি দূর যাওয়া যাবে না। দাতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন জানতে চায়, অর্থ দিলে তা স্বচ্ছভাবে, দক্ষতার সঙ্গে এবং মাপযোগ্য ফল নিয়ে খরচ হবে কি না। আমাদের নতুন জলবায়ু অঙ্গীকারে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে, অথচ এখন তা ৫ শতাংশের ঘরেও পৌঁছায়নি, আর ওই লক্ষ্যের সিংহভাগই আন্তর্জাতিক সহায়তা-নির্ভর। প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের এই দূরত্ব কমাতে হলে চাই প্রস্তুত ও স্বচ্ছ প্রকল্প তালিকা, অর্থ কাজে লাগানোর সক্ষমতা এবং একটি নির্ভরযোগ্য পরিমাপ, প্রতিবেদন ও যাচাইব্যবস্থা।আমাদের নতুন জলবায়ু অঙ্গীকারে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।তাই কপ৩১ শুধু চাওয়ার মঞ্চ নয়, নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণেরও মঞ্চ। জলবায়ু–কূটনীতি একই সঙ্গে বিনিয়োগ–কূটনীতিও বটে। আন্তালিয়ায় আমাদের কেবল অভিযোগের ঝুড়ি নয়, বরং বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পের তালিকা নিয়ে যাওয়া উচিত, যেখানে থাকবে সৌরবিদ্যুৎ, শিল্পের ছাদে সৌর প্যানেল, সঞ্চালন গ্রিডের আধুনিকায়ন, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও সবুজ শিল্পায়নের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব। সরকার ইতিমধ্যে কপ৩১ উপলক্ষে একটি কমিটি গঠন করে অবস্থানপত্র তৈরির কাজ শুরু করেছে। সেই অবস্থানপত্র যেন দাতানির্ভর নয়, তথ্যভিত্তিক ও কমিউনিটির মালিকানার ভিত্তিতে তৈরি হয়, এবং তাতে কেবল কত টাকা চাই তা নয়, সেই টাকা কীভাবে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে ও কীভাবে তার জবাবদিহি হবে, তার রূপরেখাও থাকে।নেতৃত্বের সুযোগবাংলাদেশ এবার কেবল আবেদনকারী নয়, নেতৃত্বদানকারীও হতে পারে। স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তীর্ণ হলেও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, জি-৭৭ এবং জলবায়ুবিপন্ন দেশগুলোর মঞ্চে আমাদের অভিজ্ঞতা ও নৈতিক পুঁজি বিশাল। এবারের প্রাক্-সম্মেলন যেহেতু ফিজি ও টুভালুতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সামনে দাঁড়ানো সেই দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একটি ঐক্যবদ্ধ ‘টিকে থাকার জোট’ গড়ে তোলাই হতে পারে আন্তালিয়ায় আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। বিশ্বকে বোঝাতে হবে, আমরা কেবল দুর্যোগের শিকার নই, সমাধানেরও অংশীদার।উত্তরণের এই বছরে বাংলাদেশের বার্তাটি তাই দ্ব্যর্থহীন হওয়া উচিত: আমরা মর্যাদার সঙ্গে বড় হচ্ছি, কিন্তু আমাদের ঝুঁকি বড় হয়নি; ছোট হয়েছে কেবল অন্যের দায় এড়ানোর অজুহাত। এই সত্যটুকু আন্তালিয়ার টেবিলে আদায় করে আনাই হবে আমাদের কূটনীতির সার্থকতা।সুবাইল বিন আলম টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক লেখকcontact@subail.com
ছাত্রদলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপন করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ১৭ সেপ্টেম্বর সংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়। বিস্তারিত ভিডিওতে...
মেয়ে বিক্রির দলিল। ২১৯ বছর আগে মানুষ বিক্রির দলিলজাতীয় জাদুঘরের তৃতীয় তলায় ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগের ৩৩ নম্বর গ্যালারি। কাচের বাক্সে সাজানো পুরোনো পাণ্ডুলিপি, মুদ্রা আর নানা সময়ের দলিল। এর মধ্যেই পাশাপাশি রাখা দুটি বাংলা দলিল। একটির শিরোনাম ‘মানুষ বিক্রির দলিল’, আরেকটি ‘আত্মবিক্রয় দলিল’।মানুষ বিক্রির দলিলের বয়স ২১৯ বছর। তাতে লেখা—ছয় বছর বয়সী মেয়েকে ১৩ টাকা সিক্কায় বিক্রি করেছিলেন তার বাবা সদারাম দাস। আত্মবিক্রয় দলিলটি তার ঠিক এক বছর পরের। সেখানে স্ত্রী, দুই সন্তানসহ নিজেকে মাত্র সাড়ে তিন টাকা সিক্কায় অন্যের কাছে বিক্রি করেছিলেন সেখ মামুদা। দুটি দলিলের ক্রেতা একই ব্যক্তি-কৃষ্ণকিঙ্কর বাচস্পতি।একজন বাবা কেন তাঁর ছয় বছরের মেয়েকে বিক্রি করেছিলেন? একজন মানুষই–বা কেন স্ত্রী, দুই সন্তানসহ নিজেকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন? দলিলের অক্ষরে এ প্রশ্নের পুরো উত্তর নেই।কিন্তু ইতিহাসের অন্য নথি, গবেষণা ও সেই সময়ের বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে আসে—ক্ষুধা, দারিদ্র্য, ঋণ ও বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ কখনো কখনো নিজের স্বাধীনতাটুকুও বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল।দলিল দুটি তাই শুধু মানুষ কেনাবেচার পুরোনো কাগজ নয়। এগুলো বাংলার দরিদ্র মানুষের জীবন, দাসপ্রথা এবং বেঁচে থাকার জন্য মানুষের অসহায় হয়ে পড়ার এক বিরল সাক্ষ্য।দলিলটির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। এ কারণে পুরো লেখা পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে যতটুকু পড়া গেছে, তাতে শুধু মেয়েটিকে বিক্রির কথাই নেই। মেয়েটির ওপর ক্রেতা কৃষ্ণকিঙ্কর বাচস্পতি, তাঁর ছেলে এবং বংশধরদের অধিকার থাকবে—এ কথাও লেখা হয়েছে। এমনকি মেয়েটির ভবিষ্যৎ সন্তানদেরও সেই অধিকারের আওতায় রাখা হয়েছিল।১৩ টাকা সিক্কায় বিক্রি হয়েছিল ৬ বছরের মেয়ে১৮০৭ সাল। তৎকালীন ময়মনসিংহ পরগনার হাসানপুর চাকলার বাসিন্দা সদারাম দাস নিজের ৬ বছরের মেয়েকে বিক্রি করেন কৃষ্ণকিঙ্কর বাচস্পতির কাছে। বিনিময়ে পান ১৩ টাকা সিক্কা।দলিলটির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। এ কারণে পুরো লেখা পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে যতটুকু পড়া গেছে, তাতে শুধু মেয়েটিকে বিক্রির কথাই নেই। মেয়েটির ওপর ক্রেতা কৃষ্ণকিঙ্কর বাচস্পতি, তাঁর ছেলে এবং বংশধরদের অধিকার থাকবে—এ কথাও লেখা হয়েছে। এমনকি মেয়েটির ভবিষ্যৎ সন্তানদেরও সেই অধিকারের আওতায় রাখা হয়েছিল।অর্থাৎ দলিলটি শুধু একজন শিশুকে বিক্রির কাগজ নয়; এটি তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও মালিকানার দাবি প্রতিষ্ঠার নথি। মেয়েটিকে কেন বিক্রি করা হয়েছিল, দলিলে তার স্পষ্ট উল্লেখ নেই।জাতীয় জাদুঘরের দলিল দুটি পাঠোদ্ধারে সহযোগিতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও পুরোনো বাংলা দলিলপত্র-পাণ্ডুলিপির গবেষক নাজমুল হোসেন। তাঁর ধারণা, সদারামের এ ঘটনার পেছনে দারিদ্র্য ও ঋণের মতো অর্থনৈতিক কারণ থাকতে পারে।জাতীয় জাদুঘরে মানুষ বিক্রির দলিলের সামনে লেখা সংক্ষিপ্ত বিবরণদলিলে লেখা স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের দাম১৮০৮ সাল। আগের দলিলের ঠিক এক বছর পরের ঘটনা। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালি গ্রামের সেখ মামুদা নিজের সঙ্গে স্ত্রী, দুই সন্তান সেখ দুতিয়া ও সেখ কাঙ্গালিয়াকেও বিক্রি করেছিলেন। ক্রেতা একই ব্যক্তি, কৃষ্ণকিঙ্কর বাচস্পতি। চারজনের বিনিময়ে মামুদা পেয়েছিলেন সাড়ে তিন টাকা সিক্কা।দলিলে বিক্রির কারণ হিসেবে খাবার ও কাপড়ের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ অভাবের চাপে নিজের স্বাধীনতার পাশাপাশি স্ত্রী, দুই সন্তানকেও অন্যের হাতে তুলে দিতে হয়েছিল সেখ মামুদাকে।দলিলের ভাষায়, শুধু মামুদা বা তাঁর পরিবারের সদস্যরাই নন, তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মও এই বিক্রির আওতায় ছিল। ক্রেতা কৃষ্ণকিঙ্কর বাচস্পতি চাইলে তাঁদের বিক্রি বা দানও করতে পারতেন।অভাবের কাছে স্বাধীনতার হার২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত এই দুটি দলিল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাপত্রটির নাম ‘এক্সপ্লোরিং স্লেভারি প্র্যাকটিসেস ইন নাইনটিথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল: ইনসাইটস ফ্রম টু আনপাবলিশড হিউম্যান সেল ডিডস অ্যাট দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল মিউজিয়াম’।গবেষণায় বলা হয়েছে, সেখ মামুদা দলিলে পরিবারের অন্ন-বস্ত্রের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেন। বিনিময়ে পাওয়া যায় সাড়ে তিন সিক্কা। চুক্তিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ বংশধরদেরও এর আওতায় রাখা হয়।নাজমুল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়দলিল দুটি তুলট কাগজে বাংলা ভাষায় লেখা। প্রথমটি দলিলটি ১২১৪ বঙ্গাব্দের ৩ শ্রাবণ, অর্থাৎ ১৮০৭ সালের। সময়ের ব্যবধানে প্রথম দলিলের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বিক্রি হওয়া মেয়েটির নাম জানা যায়নি। পরে তার কী হয়েছিল—তা–ও জানা যায়নিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও গবেষক মুহাম্মদ শাহজাহান মিয়া তাঁর ‘পুরোনো বাংলা দলিলপত্র ১৬৩৮-১৮৮২’ বইয়ে বাংলায় মানুষ বিক্রির এমন দলিলের কথা উল্লেখ করেছেন।শাহজাহান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, যখনই দেশে দুর্ভিক্ষ, বন্যা বা প্লাবনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিত, তখন গরিব মানুষের কোনো উপায় থাকত না। অনাহার থেকে বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবে দরিদ্র মানুষ কখনো নিজেকে অথবা স্ত্রী-সন্তানকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিত। এসব ঐতিহাসিক দলিল তৎকালীন দরিদ্র মানুষের জীবন ও ক্রীতদাস প্রথার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।স্ত্রী, দুই সন্তানসহ নিজেকে মাত্র সাড়ে তিন টাকা সিক্কায় অন্যের কাছে বিক্রি করেছিলেন সেখ মামুদা, এটাই সেই আত্মবিক্রির দলিলবাংলায় দাসপ্রথা ও মানুষ কেনাবেচাদাসপ্রথার ইতিহাস বললে সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে আফ্রিকা থেকে জাহাজে করে মানুষকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার ভয়াবহ ইতিহাস। আবার ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হলো ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্য। এর মাধ্যমে আফ্রিকা থেকে লাখো মানুষকে জোর করে আমেরিকা ও ইউরোপের উপনিবেশগুলোয় নিয়ে দাস হিসেবে বিক্রি করা হতো।দাসপ্রথা ও দাস ব্যবসা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চললেও ১৮ শতক থেকে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরালো হয় এবং ধীরে ধীরে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে তা বিলুপ্ত হয়।তবে দাস কেনাবেচা শুধু আটলান্টিকের ওপারের ঘটনা ছিল না। বাংলায়ও স্থানীয় মানুষকে দাস হিসেবে কেনাবেচার প্রমাণ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ের নথি, পর্যটকদের বিবরণ ও গবেষণায় স্থানীয় মানুষকেও দাস হিসেবে বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে।প্রয়াত অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান তাঁর ‘দারিদ্র্যের অর্থনীতি: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ বইয়ে বাংলার দাসপ্রথা প্রবন্ধে লিখেছেন, কোনো কোনো ঐতিহাসিকের ধারণা ছিল, বাংলায় শুধু বিদেশ থেকে আনা দাসদেরই কেনাবেচা হতো; স্থানীয় মানুষকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হতো না।আকবর আলি খান এ ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে লিখেছেন, ‘বাংলায় ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক কম দামে দাস বিক্রি হতো।’১৮০৮ সাল। আগের দলিলের ঠিক এক বছর পরের ঘটনা। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালি গ্রামের সেখ মামুদা নিজের সঙ্গে স্ত্রী ও দুই সন্তান-সেখ দুতিয়া ও সেখ কাঙ্গালিয়াকেও বিক্রি করেছিলেন। ক্রেতা একই ব্যক্তি, কৃষ্ণকিঙ্কর বাচস্পতি। চারজনের বিনিময়ে মামুদা পেয়েছিলেন সাড়ে তিন টাকা সিক্কা।প্রাচীন আইন, পর্যটকদের বিবরণ ও বিদেশি ব্যবসায়ীদের বিবরণের ভিত্তিতে তিনি বাংলায় স্থানীয় মানুষ কেনাবেচার প্রমাণ তুলে ধরেছেন।চতুর্দশ শতকে বাংলায় আসা মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতার সফরনামায়ও এর উল্লেখ আছে। তিনি বাংলায় এক স্বর্ণ দিনারে দাসী কেনাবেচা দেখেছেন। নিজেও ‘আশুরা’ নামে এক দাসী কিনেছিলেন। তাঁর এক সঙ্গী ‘লুলু’ নামে এক অল্পবয়সী দাস কিনেছিলেন।পর্তুগিজ ব্যবসায়ী দুয়ার্তে বারবোসার বিবরণেও বাংলায় স্থানীয় মানুষকে দাস হিসেবে কেনাবেচার তথ্য পাওয়া যায় বলে ‘দারিদ্র্যের অর্থনীতি: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন আকবর আলি খান। বারবোসার বর্ণনা অনুযায়ী, কিছু বণিক বাংলার হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে শিশু কিনে পরে তাদের দাস হিসেবে বিক্রি করতেন।মোগল আমলের নথিতেও দাস কেনাবেচার উল্লেখ আছে। ‘দারিদ্র্যের অর্থনীতি: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ বইয়ে বলা হয়েছে, আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’তে ঘোড়াঘাট ও সিলেট সরকারের অধীন এলাকায় খোজা দাসের বেচাকেনার উল্লেখ আছে।এ ছাড়া সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্মৃতিকথায়ও সিলেটের কিছু পরিবারের সন্তানদের খোজা করে রাজস্বের পরিবর্তে শাসকদের দেওয়ার প্রথার উল্লেখ আছে। পরে তিনি এ প্রথা নিষিদ্ধ করে খোজা কেনাবেচার জন্য কঠোর শাস্তির নির্দেশ দেন।জাতীয় জাদুঘরে আত্মবিক্রির দলিলের সামনে লেখা সংক্ষিপ্ত বিবরণদলিলে ধরা পড়েছে চার ধরনের মানুষ১২টি দাস বিক্রির দলিল বিশ্লেষণ করে আকবর আলি খান বলেছেন, এসব দলিলে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা সবাই বাংলার স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁরা বাইরে থেকে আনা মানুষ ছিলেন না।তাঁর বিশ্লেষণে চার ধরনের মানুষের দাস হিসেবে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়—নিঃস্ব স্বাধীন ব্যক্তি, স্বাধীন ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল শিশু, আগে কেনা দাস এবং দাসদের সন্তান।অর্থাৎ দাসপ্রথা শুধু যুদ্ধবন্দী বা বিদেশ থেকে ধরে আনা মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দারিদ্র্য ও নির্ভরশীলতার কারণে স্বাধীন মানুষও এই ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকে পড়তেন।ইতিহাসবিদ ইন্দ্রাণী চট্টোপাধ্যায়ের গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘স্লেভারি অ্যান্ড দ্য হাউসহোল্ড ইন বেঙ্গল, ১৭৭০-১৮৮০’-তে তৎকালীন নথি ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট থেকে ছেলে ও মেয়েশিশুদের কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ইউরোপীয়দের অনেকেই তখন কম দামে এসব শিশু কিনে গৃহস্থালির নানা কাজে নিয়োজিত করতেন।মানুষ ও আত্মবিক্রির দলিল দুটি কোথা থেকে এল?জাতীয় জাদুঘরের এই দুটি দলিল সব সময় মানুষের চোখের সামনে ছিল না। এই দুই দলিল ১৯৮০ সালে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের দৌহাখোলা গ্রামের সুরেন্দ্র চন্দ্র লস্করের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এরপর থেকে সেগুলো জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগে সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত হচ্ছে।১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি শাখায় বসে দলিল দুটি পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হোসেন।পাঠোদ্ধারে নাজমুল হোসেন বলেন, দলিল দুটি তুলট কাগজে বাংলা ভাষায় লেখা। প্রথমটি দলিলটি ১২১৪ বঙ্গাব্দের ৩ শ্রাবণ, অর্থাৎ ১৮০৭ সালের। সময়ের ব্যবধানে প্রথম দলিলের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বিক্রি হওয়া মেয়েটির নাম জানা যায়নি। পরে তার কী হয়েছিল—তা–ও জানা যায়নি।দ্বিতীয় দলিলটি প্রথমটার থেকে কিছুটা স্পষ্ট।এই দুই দলিল ১৯৮০ সালে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের দৌহাখোলা গ্রামের সুরেন্দ্র চন্দ্র লস্করের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এরপর থেকে সেগুলো জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগে সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত হচ্ছে।আরও অনেক দলিল আছেজাতীয় জাদুঘরের এই দুটি দলিল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘২৮ মণ ধানের দামে বিক্রি মা-ছেলে’ প্রতিবেদনে সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মহাফেজখানা থেকে পাওয়া ১৮০৬ ও ১৮০৭ সালের কয়েকটি দলিলের তথ্য প্রকাশিত হয়।সেখানে শেখ বিআনিয়া ১০ রুপিতে নিজেকে বিক্রি করেছিলেন। ১৭ বছরের গনাই ভান্ডারির দাম ছিল ২৫ টাকা। ভূবিদাসী ও তাঁর ছেলে সনাইকে বিক্রি করা হয়েছিল ২৮ টাকায়।কোনো দলিলে ঋণ শোধের কথা ছিল। কোনো দলিলে বলা হয়েছিল, বিক্রি হওয়া ব্যক্তির পরবর্তী প্রজন্মও একই মালিকের অধীনে থাকবে।আরেকটি ১৭৯০ সালের নথিতে দেখা গেছে, অভাবের কারণে চার বছরের শিশু জমিয়তকে ৫ কাহন কড়িতে বিক্রি করা হয়েছিল।সিলেটের ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দিন আহমদ জাদুঘরেও রয়েছে মানুষ বিক্রির আরেকটি দলিল। ১৮৩৬ সালের সেই নথিতে জকিগঞ্জের ১২ বছরের এক কন্যাশিশুকে ১১ টাকায় বিক্রির তথ্য রয়েছে।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাফেজখানায় ১৬৪৯ থেকে ১৭৫৪ সালের মধ্যে বিক্রি হওয়া ১৯ জনের একটি তালিকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের ক্ষেত্রে অনাহারকে বিক্রির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও সংরক্ষিত আছে মানুষ বিক্রির একটি দলিল। গাছের বাকলে লেখা সেই দলিলের বয়স প্রায় ৩৮৮ বছর। এর পাঠোদ্ধার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহজাহান মিয়া।মানুষ বিক্রির দলিল দুটি ছাড়াও জাতীয় জাদুঘরে আছে আরও বেশ কিছু দুর্লভ নিদর্শন। জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কিপার আসমা ফেরদৌসী প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে জাদুঘরে এক লাখের বেশি নিদর্শন সংগৃহীত ও সংরক্ষিত আছে। দর্শকদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে মাত্র পাঁচ হাজার নিদর্শন।২৮ মণ ধানের দামে বিক্রি মা–ছেলে