মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলা পারভিনের ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। মুঠোফোনও মিরপুর-১ এলাকা থেকে এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনায় র্যাবের গ্রেপ্তার করা তিনজনের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম এ কথা বলেন। নতুন করে গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. খোকন ও রাজীব মাতুব্বর।
অন্যদিকে একই ঘটনায় গত ৩০ আগস্ট র্যাব-২ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তখন র্যাব জানিয়েছিল, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে মোটরসাইকেলের রং ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মোটরসাইকেল মালিক রাকিব, পনি ও সেড্রিক এখন কারাগারে রয়েছেন।

তবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, র্যাব যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, তাঁদের একজনের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাঁরা রনজিলা পারভিন হত্যার ঘটনায় জড়িত নন। র্যাব যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছিল, সেটি এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের রং এবং র্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের রং ভিন্ন। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নতুন দুজনকে শনাক্ত করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, এখন যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা দুজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করছেন। আগে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাঁরা স্বীকার করেননি। বিভিন্ন সংস্থা একই ঘটনা তদন্ত করেছে, এটি তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলে প্রথমে তাঁরা চিন্তা করেন, কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে এবং তাদের কাজের ধরন কী। র্যাব যাঁদের ধরেছিল, তাঁদের একজনের নামে মামলা রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দ্বিতীয় স্তরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শুরু হয়। সেই তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই এই দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।

ভুক্তভোগীর স্বামীর বরাত দিয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তিনি এক দৃষ্টিতে ঘটনার সময় ছিনতাইকারীকে দেখেছিলেন। ছিনতাইকারী ব্যাগ টান দেওয়ার সময় একবার তাদের দিকে মাথা ঘুরিয়েছিল। তখন তিনি তাঁকে স্পষ্ট দেখেছেন। পেছনে থাকা খোকনকেও তিনি শনাক্ত করেছেন।

আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় র্যাব যাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল, তাঁদের সঙ্গে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের কোনো যোগাযোগ বা পরিচয় আছে কি না, সেটিও তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। নতুন গ্রেপ্তার হওয়া দুজন ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির বিষয়ে স্বীকার করেছেন। এ মামলায় আগের তিনজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলে তাঁদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে সেসব মামলায় তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবেন।
এ বিষয়ে এসআরবি-২ (বিলুপ্ত র্যাব) অধিনায়ক নয়মুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রথম দিন থেকেই বলেছি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হয়েছে। আমরা এটাও বলেছিলাম তদন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করব, যে তাঁরা জড়িত কি না। এখনো দায়িত্ব নিয়েই বলছি যে, আমরা সন্দেহভাজন হিসেবে ধরেছিলাম। আগে গ্রেপ্তার পনির সঙ্গে নতুন করে গ্রেপ্তার একজনের চেহারায়ও মিল আছে। এটা প্রমাণ করে যে আমরা কাছাকাছি গিয়েছিলাম। সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করায় তো নতুন অপরাধী ধরতেও সহায়ক হয়েছে।’
গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পূর্ব প্রান্তে জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের পর খেজুরবাগানের মুখে রিকশায় ছিনতাইয়ের শিকার হন রনজিলা পারভীন। ছিনতাইকারীরা তাঁর ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইয়ের সময় খোকন মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ছিল। সে ভুক্তভোগীর ব্যাগটি হ্যাঁচকা টান দিয়ে নেয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলা পারভিনের ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের ভেতর ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল। ভুক্তভোগীর কাছে থাকা ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনও পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরে সাভারের বিরুলিয়া এলাকা থেকে রাজীব মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। রাজীবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। রাজীবের হেফাজত থেকে ৬২২টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবির ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। আর খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে। তাঁরা ঢাকা মহানগর এলাকায় অন্য কোনো ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়েও ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেননি রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এই আদেশ দেন। মামলার শুনানির নির্ধারিত দিনে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। দেখা যায়, শাহরিয়ার কবিরের কোমরে বেল্ট, হাতে লাঠি। পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা থেকে এজলাসের কাঠগড়ায় যাওয়া–আসা করেন তিনি। শুনানিতে ট্রাইব্যুনালকে শাহরিয়ার কবিরের আইনজীবী জানান, তার মক্কেলের পা ভাঙা। পায়ে রড লাগানো আছে। তিনি রীতিমতো পঙ্গু টাইপের মানুষ। তার জন্য চলাফেরা করা খুবই অসুবিধার। জেলখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা এবং অন্যান্য সময় চলাফেরার সময় হুইলচেয়ার প্রয়োজন। তারা প্রয়োজনে হুইলচেয়ার কিনে দিতে রাজি আছেন। আরও পড়ুন শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড / শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ অক্টোবর তখন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন থেকে এই আবেদনের বিরোধিতা করা হয়নি। ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘হুইলচেয়ার দিয়ে চলাফেরা করবে। নিজেরা কিনবে। তাতে আপত্তির কিছু নেই।’ শাপলা চত্বরের হেফাজত নেতাকর্মী হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জন আসামি। এর মধ্যে শাহরিয়ার কবিরসহ ১১ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদসহ ৩০ আসামি পলাতক। এফএইচ/এমআইএইচএস
নাম-ঠিকানা, জন্মতারিখ—সবই ভিন্ন, কিন্তু ছবি এক ব্যক্তিরই। এমন অভিনব কৌশলে জাল এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) তৈরির অভিযোগে নেত্রকোনায় এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৭টি জাল এনআইডি, ৬টি এনআইডির পেছনের অংশ এবং মুঠোফোনে থাকা ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালান জেলা ডিবির সদস্যরা। এ সময় ওই তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।গ্রেপ্তার তরুণের নাম রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১)। তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তিনি নেত্রকোনায় স্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন।আজ বুধবার বিকেলে রবিউলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা ডিবির এসআই হায়দার আলী রানাকে।জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রবিউল ইসলাম ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করার জন্য মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের ওই দোকানে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ডিবির সদস্যরা তাঁকে আটক করেন।জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব জানান, রবিউলের কাছ থেকে উদ্ধার করা সাতটি প্রিন্ট করা এনআইডিতে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সব কটি এনআইডিতে একই ব্যক্তির ছবি রয়েছে। ছবিগুলোতে শুধু শার্টের রং ভিন্ন দেখা যায়। এ ছাড়া ছয়টি কাগজে এনআইডির পেছনের অংশ প্রিন্ট করা ছিল। সেগুলোতেও একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পরে রবিউলের মুঠোফোন জব্দ করে পরীক্ষা করে ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি পাওয়া যায়। এসব এনআইডিতেও ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, একের অধিক এনআইডি করার কোনো সুযোগ নেই। ডাবল হলেই নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তা ধরা পড়বে। তখন নির্বাচন কমিশন জালিয়াতির মামলা করে থাকে। প্রথম আলোকে তোফায়েল বলেন, ওই তরুণ যে কাজটি করেছেন এজন্য একাধিক মামলা হতে পারে। অন্যের তথ্য বা ছবি বিকৃতি এটা গুরুতর অপরাধ। কমিশনে চাকরিরত কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে তার শাস্তি এক, আর ব্যক্তি হিসেবে করে থাকলে তার শাস্তি ভিন্নতর। যে ধারায় মামলা হয়েছে তা অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।
জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পরও এমপি পদে বহাল গাজী নজরুল। তিনি নিজেকে জামায়াতের এমপি দাবি করলেও দল বলছে, তিনি আর জামায়াতের কেউ নন। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে—