রেকর্ড ভাঙার খুব কাছাকাছি গিয়েও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কীর্তিটা ছুঁতে পারল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আল-নাসর। সৌদি আরবের ক্লাবটি ঘরোয়া লিগে টানা ৯৪ ম্যাচে অন্তত একটি করে গোল করার কীর্তি গড়ে রিভার প্লেটের ৯৩ ম্যাচের পুরোনো রেকর্ড পেছনে ফেলেছিল; কিন্তু সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিভার প্লেটের আরও একটি রেকর্ডকে পেছনে ফেলতে পারলো না আল নাসর। রিভার প্লেটের দখলে যে ৯৬ ম্যাচের বিশ্বরেকর্ড, সেটি এখনো অক্ষত এবং অক্ষতই থেকে যাবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রেকর্ডটি শুধু অক্ষতই নয়, আল-নাসরের পক্ষে তা ছোঁয়াও আর সম্ভব নয়। কারণ সৌদি ক্লাবটি ঘরোয়া লিগের বাইরে এশিয়ান প্রতিযোগিতায় একটি ম্যাচে গোল করতে পারেনি। পরে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগেও বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা।
লিগে ৯৪, কিন্তু মোট ৯৬-এর কাছে নয়
আল-নাসরের হয়ে টানা ৯৪ ম্যাচের গোল-ধারার শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। এরপর সৌদি প্রো লিগের প্রতিটি ম্যাচেই অন্তত একবার জালের দেখা পেয়েছে তারা।
গত শনিবার আল-খালিজের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার ম্যাচে সেই ধারাটি ৯৪ ম্যাচে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে যে কোনো ঘরোয়া লিগে রিভার প্লেটের টানা ৯৩ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড নিজেদের করে নেয় আল-নাসর।
কিন্তু এখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য। রিভার প্লেটের রেকর্ড শুধু কোনো একটি লিগের নয়। আর্জেন্টাইন ক্লাবটি ১৯৩৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৩৯ সালের জুন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯৬টি অফিসিয়াল ম্যাচে অন্তত একটি গোল করেছিল। এই ৯৬ ম্যাচের মধ্যে ছিল ৯৩টি লিগ ম্যাচ, দুটি আন্তর্জাতিক কাপের ম্যাচ এবং একটি ঘরোয়া কাপের ম্যাচ।
অর্থাৎ লিগের হিসাব ধরলে আল-নাসর রিভারের ৯৩ ম্যাচকে ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু সব প্রতিযোগিতা একসঙ্গে ধরলে রিভার প্লেটের ৯৬ ম্যাচ এখনো সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে।
যে ম্যাচটি আল-নাসরের পথ আটকে দিলো
রিভারের ৯৬ ম্যাচের রেকর্ডে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আল-নাসরের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গত মে মাসের একটি ম্যাচ। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-এর ফাইনালে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আল-নাসর। অর্থাৎ ঘরোয়া লিগে তাদের গোলের ধারাবাহিকতা চললেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করার রেকর্ডে এরই মধ্যে ছেদ পড়ে গেছে।
ফলে পরবর্তী সময়ে লিগে ৯৪ ম্যাচের ধারাকে আরও বাড়ালেও রিভার প্লেটের ৯৬ ম্যাচের সামগ্রিক রেকর্ডে পৌঁছানোর কোনো সুযোগ নেই আল-নাসরের।
এরপর মঙ্গলবার এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে আল-আইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে রোনালদোর দল। ফলে রিভারের রেকর্ড ছোঁয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, সেটিও কার্যত শেষ।
রিভার প্লেটের সেই অবিশ্বাস্য সময়
১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯- রিভার প্লেটের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল সময় ছিল এটি। তখনো তাদের বিখ্যাত ‘লা মাকিনা’ আক্রমণভাগের যুগ পুরোপুরি শুরু হয়নি। কিন্তু দলটি ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনার পেশাদার ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেছিল।
এই সময়ের মধ্যে রিভার প্লেট জিতেছিল ছয়টি শিরোপা- ১৯৩৬ ও ১৯৩৭ সালের চ্যাম্পিয়নশিপ কাপ, ১৯৩৬ গোল্ড কাপ, ১৯৩৭ ইবারগুরেন কাপ এবং ১৯৩৭ ও ১৯৩৮ সালের আলদাও কাপ।
গোল করার সেই অবিশ্বাস্য ধারাটি শুরু হয়েছিল ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৬। আগের সপ্তাহে হুরাকানের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ঘরের মাঠে ফেরোর বিপক্ষে ৩-২ জয়ে নতুন ধারার সূচনা করে রিভার।
এরপর একে একে পেরিয়ে যায় ১৯৩৭, ১৯৩৮ এবং ১৯৩৯ সালের প্রথমার্ধ। প্রতিটি অফিসিয়াল ম্যাচেই অন্তত একবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠায় তারা।
শেষ পর্যন্ত ৪ জুন ১৯৩৯, সাভেদ্রায় প্লাতেন্সের বিপক্ষে ৪-১ জয়ের পর থামে সেই ধারাবাহিকতা। পরের সপ্তাহে, ১১ জুন মনুমেন্টালে বোকা জুনিয়র্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায় রিভার। ওই ম্যাচেই অ্যাডলফো পেদেরনেরার একটি পেনাল্টি বাঁচিয়ে দেন বোকা গোলরক্ষক হুয়ান এসত্রাদা।
পেদেরনেরা সেই পেনাল্টি গোল করতে পারলে রিভারের ধারাবাহিকতা আরও দীর্ঘ হতে পারত। পরবর্তী সময়ে তারা আবারও টানা গোল করেছিল, যা চলেছিল ১৯৪০ সালের জুন পর্যন্ত।
রিভার প্লেটের এই রেকর্ডের আরেকটি বিশেষত্ব হলো- এটি তৈরি হয়েছিল ক্লাবটির স্টেডিয়াম বদলের সময়। রেকর্ডের শুরুতে রিভার খেলত টাগলে ও লিবার্তাদোরের পুরোনো কাঠের স্টেডিয়ামে। ১৯৩৭ সালের ৫ নভেম্বর সেখানে শেষবারের মতো ম্যাচ খেলে তারা।
এরপর নতুন মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম নির্মাণের সময় নিজেদের মাঠ না থাকায় প্লাতেন্স, সান লরেঞ্জো ও হুরাকানের মাঠ ভাড়া করে খেলতে হয়েছিল রিভারকে। ১৯৩৮ সালের ২৯ মে নতুন মনুমেন্টালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক হয় তাদের। অর্থাৎ পুরোনো মাঠ থেকে নতুন মাঠে যাওয়ার সেই পরিবর্তনের মধ্যেও গোল করার ধারায় কোনো ছেদ পড়েনি।
৯৬ ম্যাচে ৩১৬ গোল!
রিভার প্লেটের সেই ৯৬ ম্যাচে শুধু গোল করাই নয়, প্রতিপক্ষের ওপর রীতিমতো গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল তারা। ৯৬ ম্যাচে তাদের মোট গোল ছিল ৩১৬টি। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ৩.২৯ গোল। এই সময়ে রিভার জিতেছিল ৭২টি ম্যাচ, ড্র করেছিল ১৩টি এবং হেরেছিল মাত্র ১১টি। অর্থাৎ জয়ের হার ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ।
এই ধারার মধ্যে দুটি বড় জয় ছিল ফেরোর বিপক্ষে ৮-০ এবং এস্তুদিয়ান্তেসের বিপক্ষে ৮-১। এস্তুদিয়ান্তেসের বিপক্ষে সেই ম্যাচে রিভারের খেলোয়াড়রা ইচ্ছাকৃতভাবেই একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি ভুলভাবে দেওয়া হয়েছিল।
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন পেউসেলে
রিভার প্লেটের ৯৬ ম্যাচের এই দীর্ঘ যাত্রায় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন কার্লোস পেউসেলে। তিনি খেলেছিলেন ৯৩টি ম্যাচ। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন হোসে ম্যানুয়েল মোরেনো, তার গোল ৭৯টি। এরপর ছিলেন বার্নাবে ফেরেইরা ৬০, লুইস রোঙ্গো ৪৯, কার্লোস পেউসেলে ৪২ এবং অ্যাডলফো পেদেরনেরা ৩৭ গোল নিয়ে। এই সময় রিভারের কোচ ছিলেন হেমেরিকো হির্শল ও রেনাতো চেজারিনি। হির্শল দায়িত্বে ছিলেন ৮৩ ম্যাচে, চেজারিনি ১৩ ম্যাচে।
শুধু রিভারই নয়, আরও যারা কাছাকাছি গিয়েছিল
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা গোল করার ক্ষেত্রে রিভার প্লেটের ৯৬ ম্যাচের রেকর্ডের কাছাকাছি আরো কয়েকটি দল গিয়েছিল। কিন্তু কেউই সেই সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখ টানা ৮৫ ম্যাচে গোল করেছিল। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সালের মধ্যে সাও পাওলো করেছিল ৮২ ম্যাচে গোল। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৩ সালের মধ্যে পেলের সান্তোস এবং ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ- দুই দলই টানা ৭৩ ম্যাচে গোল করেছিল।
পর্তুগালের লিগে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বেনফিকা টানা ৯৩ ম্যাচে গোল করেছিল। তবে সেটিও ছিল কেবল ঘরোয়া লিগের হিসাব।
সেই জায়গায় রিভার প্লেটের ৯৬ ম্যাচের কীর্তি আরও আলাদা। এটি কোনো নির্দিষ্ট লিগের রেকর্ড নয়; ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক- সব অফিসিয়াল প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯৬ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড।
আল-নাসর তাই লিগে রিভারের ৯৩ ম্যাচের রেকর্ড পেরিয়ে গেলেও ইতিহাসের সামগ্রিক রেকর্ডে পৌঁছাতে পারেনি। রোনালদো, সাদিও মানে, হোয়াও ফেলিক্স, কিংসলে কোমানের মতো তারকায় সমৃদ্ধ দলটির সামনে এখন ঘরোয়া লিগের ধারাবাহিকতাকে আরও দীর্ঘ করার সুযোগ আছে। কিন্তু রিভার প্লেটের ৯৬ ম্যাচের অমর রেকর্ডটি আপাতত নিরাপদেই থাকছে।
আইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চামড়া শিল্পের প্রসারে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, চামড়াজাত শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী রাষ্ট্র। তাই এ শিল্পের প্রসারে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশকে স্বনির্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কুটির শিল্প বিকাশের বিকল্প নেই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের পাঁচদিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতেই সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে জুতার কারখানা তৈরি করতে পারলে শতভাগ জুতা রপ্তানি করা সম্ভব। সরকারের পলিসি এমন হওয়া উচিত যেখানে ট্যানারির আশেপাশে বসতি করা হবে না। খাল-বিল নদীতে চামড়ার বর্জ্য গেলে এটি ভয়ঙ্কর বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। সে বিষয়টিও লক্ষ্য রাখতে হবে। আরও পড়ুন বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলার উদ্বোধন বেকার সমস্যা দূরীকরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিসিকের জায়গায় চকলেটসহ নানান কারখানা গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। পরে মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। মেলায় মোট ৪৯ স্টলের মধ্য ৪৩টি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উদ্যেক্তা অংশ নিয়েছেন বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুজ্জামান এনডিসি ও বিসিক চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিল্প উদ্যোক্তারা বক্তব্য রাখেন। এনএইচ/এমকেআর
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনজীবী এদিন শুনানিতে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন বলেন, মামলার ৪১ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ১১ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বাকি ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন। আরও পড়ুন শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের জন্য দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপরও তারা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি। পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। পরে মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেনারেল আজিজ আহমেদ ছাড়াও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস ও এস এম জাহিদ। এ ছাড়া পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং র্যাবের সাবেক প্রধান মো. মোখলেছুর রহমান। আরও পড়ুন শাপলা চত্বরে গণহত্যায় হাসিনাসহ ২১ জনের নামে প্রতিবেদনের নির্দেশ শাপলা চত্বরে ৬১ জনকে হত্যার তথ্য মিলেছে, শনাক্ত ৫৮: চিফ প্রসিকিউটর আরও রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন, ডিআইজি মহা. আশরাফুজ্জামান, ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, রমনা অঞ্চলের এসি এস এম শিবলী নোমান ও মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী। গ্রেফতার ১১ আসামি এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ১১ আসামি হলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মন্ডল এবং গ্রেফতার দুই সাংবাদিক—একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। আগামী ৭ অক্টোবর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হবে। এফএইচ/এমএমকে
কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলেন রিয়াল মাদ্রিদে, লামিনে ইয়ামাল বার্সেলোনায়। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের দুই তারকা এখন সম্ভাব্য ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবে আলোচনায়। তাঁদের পক্ষে কথা বলছেন ক্লাব কোচেরাও। হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলে আর রদ্রির নামও আছে আলোচনায়।সেই ভিড়ে একটু ব্যতিক্রমী পছন্দ আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচ দিয়েগো সিমিওনের। ইউরোপে খেলা তারকাদের এক পাশে রেখে তাঁর চোখে ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের যোগ্য লিওনেল মেসি। লা লিগায় আতলেতিকো-ওসাসুনা ম্যাচ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ডকেই এগিয়ে রেখেছেন। ইয়ামাল, এমবাপ্পেদের আলোচনায় থাকার পেছনে আছে তাঁদের দলগত ও ব্যক্তিগত সাফল্য। ইয়ামাল সর্বশেষ ক্লাব মৌসুমে ১৬ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করেছেন।বার্সেলোনার হয়ে জিতেছে লা লিগা, ব্যক্তিগতভাবে লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। তবে সবচেয়ে বড় অর্জন স্পেনের হয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়।এমবাপ্পের ক্ষেত্রে দলীয় অর্জন নেই। তাঁর দল রিয়াল মাদ্রিদ কোনো ট্রফি জেতেনি, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পথচলা থেমে গেছে সেমিফাইনালে। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এমবাপ্পে ছিলেন দুর্দান্ত। সর্বশেষ মৌসুমে লা লিগায় সর্বোচ্চ ২৫ গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ ১৫ গোল এবং বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছেন। এরই মধ্যে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন।২০২৬ ব্যালন ডি’অর: ফেবারিটদের পারফরম্যান্স কেমন ছিল আতলেতিকো কোচের মেসিকে এগিয়ে রাখার পেছনেও আছে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স। কে ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন প্রসঙ্গে তিনি সোজাসাপ্টাই বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে মেসি। বিশ্বকাপে সে যে পারফরম্যান্স করেছে, তাঁর বয়স বিবেচনায় নিলে কোনো সন্দেহই নেই। মেসি।’আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনে৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন মেসি। আট ম্যাচ খেলে করেন ৮ গোল, সঙ্গে ৪ অ্যাসিস্টও। এ ছাড়া মৌসুমে ৪৪ গোল ও ৩০ অ্যাসিস্টের পথে ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস কাপও জিতেছেন মেসি।স্বদেশি মেসিকে এগিয়ে রাখলেও সিমিওনের অবশ্য ব্যালন ডি’অরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটি নির্ধারণ হয় সাংবাদিকদের ভোটে।যেসব রেকর্ড ডাকছে মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে, ইয়ামালদের