জাতীয়

ইরানের হাতে আরও এক ‘ট্রাম্প কার্ড’, দিশেহারা সৌদি আরব

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ইরানের হাতে আরও এক ‘ট্রাম্প কার্ড’, দিশেহারা সৌদি আরব
ইরানের হাতে আরও এক ‘ট্রাম্প কার্ড’, দিশেহারা সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবার নতুন করে ইয়েমেনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুথিদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় সৌদি আরবের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বেশ কিছু এলাকা দখলের দাবি করেছে হুথিরা। গত সপ্তাহে কৌশলগত বন্দরনগরী মোচা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে তারা। এ প্রণালি লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।

হুথিদের এই অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে সৌদি আরব। কারণ, হুথিরা আগেই সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির মতো বাব-আল মান্দেব হয়ে উঠছে ইরানের আরেক ‘ট্রাম্প কার্ড’।

মক্কা-জেদ্দায় সতর্কতা

সৌদি আরবের অভিযোগ, পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুথিদের একটি ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মক্কার নির্ধারিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে?

সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র নগরীর দিকে কোনো ধরনের হামলা মেনে নেওয়া হবে না। তবে হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সৌদি আরব প্রচারের উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ তুলছে।

মঙ্গলবার সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতাও জারি করা হয়। এর মধ্যে মক্কা ও দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাও ছিল।

সৌদি আরবে থাকা মার্কিন দূতাবাসও নাগরিকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। দূতাবাসের সতর্কতায় বলা হয়েছে, হুথিদের হামলায় শহর, অবকাঠামো, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

সৌদির তেল সরবরাহে নতুন চাপ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব উপসাগরীয় এলাকা থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠাতে তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক হামলায় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি বন্ধ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব।

এই হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে রিয়াদ। কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, পাইপলাইনটি পুরোপুরি মেরামত করতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই পাইপলাইন দিয়ে আবার তেল সরবরাহ শুরু হতে পারে।

পাইপলাইনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ইয়েমেনে সংঘাতের বিস্তার শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইছে রিয়াদ

হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি যুবরাজ ও দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

তবে এখন পর্যন্ত সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এই সংঘাতে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সম্মতি দেয়নি। বরং গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য শনাক্তকরণে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

হুথিদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব, এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সৌদি আরব বা ইসরায়েল সরকারিভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি

এর মধ্যেই ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটের আকাশসীমায় সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুথিরা।

আরও পড়ুন

সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য

বুধবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় সৌদি যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়। স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

এর আগে হুথিরা দাবি করেছিল, তারা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর কাছ থেকে বেশ কিছু সাঁজোয়া যান দখল করেছে। প্রকাশিত ভিডিওতে যুদ্ধবিমান ও বিস্ফোরণের দৃশ্যও দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের জন্য নতুন কৌশলগত সুবিধা?

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব এরই মধ্যে স্পষ্ট। ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি করছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে।

এখন ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রযাত্রার কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একই সময়ে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ইয়েমেনে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথের ওপর চাপ বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

একদিকে হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহযোগিতা চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন শুধু সৌদি-হুথি সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে হরমুজ, বাব আল-মান্দেব, তেল সরবরাহ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের হিসাব।

সব মিলিয়ে ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রগতি সৌদি আরবের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ ঘিরে অস্থিরতা বাড়তে থাকলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি

এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
চামড়া শিল্পের প্রসারে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে: রিজভী
চামড়া শিল্পের প্রসারে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে: রিজভী

চামড়া শিল্পের প্রসারে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, চামড়াজাত শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী রাষ্ট্র। তাই এ শিল্পের প্রসারে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশকে স্বনির্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কুটির শিল্প বিকাশের বিকল্প নেই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের পাঁচদিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতেই সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে জুতার কারখানা তৈরি করতে পারলে শতভাগ জুতা রপ্তানি করা সম্ভব। সরকারের পলিসি এমন হওয়া উচিত যেখানে ট্যানারির আশেপাশে বসতি করা হবে না। খাল-বিল নদীতে চামড়ার বর্জ্য গেলে এটি ভয়ঙ্কর বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। সে বিষয়টিও লক্ষ্য রাখতে হবে। আরও পড়ুন বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলার উদ্বোধন বেকার সমস্যা দূরীকরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিসিকের জায়গায় চকলেটসহ নানান কারখানা গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। পরে মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। মেলায় মোট ৪৯ স্টলের মধ্য ৪৩টি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উদ্যেক্তা অংশ নিয়েছেন বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুজ্জামান এনডিসি ও বিসিক চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিল্প উদ্যোক্তারা বক্তব্য রাখেন। এনএইচ/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
চোখে আলো নেই, প্রযুক্তির হাত ধরে পথ খুঁজে নিয়েছেন নাজমা

চোখে আলো নেই, প্রযুক্তির হাত ধরে পথ খুঁজে নিয়েছেন নাজমা

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’

অধ্যাপক আবুল বারকাতের দুই ফ্ল্যাট জব্দ, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

অধ্যাপক আবুল বারকাতের দুই ফ্ল্যাট জব্দ, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ
হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনজীবী এদিন শুনানিতে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন বলেন, মামলার ৪১ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ১১ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বাকি ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন। আরও পড়ুন শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের জন্য দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপরও তারা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি। পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। পরে মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেনারেল আজিজ আহমেদ ছাড়াও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস ও এস এম জাহিদ। এ ছাড়া পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাবের সাবেক প্রধান মো. মোখলেছুর রহমান। আরও পড়ুন শাপলা চত্বরে গণহত্যায় হাসিনাসহ ২১ জনের নামে প্রতিবেদনের নির্দেশ শাপলা চত্বরে ৬১ জনকে হত্যার তথ্য মিলেছে, শনাক্ত ৫৮: চিফ প্রসিকিউটর আরও রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন, ডিআইজি মহা. আশরাফুজ্জামান, ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, রমনা অঞ্চলের এসি এস এম শিবলী নোমান ও মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী। গ্রেফতার ১১ আসামি এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ১১ আসামি হলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মন্ডল এবং গ্রেফতার দুই সাংবাদিক—একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। আগামী ৭ অক্টোবর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হবে।  এফএইচ/এমএমকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলার উদ্বোধন

বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলার উদ্বোধন

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ, পদ কত

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ, পদ কত

এমবাপ্পে, ইয়ামাল বা কেইন নন, সিমিওনের চোখে ব্যালন ডি’অর প্রাপ্য মেসির
এমবাপ্পে, ইয়ামাল বা কেইন নন, সিমিওনের চোখে ব্যালন ডি’অর প্রাপ্য মেসির

কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলেন রিয়াল মাদ্রিদে, লামিনে ইয়ামাল বার্সেলোনায়। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের দুই তারকা এখন সম্ভাব্য ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবে আলোচনায়। তাঁদের পক্ষে কথা বলছেন ক্লাব কোচেরাও। হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলে আর রদ্রির নামও আছে আলোচনায়।সেই ভিড়ে একটু ব্যতিক্রমী পছন্দ আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচ দিয়েগো সিমিওনের। ইউরোপে খেলা তারকাদের এক পাশে রেখে তাঁর চোখে ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের যোগ্য লিওনেল মেসি। লা লিগায় আতলেতিকো-ওসাসুনা ম্যাচ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ডকেই এগিয়ে রেখেছেন। ইয়ামাল, এমবাপ্পেদের আলোচনায় থাকার পেছনে আছে তাঁদের দলগত ও ব্যক্তিগত সাফল্য। ইয়ামাল সর্বশেষ ক্লাব মৌসুমে ১৬ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করেছেন।বার্সেলোনার হয়ে জিতেছে লা লিগা, ব্যক্তিগতভাবে লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। তবে সবচেয়ে বড় অর্জন স্পেনের হয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়।এমবাপ্পের ক্ষেত্রে দলীয় অর্জন নেই। তাঁর দল রিয়াল মাদ্রিদ কোনো ট্রফি জেতেনি, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পথচলা থেমে গেছে সেমিফাইনালে। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এমবাপ্পে ছিলেন দুর্দান্ত। সর্বশেষ মৌসুমে লা লিগায় সর্বোচ্চ ২৫ গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ ১৫ গোল এবং বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছেন। এরই মধ্যে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন।২০২৬ ব্যালন ডি’অর: ফেবারিটদের পারফরম্যান্স কেমন ছিল আতলেতিকো কোচের মেসিকে এগিয়ে রাখার পেছনেও আছে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স। কে ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন প্রসঙ্গে তিনি সোজাসাপ্টাই বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে মেসি। বিশ্বকাপে সে যে পারফরম্যান্স করেছে, তাঁর বয়স বিবেচনায় নিলে কোনো সন্দেহই নেই। মেসি।’আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনে৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন মেসি। আট ম্যাচ খেলে করেন ৮ গোল, সঙ্গে ৪ অ্যাসিস্টও। এ ছাড়া মৌসুমে ৪৪ গোল ও ৩০ অ্যাসিস্টের পথে ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস কাপও জিতেছেন মেসি।স্বদেশি মেসিকে এগিয়ে রাখলেও সিমিওনের অবশ্য ব্যালন ডি’অরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটি নির্ধারণ হয় সাংবাদিকদের ভোটে।যেসব রেকর্ড ডাকছে মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে, ইয়ামালদের

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান, তারপর এড শিরানের সফরে যা ঘটল

‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান, তারপর এড শিরানের সফরে যা ঘটল

বিএনপি নেতার সার বিক্রয়কেন্দ্রের তালা ভাঙার চেষ্টা ক্ষুব্ধ কৃষকদের

বিএনপি নেতার সার বিক্রয়কেন্দ্রের তালা ভাঙার চেষ্টা ক্ষুব্ধ কৃষকদের

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, যেভাবে পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, যেভাবে পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

0 Comments