জাতীয়

চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে যেসব দক্ষতা প্রয়োজন

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে যেসব দক্ষতা প্রয়োজন
চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে যেসব দক্ষতা প্রয়োজন

বর্তমানে সারাবিশ্বেই চাকরির বাজার বদলে যাচ্ছে। যেসব দক্ষতা এখন আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, তার প্রায় ৩৯ শতাংশ চাকরিই একসময় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে অথবা সম্পূর্ণ পরিবর্তন হবে। তাই চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য মনে করতে বা টিকিয়ে রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই কিছু কাজের উপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

বর্তমানে নিয়োগকর্তারা এমন চাকরি প্রার্থীদের খুঁজছেন, যারা বাস্তব কাজে দক্ষতা দেখাতে পারেন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রি এখন আর চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা। তাই বলা যায়, শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই চাকরির মূল। আজ এমন ১০টি চাকরির বিষয়ে আলোচনা করবো; যে বিষয়গুলো ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে আপনাদের কাজে আসবে।

এআই বিষয়ে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন

সফল ক্যারিয়ারের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো এআই বিষয়ে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করা। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই যুগে এআই জানা ব্যক্তিরা চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের বাজারে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকছেন। এআই বিষয়ে শিক্ষা অর্জন এখন আর অতিরিক্ত দক্ষতা নয়, বরং মৌলিক চাহিদা।

বাংলাদেশ সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বর্তমানে বিনামূল্যে এআই ও সাইবার সিকিউরিটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এই কোর্সে এইচএসসি পাস করা প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও প্রতিদিন ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতাসহ সরকারি সনদপত্র পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায়

বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তির ক্ষমতা

বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি হলো কোনো জটিল তথ্য, সমস্যা বা পরিস্থিতিকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে বোঝার এবং একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষমতা। মানুষের এই বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তিই তাকে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি থেকে আলাদা এবং কর্মক্ষেত্রে অপরিহার্য করে তোলে। বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি একজন মানুষকে সাধারণ কর্মী থেকে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীতে রূপান্তরিত করতে পারে। 

ডেটা ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন

ডেটা ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন বর্তমান ডিজিটাল যুগে ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম সেরা হাতিয়ার। বর্তমানে প্রতিটি ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াই ডেটা চালিত। আপনি যদি ডেটা সংগ্রহ করা, তা বিশ্লেষণ করা এবং তা থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে পারেন; তবে কর্মক্ষেত্রে আপনার চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাবে। ডেটা ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করতে হলে আপনাকে মূলত চারটি ধাপ বা স্তরে পারদর্শী হতে হবে। ডেটা পড়া/বোঝা ➔ ডেটা নিয়ে কাজ করা ➔ ডেটা বিশ্লেষণ ➔ ডেটা দিয়ে গল্প বলা। 

বৈশ্বিক যোগাযোগদক্ষতা অর্জন

বৈশ্বিক যোগাযোগদক্ষতা হলো বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি, ভাষা এবং পটভূমির মানুষের সাথে কার্যকর ও সফলভাবে তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষমতা। বর্তমান এআই এবং রিমোট ওয়ার্কের যুগে, আপনি ঘরে বসেই বিশ্বের যে কোনো দেশের কোম্পানির সাথে কাজ করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনার প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি গ্লোবাল কমিউনিকেশন স্কিল থাকা আবশ্যক।

আরও পড়ুন

সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

অভিযোজন ক্ষমতা ও শেখার মানসিকতা থাকা

অভিযোজন ক্ষমতা এবং ক্রমাগত শেখার মানসিকতা হলো বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান দুটি জীবন দক্ষতা। প্রযুক্তি যেভাবে প্রতিনিয়ত কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে—সেখানে টিকে থাকতে হলে নিজেকে নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং আজীবন নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ধরে রাখা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাই দ্রুত নতুন কিছু শেখা ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

সৃজনশীল চিন্তাশক্তি থাকা

সৃজনশীল চিন্তাশক্তি হলো কোনো সমস্যাকে ভিন্ন ও প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে দেখা। এবং সম্পূর্ণ নতুন, অভিনব ও কার্যকর কোনো আইডিয়া বা সমাধান তৈরি করার ক্ষমতা থাকা। বর্তমানে সৃজনশীল চিন্তাশক্তি মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কারণ এআই অতীত ডেটা বিশ্লেষণ করে উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন এবং মানুষের আবেগকে স্পর্শ করতে পারে এমন কিছু উদ্ভাবন করার ক্ষমতা কেবল মানুষেরই রয়েছে। 

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা হলো নিজের আবেগকে চেনা, বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করা। একই সাথে অপরের আবেগ, অনুভূতি ও আচরণ অনুধাবন করে যে কোনো পরিস্থিতিতে সঠিক ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গোলম্যানের মতে, কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে সফলতার জন্য সাধারণ বুদ্ধিমত্তার চেয়ে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান যুগে যেখানে রোবট বা কোডিং আবেগহীনভাবে কাজ করে, সেখানে একজন মানুষের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাই তাকে অনন্য এবং অপরিহার্য করে তোলে।

আরও পড়ুন

নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

উদ্যোক্তা মনোভাব

উদ্যোক্তা মনোভাব হলো কোনো সুযোগ বা সমস্যাকে চিহ্নিত কর। এবং ঝুঁকি নিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করার এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে ইতিবাচক ও সমাধানমুখী থাকার মানসিকতা। এটি কেবল একটি ব্যবসা শুরু করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং একজন চাকরিজীবী বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও যে কোনো সংস্থায় নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসার ক্ষমতাকে উদ্যোক্তা মনোভাব বলা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে চেনা চাকরিগুলো প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। নিজের ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে এই মনোভাবটি সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। শুধু নির্দেশনা মেনে কাজ নয়, বরং নিজে থেকে সমস্যা চিহ্নিত করা ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াও এখন প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। 

আন্তসাংস্কৃতিক দক্ষতা অর্জন

আন্তসাংস্কৃতিক দক্ষতা হলো বিভিন্ন সংস্কৃতি, বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং পটভূমির মানুষের সাথে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার, একসাথে কাজ করার এবং ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা। গ্লোবালাইজড ওয়ার্ল্ড এবং রিমোট ওয়ার্কের যুগে আপনি ঘরে বসেই আমেরিকা, ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো টিমের সাথে কাজ করতে পারেন। তবে প্রযুক্তিগতভাবে আপনি যতই দক্ষ হন না কেন, আন্তর্জাতিক সহকর্মী বা ক্লায়েন্টদের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া না থাকলে পেশাগত স্তরে সফল হওয়া অসম্ভব। 

দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ

দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে নৈতিক মানদণ্ড, নিরাপত্তা, সামাজিক নিয়ম এবং বিভিন্ন ফলাফলের যৌক্তিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে যে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি কেবল নিজের তাৎক্ষণিক সুবিধার কথা ভাবেনা। বরং সেই সিদ্ধান্তের ফলে নিজের এবং চারপাশের মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদী কী প্রভাব পড়বে, তাও বিবেচনা করে। বর্তমান পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে, যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বিশাল ডেটা লঙ্ঘন, আর্থিক ক্ষতি বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে, সেখানে এই দক্ষতাটির গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও পড়ুন

আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে নেওয়া।

এমআইএইচ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হুইলচেয়ার ব্যবহারের অনুমতি পেলেন শাহরিয়ার কবির
হুইলচেয়ার ব্যবহারের অনুমতি পেলেন শাহরিয়ার কবির

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেননি রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এই আদেশ দেন। মামলার শুনানির নির্ধারিত দিনে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। দেখা যায়, শাহরিয়ার কবিরের কোমরে বেল্ট, হাতে লাঠি। পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা থেকে এজলাসের কাঠগড়ায় যাওয়া–আসা করেন তিনি। শুনানিতে ট্রাইব্যুনালকে শাহরিয়ার কবিরের আইনজীবী জানান, তার মক্কেলের পা ভাঙা। পায়ে রড লাগানো আছে। তিনি রীতিমতো পঙ্গু টাইপের মানুষ। তার জন্য চলাফেরা করা খুবই অসুবিধার। জেলখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা এবং অন্যান্য সময় চলাফেরার সময় হুইলচেয়ার প্রয়োজন। তারা প্রয়োজনে হুইলচেয়ার কিনে দিতে রাজি আছেন। আরও পড়ুন শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড / শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ অক্টোবর তখন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন থেকে এই আবেদনের বিরোধিতা করা হয়নি। ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘হুইলচেয়ার দিয়ে চলাফেরা করবে। নিজেরা কিনবে। তাতে আপত্তির কিছু নেই।’ শাপলা চত্বরের হেফাজত নেতাকর্মী হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জন আসামি। এর মধ্যে শাহরিয়ার কবিরসহ ১১ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদসহ ৩০ আসামি পলাতক। এফএইচ/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
৯৮০০ কোটি টাকার সার কেনার অনুমোদন দিলো সরকার

৯৮০০ কোটি টাকার সার কেনার অনুমোদন দিলো সরকার

রোনালদোর আল-নাসরও আর ভাঙতে পারবে না রিভার প্লেটের অমর রেকর্ড

রোনালদোর আল-নাসরও আর ভাঙতে পারবে না রিভার প্লেটের অমর রেকর্ড

দেশের বাজারে আসুসের নতুন দুটি মডেলের ল্যাপটপ

দেশের বাজারে আসুসের নতুন দুটি মডেলের ল্যাপটপ

একই ব্যক্তির ছবিতে ৯৩ জাল এনআইডি, প্রিন্ট করার সময় তরুণ আটক
একই ব্যক্তির ছবিতে ৯৩ জাল এনআইডি, প্রিন্ট করার সময় তরুণ আটক

নাম-ঠিকানা, জন্মতারিখ—সবই ভিন্ন, কিন্তু ছবি এক ব্যক্তিরই। এমন অভিনব কৌশলে জাল এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) তৈরির অভিযোগে নেত্রকোনায় এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৭টি জাল এনআইডি, ৬টি এনআইডির পেছনের অংশ এবং মুঠোফোনে থাকা ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালান জেলা ডিবির সদস্যরা। এ সময় ওই তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।গ্রেপ্তার তরুণের নাম রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১)। তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তিনি নেত্রকোনায় স্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন।আজ বুধবার বিকেলে রবিউলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা ডিবির এসআই হায়দার আলী রানাকে।জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রবিউল ইসলাম ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করার জন্য মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের ওই দোকানে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ডিবির সদস্যরা তাঁকে আটক করেন।জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব জানান, রবিউলের কাছ থেকে উদ্ধার করা সাতটি প্রিন্ট করা এনআইডিতে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সব কটি এনআইডিতে একই ব্যক্তির ছবি রয়েছে। ছবিগুলোতে শুধু শার্টের রং ভিন্ন দেখা যায়। এ ছাড়া ছয়টি কাগজে এনআইডির পেছনের অংশ প্রিন্ট করা ছিল। সেগুলোতেও একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পরে রবিউলের মুঠোফোন জব্দ করে পরীক্ষা করে ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি পাওয়া যায়। এসব এনআইডিতেও ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, একের অধিক এনআইডি করার কোনো সুযোগ নেই। ডাবল হলেই নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তা ধরা পড়বে। তখন নির্বাচন কমিশন জালিয়াতির মামলা করে থাকে। প্রথম আলোকে তোফায়েল বলেন, ওই তরুণ যে কাজটি করেছেন এজন্য একাধিক মামলা হতে পারে। অন্যের তথ্য বা ছবি বিকৃতি এটা গুরুতর অপরাধ। কমিশনে চাকরিরত কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে তার শাস্তি এক, আর ব্যক্তি হিসেবে করে থাকলে তার শাস্তি ভিন্নতর। যে ধারায় মামলা হয়েছে তা অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
আইএমএফের কর্মসূচিতে যে সংস্কার জরুরি

আইএমএফের কর্মসূচিতে যে সংস্কার জরুরি

আগের চেয়ে বেশি সার সরবরাহের দাবি, তবু সংকটের অভিযোগ সংসদীয় কমিটিতে

আগের চেয়ে বেশি সার সরবরাহের দাবি, তবু সংকটের অভিযোগ সংসদীয় কমিটিতে

ফোর্বস ৪০০-এর তালিকায় ১০ তরুণ ধনকুবের, কার কত সম্পদ

ফোর্বস ৪০০-এর তালিকায় ১০ তরুণ ধনকুবের, কার কত সম্পদ

জামায়াত বলছে বহিষ্কার, গাজী নজরুলের দাবি ‘আমি এখনো জামায়াতের’
জামায়াত বলছে বহিষ্কার, গাজী নজরুলের দাবি ‘আমি এখনো জামায়াতের’

জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পরও এমপি পদে বহাল গাজী নজরুল। তিনি নিজেকে জামায়াতের এমপি দাবি করলেও দল বলছে, তিনি আর জামায়াতের কেউ নন। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে—

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সমাজ পরিবর্তন করবে এমন সিনেমা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

সমাজ পরিবর্তন করবে এমন সিনেমা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৩৭ জনের চাকরির সুযোগ

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৩৭ জনের চাকরির সুযোগ

একাদশে ভর্তির ফল রাত ৮টায়, দেখা যাবে যেভাবে

একাদশে ভর্তির ফল রাত ৮টায়, দেখা যাবে যেভাবে

0 Comments