
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অতিথি:শিবলী মহম্মদনৃত্যশিল্পীসঞ্চালক: নীল হুরেজাহান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়ায় আশির দশকের সাজে নিজেদের ছবি তৈরি করছেন তারকা থেকে সাধারণ মানুষ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এ প্রবণতাই আলোচনায়। তবে ভারতীয় সংগীতশিল্পী শানকে সে জন্য এআইয়ের সাহায্য নিতে হয়নি। পুরোনো অ্যালবাম থেকে তুলে আনা ছবিগুলোয় দেখা মিলেছে শানের শৈশব ও কৈশোরের—যে সময়ের সাজপোশাক এখন নতুন করে ফিরেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রইল এই সময়েরও কিছু ছবি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকের সাজে ছবি তৈরির প্রবণতার মধ্যে নিজের সেই সময়ের আসল ছবি প্রকাশ করেছেন শান। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকেআশির দশকে ক্যামেরাবন্দী কিশোর শান। পুরোনো ছবিই এখন তাঁকে যুক্ত করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন ট্রেন্ডে। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকেএআইয়ের তৈরি নয়—শানের অ্যালবাম থেকে উঠে এসেছে আশির দশকের এই স্মৃতি। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকেপুরোনো দিনের ছবি প্রকাশ করে শান লিখেছেন, আশির দশকের ট্রেন্ডে যোগ দিতে তাঁর এআইয়ের প্রয়োজন হয়নি। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ থেকে শানের গানে মেতেছেন শ্রোতারা। এত বছর পরও তাঁর অনেক গান রয়েছে সেই প্রজন্মের পছন্দের তালিকায়। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকেসময়ের সঙ্গে বদলেছে শানের সাজ ও উপস্থিতি; পুরোনো ছবিতে ধরা রয়েছে তাঁর বেড়ে ওঠার নানা মুহূর্ত। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকে শাহরুখ খান, আমির খান, সাইফ আলী খানসহ বলিউডের বহু তারকার ঠোঁটে পর্দায় শোনা গেছে শানের কণ্ঠ। তাঁর গাওয়া অনেক গান পেয়েছে কালজয়ী জনপ্রিয়তা। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকে চলচ্চিত্রের নেপথ্য সংগীত থেকে একক গান—সবখানেই শানের স্বচ্ছন্দ বিচরণ। বাংলা সিনেমার জন্যও গেয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় গান। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকে আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীতেও কণ্ঠ দিয়েছেন শান। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সংগীতের ধরন, তবে গান নিয়ে তাঁর পথচলা থামেনি। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকেবলিউডের রোমান্টিক গানের পরিচিত কণ্ঠ শান। তাঁর গান পর্দায় প্রাণ পেয়েছে বিভিন্ন প্রজন্মের জনপ্রিয় তারকাদের অভিনয়ে। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক থেকে
কিছু বই পড়া শেষ হয় শেষ পৃষ্ঠায়, কিছু বইয়ের শেষ পৃষ্ঠা পেরিয়েও পাঠকের ভেতরে সেগুলোর যাত্রা চলতে থাকে। কাজী লাবণ্যের ‘আরুশি ও একটি মিছরিদানা আংটি’ তেমনই একটি গল্প সংকলন। ১৬টি গল্পের এই ছোট্ট বইটি আয়তনে খুব বড় নয়; কিন্তু এর গল্পগুলোর আবেগ ও অনুরণন বেশ দীর্ঘ। একটানা পড়ে যাওয়ার মতো বই হয়েও বইটি আসলে একটানা পড়ে ফেলার নয়। একটি গল্প শেষ করার পর খানিকটা থামতে হয়, চরিত্রগুলোর দিকে ফিরে তাকাতে হয়, কখনো নিজের দিকেও। বেশ দীর্ঘ সময় নিয়েই একেক দিন একেকটি গল্প পড়া হলো।লেখক যদি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের নানা বাস্তবতা থেকে গল্প তুলে এনে পাঠকের মনে বিষণ্নতার একটি দীর্ঘস্থায়ী আবহ তৈরি করতে চেয়ে থাকেন, তবে বলতে হয়—সেই প্রচেষ্টায় সফল কাজী লাবণ্য। তবে এই বিষণ্নতা নিছক মন খারাপের নয়। কোথাও তা করুণ, কোথাও অস্বস্তিকর, কোথাও প্রশ্নবিদ্ধ, আবার কোথাও গভীর মানবিক মমতায় ভেজা। অনেকটা শরৎচন্দ্রের গল্পের মতো—যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত দুঃখ কখনো কেবল ব্যক্তিগত থাকে না; তার সঙ্গে সমাজ, সম্পর্ক ও সময়ের একটি বৃহত্তর বাস্তবতা জড়িয়ে যায়। তবে কাজী লাবণ্যের গল্পের স্বর স্বতন্ত্র। তিনি বৃহৎ সামাজিক বক্তব্যের চেয়ে ছোট ছোট মানবিক মুহূর্তের ভেতর দিয়েই পাঠককে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করান।‘নুরবানু ও একটি সূর্যাস্ত’ গল্প দিয়ে বইটির শুরু। কক্সবাজারের প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় জীবনের আবহ গল্পটিকে নিজস্ব স্বাদ দিয়েছে। আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারও সেই আবহ নির্মাণেরই অংশ। ব্যক্তিগত পাঠ-রুচির জায়গা থেকে মনে হয়েছে, ভাষার আঞ্চলিক টানটি অন্যভাবে বিন্যস্ত হলে হয়তো গল্পটির সঙ্গে সংযোগ আরও সহজ হতো। তবে এটি একান্তই পাঠকের অনুভব। গল্পটির সামগ্রিক আবহ বা উদ্দেশ্যকে তা ছাপিয়ে যায়নি।এরপরের গল্পগুলোতে যেন বইটি ক্রমশ নিজের শক্তি আবিষ্কার করে। ‘চার্লির বোন’-এ দুই বোনের জীবনের সঙ্গে একটি বিদেশি কুকুরের অদ্ভুত সম্পর্ক এবং একটি দুর্ঘটনা গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘আবলুশ হাহাকার’ মৃত্যুর পরের এক কৌতূহলোদ্দীপক অস্তিত্বের দরজা খুলে দেয়—মৃত মানুষ কি আপনজনদের প্রতিক্রিয়া দেখতে পারে? ‘অপেক্ষার দৈর্ঘ্য’ দীর্ঘ ৩০ বছরের অপেক্ষাকে সামনে এনে প্রশ্ন তোলে—একজন ফিরে এলে কি অপেক্ষার অবসান ঘটে, নাকি নতুন করে অন্যদের ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়? ‘ঘুড্ডি’তে প্রবাসী সন্তানের জন্য অপেক্ষারত মায়ের নিঃসঙ্গতা যেন খুব পরিচিত এক বেদনা।‘ফানুশ’, ‘সোনামুখী সুঁই’, ‘মুল্লুকখাওয়া’ ও ‘নটেগাছ’—প্রতিটি গল্পেই সম্পর্ক, অভাব, নৈতিকতা ও পারিবারিক বাস্তবতার ভিন্ন মুখ দেখা যায়। বিশেষ করে ‘মুল্লুকখাওয়া’য় ক্ষুধা কীভাবে মানুষের নৈতিক বোধকে সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তা তীব্রভাবে উঠে এসেছে। চরিত্রটির প্রতি পাঠক হিসেবে আমার অনুভূতি একেবারে সরল সহানুভূতিতে থিতু হয়নি; ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও হয়তো সেই পাঠকে প্রভাবিত করেছে। তবু চরিত্রটির অবস্থান ও তার নির্মাণ পাঠককে ভাবায়—আর সেটিই গল্পের সার্থকতার একটি জায়গা।‘নেপথ্যে’, ‘অজুফা’ ও ‘পোর্ট কী’ বইটির আবেগঘন কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যায়। ‘অজুফা’র আগুন কেবল ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় না, পাঠকের ভেতরেও একধরনের অসহায়তা জ্বালিয়ে যায়। ‘পোর্ট কী’ এসে সেই বেদনাকে আরও ঘনীভূত করে। ‘শেকড়’-এ মৃত্যুপথযাত্রী বাবার একটি সত্য রেহানের পরিচিত পৃথিবীকেই বদলে দেয়। আর ‘নয়নতারা’ যেন এত বিষণ্নতার ভেতর হঠাৎ একটু আলো—নয়নতারা ও মামুদের জন্য পাঠকের মনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুভকামনা জানায়।নরওয়েজিয়ান উড: প্রেমের গল্প, নাকি হারিয়ে যাওয়ারসবচেয়ে ভালো লেগেছে নামগল্পটি—‘আরুশি ও একটি মিছরিদানা আংটি’। দুই নিঃসঙ্গ মানুষের পরিচয় হয় বিমানে, নিজেদের সন্তানদের কাছে কানাডা যাওয়ার পথে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দুজন মানুষ যেন আবার ভালোবাসা, সঙ্গ ও আশ্রয়ের সম্ভাবনা খুঁজে পায়। অথচ গল্পের শেষে বাস্তবতা আর কল্পনার সীমারেখাটি এমনভাবে অস্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রশ্ন জাগে—এ কি সত্যিই ঘটেছিল, নাকি নিঃসঙ্গ হৃদয়ের এক সুন্দর হ্যালুসিনেশন?সব মিলিয়ে, ‘আরুশি ও একটি মিছরিদানা আংটি’ এমন বই নয়, যা পড়ে উঠে হালকা লাগে। বরং শেষ পৃষ্ঠাটি পড়ার পর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতে ইচ্ছা করে। লেখিকার বিষয় নির্বাচনের তীক্ষ্ণতা, মানুষের ভেতরের অপ্রকাশিত বেদনার প্রতি দৃষ্টি এবং জীবনের ছোট ছোট গল্পকে বড় অনুভূতিতে পরিণত করার ক্ষমতা বইটির প্রধান শক্তি। দ্রুত পড়ে শেষ করলে হয়তো গল্পগুলো জানা হবে; কিন্তু সেগুলোর ভেতরের কথাগুলো অনুভব করা হবে না। কারণ, এ বইয়ের গল্পগুলো শেষ হয়—তাদের রেশ শেষ হয় না।রাজারহাট, কুড়িগ্রাম