জাতীয়

হল্টারনেক লুকে সাফার ভ্যাকেশন গ্ল্যাম

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
হল্টারনেক লুকে সাফার ভ্যাকেশন গ্ল্যাম
হল্টারনেক লুকে সাফার ভ্যাকেশন গ্ল্যাম

যেকোনো ছুটিতে বা ভ্যাকেশন মুডে স্বস্তিদায়ক পোশাকের সঙ্গে স্টাইলিশ আবহও ধরে রাখা যায়। সাফা কবিরের সাম্প্রতিক দুটি লুক যেন সেই কথাই বলছে। আরামদায়ক দুই লুকেই আলাদা করে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী। রইল বিস্তারিত...

বোহো-চিক সামার লুক

এই লুকে সাফা একেবারেই অন্য রকম। তাঁর পরনে কমলা রঙের হল্টারনেক ড্রেস। সামনে পোশাকটির গলায় রয়েছে গভীর ভি-আকৃতির কাট।

তবে সবচেয়ে নজরকাড়া দিকটি এর পেছনে। পেছনের অংশ অনেকটাই খোলা রাখা হয়েছে। গলার দিক থেকে নিচে নেমে এসেছে গোলাকার বিডসের মতো অলংকার, যা খোলা পিঠের মাঝখানে পোশাকটির নকশায় যোগ করেছে আলাদা মাত্রা।

সুন্দর এই ড্রেসের সঙ্গে পায়ে পরতে সাফা বেছে নিয়েছেন রঙিন পমপম  দেওয়া স্ট্র্যাপি গ্ল্যাডিয়েটর স্যান্ডেল, যা পুরো লুকে যোগ করেছে বোহো ছোঁয়া। আরামের জন্য করেছেন হাই বান হেয়ারস্টাইল।

মেকআপেও রেখেছেন উষ্ণ টোনের মোনোক্রম আবহ। ঠোঁটে ন্যুড-টেরাকোটা লিপস্টিক, যার সঙ্গে মিলিয়ে গালে ব্লাশ। কানে ছোট ডায়মন্ড স্টাডের সঙ্গে পরেছেন বড় রেজিনের হুপ কানের দুল। দুই ধরনের দুলের এই বৈপরীত্য লুকটিকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।

সব মিলিয়ে এই লুকে সাফার সাজে যেন গ্রীষ্মের ছুটির প্রাণবন্ত, নির্ভার আমেজটাই ধরা পড়েছে।

গোলাপি-সাদায় সতেজ সামার লুক

এই লুকে সাফা কবিরের পরনে গোলাপি রঙের হল্টারনেক টপ। পোশাকটিতে রয়েছে খুব সূক্ষ্ম সাদা স্ট্রাইপের নকশা।

ভি-আকৃতির গলার কাটের নিচে সামনে শোভা পাচ্ছে গোলাকার সাদা বোতাম। সামার-ফ্রেন্ডলি এই টপটি দেখতে অনেকটা ভেস্টের মতো।

এর সঙ্গে তিনি পরেছেন সাদা  প্লিটেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স আর পায়ে শোভা পাচ্ছে এইচ এন্ড এম ব্র্যান্ডের ব্রেইডেড ডিজাইনের ব্যালে ফ্ল্যাটস। গোলাপি ও সাদার  এই সমন্বয় পুরো সাজে এনেছে সতেজ সামারের আবহ, সঙ্গে থাকছে আরামদায়ক অথচ পরিপাটি এক আবেদন।

অনুষঙ্গে সাফা রেখেছেন মিনিমাল ছোঁয়া। চোখে কালো সানগ্লাস, হাতে কালো কুইল্টেড ব্যাগ। সঙ্গে রয়েছে সোনালি ঘড়ি ও ব্রেসলেট, কানে সোনালি দুল। খোলা চুল আর একদম ন্যাচারাল মেকআপেই সুন্দর লাগছে তাঁকে । সব মিলিয়ে ক্যাজুয়াল ও স্মার্ট এই সামার লুকে সাফাকে দেখা গেছে বেশ স্টাইলিশ।

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
দেশে বিভিন্ন গাড়ির টায়ার আমদানি দুই বছরে ৫০% বেড়েছে
দেশে বিভিন্ন গাড়ির টায়ার আমদানি দুই বছরে ৫০% বেড়েছে

দেশে হঠাৎ করেই গাড়ির টায়ার আমদানি বেড়ে গেছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে। যদিও দেশে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টায়ার উৎপাদন করে। বছর দুয়েক আগে গাজী গ্রুপের কারখানা বন্ধের পর অন্য কারখানাগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে। দেশীয় কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির পরও আমদানি বাড়ছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, বাস ও ট্রাকের ৬৪ লাখ টায়ার আমদানি হয়েছিল। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৯৬ লাখে দাঁড়িয়েছে।বিদেশ থেকে টায়ার আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে আমদানি খরচও। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টায়ার আমদানিতে খরচ হয়েছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। আর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছর সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকায়। তার মানে দুই বছরের ব্যবধানে টায়ার আমদানিতে খরচ বেড়েছে ৪২৪ কোটি টাকা।খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক উদ্যোক্তা জানান, দেশীয় টায়ার উৎপাদকের মধ্যে গাজী গ্রুপের হিস্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আর উৎপাদনে নেই। তাদের শূন্য স্থান অন্য কারখানাগুলো পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। সে কারণেই টায়ারের আমদানি বাড়ছে।জানা যায়, দেশে বর্তমানে মেঘনা গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল, রূপসা টায়ারস অ্যান্ড কেমিক্যালস, এপেক্স হোসেন টায়ার, যমুনা গ্রুপসহ কয়েকটি কোম্পানি টায়ার উৎপাদন করে। কোম্পানিগুলো রিকশা, ভ্যান ও বাইসাইকেলের টায়ার বেশি উৎপাদন করে। তবে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও পিকআপের টায়ারও তৈরি হচ্ছে এসব কারখানায়।এনবিআরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছর ৩৯ লাখ পিস বাস-ট্রাকের টায়ার আমদানি হয়েছিল। গত অর্থবছর সেটি বেড়ে ৫৭ লাখ ৫১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমদানি বেড়েছে ৪৭ শতাংশ।মোটরসাইকেলের টায়ার আমদানি বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৬৩ হাজার মোটরসাইকেলের টায়ার আমদানি হয়েছিল। গত অর্থবছর সেটি বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৪১ হাজার পিস। এ ছাড়া বাইসাইকেলের টায়ার আমদানি বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ লাখ ৫৫ হাজার বাইসাইকেলের টায়ার আমদানি হয়েছিল। গত অর্থবছর সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ পিসে।আগে রিকশা, তিন চাকার যান ও ছোট বাণিজ্যিক যানবাহনে ব্যবহৃত টায়ারের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ করত গাজী টায়ার। এ ছাড়া বাস ও ট্রাকের টায়ারের বাজারের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং মিনিবাসের ৬৫ শতাংশ টায়ারের চাহিদা গাজী টায়ার পূরণ করত।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গাজী টায়ারের দুই কারখানায় লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গাজী গ্রুপের মালিকানায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও উৎপাদনে ফিরতে পারেনি গাজী গ্রুপের দুই টায়ার কারখানা।গাজী টায়ারের কারখানায় বছরে ৪৫-৫০ লাখ টায়ার ও টিউব উৎপাদন সক্ষমতা ছিল। দেশের বাজারে রিকশা ভ্যানের টায়ারের প্রায় অর্ধেক এবং বাস-ট্রাক ও অটোর টায়ার-টিউবের প্রায় ৪০ শতাংশ তাদের দখলে ছিল। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৯১ কোটি টাকার টায়ার-টিউব বিক্রি করেছিল গাজী টায়ারের দুই প্রতিষ্ঠান-গাজী টায়ার ও গাজী অটো টায়ার।জানা যায়, উৎপাদনে ফিরতে না পারলেও আমদানি করে ব্যবসায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে গাজী টায়ার ও গাজী অটো টায়ার।আরএফএল গ্রুপ তাদের হবিগঞ্জ শিল্পপার্কে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজি, মিশুক এবং দেড় টনের ট্রাকের টায়ার উৎপাদন করে। মাসে তাদের ৮ লাখ পিস টায়ার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এই শিল্পগ্রুপ যেসব টায়ার উৎপাদন করে, তার ৮০ শতাংশই সাইকেল, রিকশা ও ভ্যানের টায়ার।চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস ও ট্রাকের টায়ার উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে আরএফএল গ্রুপ—এমন তথ্য দিয়ে শিল্পগোষ্ঠীটির বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বাজারে চাহিদা বিশ্লেষণ করে দেখছি। ইতিবাচক ফিডব্যাক পেলে দ্রুতই উৎপাদনে যাব।’টায়ার আমদানি কেন বাড়ছে জানতে চাইলে কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকায় অটোরিকশার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই তুলনায় উৎপাদন খুব বেশি বাড়েনি। আর্থসামাজিক কারণেও গত দুই বছরে এই খাতে খুব বেশি বিনিয়োগ হয়নি। আবার টায়ার উৎপাদনে গ্যাসও লাগে। সব মিলিয়ে আমরা একটু পিছিয়ে রয়েছি।’১৯৯১ সালে টায়ারের ব্যবসায় নামে রূপসা টায়ারস অ্যান্ড কেমিক্যালস। ২০১৭ সালের আগপর্যন্ত তারা রিকশা, ভ্যান ও বাইসাইকেলের টায়ার উৎপাদন করত প্রতিষ্ঠানটি। তারপর মোটরচালিত যান বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার টায়ার উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে তাদের দিনে ৮ হাজার টায়ার ও ৩০ হাজার টিউব উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দুই বছর আগে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩০ শতাংশ কম।জানতে চাইলে রূপসা টায়ারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিরাজ রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেল টায়ারের বাজার বড় হচ্ছে। বাজার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দেশীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে। একইভাবে বিদেশি টায়ারও প্রচুর আসছে। তার অন্যতম কারণ ভারতীয় মোটরসাইকেল দেশে উৎপাদন হচ্ছে। তারা ভারত থেকে টায়ার নিয়ে আসছে। আবার ক্রেতাদের মধ্যে বিদেশি টায়ারের চাহিদা বেশি।মিরাজ রহমান আরও বলেন, ‘বাস-ট্রাকের টায়ার উৎপাদনে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়। তবে সে অনুযায়ী আমাদের বাজার অত বড় নয়। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পিকআপ ও মিনিবাসের টায়ার আমদানিতে কর বৃদ্ধি করেছে সরকার। আমরা এখন এই দুই ধরনের টায়ারের উৎপাদনে বিনিয়োগ করব।’

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
শেপলেস সময়

শেপলেস সময়

তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে যাবেন: নাহিদ ইসলাম

তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে যাবেন: নাহিদ ইসলাম

ইরান কি হরমুজের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, দেশ চালাচ্ছে কে?

ইরান কি হরমুজের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, দেশ চালাচ্ছে কে?

নগরের পর দুই উপজেলায় ‘এশিয়ান টাইগার মশা’, কোন ধরনের রোগ ছড়ায়
নগরের পর দুই উপজেলায় ‘এশিয়ান টাইগার মশা’, কোন ধরনের রোগ ছড়ায়

চট্টগ্রামে গত দেড় মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগর এবং নগরসংলগ্ন সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলার রোগী বেশি। আর এই তিন স্থানে পৃথক দুটি জরিপ চালিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জরিপে এই তিন এলাকায় দুই ধরনের মশার লার্ভার উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত জুন মাসে চট্টগ্রাম নগরে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরপর গত জুলাই-আগস্ট মাসে দুই উপজেলায় আক্রান্ত বাড়লে সেখানেও জরিপ চালানো হয়। দুই জরিপে প্রাপ্ত লার্ভার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক ‘এডিস ইজিপ্টাই’ বা পীত জ্বরের মশা এবং ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ‘এডিস অ্যালবোপিকটাস’ বা ‘এশিয়ান টাইগার’ মশা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।যেভাবে চিনবেন টাইগার মশা এশিয়ান টাইগার মশা বা এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস ইজিপ্টি দেখতে অনেকটা একই হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। অ্যালবোপিকটাসের কালো বক্ষের মাঝখানে একটি সাদা সরল দাগ থাকে, আর এডিস ইজিপ্টির বক্ষে বীণার মতো সাদা নকশা দেখা যায়। এডিস ইজিপ্টি মানুষের ঘরবাড়ির আশপাশে বেশি থাকে এবং মানুষের রক্তে বেশি আকৃষ্ট হয়। অ্যালবোপিকটাস সাধারণত ঘরের বাইরের বাগান-ঝোপঝাড়ে বেশি দেখা যায়।কীটতত্ত্ববিদেরা জানান, দেশে ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টাই। অন্যদিকে এডিস অ্যালবোপিকটাস ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়ার বাহক। অর্থাৎ দুটির কামড়েই ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকি রয়েছে। কোনো এলাকায় এডিস ইজিপ্টাইয়ের লার্ভা বেশি পাওয়া গেলে সেখানে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে এডিস অ্যালবোপিকটাসের লার্ভা বেশি পাওয়া গেলে সেখানে ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়ারও ঝুঁকি থাকে।২০১৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, এডিস অ্যালবোপিকটাসের প্রায় ৯৯ শতাংশ লার্ভা বাড়ির বাইরে পাওয়া গেছে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাসের প্রজননস্থলের এই পার্থক্যকে মশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।জরিপে নগর ও দুই উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, বাসাবাড়ির আশপাশের পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। গত জুন মাসের জরিপে নগরের প্রতি চার বাড়ির একটিতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যায়। তবে দুই উপজেলায় চালানো জরিপের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন সৌনম বড়ুয়া বলেন, কর্ণফুলীতে বিভিন্ন বাড়ির উঠান এবং সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন দোকানের সামনে ফেলে রাখা যন্ত্রাংশ, কৌটা ও টায়ারে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এডিস এজিপ্টাইয়ের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি এডিস অ্যালবোপিকটাসের লার্ভাও পাওয়া গেছে। এসব স্থান পরিষ্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলা হয়েছে। প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভিড় বাড়ছেকোথায় থাকে এই মশা, কখন কামড়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, এডিস মশা মূলত দিনের বেলা সক্রিয় থাকে। ভোরের পর এবং সন্ধ্যার আগে এদের কামড়ানোর প্রবণতা বেশি। এডিস ইজিপ্টাই সাধারণত মানুষের বসতির আশপাশে এবং ঘরের ভেতর ও বাইরে থাকে। অন্যদিকে এডিস অ্যালবোপিকটাস সাধারণত ঘরের বাইরে, বিশেষ করে ঝোপঝাড় ও গাছপালার আশপাশে বেশি দেখা যায়।ঢাকায় পরিচালিত এক গবেষণায় বাড়িঘরের আশপাশের পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণসামগ্রী ও যানবাহনের পরিত্যক্ত অংশকে এডিস মশার গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইসিডিডিআরবি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জরিপ চালিয়ে ১২ হাজার ৬৮০টি লার্ভা ও পিউপা সংগ্রহ করেন। এর প্রায় ৮২ শতাংশ ছিল এডিস ইজিপ্টাই।২০১৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, এডিস অ্যালবোপিকটাসের প্রায় ৯৯ শতাংশ লার্ভা বাড়ির বাইরে পাওয়া গেছে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাসের প্রজননস্থলের এই পার্থক্যকে মশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।জেলা কীটতত্ত্ববিদ (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মো. মঈন উদ্দীন বলেন, এডিস সাধারণত পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। সীতাকুণ্ড উপজেলায় জাহাজের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকানের সামনে ফেলে রাখা ফ্রিজ, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও কৌটায় বৃষ্টির পানি জমে ছিল। এসব জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। কর্ণফুলী উপজেলায় বিভিন্ন বাড়ির উঠান ও সামনের অংশে রাখা পাত্র, পুরোনো টায়ার ও ফুলের টবে জমে থাকা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।এশিয়ান টাইগার মশা বা এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস ইজিপ্টি দেখতে অনেকটা একই হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। অ্যালবোপিকটাসের কালো বক্ষের মাঝখানে একটি সাদা সরল দাগ থাকে, আর এডিস ইজিপ্টির বক্ষে বীণার মতো সাদা নকশা দেখা যায়। এডিস ইজিপ্টি মানুষের ঘরবাড়ির আশপাশে বেশি থাকে এবং মানুষের রক্তে বেশি আকৃষ্ট হয়। অ্যালবোপিকটাস সাধারণত ঘরের বাইরের বাগান-ঝোপঝাড়ে বেশি দেখা যায়।‘সকালেও মশারি টানাতে হবে’ কীটতত্ত্ববিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এডিস মশা ঠিক কোন সময়ে সবচেয়ে বেশি কামড়ায় বা কোন এলাকায় এর কামড়ের ঝুঁকি বেশি—তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শুধু সন্ধ্যা বা রাতের কথা মাথায় রেখে মশারি ব্যবহার করলেই হবে না। দিনের বেলাতেও বিশ্রাম নেওয়ার সময় মশারি টানিয়ে শোয়া উচিত। পাশাপাশি সম্ভব হলে ফুলহাতা জামাকাপড় পড়তে হবে।কীটতত্ত্ববিদেরা জানিয়েছেন, এডিস মশা সাধারণত দিনের আলো ফোটার পর এবং সূর্য ডোবার কয়েক ঘণ্টা আগে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে রাতে ঘরের আলোতেও সক্রিয় হয়ে কামড়াতে পারে। এডিস ইজিপ্টাই সাধারণত মানুষের বসতির কাছাকাছি থাকতে বেশি পছন্দ করে। এডিস অ্যালবোপিকটাস গাছপালা ও ঘরের বাইরের পরিবেশে বেশি থাকে। এই প্রজাতি মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীকে কামড়াতে পারে।চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে। মোট আক্রান্ত ৩ হাজার ২৭০ জনের মধ্যে ১ হাজার ২৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, দিনের বেলাতেও ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়ার সময় মশারি টানাতে হবে। প্রয়োজন হলে এবং সম্ভব হলে ফুলহাতা জামাকাপড় পরতে হবে। একই সঙ্গে ঘরের আশপাশ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে এডিস মশার কোনো প্রজননস্থল তৈরি না হয়। যেহেতু ভাইরাসের বাহক চিহ্নিত করা গেছে, এখন সচেতনতা মুখ্য।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
মিরসরাইয়ে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত

মিরসরাইয়ে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত

আট দফা যেকােনো সময় এক দফা হতে পারে: শফিকুর রহমান

আট দফা যেকােনো সময় এক দফা হতে পারে: শফিকুর রহমান

সিনিয়র অফিসারের ৯০৩ পদ, এমসিকিউর প্রস্তুতিতে যে যে কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে

সিনিয়র অফিসারের ৯০৩ পদ, এমসিকিউর প্রস্তুতিতে যে যে কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে

0 Comments