জাতীয়

হামে মৃত্যু হাজার পার, নজিরবিহীন বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
হামে মৃত্যু হাজার পার, নজিরবিহীন বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা
হামে মৃত্যু হাজার পার, নজিরবিহীন বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা

হামে মৃত্যু এক হাজার পার হয়ে গেল আজ বুধবার। দেশের ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি।

প্রায় ৮ বছর ধরে মৃত্যু তো দূরে থাক, হামে সংক্রমণের সংখ্যা ৪০০–র বেশি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে হাম দূরীকরণের লক্ষ্য ছিল। আর এ বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে হাম নির্মূলের সনদ পাওয়া যেত। কিন্তু এবার একেবারে উল্টো হয়ে গেল পরিস্থিতি।

যে হাম ভুলে যাওয়া অসুখে পরিণত হয়েছিল, তা আজ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দেওয়ার কাজে চরম অবহেলাকে এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা।

চলতি বছরের শুরু থেকে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও সে বিষয়ে নজর দেওয়া হয়নি। গত মার্চ থেকে হাম ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে। কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে মে মাসজুড়ে চলে গণটিকাদান। কিন্তু সে সময়ও প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়ে যায়।

গত সোমবার হামে মৃত্যুর সংখ্যা যখন হাজার ছুঁই ছুঁই, সেদিন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেছিলেন, ‘হামে এত মৃত্যু আমার জানামতে এ দেশে আগে হয়নি। এত সংক্রমণও হয়নি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য, এর শিকার হলো শিশুরা।’

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ গতকাল মঙ্গলবার থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে হামের মৃত্যুর সংখ্যা হলো এক হাজার দুজন। এর মধ্যে উপসর্গে মারা গেছে ৯০২ জন, আর হামে ১০০ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১১৯ শিশু। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬৯। আর আজ পর্যন্ত দেশে উপসর্গ ও নিশ্চিত মিলিয়ে হাম রোগীর সংখ্যা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত এই পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ এ বছর হাম সংক্রমণে শীর্ষে উঠে এলেও আগের বছরগুলোয় চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৫ সালে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২২ সালে ৩১১ জন।

জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ বারী আজ প্রথম আলোকে বলেন, এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে হামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এত হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড এর আগে নেই। এটা নজিরবিহীন।

টিকাদানে ঘাটতি, সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে একসময় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে ছিল আলোচিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় ক্যাম্পেইনের কারণে হামসহ এ ধরনের রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব এড়ানো যাচ্ছিল। এখন সংকট দেখা দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের ঘাটতিকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডব্লিউএইচওর তথ্যে দেখা যায়, ২০০৬ সালের জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার পুরোটাই বা ১০০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল।

২০১০ সালে ফলোআপ ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৮১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। সেবারও কভারেজ ছিল ১০০ শতাংশ। ২০১৪ সালে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা কর্মসূচির মাধ্যমে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ৫ কোটি ২৭ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছিল। সেবার কভারেজ ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

২০২০–২১ সালের পর বিশেষ ক্যাম্পেইন আর হয়নি। এর মধ্যে নিয়মিত টিকাদানের কভারেজও কমতে থাকে। ২০২৫ সালে এ হার ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টিকার স্বল্পতাও দেখা দেয়।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া গত ৫ মে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে ইউনিসেফ বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে টিকা সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব হবে এবং রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।

টিকা দেওয়ার পর এত সংক্রমণ ও মৃত্যু নজিরবিহীন

এবার প্রাদুর্ভাবের পর গত এপ্রিলে বর্তমান বিএনপি সরকার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাদানে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করে, কিন্তু তাতেও ৪৬ লাখ শিশু হামের টিকা থেকে বাদ পড়ে গেছে। কারণ, হামের টিকা দিতে এই বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুর হিসাব করা হয়, কিন্তু গত জুনে একই বয়সী ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে আওতায় আনা হয়।

জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ বারী আজ বলেন, টিকাদানের পর এত সংক্রমণ সত্যিই নজিরবিহীন। এতে বিপুলসংখ্যক শিশু বিপদে পড়েছে। এখন ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সের শিশুদের টিকার ব্যবস্থা করতে হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক কার, ফয়সালা করতে মমতা ও ঋতব্রতকে দিল্লিতে তলব
তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক কার, ফয়সালা করতে মমতা ও ঋতব্রতকে দিল্লিতে তলব

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে দলের দুই পক্ষের বিরোধ এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। দলের মূল প্রতীক নিজেদের দাবি করে নির্বাচন কমিশনে পাল্টাপাল্টি আবেদন জানিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ এবং বিদ্রোহী বিধায়কদের পক্ষ। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তৃণমূলের দুই পক্ষকেই দিল্লিতে তলব করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)।আগামী শনিবার দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টের দপ্তরে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন। সেখানে উভয় পক্ষ নিজেদের যুক্তি তুলে ধরার পর কমিশন তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।গত বুধবার এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিদ্রোহী অংশের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে জানানো হয়েছে, শনিবার বেলা ১১টায় প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এরপর দুপুর ১২টায় বসবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক। প্রতিটি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন করে প্রতিনিধি এই শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।তৃণমূলে ভাঙন১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বেই দলের বিকাশ ঘটে এবং নিজের ভাবনা থেকেই তিনি এঁকেছিলেন দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সব নির্বাচনেই এই প্রতীকে লড়েছে তৃণমূল।তবে সাম্প্রতিক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দলটি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। তৃণমূল পায় মাত্র ৮০টি আসন। এই শোচনীয় পরাজয়ের পর মমতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬৫ জন মমতার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে দল ছাড়েন।বিদ্রোহী এই ৬৫ জন বিধায়ক একত্র হয়ে গড়ে তোলেন পাল্টা তৃণমূল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিধানসভার স্পিকার এই অংশকে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং ঋতব্রত হন বিরোধীদলীয় নেতা। ফলে মমতার সঙ্গে থেকে যান হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক।উপনির্বাচন ঘিরে প্রতীকের লড়াইআগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন দুটি হলো পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর।এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মূলত প্রতীক নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশের দাবি, দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও নেতা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন, তাই নিয়মানুযায়ী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক পাওয়ার অধিকারী তাঁরাই।অন্যদিকে মমতার অংশের দাবি, দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীকটিও তিনিই এঁকেছিলেন এবং নির্বাচন কমিশন থেকে দলের প্রতীক হিসেবে অনুমোদন নিয়েছিলেন। ফলে এই প্রতীকের ওপর তাঁর অংশেরই নিরঙ্কুশ অধিকার রয়েছে।দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি দাবির মুখে এখন দিল্লির নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তাঁর কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য

আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তাঁর কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য

সাবেক বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য নতুন করে গোয়েন্দা ছাড়পত্রের শর্ত অযৌক্তিক

সাবেক বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য নতুন করে গোয়েন্দা ছাড়পত্রের শর্ত অযৌক্তিক

গঠিত হচ্ছে এসআরবি, র‍্যাবের 
প্রায় সবই থাকছে আইনে

গঠিত হচ্ছে এসআরবি, র‍্যাবের প্রায় সবই থাকছে আইনে

খিলগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
খিলগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মিঠু (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মিঠু নামের ওই যুবক ট্রেনের ছাদে ছিল।সেখান থেকে নিচে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান–স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘মিঠু দুর্ঘটনাবশত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন, না তাঁকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে—তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাবে। আশপাশের লোকজন বলছেন, যুবকটি নেশাগ্রস্ত ছিলেন।’

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
রবীন্দ্রনাথের গান ও ভাবনা নিয়ে ‘এ আমির আবরণ’

রবীন্দ্রনাথের গান ও ভাবনা নিয়ে ‘এ আমির আবরণ’

সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরের বিচার শুরুর আদেশ

সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরের বিচার শুরুর আদেশ

এক সাবস্ক্রিপশনে চ্যাটজিপিটি-জেমিনাই-ক্লডের মতো এআই সেবা দেবে গ্রামীণফোন ও রবি

এক সাবস্ক্রিপশনে চ্যাটজিপিটি-জেমিনাই-ক্লডের মতো এআই সেবা দেবে গ্রামীণফোন ও রবি

দেশে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন
দেশে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন

বাংলাদেশে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমানে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন। আর ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্য ব্যবহার করেছেন।বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশি তরুণদের ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচ ব্যবহারের প্রবণতা’ শীর্ষক সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষায় ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫২৪ তরুণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। উত্তরদাতাদের ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ২১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ছিলেন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী। সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক অরুনা সরকার।ই-সিগারেটের ব্যবহার বেশিসমীক্ষায় দেখা যায়, নতুন ধরনের তামাকপণ্যের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। অংশগ্রহণকারীদের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ই-সিগারেট, ১ দশমিক ৩ শতাংশ নিকোটিন পাউচ এবং শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ব্যবহার করছেন। তরুণীদের (৫ দশমিক ৩ শতাংশ) তুলনায় তরুণদের (৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ) জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্য ব্যবহারের হার অনেক বেশি।বর্তমানে প্রচলিত সিগারেট ব্যবহারকারী তরুণদের মধ্যে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে যাঁরা প্রচলিত সিগারেট ব্যবহার করেন না, তাঁদের মধ্যে এই হার ১ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমান ব্যবহারকারীদের ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ সামাজিক বা বন্ধুদের চাপে, ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রচলিত তামাকের ব্যবহার কমানো বা বিকল্প হিসেবে এবং ৩১ শতাংশ নিকোটিনের মাত্রা পছন্দ করার কারণে এসব পণ্য ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।বিজ্ঞাপন ও সহজলভ্যতাপণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ বিশেষায়িত দোকান থেকে, ৩১ শতাংশ বন্ধু বা সহকর্মীর কাছ থেকে এবং ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ করেছেন। পণ্য কেনার সময় মাত্র ২৪ দশমিক ১ শতাংশ ব্যবহারকারীকে বয়সের প্রমাণপত্র দেখাতে বলা হয়েছিল বলে গবেষণায় উঠে আসে।অংশগ্রহণকারীদের ২৬ শতাংশ দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে, ২০ দশমিক ৮ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ১৩ দশমিক ২ শতাংশ অন্যান্য মাধ্যমে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখার হার সবচেয়ে বেশি (৮৯ শতাংশ)। এরপর ইনস্টাগ্রামে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ইউটিউবে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ।কার্যকর নিয়ন্ত্রণের তাগিদঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে সুরক্ষা দিতে নতুন ধরনের তামাকপণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রচলিত তামাকপণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের বিপণন ও সহজলভ্যতা তরুণদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গবেষণায় উঠে আসা তথ্য নীতিনির্ধারণ ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি তরুণদের সুরক্ষায় এসব পণ্যের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান বলেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার তাঁদের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নতুন ধরনের তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা ও আকর্ষণীয় বিপণন তরুণদের এসব পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে। তাই তরুণদের সুরক্ষায় এসব পণ্যের ব্যবহার ও সহজলভ্যতা কমানোর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, প্রচার ও বিক্রির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।সভাপতির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভী বলেন, তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষা করতে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিক্রির ক্ষেত্রে বয়স যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা, হাসপাতাল অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম এবং সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামসের আঞ্চলিক পরিচালক মাহিন মালিক।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে

আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে

আপাতত মক্কা চুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেই: পাকিস্তান

আপাতত মক্কা চুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেই: পাকিস্তান

পুলিশই যখন খুনির শিকার

পুলিশই যখন খুনির শিকার

0 Comments