রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মিঠু (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মিঠু নামের ওই যুবক ট্রেনের ছাদে ছিল।
সেখান থেকে নিচে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান–স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘মিঠু দুর্ঘটনাবশত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন, না তাঁকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে—তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাবে। আশপাশের লোকজন বলছেন, যুবকটি নেশাগ্রস্ত ছিলেন।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তিনবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন। সেই দলটিই সর্বশেষ দুই মৌসুমে সুুযোগ পায়নি চ্যাম্পিয়নস লিগে। গত মৌসুমে তো ইউরোপের কোনো স্তরের টুর্নামেন্টেই সুযোগ পায়নি ইউনাইটেড। সেই দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরল বড় জয় দিয়ে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন দল সাবাহ এফকেকে ৪–০ গোলে হারিয়ে প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছে ইউনাইটেড।বৃহস্পতিবার রাতে বড় জয় পেয়েছে আরেক ইউরোপীয় পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখও। ঘরের মাঠে তারা পেয়েছে ৫–০ গোলের জয়। গত মৌসুমের চমক নরওয়েজীয় ক্লাব বোডো/গ্লিমটকে হারিয়েছে ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা।সাবাহ ব্যর্থ হলেও বড় জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিষেক রাঙিয়েছে আরেক নবাগত কোমো। ইতালিয়ান ক্লাবটি ঘরের মাঠে ৪–১ গোলে হারিয়েছে জার্মান ক্লাব লাইপজিগকে।রাতের আরেক ম্যাচে প্রাগে যোগ করা সময়ে ২ গোল করে স্বাগতিক স্লাভিয়া প্রাগকে ৩–২ গোলে হারিয়েছে ফরাসি ক্লাব লাঁস। দিনের প্রথম দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। ইতালিয়ান ক্লাব রোমাকে ঘরের মাঠে রুখে দিয়েছে তুর্কি ক্লাব ফেনেরাবাচে (১–১)। ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দহফেন ও ইউক্রেনের শাখতার দোনেৎসকও ড্র করেছে ১–১ গোলে।বিস্তারিত আসছে...
সাবেক বিচারপতিদের ক্ষেত্রে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর আগে নতুন করে আবার গোয়েন্দা ছাড়পত্র চাওয়া আইনসংগত নয় বলে এক রায়ে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট। পূর্ণাঙ্গে রায়ে বলা হয়েছে, সাধারণ পাসপোর্টের জন্য নতুন করে গোয়েন্দা ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা অযৌক্তিক ও আইনগত এখতিয়ারবহির্ভূত।কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রত্যাহার ও সমর্পণের ভিত্তিতে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি স্মারকের বৈধতা নিয়ে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় দেন। ২৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।এর আগে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রত্যাহার ও সমর্পণের ভিত্তিতে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে নির্দেশনাসংবলিত স্মারক জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। তাতে বলা হয়, কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ করা ব্যক্তি, যাঁদের নিয়োগ বা কর্মকালের ইতি ঘটেছে, তাঁদের এবং তাঁদের স্পাউসদের (স্বামী বা স্ত্রী) কূটনৈতিক পাসপোর্ট অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের অন্তত দুটি তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা যেতে পারে।সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়ে স্পষ্টীকরণ–সংক্রান্ত একটি স্মারক চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ভাষ্য, বিগত সরকারের সময়, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ২২ আগস্টের নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।নথিপত্র থেকে জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট এবং চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জারি করা স্মারক দুটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগের প্রটোকল অফিসার ওই রিট করেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতি সাপেক্ষে রিটটি করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।রায়ে কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রত্যাহার ও সমর্পণের পর সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর আগে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়ার বাধ্যতামূলক বিধান এবং বিগত সরকারের সময়, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের ওপর তা প্রযোজ্য হওয়া–সংক্রান্ত স্মারক সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতিদের এবং তাঁদের স্পাউসের (স্বামী বা স্ত্রী) ক্ষেত্রে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়।আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম বেলায়েত হোসেন ও মোহাম্মদ হোসেন এবং আইনজীবী এম মাহমুদুল হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই স্মারক দুটি চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। কারণ, কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রত্যাহার ও সমর্পণের পর অনেক সাবেক বিচারপতির সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন আটকে আছে। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও তাদের স্পাউসদের (স্বামী বা স্ত্রী) আবার গোয়েন্দা যাচাই ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি তা সমর্পণ করেন। ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন তিনি। প্রদানের সম্ভাব্য তারিখ ছিল ১৩ নভেম্বর। তবে গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সন্তোষজনক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি কারণ দেখিয়ে তাঁর পাসপোর্ট প্রদান করা হয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।রিটে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এবং তাঁদের স্পাউস (স্বামী বা স্ত্রী) ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকারী। বিচারপতিরা অবসর গ্রহণ করলে তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করতে হয়। এরপর সাবেক বিচারপতিরা সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। আগে এই ধরনের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়া শর্ত হিসেবে রাখা হতো না।রায়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সাবেক বিচারপতিদের ও তাঁদের স্পাউসদের (স্বামী বা স্ত্রী) সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর আগে নতুন করে গোয়েন্দা সংস্থার ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ যুক্তিসংগত নয়। কারণ, বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়েই তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি কিংবা আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অযোগ্যতাও তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় আবার নতুন করে গোয়েন্দা ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক ও আইনগত এখতিয়ারবহির্ভূত।
প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত অভিযোগ থেকে আসামিকে অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।আহমেদ জোবায়েরের আইনজীবী সালেহ উদ্দিন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই মামলা থেকে অব্যাহতি ও জামিন চেয়ে শুনানি করি। আদালত আবেদন নাকচ করে দেন। এরপর প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহানের আদালতে আহমেদ জোবায়েরের জামিন চাইলে সেটিও নামঞ্জুর হয়। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তিনি একমাত্র আসামি।’মামলার বিবরণে বলা হয়, সময় টেলিভিশনের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আহমেদ জোবায়ের প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের দুটি গাড়ি ও উত্তোলন করা অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়। তবে তিনি এসব ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ ছাড়া সময় টিভির মালিকানা প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ এসব সম্পদ ফেরত চেয়ে তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৫ মে মামলা করেন সময় টিভির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সৈয়দ আসাদুজ্জামান। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। গত ৩ আগস্ট এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বৃহস্পতিবার মামলাটির অভিযোগ গঠনের আদেশ এল।এর আগে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগে করা আরেকটি মামলায় গত বছরের ১৮ জুন থেকে কারাগারে আছেন আহমেদ জোবায়ের। গত বছরের ১০ মে দায়ের হওয়া ওই মামলায় আসামিদের প্রতি সমন জারি করে ১৭ জুনের মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। নির্ধারিত দিনে হাজির না হওয়ায় ১৭ জুন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তাঁর করা একাধিক জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেন আদালত।আইনজীবী সালেহ উদ্দিন জানান, ওই মামলায় আহমেদ জোবায়ের ব্যতীত অন্য সবাই জামিনে আছেন। তিনি দাবি করেন, সময় মিডিয়া লিমিটেডে আহমেদ জোবায়েরের শেয়ার আছে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। মূলত তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।