জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বুঝতে পেরে আগ্রাসী হয়ে উঠছে ইরান?

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বুঝতে পেরে আগ্রাসী হয়ে উঠছে ইরান?
যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বুঝতে পেরে আগ্রাসী হয়ে উঠছে ইরান?

যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু যুদ্ধ থামেনি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রপথে প্রতিদিনই বাড়ছে উত্তেজনা। এক পক্ষের হামলার জবাব আসছে অন্য পক্ষ থেকে। সামরিক স্থাপনা, যুদ্ধজাহাজ, তেল ট্যাংকার ও জ্বালানি অবকাঠামো কিছুই বাদ যাচ্ছে না।

ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতের সাম্প্রতিক পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ অবিলম্বে আগের মতো উন্মুক্ত করতে হবে।

প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও ইরান কেন এতটা অনড়? ইরান কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বুঝে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছে?

হরমুজ এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রধান ইস্যু ছিল না। কিন্তু যুদ্ধের একপর্যায়ে ইরান এটি বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধবিরতির পরও পুরোপুরি খুলে দিতে রাজি নয় তেহরান। বরং ইরান এখন প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলছে।

যুক্তরাষ্ট্র এ অবস্থান মেনে নেয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ট্রাম্প এমনও বলেছেন, প্রয়োজনে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নেবে।

কিন্তু ওয়াশিংটনের হুমকি-হুঁশিয়ারিতে পিছু হটার বদলে পাল্টা অবস্থান আরও শক্ত করছে তেহরান।

একের পর এক পাল্টা হামলা

সর্বশেষ বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিস) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তারা।

আরও পড়ুন>
সংকটের মধ্যেও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
কুয়েত-বাহরাইনে হামলার হুমকি ইরানের, নাবিকদের জাহাজ ছাড়ার পরামর্শ

ইরানের দাবি, এসব জাহাজের মধ্যে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিল।

এর ঠিক একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেল ট্যাংকার ধ্বংস করার কথা জানায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের আইআরজিসি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবেই ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা করবে, ততবার তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে।

এরপর জর্ডানে ইরানের হামলার দাবি সামনে আসে। তবে জর্ডানের ভাষ্য, ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করেছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তাও বলেছেন, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা নিরাপদে আছেন।

তেলের বাজারে বাড়ছে উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ায় এর প্রভাব এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।

ইরানের হামলায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেল ট্যাংকারগুলোকেও ইরান হুমকি দিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে। তবে এর জন্য কে দায়ী, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র কি সামরিকভাবে চাপে?

ইরানের অনড় অবস্থানের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের কথাও সামনে আসছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি ইউক্রেন ও ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ধারাবাহিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক স্থাপনা, রাডার ও অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থনও প্রশ্নের মুখে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অনেক মার্কিন নাগরিক ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে সমর্থন করছেন না। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যেতে হলে ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেসের সমর্থনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

অর্থাৎ সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও ওয়াশিংটন রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে এমন ধারণা ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের কৌশল: ক্ষতি স্বীকার, কিন্তু আত্মসমর্পণ নয়

অন্যদিকে ইরান শুরু থেকেই এই সংঘাতকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে। ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলার পরও তেহরান নতি স্বীকার করেনি।

শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং দেশটি পাল্টা হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে যে খেলার নিয়ম বদলে গেছে। তার ভাষ্য, ইরানের নিরাপত্তা ও স্বার্থে হামলা হলে এখন থেকে আরও দ্রুত ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

আইআরজিসির দাবি, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন সাবমেরিনও আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান।

আরও পড়ুন>
সংকটের মধ্যেও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
কুয়েত-বাহরাইনে হামলার হুমকি ইরানের, নাবিকদের জাহাজ ছাড়ার পরামর্শ

প্যানেটার সতর্কবার্তা

এমন পরিস্থিতিতে সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক লিওন প্যানেটা সতর্ক করেছেন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ আরও অন্তত ছয় মাস চলতে পারে।

প্যানেটার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন এক অচলাবস্থায় আটকে গেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কার্যকর পথ খুব সীমিত। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’-এ পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, পেন্টাগনের নেতৃত্ব ও কমান্ড কাঠামো নিয়ে সাম্প্রতিক অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিপক্ষদের ভুল বার্তা দিতে পারে।

প্যানেটার মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি পথ: যুদ্ধ থেকে সরে আসা, বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করা অথবা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা। তার মতে, তৃতীয় পথই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।

সামনে কোন পথ?

বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের সামরিক শক্তির লড়াই নয়। এটি হয়ে উঠেছে সহনশীলতা, অর্থনীতি, জনসমর্থন এবং কৌশলগত অবস্থানের লড়াই।

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বিপুল সামরিক শক্তি। কিন্তু একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখেও পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। সবচেয়ে বড় কথা, হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তাদের হাতে রয়েছে।

তাই ইরানকে ‘খামখেয়ালি’ বলার চেয়ে বাস্তবতা সম্ভবত আরও জটিল। তেহরান হয়তো বুঝতে পারছে, দীর্ঘ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ব্যয়বহুল। আর সেই হিসাবেই হরমুজকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ চাপ ধরে রাখতে চাইছে তারা।

তবে এই কৌশল কতদিন কার্যকর থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানকে নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ফলে এই সংঘাতের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে সামরিক শক্তির পাশাপাশি তেলের বাজার, আন্তর্জাতিক চাপ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান

এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
শরীয়াহবিরোধী আইনের সমাধান না হলে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি
শরীয়াহবিরোধী আইনের সমাধান না হলে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা বলেছেন, ইসলামের উত্তরাধিকার আইনে হেবা সংক্রান্ত বিধানে সরকার এমন একটি সংশোধন এনেছে যা ইসলামের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো এই আইনের উদ্দেশ্য ও পরিণতি ইসলামের অকাট্য উত্তারাধিকার আইনকে বাইপাস করা, উপেক্ষা করা। তারা বলেন, একজন মুসলমান প্রাত্যহিক জীবনে নানা অপারগতায় শরীয়াহর কোনো কোনো বিধান মান্য নাও করতে পারেন; সেটা মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমাযোগ্য অপরাধ। কিন্তু শরীয়াহর কোনো বিধানকে উপেক্ষা করা বা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আইন করা মহান আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতা দেখানোর শামিল। বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যেখানে ৯১ শতাংশ মুসলমান সেই দেশে মহান আল্লাহর সঙ্গে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশের সব বিভাগীয় শহরে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬ এর বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, সরকারকে অবশ্যই এই আইন থেকে সরে আসতে হবে। কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না। আরও পড়ুন হেবা আইনের সংশোধন বাতিল দাবিতে শুক্রবার ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ নেতারা বলেন, প্রবীন নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায়, পিতা-মাতার স্বার্থ রক্ষায় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। শিশুদের মনে পিতা-মাতার সম্মান সম্পর্কে ইসলামের বয়ান গ্রোথিত করে দিতে হবে এবং পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্যে অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সরকারকে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেটে, রংপুর , ময়মনসিংহ, রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা বলেন, সরকারের ছয়মাস অতিক্রান্ত হচ্ছে। এই ছয়মাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন ধরণের সফলতা দেখাতে পারেনি। দক্ষতা দেখাতে পারছে না। ফলে জ্বালানি সংকট, বিদ্যুত সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতেই হবে। এমইউ/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
কোদাল হাতে খাল পরিষ্কারে এমপি হুমাম কাদের

কোদাল হাতে খাল পরিষ্কারে এমপি হুমাম কাদের

ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার দুই

ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার দুই

ব্যবসায়ী হত্যা: আদালতে বন্ধুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ব্যবসায়ী হত্যা: আদালতে বন্ধুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

‘খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখে’
‘খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখে’

খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ার আলমগীর। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্মৃতি ইউনিয়নভিত্তিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ফাইনালে কাঞ্চননগর ইউনিয়ন ছাত্রদলকে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নানুপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল। নির্ধারিত সময়ে দুই দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তরুণরা যত বেশি খেলাধুলায় অংশ নেবে, তাদের মন-মানসিকতা তত বেশি ভালো হবে। খেলাধুলা তরুণদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখে। সরোয়ার আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ চালু করছেন। অচিরেই চট্টগ্রামে এর উদ্বোধন হবে। আশা করছি, ফটিকছড়ির প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ে খেলবে। ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে সরকারি কলেজ মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মিঞা মোশরাফুল আনোয়ার চৌধুরী মশুর সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্য সচিব মহিন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহীম, ফটিকছড়ি পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোবারক হোসেন কাঞ্চন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
বিয়ের ৩ মাসেই নববধূর মৃত্যু, রিমান্ড শেষে স্বামী কারাগারে

বিয়ের ৩ মাসেই নববধূর মৃত্যু, রিমান্ড শেষে স্বামী কারাগারে

রবীন্দ্র-নজরুল বাঙালির চেতনা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ

রবীন্দ্র-নজরুল বাঙালির চেতনা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ

আলেকজান্দ্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দুই দিনব্যাপী কনস্যুলার ক্যাম্প

আলেকজান্দ্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দুই দিনব্যাপী কনস্যুলার ক্যাম্প

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে খুন, গ্রেফতার ১
পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে খুন, গ্রেফতার ১

রাজধানীর লালবাগে শেখ ওয়াসিম রনী (৪৭) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম- মো. মাসুম (৪৩)। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। লালবাগ থানার বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী শেখ ওয়াসিম রনীর নিখোঁজের ঘটনায় তার ভাই লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে লালবাগ থানা পুলিশের একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় তথ্যের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন মো. মাসুমকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মাসুম শেখ ওয়াসিম রনীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে (১০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে লালবাগ থানাধীন বিসি দাস স্ট্রিটের একটি ভবনের নিচতলার সংকীর্ণ করিডোর থেকে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন পেঁচানো বালি চাপা অবস্থায় শেখ ওয়াসিম রনীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে লালবাগ থানা পুলিশ। তিনি বলেন, গ্রেফতার মাসুম শেখ ওয়াসিম রনীর কাছ থেকে তিন মাসের জন্য ৩ লাখ টাকা ধার নেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় শেখ ওয়াসিম রনী পাওনা টাকার জন্য মাসুমের অফিসে যান। সেখানে মাসুম তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রনীকে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অফিস কক্ষের পাশে বালি চাপা দিয়ে মরদেহ গুম করে। এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। কেআর/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য, নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য, নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিডনিতে জেমস, দেখা হতেই রূপম বললেন ‘জয় গুরু’

সিডনিতে জেমস, দেখা হতেই রূপম বললেন ‘জয় গুরু’

দুই মাসেই স্বপ্নযাত্রার করুণ সমাপ্তি, স্পেন থেকে কফিনে ফিরলেন আলিফ

দুই মাসেই স্বপ্নযাত্রার করুণ সমাপ্তি, স্পেন থেকে কফিনে ফিরলেন আলিফ

0 Comments