১০০ শয্যার জনবল নিয়ে চলছে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। এতে করে একদিকে যেমন কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা, অন্যদিকে কম জনবল নিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। এছাড়াও রয়েছে চাহিদার তুলনায় ওষুধের সংকট।
কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে রোগীরা বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। ফলে বাড়ছে ভোগান্তি ও খরচ। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। যা ২০২৩ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। সবশেষ ২০২৬ সালের জুলাই মাসে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা থেকো ৪০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে ৪০০ শয্যার অনুমোদন পেলেও ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জয়পুরহাট ৪০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকে ৭০০ থেকে ৮০০ জন রোগী। আর আউটডোরে চিকিৎসা নেন এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ পর্যন্ত রোগী। সম্প্রতি শুধু খাবার সরবরাহ হচ্ছে ৪০০ শয্যা বেডে ভর্তি থাকা রোগীর জন্য। ৪০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাহিদা দিয়েছেন ৩০৫ জন চিকিৎসকের। বর্তমানে হাসপাতালটিতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৪ জন ডাক্তার। এছাড়া নার্সের চাহিদা দেওয়া হয়েছে ২২৪ জনের। আর বর্তমানে নার্স কর্মরত আছেন ১২৪ জন।
সূত্র আরও জানায়, প্রায় চার বছর আগে আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হলেও চিকিৎসক সংকটে সেটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। নেই সিটি স্ক্যান ও এমআরআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। রয়েছে ওষুধের সংকট। এসব নানা সংকটে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝেতে থেকেও সেবা নিচ্ছেন রোগীরা/ ছবি: জাগো নিউজ
অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দেখা মেলেনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের। বাধ্য হয়ে রোগীদের স্থানীয় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সেখানে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এছাড়াও অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল রোগীদের পাঠানো হচ্ছে অন্য জেলার মেডিকেলে। এতে রোগীদের দুর্ভোগ ও খরচ বাড়ছে যেমন, তেমনই তারা পড়ছেন চরম বিপাকে। দ্রুত সকল সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
পাঁচবিবি উপজেলার শিরট্টি গ্রামের কোরবান আলী বলেন, ‘এই হাসপাতালটি নামেই ৪০০ শয্যা, কিন্তু কাজে কিছুই নয়। এত দূর থেকে চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তার শুধু হাতে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিচ্ছে। ওষুধপত্র সব বাহিরে থেকে কিনতে হচ্ছে। আমরা গরীব মানুষ, টাকা দিয়েই যদি সব কিছু কিনে আনতে হয় তাহলে সরকারি হাসপাতালে কেন আসবো?’

শালাইপুর এলাকার রনি হোসেন বলেন, ‘টাকা দিয়ে ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারে গেলে ভাল সেবা পাওয়া যায়। কিন্তু হাসপাতালে আসলে সেবা পাওয়া যায় না। টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কখনো ডাক্তার পাওয়া যায়, কখনো যায় না। সরকারের উচিত দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করা।’
ক্ষেতলাল উপজেলার কুসুম শহর গ্রামের মহসিনা বেগম বলেন, ‘আমার দাদিকে হাসপাতালে ভর্তি করার দুইদিন পর্যন্ত কোন ওষুধ পাইনি। সব বাহিরে থেকে কিনতে হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে আসলে ওষুধ পাবো, এজন্যই তো এখানে আসি।’
কালাই উপজেলার মাত্রায় বাজারের জামিল হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসছি। কোন বেড পাইনি। এজন্য বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একটা ওষুধও পাইনি, সব বাহির থেকে কিনতে হয়েছে। স্যালাইন পর্যন্ত পাইনি।’
ধারকী গ্রামের দোলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডাক্তার হিসেবে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এজন্য সবাই চিকিৎসা পাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এত তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক কষ্টকর। টয়লেটের দরজার ছিটকিনি নেই, ময়লা থাকে। ডাক্তার নিয়োগসহ এগুলো দ্রুত সংস্কার করা দরকার।’
জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, ‘১০০ শয্যার জনবল দিয়ে ৪০০ শয্যার হাসপাতাল চালাচ্ছি। তবে ৪শ বেডের জন্যই খাবার দেওয়া হচ্ছে। সিটিস্ক্যান ও এমআরইসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির চাহিদা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইসিইউ ইউনিট নির্মাণের পর নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ডাক্তারের অভাবে আইসিইউ চালু করা যায়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সকল সংকটের বিষয়ে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে।’
মো. আল-কারিয়া চৌধুরী/এসজেডএইচ/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর লালবাগে শেখ ওয়াসিম রনী (৪৭) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম- মো. মাসুম (৪৩)। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। লালবাগ থানার বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী শেখ ওয়াসিম রনীর নিখোঁজের ঘটনায় তার ভাই লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে লালবাগ থানা পুলিশের একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় তথ্যের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন মো. মাসুমকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মাসুম শেখ ওয়াসিম রনীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে (১০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে লালবাগ থানাধীন বিসি দাস স্ট্রিটের একটি ভবনের নিচতলার সংকীর্ণ করিডোর থেকে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন পেঁচানো বালি চাপা অবস্থায় শেখ ওয়াসিম রনীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে লালবাগ থানা পুলিশ। তিনি বলেন, গ্রেফতার মাসুম শেখ ওয়াসিম রনীর কাছ থেকে তিন মাসের জন্য ৩ লাখ টাকা ধার নেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় শেখ ওয়াসিম রনী পাওনা টাকার জন্য মাসুমের অফিসে যান। সেখানে মাসুম তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রনীকে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অফিস কক্ষের পাশে বালি চাপা দিয়ে মরদেহ গুম করে। এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। কেআর/এমআইএইচএস
শিল্প কারখানাসহ সাধারণ মানুষ জ্বালানি খাতে যে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে তা ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে তিনি তার নিজ বাসভবন রাজবাড়ীর পাংশার মাছপাড়ার মাশালিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট। তাদের থেকে চড়া দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তারপরও সরকার এই খাতে বিশাল অংকের ভর্তূকি দিয়ে চলছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। তিনি জানান, এই সংকট নিরসনে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূপ খনন করা প্রয়োজন। সরকার এরই মধ্যে ১৫০টি কুপ খননের উদ্দ্যোগ নিয়েছে। এসময় জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়াসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। রুবেলুর রহমান/এমআইএইচএস
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে হুতিদের দ্রুত অগ্রগতি অনেককেই অবাক করেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বৃহস্পতিবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বন্দর নগরী মোখা দখল করে নেয়। এত দিন বন্দরটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।বিবিসির জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা নাওয়াল আল-মাগাফি বলেন, মোখা ও এর আশপাশের অঞ্চলের যাঁদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তাঁরা জানিয়েছেন, হুতিরা ঢোকার পরপরই সরকারি বাহিনী দ্রুত সরে যায়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হুতিদের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারগুলো শহর ছেড়ে যেতে শুরু করে। হুতিরা কত দূর পর্যন্ত অগ্রসর হতে চায়, তা নিয়ে সেখানকার বাসিন্দারা অনিশ্চিত ছিলেন।জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইয়েমেনে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের কারণে এ পর্যন্ত ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ ভিটেমাটিছাড়া হয়েছেন। কিন্তু হুতিরা মোখাতেই থামেনি।ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা শুক্রবার মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, হুতি বাহিনী পেরিম দখল করেছে। মাইয়ুন নামে পরিচিত এই ছোট দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির ঠিক ভেতরে অবস্থিত। এর জবাবে সৌদি আরব মোখা বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্য দিয়ে কৌশলগত পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে।বাব আল-মানদেব হলো লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যকার সরু প্রবেশপথ। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পেরিম ও হানিশ দ্বীপ এবং মোখা ও ধুবাব উপকূলীয় শহর। এর ফলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেবে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আরব উপদ্বীপের অন্য প্রান্তে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এরই মধ্যে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য সৌদি আরব ক্রমশ লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।হুতিরা জোর দিয়ে বলছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রয়েছে এবং তাদের অবরোধ নির্দিষ্টভাবে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে কার্যকর হচ্ছে।বাব আল-মানদেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণেকিন্তু ওই অঞ্চলে হুতিদের অগ্রগতি গোষ্ঠীটিকে এমন এক শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে, যেখান থেকে তারা চাইলে ওই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য আরও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।আর ঠিক এই বিষয়টিই রিয়াদের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ২০২২ সাল থেকে যে সংঘাতটি প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে ছিল, তা হঠাৎ করে বিশ্বের কৌশলগতভাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ছড়িয়ে পড়েছে।আরও পড়ুনবাব আল-মানদেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণেহুতিদের অগ্রযাত্রা: বাব–আল মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় সুবিধা পাবে ইরানহুতিদের অগ্রযাত্রা: বাব–আল মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় সুবিধা পাবে ইরান