শিল্প কারখানাসহ সাধারণ মানুষ জ্বালানি খাতে যে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে তা ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে তিনি তার নিজ বাসভবন রাজবাড়ীর পাংশার মাছপাড়ার মাশালিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট। তাদের থেকে চড়া দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তারপরও সরকার এই খাতে বিশাল অংকের ভর্তূকি দিয়ে চলছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে।
তিনি জানান, এই সংকট নিরসনে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূপ খনন করা প্রয়োজন। সরকার এরই মধ্যে ১৫০টি কুপ খননের উদ্দ্যোগ নিয়েছে।
এসময় জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়াসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
রুবেলুর রহমান/এমআইএইচএস
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিমানবন্দরে তখন অপেক্ষায় স্বজনেরা। অপেক্ষার অবসান হলো সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে। কিন্তু প্রিয় মানুষটির দেখা মিললো কফিনের ভেতর। স্পেনের মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ নিয়ে বিমানটি ঢাকায় নামতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কফিন পৌঁছায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়িতে। সেখানে বাদ জুমা উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে জানাজা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ২৫ বছর বয়সী এই তরুণকে। এভাবেই মাত্র দুই মাসের প্রবাসজীবনের সমাপ্তি ঘটলো আলিফের। যে বাড়ি থেকে ভবিষ্যৎ বদলের স্বপ্ন নিয়ে স্পেনে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বাড়িতেই ফিরলেন নিথর হয়ে। গাজীপুরের কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে ইউসুফ হাসান আলিফ। বয়স ২৫ বছর। পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে যান তিনি। মাদ্রিদে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে পান কাজের অনুমতিও। অর্থাৎ যে সময়ে নতুন কাজের অনুমতি পাওয়ার আনন্দে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা, ঠিক সেই সময়ই তার জীবনে নেমে আসে মৃত্যুর ছায়া। গত ৩০ আগস্ট (রোববার) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিট। মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা এলাকার পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে কানারিয়াস সড়কের একটি সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে। গ্যারেজের ভেতরে তখন আটকা পড়েন আলিফ। আগুনের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত ধোঁয়া। শ্বাস নিতে না পেরে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাহায্যের আকুতি জানান তিনি। তার সেই বার্তাটি ছিল-‘আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।’ এরপর আর কোনো বার্তা আসেনি। খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি গ্যারেজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ করা হয়। আগুন যাতে পুনরায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সেখানে থাকা অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেলও বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। আরও পড়ুন স্পেনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ইউসুফ হাসান আলিফের দাফন সম্পন্ন কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা আলিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিষাক্ত ধোঁয়া ও শ্বাসনালিতে মারাত্মক দাহ্য ক্ষতের কারণে তার মৃত্যু হয়। আলিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক নেমে আসে। গত ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের জামে মসজিদে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে তার জানাজা হয়। সেদিন প্রবাসী বাংলাদেশিরা কাঁধে করে বহন করেন আলিফের নিথর দেহ। চোখের জলে জানান বিদায়। এরপর শুরু হয় মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা। আইনি সব প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১০ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-১৩৬০ ফ্লাইটে আলিফের কফিনবন্দী মরদেহ ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে টিকে-৭৪২ ফ্লাইটে করে মরদেহ আসে বাংলাদেশের পথে। শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করে। নির্ধারিত সময়ের ২৩ মিনিট বিলম্বে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায়। তারপর ঢাকা থেকে কালীগঞ্জ। আর কালীগঞ্জ থেকে উত্তরগাঁওয়ের পারিবারিক কবরস্থান-সেখানেই শেষ হলো আলিফের পথচলা। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর উত্তরগাঁও এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা ছুটে আসেন শেষবারের মতো আলিফকে দেখতে। কয়েক মাস আগেও এই বাড়ি থেকেই হাসিমুখে বিদেশের পথে যাত্রা করেছিলেন তিনি। পরিবারের চোখে তখন ছিল স্বপ্ন-ছেলে বিদেশে গিয়ে কাজ করবে, নিজের ভবিষ্যৎ গড়বে, পরিবারের অবস্থার পরিবর্তন করবে। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, সকালে প্রবাসী বাংলাদেশি ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছায়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আব্দুর রহমান আরমান/এমআইএইচএস
১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরের এক সন্ধ্যা। প্রিন্সেস ডায়ানা পরেছিলেন কালো রঙের পোশাক। শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁট, কাঁধখোলা ছোটখাটো ওই পোশাকের নকশা ছিল দারুণ। বিশেষ এক কারণে পোশাকটি আলাদা একটি নামও পেয়েছিল, ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বা ‘প্রতিশোধের পোশাক’। চলতি বছরের শেষের দিকে পোশাকটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হচ্ছে।ডায়ানা ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রিন্সেস অব ওয়েলস। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। ডায়ানার স্বামী ছিলেন প্রিন্স চার্লস, বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের রাজা। তাঁর কারণেই ওই পোশাকের নাম হয়েছিল ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। কারণ, যে সন্ধ্যায় ডায়ানা পোশাকটি পরেছিলেন, সেদিনই চার্লস তাঁর পরকীয়ার বিষয়টি টেলিভিশনে প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন।আগামী ডিসেম্বরে পোশাকটি নিলামে তুলবে খ্যাতনামা নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সদবি’স। চলতি মাসে সেটি লন্ডনে প্রদর্শন করা হবে। তারপর একে একে নেওয়া হবে হংকং, জেনেভা ও নিউইয়র্কে। সবশেষে নিউইয়র্কে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। পোশাকটির আনুমানিক দাম ধরা হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড (১ কোটি ৮৩ লাখ থেকে ৩ কোটি ৬৭ হাজার টাকা)। রিভেঞ্জ ড্রেস নিয়ে মানুষের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। সে কারণে আগেও একবার পোশাকটি বিক্রি হয়েছিল। সেটি ১৯৯৭ সালের কথা, ডায়ানা তখন বেঁচে ছিলেন। পোশাকটি বিক্রির অর্থ ডায়ানা দান করে দিয়েছিলেন। সেবার এর দাম উঠেছিল ৩৯ হাজার ৯৮ পাউন্ড, এখনকার দিনে তা ১ লাখ পাউন্ডের সমান। যে পরিবার পোশাকটি কিনেছিল, তাদের কাছেই এত দিন সেটি ছিল।ডায়ানের সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’রিভেঞ্জ ড্রেসের নকশা করেছিলেন ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ান। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিনা বলেছিলেন, সেদিন সন্ধ্যায় ডায়ানার একটি সাদা গাউন পরার কথা ছিল। তবে তিনি স্বামীর ওপর খুবই রেগে ছিলেন। তাই শেষ পর্যন্ত সাদা গাউন বাদ দিয়ে কালো পোশাক পরেছিলেন। উজ্জ্বল লাল নেইল পলিশও ব্যবহার করেছিলেন। এমনটা আগে কখনোই তাঁকে করতে দেখা যায়নি।আসলে ডায়ানা ছিলেন খুবই ফ্যাশনসচেতন। মৃত্যুর ৩০ বছর পরও পোশাকপরিচ্ছদ নিয়ে তাঁর রুচিবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে। ২০১৩ সালে জনপ্রিয় মার্কিন সংগীতশিল্পী রিয়ানা ফ্যাশনবিষয়ক সাময়িকী গ্লামারকে বলেছিলেন, তাঁর প্রতিটি সাজই ছিল দুর্দান্ত। পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন গ্যাংস্টার।
সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জীর মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্ত্রী ও মেয়ে, ছোট ভাই ও ভাবী, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং প্রশাসনের উদ্দেশে পৃথক নোট লিখে গেছেন পুলক। স্ত্রী প্রিয়াংকা ও মেয়ে প্রকৃতির উদ্দেশে লেখা নোটে পুলক লেখেন, ‘আমাকে ক্ষমা করে দিও। পৃথিবীতে কারও জন্য কিছু থেমে থাকে না।’ মেয়ে প্রকৃতিকে পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি স্ত্রী ও মেয়ের পাশে থাকতে ছোট ভাই দীপকের প্রতি আহ্বান জানান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডের সমকাল কার্যালয় থেকে পুলকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রশাসনের উদ্দেশে লেখা নোটে পুলক উল্লেখ করেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। সুস্থ হওয়ার জন্য দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কথাও নোটে উল্লেখ করেন তিনি। নোটে তিনি প্রশাসনের কাছে তার মরদেহ নিয়ে কোনো ধরনের হয়রানি না করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করেন। আরও পড়ুন বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের উদ্দেশ্যে লেখা নোটে পুলক বিদায় জানান। তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও স্মৃতির কথা উল্লেখ করে পরিবারের খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। ছোট ভাই দীপক ও ভাবি ইতির উদ্দেশে লেখা নোটে পুলক স্ত্রী প্রিয়াংকা ও মেয়ে প্রকৃতিকে আগলে রাখার অনুরোধ করেন। নিজের বিভিন্ন আর্থিক বিষয় ও পাওনা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরীর উদ্দেশে লেখা নোটে পুলক দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রায় দেড় যুগ একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতি তুলে ধরে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিতে বলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলককে মৃত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে রাত ৯টার দিকে মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৫টি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলক বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। HRSশাওন খান/এমআইএইচএস