




শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ডাকসুর সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে ভুল ছবি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচনার পর ১৭ সেপ্টেম্বর ছবিগুলো সরিয়ে নতুন ছবি সংযুক্ত করা হয়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে—
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট পুলিশ লাইনসে ভয়াবহ বিস্ফোরণে পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরের পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন।পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, এই বিস্ফোরণে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি জানান, প্রথমে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে ভবনের গেটে আঘাত হানে। এর পরপরই আত্মঘাতী হামলাকারীদের কয়েজন কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের হত্যা করা হয়। আরও অন্তত তিনজন স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে অগ্রসর হয়।আইজি জুলফিকার হামিদ জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, একটি ভবনের ধসে পড়া দেয়ালের পাশে মানুষজন জড়ো হয়েছেন, তারা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন এবং আহতদের সাহায্য করছেন। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়।
হেরিটেজ শুধু পুরোনো স্থাপনা বা নিদর্শন নয়, জীবন্ত সংস্কৃতি। আর এ চলমানতাই ঐতিহ্য। প্রগতিশীল এ ভাবনার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ আয়োজন করেছিল ‘চেরিশিং আওয়ার হেরিটেজ’ নামের এক উপভোগ্য অনুষ্ঠান। প্রথাগত মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রয়োগ, বিশ্লেষণ ও সৃজনশীল উপায়ে ঐতিহ্যকে উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে ৫০তম আবর্তন থেকে শুরু হয় ‘হেরিটেজ স্টাডিজ’-এর এই ব্যবহারিক রূপ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অংশ নিল ৫১তম আবর্তন। গতবারের মতো এবারও সম্পূর্ণ আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসউদ ইমরান। তাঁকে যথাযথ সহায়তা দিয়েছেন সহযোগী অধ্যাপক সাবিকুন নাহার সিথি। ১৫ সেপ্টেম্বরের এই আয়োজন ছিল বিভাগের ৪০৬ নম্বর কোর্স।ছাত্রদের কসপ্লেএভাবেই বরণ করে নেওয়া হয়েছে অতিথিদের৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁরা কেবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা বা চিন্তাভাবনা করেননি, বরং নিজেদের সৃজনশীলতায় ইতিহাসকে ফুটিয়ে তুলেছেন।অনুষ্ঠানে ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিচালনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় ইউনেসকোর বিভিন্ন উদ্যোগ, অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য। আলোচনায় বিশেষ স্থান পায় জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, মসলিন ও শীতলপাটির মতো পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই অধিকারের বিষয়টি । বক্তারা বলেন, এসব পণ্য কেবল বাণিজ্যিক সামগ্রী নয়; এগুলো আমাদের ভৌগোলিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশও।কর্মশালায় অংশ নেওয়া ছাত্রকে সনদ প্রদানএই বর্ণাঢ্য আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যভিত্তিক কসপ্লে বা সজ্জাপর্ব। শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে সরাসরি ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করেন। এই পর্বে কেউ সেজেছিলেন হাসন রাজা, কেউ মা মনসা, কেউবা রানী ভবানীর মতো ঐতিহাসিক চরিত্র। এ ছাড়া ছিল ঐতিহ্যভিত্তিক আঞ্চলিক খাবারের উপস্থাপনা। অবশ্য কেবল উপস্থাপনা নয়, ছিল স্বাদ গ্রহণের সুযোগও। শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করেন, যা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেও ফুটিয়ে তোলে।অনুষ্ঠানে অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ছিল উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে ড. মাসউদ ইমরান হেরিটেজ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণের পুরোনো ধারণার বদল এবং নতুন ন্যারেটিভ নিয়েও আলোচনা করেন।বক্তব্য রাখছেন সুজান ভাইজপ্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউনেসকো কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ টু বাংলাদেশ ও হেড অব অফিস ড. সুসান ভাইজ ডকুমেন্টেশন বা তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ, গবেষণা, আলোচনা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, যেকোনো সংস্কৃতির দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক পন্থায় প্রামাণ্য দলিল তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভিনা মনির চিঠি তাঁর প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানের কার্যকারিতা তুলে ধরেন। তিনি এ ধরনের উদ্যোগে সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।ডকুমেন্টেশন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন প্রথম আলোর ‘হাল ফ্যাশন’-এর পরামর্শক শেখ সাইফুর রহমান। তিনিও ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে ঐতিহ্যের নানা উপাদান সবার সামনে তুলে ধরার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, ডিজিটাল মাধ্যম ও সঠিক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমেই আমাদের শিকড়ের ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় ও প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।অনুষ্ঠানের বিশেষ বক্তব্যে ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে তাঁর সুদীর্ঘ ও দূরবর্তী বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রত্নতত্ত্ব, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করার ক্ষেত্রে এমন অভিনব আয়োজনগুলো সত্যি একটি চমৎকার মাইলফলক।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক এবং ঐতিহ্যভিত্তিক উদ্যোক্তা ফোয়ারা ফেরদৌস, পৃথিলা শাহনেওয়াজ ও ইশরাত নশিন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐতিহ্য সংরক্ষণ, চর্চা এবং এর নান্দনিক প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মালিহা নার্গিস আহমেদ।উপহার দেওয়া হচ্ছে ফোয়ারা ফেরদৌসকে উপহার নিচ্ছেন পৃথিলা শাহনেওয়াজএমন আয়োজনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন শিক্ষার্থীরা। দেশীয় ঐতিহ্য ও হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে নিজেদের হাত ধরে এভাবে সবার মাঝে ফিরিয়ে আনতে পেরে তাঁরা নিজেদের গর্বিত মনে করছেন। অন্যদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঐতিহ্যভিত্তিক উদ্যোক্তারাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে টিকিয়ে রাখতে এবং বাংলার নিজস্ব ট্র্যাডিশনকে বিশ্বদরবারে বাঁচিয়ে রাখতে এমন নান্দনিক ও প্রায়োগিক কাজ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন।এবারের আয়োজনে কসপ্লে ও ঐতিহ্যবাহী খাবার উপস্থাপনার পাশাপাশি আরও ছিল তিন উদ্যোক্তার স্টল। উল্লেখ্য, এই তিন উদ্যোক্তা ফোয়ারা ফেরদৌস, পৃথিলা শাহনেওয়াজ ও ইশরাত নশিন আবার এ বিভাগেরই প্রাক্তন ছাত্রী।এভাবেই উপাস্থাপিত হয়েছে বিভিন্ন চরিত্রআয়োজকদের মতে, ঐতিহ্য কাচের বাক্সে বন্দী করে রাখার মতো নিছক কোনো বিষয় নয়। এটি জীবন্ত ও পরিবর্তনশীল। তাই একে শুধু ভালোবাসলে চলবে না, নিয়মিত চর্চা করতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা আগামী প্রজন্মের কাছে সফলভাবে পৌঁছে দিতে হবে। ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ উদ্যোগ সে বার্তাটিই জোরালোভাবে পৌঁছে দিতে সফল হয়েছে।ছবি: হাল ফ্যাশন