পরীক্ষা শুরুর আগে মিনহাজুল ইসলাম রোজান মা ফাহমিদা আক্তারকে বলতেন, ‘যদি জিপিএ-৫ না পাই।’ মা বলতেন, ‘না পেলে কিছু হবে না।’ তখন মিনহাজুল রাগ করে বলতেন, ‘মা তুমি কিছু বুঝতেই পারছো না, জিপিএ-৫ না পেলে ভালো জায়গায় ভর্তি হওয়া যাবে না।’
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। ১৫ আগস্ট ব্যবহারিক পরীক্ষার শেষ দিনে মিনহাজুল ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
পরীক্ষার চাপের পাশাপাশি মিনহাজুলের ডায়াবেটিস আছে, তা জানতেন না বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ ও মা ফাহমিদা আক্তার। ৬ আগস্ট ছেলে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে ছেলে ‘পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করছেন’, ‘প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে’, ‘মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে’ এমন কথা বলে চিকিৎসকেরাও তেমন একটা গুরুত্ব দেননি—এমটাই বলছে পরিবার।
পরিবার বলছে, কোথাও ডায়াবেটিসসহ অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। স্যালাইন, ঘুমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে। এতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১৩ আগস্ট রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মিনহাজুল যখন লাইফ সাপোর্টে তখন তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে ৩৮ মিলেমোল/লিটারে পৌঁছেছিল। সেদিনই মা–বাবা প্রথম জানতে পারেন ছেলের আগে থেকেই ডায়াবেটিস ছিল।
মিনহাজুল ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মিনহাজুল। তাঁর বোন সাফিয়া জাহান নবম শ্রেণি ও ভাই আরশাদুল ইসলাম প্লে গ্রুপে পড়ছে।
ফাহমিদা আক্তার। ৬ আগস্ট ছেলে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে ছেলে ‘পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করছেন’, ‘প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে’, ‘মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে’ এমন কথা বলে চিকিৎসকেরাও তেমন একটা গুরুত্ব দেননি—এমটাই বলছে পরিবার। কোথাও ডায়াবেটিসসহ অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। স্যালাইন, ঘুমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে। এতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।
মিনহাজুলের বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ১ সেপ্টেম্বর মিরপুরে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে কথা হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী ফাহমিদা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, ছোটবেলা থেকেই মিনহাজুল ভালো ছাত্র ছিল। তাই পড়াশোনার জন্য বা জিপিএ-৫ পেতেই হবে—এমন চাপ দিতে হয়নি কখনো। কিন্তু নিজে নিজেই চ্যালেঞ্জ নিত ছেলে। আর ছেলের যে ডায়াবেটিস আছে, তা–ও তাঁরা জানতেন না। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ছেলেকে নেওয়া হলেও কেউ ডায়াবেটিস বা অন্য পরীক্ষা করেনি। পরীক্ষাভীতির কথা শুনেই ব্যবস্থাপত্র লিখে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এই করতে করতে ছেলের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতেই দেরি হয়ে গেছে। তারপর তো ছেলেটা চোখের সামনে মারাই গেল।

মায়ের আক্ষেপ
এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল মিনহাজুল। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্যাপ্টেন ছিলেন। বিএনসিসি অ্যাডমিন, প্যারেডের সেন্ট্রাল কমান্ডার, এক্সিকিউটিভ প্যানেল ফটোগ্রাফারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ১৩ জুলাই পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার পর বাসায় এসে বলেছিলেন পরীক্ষা মনমতো হয়নি। এর আগের পরীক্ষাগুলোর পর বাসায় এসে সেই প্রশ্ন নিয়েই বসে থাকতেন। পরের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দেরি করে ফেলতেন। উচ্চতর গণিত পরীক্ষার দিন হলে সিট পরিবর্তনসংক্রান্ত কারণে বিরক্ত ছিলেন। পরে তো ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতেই পারেননি।
মা ফাহমিদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলে নিজে নিজে চ্যালেঞ্জ নিত, কলেজ-বাসার বিভিন্ন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিত। শরীর খারাপ হওয়ার পরও জিপিএ-৫ না পেলে কী হবে, সে কথা বলত। একপর্যায়ে বাসায় যে শিক্ষক ছেলেকে পড়াতেন তিনিও জানতে চান, রেজাল্ট খারাপ হলে আমরা বকা দেব কি না। না বলার পর তিনিও অতিরিক্ত চিন্তা করছে বলে ছেলেকে বকা দেন।’ ফাহমিদা আক্তারের আক্ষেপ, হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনেক দেরিতে ডায়াবেটিসের বিষয়টি ধরা পড়ল। আগেই যদি এ নিয়ে কিছু পরীক্ষা করাতেন চিকিৎসকেরা।
মিনহাজুল ইসলাম অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসার রিপোর্টগুলো দেখে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াবেটিস অ্যান্ড অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ মোহনা জামান প্রথম আলোকে বলেন, পরীক্ষার সময় তীব্র মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন ‘স্ট্রেস হরমোন’ বেড়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা আরও বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে দ্রুত জটিল করে তুলতে পারে। ইনসুলিনের ঘাটতি তীব্র হলে শরীর শক্তির জন্য ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে এবং অতিরিক্ত কিটোন বা অ্যাসিড তৈরি হয়। তখন দেখা দেয় ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস-ডায়াবেটিসের একটি অত্যন্ত গুরুতর জটিলতা। এর ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে মারাত্মক পানিশূন্যতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হওয়া, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়।
ফাহমিদা আক্তারের আক্ষেপ, হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনেক দেরিতে ডায়াবেটিসের বিষয়টি ধরা পড়ল। আগেই যদি এ নিয়ে কিছু পরীক্ষা করাতেন চিকিৎসকেরা।
দেশে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, রক্তে চর্বির আধিক্যের হার ও এর প্রকৃত কারণ খুঁজে দেখার উদ্দেশ্যে ২০২১ সালে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ একটি গবেষণা করে। ৮ বিভাগের ১০ জেলায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে অসংক্রামক রোগ’ শিরোনামের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার ৪৬৮ জন। সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ছিল ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের, ৫৫ শতাংশ। ওই গবেষণায় ২০ বছরের নিচে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪ জনের বেশি ছেলেমেয়ের ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল কর্মসূচির অর্থায়নে ওই গবেষণায় উঠে আসে, নতুন শনাক্ত হওয়া ৬১ শতাংশের ডায়াবেটিসের কোনো উপসর্গ ছিল না।
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ মোহনা জামান প্রথম আলোকে বলেন, ডায়াবেটিসের রোগী সব সময় অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা ওজন কমে যাওয়ার মতো পরিচিত লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন না। ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হলে শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঝিমুনি বা অসংলগ্ন আচরণের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শুরুতেই ডায়াবেটিসের বিষয়টি বিবেচনায় না এলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে এবং পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। প্রচলিত ধারণা ডায়াবেটিস শুধু বড়দের রোগ, কিন্তু বর্তমানে অল্প বয়সীদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই পরিবারের সদস্যদেরও সন্তানদের এ ধরনের শারীরিক পরিবর্তন বা অসুস্থতাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি। ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস নিয়ে রোগী হাসপাতালে এলে দ্রুত শিরায় স্যালাইন, ইনসুলিন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেকট্রোলাইট দিয়ে নিবিড় চিকিৎসা শুরু করতে হয়।
ডায়াবেটিসের রোগী সব সময় অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা ওজন কমে যাওয়ার মতো পরিচিত লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন না। ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হলে শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঝিমুনি বা অসংলগ্ন আচরণের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
৬ আগস্ট থেকে ভোগান্তির শুরু
মিনহাজুলের বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ প্রথম আলোকে বলেন, ৬ আগস্ট ছেলে খারাপ ও দুর্বল লাগার কথা জানান। প্রথমে ভাবেন, দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে পরীক্ষার জন্য রাত জাগতে হয়েছে তাই হয়তো এমন হচ্ছে। শুরুতে মিরপুর ১১–এর একটি হাসপাতালের চিকিৎসককে জানানো হলে কিছু চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেন। ৭ আগস্ট আবার শরীর দুর্বল ও বুকে ব্যথার কথা জানান ছেলে। পরে মিরপুরের আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হলে ছেলেকে বাসায় নিয়ে গল্প করতে বলেন, মনোচিকিৎসককে দেখানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু তখনো ছেলের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। ১২ আগস্ট ছেলের পুরো শরীর চেকআপ করাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ছেলে সকালে নুডলস খেয়ে ফেলেছিলেন বলে তা আর সম্ভব হয়নি। সেদিন রসায়ন ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল। কলেজে যাওয়ার সময়ও মিনহাজুল অসুস্থ ছিলেন। তিনতলায় অনেক কষ্ট করে তোলা হয়। কিন্তু পরে এক শিক্ষক ফোন করে শরীর খারাপের কথা জানান। সেদিন ছেলেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর স্যালাইন ও ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়। চিকিৎসক জানান, প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে, দুদিন ঘুমালেই ঠিক হয়ে যাবে। পরে ১৩ আগস্ট অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় ১৭ আগস্ট। সেখানে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে মাথার খুলি খুলে ফ্রিজে রাখা হয়। ২২ আগস্ট চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার অনুমতি দেন চিকিৎসকেরা। টাকারও ব্যবস্থা করা হয়।
সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে ২৩ আগস্ট সকালে চিকিৎসক ফোন দিয়ে বলেন, বিদেশ নেওয়া যাবে না, ছেলের অবস্থা খারাপ। দোয়া পড়তে বলেন। চেয়ে চেয়ে দেখলাম ছেলেটা মারা গেল। ফ্রিজে রাখা ছেলের মাথার খুলিটা ছেলের লাশের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতালেই খরচ হয়ে গেছে ২২ লাখ টাকা, সব মিলে ছেলের চিকিৎসায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ১৮ আগস্ট ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার টিকিটও কাটা ছিল।’
সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ে মিনহাজুল কখনোই পরিচিত হতে চায়নি বলে সব সময় নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছে। নিজস্ব একটি পরিচিতি গড়ে তুলতে চেয়েছে। রাজনৈতিক কারণে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও পুলিশি হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। সেভাবে ছেলেমেয়েদের সময় দিতে পারেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছেলে মেয়েদের সময় দেওয়া শুরু করেছিলেন।
মা ফাহমিদা আক্তার বললেন, ‘এখন ছেলের পরিচয়ে পরিচিত হয়েছি, কিন্তু এভাবে তো পরিচিত হতে চাইনি।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি আবারো বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতুর পাটাতনের ওপর প্রায় চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি পানি উঠে যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সেতুটিতে চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়তে থাকায় শুক্রবার বিকেলে ঝুলন্ত সেতুর ওপর প্রায় চার ইঞ্চি পানি ওঠে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ঝুঁকি এড়াতে সেতু দিয়ে পারাপার বন্ধ করা হয়েছে। পানি কমে গেলে আবার পর্যটকদের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে। চেঙ্গী, মাইনী ও কাচালং নদী এবং ভারতের মিজোরাম থেকে আসা কর্ণফুলী নদীর পানি কাপ্তাই হ্রদে এসে পড়ায় কয়েক দিন ধরে হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ছে। উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকায় শুক্রবার বিকেলে সেতুর পাটাতন পানিতে ডুবে যায়। এর আগে ২৯ আগস্টও পানির উচ্চতা বেড়ে ঝুলন্ত সেতুটি তলিয়ে গিয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ পর ৫ সেপ্টেম্বর পানি নেমে গেলে সেতুটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কাপ্তাই হ্রদের পানি ১০৫ ফুটের বেশি হলে সাধারণত সেতুটির পাটাতন ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় শুক্রবার সকালে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আবারো খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়। সকাল ১০টার দিকে হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএলে পৌঁছালে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর জলকপাটগুলো বন্ধ করা হয়েছিল। চলতি বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার জলকপাট খোলা হলো। আবু দারদা খান আরমান/এফএ
বাংলাদেশের ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। কেনেডি-লুগার যুব বিনিময় ও শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আগেই বিভ্রান্তি পোস্টে আরও বলা হয়েছে, মেধাভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আশ্রয়দাতা পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পাশাপাশি সেখানকার একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সুশাসন, ব্যবসা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হতে পারবেন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন পরিবেশে পড়াশোনা, নেতৃত্ব এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা। আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এমআরএম
বৃষ্টির মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কালিন্দী নদীর সীমান্ত দিয়ে গতকাল শুক্রবার অন্তত ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। খবর পেয়ে স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে ওই ব্যক্তিদের নিয়ে ভারতের দিকে ফিরে যায় বিএসএফ।বিষয়টি গতকাল রাতে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহ।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকা থেকে দক্ষিণে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর চর এলাকায় ওই ব্যক্তিদের নিয়ে আসে বিএসএফ। ভারতের ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এ সময় একটি নৌকা ও একটি স্পিডবোট ব্যবহার করেন।বিষয়টি দেখতে পেয়ে বিজিবির টহল দল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে বিজিবির সদস্যরা বৃষ্টির মধ্যে স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির সদস্যদের অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাতে পারেনি।লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহ, নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক যেকোনো ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।বিজিবি জানায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিএসএফের সদস্যরা ওই ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে ভারতের ভেতরে চলে যান।বিজিবির কাছ থেকে পাওয়া ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে সীমান্তের জলসীমায় দুটি নৌযান পাশাপাশি আছে। একটিতে রেইনকোট পরা ও অস্ত্রধারী বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় আছেন। অন্য নৌযানে কয়েকজন ব্যক্তি আছেন। বিজিবির সদস্যদের ওই নৌযানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহ বলেন, যেকোনো ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।