জাতীয়

এআই আমাদের বেকার করবে না, বরং বহুগুণ বেশি উৎপাদনশীল করবে—সানি মো. আশরাফ খান

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
এআই আমাদের বেকার করবে না, বরং বহুগুণ বেশি উৎপাদনশীল করবে—সানি মো. আশরাফ খান
এআই আমাদের বেকার করবে না, বরং বহুগুণ বেশি উৎপাদনশীল করবে—সানি মো. আশরাফ খান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন চাকরি হারানোর শঙ্কা বাড়ছে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও গবেষক সানি মো. আশরাফ খান দেখছেন ভিন্ন এক সম্ভাবনা। তাঁর মতে, সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এআই বাংলাদেশের কর্মশক্তিকে প্রতিস্থাপন নয়, বরং বহুগুণ বেশি উৎপাদনশীল করে তুলতে পারে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করছেন আশরাফ খান। ২০০৮ সালে ইনফ্রাটেক কনসালট্যান্টস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন; বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান। এআই-সক্ষম জনশক্তি, এজেন্টিক এআই, ভার্চ্যুয়াল রেমিট্যান্স এবং ভবিষ্যতের শিক্ষা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সানি মো. আশরাফ খান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রাহিতুল ইসলাম

অনেক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বলছে, এআই ও অটোমেশন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বিপুলসংখ্যক চাকরি কমিয়ে দিতে পারে। আপনিও কি এই আশঙ্কা করেন?

সানি মো. আশরাফ খান: আশঙ্কাটি একেবারে অমূলক নয়। আমরা যদি কিছু না করি, অটোমেশন অবশ্যই কিছু প্রচলিত কাজের প্রয়োজন কমিয়ে দেবে। কিন্তু প্রযুক্তির ইতিহাস বলছে, প্রযুক্তি শুধু কাজ বিলুপ্ত করে না; কাজের ধরনও বদলে দেয়। তাই আসল প্রশ্ন এআই আসবে কি না, সেটি নয়। এআই তো এরই মধ্যে এসে গেছে। প্রশ্ন হলো, আমাদের মানুষ কি এর জন্য প্রস্তুত?

আমরা যদি কর্মশক্তিকে এআই-সক্ষম করে তুলতে পারি, তাহলে যে কর্মী আজ প্রযুক্তির কারণে চাকরি হারানোর ভয় পাচ্ছেন, তিনিই আগামী দিনে অনেক বেশি উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারেন। একজন এআই-সক্ষম কর্মী অনেক ক্ষেত্রে আগে ৫ বা ১০ জন মিলে যে কাজ করতেন, তার বড় অংশ একাই করতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য তাই মেশিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা নয়; মেশিনকে কাজে লাগানোর সক্ষমতা তৈরি করা।

‘এআই-সক্ষম জনশক্তি’ বলতে আপনি ঠিক কী বোঝাচ্ছেন?

সানি মো. আশরাফ খান: একসময় কম্পিউটার জানা আলাদা দক্ষতা ছিল। পরে সেটি প্রায় সব পেশার অংশ হয়ে গেছে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। একজন দরজি এআই দিয়ে পোশাকের নকশা তৈরি ও বাজার বিশ্লেষণ করতে পারেন। একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উৎপাদন পরিকল্পনা, হিসাব, বিপণন কিংবা বিদেশি ক্রেতা খুঁজতে এআই ব্যবহার করতে পারেন। একজন তরুণ কোডিংয়ে বিশেষজ্ঞ না হয়েও এআইয়ের সহায়তায় অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারেন। আমরা দীর্ঘদিন প্রযুক্তি আমদানি করেছি। এখন আমার ভাবনা হলো, এআই যুগে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি সক্ষমতা হওয়া উচিত এআই-সক্ষম মানবসম্পদ। বিশ্বে দক্ষ মানুষের চাহিদা থাকবে, কিন্তু দক্ষতার সংজ্ঞা বদলে যাবে। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে যদি এখনই সেই নতুন দক্ষতায় তৈরি করতে পারি, তাহলে আমাদের সামনে বিশাল বৈশ্বিক বাজার রয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানবসম্পদ সম্পর্কে আপনাকে কী শিখিয়েছে?

সানি মো. আশরাফ খান: সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো বাংলাদেশে মেধার অভাব নেই, সুযোগে প্রবেশের পথের অভাব আছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যেসব কর্মসূচির নকশা ও বাস্তবায়নে আমি নেতৃত্ব দিয়েছি, সেগুলোতে সাড়ে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী এবং ৪ হাজারের বেশি মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার রয়েছেন। আমরা সব সময় একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছি, প্রশিক্ষণই শেষ কথা নয়; প্রশিক্ষণের পর আয় হচ্ছে কি না, সেটিই আসল। বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত কর্মসূচির মাধ্যমে ১ হাজারের বেশি স্টার্টআপকে সহায়তা এবং তিন হাজারের বেশি উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের ৩৬ শতাংশ নারী। আমার অভিজ্ঞতা হলো, একজন সাধারণ তরুণকে যদি বাস্তব দক্ষতা, বাজার এবং আয়ের একটি পরিষ্কার পথ দেখানো যায়, তিনি নিজের জীবন নিজেই বদলে দিতে পারেন। তাই আমি মনে করি, মানবসম্পদ উন্নয়ন কোনো সামাজিক ব্যয় নয়; এটি একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিনিয়োগ।

সানি মো. আশরাফ খান

আমরা এখন জেনারেটিভ এআই নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু এর পরের ধাপ কী?

সানি মো. আশরাফ খান: আমার কাছে মনে হয়, এখানেই পরবর্তী বড় পরিবর্তনটি ঘটবে। আমরা এখন যে এআই ব্যবহার করছি, তাকে সাধারণত একটি প্রশ্ন করি বা নির্দেশনা দিই সে উত্তর দেয়, লেখা তৈরি করে, ছবি বানায়, কোড লেখে কিংবা বিশ্লেষণ করে। পরবর্তী ধাপ হচ্ছে এজেন্টিক এআই; অর্থাৎ এআই শুধু আমাকে বলবে না কী করতে হবে, আমার অনুমতি ও নির্ধারিত সীমার মধ্যে আমার হয়ে কাজও করবে। ধরুন, আমি বললাম, আগামী সপ্তাহে আমাকে থাইল্যান্ড যেতে হবে। আজকের এআই আমাকে ফ্লাইট ও হোটেলের তালিকা দিতে পারে। ভবিষ্যতের এআই এজেন্ট আমার পছন্দ জানবে, ক্যালেন্ডার দেখবে, ফ্লাইট খুঁজবে, হোটেল তুলনা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ও ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করে পুরো কাজটি এগিয়ে নেবে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা লেনদেনে আমার অনুমোদন থাকবে, কিন্তু প্রতিটি ধাপে আমাকে নিজে বসে কাজ করতে হবে না। এআই তার পরিবেশ ও স্ক্রিন বুঝে বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীকে সহায়তা করতে পারে। বড় পরিবর্তনটি হলো আজ আমরা সফটওয়্যার চালাই; আগামী দিনে এআই আমাদের হয়ে সফটওয়্যার চালাবে। একজন মানুষকে হয়তো এখন পাঁচটি অ্যাপ খুলে ২০টি ধাপ অনুসরণ করে একটি কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতে তিনি শুধু তাঁর লক্ষ্যটি বলবেন। তাঁর এআই এজেন্ট প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সফটওয়্যার, তথ্য ও ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করে কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। তখন একজন মানুষের উৎপাদনশীলতার সংজ্ঞাই বদলে যাবে। তাই আমাদের তরুণদের শুধু এআই ব্যবহার শেখালে হবে না; এআই এজেন্ট তৈরি, পরিচালনা ও কাজে লাগানোও শেখাতে হবে। ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা শুধু মানুষ বনাম এআই নয়; বরং এআই ব্যবহারকারী একজন মানুষ বনাম দক্ষভাবে একাধিক এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে সক্ষম আরেকজন মানুষের মধ্যেও হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে কয়েকজন এআই গবেষক চাকরি ছেড়ে সতর্ক করছেন, ভবিষ্যতে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, এমনকি মানবজাতির জন্য বিপজ্জনকও হতে পারে। এসব খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করছে। আমাদের কি সত্যিই এআইকে ভয় পাওয়া উচিত?

সানি মো. আশরাফ খান: দেখুন, এআইয়ের ঝুঁকি বোঝার জন্য ভবিষ্যতে কী হবে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এআই দিয়ে প্রতারণা হচ্ছে, ভুয়া ছবি-ভিডিও ও খবর তৈরি হচ্ছে, সাইবার অপরাধ হচ্ছে—এমনকি ভুল তথ্য দিয়ে মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে—এসব আমরা এর মধ্যেই দেখছি। তাই শুধু ‘একদিন এআই মানুষকে মেরে ফেলবে কি না’, এই ভয় নিয়ে আলোচনা করলে আজকের বাস্তব সমস্যাগুলোই আড়ালে পড়ে যাবে। আমি বিষয়টিকে গাড়ির সঙ্গে তুলনা করি। গাড়ি যেমন আমাদের জীবন অনেক সহজ করেছে, তেমনি গাড়ি দিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে। তাই আমরা গাড়ি নিষিদ্ধ করিনি। আমরা ব্রেক বানিয়েছি, ট্রাফিক আইন করেছি, ড্রাইভিং লাইসেন্স করেছি, সিটবেল্ট দিয়েছি। এআইয়ের ক্ষেত্রেও আমাদের ঠিক এটাই করতে হবে—প্রযুক্তি বন্ধ করা নয়, প্রযুক্তির সঙ্গে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থাও তৈরি করা। যেসব গবেষক সতর্ক করছেন, তাঁদের মূল উদ্বেগটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বলছেন না যে আজকের এআই কাল সকালেই মানুষকে মেরে ফেলবে। প্রশ্নটা হচ্ছে, আগামী দিনের এআই যখন আরও শক্তিশালী হবে এবং মানুষের হয়ে নিজে নিজে কাজ করতে পারবে, তখন আমরা তার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে নিশ্চিত করব? ধরুন, আজ আমি এআইকে একটি প্রশ্ন করি, সে আমাকে উত্তর দেয়। কিন্তু আমরা যে এজেন্টিক এআইয়ের দিকে যাচ্ছি, সেখানে আমি তাকে একটি কাজ দেব, আর সে আমার হয়ে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করবে, তথ্য খুঁজবে, সিদ্ধান্তের অপশন তৈরি করবে এবং অনেক কাজ নিজেই এগিয়ে নেবে। তখন তাকে কতটুকু স্বাধীনতা দেওয়া হবে, কোথায় সে থামবে এবং কোন সিদ্ধান্তে মানুষের অনুমতি অবশ্যই লাগবে—এই প্রশ্নগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মতে, আমাদের এআইকে ভয় পাওয়া উচিত নয়; কিন্তু এআইকে হালকাভাবেও নেওয়া উচিত নয়।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ভুল হবে ভয় পেয়ে এআই থেকে দূরে থাকা। তাহলে অন্য দেশ যখন এআই দিয়ে তাদের মানুষের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, আমরা পিছিয়ে পড়ব। তাই আমাদের তরুণদের শুধু ‘এআই কীভাবে ব্যবহার করতে হয়’ শেখালে হবে না। তাঁদের এটাও শেখাতে হবে, কখন এআইয়ের কথা বিশ্বাস করতে হবে, কখন যাচাই করতে হবে, কোন কাজ এআইকে দেওয়া যাবে এবং কোন সিদ্ধান্ত মানুষের হাতেই রাখতে হবে।

তাহলে এআই ও এজেন্টিক এআইয়ের যুগে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও কি আমূল বদলাতে হবে?

সানি মো. আশরাফ খান: অবশ্যই। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা এখনো অনেকাংশে পরীক্ষা করে আপনি কী জানেন বা কতটা মনে রাখতে পেরেছেন। ভবিষ্যতের শিক্ষা পরীক্ষা করবে আপনি কী করতে পারেন, কী তৈরি করতে পারেন এবং কোন সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এআইয়ের যুগে তথ্যের অভাব নেই। কয়েক সেকেন্ডেই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই শুধু তথ্য মনে রাখার মূল্য কমবে; তথ্যকে কাজে লাগানোর সক্ষমতার মূল্য বাড়বে। শিক্ষাব্যবস্থাকে তাই ‘ডিগ্রি আগে, দক্ষতা পরে’, এই ধারণা থেকে বের হতে হবে। ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে ব্যক্তিকেন্দ্রিকও। একই ক্লাসে ৫০ জনকে একইভাবে শেখানোর পরিবর্তে এআই একজন শিক্ষার্থীর ভাষা, সক্ষমতা ও শেখার গতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে।

কিন্তু ভবিষ্যতের এমন শিক্ষা মডেল বাংলাদেশ থেকেই কেন তৈরি হবে? উন্নত দেশগুলো তো প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে।

সানি মো. আশরাফ খান: কারণ, আমাদের প্রয়োজনটা অনেক বেশি। আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী আছে, সীমিত সম্পদ আছে এবং দ্রুত কর্মসংস্থান তৈরির প্রয়োজন আছে। এই সীমাবদ্ধতাই আমাদের উদ্ভাবনে বাধ্য করবে। যখন লাখ লাখ মানুষকে কম খরচে, মুঠোফোনে, বিভিন্ন ভাষায় এবং সীমিত ইন্টারনেট সংযোগের মধ্যেও শেখাতে হবে, তখন এমন একটি শিক্ষা মডেল তৈরি করতে হবে, যা হবে সহজ, সাশ্রয়ী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং ফলাফলমুখী। আমরা এরই মধ্যে বড় পরিসরে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এখন সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে এআই যুক্ত করার সময় এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতের শিক্ষার একটি কার্যকর মডেল বাংলাদেশে তৈরি হয়ে একদিন অন্য দেশেও রপ্তানি হতে পারে।

সানি মো. আশরাফ খান

যাঁরা প্রচলিত শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছেন, স্কুল থেকে ঝরে পড়া কিংবা তুলনামূলক কম দক্ষ তরুণ, এআই কি তাঁদের আরও পিছিয়ে দেবে?

সানি মো. আশরাফ খান: আমি বরং এখানেই এআইয়ের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা দেখি। আগে একটি অ্যাপ বানাতে হলে প্রোগ্রামিং জানতে হতো। এখন একজন মানুষ তাঁর প্রয়োজনটি সাধারণ ভাষায় ব্যাখ্যা করেও এআইয়ের সাহায্যে একটি অ্যাপ তৈরির অনেকটা কাজ করতে পারেন। যিনি ডিজাইনার নন, তিনিও ডিজাইন করতে পারছেন। মার্কেটিং না পড়েও একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এআইয়ের সহায়তায় ডিজিটাল প্রচারণা চালাতে পারছেন। অর্থাৎ এআই দক্ষতা অর্জনের প্রবেশদ্বারটাকে অনেক নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিতে পারলে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় পিছিয়ে থাকা একজন তরুণও এআই ব্যবহার করে উৎপাদনশীল মানুষ হয়ে উঠতে পারেন। আমার কাছে এটাই এআইয়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক সম্ভাবনাগুলোর একটি।

কিন্তু রোবট ও অটোমেশনের কারণে কারখানায় যদি মানুষের প্রয়োজন কমে যায়, তাহলে নতুন কর্মসংস্থান আসবে কোথা থেকে?

সানি মো. আশরাফ খান: পুনরাবৃত্তিমূলক কিছু কাজে মানুষের প্রয়োজন অবশ্যই কমবে। কিন্তু একই সঙ্গে এমন মানুষের চাহিদা বাড়বে, যাঁরা মেশিন চালাতে, রক্ষণাবেক্ষণ করতে, প্রোগ্রাম করতে, উন্নত করতে এবং নতুন পণ্য ডিজাইন করতে পারবেন। ভবিষ্যতে একটি বাড়িও ছোট একটি অর্থনৈতিক ইউনিট হতে পারে। আমার কাছে ভবিষ্যতের শিল্পায়ন শুধু বড় কারখানা নয়, প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়ানো।

আপনার সাম্প্রতিক গবেষণায় ‘ভার্চ্যুয়াল রেমিট্যান্স’ ধারণাটি এসেছে। বিষয়টি কী?

সানি মো. আশরাফ খান: আমরা রেমিট্যান্স বলতে সাধারণত বুঝি, একজন মানুষ দেশ ছেড়ে বিদেশে যাবেন, সেখানে কাজ করবেন, তারপর দেশে টাকা পাঠাবেন। ভার্চ্যুয়াল রেমিট্যান্স হলো, মানুষটি বাংলাদেশেই থাকবেন, কিন্তু তাঁর আয় আসবে বিদেশ থেকে। ডিজিটাল দক্ষতায় প্রশিক্ষিত ১ হাজার ৬০০ তরুণকে নিয়ে আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ ঘরে বসে কাজ করছেন, ৯০ শতাংশের বেশি কাজের জন্য শহরে স্থানান্তর এড়াতে পেরেছেন এবং প্রায় ৩৫ শতাংশ ইতোমধ্যে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজ করছেন।

রাজশাহীর একজন তরুণ যদি ইউরোপের প্রতিষ্ঠানের ডিজাইন করেন কিংবা বরিশালে বসে কেউ উত্তর আমেরিকার প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল মার্কেটিং করেন, সেটিও তো বৈদেশিক আয়।

পার্থক্য হলো, তাঁকে দেশ ছাড়তে হচ্ছে না, পরিবার ছাড়তে হচ্ছে না। আমরা যদি বিদেশে কর্মী পাঠানোর মতোই পরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল কর্মী তৈরির জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে ডিজিটাল বা ভার্চ্যুয়াল রেমিট্যান্স একসময় বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে।

আপনি প্রতিটি পরিবারকে ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেন। এটি কি বাস্তবে সম্ভব?

সানি মো. আশরাফ খান: আমার লক্ষ্য খুব সহজ, বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন মানুষ যেন ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে আয় করেন। একটি পরিবারের একজন সদস্য যখন অনলাইনে আয় করেন, তখন পুরো পরিবারের প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বদলে যায়। পরবর্তী প্রজন্ম তখন প্রযুক্তিকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখে না; আয় ও কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবেও দেখে। এটি করতে হলে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, সহজ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা, স্থানীয় ডিজিটাল হাব ও ইনকিউবেটর এবং গ্রামীণ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন প্রয়োজন। একসময় রাস্তা সেতু অর্থনীতির অবকাঠামো ছিল; এখন ইন্টারনেট, ডিজিটাল পেমেন্ট ও দক্ষতাও অর্থনীতির অবকাঠামো।

তাহলে সরকার, শিল্প খাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ কী?

সানি মো. আশরাফ খান: তিন পক্ষকে একই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সরকারকে এআই-সক্ষম মানবসম্পদ ও ডিজিটাল রেমিট্যান্সকে জাতীয় অর্থনৈতিক সক্ষমতা হিসেবে দেখতে হবে। প্রশিক্ষণের সাফল্য শুধু কতজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তা দিয়ে নয়; কতজন আয় বা কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন, সেটি দিয়ে পরিমাপ করতে হবে। শিল্প খাতকে প্রশিক্ষণের নকশায় সরাসরি যুক্ত করতে হবে। কারণ, আগামী তিন বা পাঁচ বছরে কোন দক্ষতার প্রয়োজন হবে, সেটি বাজারই সবচেয়ে ভালো বলতে পারে। আর বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন স্নাতক তৈরি করতে হবে, যিনি শুধু কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবেন না, বাস্তবে কিছু তৈরি করতে পারবেন। সরকার, শিল্প ও শিক্ষা—এই তিন জায়গা একসঙ্গে পরিবর্তিত হলে এআইয়ের অভিঘাতকে বাংলাদেশ বড় অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করতে পারে।

এআই যুগের বাংলাদেশ নিয়ে আপনার স্বপ্ন এক বাক্যে কী?

সানি মো. আশরাফ খান: আমরা যেন শুধু ভবিষ্যৎ আমদানি না করি, ভবিষ্যৎ তৈরিও করি, এমন একটি এআই–সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলি। যেখানে প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন ডিজিটাল অর্থনীতিতে আয় করবেন এবং বাংলাদেশ দেখাবে, একটি উন্নয়নশীল দেশও ভবিষ্যতের জন্য মানুষ তৈরিতে বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে।

আপনাকে ধন্যবাদ।

সানি মো. আশরাফ খান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সিনিয়র অফিসারের ৯০৩ পদ, এমসিকিউর প্রস্তুতিতে যে যে কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে
সিনিয়র অফিসারের ৯০৩ পদ, এমসিকিউর প্রস্তুতিতে যে যে কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতি তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের আগ্রহ আছে। ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ে তোলা, ভালো বেতন কাঠামো, ইনসেনটিভ বোনাস, লাঞ্চ ভাতা, হাউস লোন সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধার কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার হার আগের তুলনায় অনেক গুণ বেড়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয় রাষ্টায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রম (এমসিকিউ, লিখিত, ভাইভা) পরিচালনা করে। ২১/৫/২০২৬ তারিখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৯টি ব্যাংক ও ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৯ম গ্রেডে সিনিয়র অফিসার জেনারেলের ৯০৩ পদের প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোডের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।সমাজসেবায় ১৪৮৫ পদে নিয়োগ: আবেদনকারী কত, পরীক্ষার তারিখ কবেবেতন স্কেল: জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী, এই পদের মূল বেতন স্কেল ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা। এর পাশাপাশি নিয়মানুযায়ী অন্যান্য প্রদেয় সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা প্রদান করা হবে।সিনিয়র অফিসারের ৯০৩ পদের প্রথমে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমসিকিউ পরীক্ষা ১০০ নম্বরের। প্রশ্নের মান বণ্টনে ইংরেজি ব্যাকরণ ও সাহিত্য ২০, বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য ২০, সাধারণ গণিতে ২০, ফিন্যান্সিয়াল এবং ব্যাংকিং নলেজ ১০, অ্যানালিটিক্যাল স্কিল ২০, বেসিক নলেজ অন আইসিটিতে ১০ নম্বর। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নিচের কৌশলগুলো অবলম্বন করতে পারেন প্রার্থীরা।৫১তম বিসিএস সাধারণ না বিশেষ, কোনটি আগে আসছে১. বিগত বছরের ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করাব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয় কর্তৃক ইতিপূর্বে পরিচালিত সব নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে।২. সব বিষয়ে সমান গুরুত্ব দেওয়ামোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সব বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আপনার বাংলা বা ইংরেজি কিংবা গণিতে যথেষ্ট দক্ষতা থাকতেই পারে। কিন্তু ফিন্যান্সিয়াল ও ব্যাংকিং নলেজ বিষয়কে যদি আপনি গুরুত্ব না দেন, তাহলে এই বিষয়ে মোট ১০টি এমসিকিউ প্রশ্ন আসবে, যার উত্তর দেওয়া আপনার জন্য কঠিন হবে।৩. গণিত ও অ্যানালিটিক্যাল স্কিল সমাধান করতে হবে দ্রুত সময়েব্যাংকের চাকরির জন্য গণিত এবং অ্যানালিটিক্যাল স্কিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই দুই বিষয়ে ৪০টি প্রশ্ন থাকবে। অনেকের গণিত নিয়ে ভয় থাকে। কিন্তু গণিতকে ভালোবাসতে হবে। এই ৪০ নম্বর অনেকের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।৪. সময় ব্যবস্থাপনা করতে হবেআপনি যদি একটু কৌশলী হন, আপনার জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বা এমসিকিউ পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়া সহজ হবে। আপনাকে শতকরা ৭০ নম্বর অর্জনের জন্য টার্গেট করে পরীক্ষা দিতে হবে। নেগেটিভ মার্ক বাদ দেওয়ার পরেও আপনার ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ নম্বর নিশ্চিত করতে পারলে, এমসিকিউ উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন।বিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, দিনে ভাতা ২০০, যাঁরা আবেদনের যোগ্য ৫. আন্দাজে উত্তর না দেওয়াপ্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাওয়া যাবে, কিন্তু প্রতিটি ভুল উত্তরে শূন্য দশমিক ২৫ (.২৫) নম্বর কাটা যাবে, তাই আন্দাজে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একটি প্রশ্ন এল, যার সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা নেই। কোনো একাডেমিক বই বা গাইড বই থেকে এই প্রশ্ন দেখেননি। এমন প্রশ্নের উত্তর আন্দাজে না দেওয়া ভালো।৬. বাসায় মডেল টেস্ট দেওয়াপ্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাস করতে হলে ভালো প্রস্তুতির বিকল্প নেই। বাজারে ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতির বিভিন্ন প্রকাশনীর নানা বই পাওয়া যায়। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নেওয়ার পর বাসায় প্রতিদিন স্টপওয়াচ দেখে দুটি করে মডেল টেস্ট দিতে হবে। অনলাইন অ্যাপ বা গাইড বই থেকেও মডেল টেস্ট দিতে পারবেন। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো হবে।৭. সাম্প্রতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখাজাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, মাসিক ম্যাগাজিন থেকে সমসাময়িক জাতীয় বিষয়, অর্থনৈতিক বিষয়, আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজ রাখতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক সামিটের তারিখ, মুদ্রার বিনিময় হার, সংস্থার প্রধান নির্বাহী এই তথ্যগুলো পরিবর্তনশীল। তাই এসব সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানতে হবে।৮. কমন প্রশ্নগুলো আগে উত্তর দেওয়াধৈর্যসহকারে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পরিকল্পনামাফিক পড়াশোনা করলে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্নই আপনি কমন পাবেন। ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি প্রশ্ন আপনি খুব সহজেই উত্তর করতে পারবেন। তাই ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে কমন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে।অষ্টম ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষা: যে ৮ পরামর্শ অনুসরণ করতে পারেন ৯. কঠিন প্রশ্নগুলো পুনরায় সমাধানের চেষ্টা করাপরীক্ষার হলে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। প্রথম ধাপে যেই প্রশ্নগুলো আপনি উত্তর দেননি, দ্বিতীয় ধাপে নিজের কমনসেন্স ব্যবহার করেও কঠিন প্রশ্নগুলোর মধ্যে কিছু প্রশ্নের উত্তর আপনি বের করতে পারবেন।আবেদনকারী প্রার্থীদের মনে রাখতে হবে, ব্যাংকে চাকরিতে এমসিকিউ পরীক্ষা ফার্স্ট হওয়ার পরীক্ষা নয়, এটি চাকরির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াই। চাকরি নির্ধারিত হয় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে।শূন্যপদের বিবরণ মোট ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকে ৯০৩ জন জনবল নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পদের সংখ্যারূপালী ব্যাংক পিএলসি: ৪৭১টিঅগ্রণী ব্যাংক পিএলসি: ২৪০টিবাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: ৮০টিকর্মসংস্থান ব্যাংক: ৩৯টিরাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক: ৩২টিবাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন: ২০টিইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ: ১১টিবাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি: ০৫টিবেসিক ব্যাংক পিএলসি: ০২টিআনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক: ০২টিপ্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: ০১টিলেখক: রাজিব খান, সিনিয়র অফিসার, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষা দুটি পর্ব (জেএআইবিবি, এআইবিবি) উত্তীর্ণ এবং বিবিএ, এমবিএ, (ফিন্যান্স বিভাগ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
গ্যাস–সংকট নয়, এটি জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট

গ্যাস–সংকট নয়, এটি জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে অ্যাকাউন্টিংয়ে বিশেষ কোর্স, যাঁরা অ্যাকাউন্টিংয়ের পেশাজীবী নন তাঁদের জন্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে অ্যাকাউন্টিংয়ে বিশেষ কোর্স, যাঁরা অ্যাকাউন্টিংয়ের পেশাজীবী নন তাঁদের জন্য

আড়াই শ বছরের পুরোনো শ্যামসুন্দর মন্দির, লোকমুখে প্রচার এক রাতেই নির্মাণ

আড়াই শ বছরের পুরোনো শ্যামসুন্দর মন্দির, লোকমুখে প্রচার এক রাতেই নির্মাণ

লেওনার্দো
লেওনার্দো

প্রাণহত্যাবিরোধী লেওনার্দো দা ভিঞ্চি তাঁর চরম দারিদ্র্যের সময়টাতেওনিয়মিতই বাজারে যেতেন; পকেটের টানাপোড়েন সত্ত্বেও বাজার থেকেবন্দী পাখিদের কিনে পরক্ষণেই তাদের উড়িয়ে দিতেন আকাশে।প্রাণকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর সক্রিয় ধ্যান, তাঁর প্যাশান।ভেজিটারিয়ান লেওনার্দো ঘরে ঢুকে খাবারটা খেয়েইআঁকতে বসে যেতেন আর নিমেষেই মারাত্মক সব মারণাস্ত্রের নকশাএঁকে ফেলতেন!আঁকাটুকু শেষ হওয়ামাত্রই নতুন সৃষ্টির আনন্দে এক অন্তর্গত আলোয়উজ্জ্বল হয়ে উঠত তাঁর চোখমুখ;মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের পোর্ট্রেটও তিনি আঁকতেন গভীর বিশ্বস্ততায়।আত্মার সৌন্দর্যে মুগ্ধ লেওনার্দো এভাবেইপশুপ্রবৃত্তির অশুভত্বকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ছিলেন একজন টাইটান।লেওনার্দোর ভিতরে ছিল এক কৃষ্ণ অর্ফিয়ুস, যে বহন করে চলত দুটি চন্দ্রনদী,যা আলো ও অন্ধকারকে নিয়ে অনন্তর বয়ে গিয়েছিল অনন্তের পানে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
মারেসকার মিউজিক থেরাপি, গানই ম্যান সিটির সাফল্যের রহস্য

মারেসকার মিউজিক থেরাপি, গানই ম্যান সিটির সাফল্যের রহস্য

কাগজের কলম বানিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শরিফুলের স্বপ্নের পথচলা

কাগজের কলম বানিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শরিফুলের স্বপ্নের পথচলা

১৩ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পাঁচ শতাংশের কম, কোন ব্যাংক কোন অবস্থানে

১৩ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পাঁচ শতাংশের কম, কোন ব্যাংক কোন অবস্থানে

ইসরায়েলি বসতির পণ্যে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা—ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে কতটা প্রতীকী, কতটা কার্যকর
ইসরায়েলি বসতির পণ্যে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা—ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে কতটা প্রতীকী, কতটা কার্যকর

অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি ইহুদি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। ৮ সেপ্টেম্বর দেশটির পার্লামেন্টে ঘোষিত এ সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে লন্ডনের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অভিযোগ করেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী তথাকথিত সেটলার সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। পশ্চিম তীরের এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ বলে মনে করে যুক্তরাজ্য, আর এবারের ঘোষণায় সেই অবস্থানকে সরকারি নীতির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘোষণাকে যুক্তরাজ্যের ইসরায়েল-নীতির সামগ্রিক পুনর্বিন্যাস বলে বর্ণনা করেছেন মিলিব্যান্ড নিজেই। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদে গত জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়া অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই ব্রিটেনের ঐতিহ্য, আর নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব’—মার্কিন সাময়িকী ফরচুন এমনটাই জানিয়েছে।নিষেধাজ্ঞায় ঠিক কী থাকছেযুক্তরাজ্য সরকার মূলত পাঁচটি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। প্রথমত, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।দ্বিতীয়ত, বসতি কার্যক্রম থেকে মুনাফা অর্জনকারী বা তাতে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করতে নতুন সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে, যার আওতায় আর্থিক, নির্মাণ, অবকাঠামো ও রিয়েল এস্টেট-সংশ্লিষ্ট সেবাও আসবে।যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন—মোট ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতিশীল, আর ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান রক্ষায় জাতীয় বা ইউরোপীয় পর্যায়ে (ইসরায়েলি অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে) বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের সময় এসেছে।তৃতীয়ত, অবৈধ বসতি এলাকার জমি বা সম্পত্তির বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।চতুর্থত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কাঠামো আরও কঠোর করা হচ্ছে।পঞ্চমত, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলায় উসকানি বা সহায়তাকারী কয়েকজন উগ্রপন্থী বসতকারীর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে ইসরায়েলি বসতির প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, বসতি এলাকার আঙুরখেতে উৎপাদিত মদ ও ডেড সির (মৃত সাগর বলে পরিচিত) তীর থেকে সংগৃহীত খনিজ দিয়ে তৈরি প্রসাধনসামগ্রী।এ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছেন মিলিব্যান্ড; যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিতে আসছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন। ২১ জুলাই, ২০২৬এক টেবিলে ১২ দেশযুক্তরাজ্যের এ পদক্ষেপ একক কোনো উদ্যোগ নয়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন—মোট ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতিশীল, আর ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান রক্ষায় জাতীয় বা ইউরোপীয় পর্যায়ে (ইসরায়েলি অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে) বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের সময় এসেছে।—অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীঅন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই ব্রিটেনের ঐতিহ্য, আর নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার লোকজনের পাশে দাঁড়ানো যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব।বিবৃতিতে দেশগুলো ইসরায়েলের প্রতি বসতি সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বিস্তার বন্ধ করা, বসত স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানায়।এর বাইরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পৃথক একটি বিবৃতিতে জানান, অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ এবং বসতি নির্মাণে জড়িত বা তা থেকে মুনাফা অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ তাঁরা নেবেন।বিবৃতিতে বলা হয়, এক বছর আগে তাঁরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, আর দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান রক্ষায় এখনই আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে নিজের প্রথম ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে’ অংশ নিতে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লন্ডন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইউরোপজুড়ে চাপ বাড়ছেনেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম, স্পেন ও নরওয়ে ইতিমধ্যে ইসরায়েলি বসতির পণ্য নিষিদ্ধ করেছে বা নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।ফ্রান্স চাইছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়েই অনুরূপ বিধিনিষেধ কার্যকর হোক, যদিও জোটভুক্ত ২৭ দেশের মধ্যে এ নিয়ে ঐকমত্য তৈরি এখনো অনেক দূরের পথ।ফিলিস্তিন যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরূপ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলের নতুন ১৯টি বসতির অনুমোদনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ১৪টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়েছিল।তবে সে সময় নিন্দা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া। এবারই প্রথম নিন্দার গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটল তাদের একাংশ।কেন এখন এ সিদ্ধান্তগত আগস্টে ইসরায়েল বিতর্কিত ‘ই–১’ বসতি প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন ইউনিটের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের বসতিগুলোর সঙ্গে পশ্চিম তীরের ‘মাআলে আদুমিম’ বসতি জোটের সংযোগ ঘটবে। ফলে পশ্চিম তীর কার্যত দুভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।২০২৫ সালের আগস্টে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এ প্রকল্পের ঘোষণা দেন।পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী তথাকথিত সেটলার সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে।জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশন বলছে, গত ১১ থেকে ২৪ আগস্টের মধ্যে বসতি স্থাপনকারীদের চালানো অন্তত ৮০টি হামলায় লোকজন হতাহত অথবা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।এসব ঘটনার কিছু নিয়ে খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছেন।উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আমলে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স স্থগিত করেছিল এবং দেশটির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাও বন্ধ রেখেছিল।ইসরায়েল–অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম তুরমুস আইয়ার কাছে গড়ে তোলা একটি নতুন ইসরায়েলি বসতি। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ব্রিটেনের ঐতিহাসিক দায়ফিলিস্তিন প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নতুন নয়। ১৯১৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের ঘোষিত বেলফোর ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়েই ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের পথ খোলে, আর পরবর্তী কয়েক দশকে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনই ইহুদি অভিবাসন ও বসতি স্থাপনের ভিত তৈরি হয়।সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের কাছে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।এবারের নিষেধাজ্ঞাকে তাই অনেকে সেই পুরোনো দায় স্বীকারের দেরিতে হলেও একটি স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন, যদিও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপইসরায়েল যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিকতম নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এ ঘোষণার পরপরই জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।জেরেমি করবিন, ডায়ান অ্যাবটসহ ১২ জন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যের ইসরায়েলে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ইসরায়েলের কিরিয়াত গাটে অবস্থিত আন্তর্জাতিক গাজা সহায়তা কেন্দ্র থেকে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীতে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ বন্ধেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার যুক্তরাজ্যকে অভিযুক্ত করে বলেন, ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ও ইহুদি নববর্ষের ঠিক আগে এ ঘোষণা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের একধরনের চেষ্টা।এ ছাড়া ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।উত্তর গাজা থেকে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দক্ষিণ গাজার দিকে হেঁটে যাচ্ছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। মধ্য গাজা উপত্যকা, ৯ নভেম্বর, ২০২৩ওয়াশিংটন ও যুক্তরাজ্যের ভেতরের প্রতিক্রিয়াইসরায়েলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন; যদিও ট্রাম্প নিজে এখনো এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।তবে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি কড়া ভাষায় যুক্তরাজ্যের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। এটিকে ইহুদিবিদ্বেষ ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরেও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট। দেশটির প্রধান রাবি এফ্রেইম মিরভিসের সমালোচনার জবাবে মিলিব্যান্ড বলেছেন, ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ায় তিনি দুঃখিত হলেও নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করেন তিনি।এর আগে মিরভিস এ সিদ্ধান্তকে ব্রিটিশ ইহুদিদের জন্য একটি ‘অন্ধকার দিন’ উল্লেখ করে সতর্ক করেন, এতে হাজারো ফিলিস্তিনি শ্রমিকের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির পররাষ্ট্রবিষয়ক ছায়া মন্ত্রী বা মুখপাত্র টম টুগেনধাট সতর্ক করেছেন, ইসরায়েলকে একঘরে করার এ চেষ্টা ব্রিটেনের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ইহুদিবিরোধী সহিংসতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ১৪০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা দীর্ঘদিন ধরেই ওই সব বসতি থেকে আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা সরকারের ওপর এ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করেছিল।ফিলিস্তিনিদের স্বাগত জানানোফিলিস্তিন যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরূপ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।লন্ডনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট এ সিদ্ধান্তকে একটি মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে ইসরায়েলে বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ আরও ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্ট-ফাতাহর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ পদক্ষেপকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে কাজ করা লোকজনের জন্য এক বিজয় বলে বর্ণনা করেছেন।ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের পাশ দিয়ে সন্তানকে কোলে নিয়ে যাচ্ছেন এক ফিলিস্তিনি নারী। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস, ৪ নভেম্বর, ২০২৪সংখ্যাগত দিক থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কতটা সামান্যনিষেধাজ্ঞাটির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ পরিসংখ্যানেই। ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ৩৫০ কোটি ও আমদানি ২৫০ কোটি পাউন্ডের মতো।অথচ চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সর্বশেষ চার প্রান্তিকে ফিলিস্তিন থেকে যুক্তরাজ্যের রেকর্ড করা মোট বাণিজ্য ছিল মাত্র চার কোটি পাউন্ডের। এর মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ লাখ পাউন্ড, অর্থাৎ যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল মোট বাণিজ্যের মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।যুক্তরাজ্যের সরকারি বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে পার্থক্য করা হলেও পশ্চিম তীরে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি বসতকারীর উৎপাদিত পণ্য এবং সেখানকার ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে আলাদা কোনো হিসাব রাখা হয় না।ফলে এ সামান্য অঙ্কের পণ্যের মধ্যে ঠিক কতটা প্রকৃতপক্ষে বসতি থেকে আসে, তা ব্রিটিশ সরকারও নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি।লেবেল বদলে পণ্য পাচারের ফাঁকফোকরবসতির পণ্য শনাক্ত করার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরবরাহ-শৃঙ্খলের অস্বচ্ছতা।গত জুনে প্রকাশিত গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে ইউরোপে রপ্তানি হওয়া ইসরায়েলি তাজা কৃষিপণ্যের চালান পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য নিয়মিতভাবে সরবরাহ-শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে পাঠানো হচ্ছে।প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে পরীক্ষিত চালানের প্রায় প্রতি ছয়টির একটিতেই বসতি-উৎসের পণ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো নথিপত্রে ইসরায়েলি পণ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।যুক্তরাজ্যের শুল্ক কর্তৃপক্ষ অবশ্য ইসরায়েল-যুক্তরাজ্য বাণিজ্যচুক্তির আওতায় শুল্কসুবিধা পেতে হলে পণ্যের উৎস হিসেবে নির্দিষ্ট পোস্টকোড ও এলাকার নাম উল্লেখ বাধ্যতামূলক করেছে। আর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ওয়াই৮৬৪ নামের একটি শুল্ক-দলিল কোডও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে আমদানিকারককে ঘোষণা দিতে হয়, পণ্যটি ১৯৬৭ সালের পর ইসরায়েলি প্রশাসনের আওতায় আসা এলাকা থেকে আসেনি।তবে আল–জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্লোবাল ইকোর আইনি পরিচালক জেস স্টোবার বলেছেন, আগের ব্যবস্থায় শুল্ক পরিশোধ করলেই বসতির পণ্য বিক্রির অনুমতি পাওয়া যেত। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার আওতায় এখন পণ্য সীমান্তেই আটকে দেওয়া এবং জরিমানার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সরবরাহ–শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে উৎস যাচাইয়ে আরও সতর্ক হওয়ার তাগিদ তৈরি হবে।ইসরায়েল–অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারেমের নূর শামস শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি অভিযানের পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন দেখছেন ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা। ২১ এপ্রিল, ২০২৪যুক্তরাজ্যের নিজস্ব চুক্তিই কি প্রশ্নের মুখেনিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক বসতি কার্যক্রম থেকে মুনাফা অর্জনকারী কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি, যা যুক্তরাজ্য সরকারের নিজস্ব ক্রয়নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে।আল–জাজিরার একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইসরায়েলি অবৈধ বসতির সঙ্গে যুক্ত ১৭টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের সরকারি খাতের প্রায় ২১০ কোটি পাউন্ডের চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের প্রায় ১৭০ কোটি পাউন্ড যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মটোরোলা সলিউশনসের ব্রিটিশ সহযোগী প্রতিষ্ঠান এয়ারওয়েভ সলিউশনসের সঙ্গে, যারা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পুলিশ, দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা পরিচালনা করে।যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই একটি চুক্তির মূল্যই প্রায় ১৫৬ কোটি পাউন্ড। এ ছাড়া জার্মানির হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস, ফ্রান্সের এজিস, স্পেনের রেল প্রস্তুতকারক সিএএফ ও চীনের ফোসুন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোও এ তালিকায় রয়েছে।গ্লোবাল ইকোর জেস স্টোবার বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতের সঙ্গে সংগতি রেখে যুক্তরাজ্য যদি সত্যিই বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞা নীতি ঢেলে সাজাতে চায়, তবে নিজস্ব ক্রয়চুক্তিগুলোও একই মানদণ্ডে পরীক্ষা করা উচিত। যুক্তরাজ্য সরকার অবশ্য এ পর্যন্ত এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে আল–জাজিরা।বিশ্লেষকদের সংশয়বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এ নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।আল–জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক তাহানি মুস্তাফা এ পদক্ষেপকে মৃদু বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনায় এর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।একই প্রতিষ্ঠানের আরেক বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, পশ্চিম তীরে গভীরভাবে প্রোথিত বসতিগুলো থেকে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে ভবিষ্যতে ভূমি বিনিময়ের মাধ্যমেই শুধু ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।ইসরায়েল–অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি। ১১ জুলাই, ২০২৪১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম মিলিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে বেড়ে সাড়ে ৭ লাখে পৌঁছেছে।ফরচুন সাময়িকীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিতই থাকবে; কারণ, বসতিগুলো মূলত সামান্য পরিমাণ কৃষিপণ্য রপ্তানি করে। তবে গাজা যুদ্ধের পর ক্রমে একঘরে হয়ে পড়া ইসরায়েলের কাছে এটি তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অসন্তোষেরই এক প্রতীকী বার্তা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।পিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ইসরায়েলে নির্বাচনের আগে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা উল্টো নেতানিয়াহুর প্রতি সহানুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে অথবা ব্রিটিশ ইহুদিদের ওপর হামলার শঙ্কাও তৈরি করতে পারে।ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শীর্ষ প্রার্থীদের কেউই বসতি সম্প্রসারণ বা পশ্চিম তীরের সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করছেন না। এতে যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোর এ পদক্ষেপ স্বল্প মেয়াদে ইসরায়েলি নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।এরপরও ফিলিস্তিনি পক্ষ ও অধিকারকর্মীরা যুক্তরাজ্যের নেওয়া পদক্ষেপকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান রক্ষার লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।{তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা, এনবিসি নিউজ, এনপিআর, এবিসি নিউজ, পিবিএস নিউজ, দ্য জেরুজালেম পোস্ট, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের ওয়েবসাইট, দ্য কনভারসেশন ও ডেইলি মিরর}

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
সপ্তাহের শেষ দিকে আর্থিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে কোন রাশির জাতকের

সপ্তাহের শেষ দিকে আর্থিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে কোন রাশির জাতকের

ভিডিও গেম খেলুন, নয়তো বোকা থাকুন: ইলন মাস্ক

ভিডিও গেম খেলুন, নয়তো বোকা থাকুন: ইলন মাস্ক

জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার সমতা: নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা 

জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার সমতা: নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা 

0 Comments