জাতীয়

মারেসকার মিউজিক থেরাপি, গানই ম্যান সিটির সাফল্যের রহস্য

RIPOTER NEWS সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
মারেসকার মিউজিক থেরাপি, গানই ম্যান সিটির সাফল্যের রহস্য
মারেসকার মিউজিক থেরাপি, গানই ম্যান সিটির সাফল্যের রহস্য

লাউড স্পিকার থেকে ভেসে আসছে কানফাটা ডান্স মিউজিক, যে রকম উচ্চস্বরের মিউজিক সাধারণত নাইটক্লাবগুলোতে বাজানো হয়। দেখে মনে হতে পারে কোনো উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু জায়গাটা কোনো নাইটক্লাব নয়, ম্যানচেস্টার সিটির বিখ্যাত ইতিহাদ কমপ্লেক্স।

মাঠের মাঝখানে ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবলাররা গা গরম করছেন। ওদিকে কানফাটা ডান্স মিউজিক বাজছে। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসছেন কোচ এনজো মারেসকা। সিটির অনুশীলনে এখন দৃশ্যটা বেশ পরিচিত। ৪৬ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান কোচ কেবল দল সামলাচ্ছেন না, সিটির ট্রফি-ঠাসা ড্রেসিংরুমে নিজের আলাদা এক সংস্কৃতি আর পরিচয়ের বীজ বুনছেন।

পেপ গার্দিওলার মহাকাব্যিক ছায়া ডিঙিয়ে নিজের পথ তৈরি করা সহজ নয়। মারেসকা তাই হাঁটছেন অন্য পথে। সুরই তাঁর নতুন ভাষা। নতুন পরিচয়ের শুরু।

মারেসকার অধীনে নতুন মৌসুমের শুরুটা দারুণ হয়েছে সিটির। প্রিমিয়ার লিগে চার ম্যাচে শতভাগ জয়ের রেকর্ড। এর সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ে শুরু, সর্বশেষ লিগ কাপেও সিটি ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নরউইচ সিটিকে। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে অনুশীলনের ওই উন্মাদনাভরা সুরের একটা অদৃশ্য ভূমিকাও হয়তো আছে। মারেসকাও বিশ্বাস করেন, সংগীত খেলাকে বদলে দিতে পারে।

মারেসকার অধীনে নতুন মৌসুমের শুরুটা দারুণ হয়েছে সিটির।

এই মৌসুমে সিটির অনুশীলন শুরুই হয় মিউজিক দিয়ে। ক্লাবের ব্র্যান্ডেড স্পিকার থেকে ভেসে আসে তীব্র বিটের গান। তবে কৌশলগত জটিল নির্দেশনা দেওয়ার সময় সেই সুর থেমে যায়। তখন ফুটবলই প্রধান ভাষা।

মারেসকা বলেছিলেন, ‘লেস্টার আর চেলসিতে এটা করেছি, এখানে এসেও চালু করেছি। খেলোয়াড়রা মিউজিক থাকলে বেশি খুশি থাকে। ভালো কাজও করে। গানগুলো খেলোয়াড়রাই ঠিক করে। মূল উদ্দেশ্য তাদের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।’

সেই পরিবেশটা খেলোয়াড়দের ভালোই লেগেছে। ডিফেন্ডার মাতেউস নুনেস বেশ উপভোগ করছেন বিষয়টা, ‘অনুশীলনের আগে সব ফুটবলারই এখন যেন ডিজে হতে চায়! ব্যাপারটা দারুণ।’

ভাবনাটা নতুন, আবার ইংলিশ ফুটবলে একেবারে অচেনাও নয়। গত মৌসুমে বার্নলির কোচ স্কট পার্কারও অনুশীলনে মিউজিক ব্যবহার করেছেন। তবে বিষয়টা শুধু ‘ভাইব’ নয়। এর পেছনে আছে বিজ্ঞানের যুক্তিও। জার্মানির হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ছন্দের গান ফুটবলারদের খেলার মান লক্ষণীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়। তাদের পাসিং, সময়জ্ঞান এবং মাঠে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের সূক্ষ্মতা বেড়ে যায় দ্রুতগতির ইলেকট্রনিক সংগীত শুনলে।

লাউড স্পিকারে গান ছেড়ে দিয়ে অনুশীলন করেন হলান্ডরা।


স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট মার্টিন পেরি বিষয়টিকে দেখছেন আরও দারুণ এক উদ্যোগ হিসেবে, ‘মিউজিক একটা কোডের মতো কাজ করতে পারে। আলাদা পরিস্থিতির জন্য আলাদা গান। ম্যাচে পিছিয়ে পড়লে একধরনের, নিয়ন্ত্রণে থাকলে আরেক ধরনের, রক্ষণে থাকলে ভিন্ন কিছু। এতে খেলোয়াড়ের মেমোরিতে দ্রুত সাড়া জাগে, কথার চেয়ে দ্রুত।’

বার্নলিতে মেন্টাল পারফরম্যান্স কোচ ছিলেন ড্যানি ডোনাচি। তাঁর মতে, ফুটবল কখনো কখনো খুব যান্ত্রিক হয়ে যায়। সবকিছু মাপা, হিসাবি, কঠোর। সেখানে মিউজিক মানুষটাকে ফিরিয়ে আনে। তাঁর কথা, ‘ফুটবল এতটাই সিরিয়াস হয়ে যায় যে খেলোয়াড়দের রোবটের মতো মনে হয়। মিউজিক সেই ভারটা কমায়। তাদের একটু হালকা করে, আনন্দ দেয়। কোচ যদি খেলোয়াড়দের মানুষ হিসেবে দেখেন, সেটাই সবার জন্য ভালো।’

ম্যান সিটির অনুশীলনে এনজো ফার্নান্দেজ


অন্য কোচরাও ভিন্নভাবে সংগীত ব্যবহার করেছেন। আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতাও কিন্তু একসময় তাদের মাঠে অনুশীলনে অ্যানফিল্ডের আবহ তৈরি করতে লিভারপুলের ঐতিহাসিক গান ‘ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন’ বাজিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই, ম্যাচের আগেই সেই চাপ, সেই আবেগ অনুভব করানো।


মারেসকার এই অভিনব কৌশলে আরও একটি দিক আছে। ফুটবলারদের হাতে গান বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে তাদের একধরনের স্বাধীনতা দিচ্ছেন তিনি। মনোবিজ্ঞানী মার্ক সাগালের মতে, খেলোয়াড়দের গান বাছাই করতে দেওয়া মানে তাদের হাতে কিছুটা ক্ষমতা তুলে দেওয়া, ‘দিনভর খেলোয়াড়েরা নির্দেশ মেনে চলে। গান বাছাইয়ের মতো ছোট একটা জায়গায় মতামত দেওয়ার সুযোগ তাদের কোচের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করে। এতে তারা মনে করে, সিদ্ধান্তের ভাগীদার তারাও।’ কার্লো আনচেলত্তি বা মার্সেলো লিপির মতো কিংবদন্তি কোচদের অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা আছে মারেসকার। তাঁদের কাছ থেকেই তিনি খেলোয়াড়দের মন বোঝার এই অদ্ভুত বিদ্যা রপ্ত করেছেন।

ম্যান সিটি কোচ এনজো মারেসকা।


ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নের হয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতে ড্রেসিংরুমে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে ইতালীয় পপ গান গাইতেন তরুণ মারেসকা। ফুটবলীয় মেধার বাইরে সেই ইতালীয় সুরই তাঁকে সতীর্থদের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল।
সেই মানুষটিই এখন সিটির মতো ক্লাবে গার্দিওলার উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে। আর সেই চ্যালেঞ্জে সুরই তাঁর সবচেয়ে বড় সেতু। দল গড়ার, সম্পর্ক গড়ার এবং জয়ের পথে হাঁটার।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জাতীয়

View more
হামজা-ফারহান কবে আসবেন, জানাল বাফুফে
হামজা-ফারহান কবে আসবেন, জানাল বাফুফে

ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। ৫ নভেম্বর উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে, প্রথম ম্যাচে জয় এলেও পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ দল এখনও মাঠে নামেনি। স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদ তখনও ছিলেন ইংল্যান্ডে।

RIPOTER NEWS নভেম্বর ৭, ২০২৬ 0
সৌদিতে নিহত ৭ বাংলাদেশির ৪ জন চকরিয়ার হতে পারে: ইউএনও

সৌদিতে নিহত ৭ বাংলাদেশির ৪ জন চকরিয়ার হতে পারে: ইউএনও

অবসরে যাচ্ছেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম

অবসরে যাচ্ছেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম

সাতক্ষীরায় ২৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ

সাতক্ষীরায় ২৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ

‘ঢাবির কোনো শিক্ষার্থী স্বজ্ঞানে শিবিরকে ভোট দিতে পারেন না’
‘ঢাবির কোনো শিক্ষার্থী স্বজ্ঞানে শিবিরকে ভোট দিতে পারেন না’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কোনো শিক্ষার্থী স্বজ্ঞানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ভোট দিতে পারেন না।”

RIPOTER NEWS নভেম্বর ৭, ২০২৬ 0
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫

পোশাক শিল্পে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ তুলে ধরল অ্যাভেরি ডেনিসন

পোশাক শিল্পে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ তুলে ধরল অ্যাভেরি ডেনিসন

ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত: নাহিদ

ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত: নাহিদ

যেদিন উদ্যোক্তার আগে ‘নারী’ শব্দ ব্যবহার হবে না, সেদিন মিলবে অর্থনৈতিক মুক্তি: শামা ওবায়েদ
যেদিন উদ্যোক্তার আগে ‘নারী’ শব্দ ব্যবহার হবে না, সেদিন মিলবে অর্থনৈতিক মুক্তি: শামা ওবায়েদ

যেদিন উদ্যোক্তার আগে ‘নারী’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে না, এমন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলেই প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

RIPOTER NEWS নভেম্বর ৭, ২০২৬ 0
পাঁচ বিমা কোম্পানির গ্রাহকরা পাচ্ছেন ২০ কোটি টাকা 

পাঁচ বিমা কোম্পানির গ্রাহকরা পাচ্ছেন ২০ কোটি টাকা 

৭ নভেম্বর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

৭ নভেম্বর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে চবিতে আলোচনা সভা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে চবিতে আলোচনা সভা

0 Comments