খাদ্যশস্যের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলা। কৃষকের উৎপাদিত ধান-চালসহ খাদ্যশস্য সংরক্ষণ এবং সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে সহজ করতে তৎকালীন জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের দেওপুরায় প্রায় তিন একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় একটি সরকারি খাদ্যগুদাম।
গুদামটির সঙ্গে কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল আবাসিক ভবনও। একসময় এই স্থাপনা ঘিরেই চলত খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের যাবতীয় কার্যক্রম। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত সরকারি এই অবকাঠামো।
কিন্তু একটি ডাকাতির ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যায় গুদামটির কার্যক্রম। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সরকারি এই খাদ্যগুদাম। কোটি টাকার সম্পদ এখন অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, অথচ খাদ্যশস্য উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এই অঞ্চলে কৃষকদের জন্য এর কোনো ব্যবহার নেই।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক আগে রাতের আঁধারে দেওপুরা খাদ্যগুদামে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় গুদামে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গুদামটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর কেটে গেছে প্রায় ২০ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে আর চালু হয়নি গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যগুদামটি। ফলে বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত ও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে সরকারি স্থাপনাটি।
স্থানীয় বাসিন্দা রাধা কান্ত বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার কৃষকরা বছরে দুই মৌসুমে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য উৎপাদন করেন। এসব ফসল উৎপাদনে কৃষকদের বিপুল অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়। কিন্তু দেওপুরা খাদ্যগুদামটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় উৎপাদিত খাদ্যশস্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তিনি বলেন, গুদামটি চালু থাকলে কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য বিক্রি করার সুযোগ পেতেন এবং ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত হতো। বর্তমানে গুদামটি বন্ধ থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারে কম দামে ফসল বিক্রি করছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন-যে কোন ফসল বিক্রিতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন আড়তদারদের কাছে। কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে ফড়িয়াদের কাছে তাদের কষ্টে উপার্জিত ফসল। এতে জীবন মান যেমন উন্নয়ন হচ্ছে না, তেমনি ফসল উৎপাদনের খরচও উঠছে না। এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক।
এলাকার উন্নয়ন ও কৃষক বাঁচাতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে হলেও গুদামটি চালু করা হোক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনির বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেওপুরা খাদ্যগুদামটি পুনরায় চালু করতে এখন আর বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকার কথা নয়।
তিনি বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে খাদ্যগুদামটি চালু করা হলে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিক্রির সুযোগ পাবেন। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে। তাই কৃষকের স্বার্থে দ্রুত দেওপুরা খাদ্যগুদামটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহন আহমেদ বলেন, দেওপুরা খাদ্যগুদামটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও সামান্য সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামতকাজ সম্পন্ন করেই এটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। গুদামটি চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে গুদামটি চালুর চেষ্টা করা হবে।
জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সরকারি স্থাপনায় যে কেও নিরাপত্তা চাইলে প্রস্তত রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি খাদ্যশস্য জমায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান বাধার মুখে পড়েছে।
সোহান মাহমুদ/এনএইচআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মোংলায় মুদি ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে চোরাচালানের অবৈধ ১৫ হাজার ৬শ লিটার ভোজ্য তেল (অপরিশোধিত সয়াবিন) জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোংলা পৌর শহরের প্রধান বাজারের মেসার্স শোভা স্টোরের স্বত্বাধিকারী মুদি ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে কোস্ট গার্ড এ তেল জব্দ করে। অভিযানে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে মজুত করা ১৫ হাজার ৬ শ লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। মুদি ব্যবসায়ী সবুর দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত এ তেলের সঙ্গে ভেজাল মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করে আসছিলো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমী। আর কোস্ট গার্ডের এ অভিযানে সঙ্গে ছিলো পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইর কর্মকর্তারাও। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী বলেন, গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যদিয়ে কোস্ট গার্ড পৌর শহরের মুদি ব্যবসায়ী সবুরের গোডাউন থেকে চোরাচালানের অবৈধ ৭৮ ব্যারেল তেল জব্দ করেছে। জব্দকৃত তেল পুলিশে হস্তান্তর ও এ ঘটনায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এর আগেও র্যাবের অভিযানে সবুরের গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছিল। আবু হোসাইন সুমন/এসজেডএইচ/এএসএম
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল। শনিবার এটা নিশ্চিত করে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস জানিয়েছেন, বিসিবি প্রস্তাবটা ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। আগামী কয়েক মাস টাইগারদের টানা সিরিজের মাঝে ফাঁকা সময় খোজার চেষ্টা করা হচ্ছে। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নাফীস। সেখানে শুরুতেই নেপাল প্রসঙ্গ আসে। নেপালের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে তিনি বলেন, ‘নেপাল ক্রিকেট বোর্ড আমাদের কাছে বেশ কিছুদিন আগেই একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সেখানে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সেই আহ্বানকে খুব ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।’ তিনি বলেন, ‘যদি সবকিছু ঠিকঠাকভাবে মিলে যায়...কারণ আমরা জানি, আমাদের এফটিপি (ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম) খুবই ব্যস্ত, টানা খেলা আছে সামনে। এরপরও এই সাইকেলের মধ্যে যদি সুবিধাজনক একটা সময় ইতিবাচকভাবে বেছে নেওয়া যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। সবকিছু ঠিকঠাক হলে আশা করি, এই সিরিজটি আমাদের হতে পারে।’ সিরিজটা হতে পারে ২০২৭ সালে জানিয়ে নাফীস বলেন, ‘সাইকেলটা তো ২০২৭ সাল পর্যন্ত। এই সাইকেলের মধ্যেই আমাদের ইচ্ছা আছে এবং নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনেরও সেই অনুরোধ রয়েছে। আমরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। যখন এটা এমন একটা পর্যায়ে যাবে, যেটা বলার মতো অবস্থায় থাকবে, কিংবা আমরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারব যেখানে বলতে পারব সিরিজটি হচ্ছে বা হচ্ছে না, তখন যথাসময়ে জানিয়ে দিতে পারব।’ সম্প্রতি নেপালে মর্মান্তিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। গুঞ্জন আছে, এই ক্ষতির জন্য ফান্ড গড়তেই সিরিজটি আয়োজন করতে চায় নেপাল। এ প্রসঙ্গে নাফীস বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আসলে এ ব্যাপারটা জানি না। যেহেতু মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেছেন বা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নেপাল সরকারের যোগাযোগ হয়েছে, এটা হয়তো ওপরের মহলে হয়ে থাকতে পারে। তবে আমাদের সঙ্গে যে যোগাযোগ হয়েছে, সেখানে বন্যার বিষয়টি আসেনি। নেপালে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে, এতে আমরা সবাই খুবই দুঃখিত। নেপালে যারা বসবাস করেন, তাদের প্রতি অবশ্যই আমাদের সহমর্মিতা রয়েছে।’ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো সিরিজ খেলার সুযোগ পায়নি নেপাল। ১০ বছরের ব্যবধানে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে দুই দল, দুইবারই বাংলাদেশ জিতেছে। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের দেখায় বাংলাদেশের জয় ৮ উইকেটে আর সবশেষ ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২১ রানে জয় পায় টাইগাররা। এসকেডি/এমএমআর