মোংলায় মুদি ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে চোরাচালানের অবৈধ ১৫ হাজার ৬শ লিটার ভোজ্যতেল (অপরিশোধিত সয়াবিন) জব্দ করেছে কোস্টগার্ড।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোংলা পৌর শহরের প্রধান বাজারের মেসার্স শোভা স্টোরের স্বত্বাধিকারী মুদি ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে কোস্ট গার্ড এ তেল জব্দ করে।
অভিযানে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে মজুত করা ১৫ হাজার ৬শ লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। মুদি ব্যবসায়ী সবুর দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত এ তেলের সঙ্গে ভেজাল মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করে আসছিলে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমী। কোস্ট গার্ডের অভিযানে সঙ্গে ছিলেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইর কর্মকর্তারাও।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যদিয়ে কোস্ট গার্ড পৌর শহরের মুদি ব্যবসায়ী সবুরের গোডাউন থেকে চোরাচালানের অবৈধ ৭৮ ব্যারেল তেল জব্দ করে। জব্দ করা তেল পুলিশে হস্তান্তর ও এ ঘটনায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এর আগেও র্যাবের অভিযানে সবুরের গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছিল।
আবু হোসাইন সুমন/এসজেডএইচ/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের একটি জনপদ ‘ভোরের পাখি’। একসময় শত শত পরিবারের বসতি ছিল এখানে। তবে চলতি বছরে তিস্তার কয়েক দফা ভয়াবহ ভাঙনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে জনপদটি। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দশটির বেশি স্কুল-মাদরাসা ও তিন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। হারিয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি। সর্বস্ব হারিয়ে এখন নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ভাঙনকবলিত মানুষ। সরেজমিনে, যে জনপদে ছিল ঘরবাড়ি, সবুজ ফসলের মাঠ আর মানুষের কোলাহল। সেখানে শুধু নদীর স্রোত। কিন্তু তার কোনো চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়নি। ভোরের পাখিসহ আশেপাশে এলাকায় দিনের পর দিন তীব্র ভাঙনে নদী গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি আর মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। শুধু বসতভিটাই না- ভাঙনের কবল থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে স্কুল, মাদরাসা ও মসজিদ। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ রাস্তার পাশে, আবার কেউ নদীর পাড়েই অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন ভাঙনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে এই জনপদের পরিধি। আরও পড়ুন চোরাই তেলে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রির অভিযোগ, ব্যবসায়ীর গোডাউনে অভিযান গত দুই সপ্তাহে তিন শতাধিক ঘরবাড়ির পাশাপাশি চর এলাকার শিশুদের পড়ালেখার একমাত্র প্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও চলে গেছে নদীগর্ভে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই হারিয়ে যেতে পারে ভোরের পাখি এলাকা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদী শাসনের দাবি জানান তারা। ভোরের পাখি এলাকার স্থানীয় সাইফুল মিয়া বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে এলাকার কোনো চিহ্ন নেই। দ্রুত সময়ে মধ্য বাঁধ নির্মাণ না, মান চিত্র থেকে ভোরে পাখির এলাকার আশপাশও বিলীন হয়ে যাবে। অন্যদিকে জেলার তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, সদর উপজেলার সীতাসতী ও সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখিসহ ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও ভাঙনের মুখে ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবন না থাকায় খোলা আকাশের নিচে চলছে ৮ বিদ্যালয়ের পাঠদান। খোলা আকাশেরনিচে রোদ-বৃষ্টি আর প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেকে স্কুলে আসছে না শিক্ষার্থী। কোথাও আবার একটি ছাপড়ার নিচে দুই চারজন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে পাঠদান। ফলে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগেও চরাঞ্চলের বালুচরে এক সময় যেখানে ছিল ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, টেবিল ও শিক্ষার্থীদের কোলাহল। কিন্তু ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায়, এখন সেখানে শুধু পানি আর পানি। তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কোনোমতে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, এ বছর জেলায় ৮টি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে বালির জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নতুন করে ভাঙছে সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানো হবে। বর্তমানে জরুরি কাজ অন্য কিছুর বরাদ্দ নেই। আনোয়ার আল শামীম/এনএইচআর
ন্যায়বিচার নিশ্চিত, আইনের শাসন সুসংহত ও জননিরাপত্তা জোরদার করার জন্য পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব, কর্তব্য ও করণীয় নিয়ে ঢাকায় আলোচনা সভা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্মেলনকক্ষে এ সভা হয়। ঢাকা জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমান। আরও পড়ুন বিচারাধীন বিষয় নিয়ে অহেতুক মন্তব্য, চিফ প্রসিকিউটরকে আদালতের সতর্কতা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, বিচার বিভাগ ও পুলিশের মধ্যে সুসমন্বিত ও কার্যকর কর্মসম্পর্ক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন সুসংহত ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচারিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও পেশাদার সমন্বয় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পুলিশ সুপার একই সঙ্গে মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান। দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। শামীমা পারভীন আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভার মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানসম্মত বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। সভায় বিচার বিভাগ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এমডিএএ/একিউএফ