জাতীয়

টেকসই-পরিবেশবান্ধব খাতে বেড়েছে ঋণ বিতরণ-আদায়

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
টেকসই-পরিবেশবান্ধব খাতে বেড়েছে ঋণ বিতরণ-আদায়
টেকসই-পরিবেশবান্ধব খাতে বেড়েছে ঋণ বিতরণ-আদায়

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও মাটির লবণাক্ততার মতো ঝুঁকি বাড়ছে। পরিবেশ-জলবায়ুর এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) টেকসই অর্থায়ন প্রকল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে আদায়ের পরিমাণও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন

সবুজ প্রযুক্তি, পাট ও ওষুধ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে টেকসই প্রকল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট অর্থায়নের স্থিতি ছিল ৮৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অর্থাৎ, তিন মাসে টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন বেড়েছে ১২ হাজার ২৫৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে দেশে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ অনুকূল নয়। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় বড় কারখানা ঋণ পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। ফলে বড় উদ্যোক্তাদের নতুন ঋণ নেওয়ার আগ্রহ কমছে। অনুকূল পরিবেশ হলে ঋণ গ্রহণ ও আদায় বহুগুণ বেড়ে যাবে।-বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে টেকসই খাতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৮৮৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। একই সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে অর্থায়ন করেছে ৩ হাজার ১৪৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স পলিসির আওতায় ব্যাংকগুলো টেকসই অর্থায়নের ১১টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮টি পণ্যের বিপরীতে ঋণ দিতে পারে। এসব পণ্যের বড় একটি অংশ পরিবেশবান্ধব বা সবুজ অর্থায়নের আওতায় পড়ে।

টেকসই অর্থায়নের আওতায় কৃষি, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই), পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ টেকসই অর্থায়নে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আরও পড়ুন

টেকসই-সবুজ প্রকল্পে বিনিয়োগ বেড়েছে ১৮২২ কোটি টাকা

সবুজ অর্থায়নের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি), পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব এসব প্রকল্পে ব্যাংকগুলোকে মোট মেয়াদি ঋণের নির্দিষ্ট অংশ অর্থায়নের নির্দেশনাও রয়েছে।

সবুজ প্রকল্পেও বেড়েছে অর্থায়ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে সবুজ প্রকল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ১৯৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ১৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলে তিন মাসে সবুজ প্রকল্পে অর্থায়ন বেড়েছে ৯৬২ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

টেকসই অর্থায়ন বাড়া ইতিবাচক। তবে ঋণের অর্থ প্রকৃত সবুজ ও টেকসই প্রকল্পে যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন।-ব্যাংক খাত বিশ্লেষক হেলাল আহমেদ জনি 

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সবুজ প্রকল্পে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ১০৪ কোটি তিন লাখ টাকা। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে অর্থায়ন করেছে এক হাজার ৫৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

বেড়েছে ঋণ আদায়ও

শুধু নতুন করে ঋণ বিতরণ নয়, টেকসই ও সবুজ প্রকল্প থেকে ঋণ আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই অর্থায়ন থেকে ৫২ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা ঋণ আদায় করে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, তিন মাসে টেকসই খাতে ঋণ আদায় বেড়েছে ১৮ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন

টেকসই কৃষিখাত-পরিবেশবান্ধব শিল্পে কমেছে ঋণ

একই সময়ে সবুজ প্রকল্প থেকেও ঋণ আদায় বেড়েছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাতে আদায় হয়েছিল পাঁচ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এতে তিন মাসে সবুজ প্রকল্পে ঋণ আদায় বেড়েছে প্রায় ৮৪৬ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই ও সবুজ খাতে ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায় বাড়া ইতিবাচক। তবে এ খাতের প্রকল্পগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত আর্থিক ও পরিবেশগত সুফল পেতে সময় লাগে।

কাগজে-কলমে প্রকল্পকে ‘সবুজ’ দেখিয়ে ঋণ নেওয়ার সুযোগ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি দরকার। ঋণ দেওয়ার আগে প্রকল্প যাচাই এবং পরে অর্থের ব্যবহার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।-অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবদুল বায়েস

তাদের মতে, প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ ও বাজার সম্ভাবনা যাচাই করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত সমস্যায় থাকা উদ্যোক্তাদের জন্য বাস্তবসম্মত পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

শিল্প উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে দেশে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ অনুকূল নয়। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় বড় কারখানা ঋণ পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। ফলে বড় উদ্যোক্তাদের নতুন ঋণ নেওয়ার আগ্রহ কমছে। অনুকূল পরিবেশ হলে ঋণ গ্রহণ ও আদায় বহুগুণ বেড়ে যাবে।’

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও ব্যাংক খাত বিশ্লেষক হেলাল আহমেদ জনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘টেকসই অর্থায়ন বাড়া ইতিবাচক। তবে ঋণের অর্থ প্রকৃত সবুজ ও টেকসই প্রকল্পে যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবদুল বায়েস বলেন, ‘কাগজে-কলমে প্রকল্পকে ‘সবুজ’ দেখিয়ে ঋণ নেওয়ার সুযোগ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি দরকার। ঋণ দেওয়ার আগে প্রকল্প যাচাই এবং পরে অর্থের ব্যবহার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’

ইএআর/এএসএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রাপা প্লাজার পার্কিংয়ে এডিসের লার্ভা, মশককর্মী বরখাস্ত
রাপা প্লাজার পার্কিংয়ে এডিসের লার্ভা, মশককর্মী বরখাস্ত

রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজার গ্রাউন্ড পার্কিং জোনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় রাপা প্লাজা কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথম দিনেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এ অভিযান পরিচালনা করে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় ডিএসসিসির অদক্ষ কর্মী সুশীল চন্দ্র রবিদাসকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ডিএসসিসির স্বাস্থ্য শাখার ওয়ার্ড-১৫, অঞ্চল-১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ৩ মাস ব্যাপী অভিযানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় ধানমন্ডির রাপা প্লাজার গ্রাউন্ড পার্কিং জোন পরিদর্শনকালে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জরিমানার পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা যেমন বরদাশত করা হবে না, তেমনি দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি নগরবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ স্থাপনা, পার্কিং, ছাদ, নির্মাণাধীন স্থান ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।  এমএমএ/জেএইচ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
জননিরাপত্তায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসির সমন্বয় জোরদারে গুরুত্ব আরোপ

জননিরাপত্তায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসির সমন্বয় জোরদারে গুরুত্ব আরোপ

চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৪৮৭

চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৪৮৭

সড়কের পাশে কার্টন থেকে বের হচ্ছিল দুর্গন্ধ, পুলিশ গিয়ে পেল ছয় টুকরা লাশ

সড়কের পাশে কার্টন থেকে বের হচ্ছিল দুর্গন্ধ, পুলিশ গিয়ে পেল ছয় টুকরা লাশ

সৌদি পাইপলাইনে হামলায় ‘সম্ভবত’ ইরান দায়ী: ট্রাম্প
সৌদি পাইপলাইনে হামলায় ‘সম্ভবত’ ইরান দায়ী: ট্রাম্প

সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পেছনে ‘সম্ভবত’ ইরান জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে আজ শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সম্ভবত তারাই (ইরান) এর পেছনে রয়েছে।’সংবাদ সম্মেলনে হুতি বিদ্রোহীদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিদ্রোহীরা এই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি দেখতে চায় না। তিনি বলেন, ‘তারা চাইবে না আমরা এতে জড়াই, আর তাই তারা অধিকাংশ জাহাজকেই সেখান দিয়ে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে। কেবল একটি দেশের ওপরই তাদের তীব্র ক্ষোভ রয়েছে, আর সেই বিষয়টিও আমরা খুব শিগগিরই সমাধান করে ফেলব।’লোহিত সাগরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার: ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধের ঘোষণা সৌদি আরবেরএ সময় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিজের ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত ও ইতিবাচক সমাধান ঘটবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সবকিছুই ঠিকঠাকভাবে সামলে নেওয়া হবে।’হুতিদের অগ্রগতিতে সংকট বাড়বে সৌদির

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
নরসিংদীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে উপচেপড়া ভিড়

নরসিংদীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে উপচেপড়া ভিড়

১০ জনবল নিয়োগ দেবে র‌্যাংগস মটরস, ২০ বছর হলেই আবেদন

১০ জনবল নিয়োগ দেবে র‌্যাংগস মটরস, ২০ বছর হলেই আবেদন

তিন বছরেও শেষ হয়নি হলের নির্মাণকাজ, আবাসন সংকটে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী

তিন বছরেও শেষ হয়নি হলের নির্মাণকাজ, আবাসন সংকটে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী

মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ওমর সানী
মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ওমর সানী

দাম্পত্য জীবনের ৩১ বছর পেরিয়ে গেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমীর। দীর্ঘ এই পথচলায় বদলেছে অনেক কিছু। সংসারের ব্যস্ততা বেড়েছে, সন্তানরা বড় হয়েছে। তবে এত বছর পরও স্ত্রী মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসা ও মুগ্ধতা আগের মতোই আছে বলে জানিয়েছেন ওমর সানী। সম্প্রতি দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন ও মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেতা। সেখানে স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর নানা গুণের পাশাপাশি তাদের সংসারের কিছু মজার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মৌসুমীর কোন বিষয়টি এখনো তাকে বেশি আকর্ষণ করে-এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর সানী বলেন, ‘মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’ স্ত্রীর জীবনে সন্তানদের গুরুত্বের কথাও উঠে আসে সানীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।’ সংসারের ছোট ছোট মুহূর্তও যে তাদের সম্পর্ককে আলাদা করে, সেটিও বোঝা যায় ওমর সানীর কথায়। খাবার টেবিলের একটি মজার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখা গেল, আমি খেতে বসলাম, এই মাংসটা ফারদীন খাবে, এটা ফাইজা। ঠিক আছে। আমি অনেক সময় হাড্ডি চাবাই-চুবাই খাই। ভালোই লাগে এসব।’ আরও পড়ুন সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আবারও মুখ খুললেন মেঘনা আলম দীর্ঘ দাম্পত্যে ওমর সানী ও মৌসুমীর সম্পর্ক নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কখনো এসেছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন, কখনো তাদের নিয়ে হয়েছে নানা ধরনের লেখালেখি। এসব প্রসঙ্গে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন সানী। তিনি বলেন, ‘আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তাই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।’ এ প্রসঙ্গে মৌসুমীর একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন সানী। তিনি বলেন, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’ তবে নানা আলোচনা-সমালোচনার পরও স্ত্রীর প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশে কোনো রাখঢাক নেই ওমর সানীর। তিনি বলেন, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন-ফাইজার আম্মু-তোমাকে ভালোবাসি।’ দীর্ঘদিনের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’ আরও পড়ুন বিটিভির প্যাকেজ প্রিভিউ কমিটি পুনর্গঠন, দায়িত্বে যারা মৌসুমীর বকাঝকা ও খেয়াল রাখার মধ্যেও যে ভালোবাসা খুঁজে পান, সেটিও জানান ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ-দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই? এরপর আবার নিজেই বলবে-কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কীভাবে লাগবে, কী করতে চাও। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।’ ওমর সানী ও মৌসুমীর সম্পর্কের শুরুটাও ছিল বেশ নাটকীয়। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় দুজনের। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই প্রথম কথা হয় তাদের। অন্য সিনেমার ব্যস্ততার কারণে সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি মৌসুমী। ফলে মন খারাপ নিয়েই সেদিন ফিরেছিলেন ওমর সানী। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ সিনেমায় প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। সিলেটে ছবিটির শুটিংয়ের সময় দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। তবে সেই দূরত্বই ধীরে ধীরে বদলে যায় ভালো লাগায়। মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ মুগ্ধ করে ওমর সানীকে। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। এরপর কেটে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ যাত্রায় অভিমান, আলোচনা ও নানা গুঞ্জন এলেও পাশাপাশি থাকার গল্প থামেনি। আর ওমর সানীর কথায়, তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, ত্যাগ, বোঝাপড়া ও ভালোবাসা। এমএমএফ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
নব্বইয়ের দশকের সাজে কারিনা

নব্বইয়ের দশকের সাজে কারিনা

বাতের কষ্টে ভুগছেন দেশের ৩০% মানুষ, চিকিৎসার খরচ মেটাতে হচ্ছেন নিঃস্ব

বাতের কষ্টে ভুগছেন দেশের ৩০% মানুষ, চিকিৎসার খরচ মেটাতে হচ্ছেন নিঃস্ব

সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা, পদ্মায় নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা

সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা, পদ্মায় নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা

0 Comments