জাতীয়

ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব দখলের অভিযোগ, অনিশ্চয়তায় ক্রিকেটাররা

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব দখলের অভিযোগ, অনিশ্চয়তায় ক্রিকেটাররা
ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব দখলের অভিযোগ, অনিশ্চয়তায় ক্রিকেটাররা

ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব ঘিরে দখলের অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডি সোসাইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান ক্লাবটি দখল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইশতিয়াক সাদেক ও সাফওয়ান সোবহানের পৃষ্ঠপোষকতায় ধানমন্ডির ক্রিকেট ও ফুটবল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের সঙ্গে থাকা পৃষ্ঠপোষক ও সংগঠকদের বাইরে নতুন কোনো পক্ষ ব্যবস্থাপনায় এলে তাদের অধীনে খেলা নিয়ে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে মনে করছেন খেলোয়াড়রা।

শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ধানমন্ডির দুই ক্রিকেটার জিয়াউর রহমান ও ফজলে রাব্বি। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ব্যবস্থাপনা বদলের আশঙ্কা, পেমেন্ট জটিলতা এবং নতুন কারও অধীনে খেলার অনিশ্চয়তার কথা।

সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর জানান, ক্লাবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং আগের ব্যবস্থাপনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা মোটের ওপর ইতিবাচক। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে পেমেন্ট-সংক্রান্ত জটিলতার কথা শুনেছেন এবং নতুন একটি পক্ষ ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলেও জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডি ক্লাবে যখন শুরু থেকে আসি, ইশতিয়াক ভাই আমাদের সঙ্গে জয়েন হয়, আমি প্রথম বছর থেকে আট বছর খেলছি। ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত আমরা খুব ভালো ফিডব্যাক পেয়েছি। এখানে পেমেন্ট কোনো ইস্যু ছিল না। সবসময় চ্যাম্পিয়ন টিম করেছে, ভালো টিম করেছে, ভালো পরিবেশও ছিল, (প্রিমিয়ার লিগে) রানার্সআপও হয়েছে। এখন ৫ আগস্টের পরে একটু পেমেন্ট ইস্যু হয়েছে এবং শুনলাম যে ধানমন্ডি কমিউনিটি নিয়ে নিচ্ছে। এরকম বিভিন্ন ইস্যু একটু শুনি।’

‘ধানমন্ডি কমিউনিটি’ বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে, সেটিও ওই ক্রিকেটারের কাছে পরিষ্কার নয়। তার দাবি, নতুন করে যাদের নাম আসছে, তাদের কাউকেই জিয়া ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, ‘আমি ঠিক জানি না। কিন্তু এখন টিম চালায় তো ইশতিয়াক ভাইরা। এদের কাউকে চিনি না। শুনলাম এদের সঙ্গে নাকি একটু সমস্যা হচ্ছে।’

ক্লাবের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন নিয়ে আপত্তির জায়গাটিও স্পষ্ট করেন জিয়াউর। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা সংগঠকদের বাইরে ভিন্ন কোনো পক্ষ দায়িত্ব নিলে সেটি ক্লাবের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে।

ক্লাব পরিচালনায় সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে জিয়াউর বলেন, ‘এটা এভাবে নিতে পারে আমরা জানি না। আমরা যতটুকু জানি যে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটা সংস্থা। ওরা তো স্পোর্টসের না। আর স্পোর্টসে তো ইশতিয়াক ভাইরা বহু পুরাতন। উনাদের যে অবদান এটা ভোলার না। কারণ উনারা কিন্তু ফিডব্যাক পায় না। উনারা বছরে বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করতেছে কিন্তু ওইভাবে ফিডব্যাক কিন্তু নাই। এখন যদি এই প্রবলেমটা হয় তাহলে অনেক বড় ইস্যু ক্রিয়েট হবে।’

নতুন কোনো পক্ষ দায়িত্ব নিলে খেলোয়াড়দের অনিশ্চয়তার বিষয়টিও উঠে এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। বিশেষ করে ক্রিকেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকা কারও হাতে দায়িত্ব গেলে দল পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

জিয়াউরের ভাষায়, ‘অবশ্যই। সাজানো গোছানো বাগানে একজন এসে ধান কেটে নিচ্ছে, বিষয়টা এরকম হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এই জিনিসটা খুব ভালো কিছু বয়ে আনবে না। কারণ এই ক্লাব চালাতে হলে যে ফাইন্যান্স করা লাগে সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব কি না আমি জানি না। কিন্তু এটা মনে হয় না খুব একটা ভালো কিছু হবে। আমার মনে হয় এর একটা সুরাহা হওয়া উচিত। তারা এতদিন ধরে ইনভেস্ট করে আসছে এই টিমের জন্য এখন হুট করে যদি তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়, এটা খুব একটা খারাপ বিষয়।’

এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে ধানমন্ডির হয়ে খেলার বিষয়ে আগ্রহী কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে জিয়াউর সরাসরি বলেন, ‘না, সম্ভাবনা কম। সম্ভাবনা খুবই কম।’

শুধু মাঠের ক্রিকেট নয়, নতুন ব্যবস্থাপনা এলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ‘না, এটা আমরা কখনো দেখি নাই। আমরা তো সবসময় যারা অর্গানাইজার ছিলেন তাদেরই চিনে আসছি। নতুন যারা আসছে বা আসতে চাচ্ছে আমরা তো চিনিও না। তো আমাদের সঙ্গে কমিউনিকেশন গ্যাপটা অনেক থাকবে। এমনকি আমরাও ইনসিকিউর ফিল করব যখন খেলার কথা বলবে। আমরাও হয়তো চিন্তা করব খেলব কি খেলব না।’

এদিকে ক্লাবের পুনর্গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পর ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে দাবি করেন ক্লাব সংশ্লিষ্টরা।

গত ৯ মে ক্লাব পরিদর্শনে গিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবকে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির পাশাপাশি আর্চারি, শুটিং, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও স্কোয়াশসহ পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এরই মধ্যে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

পুনর্গঠনের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্লাবের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও। ক্লাবের সদস্যদের অভিযোগ, একাডেমির ফি সংগ্রহে ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার কমে নগদ লেনদেন বেড়েছে। এতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত অনিয়ম হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কোচ ও প্রশিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়ায় ফুটবল ও ক্রিকেট একাডেমির কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে মাঠ ও ক্লাব ব্যবস্থাপনায় ধানমন্ডি সোসাইটির প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর মধ্যেই সামনে এসেছে ক্রিকেট দল নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব। কিন্তু দলের নিবন্ধন, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় ধরে রাখা এবং বাজেট-কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্লাব-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকদের অর্থায়নে শীর্ষ পর্যায়ের দলগুলোর বিভিন্ন খরচ বহন করা হয়েছে। গত এক দশকে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছেন সাফওয়ান সোবহান ও ইশতিয়াক সাদেক। তাদের হিসাবে, দুই বিভাগের পেছনে এখন পর্যন্ত মোট ব্যয় ১০ কোটি টাকার বেশি। এখন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হওয়ায় সেই ধারাবাহিকতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিকসময়ে অ্যাডহক কমিটির ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যে ক্লাবকে স্বনির্ভর করার উদ্যোগও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিসিবির হস্তক্ষেপ বা অন্তত আলোচনায় বসার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন ক্রিকেটাররা। তাদের মতে, একটি ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় হঠাৎ করে পরিবর্তন এলে সেটির জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকা দরকার। তা না হলে একই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে অন্য ক্লাবেও দেখা দিতে পারে।

রাব্বি বলেন, ‘না, এটা আমরা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি যে ভালোর জন্য কী করা যায়। এই টাইপের ট্রেন্ড যদি চালু হয়ে যায়, পরে আরেকটি ক্লাবেরও একই সমস্যা হতে পারে। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করব যে আসলে এটা সুরাহাটা কিভাবে করা যায়। এভাবে যেন না হয় যে কেউ এসেই টিম করবে। এটা তো আসলে হতে পারে না। একটা সিস্টেমে তো যাওয়া উচিত।’

এসকেডি/এমএমআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সড়কের পাশে কার্টন থেকে বের হচ্ছিল দুর্গন্ধ, পুলিশ গিয়ে পেল ছয় টুকরা লাশ
সড়কের পাশে কার্টন থেকে বের হচ্ছিল দুর্গন্ধ, পুলিশ গিয়ে পেল ছয় টুকরা লাশ

ফরিদপুরের মধুখালীতে তিনটি কার্টনের (শক্ত কাগজের বাক্স) ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন একটি কাঁচা সড়কের পাশের ঝোপ থেকে খণ্ডিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, লাশটি ছয়টি অংশে খণ্ডিত ছিল। দুই হাতের আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি পুরুষ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন একটি কাঁচা সড়কের পাশের ঝোপে তিনটি কার্টন পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। কার্টনগুলোর মুখ বাঁধা ছিল এবং সেগুলো থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। মধুখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্টন তিনটি উদ্ধার করে। পরে কার্টন খুলে বস্তাবন্দী অবস্থায় খণ্ডিত লাশ দেখতে পায় পুলিশ।লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে পুলিশ। মধুখালী, ফরিদপুর; ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬লাশ উদ্ধারের খবরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও ক্রাইমসিন ইউনিট। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে।লাশের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মধুখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মারুফ হাসান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) এস এম মাসুদুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সৌদি পাইপলাইনে হামলায় ‘সম্ভবত’ ইরান দায়ী: ট্রাম্প

সৌদি পাইপলাইনে হামলায় ‘সম্ভবত’ ইরান দায়ী: ট্রাম্প

নরসিংদীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে উপচেপড়া ভিড়

নরসিংদীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে উপচেপড়া ভিড়

১০ জনবল নিয়োগ দেবে র‌্যাংগস মটরস, ২০ বছর হলেই আবেদন

১০ জনবল নিয়োগ দেবে র‌্যাংগস মটরস, ২০ বছর হলেই আবেদন

তিন বছরেও শেষ হয়নি হলের নির্মাণকাজ, আবাসন সংকটে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী
তিন বছরেও শেষ হয়নি হলের নির্মাণকাজ, আবাসন সংকটে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ চলছে ধীরগতিতে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও এখনো ভবন দুটির কাজ শেষ হয়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসন সুবিধা রয়েছে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর। ফলে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সংকটে ভুগছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট লাঘবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি ১০ তলা হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি ভবন দুটির নির্মাণকাজ। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি ভবনের নির্মাণকাজে হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে এরই মধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে ভবন দুটির নির্মাণকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সরেজমিনে জানা যায়, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ভবন দুটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএসআই কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ চলায় শ্রমিক সংকটসহ নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এতে দফায় দফায় কাজের মেয়াদ বাড়িয়েও নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণকাজের এমন দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসআই কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল মিয়া বলেন, ভবনের অধিকাংশ কাজ শেষ। আমরা এখন ফিনিশিংয়ের কাজ করছি। আশা করছি আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারবো। এর আগে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন এবং ফাইল আটকে থাকার কারণে নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান। আরও পড়ুন শিবির সভাপতি / শিক্ষার্থীরা এতো কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও থাকার জায়গা পান না এ বিষয়ে সিএসআই কনস্ট্রাকশনের প্রশাসক রুমেল ও রিপোর্টিং পরিচালক শাহআলম বাদশার সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এদিকে, প্রকল্পের কাজের বারবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন। এরপর অনুমতি পেলে দেওয়া যাবে। তবে চলমান বর্ধিত সময়সীমা ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলে তাদের আইনি শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম। এনএইচআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ওমর সানী

মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ওমর সানী

নব্বইয়ের দশকের সাজে কারিনা

নব্বইয়ের দশকের সাজে কারিনা

বাতের কষ্টে ভুগছেন দেশের ৩০% মানুষ, চিকিৎসার খরচ মেটাতে হচ্ছেন নিঃস্ব

বাতের কষ্টে ভুগছেন দেশের ৩০% মানুষ, চিকিৎসার খরচ মেটাতে হচ্ছেন নিঃস্ব

সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা, পদ্মায় নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা
সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা, পদ্মায় নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা

হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে ছাত্রদল নেতা । ১২ সেপ্টেম্বর বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত দেখুন প্রতিবেদনে-

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
মেঘনায় আবারও বালু উত্তোলন, হুমকিতে বেড়িবাঁধ-ইকোনমিক জোন

মেঘনায় আবারও বালু উত্তোলন, হুমকিতে বেড়িবাঁধ-ইকোনমিক জোন

অবহেলিত কবি-গীতিকার আজিজুর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন

অবহেলিত কবি-গীতিকার আজিজুর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন

নিরপরাধ কৃষকদের গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধের দাবি

নিরপরাধ কৃষকদের গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধের দাবি

0 Comments