প্রায় ৫৩ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমির মৌলভীবাজারে বৈধ-অবৈধ করাতকল ঘিরে বাড়ছে বনজ সম্পদ উজাড়ের অভিযোগ। আইন অমান্য করে কৃষিজমিতে গড়ে ওঠা এসব করাতকলে দিনরাত চেরাই হচ্ছে সামাজিক বনায়ন ও বন থেকে চোরাই পথে আনা গাছ। এতে একদিকে কমছে বনভূমির বৃক্ষ আচ্ছাদন, অন্যদিকে বাড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ঝুঁকি।
সচেতন নাগরিকেরা বলেন, সময় যত যাচ্ছে করাতকলে অবৈধভাবে গাছ চেরানোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির সংখ্যা কমে আসছে। অনেক করাতকল আছে রাতের আঁধারে অবৈধ গাছগুলো চেরাই করে দেয়। বন ও সড়কের পাশ থেকে গাছ চুরি করে কোনরকম করাতকলে নিয়ে আসলেই এগুলো বৈধ হয়ে যায়। বন বিভাগের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় তারাও এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।
‘মৌলভীবাজারে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু লাইসেন্সবিহীন করাতকল বন্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি কমলগঞ্জে একটি অবৈধ করাতকল বন্ধ করা হয়েছে। যাদের কাগজপত্র আছে তাদের প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে। যেসব করাতকলের লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জেলার পরিবেশ কর্মীরা বলেন, অবাধে গাছ নিধন করার জন্য একমাত্র বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর দায়ী। তারা যদি যত্রতত্র করাতকলের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স অনুমোদন না দিতেন তাহলে বনগুলো বেঁচে থাকতো। পরিবেশর ক্ষতি হতো না। এ জেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ সংরক্ষিত বনের মূল্যবান গাছ প্রতিদিন চুরি হচ্ছে। চুরি হওয়া গাছগুলো করাতকলেই নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে এক-দুটি অভিযান করা হলেও তা যথেষ্ট নয়।
সিলেট বিভাগীয় বন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায় মোট ১৯৩টি করাতকল রয়েছে। এরমধ্যে ১৪২টির লাইসেন্স রয়েছে।
অবৈধ ১৩টি ও উচ্চ আদালতে রিট ও স্বত্ব মামলায় আছে আরও ৪০টি। এছাড়া ৫৩ হাজার ১০৯ একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, সংরক্ষিত বন ও রাস্তার পাশে অসংখ্য করাতকল রয়েছে। এসব করাতকলে বৈধ ও অবৈধ গাছ এনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সময়-সুযোগ বুঝে বিক্রি করা হয়। বেশিরভাগ করাতকল কৃষি জমি ভরাট করে স্থাপন করা হয়েছে। রাতের আঁধারেও অনেক করাতকলে গাছ চিরানো হয় যাতে চোরাইকৃত গাছ কেউ দেখতে না পারে। এছাড়া বিভিন্ন সড়কের পাশের গাছ, চা বাগানের ছায়া বৃক্ষগুলো অবাধে নিধন করে বিক্রি হচ্ছে। অবৈধভাবে গাছ চুরির কারণে সংরক্ষিত বনের ঘনত্ব কমেছে আগের চেয়ে অনেক বেশি।
‘আমাদের জনবল নেই এজন্য অভিযান পরিচালনা করতে পারিনা। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও লাইসেন্স বনবিভাগ থেকে দেওয়া হয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, সড়কের পাশ থেকে অনেকেই গাছ চুরি করে করাতকলে নিয়ে আসেন। বৈধ গাছের সঙ্গে চোরাই গাছও বিক্রি করা হয়।
বিশেষ করে গাছ করাতকলে চেরানোর পর আর বোঝা যায় না কোন গাছ চুরির আর কোন গাছ বৈধ। অবৈধ করাতকলগুলো চালু রাখার জন্য মালিকেরা বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে চলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন করাতকলের মালিকেরা জানান, অনেক করাতকল আছে যারা অবৈধভাবে করাতকল চালাচ্ছেন। আবার অনেকেই আছেন আদালতে রিট করে চালাচ্ছেন। বনবিভাগ অনেক সময় অভিযান পরিচালনা করলেও যারা অবৈধভাবে করাতকল চালাচ্ছেন তারা সবাইকে মেনেজ করে চলতে হচ্ছে। আমরা সচরাচর চোরাই কাট চেরাই করি না। তবে আমরা তো জানি না কোন কাঠ অবৈধ আর কোন কাঠ বৈধ।
পরিবেশকর্মী নাজমুল ইসলাম বলেন, জেলায় অসংখ্য অবৈধ করাতকল আছে। এসব করাতকল থেকে বনবিভাগের লোকেরা নিয়মিত টাকার ভাগ নেন। এজন্য কেউ কিছু বলে না। জেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে কয়েকটি করে করাতকল আছে। প্রতিনিয়তো গাছ চুরি হচ্ছে এসব গাছ কোথাও যায়? পরিবেশকে বাঁচাতে হলো প্রথমে অবৈধ করাতকল বন্ধ করতে হবে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, আমাদের জনবল নেই এজন্য অভিযান পরিচালনা করতে পারিনা। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও লাইসেন্স বনবিভাগ থেকে দেওয়া হয়।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, মৌলভীবাজারে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু লাইসেন্সবিহীন করাতকল বন্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি কমলগঞ্জে একটি অবৈধ করাতকল বন্ধ করা হয়েছে। যাদের কাগজপত্র আছে তাদের প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে। যেসব করাতকলের লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‘জেলায় অসংখ্য অবৈধ করাতকল আছে। এসব করাতকল থেকে বনবিভাগের লোকেরা নিয়মিত টাকার ভাগ নেন। এজন্য কেউ কিছু বলে না। জেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে কয়েকটি করে করাতকল আছে। প্রতিনিয়তো গাছ চুরি হচ্ছে এসব গাছ কোথাও যায়? পরিবেশকে বাঁচাতে হলো প্রথমে অবৈধ করাতকল বন্ধ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, এই জেলায় অনেক সংরক্ষিত বন রয়েছে। আমরা অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়। অনেক করাতকল উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছে। কেউ যদি চোরাই কাঠ বিক্রি বা চেরাই করলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবো।
এনএইচআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ন্যায়বিচার নিশ্চিত, আইনের শাসন সুসংহত ও জননিরাপত্তা জোরদার করার জন্য পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব, কর্তব্য ও করণীয় নিয়ে ঢাকায় আলোচনা সভা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্মেলনকক্ষে এ সভা হয়। ঢাকা জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমান। আরও পড়ুন বিচারাধীন বিষয় নিয়ে অহেতুক মন্তব্য, চিফ প্রসিকিউটরকে আদালতের সতর্কতা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, বিচার বিভাগ ও পুলিশের মধ্যে সুসমন্বিত ও কার্যকর কর্মসম্পর্ক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন সুসংহত ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচারিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও পেশাদার সমন্বয় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পুলিশ সুপার একই সঙ্গে মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান। দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। শামীমা পারভীন আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভার মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানসম্মত বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। সভায় বিচার বিভাগ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এমডিএএ/একিউএফ
উৎসবের সাজ মানেই কি গাঢ় রং, ভারী কাজ আর ঝলমলে গয়না? কারিনা কাপুর খান যেন সেই চেনা ধারণাতেই একটু পরিবর্তন আনলেন। মুম্বাইয়ে ‘দায়রা’ সিনেমার মিউজিক লঞ্চে চেনা ড্রেস কিংবা শার্প টেইলারিংয়ের পথে না হেঁটে অভিনেত্রী বেছে নিলেন ছয় গজের মায়াবী লেহেরিয়া। আর সেই শাড়ির প্যাস্টেল রঙের খেলায় এক ঝলকেই যেন চোখ আটকে গেল। কারিনার পরনে ছিল ‘দ্য প্যালেস অ্যাটেলিয়ার’-এর সমন্দর লেহেরিয়া শাড়ি। উজ্জ্বল হলুদ, ফিরোজা, সমুদ্র-ফেনা সবুজ এবং হালকা গোলাপি রঙের স্নিগ্ধ আভায় প্রাণবন্ত এই রঙগুলোর মেলবন্ধন শাড়িটিকে করে তুলেছে একেবারেই অন্যরকম। রঙের বাহার আছে, কিন্তু নেই কোনো বাড়তি চাকচিক্য। হালকা শিফনের কাপড় শরীরের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে গিয়ে তৈরি করেছে বাতাসে ভেসে থাকা এক অনুভূতি।শাড়ির ড্রেপিংয়েও ছিল কারিনার সেই চেনা ‘লেস ইজ মোর’ স্টাইল। অতিরিক্ত প্লিট কিংবা জটিল কায়দায় না গিয়ে সহজভাবেই শাড়ি পরেছেন তিনি। ফলে লেহেরিয়ার ঢেউ খেলানো নকশা আর প্যাস্টেল রঙই হয়ে উঠেছে পুরো লুকের আসল নায়ক। এমন রঙিন শাড়ির সঙ্গে গয়না বাছাইয়ে সামান্য ভুল হলেই পুরো সাজ ভারী হয়ে যেতে পারত। কারিনা অবশ্য সেই ঝুঁকিই নেননি। গলায় ছিল সূক্ষ্ম ডিটেইলের ডাবল-লেয়ারড ডায়মন্ড চোকার। সঙ্গে ছোট স্টাড কানের দুল। গয়নায় ঝলক ছিল, কিন্তু তা শাড়ির রঙের সঙ্গে পাল্লা দেয়নি। বরং পুরো সাজে যোগ করেছে নরম এক রাজকীয়তা। মেকআপেও ছিল একই ছন্দ। ত্বকে গ্লোয়িং বেস, চোখে হালকা ডেফিনিশন, গালে মৃদু ব্লাশ আর ঠোঁটে নিউট্রাল-ন্যুড পিঙ্ক-সব মিলিয়ে সাজটি ছিল স্বাভাবিক অথচ গ্ল্যামারাস। খোলা চুলে নরম ওয়েভ বা ব্লো-ড্রাই করা চুল লুকটিকে দিয়েছে সতেজতা। এই লুক শুধু নতুন ট্রেন্ডের গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাপুর পরিবারের পুরোনো ফ্যাশন স্মৃতিও। কারিনা তার সাম্প্রতিক লেহেরিয়া লুকের সঙ্গে বোন কারিশমা কাপুরের ‘জুবেইদা’ সিনেমার একটি পুরোনো সাজের ছবি মিলিয়ে দেখিয়েছেন। দুই বোনের লুক পাশাপাশি আসতেই যেন সময়ের ব্যবধানটা মুহূর্তেই মুছে গেল। ফ্যাশন যে শুধু ট্রেন্ডের নাম নয়, কখনো কখনো পরিবারের স্মৃতিও হয়ে উঠতে পারে-কারিনার এই পোস্ট যেন সেটিই মনে করিয়ে দিল। লেহেরিয়া রাজস্থানের বহু পুরোনো টাই-ডাই বা রেজিস্ট-ডাইং কৌশল। কাপড় বিশেষভাবে বাঁধার পর রং করার ফলে তৈরি হয় ঢেউয়ের মতো তির্যক রেখা। ‘লেহর’ বা ‘লহর’ শব্দের অর্থই ঢেউ। জয়পুর ও যোধপুরসহ রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কারিনার শাড়িতে সেই ঐতিহ্যই যেন নতুন প্রজন্মের জন্য নতুনভাবে হাজির হয়েছে। একদিকে রাজস্থানি লেহেরিয়ার পরিচিত ঢেউ খেলানো নকশা, অন্যদিকে প্যাস্টেল রঙের আধুনিক প্যালেট ও মিনিমাল স্টাইলিংয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে তার লুকের বিশেষত্ব। কারিনার এই সাজের সবচেয়ে বড় বার্তা একটাই-উৎসবের ফ্যাশনে নজর কাড়তে সবসময় ভারী সাজের প্রয়োজন নেই। নরম প্যাস্টেল রং, হালকা শিফন, সংযত গয়না আর স্বাভাবিক মেকআপ দিয়েও তৈরি হতে পারে এমন একটি লুক, যা একসঙ্গে আধুনিক, এলিগ্যান্ট আর রাজকীয়। আর কারিনা কাপুর খান সেটিই যেন প্রমাণ করলেন তার ছয় গজের এই রঙিন মায়ায়। এসএকেওয়াই