জাতীয়

ডিএনএ বারকোডিং: প্রকৃতির লাইব্রেরি পড়ার চাবিকাঠি

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
ডিএনএ বারকোডিং: প্রকৃতির লাইব্রেরি পড়ার চাবিকাঠি
ডিএনএ বারকোডিং: প্রকৃতির লাইব্রেরি পড়ার চাবিকাঠি

ডিএনএ কী, তা হয়তো সবার জানা। ডিএনএ হলো একপ্রকার রাসায়নিক পদার্থ, যার পুরো নাম ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড। এটি আমাদের বংশগতির ধারক ও বাহক। এই ডিএনএই আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যেমন চোখের রং, চুলের রং, দেহের গঠন, এমনকি আমাদের বেশ কিছু আচরণও বংশপরম্পরায় বহন করে নিয়ে যায়। আমাদের সব আচার-আচরণ, পছন্দ-অপছন্দ আর পুরো জীবনপঞ্জির খসড়া লেখা থাকে এই ডিএনএতে। একে বলা যায় আমাদের ব্যক্তিগত জীবনভ্রমণের ডায়েরি। কিন্তু এই ডায়েরি হুবহু কারও সঙ্গে মেলে না, যতই একই পরিবারের মানুষ হোক না কেন।

ডিএনএ আমাদের বংশগতির ধারক ও বাহক। এটি আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যেমন চোখের রং, চুলের রং, দেহের গঠন, এমনকি আমাদের বেশ কিছু আচরণও বংশপরম্পরায় বহন করে নিয়ে যায়।

ডিএনএ কী দিয়ে তৈরি

ডিএনএ হলো দুটি অত্যন্ত লম্বা পলিমার শৃঙ্খল, যা পরস্পর পেঁচিয়ে একটি ডাবল হেলিক্স বা দ্বিকুণ্ডলীর মতো গঠন সৃষ্টি করে। এই শৃঙ্খলটি গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট ছোট একক বা নিউক্লিওটাইড দিয়ে। প্রতিটি নিউক্লিওটাইডে থাকে একটি ফসফেট গ্রুপ, একটি শর্করা (ডিঅক্সিরাইবোজ) এবং একটি নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (বেস)। এই ক্ষারকগুলোই আসলে মূল তথ্যবাহক। এগুলো চার ধরনের: অ্যাডেনিন (A), থাইমিন (T), গুয়ানিন (G) এবং সাইটোসিন (C)।

ডিএনএ হলো দুটি অত্যন্ত লম্বা পলিমার শৃঙ্খল, যা পরস্পর পেঁচিয়ে একটি ডাবল হেলিক্স বা দ্বিকুণ্ডলীর মতো গঠন সৃষ্টি করে

একটি শৃঙ্খলে A-এর বিপরীতে অন্য শৃঙ্খলে T বসে, আর G-এর বিপরীতে বসে C। A, T, G, C অক্ষরের এই বিন্যাসই হলো আমাদের জিনগত ভাষা। যেমন কোনো বইয়ের অক্ষর সাজিয়ে গল্প তৈরি হয়, তেমনি এই অক্ষরের ক্রমেই তৈরি হয় আমাদের গুণাবলির অসংখ্য গল্প। মানুষের ডিএনএতে প্রায় ৩০০ কোটি বেস পেয়ার রয়েছে, অথচ তার ভেতরেই সাজানো আছে আমাদের জীবন পরিচালনার পুরো নির্দেশিকা।

ডিএনএ হলো দুটি অত্যন্ত লম্বা পলিমার শৃঙ্খল, যা পরস্পর পেঁচিয়ে একটি ডাবল হেলিক্স বা দ্বিকুণ্ডলীর মতো গঠন সৃষ্টি করে। এই শৃঙ্খলটি গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট ছোট একক বা নিউক্লিওটাইড দিয়ে।

ডিএনএ বারকোড কী

এবার আসি ডিএনএ বারকোডের কথায়। বাজারে তো প্রতিটি পণ্যের গায়ে কালো-সাদা লম্বা লম্বা বারকোড দেখেছেন। দোকানের স্ক্যানার মেশিন তা পড়ে সঙ্গে সঙ্গেই বলে দেয় পণ্যের নাম, দাম, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ, কোম্পানির ঠিকানা সবকিছু। ডিএনএ বারকোডের কাজও অনেকটা তা-ই, কিন্তু পার্থক্য হলো এখানে পণ্য নয়, বরং পৃথিবীর যেকোনো প্রাণী, উদ্ভিদ, এমনকি ছত্রাক বা অণুজীবকে শনাক্ত করা হয়। আর দোকানের বারকোড মানুষ বানিয়েছে, কিন্তু ডিএনএ বারকোড তৈরি করছে প্রকৃতি নিজেই; বিজ্ঞানীরা শুধু সেটাকে ‘পড়তে’ শিখেছেন।

তবে বারকোড বলতে ডিএনএর পুরো অংশকে বোঝায় না। ডিএনএ এত দীর্ঘ যে এর পুরোটার সিকোয়েন্স বা ক্রম নির্ধারণ করা অনেক সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তাই বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ অংশ খুঁজে বের করেছেন, যা প্রতিটি প্রজাতির মধ্যে অনন্য কিন্তু প্রজাতির ভেতরের সব সদস্যের মধ্যে প্রায় একই রকম।

ডিএনএ এত দীর্ঘ যে এর পুরোটার সিকোয়েন্স বা ক্রম নির্ধারণ করা অনেক সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল

প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই অংশটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএতে অবস্থিত সাইটোক্রোম সি অক্সিডেজ সাবইউনিট ১ বা সংক্ষেপে CO1/COX1 জিন। মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের সেই অংশ, যাকে আমরা কোষের বিদ্যুৎকেন্দ্র বলি। এই CO1 জিনটির প্রায় ৬৫০ বেস পেয়ার দৈর্ঘ্যের একটি নির্দিষ্ট খণ্ড প্রতিটি প্রাণী প্রজাতির জন্য আলাদা হয়। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অবশ্য কিছুটা ভিন্ন জিন ব্যবহার করা হয়, যেমন rbcL বা matK। কারণ, উদ্ভিদের CO1 জিন তেমন বৈচিত্র্য দেখায় না। কিন্তু এই একটি ছোট্ট অংশই একটি প্রজাতিকে অন্য সব প্রজাতি থেকে চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট।

মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের সেই অংশ, যাকে আমরা কোষের বিদ্যুৎকেন্দ্র বলি। এই CO1 জিনটির প্রায় ৬৫০ বেস পেয়ার দৈর্ঘ্যের একটি নির্দিষ্ট খণ্ড প্রতিটি প্রাণী প্রজাতির জন্য আলাদা হয়।

ল্যাবরেটরিতে কীভাবে এই ডিএনএ বারকোড তৈরি করা হয়, চলুন তার ধাপগুলো জেনে নিই। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও বৈজ্ঞানিক।

প্রথম ধাপ: নমুনা সংগ্রহ ও ডিএনএ নিষ্কাশন

যে প্রাণী বা উদ্ভিদকে আমরা শনাক্ত করতে চাই, তার শরীরের খুব অল্প অংশ—যেমন মাছের আঁশ, পাখির পালক, পোকামাকড়ের একটি পা, উদ্ভিদের একটি পাতা, এমনকি মাত্র এক ফোঁটা রক্তই এর জন্য যথেষ্ট। এই নমুনাটি প্রথমে একটি টিউবে নিয়ে খুব সূক্ষ্মভাবে পিষে ফেলা হয়। একে বলা হয় হোমোজেনাইজেশন। এরপর এতে কিছু বিশেষ রাসায়নিক দ্রবণ যোগ করা হয়, যা কোষের প্রাচীর ও নিউক্লিয়াসের ঝিল্লি ভেঙে ডিএনএকে বের করে আনে। একে বলে লাইসিস বাফার। সঙ্গে থাকে কিছু এনজাইম (যেমন প্রোটিনেজ K), যা ডিএনএর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রোটিনগুলোকে কেটে আলাদা করে ফেলে। এবার এই মিশ্রণ থেকে ডিএনএকে বিশুদ্ধ করতে হয়। সেটি করা হয় ফেনল-ক্লোরোফর্ম বা সিলিকা কলামের মাধ্যমে; যাতে শুধু ডিএনএ থাকে এবং বাকি সব আবর্জনা বাদ পড়ে যায়। শেষ ধাপে অল্প পরিমাণ ইথানল দিয়ে ডিএনএকে অধঃক্ষেপণ (প্রেসিপিটেশন) করিয়ে শুকনো পেলেট আকারে সংগ্রহ করা হয়। এই পেলেটটিই হলো আমাদের কাঁচা ডিএনএ। এরপর এটিকে বাফার দ্রবণে দ্রবীভূত করে পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

২৬০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে আলো শোষণের মাত্রা দেখে ডিএনএর পরিমাণ বোঝা যায়। আর ২৮০ ন্যানোমিটারে শোষণ দেখে বোঝা যায় ডিএনএতে প্রোটিনের দূষণ আছে কি না।

দ্বিতীয় ধাপ: ডিএনএর গুণমান ও পরিমাণ যাচাই

শুধু ডিএনএ বের করলেই হয় না, সেটি যথেষ্ট ভালো মানের কি না, তা পরীক্ষা করে দেখতে হয়। কারণ নমুনা যদি পুরোনো হয় বা পচে গিয়ে থাকে, তাহলে ডিএনএ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তখন বারকোডিং কাজ করে না। তাই একটি স্পেকট্রোফোটোমিটার মেশিনে ডিএনএর ঘনমাত্রা মাপা হয়। ২৬০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে আলো শোষণের মাত্রা দেখে ডিএনএর পরিমাণ বোঝা যায়। আর ২৮০ ন্যানোমিটারে শোষণ দেখে বোঝা যায় ডিএনএতে প্রোটিনের দূষণ আছে কি না। একটি আদর্শ ডিএনএ নমুনায় ২৬০/২৮০ অনুপাত হয় ১.৮-এর কাছাকাছি। এর পাশাপাশি, অ্যাগারোজ জেল ইলেকট্রোফোরেসিস নামে একটি পদ্ধতিতে ডিএনএকে জেলের ওপর দিয়ে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে চালানো হয়। ডিএনএ যদি অক্ষত থাকে, তাহলে জেলের ওপর একটি পরিষ্কার ও চওড়া ব্যান্ড দেখা যায়। আর যদি ভাঙা থাকে, তাহলে মলিন বা ধোঁয়াটে ব্যান্ড দেখা যাবে। শুধু মানসম্মত ডিএনএ নিয়েই পরবর্তী কাজ করা হয়।

নমুনা যদি পুরোনো হয় বা পচে গিয়ে থাকে, তাহলে ডিএনএ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তখন বারকোডিং কাজ করে না। তাই একটি স্পেকট্রোফোটোমিটার মেশিনে ডিএনএর ঘনমাত্রা মাপা হয়।

তৃতীয় ধাপ: পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন

ডিএনএ বারকোডিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এই পিসিআর বা পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন। কারণ আমাদের হাতে থাকা ডিএনএ অত্যন্ত অল্প। কিন্তু সেই অল্প ডিএনএর মধ্য থেকে CO1 অংশটি বারবার কপি করে বিপুল সংখ্যায় বাড়িয়ে তুলতে হয়, যাতে সেটিকে সিকোয়েন্স মেশিনে পড়ার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ তৈরি হয়। এই কাজটি করে পিসিআর মেশিনটি। এর জন্য প্রথমে দুটি ছোট কৃত্রিম ডিএনএ টুকরোর প্রয়োজন হয়, যাদের বলে প্রাইমার। এই প্রাইমারগুলো তৈরি করা হয় CO1 জিনের শুরুর ও শেষের দিকের অংশের সঙ্গে মিল রেখে। একটি হলো ফরওয়ার্ড প্রাইমার (যেমন HCO2198) এবং অন্যটি রিভার্স প্রাইমার (যেমন LCO1490)। এগুলো ইউনিভার্সাল প্রাইমার নামে পরিচিত, কারণ এগুলো প্রায় সব প্রাণী প্রজাতিতেই কাজ করে।

একটি চক্রে একটি ডিএনএ অণু থেকে দুটি তৈরি হয়। এই চক্রটি ৩০ থেকে ৪০ বার পুনরাবৃত্তি হলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি ডিএনএ অণু থেকে কয়েক কোটি কপি তৈরি হয়ে যায়।

এরপর একটি টিউবে আমরা মেশাই অল্প পরিমাণ নিষ্কাশিত ডিএনএ, দুটি প্রাইমার, কিছু মুক্ত নিউক্লিওটাইড (dNTPs), একটি বিশেষ এনজাইম যার নাম টাক পলিমারেজ। এটি তাপ সহ্য করতে পারে এবং এটি বাফার দ্রবণ। এই টিউবটিকে পিসিআর মেশিনে রেখে তাপমাত্রার একটি চক্রের মধ্য দিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গরম করা হয়, এতে ডিএনএর দুটি শৃঙ্খল আলাদা হয়ে যায়। তারপর তাপমাত্রা নামিয়ে ৪৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রিতে আনা হয়, এতে প্রাইমারগুলো তাদের জায়গা খুঁজে নিয়ে ডিএনএর সঙ্গে যুক্ত হয়। শেষে তাপমাত্রা বাড়িয়ে ৭২ ডিগ্রি করা হয়, এই তাপমাত্রায় টাক পলিমারেজ এনজাইম কাজ শুরু করে এবং প্রাইমার থেকে শুরু করে নতুন করে ডিএনএর শৃঙ্খল তৈরি করে।

এই একটি চক্রে একটি ডিএনএ অণু থেকে দুটি তৈরি হয়। এই চক্রটি ৩০ থেকে ৪০ বার পুনরাবৃত্তি হলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি ডিএনএ অণু থেকে কয়েক কোটি কপি তৈরি হয়ে যায়। এখন এই পিসিআর প্রোডাক্টকে আবার আগের মতো অ্যাগারোজ জেলে চালিয়ে দেখা হয় যে ঠিক ৬৫০-৭০০ বেস পেয়ারের জায়গায় একটি উজ্জ্বল ব্যান্ড এসেছে কি না। এসেছে মানে বুঝতে হবে আমাদের বারকোডিং অংশটি সফলভাবে বাড়ানো হয়েছে।

শেষে তাপমাত্রা বাড়িয়ে ৭২ ডিগ্রি করা হয়, এই তাপমাত্রায় টাক পলিমারেজ এনজাইম কাজ শুরু করে এবং প্রাইমার থেকে শুরু করে নতুন করে ডিএনএর শৃঙ্খল তৈরি করে।

চতুর্থ ধাপ: সিকোয়েন্সিং বা ডিএনএর ক্রম নির্ণয়

পিসিআরের মাধ্যমে যে বিপুলসংখ্যক CO1 জিনের কপি তৈরি হয়েছে, এখন সেগুলোর ক্রম পড়তে হবে। অর্থাৎ কোথায় কয়টি A, কয়টি T, G ও C বসেছে, তা বের করতে হবে। এই কাজটি করা হয় একটি অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে, যাকে বলে ক্যাপিলারি সিকোয়েন্সার (স্যাঙ্গার সিকোয়েন্সিং পদ্ধতি)। এই পদ্ধতিতে পিসিআর প্রোডাক্টের সঙ্গে কিছু বিশেষ রাসায়নিক মেশানো হয়, যা ডিএনএর শৃঙ্খল তৈরি হওয়ার সময় মাঝে মাঝে থামিয়ে দেয়। এতে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের অসংখ্য টুকরো তৈরি হয়, প্রতিটি টুকরোর শেষ প্রান্তে একটি আলোকদীপ্ত বা ফ্লুরোসেন্ট রঞ্জক থাকে।

এই টুকরোগুলোকে তখন একটি অতিসরু ক্যাপিলারি টিউবের ভেতর দিয়ে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে চালনা করা হয়। সবচেয়ে ছোট টুকরোগুলো সবচেয়ে দ্রুত এগোয়, আর বড়গুলো ধীরে। তারা যখন টিউবের শেষ প্রান্তে পৌঁছায়, তখন একটি লেজার রশ্মি তাদের ওপর পড়ে এবং প্রতিটি রঞ্জক ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বিকিরণ করে। একটি কম্পিউটার সেই আলোর ধারা ক্যামেরাবন্দী করে এবং প্রতিটি অক্ষর (A, T, G, C) রিডিং আকারে দেখায়। ফলে আমরা নমুনার একটি ক্রোমাটোগ্রাম পাই। এটি দেখতে অনেকটা মানচিত্রের মতো, যেখানে প্রতিটি পিক বা উঁচু জায়গা একটি নির্দিষ্ট বেসকে নির্দেশ করে। শেষ পর্যন্ত এই কাঁচা ডেটা প্রক্রিয়াজাত করে আমরা একটি টেক্সট ফাইলে পাই, যেখানে প্রায় ৬৫০-৭০০ অক্ষরের একটি ক্রম লেখা থাকে। এটিই আমাদের ডিএনএ বারকোড।

পিসিআরের মাধ্যমে যে বিপুলসংখ্যক CO1 জিনের কপি তৈরি হয়েছে, এখন সেগুলোর ক্রম পড়তে হবে। অর্থাৎ কোথায় কয়টি A, কয়টি T, G ও C বসেছে, তা বের করতে হবে।

পঞ্চম ধাপ: ডেটাবেসের সঙ্গে ক্রম মেলানো

এখন আমরা একটি ক্রম হাতে পেয়েছি, কিন্তু এটি কার? এটি বের করার জন্য বিশ্বের বৃহত্তম ডেটাবেসের সন্ধান করতে হয়। সবচেয়ে পরিচিত ডেটাবেস হলো ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন বা সংক্ষেপে NCBI। তাদের ওয়েবসাইটে একটি টুল আছে, নাম BLAST (বেসিক লোকাল অ্যালাইনমেন্ট সার্চ টুল)। এই টুলটি আমাদের অজানা ক্রমটিকে NCBI-তে জমা থাকা লাখ লাখ প্রজাতির ডিএনএ ক্রমের সঙ্গে তুলনা করে। এটি হিসাব করে আমাদের ক্রমের সঙ্গে ডেটাবেসের কোন ক্রমটির কতটুকু মিল রয়েছে। ফলাফল আসে পারসেন্টেজ আকারে, যেমন ৯৯.৮৭% মিল, ৯৮.২% মিল ইত্যাদি।

সাধারণত ৯৮% এর বেশি মিল পাওয়া গেলে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে আমাদের নমুনাটি ওই প্রজাতিটিরই। BLAST ফলাফলে আমরা মিলে যাওয়া প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম, তার জিনগত তথ্য এবং সেটি কোন শ্রেণিবিন্যাসগত গোত্রের সদস্য, তা দেখতে পাই।

BLAST আমাদের অজানা ক্রমটিকে NCBI-তে জমা থাকা লাখ লাখ প্রজাতির ডিএনএ ক্রমের সঙ্গে তুলনা করে। এটি হিসাব করে আমাদের ক্রমের সঙ্গে ডেটাবেসের কোন ক্রমটির কতটুকু মিল রয়েছে।

ষষ্ঠ ধাপ: ফাইলোজেনেটিক ট্রি

শুধু নাম জানলেই কি কাজ শেষ? মোটেও নয়। বিজ্ঞানীরা আরও গভীরে যান। তাঁরা একাধিক নমুনার ডিএনএ বারকোড নিয়ে একটি ফাইলোজেনেটিক ট্রি বা বংশবৃক্ষ তৈরি করেন। এই বংশবৃক্ষ দেখায় কোন প্রজাতিগুলো পরস্পরের কতটা কাছাকাছি, কারা একই পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে, আর কারা অনেক দূরে সরে গেছে। এর জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, যেমন MEGA (মলিউকুলার ইভ্যুলুশনারি জেনেটিকস অ্যানালাইসিস) অথবা BEAST, MrBayes ইত্যাদি।

কীভাবে এই বংশবৃক্ষ তৈরি হয়? প্রথমে আমরা আমাদের অজানা প্রজাতির ক্রমটির সঙ্গে আরও কয়েকটি প্রজাতির ক্রম (যাদের আমরা শনাক্ত করতে চাই) এবং একটি আউটগ্রুপ (যে প্রজাতিটি আমাদের গ্রুপ থেকে অনেক দূরে, যেমন মাছের ক্ষেত্রে কোনো পাখি) নিয়ে একটি ফাইল তৈরি করি। এরপর সফটওয়্যারটি সবগুলো ক্রমকে একে অপরের সঙ্গে সারিবদ্ধ করে। অর্থাৎ সামঞ্জস্যপূর্ণ জায়গাগুলোকে এক কলামে আনে।

তারপর এটি হিসাব করে ক্রমগুলোর মধ্যে কতগুলো মিউটেশন বা পরিবর্তন আছে। যাদের মধ্যে কম পরিবর্তন, তারা কাছাকাছি; যাদের বেশি, তারা দূরে। এরপর সফটওয়্যারটি বিভিন্ন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে একটি ট্রি আঁকে, যার ডালপালা (ব্রাঞ্চ) দেখায় বিবর্তনীয় সম্পর্ক। দীর্ঘ ডাল মানে বেশি পরিবর্তন, ছোট ডাল মানে কম পরিবর্তন। এই ট্রিতে যদি আমাদের অজানা নমুনাটি পরিচিত একটি প্রজাতির সঙ্গে একই শাখায় বসে, তাহলে বুঝতে হবে তারা খুব কাছাকাছি। আর যদি এটি সম্পূর্ণ আলাদা শাখায় চলে যায়, তাহলে বুঝতে হবে এটি হয়তো নতুন প্রজাতি, অথবা ভিন্ন কোনো গোত্রের সদস্য।

সামঞ্জস্যপূর্ণ জায়গাগুলোকে এক কলামে আনে। তারপর এটি হিসাব করে ক্রমগুলোর মধ্যে কতগুলো মিউটেশন বা পরিবর্তন আছে। যাদের মধ্যে কম পরিবর্তন, তারা কাছাকাছি; যাদের বেশি, তারা দূরে।

শেষ ধাপ: ফলাফলের প্রতিবেদন ও সংরক্ষণ

শেষ ধাপে এই পুরো বিশ্লেষণের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তাতে থাকে নমুনার বিবরণ, সংগ্রহস্থল, ডিএনএ ক্রম, ব্লাস্টের ফলাফল, ফাইলোজেনেটিক ট্রি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (যেমন নমুনাটি অমুক প্রজাতি)। এই প্রতিবেদনটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশ করা হয়। অথবা যদি এটি সত্যিই নতুন কোনো প্রজাতি হয়, তাহলে এর বারকোড ক্রমটিকে BOLD (বারকোড অব লাইফ ডাটা সিস্টেম) এবং NCBI-এর GenBank-এ জমা দিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এই ক্রমটি পেলে মিলিয়ে দেখতে পারে। আর তখন থেকেই এই প্রজাতিটির একটি স্থায়ী ডিএনএ পরিচয়পত্র তৈরি হয়ে যায়।

ডিএনএর সেই ক্ষুদ্র অক্ষরগুলোর সাজানো ক্রম আমরা যখন পড়তে শিখেছি, তখন পৃথিবীর প্রতিটি জীব যেন আমাদের বলতে শুরু করেছে, ‘আমি কে, কোথা থেকে এসেছি, কার সঙ্গে আমার আত্মীয়তা!’

বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ

এত কঠিন পদ্ধতি আসলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও কাজে লাগে। ধরুন, কেউ একটি সামুদ্রিক মাছ কিনতে গিয়ে ভয় পাচ্ছে যে এটি আসলে ভোজ্য কি না, নাকি বিষাক্ত প্রজাতির। তার সামান্য টিস্যু থেকে ডিএনএ বারকোডিং করে সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে আসবে সঠিক নাম। আবার অনেক সময় দেখা যায়, বাজারে স্যামন মাছ বলে যে মাছ বিক্রি হচ্ছে, সেটি ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে আসে অন্য কোনো সস্তা মাছ। এই পদ্ধতি খাদ্যপ্রতারণা চিহ্নিত করতেও ব্যবহৃত হয়।

এ ছাড়া সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন কিংবা বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র থেকে গবেষকেরা যদি কোনো অচেনা কীট বা মাছ পান, যা আগে কখনো দেখা যায়নি, তার ডিএনএ বারকোড NCBI-তে দিয়ে দেখেন; যদি কোনো মিল না পাওয়া যায়, তাহলে বুঝতে হবে এটি পৃথিবীর কাছে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি। এভাবে প্রতিবছর সারা বিশ্বে শত শত নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হচ্ছে শুধু ডিএনএ বারকোডিংয়ের সুবাদে।

সুতরাং ডিএনএ বারকোডিং কেবল একটি ল্যাবরেটরি পদ্ধতি নয়, এটি প্রকৃতির বিশাল এক লাইব্রেরি পড়ার চাবিকাঠি। ডিএনএর সেই ক্ষুদ্র অক্ষরগুলোর সাজানো ক্রম আমরা যখন পড়তে শিখেছি, তখন পৃথিবীর প্রতিটি জীব যেন আমাদের বলতে শুরু করেছে, ‘আমি কে, কোথা থেকে এসেছি, কার সঙ্গে আমার আত্মীয়তা!’ সত্যিই কি বিস্ময়কর নয় যে, চোখের অগোচরে যা লুকিয়ে আছে, সেই অণুর স্তরেই লিপিবদ্ধ আছে সমগ্র জীবজগতের আত্মপরিচয়? আর এই পরিচয়পত্র তৈরি করাটাই হলো ডিএনএ বারকোডিংয়ের মূল জাদু।

লেখক: ট্রেইনি অফিসার, নেচার কনসারভেশন ম্যানেজমেন্ট

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকা
৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকা

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ২টি পদে ৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায়। আগামী ৬ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। অনলাইন ব্যতিত আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। পরীক্ষার ফি টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এক নজরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬পদের বিবরণ আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা আবেদনের শেষ তারিখ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে চাকরির ধরন: স্থায়ী প্রার্থীর ধরন: নারী - পুরুষ কর্মস্থল: যে কোনো স্থান বয়স: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ১৮ - ৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। অনলাইনে আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদন ফি: টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ প্রতিটি পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে। আরও পড়ুনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবেনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদন৮৫ জনকে নিয়োগ দেবে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, আবেদন ফি ১০০ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
জাতীয় ছাত্রশক্তি কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের, সম্পাদক মুদ্দাসসির

জাতীয় ছাত্রশক্তি কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের, সম্পাদক মুদ্দাসসির

কচুরিপানার নিচে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ৭ ডাকাতের

কচুরিপানার নিচে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ৭ ডাকাতের

বিপিএলে বাদ পড়া ৯ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আর অভিযোগ নেই

বিপিএলে বাদ পড়া ৯ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আর অভিযোগ নেই

বইপড়ায় ছেলেদের চার গুণ বেশি পুরস্কার পেল মেয়েরা
বইপড়ায় ছেলেদের চার গুণ বেশি পুরস্কার পেল মেয়েরা

পুরস্কার হিসেবে একটি বই পেয়ে জেসমিন খাতুন আনন্দের ঝিলিক লুকাতেই পারছিল না। তার কাছে আগে থেকে ছিল ৫২টি বই, নতুন যোগ হলো আরেকটি। বইটি শুধু তার ভান্ডারই সমৃদ্ধ করেনি; বরং এনে দিয়েছে স্বীকৃতি। রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী ঘিরে এমন আনন্দে মেতে ওঠে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহী আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী জেসমিনের মতো আরও অনেককে দেওয়া হয় বই পুরস্কার।বিকাশ চক্রবর্তী, ডেপুটি কো–অর্ডিনেটর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রমেয়েদের বই পড়ার আগ্রহ বেশি। আর নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে তাদের ভালো একাডেমিক ফলাফলের একটি সম্পর্ক দেখা যায়।জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আজ শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী উৎসব। মিলনায়তনের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় বাইরে প্যান্ডেল করে পর্দায় দেখানো হয় অনুষ্ঠানের দৃশ্য। একাডেমির মাঠেও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একই রকম ভিড় দেখা যায়। পুরস্কার নিয়ে বাইরে বের হয়েই কে কী বই পেয়েছে, তা দেখতে মেতে উঠতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। ছবি তোলার সুযোগও মিস করেনি তারা।দিনব্যাপী এই উৎসবে ৪৯টি স্কুলের মোট ২ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৯টি স্কুলের ১ হাজার ৭৬৬ শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয় এবং ১০টি স্কুলের ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীর পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাত থেকে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৩৮১ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৬৫৪ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৮৫ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের ৪১৩ জন ছেলে ও ১ হাজার ৭০৭ জন মেয়ে। হিসাব করে দেখা গেল পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে চার গুণের বেশি পুরস্কার পেয়েছে মেয়েরা।বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ডেপুটি কো–অর্ডিনেটর বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, মেয়েদের বই পড়ার আগ্রহ বেশি। আর নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে তাদের ভালো একাডেমিক ফলাফলের একটি সম্পর্ক দেখা যায়।সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিরা জানান, বছরব্যাপী ২০টি বইয়ের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী ১০টি বই পড়েছে, তাদের শুভেচ্ছা পুরস্কার, যারা ১৬টি বই পড়েছে, তাদের অভিনন্দন পুরস্কার এবং যারা ২০টি বই পড়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে, তাদের সেরা পাঠক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বইগুলো পড়া শেষে একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের সংগঠক পরীক্ষাটি নিয়ে মূল্যায়ন খাতাগুলো ঢাকা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন। সেখানে খাতাগুলো মূল্যায়ন শেষে যোগ্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার নিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি। শনিবার বিকেলে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনেউৎসবে বিভিন্ন পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) চিত্রলেখা নাজনীন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, পাখিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান, রাজশাহী বিভাগীয় গ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, বিশেষ সাহিত্য কেন্দ্রের সাবেক সংগঠক আহামেদ শফি উদ্দিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), মোহা. আবদুর রশিদ, রাজশাহী গ্রামীণফোন লিমিটেডের সার্কেল টেকনোলজি প্রধান নন্দন কুমার সাহা, সাবেক সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সম্মানিত অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোরেরা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
মোখা দখলের পর পেরিমেও হুতিরা, ঝুঁকিতে বাব আল-মানদেব

মোখা দখলের পর পেরিমেও হুতিরা, ঝুঁকিতে বাব আল-মানদেব

শেষ পোস্টার

শেষ পোস্টার

বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর পর্দা নামলো

বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর পর্দা নামলো

তিমি কি মানুষকে গিলে ফেলতে পারে
তিমি কি মানুষকে গিলে ফেলতে পারে

বাস্তবে স্পার্ম তিমির পক্ষে একজন মানুষকে পুরোপুরি গিলে ফেলা সম্ভব। তবে এমন ঘটনা বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।স্পার্ম তিমির পক্ষে দুর্ঘটনাবশত একজন মানুষকে গিলে ফেলা একেবারে অসম্ভব নয়। তবে এর জন্য খুব বড় আকারের পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ স্পার্ম তিমি প্রয়োজন হবে। তিমিটির দৈর্ঘ্য অন্তত ১৮ মিটার হতে হবে। মানে সাধারণত আমরা যে আকারের স্পার্ম তিমি দেখি, এর চেয়ে অনেক বড় হতে হবে।অন্য বড় তিমিদের ক্ষেত্রে অবশ্য মানুষকে পুরোপুরি গিলে ফেলা অনেক কঠিন। যেমন ফিন তিমির দৈর্ঘ্য ২৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু এত বড় শরীরের তুলনায় এদের খাদ্যনালি আশ্চর্যজনকভাবে সরু। সমুদ্রতীরে ভেসে আসা তিমির মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে দেখা গেছে, ফিন তিমির গলার ভেতরে নিজের হাতই খুব বেশি দূর পর্যন্ত ঢোকানো যায় না। তাই একজন মানুষের সেখানে পুরোপুরি ঢুকে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।এর কারণ, ফিন তিমি বেলিন তিমিদের একটি প্রজাতি। এদের খাদ্যতালিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট প্রাণীর কয়েকটি আছে। যেমন ক্রিল, ছোট মাছ ও প্ল্যাঙ্কটন। মুখের ভেতরে থাকা চালুনির মতো অংশ দিয়ে সমুদ্রের পানি ছেঁকে এসব প্রাণী আলাদা করে নেয় এই তিমি। ফলে এদের খাবারটা অনেকটা মাছের তৈরি ঘন তরলের মতো হয়ে যায়। গবেষকদের ভাষায়, ব্যাপারটা যেন ঘন মিল্কশেক পান করার মতো।বড় হয়ে ডাক্তার আর অভিনেত্রী দুটোই হতে চায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর নিতু! স্পার্ম তিমির পক্ষে দুর্ঘটনাবশত একজন মানুষকে গিলে ফেলা একেবারে অসম্ভব নয়তবে বেলিন তিমির মুখে মানুষ দুর্ঘটনাক্রমে চলে যাওয়ার ঘটনা একেবারে নেই, তা নয়। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে একটি ব্রাইডস তিমি বন্য প্রাণীর ছবি তুলছিলেন এমন এক আলোকচিত্রীকে অল্প সময়ের জন্য মুখে তুলে নিয়েছিল। পরে অবশ্য তিমিটি তাঁকে মুখ থেকে বের করে দেয়। তবে এসব ঘটনা মানুষের ওপর তিমির ইচ্ছাকৃত আক্রমণ নয়। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী শেন জেরোর মতে, তিমি আসলে নিজের খাবার ধরার চেষ্টা করছিল, আর মানুষটি সম্ভবত ভুল করে এর পথে পড়ে গিয়েছিলেন।স্পার্ম তিমির ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। এরা সমুদ্রের সবচেয়ে বড় প্রাণীদের কয়েকটিকে শিকার করে। এদের পছন্দের খাবারের মধ্যে আছে দৈত্যাকার স্কুইড ও কলসাল স্কুইড। কলসাল স্কুইড শুঁড়সহ ১৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এর ওজন কয়েক শ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।গবেষকেরা মনে করেন, বন্দী অবস্থায় বেলুগা তিমির খাবার ধরার পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে স্পার্ম তিমি কীভাবে শিকার মুখে নেয়, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। স্পার্ম তিমি গলার ভেতরের হাইওয়েড নামের একটি হাড় নিচের দিকে নামিয়ে মুখের ভেতর চাপ কমিয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়। একই সময়ে তাদের জিব পেছনের দিকে সরে যায়। ফলে অনেকটা পিস্টনের মতো একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়। এতে মুখের ভেতর কম চাপের জায়গা তৈরি হয়ে পানি এবং এর সঙ্গে থাকা অসতর্ক শিকার তিমির মুখে ঢুকে পড়ে। একই সঙ্গে তিমির গলা ও খাদ্যনালির প্রবেশপথও কিছুটা প্রশস্ত হয়।যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের কি বুদ্ধি কমে যাচ্ছেঅস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ উপকূলে পারারা সৈকতে আটকে পড়া মৃত ছয় স্পার্ম তিমির একটি। ছবি: এএফপিএর সঙ্গে আরও একটি বিষয় যোগ হয়। স্পার্ম তিমির স্বরযন্ত্র বা কণ্ঠনালি অন্যান্য বিশাল তিমির তুলনায় বাঁ দিকে অবস্থান করে। ফলে এদের গলা তুলনামূলকভাবে অনেক চওড়া। এ কারণে এরা বড় আকারের শিকারও একবারে মুখের ভেতরে নিতে পারে।তবে স্পার্ম তিমি ঠিক এভাবেই শিকার গিলে ফেলে কি না, তা নিশ্চিতভাবে কেউ দেখেনি। এই বিশাল ও রহস্যময় প্রাণীগুলো যখন স্কুইড শিকার করে পানির ওপরে উঠে আসে, তখন গবেষকেরা এদের মুখ থেকে সত্যি সত্যি স্কুইডের বড় বড় টুকরা ঝুলতে দেখেছেন। কখনো আবার তিমির পেছনে ভাসতে থাকা স্কুইডের টুকরাও দেখা যায়।আর মানুষকে গিলে ফেলা স্পার্ম তিমির স্বাভাবিক আচরণও নয়। সিনেমায় এমন ঘটনা দেখা দারুণ রোমাঞ্চকর হলেও বাস্তবে মানুষের আশপাশে স্পার্ম তিমি সাধারণত খুবই শান্ত ও কোমল আচরণ করে, যদি মানুষ তাদের বিরক্ত না করে। তাই শারীরিকভাবে একজন মানুষকে গিলে ফেলা সম্ভব হলেও তিমির আচরণ এবং তাদের গভীর সমুদ্রের প্রাণী শিকারের অভ্যাস বিবেচনা করলে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত কম’।দুর্ঘটনাক্রমে স্পার্ম তিমির মুখে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। কারণ, খাবারের সন্ধানে এসব তিমি সমুদ্রের দুই কিলোমিটারের বেশি গভীরে ডুব দিতে পারে। ডুবুরিরা সাধারণত এত গভীরে যেতে পারেন না।মহাবিপর্যয় এলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হবে কোনটিমজার বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত একজন মানুষকে পুরোপুরি গিলে ফেলেছে, এমন ঘটনার নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে শুধু একটি প্রাণীর ক্ষেত্রে। সেটি হলো রেটিকুলেটেড পাইথন বা অজগর। ইন্দোনেশিয়ায় এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।অন্য সাপের মতো এই অজগরও এর নমনীয় মাথা ও চোয়ালের কারণে নিজের মাথার তুলনায় অনেক বড় শিকার গিলে ফেলতে পারে। তাদের মাথার খুলিতে একাধিক জোড়া থাকার কারণে চোয়াল অনেক বেশি নড়াচড়া করতে পারে। এ ছাড়া নিচের চোয়ালের নরম ও প্রসারণশীল টিস্যু এদের এমনভাবে চোয়াল ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে, যাতে মাথার চেয়েও অনেক বড় শিকারকে মুখের ভেতরে নেওয়া সম্ভব হয়।তবু একজন মানুষকে গিলে ফেলা সাপের জন্যও সহজ নয়। জীববিজ্ঞানী ব্রুস জেইনের মতে, একজন মানুষকে গিলতে হলে সাপটির মাথা থেকে পা পর্যন্ত একদিক ধরে গিলতে হবে। মানুষের হাত-পা ছড়িয়ে থাকলে সেগুলো সাপের মুখের কোণে আটকে যেতে পারে। তার ওপর মানুষের চওড়া ও শক্ত কাঁধও সাপের মুখের ভেতরে নেওয়া কঠিন।জেইনের মতে, অজগরের মানুষ শিকার করার ঘটনাও অত্যন্ত বিরল। কারণ, কোনো প্রাণীর কোনো কাজ করার শারীরিক সক্ষমতা থাকলেই যে সে বাস্তবে সেই কাজটি করবে, এমন নয়।সূত্র: সায়েন্স নিউজমাছরাঙা যেভাবে পানির নিচে শিকার করে

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিলের পর ওসি বদলির ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে ফটোকার্ডে

গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিলের পর ওসি বদলির ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে ফটোকার্ডে

স্বাস্থ্যকরভাবে তেল ব্যবহার করতে এই ৯টি কাজ করুন

স্বাস্থ্যকরভাবে তেল ব্যবহার করতে এই ৯টি কাজ করুন

আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন

আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন

0 Comments