বাস্তবে স্পার্ম তিমির পক্ষে একজন মানুষকে পুরোপুরি গিলে ফেলা সম্ভব। তবে এমন ঘটনা বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
স্পার্ম তিমির পক্ষে দুর্ঘটনাবশত একজন মানুষকে গিলে ফেলা একেবারে অসম্ভব নয়। তবে এর জন্য খুব বড় আকারের পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ স্পার্ম তিমি প্রয়োজন হবে। তিমিটির দৈর্ঘ্য অন্তত ১৮ মিটার হতে হবে। মানে সাধারণত আমরা যে আকারের স্পার্ম তিমি দেখি, এর চেয়ে অনেক বড় হতে হবে।
অন্য বড় তিমিদের ক্ষেত্রে অবশ্য মানুষকে পুরোপুরি গিলে ফেলা অনেক কঠিন। যেমন ফিন তিমির দৈর্ঘ্য ২৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু এত বড় শরীরের তুলনায় এদের খাদ্যনালি আশ্চর্যজনকভাবে সরু। সমুদ্রতীরে ভেসে আসা তিমির মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে দেখা গেছে, ফিন তিমির গলার ভেতরে নিজের হাতই খুব বেশি দূর পর্যন্ত ঢোকানো যায় না। তাই একজন মানুষের সেখানে পুরোপুরি ঢুকে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এর কারণ, ফিন তিমি বেলিন তিমিদের একটি প্রজাতি। এদের খাদ্যতালিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট প্রাণীর কয়েকটি আছে। যেমন ক্রিল, ছোট মাছ ও প্ল্যাঙ্কটন। মুখের ভেতরে থাকা চালুনির মতো অংশ দিয়ে সমুদ্রের পানি ছেঁকে এসব প্রাণী আলাদা করে নেয় এই তিমি। ফলে এদের খাবারটা অনেকটা মাছের তৈরি ঘন তরলের মতো হয়ে যায়। গবেষকদের ভাষায়, ব্যাপারটা যেন ঘন মিল্কশেক পান করার মতো।

তবে বেলিন তিমির মুখে মানুষ দুর্ঘটনাক্রমে চলে যাওয়ার ঘটনা একেবারে নেই, তা নয়। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে একটি ব্রাইডস তিমি বন্য প্রাণীর ছবি তুলছিলেন এমন এক আলোকচিত্রীকে অল্প সময়ের জন্য মুখে তুলে নিয়েছিল। পরে অবশ্য তিমিটি তাঁকে মুখ থেকে বের করে দেয়। তবে এসব ঘটনা মানুষের ওপর তিমির ইচ্ছাকৃত আক্রমণ নয়। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী শেন জেরোর মতে, তিমি আসলে নিজের খাবার ধরার চেষ্টা করছিল, আর মানুষটি সম্ভবত ভুল করে এর পথে পড়ে গিয়েছিলেন।
স্পার্ম তিমির ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। এরা সমুদ্রের সবচেয়ে বড় প্রাণীদের কয়েকটিকে শিকার করে। এদের পছন্দের খাবারের মধ্যে আছে দৈত্যাকার স্কুইড ও কলসাল স্কুইড। কলসাল স্কুইড শুঁড়সহ ১৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এর ওজন কয়েক শ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
গবেষকেরা মনে করেন, বন্দী অবস্থায় বেলুগা তিমির খাবার ধরার পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে স্পার্ম তিমি কীভাবে শিকার মুখে নেয়, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। স্পার্ম তিমি গলার ভেতরের হাইওয়েড নামের একটি হাড় নিচের দিকে নামিয়ে মুখের ভেতর চাপ কমিয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়। একই সময়ে তাদের জিব পেছনের দিকে সরে যায়। ফলে অনেকটা পিস্টনের মতো একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়। এতে মুখের ভেতর কম চাপের জায়গা তৈরি হয়ে পানি এবং এর সঙ্গে থাকা অসতর্ক শিকার তিমির মুখে ঢুকে পড়ে। একই সঙ্গে তিমির গলা ও খাদ্যনালির প্রবেশপথও কিছুটা প্রশস্ত হয়।

এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় যোগ হয়। স্পার্ম তিমির স্বরযন্ত্র বা কণ্ঠনালি অন্যান্য বিশাল তিমির তুলনায় বাঁ দিকে অবস্থান করে। ফলে এদের গলা তুলনামূলকভাবে অনেক চওড়া। এ কারণে এরা বড় আকারের শিকারও একবারে মুখের ভেতরে নিতে পারে।
তবে স্পার্ম তিমি ঠিক এভাবেই শিকার গিলে ফেলে কি না, তা নিশ্চিতভাবে কেউ দেখেনি। এই বিশাল ও রহস্যময় প্রাণীগুলো যখন স্কুইড শিকার করে পানির ওপরে উঠে আসে, তখন গবেষকেরা এদের মুখ থেকে সত্যি সত্যি স্কুইডের বড় বড় টুকরা ঝুলতে দেখেছেন। কখনো আবার তিমির পেছনে ভাসতে থাকা স্কুইডের টুকরাও দেখা যায়।
আর মানুষকে গিলে ফেলা স্পার্ম তিমির স্বাভাবিক আচরণও নয়। সিনেমায় এমন ঘটনা দেখা দারুণ রোমাঞ্চকর হলেও বাস্তবে মানুষের আশপাশে স্পার্ম তিমি সাধারণত খুবই শান্ত ও কোমল আচরণ করে, যদি মানুষ তাদের বিরক্ত না করে। তাই শারীরিকভাবে একজন মানুষকে গিলে ফেলা সম্ভব হলেও তিমির আচরণ এবং তাদের গভীর সমুদ্রের প্রাণী শিকারের অভ্যাস বিবেচনা করলে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত কম’।
দুর্ঘটনাক্রমে স্পার্ম তিমির মুখে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। কারণ, খাবারের সন্ধানে এসব তিমি সমুদ্রের দুই কিলোমিটারের বেশি গভীরে ডুব দিতে পারে। ডুবুরিরা সাধারণত এত গভীরে যেতে পারেন না।
মজার বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত একজন মানুষকে পুরোপুরি গিলে ফেলেছে, এমন ঘটনার নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে শুধু একটি প্রাণীর ক্ষেত্রে। সেটি হলো রেটিকুলেটেড পাইথন বা অজগর। ইন্দোনেশিয়ায় এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্য সাপের মতো এই অজগরও এর নমনীয় মাথা ও চোয়ালের কারণে নিজের মাথার তুলনায় অনেক বড় শিকার গিলে ফেলতে পারে। তাদের মাথার খুলিতে একাধিক জোড়া থাকার কারণে চোয়াল অনেক বেশি নড়াচড়া করতে পারে। এ ছাড়া নিচের চোয়ালের নরম ও প্রসারণশীল টিস্যু এদের এমনভাবে চোয়াল ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে, যাতে মাথার চেয়েও অনেক বড় শিকারকে মুখের ভেতরে নেওয়া সম্ভব হয়।
তবু একজন মানুষকে গিলে ফেলা সাপের জন্যও সহজ নয়। জীববিজ্ঞানী ব্রুস জেইনের মতে, একজন মানুষকে গিলতে হলে সাপটির মাথা থেকে পা পর্যন্ত একদিক ধরে গিলতে হবে। মানুষের হাত-পা ছড়িয়ে থাকলে সেগুলো সাপের মুখের কোণে আটকে যেতে পারে। তার ওপর মানুষের চওড়া ও শক্ত কাঁধও সাপের মুখের ভেতরে নেওয়া কঠিন।
জেইনের মতে, অজগরের মানুষ শিকার করার ঘটনাও অত্যন্ত বিরল। কারণ, কোনো প্রাণীর কোনো কাজ করার শারীরিক সক্ষমতা থাকলেই যে সে বাস্তবে সেই কাজটি করবে, এমন নয়।
সূত্র: সায়েন্স নিউজ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যানটিন গেটের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিলের অভিযোগে গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেতা অজিত ঘোষ কানাইয়ের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অজিত ঘোষ কানাই (৬২) আওয়ামী লীগের কোতোয়ালি থানা কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। এর আগে শুক্রবার কোতোয়ালি থানার গোয়ালনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যানটিন গেটের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন জড়ো হন। ওইদিন আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শুনানি ছিল। আদালতের ওই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা নিয়ে তারা সেখানে সমবেত হন। পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করেন তারা। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এমডিএএ/জেএইচ
দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলনে শীর্ষ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংও যোগ দিচ্ছেন। এ সফর ঘিরে ভূরাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নজর কাড়ছে তাঁর সরকারি গাড়িটিও। বিস্তারিত ভিডিওতে...
লিবিয়ায় প্রবাসী যুবকের মৃত্যুর দীর্ঘ ৯ মাস পর আইনি জটিলতা সম্পন্ন শেষ করে অবশেষে দেশে ফিরেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তরিকুল ইসলাম (২৫) নামে এক লিবিয়া প্রবাসী যুবকের মরদেহ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষেতলাল উপজেলার গুরুড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মরদেহ এসে পৌঁছায়। নিহত তরিকুল ইসলাম উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামানিকের ছেলে। নিহতের স্বজনরা জানান, অভাবে পরিবারের হাল ধরতে ও জীবিকার তাগিদে প্রায় ৭ বছর আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম। প্রবাসে অবস্থানকালে ৩ জানুয়ারি হঠাৎ তার মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে নানা প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় পার হয়ে যায় দীর্ঘ ৯টি মাস। আরও পড়ুন বাসে যাত্রী জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, আটক ‘মূলহোতা’ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিমানযোগে কফিনবন্দি হয়ে মরদেহটি বাংলাদেশ বিমান বন্দরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে বিকেল ৪টার দিকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গুরুড়া গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় নিহত প্রবাসী তরিকুলের কফিন জড়িয়ে ধরে স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। পরে বিকাল ৫টায় স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তরিকুলের মরদেহ দাফন করা হয়। মো. আল-কারিয়া চৌধুরী/এনএইচআর