দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য টানা তিন অর্থবছর ধরে কমছে। বিশেষ করে গত অর্থবছরে রপ্তানিতে বড় ধস নেমেছে।
এক বছরের ব্যবধানে ভারতে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ কমেছে ৫৩ শতাংশ এবং রপ্তানি মূল্য কমেছে ৬৯ শতাংশ। একই সময়ে আমদানিও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে বন্দরের রাজস্ব আদায়েও।
শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিও ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত তিন অর্থবছরে (২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬) এ বন্দর দিয়ে মোট ৪৭ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৮১ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, সাফটা সুবিধায় আমদানি বেড়ে যাওয়ায় গড় শুল্কহার কমেছে। ফলে আমদানি পণ্যের পরিমাণ কমার পাশাপাশি শুল্ক আদায়েও চাপ তৈরি হয়েছে।
রপ্তানিতে বড় ধস
গত তিন অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে মোট ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৯ মেট্রিক টন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে। যার মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ২৯ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ১০৪ মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানি হয়। যার আর্থিক মূল্য ১১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ১ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানি হয়। যার আর্থিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকায়।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের ধাক্কা খায়। রপ্তানির পরিমাণ নেমে আসে মাত্র ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০৯ মেট্রিক টনে; রপ্তানি মূল্য কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৩২ কোটি টাকায়।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ ৫৩ দশমিক ১১ শতাংশ এবং রপ্তানি মূল্য ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গেছে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মোট ৩ হাজার ৬০০ ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে।
বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মতিয়ার রহমান বলেন, ‘দেশের ব্যবসা–বাণিজ্য অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতির পাশাপাশি দুই বছর ধরে দেশের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নতুন করে শুরু হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরে অবস্থা আরও করুণ ছিল; এখন কিছুটা উত্তরণ হচ্ছে।’
আমদানি কত
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৭ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ছিল ২৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৯৫৩ মেট্রিক টন। তবে পণ্যের মূল্য কিছুটা বেড়ে হয় ২৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিমাণের দিক থেকে আমদানি আরও কমে দাঁড়ায় ১৪ লাখ ২ হাজার ৯৬৯ মেট্রিক টন। যার মূল্য ছিল ২৬ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত তিন বছরের ব্যবধানে বেনাপোল দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, তুলনামূলকভাবে সাফটা (দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা) সুবিধার আওতায় পণ্য আমদানি বেড়েছে। সাফটা সুবিধায় (সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহায়তা) আমদানি পণ্যে শুল্কহার কমে যায়। ব্যবসায়ীরা এই সুবিধা এখন বেশি ব্যবহার করছেন। সে কারণে রাজস্ব আয় কমছে।
গত তিন বছরের মধ্যে গত অর্থবছরের সাফটা সুবিধায় সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে। মোট পণ্য চালানের
৩৫ শতাংশ এসেছে এই সুবিধায়। এর আগের বছরগুলোতে যা ছিল যথাক্রমে ১১ ও ৭ শতাংশ। আমদানিকারকেরা দিন দিন এই সুবিধা বেশি ব্যবহার করছেন বলে কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে।
বাণিজ্যের এই নিম্নমুখী ধারার বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমদানি রপ্তানি কেন কমছে, সেটা ব্যাখ্যা করা কাস্টমস বিভাগের কাজ নয়। এটা ব্যাংক কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীরা বলতে পারবেন। রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার বিষয়ে আমরা এনবিআরের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে থাকি। পণ্য আমদানি-রপ্তানি কমলে রাজস্ব আয়ও কমে যায়।’
ফাইজুর রহমান আরও বলেন, ‘চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে পণ্য আমদানি করলেও রাজস্ব বেড়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, শুল্কমুক্ত পণ্য বেশি আমদানি হচ্ছে। যেমন গত বছর চাল আমদানি শুল্কমুক্ত ঘোষণা করা হয়। আমদানি পণ্যের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে আছে তুলা। এটিও শুল্কমুক্ত। বর্তমানে সাফটা সুবিধা নিয়ে ব্যবসায়ীরা বেশি পণ্য আমদানি করছেন। এতে শুল্ক কম। দিন দিন এই সুবিধা নেওয়ার হার বাড়ছে। ফলে রাজস্ব আদায় কমছে।’
রপ্তানির শীর্ষ পণ্য
বেনাপোল দিয়ে ভারতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি হলেও সম্প্রতি রপ্তানি পণ্যের তালিকায় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁচাপাট ও তৈরি পোশাকের মতো পণ্য রপ্তানির শীর্ষে থাকলেও পরের অর্থবছরে এসব পণ্যের রপ্তানি কমে যায়। বিপরীতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, সুপারি, মাছ, সুতি ও ঝুটের মতো কয়েকটি পণ্য শীর্ষে উঠে আসে।
আমদানির শীর্ষ পণ্য
বেনাপোল দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের তালিকায় শিল্পের কাঁচামাল ও কৃষিপণ্যের আধিপত্য রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানির শীর্ষে ছিল স্পঞ্জ আয়রন ও তুলা। এ ছাড়া ফলমূল, চাল, ফেরো-সিলিকো-ম্যাঙ্গানিজ, গ্রানাইট ও স্টিল রডের মতো পণ্যও শীর্ষ তালিকায় ছিল।
বন্দরের বাণিজ্যিক মন্দা নিয়ে বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা বলেন, বেনাপোল বন্দরের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। একই সঙ্গে ওপারের পেট্রোপোল বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া সহজ করা না গেলে বেনাপোলের বাণিজ্যে গতি ফেরানো কঠিন হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
যুক্তি, বাগ্মিতা ও নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘চতুর্থ এসডিএস ডিবেট ফেস্টিভ্যাল অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬’। আজ শনিবার উৎসবের সমাপনী দিনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয় ২৭০ শিক্ষার্থী। অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।সোনাহার বিতর্ক পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ছিল ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি), স্টুডেন্ট ফোর্স বিডি ও গোল্ডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড মডেল মাদ্রাসা।সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনাহার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সোনাহার বিতর্ক পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা রাজ্জাক দুলাল। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন এনডিএফ বিডির জয়েন্ট সেক্রেটারি নাহিদুর রহমান দুর্জয়, বাংলাদেশ বেতারের সংবাদ পাঠক ও জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন বিতার্কিক জয় লালা, সোনাহার ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও উৎসবের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ, নীলফামারী সরকারি কলেজের সাইফুল হোসেন আনোয়ার, দিনাজপুর সরকারি কলেজের সেলিম ইসলাম আশিক, সোনাহার বিতর্ক পরিষদের সভাপতি মো. মাহাবুল ইসলাম, রংপুর সরকারি কলেজের আহনাফ তাজওয়ার রিয়ান ও বীথি রায়। এ ছাড়া অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন গুঞ্জন রায়, টুম্পা সরকার, রুবেল ইসলাম, ইমরান হোসেন, মিজানুর হক, নীরব রায়, বাঁধন রায়, সৌরভ ইসলাম, আবু আহাদ, অদ্রিতা রায়, সুমাইয়া আক্তার, ওরিন মুত্তাকীসহ সিনিয়র বিতার্কিকেরা।দিনব্যাপী কর্মশালায় সংসদীয় বিতর্ক, রম্য বিতর্ক, শুদ্ধ উচ্চারণ, নিউজ প্রেজেন্টেশন, র্যাম্প শোসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা রাজ্জাক দুলাল বলেন, বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এর মাধ্যমে নেতৃত্বগুণ ও বাস্তব জীবনে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও বাড়ে। নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।আয়োজকেরা জানান, উৎসবের প্রথম দিনে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন এনডিএফ বিডির ডিরেক্টর জেনারেল ও রেক্টর লায়ন এম আলমগীর। তিনি ট্রেইনার হিসেবেও প্রশিক্ষণ দেন। এ ছাড়া সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ও রংপুর জোনের প্রধান মো. শিয়াবুজ্জামান চঞ্চল ও খুলনা জোনের অ্যাক্টিং ডিরেক্টর তরিকুল ইসলামও প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন।*লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, সোনাহার বিতর্ক পরিষদ, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকের আদলে তৈরি ছবি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটবট জেমিনাই বা চ্যাটজিপিটিতে নিজের ছবি আপলোড করে সেগুলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আশির দশকের আবহে রূপান্তর করে প্রকাশ করছেন অনেকে। কারও ছবিতে যোগ হচ্ছে সেই সময়ের পোশাক ও চুলের ধরন, আবার কারও ছবিতে তৈরি হচ্ছে তরুণ বয়সের অবয়ব। কেউ কেউ আশির দশকের জনপ্রিয় গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে থাকার ছবিও তৈরি করছেন।তবে এআই দিয়ে এমন ছবি তৈরির সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনেকেরই নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। যেসব ছবি ব্যবহার করে নতুন ছবি তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলো জেমিনাই বা চ্যাটজিপিটির কাছে কিন্তু স্থায়ীভাবে রয়ে যাচ্ছে। ফলে ছবিটি কত দিন সংরক্ষণ করা হবে বা সেটি কী কাজে ব্যবহার করা হতে পারে, এসব প্রশ্নও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়্যার্ডের এক প্রতিবেদনে এআই চ্যাটবটে ছবি আপলোড করার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এআই চ্যাটবটে একটি ছবি আপলোড করার অর্থ শুধু ছবি জমা দেওয়া নয়, এর সঙ্গে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন তথ্যও যুক্ত থাকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের গ্যালারিতে থাকা অন্য অনেক ছবির মতো নিজের একটি ছবিকেও সাধারণ ছবি মনে হতে পারে। কিন্তু চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই বা অন্য কোনো এআই অ্যাপে সেই ছবি আপলোড করলে বিষয়টি আর শুধু ছবি পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ছবি বিশ্লেষণ করে সেটি কখন, কোথায় ও কোন যন্ত্র দিয়ে তোলা হয়েছে, তা জানা যেতে পারে। এর পাশাপাশি মানুষের মুখ নিজেই একটি স্বতন্ত্র পরিচয়। ফলে কোনো ছবির মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হলে সেই ছবিও ব্যক্তিগত তথ্যের অংশ হয়ে উঠতে পারে।নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবুধাবির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা পপার জানিয়েছেন, এআই চ্যাটবট বিভিন্ন স্তরে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ব্যবহারকারী কী লিখছেন এবং কোন ধরনের ছবি বা ফাইল আপলোড করছেন, সেগুলোও এসব তথ্যের মধ্যে থাকতে পারে। এ ছাড়া ব্যবহারকারীর যন্ত্রের আইপি ঠিকানা, ব্যবহৃত যন্ত্রের ধরনসহ ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস এবং সংরক্ষণ করা উত্তর বা ফাইলও সংগ্রহ করা হতে পারে। অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার জন্য এআই টুলে ছবি আপলোড করলে ব্যবহারকারী নিজের অজান্তে চ্যাটবটগুলোকে নিজের সম্পর্কে ধারণা তৈরির মতো অনেক তথ্য জানার সুযোগ করে দেন।এআই দিয়ে তৈরি আশির দশকের ছবিটি হয়তো কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডে আর দেখা যাবে না। কিন্তু সেই ছবি তৈরির জন্য যে মূল ছবিটি এআই টুলে আপলোড করা হয়েছিল, সেটি আরও অনেক দিন সংরক্ষিত থাকতে পারে। কত দিন ছবি বা সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট এআই প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণ নীতির ওপর। ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহারকারীরা চ্যাট মুছে ফেললেও সেগুলো ওপেনএআইয়ের সার্ভারে ৩০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে থাকা পরিচয়সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আরও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে জেমিনাইয়ে চ্যাটের তথ্য ডিফল্টভাবে ১৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। ক্লডে ব্যবহারকারী কোনো চ্যাট মুছে ফেললে অ্যানথ্রপিকের ব্যাকএন্ড থেকে তা ৩০ দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে ব্যবহারকারী যদি তাঁর চ্যাট এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেন, তাহলে তথ্যগুলো সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হতে পারে।দীর্ঘ সময় ধরে এআই সেবা ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারী কী ধরনের ছবি আপলোড করছেন, প্রশ্নের ধরনসহ কোন ধরনের কাজে এআই ব্যবহার করছেন, তা কাজে লাগিয়ে একজন ব্যক্তির ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করে থাকে চ্যাটবট। ই–মেইল, অনলাইন কেনাকাটা, ব্যক্তিগত ছবি ও অ্যালবামের মতো বিভিন্ন সেবার সঙ্গেও এআই টুল যুক্ত হচ্ছে। ফলে এসব সিস্টেমের কাছে থাকা ব্যক্তিগত তথ্যের পরিমাণ ও গুরুত্ব বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস