জাতীয়

আজ থেকে পর্দায় তারকাদের সেই জমকালো রাত

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
আজ থেকে পর্দায় তারকাদের সেই জমকালো রাত
আজ থেকে পর্দায় তারকাদের সেই জমকালো রাত

বিনোদন–দুনিয়ার গুণী ও জনপ্রিয় শিল্পী-কলাকুশলীদের অংশগ্রহণে গত ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় ‘সেনসেশন চরকি কার্নিভ্যাল পাওয়ার্ড বাই ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’। দিনব্যাপী আয়োজন পুরস্কার বিতরণ ছাড়াও ছিল অভিনয়ের মাস্টারক্লাস, প্যানেল আলোচনা। রেকর্ড করা অনুষ্ঠানটি আজ শুক্রবার রাত আটটায় চরকিতে প্রকাশ পাবে।

তারকাদের রেড কার্পেট, ফ্যাশন, সাক্ষাৎকার, মিলনমেলার বিশেষ মুহূর্ত থেকে পুরস্কার জয়ের আনন্দ ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া—সবই থাকছে। ফলে ছুটির রাতে দর্শকেরা ঘরে বসেই দেখে নিতে পারবেন প্রিয় তারকাদের আনন্দঘন সে সব মুহূর্ত।
নিজেদের অরিজিনাল কনটেন্ট, সিনেমা ও সিরিজের পেছনের কারিগরদের কাজের স্বীকৃতি দিতে দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন করে চরকি। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের কাজের জন্য সাবস্ক্রাইবার চয়েজ বা দর্শক ভোট এবং সমালোচক—দুই বিভাগে ২৩টি করে ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয় পুরস্কার।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণে আয়োজনটি হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত। কনটেন্টটিকে আমরা এমনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি যেন দর্শকেরা সবাই মিলে উপভোগ করতে পারেন।’

চরকি অ্যাওয়ার্ডস সঞ্চালনা করেন রাকিন আবসার ও রাফসান সাবাব। আরও ছিল মুবাশশীরা কামাল ইরার কোরিওগ্রাফিতে নৃত্য পরিবেশনা ‘ফ্লো বাই ইরা’ ও বিটমসফিয়ারের অ্যাকাপেলা ও বিটবক্সিং।

বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন নির্মাতা-অভিনেতা সালাহউদ্দিন লাভলু, নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী ও গিয়াসউদ্দিন সেলিম এবং অভিনয়শিল্পী শহীদুজ্জামান সেলিম, রুমানা রশীদ ঈশিতা ও জাহিদ হাসান।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রায়হান রাফী, আশরাফুল আলম শাওন, অনম বিশ্বাস, আফরান নিশো, নাজিয়া হক অর্ষা, শঙ্খ দাশগুপ্ত, রবিউল আলম রবি, জাহিন ফারুক আমিন, আবু সাঈদ রানা, নাসির উদ্দিন খান, আজমেরী হক বাঁধন, সুমন সরকার, সালেহ সোবহান অনীম, আতিয়া রহমান, বিজয়া রত্নাবলী, ইমন চৌধুরী, রিপন নাথ, শহীদুল ইসলাম, মাশা ইসলাম, আরিফিন শুভ, আফসান আরা বিন্দু ও সাবিলা নূর।
সেরা গানের স্বীকৃতি পেয়েছে ‘গা ছুঁয়ে বলো’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তানজীব সরোয়ার ও অবন্তী সিঁথি। কথা তানজীব সরোয়ারের, সংগীতায়োজন করেছেন সাজিদ সরকার।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন আল-আমিন হাসান নির্ঝর, প্রীতম হাসান, মেহজাবীন চৌধুরী, মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম, নুহাশ হুমায়ূন, গুলতেকিন খান, এফ এস নাইম, জিন্নাত আরা, তাহসিন রহমান, সালেহ সোবহান অনীম, রুবামা ফাইরুজ, সাথী আকতার, খৈয়াম সানু সন্ধি, অদীপ সিং মানকি, শিহাব নূরুন নবী, রিজভী রিজু, শাকিব খান, মাসুমা রহমান নাবিলা, মোশাররফ করিম ও জয়া আহসান।
সেরা গানের আরেকটি স্বীকৃতি পেয়েছে ‘লাগে উড়াধুরা’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রীতম হাসান ও দেবশ্রী অন্তরা। কথা লিখেছেন রাসেল মাহমুদ ও শরীফ উদ্দিন; সুর করেছেন প্রীতম হাসান ও রাজ্জাক দেওয়ান।

আয়োজনে প্রয়াত অভিনেত্রী ও লেখক কারিনা কায়সারকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা। তাঁর বন্ধু রেজাউর রহমান ও কামরুন নাহারের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
৩ জুলাইয়ের আয়োজনে পুরস্কার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল গুণী অভিনেতা তারিক আনাম খানের মাস্টারক্লাস। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন, আদনান আল রাজীব ও নুহাশ হুমায়ূন। চরকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাস্টারক্লাস ও প্যানেল আলোচনার কনটেন্টও শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
তিন সপ্তাহ থাকার কথা, কোয়ারেন্টিনেই কেটে গেল দুই চিতা বাঘের ৯ বছর
তিন সপ্তাহ থাকার কথা, কোয়ারেন্টিনেই কেটে গেল দুই চিতা বাঘের ৯ বছর

ছোট একটি ঘর। চারদিকে লোহার গ্রিল। সেখানেই কেটে যাচ্ছে দুই চিতা বাঘের জীবনের বেশির ভাগ সময়। গাছে ওঠার সুযোগ নেই, নেই ছুটে বেড়ানোর জায়গা কিংবা শিকার করার স্বাভাবিক পরিবেশ। দর্শনার্থীরাও তাদের দেখতে পান না। অথচ সেখানে থাকার কথা ছিল মাত্র তিন সপ্তাহ।গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন শেডে (রোগের সংক্রমণ রোধে আলাদা রাখার স্থান) থাকা দুটি চিতা বাঘের জীবনে সেই সাময়িক বন্দিত্ব প্রায় ৯ বছরেও শেষ হয়নি। ২০১৭ সালে দেড় মাস বয়সে উদ্ধারের পর থেকে তারা সেখানেই আছে। এত বছরেও তাদের জন্য তৈরি হয়নি উপযোগী কোনো আবাস।বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকায় একটি গাড়ি থেকে দুটি চিতা বাঘ ও দুটি সিংহশাবক উদ্ধার করে পুলিশ। বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়। পরে চারটি শাবক গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাদের কোয়ারেন্টিন শেডে তিন সপ্তাহের জন্য রাখা হয়েছিল। পরে সিংহশাবক দুটিকে সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হলেও চিতা বাঘের শাবক দুটিকে সেখানেই রাখা হয়। উদ্ধারের সময় চিতা বাঘের একটি শাবকের ওজন ছিল ২ কেজি, অন্যটির ১ কেজি ৬০০ গ্রাম। লেজসহ দৈর্ঘ্য ছিল যথাক্রমে ২৬ ও ২২ ইঞ্চি। তখন বয়স ছিল মাত্র দেড় মাস। এখন তাদের বয়স প্রায় ৯ বছর।বৃহস্পতিবার সকালে পার্কে গিয়ে দেখা যায়, চিতা বাঘ দুটি এখনো সেই কোয়ারেন্টিন শেডের ছোট কক্ষেই আছে। খাবার দেওয়ার সময় একটি কক্ষে তাদের আটকে রাখা হয়। খাবার দেওয়ার পর দরজা খুলে দিলে দুই কক্ষে ঘুরে ঘুরে খাবার খায় তারা। শেডের কাছে মানুষ গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রিলের ওপর লাফিয়ে ওঠে। কক্ষের জায়গা এতই কম যে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা, লাফানো কিংবা গাছে ওঠার সুযোগ নেই তাদের।খাঁচার পাশে বসে আছে একটি চিতা বাঘ। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর সাফারি পার্কেজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী–বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, নতুন কোনো প্রাণী আনার পর রোগজীবাণু ছড়ানো ঠেকাতে সাধারণত চার সপ্তাহ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এরপর উপযোগী জায়গায় স্থানান্তর করা উচিত। দীর্ঘদিন কোয়ারেন্টিনে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁর মতে, সাফারি পার্কে প্রাণীদের জন্য তুলনামূলক বড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যবস্থা থাকার কথা। দ্রুত চিতা বাঘ দুটির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে সেখানে নেওয়া দরকার।২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাফারি পার্ক পরিদর্শনে এসে চিতা বাঘ দুটির জন্য আবাসন তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর আগেও উচ্চপর্যায় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো সেই আবাসন তৈরি হয়নি।খাবার দেওয়ার সময় চিতা বাঘ দুটিকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর সাফারি পার্কেদর্শনার্থী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বাঘ ও সিংহ দেখার সুযোগ থাকলেও চিতা বাঘ দেখার সুযোগ নেই। ব্যবস্থা করা হলে দর্শনার্থীরা এই প্রাণীটিও দেখার সুযোগ পাবেন।গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় চিতা বাঘ দুটিকে কোয়ারেন্টিন শেডেই রাখা হয়েছে। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শন করে গেছে। এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা যায়।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
‘মুরগিচোর’ খ্যাঁকশিয়ালই রক্ষা করছে কৃষিজমি, বলছে গবেষণা

‘মুরগিচোর’ খ্যাঁকশিয়ালই রক্ষা করছে কৃষিজমি, বলছে গবেষণা

তিস্তাকে দেখার নতুন চোখ

তিস্তাকে দেখার নতুন চোখ

চার উড়োজাহাজ, ১৯ ছিনতাইকারী—নিজের পাতা ফাঁদেই কি আটকে গেল যুক্তরাষ্ট্র

চার উড়োজাহাজ, ১৯ ছিনতাইকারী—নিজের পাতা ফাঁদেই কি আটকে গেল যুক্তরাষ্ট্র

১০০ কোটি আয় থেকে মা হওয়া—সব নিয়ে বললেন সামান্থা
১০০ কোটি আয় থেকে মা হওয়া—সব নিয়ে বললেন সামান্থা

তিন বছর পর পর্দায় ফিরেছেন সামান্থা রুথ প্রভু। প্রত্যাবর্তনটা যে এমন হবে, হয়তো তিনিও ভাবেননি। ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’ শুধু বক্স অফিসে ১০০ কোটি রুপি আয় করা ছবি নয়, এই সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে অ্যাকশন তারকা হিসেবেও নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। অথচ এই সাফল্যের ঠিক আগের কয়েকটি বছর ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। অসুস্থতা, কাজ থেকে দূরে থাকা, নিজের পরিচয় নিয়ে নতুন করে ভাবা—সব মিলিয়ে বদলে গেছে জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। এখন সেই সামান্থার জীবন আরও এক বড় পরিবর্তনের সামনে। তিনি মা হতে চলেছেন। জীবনের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি কাজ ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও যথেষ্ট সচেতন। দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের এই বদলে যাওয়া সময়, সিনেমার সাফল্য, স্বামী ও পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে কাজ, অসুস্থতার অভিজ্ঞতা এবং নারীদের নিয়ে তাঁর ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। পর্দার স্বর্ণা আর বাস্তবের সামান্থা ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’-এ সামান্থার চরিত্রের নাম স্বর্ণা। ছবির শুরুতে শাড়ি পরা, চুড়ি হাতে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া এক সাধারণ নারীকে দেখা যায়। পরে সেই চুড়ি খুলে রেখে পরিবারের জন্য যুদ্ধে নামেন তিনি। চরিত্রটির এই রূপান্তরের সঙ্গে নিজের জীবনেরও একটা যোগ খুঁজে পান সামান্থা। ছবিটির গল্প লিখেছেন রাজ নিদিমোরু। অভিনেত্রী সাই পল্লবী চরিত্রটি করতে না পারায় রাজ সামান্থাকে প্রস্তাব দেন এবং পরে তাঁকে মাথায় রেখেই চিত্রনাট্যের বড় অংশ নতুন করে লেখেন। সামান্থার ভাষায়, স্বর্ণার গল্প তাঁর জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। অবশ্য বাস্তবে তাঁকে কখনো খলনায়কদের পেটাতে হয়নি। কিন্তু বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর যে ক্ষমতা অনেক নারীর মধ্যে থাকে, স্বর্ণার মধ্যে তারই অতিরঞ্জিত রূপ দেখেছেন তিনি। এ কারণে শুটিংয়ের সময় স্বর্ণা, সামান্থা ও ছবির পরিচালক ঝাঁসির মধ্যকার সীমারেখাও অনেক সময় ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। চরিত্রটি যেন তাঁর নিজের জীবনেরই আরেক সংস্করণ হয়ে উঠেছিল।রাজের সঙ্গে কাজ করার আরেকটি সুবিধা হলো, তাঁর সামনে সামান্থার কোনো ভয় কাজ করেনি। সাধারণত অভিনয়ের সময় একজন শিল্পীর মনে থাকে—কোনো দৃশ্য একটু অন্যভাবে করলে পরিচালক বা অন্যরা কী ভাববেন। রাজের ক্ষেত্রে সেই দ্বিধা ছিল না। কারণ, তিনি জানতেন, মানুষটি তাঁকে পুরোপুরি বোঝেন এবং তাঁর পাশে আছেন।এই আস্থার কারণেই ‘মা ইনতি বঙ্গারাম’-এর অনেক দৃশ্য এক টেকেই করা হয়েছে। চরিত্রটির জন্মের শুরু থেকেই সামান্থা প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। ফলে স্বর্ণার পৃথিবী, মানসিকতা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল পরিষ্কার। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই তাই চরিত্রটির মধ্যে ঢুকে যেতে পেরেছেন।অভিনয় ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেনসামান্থার ক্যারিয়ার প্রায় দুই দশকের। তাঁর প্রথম ছবি ‘মসকোইন কাবেরি’। কিন্তু ক্যারিয়ারের এতটা পথ পেরিয়ে একসময় সত্যিই অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি।এক বছর বিরতি নেওয়ার পর সামান্থার মনে হয়েছিল, জীবনে অন্য কিছু করা দরকার। অসুস্থতার কারণেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বিশ্রামে থাকতে এবং অন্য কিছু করার কথা বলেছিলেন। ২০২২ সালে মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ শুরু করেন তিনি। একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হয়ে নিজেকে ‘সিরিয়াল উদ্যোক্তা’ বলেও অভিহিত করেছেন সামান্থা। তখন নিজের নতুন জীবন বেশ উপভোগও করছিলেন। কিন্তু ‘সিটাডেল’–এর শুটিংয়ের সময় অসুস্থ শরীরে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য সুখকর ছিল না। পুরো একটি ইউনিট তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে, মানুষের সময় নষ্ট হচ্ছে—এই ভাবনা তাঁকে কষ্ট দিত। একসময় তাই ঠিক করেছিলেন, এবার অভিনয়ের বদলে প্রযোজনায় মন দেবেন। ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ প্রযোজনা করবেন, পর্দার আড়াল থেকে নিজের পছন্দের সিনেমা তৈরি হতে দেখবেন—এতেই যেন সন্তুষ্ট ছিলেন।রাজ অবশ্য সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিশ্বাস এবং সাহসই সামান্থাকে আবার ক্যামেরার সামনে ফিরিয়ে আনে। এর আগেও ‘সিটাডেল’–এর সময় সামান্থা হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। এমনকি কাজ ছেড়ে দেওয়ার ই–মেইলও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাতারা তাঁকে ছাড়েননি। ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’–এর ক্ষেত্রেও রাজের বিশ্বাস তাঁকে ফিরিয়ে আনে।সামান্থার মনে হয়েছিল, সাই পল্লবী চরিত্রটি না করলেও চিত্রনাট্যের মধ্যে এমন কিছু আছে, যা দর্শক, বিশেষ করে নারীরা দেখতে চাইবেন। সেই ‘সোনা’ গল্পটি হারিয়ে যাক, সেটা তিনি চাননি।সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে মাত্র ৫৪ দিনে সিনেমা‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ তৈরির সময় নির্মাতারা ঝুঁকি নিতে চাননি। প্রায় তিন বছর পর সামান্থার সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, তার ওপর মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বাসও দেখা যাচ্ছিল না। ফলে দর্শক আদৌ প্রেক্ষাগৃহে আসবেন কি না, সে বিষয়ে তাঁরাও নিশ্চিত ছিলেন না।এ কারণে বাজেট রাখা হয়েছিল যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রিত। মাত্র ৫৪ দিনে শুটিং শেষ করা হয়। এমনকি বাসের পুরো অ্যাকশন দৃশ্য, ক্লাইম্যাক্স এবং কয়েকটি অতিরিক্ত দৃশ্য এক দিনেই শুট করা হয়েছিল। ইউনিটের প্রত্যেকেই নিজেদের সামর্থ্যের সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করেছিলেন।সামান্থার মতে, ছবিটির সাফল্য কোনো একজনের নয়। প্রথম দিন থেকেই সেটে একটা ইতিবাচক শক্তি ছিল। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে একটু বেশি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রয়োজন হলে বন্ধু, পরিবার ও নিজেদের পরিচিতদের কাছ থেকে অর্থ জোগাড় করেছেন, নিজেরাও বিনিয়োগ করেছেন। ছবিটির চেহারা হয়তো আরও বড় বাজেট ও সময় দাবি করত; কিন্তু তাঁদের মনে হয়েছিল, বাড়তি কিছু না থাকলেও সিনেমাটি তার কথা বলতে পারবে।ফলাফলও তাঁদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যায়। প্রথম সপ্তাহান্তের পর সোমবার কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সামান্থা। সোমবার পার হওয়ার পর আবার সপ্তাহান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু সিনেমার যাত্রা থামেনি।সবচেয়ে আবেগের মুহূর্ত ছিল প্রেক্ষাগৃহে নারীদের উপস্থিতি। বিভিন্ন বয়সী নারী, পরিবার ও শিশুরা উৎসবের পোশাক পরে সিনেমা দেখতে এসেছেন। যেন শুধু ছবি দেখতে নয়, একটি উৎসব উদ্‌যাপন করতেই তাঁরা হলে গিয়েছিলেন। এক মাসের বেশি সময় পরও সেই দৃশ্য সামান্থাকে আবেগাপ্লুত করে।সামান্থার কাছে এই সাফল্য এক রাতের ঘটনা নয়। মুক্তির প্রথম দিনের বড় সংগ্রহের পেছনে ছিল আগের দুই বছরের ধাপে ধাপে নিজেকে ঠিক করা, নতুন করে ভাবা এবং আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া। বদলেছে শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবে সামান্থা নন, ব্যক্তি সামান্থাও।সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে অসুস্থতা তাঁকে কী শিখিয়েছেঅসুস্থ হওয়ার আগে সামান্থা নিজের পরিচয়কে মূলত কাজ, লক্ষ্য, ফলাফল ও সাফল্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন। কী করছেন, কতটা ভালো করছেন, কতটা অর্জন করছেন—এসব দিয়েই নিজের মূল্য নির্ধারণ করতেন। অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমবার তাঁকে থেমে যেতে হয়। তখন তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন—‘আমি যখন কিছুই করছি না, তখন আমি কে?’এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামান্থার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি বুঝতে শেখেন, একজন মানুষের মূল্য শুধু সে কী কাজ করছে, তার ওপর নির্ভর করে না। কাজের বাইরে যে মানুষটি, তারও মূল্য আছে। নিজের সময়, মানসিক শান্তি, স্বাস্থ্য এবং কোনো একটি প্রকল্পে দেওয়া মনোযোগ—সবকিছুরই মূল্য আছে। তাই এখন তিনি অনেক বেশি বেছে কাজ করেন।ফলে সামান্থার সিনেমার সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি বিজ্ঞাপনের কাজও কমেছে। ফিরে আসার পর অন্তত ১৫ থেকে ২০টি ব্র্যান্ডের কাজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বাইরে থেকে জীবনকে হয়তো ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু তাঁর কাছে এটি এখন অনেক বেশি অর্থপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপূর্ণ।অসুস্থতা তাঁকে আত্মবিশ্বাসের আরেকটি সংজ্ঞাও শিখিয়েছে। একজন অভিনেতা হিসেবে সামান্থা জানতেন কীভাবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে একটি ঘরে ঢুকতে হয়, কীভাবে নিজের উপস্থিতি দিয়ে বোঝাতে হয় যে তিনি সেখানে থাকার যোগ্য। শরীরচর্চা, রুটিন, চেহারা—সবকিছুর মধ্য দিয়ে সেই আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিলেন। কিন্তু অসুস্থতা বুঝিয়ে দিয়েছে, বাইরে থেকে যতই আত্মবিশ্বাসী দেখা যাক, শরীর খারাপ হলে এসব কিছুই সব সময় নিয়ন্ত্রণে থাকে না।একসময় নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে হয়েছিল সামান্থার। পরে বুঝেছেন, অসুস্থতাকে থামাতে না পারলেও তার প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটি তাঁর হাতে। কৃত্রিম আত্মবিশ্বাস দেখানোর প্রয়োজন নেই। বরং স্থিতি, বিশ্বাস, আশা ও আবার উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা—এসবই তাঁকে নতুন করে শক্ত করেছে।সামান্থা স্বীকার করেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল, ‘কেন আমার সঙ্গে এমন হলো?’ পরে সেই প্রশ্ন বদলে যায়—‘এখান থেকে কী শেখা যায়?’ সেই পরিবর্তনই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা।সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে রাজের সঙ্গে সম্পর্কপেশাগত ও ব্যক্তিগত—দুই ক্ষেত্রেই রাজ এখন সামান্থার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাঁদের মধ্যে সিনেমা নিয়ে আলাদা কোনো নিয়ম নেই। সবকিছু নিয়েই কথা হয়। রাজকে প্রথমে পরিচালক হিসেবে চিনেছিলেন সামান্থা, পরে সম্পর্কের অন্য অধ্যায় এসেছে।রাজের বিচারবুদ্ধির ওপর সামান্থার গভীর আস্থা। তাঁর মতে, রাজ সহজ মানুষ, সব সময় অন্যের ভালো চান এবং দুজনের মধ্যে মতবিরোধও খুব কম হয়। কারণ, তাঁরা একে অপরের কথা শোনেন। রাজ তাঁকে ভালো অভিনেতা হতে সাহায্য করেছেন—এ কথা নির্দ্বিধায় বলেন সামান্থা। তবে মজা করে এটাও বলেন, তিনি রাজকে আরও ভালো পরিচালক বানিয়েছেন—এ কথা তিনি বলতে পারবেন না। তাঁদের সম্পর্কের কোনো নির্দিষ্ট নিয়মও নেই। নিয়ম থাকলেও তা বেশি দিন টিকত না।এবার মা হওয়ার পালাজীবনের নতুন অধ্যায় নিয়েও সামান্থা বেশ স্বচ্ছন্দ। একটা সময় তিনি এবং রাজ দুজনেই মেনে নিয়েছিলেন—সন্তান হয়তো হবে, হয়তো হবে না। দুজনই যেকোনো ফলাফলের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তাই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরটি তাঁদের কাছে ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত আনন্দ। ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’–এর গানের শুটিংয়ের সময় জানতে পারেন তিনি। নাচের স্টেপ করতে গিয়ে শরীর একটু খারাপ লাগছিল। পরে বুঝতে পারেন, জীবনে যেন সবকিছু নিজের জায়গায় এসে মিলে গেছে।সামান্থা এখন সত্যিই উত্তেজিত। চারপাশের সবাই তাঁকে বলছেন, সন্তান এলে জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। আর তিনি সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।‘নিজেকে ছোট করে রাখার দিন শেষ’কয়েক মাস আগে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সামান্থা বলেছিলেন, নারীরা নিজেদের অনেক সময় ইচ্ছা করেই ছোট করে রাখেন। অন্যের সাফল্যে অস্বস্তি হবে বলে নিজের অর্জনের কৃতিত্বও অনেক সময় নিজেরা পুরোপুরি নেন না। এখন তিনি মনে করেন, সেই সময় শেষ।মা হচ্ছেন, নিশ্চিত করলেন সামান্থানিজেকে ছোট করে রাখার কোনো অর্থ নেই। নিজের সাফল্যের জন্য অন্যকে অজুহাত দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। জীবনের অর্ধেক সময় অন্যকে কৃতিত্ব দিয়ে বা নিজের অর্জনে বিব্রত হয়ে কাটিয়ে দেওয়ার কোনো কারণ দেখেন না তিনি। প্রশংসা এড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাসটিও বদলাতে চান। তাঁর মতে, প্রশংসা গ্রহণ করাও জরুরি।নারীদের নিয়ে সামান্থার ভাবনাও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। এমন একটি সময় তিনি দেখতে চান, যখন কোনো সিনেমাকে শুধু নারীপ্রধান বলে আলাদা করে চিহ্নিত করার প্রয়োজন হবে না। নারী চরিত্রও পুরুষ চরিত্রের মতো জটিল, বৈপরীত্যপূর্ণ ও বাস্তব হবে। কোনো নারী শুধু নায়কের স্ত্রী, প্রেমিকা কিংবা নায়ককে সাহস দেওয়ার কারণ হয়ে থাকবে না; সে নিজের গল্পের কেন্দ্রীয় মানুষ হবে।চুক্তি নিয়ে কোনো নারী অভিনেত্রীর দর-কষাকষি করাও যেন খবর না হয়—এমন একটি স্বাভাবিক শিল্পপরিবেশ চান সামান্থা। সেটে নিরাপত্তার বিষয়টিও যেন চাপা দেওয়ার মতো কিছু না থাকে; বরং সেটিই যেন ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি হয়।‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার দৃশ্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসএই ভাবনাগুলোকে শুধু বক্তৃতার মধ্যে আটকে রাখতে চান না সামান্থা। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ত্রালালাতেও তিনি এসব নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।নারী প্রতিনিধিত্ব, নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দেওয়া এবং বিভিন্ন কণ্ঠকে সামনে আনা—এগুলোই সামান্থার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ইতিমধ্যে দুটি সিনেমা প্রযোজনা করেছেন তাঁরা। ভবিষ্যতের কাজগুলোতেও শক্তিশালী নারী চরিত্র রাখার পরিকল্পনা আছে।সামান্থার বিশ্বাস, একজন নারী যখন অন্য একজন নারীকে এগিয়ে যেতে দেখেন, তখন তাঁর নিজের মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সাহস তৈরি হয়। নারীদের সবচেয়ে বড় যে মিথ্যাটি শেখানো হয়েছে, তা হলো—তাঁদের অপেক্ষা করতে হবে, কেউ এসে বেছে নেবে।সঠিক চাকরি, সঠিক সম্পর্ক, পদোন্নতি—সবকিছুর জন্য অপেক্ষা করার বদলে নারীদের নিজেদের জীবন নিজেরাই বেছে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন সামান্থা। কী চান, কীসের জন্য দাঁড়াবেন, কখন কোথা থেকে সরে আসবেন—সিদ্ধান্তগুলো নিজেরাই নিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, একজন নারী এক পা সামনে এগোলেই অন্যরাও তাঁর পথ অনুসরণ করার সাহস পেতে পারেন।মাতৃত্বের কারণে খুব দীর্ঘ বিরতিতে যেতে চান না সামান্থা। তবে এবার নিজের শরীরের কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নিতে চান। তাঁর প্রযোজিত কিছু সিনেমা আছে, ব্যবসাগুলোও ভালো চলছে—সেগুলোতেও সময় দিতে হবে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
বাংলা লেখার প্রোগ্রাম অভ্রর নির্মাতা কে, জানেন কি

বাংলা লেখার প্রোগ্রাম অভ্রর নির্মাতা কে, জানেন কি

ঘরের ফেলনা জিনিস থেকে আয়, বাংলাবিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ঘরের ফেলনা জিনিস থেকে আয়, বাংলাবিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নদী, বিল ও জলার মাছে ভরপুর পাবনার মাসুম বাজার

নদী, বিল ও জলার মাছে ভরপুর পাবনার মাসুম বাজার

রাশিয়া কি আসলেই দুর্বল হয়ে পড়েছে
রাশিয়া কি আসলেই দুর্বল হয়ে পড়েছে

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়াকে চরম পতনের দিকে ধাবমান একটি শক্তি হিসেবে দেখে আসছে। ১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও সাম্রাজ্যবাদী বিস্তারের স্পষ্ট সংকট প্রকট হওয়ার পর থেকেই এই ধারণার জন্ম। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে তা আরও পাকাপোক্ত হয়।ওয়াশিংটন ন্যাটোর সম্প্রসারণসহ এমন এক নীতিগত এজেন্ডা নিয়ে সামনে এগোতে শুরু করে, যেখানে রাশিয়ার ক্ষমতা ও স্বার্থকে কেবল একটুকরা গৌণ বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। আর ইউক্রেন নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব সেই অবজ্ঞাকে পরিণত করে চরম তাচ্ছিল্যে।রাশিয়াকে এই দুর্বল ও বিলীয়মান শক্তি হিসেবে চিত্রায়িত করাটা পুতিনের অজস্র সমালোচকের মানসিক খোরাক জোগাতে পারে, তবে বাস্তবতার সঙ্গে এর দূরত্ব যোজন যোজন। বৈশ্বিক রাজনীতিতে মস্কো ধারাবাহিকভাবে নিজের সামর্থ্যের চেয়ে অনেক বেশি বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ৩৫ বছর পর আজও রাশিয়া একটি পারমাণবিক পরাশক্তি।স্নায়যুদ্ধকালের মতোই ন্যাটো এখনো রাশিয়াকে তাদের মূল হুমকি মেনে নিয়েই সামরিক পরিকল্পনা সাজায়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার নজিরবিহীন পাহাড় গড়ে তুললেও যে অর্থনৈতিক ধসের পূর্বাভাস এই পরিকল্পনাকারীরা দিয়েছিল, তা ঘটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে; বরং এতে রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় বিন্দুমাত্র চির ধরেনি। মস্কোকে একঘরে করার প্রচেষ্টাগুলোও মুখ থুবড়ে পড়েছে।ইউক্রেনযুদ্ধে হারছে রাশিয়া, কিন্তু পুতিন কেন এত মরিয়াট্রাম্প ও পুতিন কেন ভুলের ফাঁদ থেকে বের হতে পারছেন নাক্রেমলিন দক্ষতার সঙ্গে বিকাশমান উদীয়মান অর্থনীতির প্রধান জোট ব্রিকস ইউরেশীয় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা গোষ্ঠী সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশনের মতো অ-পশ্চিমা সংস্থাগুলোকে সুসংগঠিত করেছে। আর এর মধ্য দিয়েই তারা আজকের গড়ে ওঠা পশ্চিমা-উত্তর বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর নিজেদের প্রভাব জোরদার করেছে।তবে রাশিয়ার পরিস্থিতির মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে একটি শর্ত কাজ করে: এটি টিকে রয়েছে আজকের বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর ভর করে। বিশ্ব আজ এক চরম খণ্ড–বিখণ্ড ও অনিশ্চিত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা রাশিয়ার শক্তির অনুকূলে কাজ করছে বলেই মস্কো তার সক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রভাব খাটাতে পারছে।অস্থিতিশীলতা, বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ ও বিশ্বায়নের পিছু হঠা, বিশ্বজুড়ে জাতীয়তাবাদ ও পপুলিজমের উত্থান, ‘সফট পাওয়ার’-এর অবমূল্যায়ন এবং পশ্চিমা জোটের অন্দরমহলের ফাটল—বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার এই প্রতিটি উপাদানই আদতে মস্কোর সুবিধা নিশ্চিত করছে।কিন্তু রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গাটি হলো—আজকের এই বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা হয়তো চিরস্থায়ী হবে না। পেন্ডুলামের কাঁটা আবার উল্টো দিকে ঘুরতে পারে; বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলা থিতিয়ে এসে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আবারও নতুন করে জোরদার হতে পারে। এই পরিবর্তন ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরই ঘটতে পারে।তা ছাড়া বৈশ্বিক মাত্রার কোনো বড় ধরনের ধাক্কা রাষ্ট্রগুলোকে তাদের চলমান সংঘাত ভুলে আরও নিবিড় সহযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তখন রাশিয়ার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত পররাষ্ট্রনীতি এবং একসময়ের নির্ভরযোগ্য কিন্তু অনমনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আর কোনো কাজে আসছে না।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশৃঙ্খলা থেকে লাভবানআন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে টুকরা টুকরা করে ফেলার প্রবণতাগুলো মস্কোর অনুকূলেই কাজ করছে। এই সময়ে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি এক টেকসই ক্ষমতা ও প্রভাবের উৎস। রাশিয়া পৃথিবীর একমাত্র শক্তি, যারা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ। চীন তাদের অস্ত্রাগার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করলেও, এই দুই পরাশক্তিকে স্পর্শ করতে বেইজিংয়ের আরও দীর্ঘ সময় লাগবে।রাশিয়ার এই পারমাণবিক পরাশক্তির তকমা বাস্তবেও বিরাট প্রভাব ফেলে: এটি ন্যাটো সদস্যদের ইউক্রেনে সরাসরি সেনা পাঠাতে বাধা দিয়েছে এবং অনেকগুলো শক্তিশালী কূটনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে।প্রথাগত সামরিক সক্ষমতার কথা বললে, রাশিয়ার এখনো একটি গভীর সমুদ্রের নৌবাহিনী এবং দূরপাল্লার হামলা চালানোর সামর্থ্য রয়েছে; একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই রাশিয়ার চেয়ে বেশি দূরবর্তী এলাকায় শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।এটা সত্য যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর মারাত্মক কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু গত সাড়ে চার বছরে তাদের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের আমূল বদলে ফেলেছে, তীক্ষ্ণ করেছে নিজেদের দক্ষতা ও যুদ্ধক্ষমতা।মস্কোর হাতে এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে এবং তার চেয়ে বড় কথা, তাদের কাছে রয়েছে আধুনিক স্থলযুদ্ধের এক অনন্য অভিজ্ঞতা—যা যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় যেকোনো সামরিক বাহিনীর চেয়ে তাদের এগিয়ে রেখেছে। ইউক্রেনও নতুন যুদ্ধপ্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে ঠিকই, তবে তারা সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।পুতিন এবার ন্যাটোর সঙ্গে ভয়ংকর জুয়া খেলতে শুরু করেছেনপুতিন এমন কিছু চান, যা তিনি কখনোই পাবেন নারাশিয়ার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ তাদের হাতকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তোলে। রাশিয়া বিশ্ববাজারে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, গম, সার, ইউরেনিয়াম, অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ, হীরা এবং অন্যান্য পণ্যের প্রধান সরবরাহকারী। আবার ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পথগুলোর মারাত্মক ঝুঁকি রাশিয়ার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।একই সঙ্গে এক তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ও অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিবেশ রাশিয়ার কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। পশ্চিমে এই ব্যবস্থাগুলোকে প্রায়ই পুরোনো, অনমনীয় এবং দেশের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর বলে ব্যঙ্গ করা হয়। অথচ ইউক্রেনে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরও রাশিয়া সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পেরেছে।তীব্র মেরুকরণের এই যুগে রাশিয়ার একককেন্দ্রিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া উদীয়মান উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার তুলনায় স্পষ্ট কিছু সুবিধা এনে দেয়। পুতিন এমন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছেন, যা ঘন ঘন রাজনৈতিক নির্বাচনকেন্দ্রিক পশ্চিমে চিন্তা করাও অসম্ভব।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত এক বিশৃঙ্খল দেশে পরিণত হয়েছে। এর শীর্ষে রয়েছেন এক খামখেয়ালি প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প কেবল পুতিনকে শ্রদ্ধাই করেন না, বরং রাশিয়ার ওপর তাঁর এই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকে হিংসাও করেন। অন্যদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টরা আসছেন আর যাচ্ছেন, কিন্তু কেউই জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারছেন না।আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যত দিন সহযোগিতার চেয়ে বৈরিতা, সমৃদ্ধির চেয়ে নিরাপত্তা, বিশ্বায়নের চেয়ে আঞ্চলিকতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার চেয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে বেশি প্রাধান্য দেবে, তত দিন রাশিয়া বৈশ্বিক রাজনীতির শীর্ষ সারিতেই অবস্থান করবে। এমনকি বাণিজ্যিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে বহুগুণ এগিয়ে থাকা দেশগুলোর চেয়েও রাশিয়া কৌশলগত সুবিধা ভোগ করবে।রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজার যদি চীন বা ভারতের মতো বিশাল হতো, তবে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারত। কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাসংক্রান্ত পতন বা ডেমোগ্রাফিক ধস সেই পথ বন্ধ করে দেয়।আসন্ন শান্ত পরিবেশইতিহাস সব সময় চক্রাকারে ঘোরে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বর্তমান এই কাঠামো হয়তো সাময়িক প্রমাণিত হতে পারে। নতুন রূপ নিয়ে বিশ্বায়ন আবারও ফিরে আসতে পারে এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতা এক দীর্ঘ স্থিতিশীল শান্তির রূপ নিতে পারে।মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন যুদ্ধ হয়তো কোনো একদিন থামবে; ওয়াশিংটন ও বেইজিং একটি টেকসই বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে; জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হয়তো বৈশ্বিক বিষয়ে বহুপাক্ষিকতার নীতিগুলোকে সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবেন। এই বিপরীত যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমেও শুরু হতে পারে, যদি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের সমর্থকদের বড় ধরনের পরাজয় ঘটে।এমন এক বিশ্বে রাশিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান পররাষ্ট্রনৈতিক সম্পদগুলোর অনেকগুলোই হঠাৎ করে মূল্য হারাতে শুরু করবে। রাশিয়ার অবমূল্যায়িত ‘সফট পাওয়ার’ তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ পার্টির ২৩তম কংগ্রেসে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনরাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজার যদি চীন বা ভারতের মতো বিশাল হতো, তবে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারত। কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাসংক্রান্ত পতন বা ডেমোগ্রাফিক ধস সেই পথ বন্ধ করে দেয়।দেশের ভৌগোলিক অবস্থান রাশিয়াকে কিছুটা সুবিধা দেয়। বিশ্বের দীর্ঘতম আর্কটিক উপকূলরেখা থাকায়, রাশিয়া সুমেরু অঞ্চলের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলে যাওয়া নতুন সমুদ্রপথগুলোর বড় অংশের মালিক হতে পারে। কিন্তু পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্যকার একটি ট্রানজিট করিডর বা যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে নিজের অবস্থানকে কাজে লাগাতে রাশিয়ার প্রয়োজন হবে কেবল চীন নয়; বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল অংশীদারত্ব।সর্বশেষ, একটি শক্তিশালী বেসামরিক উচ্চ প্রযুক্তির বাস্তুতন্ত্র না থাকলে, রাশিয়া প্রযুক্তিগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের থেকে অনেক পিছিয়ে পড়তে পারে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার নেতৃত্ব বেসরকারি খাতের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করে চলেছে। তাদের এই চরম কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা দেশের সেই উদ্যোক্তা মনোভাব ও উদ্ভাবনী শক্তিকে ধুঁকে ধুঁকে মেরে ফেলেছে। প্রযুক্তিগত শীর্ষস্থান ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সবচেয়ে এটা বেশি প্রয়োজন ছিল। রাশিয়ার নতুন উদ্ভাবনী কাঠামো এখনো বিশ শতকের সোভিয়েত রাষ্ট্রকেন্দ্রিক মডেলের ওপরই আটকে আছে।দুর্গের সীমানা ছাড়িয়েদীর্ঘ মেয়াদে রাশিয়ার ভাগ্য নির্ভর করবে বিশ্বব্যবস্থার আরেকটি পরিবর্তনের সঙ্গে তারা কতটা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে এবং প্রস্তুতি নিতে পারছে তার ওপর। তাদের বর্তমান ‘অবরুদ্ধ দুর্গ’ মডেল আন্তর্জাতিক পরিবেশকে একটি সুযোগের বদলে কেবল একটি হুমকি হিসেবেই দেখে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা ও সংঘাত রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কোনো কাজেই আসবে না। পশ্চিমে হয়তো শক্তির ক্ষয় হতে পারে, কিন্তু তবু রাশিয়ার বাহ্যিক পরিবেশের জন্য তারা অপরিহার্যই থেকে যাবে। তাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং এমনকি সীমিত আঞ্চলিক সহযোগিতাই হচ্ছে একমাত্র উত্তম পন্থা।ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এই ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোই একসময় মস্কোর প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং তাদের নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবসায়িক পদ্ধতির মূল উৎস ছিল। ইউক্রেন সংঘাত শেষ হলে দুই পক্ষ অন্তত ধীরে ধীরে ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর কাজ শুরু করতে পারে।অবশ্যই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতির ওপর চলা একটি বিশ্ব স্বল্প মেয়াদে মস্কোকে বাস্তব কিছু সুযোগ এনে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটি এক ভয়াবহ বিপজ্জনক খেলা। আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটছে।সমালোচকদের হতাশ করে রাশিয়া আজ শক্ত হাতে টিকে আছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রমাণ করছে। কিন্তু এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে, তাদের স্বল্পমেয়াদি সুবিধা এবং সংকীর্ণ স্বার্থের বাইরে তাকাতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার যেকোনো তোলপাড় এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সহ্য করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।আন্দ্রে করতুনভ মস্কোভিত্তিক বিশ্লেষক ও গবেষক। ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ডিম ও মুরগির দাম কমেনি, মাছও চড়া

ডিম ও মুরগির দাম কমেনি, মাছও চড়া

টালিউডের তিন কন্যা যেন পাল্লা দিয়ে আবেদন ছড়াচ্ছেন যত আকর্ষণীয় লুকে

টালিউডের তিন কন্যা যেন পাল্লা দিয়ে আবেদন ছড়াচ্ছেন যত আকর্ষণীয় লুকে

আজ থেকে পর্দায় তারকাদের সেই জমকালো রাত

আজ থেকে পর্দায় তারকাদের সেই জমকালো রাত

0 Comments