জাতীয়

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী আছে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী আছে
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী আছে

৯ সেপ্টেম্বর বুধবার। ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোর অ্যাপল পার্কে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ইভেন্ট ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’। এ আয়োজনে প্রযুক্তির দুনিয়াকে চমকে দিয়ে নিজেদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন ‘আইফোন ডুও’ উন্মোচন করে অ্যাপল। নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটিই ছিল অ্যাপলের প্রথম বড় কোনো আয়োজন। সেখানে অ্যাপলের বেশ কিছু নতুন ডিভাইস ও প্রযুক্তির ঘোষণাও দেওয়া হয়।

প্রথম ফোল্ডেবল ফোন আইফোন ডুও

আইফোন ডুও ফোনের ভেতরের নকশা অনেকটা পাসপোর্টের মতো। এটি বইয়ের মতো সহজে খোলা ও বন্ধ করা যায়। এর সামনের অংশে আছে ৫.৪ ইঞ্চির একটি ডিসপ্লে। ফোনটি মেলে ধরলে দেখা যায় ৭.৬ ইঞ্চির এক বিশাল স্ক্রিন।

মুভি দেখা, গেম খেলা কিংবা একসঙ্গে নানা কাজ করার জন্য এই স্ক্রিন বেশ চমৎকার। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন আসার পর এটিকে বড় ধরনের পরিবর্তন বলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অ্যাপল এমন এক প্রযুক্তির বাজারে পা রাখল, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে স্যামসাংয়ের একচ্ছত্র রাজত্ব ছিল।

নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটিই ছিল অ্যাপলের প্রথম বড় কোনো আয়োজন

অ্যাপল জানায়, পুরোপুরি খোলার পর ডুও হবে তাদের তৈরি করা এযাবৎকালের সবচেয়ে পাতলা আইফোন। ফোনটির শুরুর দাম রাখা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার, যা প্রায় আড়াই লাখ টাকা। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে এর প্রি–অর্ডার শুরু হবে। আর ২৩ অক্টোবর থেকে এটি বাজারে পাওয়া যাবে।

টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি এই ডিভাইসে স্পিকার রয়েছে। এটি স্টার হোয়াইট ও নাইট স্কাই এই দুটি রঙে পাওয়া যাবে। ফোনটি পুরোপুরি না খুলে অর্ধেক ভাঁজ করা অবস্থাতেও ব্যবহার করা যাবে।

নতুন আইফোনের প্রি–অর্ডার শুরু হবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে

আইফোন ১৮ সিরিজের নতুন ফিচার

পাশাপাশি অ্যাপল বাজারে এনেছে ‘আইফোন ১৮ প্রো’ এবং ‘১৮ প্রো ম্যাক্স’। ফোন দুটির বাইরের ডিজাইন আগের বছরের ‘১৭ প্রো’ ও ‘প্রো ম্যাক্স’-এর মতোই রাখা হয়েছে। তবে ভেতরে যুক্ত করা হয়েছে নতুন ও দ্রুতগতির ‘এ২০ প্রো’ প্রসেসর। উন্নত সিপিইউ, জিপিইউ ও নিউরাল ইঞ্জিনের কারণে গেম থেকে শুরু করে এআইয়ের জটিল কাজগুলো এখন এতে আরও সহজে চালানো যাবে।

অ্যাপল তাদের আইফোন ১৮ প্রোতে ব্যাটারির সক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছে। নতুন আইফোন ১৮ প্রোতে ২৪ ঘণ্টা ও ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত চার্জ থাকবে। এগুলো আগের মডেলগুলোর চেয়ে অনেক দ্রুত চার্জ হয়।

ছবি তোলার অ্যাপারচারে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি ফোনে ‘অ্যাপল রেফারেন্স ইমেজ’ নামের নতুন ফিচার আনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবির মধ্যে আসল ছবি চিনতে এটি সাহায্য করবে। এ ছাড়া ফোনের তাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় বড় উন্নতি আনা হয়েছে, যাতে ফোন সহজে গরম না হয়।

নতুন আইফোন ১৮ প্রো মডেলে যোগ হয়েছে আকর্ষণীয় কিছু সুবিধা। এতে এবার সরাসরি নিজের পছন্দমতো সিরির গলার আওয়াজ বদলে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। এ ছাড়া অ্যাপল জানিয়েছে, আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্স পাওয়া যাবে মোট চারটি নজরকাড়া রঙে। কালো, রুপালি, হালকা নীল ও বারগান্ডি।

নতুন আইফোনের প্রি–অর্ডার শুরু হবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের ৬৫টির বেশি দেশের নির্দিষ্ট দোকানগুলোয় সরাসরি বিক্রি শুরু হবে।

আরও যে ঘোষণা দিল নতুন সিইও

ইভেন্টে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, আল্ট্রা ৪ এবং এয়ারপডস ৫ প্রকাশ্যে আনা হয়। নতুন সিইও জন টার্নাস এমন সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক কঠিন। অ্যাপলের জনপ্রিয় কেনাবেচার ধারা তারা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা প্রমাণ করার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার সামনে। ইভেন্টের আগেই আলোচনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আইফোন ডুও নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। এতে অ্যাপলের শেয়ারের দাম ১.৯ শতাংশ কমে যায়।

নতুন ক্রেতা আকৃষ্ট করতে ফোল্ডেবল ফোনের স্থায়িত্ব প্রমাণে জোর দেওয়া হচ্ছে। অনেকে মনে করেন ভাঁজ করার কারণে এগুলো সহজে ভেঙে যেতে পারে। তবে লাইভস্ট্রিমে দেখা গেছে, এসব ফোন প্রায় দুই লাখবার অনায়াসে ভাঁজ করা যায়।

অবশ্য এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ফোল্ডেবল ফোনগুলো খুব বড় জায়গা তৈরি করতে পারেনি। নমনীয় স্ক্রিনের ধারণা কিন্তু বেশ পুরোনো। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন আসার সময়েই ‘পলিমার ভিশন’ নামের এক কোম্পানি ফোল্ডেবল ই-রিডার বানিয়েছিল। যদিও ২০০৯ সালে সেই কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র: আইফোন নিউজরুম, সিএনএন ও ইয়াহু ফাইন্যান্স
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মিরাজের নাগিন ড্যান্স, ৪ বামহাতিকে বোল্ড করে হলেন ম্যাচসেরা
মিরাজের নাগিন ড্যান্স, ৪ বামহাতিকে বোল্ড করে হলেন ম্যাচসেরা

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে গায়ানা আমাজনের হয়ে স্বপ্নের মতো অভিষেকে করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হলেন ম্যাচসেরা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দিয়েছেন নাগিন ড্যান্সও। চার উইকেটের সবগুলোই তিনি শিকার করেছেন বোল্ডে এবং সবাই ছিলেন বামহাতি ব্যাটার। শনিবার প্রতিভেডেন্সে সিপিএলের ৩৩তম ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে মিরাজের গায়ানা। ত্রিনবাগোর ওপেনার কলিন মুনরো ও তিনে নামা নিকোলাস পুরানকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে শুরুটা করেন বাংলাদেশি স্পিনার। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। ১৬ বলে ২৬ রান করে তিনি ফিরলে ৪১ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয় ত্রিনবাগোর। পরের বলে নতুন ব্যাটার পুরান বড় শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন গোল্ডেন ডাকে। ফলে কোনো রান না করেই তিনি ফিরলে ৪১ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় ত্রিনবাগো। এরপর জেওয়াইডি গুলি ১০ বলে ৪ রানের বেশি করতে পারেননি মিরাজের বলে আউট হওয়ার আগে। ডিফেন্স করতে গিয়েও পরাস্ত হন তিনি। ব্যাট ও প্যাডের মাঝখান দিয়ে বল গিয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। ৭২ রানে ৪ উইকেট হারায় প্রতিপক্ষ। নিজের শেষ শিকার হিসেবে বোল্ড করেন সুনিল নারিনকে। ৫ বলে ৭ রান করা নারিন বড় শট করতে গিয়ে বোল্ড হন। ৮৪ রানে ত্রিনবাগোর পঞ্চম উইকেটটি তুলে নেন মিরাজ। তাকে ফিরিয়ে নাগিন ড্যান্স দেন বাংলাদেশের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক। তার সঙ্গে তাল মেলান ইমরান তাহিরও। মিরাজের তোপে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রানের বেশি করতে পারেনি ত্রিনবাগো। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শাই হোপের অপরাজিত ৪২ ও শিমরন হেটমায়ারের ২৮ রানে ৬ উইকেটের জয় পায় গায়ানা। ব্যাট হাতে ২ রানের বেশি করতে পারেননি মিরাজ। দারুণ পারফরম্যান্সে মেহেদী হাসান মিরাজ জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
নবীর আদর্শ অনুসরণ করেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সুদৃঢ় করতে হবে: চসিক মেয়র

নবীর আদর্শ অনুসরণ করেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সুদৃঢ় করতে হবে: চসিক মেয়র

২০০ কোটি টাকার কলা বিক্রির আশায় বাঁধ সাধছে উচ্ছেদ অভিযান

২০০ কোটি টাকার কলা বিক্রির আশায় বাঁধ সাধছে উচ্ছেদ অভিযান

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ১০৫০ টাকা

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ১০৫০ টাকা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সারাদেশের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করে এ আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে দেশ গঠন করতে চাইলে কোনো বাধাই তা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আরও পড়ুন গ্যাস সংকট আরও ৫-৭ দিনে স্বাভাবিক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী তিনি বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু সমস্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। শতভাগ সমাধান সম্ভব না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারেক রহমান বলেন, ‘নিজেকে সুস্থ রাখি, সমাজকে সুস্থ রাখি।’ প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতার জন্য সময় দিলে অবশ্যই পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন দেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিকের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে পরিবর্তন সম্ভব। এবার রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করি। আরও পড়ুন প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় সংকোচনের নানা দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন চিফ হুইপ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে করমর্দন করেন। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। কেএইচ/কেএসআর

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
এনসিপির ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিল আজ

এনসিপির ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিল আজ

আইফোন ডুওর দাম প্রায় ৫ লাখ, তবুও কেন মানুষ কিনবে

আইফোন ডুওর দাম প্রায় ৫ লাখ, তবুও কেন মানুষ কিনবে

ঢাকায় জনবল নিয়োগ দেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

ঢাকায় জনবল নিয়োগ দেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

নামাজের সময়সূচি: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নামাজের সময়সূচি: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইংরেজি, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বাংলা, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো- নামাজের সময়সূচি ফজর- ৪:২৯ মিনিট। জোহর- ১১:৫৮ মিনিট। আসর- ৪:২১ মিনিট। মাগরিব- ৬:০৯ মিনিট। ইশা- ৭:২৩ মিনিট।   আজ সূর্যাস্ত- ৬:০৫ মিনিট। আজ সূর্যোদয়- ৫:৪৩ মিনিট। রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফজর- ৪:২৯ মিনিট। সূর্যোদয়- ৫:৪৩ মিনিট। বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তা হলো- বিয়োগ করতে হবে- চট্টগ্রাম: -০৫ মিনিট। সিলেট: -০৬ মিনিট। যোগ করতে হবে- খুলনা: +০৩ মিনিট। রাজশাহী: +০৭ মিনিট। রংপুর: +০৮ মিনিট। বরিশাল: +০১ মিনিট। (সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন) কোন ওয়াক্তে কত রাকাত নামাজ ফরজ, কত রাকাত সুন্নত? প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তে মোট ১৭ রাকাত নামাজ ফরজ, ১২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা (যা নবীজি (সা.) নিয়মিত পড়তেন)। এ ছাড়া পাঁচ ওয়াক্তে কিছু সুন্নতে যায়েদা (যা নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে পড়তেন) নামাজও রয়েছে। আর ইশার পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ ওয়াজিব। ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য, ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। কখনও অনিচ্ছায় ছুটে গেলে পরে কাজা করে নিতে হবে। সুন্নতে মুআক্কাদা ও যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব হবে, আদায় না করলে গুনাহ হবে না। এখানে আমরা পাঁচ ওয়াক্তে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের রাকাতসংখ্যা উল্লেখ করছি: ফজর ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। জোহর জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত ও পরে ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আসর আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত নামাজ সুন্নতে যায়েদা। মাগরিব মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পর ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। ইশা ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত নামাজ সুন্নতে যায়েদা, ফরজের পর ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা। ইশার ফরজের ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ইসলামে ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় ফরজ ঘোষণা করে বলেন, নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩) ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়াকে হাদিসে কুফুরি গণ্য করা হয়েছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল, সে কুফুরি করল। (সুনানে তিরমিজি: ২১১৩) নবীজি (সা.) আরও বলেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ১৪৮) কেয়ামতের দিন নামাজের হিসাবই সবচেয়ে আগে নেওয়া হবে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবচেয়ে আগে তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। সেটি যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে সে সফল হয়ে গেলো এবং মুক্তি পেয়ে গেলো। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (সহিহ জামে সগির: ২০২০) ওএফএফ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
রসচিঠি

রসচিঠি

মাছরাঙা যেভাবে পানির নিচে শিকার করে

মাছরাঙা যেভাবে পানির নিচে শিকার করে

পোলকা ডটের ফুরফুরে রেট্রো লুকে ভাবনা

পোলকা ডটের ফুরফুরে রেট্রো লুকে ভাবনা

0 Comments