ব্রেকিং নিউজ
নিউক্লিয় বল বলতে কি বুঝায়

আগের পর্বকল্পনা কর যে, পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে দুটি করে প্রোটন ও নিউট্রন রয়েছে। এগুলোকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে দুটি ইলেকট্রন। তুমি কি জানো, এটা কিসের পরমাণু? এই পরমাণুটি হচ্ছে হিলিয়ামের- যা সম্পূর্ণ নতুন একটি গ্যাস, যার সঙ্গে হাইড্রোজেন গ্যাসের কোনই মিল নেই, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এরা বিপরীতধর্মী। হাইড্রোজেনের পরমাণু অনেক সামাজিক; কারণ এটি সহজেই অন্যান্য পরমাণুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে। কিন্তু হিলিয়ামের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি একেবারেই ভিন্ন। হিলিয়ামের পরমাণু অন্যকোন পদার্থের পরমাণুর সঙ্গে মিলিত হতে অনিচ্ছুক।কি অদ্ভুত এই পরমাণু জগৎ! হাইড্রোজেনের পরমাণুতে একটি নিউট্রন যোগ করার ফলে পরমাণুটি কিছুটা ভারী হয়ে গেলেও এটি হাইড্রোজেনই থেকে যায়। আরো একটি নিউট্রন যোগ করলে পরমাণুটি আরো ভারী হয়ে যাবে, কিন্তু এর হাইড্রোজেন জাতীয় গুণাগুণে কোন পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু একটি প্রোটন যোগ করার সঙ্গে সঙ্গে যেন জাদুদণ্ডের স্পর্শে সম্পূর্ণ ভিন্ন গুণাগুণসম্পন্ন নতুন একটি পরমাণুর আবির্ভাব ঘটে। প্রোটনের আকার ও ভর নিউট্রনের মতোই, তবে পার্থক্য এই যে, প্রোটনের চার্জ ধনাত্মক আর নিউট্রনের কোন চার্জ নেই। অর্থাৎ নিউট্রন হচ্ছে চার্জ নিরপেক্ষ। অতএব, পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন যোগ করলে বা বের করে নিলে নিউক্লিয়াসের ইলেকট্রিক চার্জের কোন পরিবর্তন ঘটে না।পরমাণুর গঠন কেমনহাইড্রোজেনের পরমাণুতে একটি নিউট্রন যোগ করার ফলে পরমাণুটি কিছুটা ভারী হয়ে গেলেও এটি হাইড্রোজেনই থেকে যায়। আরো একটি নিউট্রন যোগ করলে পরমাণুটি আরো ভারী হয়ে যাবে।পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন যোগ করার ফলে এটির ইলেকট্রিক চার্জ দ্বিগুন হয়ে যায়। পরমাণুর গুণাগুণ সর্বপ্রথমে নির্ভর করে নিউক্লিয়াসের চার্জের ওপর।প্রশ্ন জাগে ধনাত্মক চার্জযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও একই নিউক্লিয়াসে কিভাবে একাধিক প্রোটন অবস্থান করে?তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে যে, একই ধরনের চার্জ পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। অর্থাৎ নিউক্লিয়াসে প্রোটনগুলো একসঙ্গে থাকার কথা নয় এবং সাধারণ হিসেবে নিউক্লিয়াস অবশ্যই ভেঙ্গে যেতে বাধ্য।কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটি ভিন্ন। নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে যায় না। অধিকন্তু, অনেক পরমাণুর নিউক্লিয়াস আশ্চর্যজনকভাবে স্থির ও শক্ত গাঁথুনিতে বাঁধা। নিশ্চই কোন একটি শক্তি রয়েছে যা প্রোটনগুলোকে নিউক্লিয়াসে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য করে; যদিও এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে থাকে। পদার্থবিদরা এই শক্তির নাম দিয়েছেন নিউক্লীয় বল।দুর্বল নিউক্লীয় বল কী, এটা কেন গুরুত্বপূর্ণনিশ্চই কোন একটি শক্তি রয়েছে যা প্রোটনগুলোকে নিউক্লিয়াসে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য করে; যদিও এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে থাকে। পদার্থবিদরা এই শক্তির নাম দিয়েছেন নিউক্লীয় বল।এখন চল হিলিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আরো চারটি করে প্রোটন ও নিউট্রন যুক্ত করি। এখন কি দাঁড়াল? নিউক্লিয়াসে এখন ছয়টি করে প্রোটন ও নিউট্রন রয়েছে। তোমার মতে এই নিউক্লিয়াসকে ঘিরে কয়টি ইলেকট্রন আবর্তিত হওয়া উচিত? হ্যাঁ ঠিক বলেছো, ছয়টি। নিউক্লিয়াসে যে কয়টি প্রোটন রয়েছে ততো সংখ্যকই রয়েছে ইলেকট্রন। এখন তুমি পেয়ে গেলে কার্বনের পরমাণু, যে বস্তুটির সঙ্গে তোমার নিয়মিত যোগাযোগ ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ গ্রাফাইটের তৈরি পেন্সিলের শীষ। আর এই গ্রাফাইট তৈরি হয়েছে কার্বন পরমাণু দিয়ে।আরো ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস সংযোজন সম্ভব। যেমন লোহা, যার নিউক্লিয়াসে ২৬টি প্রোটন ও ৩০টি নিউট্রন রয়েছে। সিলভারের ক্ষেত্রে প্রোটনের সংখ্যা ৪৭টি এবং নিউট্রনের সংখ্যা ৬১টি। সোনার নিউক্লিয়াসে রয়েছে ৯৭টি প্রোটন ও ১১৮টি নিউট্রন। ইউরেনিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে এদের সংখ্যা কত?ইউরেনিয়ামের পরমাণুকে আরো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা যায়। যে কোন পরমাণুর মতোই এটির কেন্দ্রে রয়েছে নিউক্লিয়াস, যার চারদিকে একটি সম্মানজনক দূরত্ব রেখে আবর্তিত হচ্ছে হালকা ইলেকট্রন। নিউক্লিয়াসে ঠাসাঠাসি করে অবস্থান করছে প্রোটন ও নিউট্রন। ইউরেনিয়ামের অধিকাংশ পরমাণুর নিউক্লিয়াসে রয়েছে ৯২টি প্রোটন ও ১৪৬টি নিউট্রন (মোট ২৩৮)। কিন্তু কিছুসংখ্যক নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা ৯২টি হলেও নিউট্রনের সংখ্যা তিনটি কম, মাত্র ১৪৩টি (মোট ২৩৫)।ইউরেনিয়াম থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় অন্য পরমাণুর মতোই ইউরেনিয়ামের কেন্দ্রে রয়েছে নিউক্লিয়াস, যার চারদিকে একটি সম্মানজনক দূরত্ব রেখে আবর্তিত হচ্ছে হালকা ইলেকট্রন। নিউক্লিয়াসে ঠাসাঠাসি করে অবস্থান করছে প্রোটন ও নিউট্রন।তোমার নিশ্চই মনে আছে, যে সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকলেও নিউট্রনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়; সেগুলোকে বলা হয় আইসোটোপ। পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা 'ভর সংখ্যা' হিসেবে পরিচিত এবং আইসোটোপের নামের সঙ্গে এই সংখ্যাটি যুক্ত থাকে। উদাহরণস্বরূপ ইউরেনিয়াম-২৩৮ ও ইউরেনিয়াম-২৩৫। প্রকৃতিতে ইউরেনিয়াম-২৩৮ এর তুলনায় ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর উপস্থিতি অনেক কম।প্রিয় বন্ধু, আমরা এখন মূল বিষয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। এখন আমরা বুঝতে পারব কিভাবে পারমাণবিক শক্তি পাওয়া যায়। তুমি কি জানো, পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে কেন শুধুমাত্র ইউরেনিয়াম-২৩৫ ব্যবহার করা সম্ভব? কারণ হলো, এই পরমাণুর একটি বিস্ময়কর গুণ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরমাণুটি আপনা আপনি ভেঙ্গে দুটি টুকরো হয়ে যায়। এর ফলে নিউক্লিয়াস থেকে দুটি বা তিনটি নিউট্রন মুক্ত হয়ে প্রচণ্ড গতিতে ছুটতে থাকে- প্রতি সেকেন্ডে লাখ কিলোমিটারেরও বেশি। যখনই এই দ্রুত গতিসম্পন্ন নিউট্রন অন্য একটি ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াসে এসে আঘাত করে তখনই নিউক্লিয়াসটি ভেঙ্গে দুই টুকরো হয়ে যায়। মুক্ত হয় আরো নিউট্রন। নতুন এই নিউট্রনগুলো অন্য নিউক্লিয়াসে আঘাত করে এবং দুই টুকরো করে দেয়। এভাবে মুক্ত নিউট্রনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভেঙ্গে যাওয়া নিউক্লিয়াসের সংখ্যাও। এটাই হচ্ছে চেইন রিঅ্যাকশন। এই চেইন রিঅ্যাকশনের ফলে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং প্রক্রিয়াটি ক্রমান্বয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। যার ফলে এক সময় বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।কৃতজ্ঞতা: রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন- রোসাটমবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশবাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এনআইএইপি- এএসই, রাশিয়া এবংপরমাণু শক্তি তথ্য কেন্দ্র, ঢাকাইউরেনিয়াম শব্দটি যেভাবে পেলাম

দেশজুড়ে

View more
লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ১৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে। বুরাক এয়ারের ফ্লাইট নম্বর ইউজেড ২২২-এ করে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছেছেন তারা। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে এসব তথ্য জানিয়েছে, দেশে ফেরত পাঠানো ১৬৮ জনই ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধারের পর দীর্ঘদিন ধরে বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আইওএমের সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৬৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। দূতাবাস জানিয়েছে, অনিয়মিত পথে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা অভিবাসীদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের যাত্রায় অনেকে প্রাণ হারান, নিখোঁজ হন, মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি হন অথবা বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক হন। আটক হওয়ার পর অনেক অভিবাসীকে দীর্ঘ সময় ধরে ডিটেনশন সেন্টারের অমানবিক ও দুর্বিষহ পরিবেশে থাকতে হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাস সবাইকে দালাল ও মানবপাচারকারীদের মিথ্যা প্রলোভন ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে অনিয়মিত পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ২০১১ সালে লিবিয়ায় বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে দেশটি ইউরোপমুখী অভিবাসীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত, সহিংসতা ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এই যাত্রাপথে অনেক অভিবাসীকে মরুভূমি অতিক্রম এবং ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে প্রায়ই প্রাণহানি, নিখোঁজ এবং আটকের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে ভূমধ্যসাগরে এক হাজার ৬৬৮ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ৩৫ জন। এনজিও এসওএস মেডিটেরানের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে যাত্রা করা অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষে আছেন বাংলাদেশিরা, যা মোট অভিবাসীর ২৬ শতাংশ। এরপর রয়েছেন ইরিত্রিয়ার ১৬ শতাংশ, সুদানের ১৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ শতাংশ এবং মিশরের ৯ শতাংশ নাগরিক। সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস এমআরএম

দেশজুড়ে
Video news
সারা বিশ্ব
দাবানল থামাতে ছাগল যেভাবে কাজ করে
দাবানল থামাতে ছাগল যেভাবে কাজ করে

চলতি বছর গ্রীষ্মে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এক হাজার ৭৫০টিরও বেশি দাবানল লেগেছে। আর প্রতি গ্রীষ্মেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া প্রস্তুত হয় দাবানলের মৌসুমের জন্য। তবে আজকাল সেখানে দাবানল ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ছাগল। কিন্তু ছাগল কি সত্যিই দাবানল প্রতিরোধে সাহায্য করে?আসলে আমরা যেভাবে ভাবছি, ছাগল সেভাবে সরাসরি আগুন নেভাতে কোনো সাহায্য করে না। তবে সঠিকভাবে ছাগলের পাল ব্যবহার করলে দাবানলের তীব্রতা ও ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বিভিন্ন গবেষণা ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থাগুলো আসলে কী বলছে এই বিষয়ে?ফ্রান্স ও স্পেনের বিশাল দাবানল নেভাতে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা বিমান খুঁজে পাচ্ছেন না। এমন সময় জলবায়ুর এই সংকট মোকাবিলায় অভিনব এক সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাগল ও ভেড়ার দল। শুনতে অবাক লাগলেও ভবিষ্যতে দাবানল ঠেকানোর কাজটা কিন্তু নির্ভর করছে পর্যাপ্ত ছাগল পাওয়ার ওপর।বিশ্বজুড়ে ২০২৬, কিন্তু ইথিওপিয়ায় কেন ২০১৯ সালের নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হচ্ছেবনে বা ঝোপঝাড়ের শুকনা পাতা ও গাছপালা খেয়ে অগ্নিনিরোধক পথ বা ‘ফায়ারব্রেক’ তৈরি করতে তৃণভোজী প্রাণীদের এই ব্যবহার এখন ইউরোপজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন ও কৃষকদের বড় বড় সংগঠনগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধারণাকে মেনে নিয়েছে। স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাগল ও ভেড়ারা বনের ছোট ছোট ঝোপঝাড় খেয়ে ফেলায় সেখানে আগুন বেশি দূর ছড়াতে পারেনি।অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের মতো মেষপালকদের কাজের গুরুত্বও আমাদের সমানভাবে বোঝা দরকারউপায়টি খুব জটিল প্রযুক্তিনির্ভর না হলেও এতে কিছুটা খরচ আছে। মেষপালকদের এই কাজে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সাহায্যের দরকার পড়ে। তবে অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞদের মতে বড় সমস্যা অন্য জায়গায়। নেতারা আগুন লাগার পর তা নেভাতে যত টাকা ঢালেন, আগুন যাতে না লাগে সেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় ততটা বরাদ্দ দেন না।স্পেনের দাবানল গবেষণাকারী সংস্থা ‘পাউ কোস্টা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান জর্দি ভেন্ড্রেল। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের মতো মেষপালকদের কাজের গুরুত্বও আমাদের সমানভাবে বোঝা দরকার।এদিকে ফ্রান্সে দাবানল বাড়ায় কৃষকেরা নিজেদের পানির ট্যাংক নিয়ে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে নেমে পড়েছেন। তবে গ্রামে কৃষকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়াও এক বড় সংকট।ইনানী জাতীয় উদ্যানে যেভাবে মেঘলা চিতার দেখা মিললবিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জ্বলছে দাবানল। ধোঁয়ায় ঢেকেছে আকাশ। সড়ক দিয়ে এগিয়ে চলেছে একটি গাড়ি। গতকাল স্পেনের আলমেরিয়া অঞ্চলেমানুষ যখন চাষাবাদ ছেড়ে দেয়, তখন সেই পরিত্যক্ত জমিতে ঘাস ও ঝোপঝাড় জমে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার কৃত্রিম উপগ্রহ ‘কোপার্নিকাস’ দেখিয়েছে, বর্তমানে ইউরোপের যেসব জায়গায় বড় দাবানল ছড়াচ্ছে, সেগুলো মূলত এই ধরনের ঝোপঝাড় আর পরিত্যক্ত বনভূমির অংশ।বনে ছাগল বা গবাদিপশু চরানোর জন্য পর্যাপ্ত চারণভূমি থাকলেও রাখালদের জন্য অর্থনৈতিক লাভ খুব একটা নেই। লাভজনক না হলে তরুণেরা ছাগল পালনে উৎসাহ পাবে না। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে এবং দাবানলপ্রবণ এলাকা সুরক্ষায় রাখালদের বিশেষ সরকারি তহবিল বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।বনে বা ঝোপঝাড়ের শুকনা পাতা ও গাছপালা খেয়ে অগ্নিনিরোধক পথ বা ‘ফায়ারব্রেক’ তৈরি করতে তৃণভোজী প্রাণীদের এই ব্যবহার এখন ইউরোপজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছেকাতালুনিয়ার ‘ফায়ার ফ্লকস’ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি সহায়তায় ছাগল ও ভেড়ার পালকে বনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই পশুগুলো বনের ছোট ছোট ঝোপঝাড় খেয়ে আগুন ছড়ানোর সুযোগ কমিয়ে দেয়। আবার এসব পশুর দুধ দিয়ে তৈরি পনির ও দই বাজারে বিশেষ লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগে উৎসাহিত হন। স্পেনের ‘কুসো’ এলাকায় এই কাজের জন্য ব্যবহৃত গরুর মাংসের চাহিদাও এখন সবচেয়ে বেশি।একসময় বনের আশপাশের জমি অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন তা কমে যাওয়ায় বনের যত্ন নেওয়ার মানুষ নেই। অথচ গবাদিপশু চরানোর মাধ্যমে পরিবেশদূষণ না করেই দাবানল প্রতিরোধ করা সম্ভব।স্পেনের মাদ্রিদে সম্প্রতি ২৭ হাজার হেক্টর বন পুড়ে যাওয়ার পর সরকার মাত্র ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর বনে ছাগল চরানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। গবেষকেরা মনে করেন, শুধু ছাগল চরানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে একে বাদ দিয়েও উপায় নেই। কারণ, চারণকারী প্রাণী না থাকলে বনের ঝোপঝাড় বারবার গজিয়ে উঠতেই থাকবে। নেতাদের উচিত কেবল আগুন লাগলে নেভানোর কথা না ভেবে, আগে থেকেই পুরো বনাঞ্চলকে সঠিকভাবে চারণভূমির মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা।সূত্র: ইউরো পলিটিকো, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকআবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

মোদির বিশেষ নৈশভোজে অনুপস্থিত সি চিন পিং! কিন্তু কেন?
মোদির বিশেষ নৈশভোজে অনুপস্থিত সি চিন পিং! কিন্তু কেন?

ব্রিকসের প্রথম দিনের নৈশভোজে ছিল ভারতের বৈচিত্র্যময় নিরামিষ খাবারের আয়োজন। তবে এত আয়োজনের মধ্যেও কেন ছিলেন না চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং? বিস্তারিত ভিডিওতে…

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

অর্থনীতি
সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড
সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের বিবরণী জমা না দেওয়ার মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরের স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের দণ্ড দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মো. রবিউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা উপলক্ষে সুপর্ণাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে ফের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর শাহ মো. নাজমুস সাকিব জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার নথি থেকে জানা গেছে, সুপর্ণা সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে তার নিজের এবং স্বামীর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসসহ সম্পদের বিস্তারিত হিসাব চাওয়া হয়। এ জন্য ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ নির্ধারিত ফরম দেওয়া হয়। আরও পড়ুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ২ মামলা হচ্ছে আইন অনুযায়ী আদেশ পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে ওই সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপর্ণা সুর সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। এ অভিযোগে একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক এ এম তাহের। এরপর চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সুপর্ণা সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচারপর্বে মামলাটিতে মোট পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে মঙ্গলবার আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন। এমডিএএ/একিউএফ

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ৫ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পত্তি পাবে জুলাই শহীদের পরিবার
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ৫ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পত্তি পাবে জুলাই শহীদের পরিবার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে দণ্ডিত ৫ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার মধ্য থেকে ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত যে পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত তারা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এই ৫ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার মধ্য থেকে ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। বেলা ১২ টা ১০ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু হয়ে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৫৫৭ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত অংশ পড়েন চেয়ারম্যান। এ মামলার রায় পড়ার শুরুতেই ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলেরও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আদালত। আরও পড়ুন মানবতাবিরোধী অপরাধ / ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড সবশেষে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানেরও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার সব আসামিই পলাতক। এর আগে গত ১৭ আগস্ট শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও আইনজীবী ইসরাত জাহান। এর আগে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। আর আসামি পক্ষ থেকে তাদের খালাস চাওয়া হয়। এই মামলায় আসামি ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম। আর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে শুনানি করেন ইসরাত জাহান। উভয় পক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ থাকার পর সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন। এফএইচ/এসএইচএস

রাজশাহীতে তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
রাজশাহীতে তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার পিএন স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, বিএসটিআইয়ের গুণগত মানসনদ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি ‘বিস্কুট, পাউরুটি ও কেক’ উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ করে আসছিল। এছাড়া পণ্যের ওজন, মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় তথ্যসম্বলিত লেবেলও যথাযথভাবে সংযুক্ত ছিল না। এসব অনিয়মের দায়ে তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেহরীন তাবাসসুম তিথীর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। অভিযানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম

মোটরসাইকেল চুরির জেরে হত্যার ঘটনা, ৪ জন গ্রেফতার
মোটরসাইকেল চুরির জেরে হত্যার ঘটনা, ৪ জন গ্রেফতার

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ারগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ, চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)। পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হন পারভেজ। পরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা করিমকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রথমে চট্টগ্রাম নগরের চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে রাখা হয়েছে। পরে সোমবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে গ্রেফতার দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ওই খামারে অভিযান চালায় ডিবি। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে খামারের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদরাশা এলাকা থেকে সেলিম ও আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় তৈরি লোহার এলজি, একটি এয়ারগান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সিসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলা রয়েছে। মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, সিডিএমএস ও থানা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এমআরএএইচ/এসএনআর

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে
বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা।   ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন।   শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।”   কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে।   বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।

Follow us

Top week

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?
জাতীয়

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সাপের কামড়ের চিকিৎসায় নতুন অ্যান্টিভেনম, হতে পারে যুগান্তকারী
সাপের কামড়ের চিকিৎসায় নতুন অ্যান্টিভেনম, হতে পারে যুগান্তকারী

সাপের বিষে আক্রান্ত মানুষকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের হাতে এত দিন ছিল সীমিত কিছু উপায়। বিষধর সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। তাই একটি অ্যান্টিভেনম দিয়ে সব ধরনের বিষ মোকাবিলা করা কঠিন। এবার সে সমস্যার সমাধানে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন ভারত ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা। তারা এমন একটি অ্যান্টিভেনম তৈরি করেছেন, যা ভারতের বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। গবেষকদের ধারণা, এ চিকিৎসা পদ্ধতি সফল হলে বিশ্বজুড়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমানো সম্ভব হবে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন অ্যান্টিভেনমটি পাঁচ ধরনের ক্ষুদ্র অ্যান্টিবডি খণ্ড বা ন্যানোবডি দিয়ে তৈরি। পরীক্ষায় চশমা কোবরা, মনোকলড কোবরা ও ভারতের দুই প্রজাতির কিং কোবরার বিষ ঠেকাতে এটি খুবই কার্যকর হয়েছে। শুধু ভারতেই প্রতি বছর সাপের কামড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়। এ সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। কোনো বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে, আবার কোনোটি রক্ত বা শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই সব ধরনের বিষের বিরুদ্ধে একই অ্যান্টিভেনম তৈরি করা কঠিন। আরও পড়ুন অভিনয় করছে সাপ, চরিত্র পেতে দিতে হলো অডিশনও! হাসপাতালে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমেরও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তৈরি করা অ্যান্টিভেনমের কার্যকারিতায় পার্থক্য থাকতে পারে। এছাড়া এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। পাশাপাশি সব প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে এটি সমানভাবে কাজও করে না। প্রচলিত পদ্ধতিতে অ্যান্টিভেনম তৈরির জন্য ঘোড়ার মতো প্রাণীকে বারবার বিষপ্রয়োগ করা হয়। এতে প্রাণীর শরীরে বিষের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। পরে প্রাণীর রক্ত থেকে সেই অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিতে খরচ যেমন বেশি, তেমনি প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডিও তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। তবে, নতুন পদ্ধতিতে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন। গবেষকরা বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষ লামা ও আলপাকার মতো উটজাতীয় প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করেন। এরপর এসব প্রাণীর রক্তে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোন অ্যান্টিবডি বিষের ক্ষতিকর উপাদান নিষ্ক্রিয় করতে পারে। পরে, সেই অ্যান্টিবডিগুলো শনাক্ত করে পরীক্ষাগারে অণুজীবের মাধ্যমে তৈরি করার সম্ভাবনা দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আরও পড়ুন সাপের শরীরে কেমোথেরাপি, ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ইতিহাস এভাবে পাওয়া অ্যান্টিবডিগুলো থেকে গবেষকরা পাঁচটি ন্যানোবডি বেছে নেন। পরে এগুলো মিলিয়ে তৈরি করেন অ্যান্টিবডির একটি মিশ্রণ বা ককটেল। এ অ্যান্টিবডিগুলো কোবরার বিষের ক্ষতিকর উপাদানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিষকে শরীরের নির্দিষ্ট কোষ বা টিস্যুতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। পরীক্ষায় এ অ্যান্টিবডি ককটেল বিষের কার্যকারিতা ঠেকাতে সফল হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিষপ্রয়োগের ৩০ মিনিট পরও এটি ইঁদুরকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এমনকি বিষের কারণে যেসব ইঁদুর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল বা স্নায়ুতন্ত্রে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, তারাও পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো উপসর্গও দেখা যায়নি। আরও পড়ুন সাপ ধরার কৌশল প্রদর্শনীতে কর্মকর্তার মৃত্যু গবেষণার অন্যতম লেখক কার্তিক সুনাগর বলেন, অ্যান্টিভেনম চিকিৎসায় প্রায় ১০০ বছর ধরে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নতুন এ পদ্ধতি ভারতের সাপের কামড়ের সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ও গবেষণার আরেক লেখক আন্দ্রেয়াস লাউটসেন বলেন, এ গবেষণা নতুন ধরনের অ্যান্টিভেনম তৈরির একটি পথ দেখিয়েছে। স্থানীয় সাপের বিষে যেসব উপাদান মানুষের শরীরে বেশি ক্ষতি করে, সেগুলো লক্ষ্য করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা অ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন অ্যান্টিবডিতে আরও উপাদান যুক্ত করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষধর সাপের বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, মানুষের চিকিৎসায় এটি ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এমডিআরএইচ/

হামের লক্ষণ ও প্রতিকার কী 
হামের লক্ষণ ও প্রতিকার কী 

হামের প্রকোপ এখনো রয়ে গেছে। হামে আক্রান্ত শিশু নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন অভিভাবকেরা। যদিও আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই কমে আসবে এই প্রকোপ। কিন্তু পত্রিকার সংবাদ বলছে, এ বছর হামে শিশুমৃত্যু হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে আরও কিছুদিন।রোগের কারণহাম রোগের মূল কারণ হলো মিজলস ভাইরাস, যা প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।লক্ষণ কীহাম রোগের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ৮-১২ দিনের মধ্যে দেখা যায়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো—উচ্চ জ্বর, শুকনা কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা কনজাংইটিভাইটিস, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট), শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ঢেলে সাজাচ্ছি: উপাচার্যসংক্রমণের ধরনহাম খুব সহজেই ছড়ায়। আক্রান্ত শিশু কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসে থাকা ভাইরাস দুই ঘণ্টা সময় ধরে অন্য সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। আক্রান্ত শিশুর লক্ষণ শুরু হওয়ার চার দিন আগে থেকে এবং ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর্যন্ত সংক্রামক থাকে।চিকিৎসাযথাযথ বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ওষুধই এই রোগের মূল চিকিৎসা। পরপর দুই দিন দুটি উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ক্যাপসুল বয়স অনুযায়ী দেওয়া হয় এই রোগের তীব্রতা কমানোর জন্য। এর পাশে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয়। তবে যদি শিশু গুরুতর অসুস্থ, খাবারে অনীহা, ঘন ঘন বমি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি হলে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।প্রতিরোধসময়মতো হামের টিকা দুই ডোজ ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং ১৫ মাস বয়সে প্রদান করতে হবে। সব সময় হাত–মুখ ধুতে হবে, চোখে হাত দেওয়া যাবে না।হাঁচি, কাশি, শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অন্তত ৫ দিন আলাদা করে রাখতে হবে।শিশুর জ্বর ও ফুসকুড়ি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম, শিশু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা

‘নোংরা’ থাকাই কি স্বাস্থ্যকর জীবনের নতুন সংজ্ঞা? গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য
‘নোংরা’ থাকাই কি স্বাস্থ্যকর জীবনের নতুন সংজ্ঞা? গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য

শহুরে জীবনে পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্ন বেড়েছে অনেক। কিন্তু তার সঙ্গে কমেছে প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। মাটি ছোঁয়া, ঘাসে বসা, কিংবা গাছের বাকলে হাত রাখা এসব সাধারণ কাজ এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে চলে গেছে। অথচ গবেষণা বলছে অন্য কথা।প্রকৃতির মাটি ও গাছপালার সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শ শরীরের উপকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে। এমনকি প্রভাব ফেলতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও।মাটিতে হাত দেওয়া কেন উপকারী হতে পারে?আমাদের ত্বক শুধু শরীরকে বাইরের জগৎ থেকে আলাদা করে রাখে না। এর ওপর বসবাস করে অসংখ্য অণুজীব। এদের সবাই কিন্তু ক্ষতিকর নয়। বরং নানা ধরনের উপকারী জীবাণু একসঙ্গে থাকলে তারা একে অপরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষতিকর জীবাণুর আধিপত্য তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যায়। ফিনল্যান্ডের প্রকৃতি-স্বাস্থ্য গবেষক মিরা গ্রোনরুস একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল প্রায় ২০ সেকেন্ড মাটি আর বাগানের গাছে হাত ঘষতে। পরে হাত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। তারপরও দেখা যায় বড় পরিবর্তন। তাদের হাতের ত্বকে জীবাণুর সংখ্যা আর বৈচিত্র্যে এসেছিল স্পষ্ট বদল। খালি চোখে হাত দেখতে পরিষ্কারই লাগছিল। কিন্তু ত্বকের অণুজীব-জগতে ততক্ষণে ঘটে গিয়েছিল বড় ধরনের পরিবর্তন।মাত্র ২০ সেকেন্ডেই বদল, তবে নিয়মিত সংস্পর্শই আসলমাত্র কয়েক সেকেন্ড প্রকৃতির সংস্পর্শেও ত্বকের জীবাণু-পরিবেশে বদল আসে। তবে এই প্রভাব স্থায়ী নয়। গবেষকদের মতে, কিছুদিন পর ত্বকের জীবাণুর অবস্থা আবার আগের মতো হয়ে যেতে পারে। তাই একবার মাটি ছোঁয়ার চেয়ে বেশি জরুরি হলো নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা। বাগান করা, গাছের যত্ন নেওয়া, ঘাসে বসা, কিংবা প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটানো। এসব দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্য দিয়েই তৈরি হতে পারে এই সংযোগ।শিশুদের মাটিতে খেলাধুলাতেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় উপকারফিনল্যান্ডের কয়েকটি ডে-কেয়ার সেন্টারে চলেছে আরেকটি গবেষণা। সেখানে দেখা হয়, প্রকৃতির কাছাকাছি পরিবেশে শিশুদের খেলতে দিলে কী হয়। কিছু জায়গায় পাথর বা মেঝের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠের গুঁড়ো, বালি, গাছপালা আর মাটির মতো প্রাকৃতিক উপাদান। গবেষণাটি চলে দুই বছর ধরে। সেখানে শিশুদের এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়মিত খেলতে দেওয়া হয়। এরপর পরীক্ষা করা হয় তাদের ত্বকের জীবাণু-পরিবেশ। ২৮ দিন পর আর এক বছর পরের ফলাফল তুলনা করে দেখা যায় একটা স্পষ্ট পার্থক্য। বনভূমির মতো প্রাকৃতিক মাটির সংস্পর্শে থাকা শিশুদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, নানা ধরনের অণুজীবের উপস্থিতিই ত্বকের জীবাণু-পরিবেশকে রাখে ভারসাম্যপূর্ণ।‘ভালো’ জীবাণু থাকলে ক্ষতিকর জীবাণুর জায়গা কমেত্বকে যখন নানা ধরনের অণুজীব একসঙ্গে বসবাস করে, তখন ক্ষতিকর বা রোগ তৈরিকারী জীবাণুর আধিপত্য গড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। গবেষক মারজা রোসলুন্ড বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, একটি বৈচিত্র্যময় পরিবেশে সব জীবাণুর জন্যই জায়গা থাকে। তাই কোনো একটি ক্ষতিকর গোষ্ঠীর একচেটিয়া দখল তৈরি করা সহজ হয় না। অর্থাৎ ত্বককে সবসময় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখাই আদর্শ নয়। বরং দরকার একটা স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য।ত্বকের বদলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাওপ্রকৃতির সংস্পর্শের উপকার শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের জীবাণু-বৈচিত্র্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু সূচকও। শিশুদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গার মাটিতে খেলার পর ত্বকের কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। সঙ্গে বদল এসেছে রক্তের কিছু ইমিউন মার্কার বা সাইটোকাইনের মাত্রাতেও। এই সাইটোকাইনগুলোই মূলত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।তবে এর মানে এই নয় যে মাটির সংস্পর্শ সরাসরি অ্যাজমা, একজিমা বা অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে। গবেষকেরা নিজেরাও বলছেন, এসব রোগে ঠিক কতটা প্রভাব পড়ে, তা নিশ্চিত করে জানতে আরও গবেষণা দরকার।বাগান করাও হতে পারে সহজ একটা উপায়প্রকৃতির সংস্পর্শে যেতে বড় কোনো বনভ্রমণের দরকার নেই। বাগান করাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ পথ। একটি গবেষণায় কিছু প্রাপ্তবয়স্ককে শীতকালে ঘরের ভেতর সবজি চাষ করতে বলা হয়েছিল। কেউ ব্যবহার করেছিলেন জীবাণু-সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় মাটি। কেউ আবার ব্যবহার করেছিলেন তুলনামূলক কম বৈচিত্র্যের মাটি। প্রায় এক মাস পর দেখা যায়, বৈচিত্র্যময় মাটি ব্যবহারকারীদের ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। পাশাপাশি রক্তে কিছু প্রদাহনাশক সাইটোকাইনের মাত্রাতেও এসেছে পরিবর্তন।অর্থাৎ প্রতিদিন গাছে পানি দেওয়া, মাটি খোঁড়া কিংবা নিজের হাতে সবজি ফলানোর মতো সাধারণ কাজও শরীরকে প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করতে পারে।অফিসেও কি প্রকৃতির ছোঁয়া কাজে দেয়?প্রকৃতির উপকার পেতে সবসময় বাইরে যাওয়ারও দরকার নেই। ফিনল্যান্ডের কিছু অফিসে জীবন্ত গাছ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এক ধরনের সবুজ দেয়াল। এরপর দেখা হয় কর্মীদের শরীরে এর প্রভাব। দুই সপ্তাহ পরই দেখা যায় স্পষ্ট বদল। কর্মীদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য বেড়েছিল। রক্তে কিছু প্রদাহ-বর্ধক সাইটোকাইনের মাত্রা কমেছিল। ত্বকে ল্যাকটোব্যাসিলাসের মতো উপকারী কিছু জীবাণুর উপস্থিতিও বেড়েছিল। গবেষণাটি আকারে ছোট হলেও একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেয়। দৈনন্দিন পরিবেশে সবুজ আর প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করাটাও হতে পারে উপকারী।শহুরে জীবনে প্রকৃতির সংস্পর্শ কেন জরুরি?গবেষকদের একটা বড় ধারণার নাম বায়োডাইভার্সিটি হাইপোথিসিস বা জীববৈচিত্র্য প্রকল্প। এই ধারণা অনুযায়ী, গাছপালা, মাটি আর বাতাসে থাকা নানা রকম অণুজীবের বৈচিত্র্যই প্রভাব ফেলে আমাদের শরীরের জীবাণু-পরিবেশের ওপর। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ-সংক্রান্ত কিছু সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। এই ধারণা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন বহুদিন ধরেই। তবে এই সম্পর্কের সঠিক কারণ ও প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।এ কারণেই গবেষকদের পরামর্শ একটাই। শহর এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যেখানে মানুষকে প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে আলাদা করে সময় বের করতে না হয়। স্কুলে যাওয়ার পথে, অফিসে যাওয়ার পথে, কিংবা পার্কে হাঁটার সময়ই যেন গাছপালা আর মাটির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়ে যায় আপনাআপনি।একটু মাটি, একটু ঘাসপ্রকৃতির কাছে ফিরতে বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই। পার্কে হাঁটতে গিয়ে গাছের বাকলে হাত রাখা, কিছুক্ষণ ঘাসে বসা, বারান্দার টবের গাছের যত্ন নেওয়া, কিংবা ছোট করে একটা বাগান করা, এভাবেই শুরু হতে পারে সবকিছু। তবে বাইরে থেকে ফিরে হাত পরিষ্কার করা এবং মাটি ব্যবহারের সময় সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। লক্ষ্য কিন্তু ‘নোংরা থাকা’ নয়। লক্ষ্য হলো প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সঙ্গে পরিমিত আর নিরাপদ একটা সম্পর্ক তৈরি করা।এই গবেষণাগুলো একটা মজার সত্যিই মনে করিয়ে দেয়। স্বাস্থ্যকর জীবনের সব সমাধান হয়তো স্ক্রিন, জিম বা দামি ওয়েলনেস পণ্যের মধ্যে নেই। কখনো কখনো একটু মাটি ছোঁয়া, গাছের পাশে বসা, কিংবা ঘাসে খালি হাতে স্পর্শ করাও হতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে শরীরের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে সহজ পথ।সূত্র: বিবিসিছবি: এআই ও পেকজেলসডটকম

সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান
সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার।আজ রোববার রাজধানীর নভোথিয়েটারের প্লেনারি হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর ‘হেলথ ইনোভেশন ফর অল: এক্সপান্ডিং অ্যাকসেস টু অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ কেয়ার’ শীর্ষক প্লেনারি আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ মেলার আয়োজন করে।জুবাইদা রহমান বলেন, অনেক মানুষ তাদের শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে যাওয়ার পর বিশেষায়িত হাসপাতালে যান। বাড়ির কাছাকাছি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীদের এই সেবা নিতে দূরদূরান্তে যেতে হয়।আধুনিক উচ্চতর চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, তবে এটি কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। অনেক উন্নত দেশও এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আমরা প্রায়ই বলি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। এটি সত্য, তবে রোগ এবং এর ঝুঁকিগুলো মারাত্মক রূপ নেওয়ার আগেই তা নির্ণয় করা জরুরি।দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য তা সহজলভ্য করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে না। হামে আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মায়েদের বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। প্রতিটি স্ক্রিনিং কর্মসূচির সঙ্গে নিশ্চিত রোগনির্ণয়, পরামর্শ, চিকিৎসা, ওষুধ, পর্যবেক্ষণ এবং রেফারেলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।ডা. জুবাইদা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার এই দৃষ্টিভঙ্গি একটি সুস্পষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আয়, অবস্থান বা সামাজিক মর্যাদার ওপর নির্ভরশীল কোনো বিশেষ সুবিধা হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এটি সহজলভ্য হওয়া উচিত।জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, সংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং, রক্তের উপাদান পৃথক্‌করণ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং রক্তদাতা থেকে রোগী পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের একটি জাতীয়ভাবে সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।এসব উদ্যোগে উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। তবে উদ্ভাবন মানেই সব সময় ব্যয়বহুল কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করা বা নতুন কোনো অ্যাপ চালু করা নয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী  এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কে আজাদ খান।প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) মহাপরিচালক (ডিজি) আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বাপি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন, টিএমএসএসের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মতিউর রহমান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) পরিচালক ডা. মো. আকতার হোসেন, ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের মেডিকেল সার্ভিসেস পরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম খান এবং এসকেজেন লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সাদাফ সাজ সিদ্দিকী।

পিসিওএস কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা কী | পর্ব–০৩ | নুভিস্তা ফার্মা
পিসিওএস কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা কী | পর্ব–০৩ | নুভিস্তা ফার্মা

নুভিস্তা ফার্মার আয়োজনে ‘পিসিওএস (PCOS) সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা। সহযোগিতায় এলিসা ও লিয়ানা।এ পর্বের আলোচনায় বিষয়—পিসিওএস (PCOS) কী, কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে কী জানা জরুরি এবং পিসিওএস (PCOS) নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা।আলোচকপ্রফেসর শাহানারা চৌধুরীসাবেক প্রেসিডেন্ট, ওজিএসবি চট্টগ্রামভাইস প্রেসিডেন্ট, এফএসএসবিপ্রফেসর মলয় কান্তি চক্রবর্তীসাবেক অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধান (গাইনী), নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালীসাবেক সভাপতি, ওজিএসবি, নোয়াখালী শাখাসঞ্চালকডা. সালমা আক্তার শিমুসহযোগী অধ্যাপকচট্টগ্রাম মা-ও-শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুতুলের নিয়োগই দুঃখজনক, তিনি যোগ্য ছিলেন না
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুতুলের নিয়োগই দুঃখজনক, তিনি যোগ্য ছিলেন না

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ ‘দুঃখজনক’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ওই নিয়োগই দুঃখজনক ছিল। তার এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগ পাওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছিল না। তিনি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতির বিষয়গুলো সামনে আসবেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির দুর্গন্ধ থামানো কঠিন, এটি বের হয়ে আসবেই। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। আরও পড়ুন বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে চায় শেভরন সায়মা ওয়াজেদকে শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও কঠোর করা প্রয়োজন। কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থন করছে, যার ভালো যোগ্যতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে। কেএসআর/

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে কম সহনশীল ১০ শহরের তালিকায় বাংলাদেশের দুই শহর
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে কম সহনশীল ১০ শহরের তালিকায় বাংলাদেশের দুই শহর

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় একদম ওপরের দিকে থাকে বাংলাদেশ। বেশ কয়েক বছর ধরেই এমন চলছে। এবার নতুন এক প্রতিবেদনে বিশ্বের বড় শহরগুলো জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কতটা মানিয়ে নিতে পেরেছে, তার ভিত্তিতে একটি তালিকা করা হয়েছে।জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ঘটে বন্যা, দাবানলসহ নানা দুর্যোগ। এসব দুর্যোগে কোনো জায়গা কতটা ঝুঁকিতে আছে, সেটিই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, এই ঝুঁকি মোকাবিলা করে টিকে থাকার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা জলবায়ু দুর্যোগের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির একটি উদাহরণ।ভূস্থানভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করে আলফাজিও নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের ৭২টি বড় শহরের জলবায়ু-সহনশীলতার তালিকা তৈরি করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব শহরের মধ্যে অনেকের ‘ঝুঁকির মাত্রা এবং তা মোকাবিলার সক্ষমতার মধ্যে বিপজ্জনক ব্যবধান’ রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের কি বুদ্ধি কমে যাচ্ছেআলফাজিওর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পারাগ খান্না বলেছেন, ‘জলবায়ু–সহনশীলতা হলো ঝুঁকি বাদ দিয়ে অভিযোজনের সক্ষমতা।’ সবাই সহনশীলতার কথা বলে, কিন্তু কেউ তা পরিমাপ করে না।প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে কোনো শহর কতটা সহনশীল, তা নির্ধারণে দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। প্রথমত, জলবায়ুজনিত বিভিন্ন ঝুঁকির সরাসরি প্রভাব শহরটির ওপর কতটা পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ বন্যা, উপকূলীয় বন্যা, অতিরিক্ত গরম, খরা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস। দ্বিতীয়ত, এসব ঝুঁকির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শহরটি কতটা প্রস্তুত।শহরগুলোর এই প্রস্তুতি বা অভিযোজন সক্ষমতা যাচাই করতে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, নীতিগত পদক্ষেপ এবং বন্যা প্রতিরোধী বাঁধ ও পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিষ্কাশনব্যবস্থার মতো অবকাঠামো বিবেচনা করা হয়েছে।হিমালয়ের হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ঢলে কোনো কোনো ভবন ধসে গেছে, কোনোটির ছাদ পর্যন্ত কর্দমাক্তএ ধরনের ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। যেমন অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডার চাপে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু শক্তিশালী বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি বা বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।জলবায়ু-সহনশীল শহরের তালিকায় প্রথম হয়েছে শিকাগো। শহরটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে মিঠা পানির পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিও কম। শহরটি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে আছে বিশাল ‘ডিপ টানেল প্রজেক্ট’। বন্যা ও পানিদূষণ কমানোর লক্ষ্যেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে সবচেয়ে কম সহনশীল শহরগুলোর অনেকগুলোই দক্ষিণ এশিয়ায়। এসব শহরে বন্যা ও মৌসুমি বৃষ্টির ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে সে তুলনায় এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি কম। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শহর ভারতের আহমেদাবাদ। শহরটি নদীর তীরে অবস্থিত। এরপর ভারতের হায়দরাবাদ। তৃতীয় স্থানে আছে পাকিস্তানের মুলতান শহর। চতুর্থ স্থান ঢাকা। চট্টগ্রাম আছে তালিকায় নয় নম্বরে।মহাবিপর্যয় এলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হবে কোনটিজলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে সহনশীল ১০ শহর জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে কম সহনশীল ১০ শহর সূত্র: আলফাজিও, নিউইয়র্ক টাইমস

বারির দুই জাতের কফি নিয়ে পাহাড়ে নতুন স্বপ্ন
বারির দুই জাতের কফি নিয়ে পাহাড়ে নতুন স্বপ্ন

দেশের আমদানিনির্ভর কফির বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। প্রায় আড়াই দশকের গবেষণায় খাগড়াছড়িতে কফির দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাহাড়ের অনাবাদি ও পতিত জমির পাশাপাশি ফলবাগান কিংবা বনজ গাছের ছায়াতেও আবাদ করা যাবে এসব কফি। ফলে অনুৎপাদনশীল জমিকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে কফি চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুধু নতুন জাত উদ্ভাবনেই থেমে নেই গবেষণা। কৃষকের মাঠে চারা পৌঁছানো, পাহাড়ি পরিবেশে উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই এবং কফিকে ঘিরে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার তৈরির সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। ২০২১ সাল থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ চারা বিতরণ করেছে গবেষণা কেন্দ্র। তবে পাহাড়ি কফিকে বাণিজ্যিক ফসলে রূপ দিতে উৎপাদনের পাশাপাশি মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারব্যবস্থা ও মূল্য সংযোজনের অবকাঠামো গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বারি সূত্রে জানা গেছে, কফির পাশাপাশি কাজুবাদাম নিয়েও গবেষণা ও জাত উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা অবকাঠামোর বিভিন্ন কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (বারি অংগ)’ প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়ন কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘দেশে কফির চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে’ শুধু কফি উৎপাদন নয়, পাহাড়ে এই ফসলকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে নতুন কৃষি অর্থনীতি। বিদ্যমান ফলদ ও বনজ গাছের সঙ্গে companion crop হিসেবে কফি চাষ করা সম্ভব হওয়ায় নতুন করে পুরো জমি পরিষ্কার করারও প্রয়োজন নেই। একই জমি থেকে একাধিক ফসলের আয় পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি চারা উৎপাদন, বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনেও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। আরও পড়ুন কাজুবাদাম-কফিতে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষি জানা গেছে, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কফি নিয়ে গবেষণার সূচনা হয় ২০০১ সালে। এরপর বিভিন্ন উৎস থেকে কফির জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, বাছাই, অগ্রবর্তী লাইন তৈরি, ফলন ও গুণগত মান যাচাই এবং পাহাড়ি পরিবেশে অভিযোজন পরীক্ষা চালানো হয়। দীর্ঘ গবেষণার ধারাবাহিকতায় পাহাড়ি পরিবেশে রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা—দুই ধরনের কফির উপযোগী জাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। গবেষণা-সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বারি কফি-১ (রোবাস্টা) এবং ২০২৫ সালে বারি কফি-২ (অ্যারাবিকা) অবমুক্ত করা হয়। ২০২১ সাল থেকেই বারি কফি-১ নিয়ে গবেষণার অগ্রগতির খবর প্রকাশিত হয়ে আসছিল। পরবর্তী সময়ে গবেষণার ফল হিসেবে দুটি জাত অবমুক্ত করা হয়। গবেষণা নথি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি কফির চারা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এসব চারা মাঠপর্যায়ে রোপণের পর কৃষক পর্যায়েও কফি উৎপাদনের বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছে। গবেষণা নথির হিসাবে, প্রতিদিন ৫০ কাপ কফি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হলে দৈনিক বিক্রি দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ কফিকে শুধু কৃষিপণ্য হিসেবে না দেখে উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্থানীয় বিক্রয়ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা / সীতাকুণ্ডে ‘রোভাস্টা জাতের’ কফি চাষে বাজিমাত ২০২৫ সালের একটি মাঠভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পূর্ণবয়স্ক একটি কফি গাছ থেকে বছরে প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি কফি বীজ পাওয়া যেতে পারে। একই প্রতিবেদনে উৎপাদিত কফি বীজের দাম প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কফির জাত, গুণগত মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর দামের তারতম্য হতে পারে। ফলে এ হিসাবকে নির্দিষ্ট বাজারদর না ধরে সম্ভাব্য কৃষি-অর্থনৈতিক হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষের আরেকটি সুবিধা হলো এটি বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের সঙ্গে সমন্বিতভাবে চাষ করা যায়। ফলে নতুন করে পুরো জমি পরিষ্কার করে শুধু কফির বাগান তৈরি না করেও বিদ্যমান বাগান ব্যবস্থার সঙ্গে কফিকে যুক্ত করা সম্ভব। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসলের আয় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখেও কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তবে পাহাড়ে কফির সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু চারা রোপণ ও উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। কাঙ্ক্ষিত ফলনের জন্য পাহাড়ের মাটি, উচ্চতা ও আবহাওয়া বিবেচনায় উপযুক্ত জাত ও ক্লোন নির্বাচন, ছায়াব্যবস্থা, সার প্রয়োগ, পানি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো ফল সংগ্রহ জরুরি। এর সঙ্গে সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ে কফির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে কাঁচা কফি উৎপাদনের পাশাপাশি ‘চারা থেকে কাপ’ পর্যন্ত পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হবে। পাহাড়েই কফি শুকানো, বীজ আলাদা করা, রোস্টিং, গ্রাইন্ডিং ও প্যাকেটজাত করার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ গড়ে উঠলে কৃষক কাঁচা কফির ফল বিক্রির পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত পণ্যে বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারবেন। আরও পড়ুন রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদামে আশাবাদী চাষিরা এতে কফি চাষের সঙ্গে চারা উৎপাদন, বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ পাহাড়ে কফি চাষ শুধু একটি নতুন অর্থকরী ফসলের সম্ভাবনাই নয়, স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষিভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল তৈরির সুযোগও তৈরি করছে। পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিতে সাবেক প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুস সাত্তার উল্লেখ করেন, পাহাড়ি এলাকার অনাবাদি ও পতিত জমিকে উপযুক্ত অর্থকরী ফসলের আওতায় আনা গেলে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ের কৃষি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। কফি উৎপাদনের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়েই মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে। আরও পড়ুন খেজুরের বীজ থেকে শাহিনের অভিনব ‘কফি’ উদ্ভাবন বর্তমানে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, দেশে কফির চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, রপ্তানির জন্য শুধু কফি উৎপাদন যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মানের কফি বীজ, ধারাবাহিক গুণগত মান, সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং নির্ভরযোগ্য বাজারসংযোগ প্রয়োজন। এসসিএন/কেএইচকে/এএসএম

ছুটি রিসোর্টের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬, বৃক্ষ রোপন করলেন বিদ‍্যা সিনহা মিম
ছুটি রিসোর্টের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬, বৃক্ষ রোপন করলেন বিদ‍্যা সিনহা মিম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:  তারিখ: ১৮ মে ২০২৬  বাংলাদেশের স্বনামধন্য বৃহৎ রিসোর্ট ব্র্যান্ড ছুটি রিসোর্ট ২০২৬ সালের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন করে সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ছুটি রিসোর্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বিদ্যা সিনহা মিম, যিনি নিজ হাতে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। ২০১২ সাল থেকে ছুটি রিসোর্ট নিরলসভাবে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ ও বিরল প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে একটি সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতি বছরও ছুটি রিসোর্ট নতুন উদ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেছে।   আগামী এক মাসের মধ্যে ছুটি রিসোর্টের চারটি রিসোর্ট এবং নির্মাণাধীন নতুন প্রকল্পসমূহে প্রায় ৪,০০০ (চার হাজার) গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান এ‍্যডভোকেট মোস্তফা মাহমুদ আরিফি, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল, ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলমগীর ফেরদৌস, ছুটি রিসোর্ট পুবাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ সামসুল ইসলাম মাসুদসহ রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং আগত অতিথিরা। সকলের অংশগ্রহণে এই সবুজ উদ্যোগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।       একটি সবুজ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ছুটি রিসোর্ট সকলকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানায়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ শেষে মিম বলেন, “আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করি। এর মাধ্যমে দেশকে সবুজায়িত করি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি।” তিনি এই মহতী উদ্যোগের জন্য ছুটি রিসোর্টকে ধন্যবাদ জানান। ছুটি রিসোর্ট লি:  concern of Chuti group:  www.chutigroup.com

শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’-এর প্রভাবে সারাদেশে শুরু হয়েছে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে আজ (রোববার) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধাতেই বজ্রপাতে মারা গেছেন পাঁচজন। আহত হয়েছেন আরও এক ব্যক্
বজ্রপাতে গাইবান্ধায় ৫ জনসহ পাঁচ জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু

শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’-এর প্রভাবে সারাদেশে শুরু হয়েছে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে আজ (রোববার) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধাতেই বজ্রপাতে মারা গেছেন পাঁচজন। আহত হয়েছেন আরও এক ব্যক্তি। এছাড়া বজ্রপাতে একটি গরুও মারা গেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এবং সাঘাটা উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন হলেন- ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫), নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০) এবং সাঘাটা উপজেলার নম্বর আলী (৬৫)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) ধোপাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় ওই দুই তরুণ ও শিশু বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মারা যান নম্বর আলী। এছাড়া বজ্রপাতে নাটোরের সিংড়ায় একজন, জামালপুরের মেলন্দাহে দুজন, সিরাজগঞ্জে দুজন, বগুড়ার গাবতলীতে একজন এবং সকালের দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে একজন নিহত হয়েছেন।   এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ রাতের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১১ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

Irregular rainfall disrupts farming
বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণে চাষাবাদে ব্যাঘাত, কৃষকদের আয় কমছে দিনদিন

বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রকৃতি ও নির্ধারিত ঋতুচক্র। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি যেমন চাষাবাদের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এর অনিয়মিততা কৃষকের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বৃষ্টির আচরণে যে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে, তাতে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। আগে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে চাষাবাদ করা যেত নির্দ্বিধায়, এখন সেখানে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে দোটানার মধ্যে। কখন বৃষ্টি হবে, কতটা হবে, কবে হবে—এই অনিশ্চয়তা কৃষকের পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে বারবার।   জুন-জুলাই মাসেই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন অনেক বছরেই দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হচ্ছে দেরিতে অথবা হচ্ছে অতিরিক্ত অল্প সময়ে। এতে করে রোপা আমনের মতো ফসল সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কখনো বৃষ্টি হচ্ছে হঠাৎ করে অতিরিক্ত, যা বীজতলা ধ্বংস করে দিচ্ছে বা সদ্য রোপণ করা চারা নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার কখনো দীর্ঘদিন খরা বিরাজ করায় জমিতে ফাটল ধরছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ফসল। এর ফলে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।   অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে চাষাবাদের চক্রে পরিবর্তন আসছে। অনেক কৃষকই নির্ধারিত সময়ে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। কোনো কোনো অঞ্চলে আবার বৃষ্টি এসে প্রস্তুত জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, যা চাষাবাদের উপযোগিতা নষ্ট করছে। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময়েই হঠাৎ বৃষ্টি নেমে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে কৃষকদের শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সাথে বাড়ছে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা।   এক সময়ের নির্ভরযোগ্য কৃষি মৌসুমগুলো এখন অনেকটাই অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাও অনেক সময় যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে কৃষকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমন অবস্থায় অনেক কৃষকই বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিচ্ছেন অথবা অন্য পেশায় ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষিখাতের জন্য বড় হুমকি। এতে করে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।   বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণ শুধু ধান বা গম নয়, শাকসবজি, তিল, আখ কিংবা মসুরের মতো ফসলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাষের পর সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় ফসল স্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আবার বেশি পানি পেয়ে অনেক ক্ষেতেই গাছ পচে যাচ্ছে বা ফলন হচ্ছে অপূর্ণাঙ্গ। এতে কৃষকদের আয় দিনদিন কমছে, আর ঋণগ্রস্ততার হার বাড়ছে।   এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, এবং আবহাওয়া তথ্য সেবা সহজলভ্য করতে হবে। একইসাথে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের দিকে এগিয়ে যেতে না পারলে এই অনিয়মিত বৃষ্টির চক্র আগামীতে আরও বড় সমস্যা তৈরি করবে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।

সবুজ প্রযুক্তিতে বিপ্লব: স্মার্ট কৃষি যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গ্রামের চাষাবাদ
সবুজ প্রযুক্তিতে বিপ্লব: স্মার্ট কৃষি যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গ্রামের চাষাবাদ

বাংলাদেশের কৃষি খাত আজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এক সময় যে চাষাবাদ ছিল কেবল কৃষকের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক নির্ভরশীলতার উপর, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি যন্ত্রের প্রসারে দেশের গ্রামীণ চাষাবাদে এক বিপ্লব ঘটছে। পরিবর্তন আসছে কৃষকের চাষের ধরণ, উৎপাদনের পরিমাণ এবং খরচের পরিমিত ব্যবস্থাপনায়।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত মানের পাওয়ার টিলার, স্মার্ট স্প্রেয়ার, স্বয়ংক্রিয় পানি সেচ যন্ত্র, ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, স্যাটেলাইট নির্ভর আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের স্মার্ট কৃষি যন্ত্র এখন অনেক গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকের শ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচছে, উৎপাদনও হচ্ছে আরও পরিকল্পিতভাবে।   স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি উপকার পাচ্ছেন তরুণ কৃষকরা, যারা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী এবং স্মার্টফোন বা অ্যাপ ব্যবহার করে চাষাবাদে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মাটি পরীক্ষার জন্য পোর্টেবল যন্ত্র, মোবাইল অ্যাপ থেকে আবহাওয়ার আপডেট, এমনকি কৃষি পরামর্শও মিলছে এখন হাতের মুঠোয়। ফলে ফসল উৎপাদনের আগে থেকেই তারা জানেন কোন ফসল কবে লাগাতে হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, আর কখন ফসল ঘরে তুললে সর্বোচ্চ লাভ মিলবে।   সবুজ প্রযুক্তির আরও একটি বড় দিক হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে অধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির ক্ষতি হতো, কিন্তু এখন অনেকেই জৈব সার ও বায়োকন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নিরাপদ হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির উর্বরতাও বজায় থাকছে দীর্ঘমেয়াদে। এ ছাড়া সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিও অনেক অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা খরার সময়েও কৃষকদের সহায়তা করছে।   তবে এই পরিবর্তনের পথ এখনো সহজ নয়। অনেক কৃষক এখনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের দক্ষতা বা আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছেন না। স্মার্ট যন্ত্রের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন সমবায় ভিত্তিক ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।   এই বিপ্লব সফল করতে হলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে কৃষি প্রযুক্তি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা, কৃষকদের জন্য সহজলভ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিলে কৃষি আরও লাভজনক ও টেকসই হবে। স্মার্ট কৃষি শুধু কৃষকের জীবনে পরিবর্তন আনবে না, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ প্রযুক্তির এই বিপ্লবই হতে পারে আগামী দিনের নিরাপদ ও আধুনিক কৃষির ভিত্তি।

আশায় চাকরির সুযোগ, মাসিক বেতন ৩৩ হাজার টাকা
আশায় চাকরির সুযোগ, মাসিক বেতন ৩৩ হাজার টাকা

ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান আশা ‘হেলথ সেন্টার ইনচার্জ/মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই ডিপ্লোমা পাস হতে হবে। এক নজরে আশার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম আশা পদের নাম হেলথ সেন্টার ইনচার্জ/মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদসংখ্যা ৩ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী- পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা (মেডিকেল ফ্যাকাল্টি) অভিজ্ঞতা ২ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা ৩৩,০০০ টাকা বয়সসীমা ৩০ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন আশা। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

ব্র্যাক ব্যাংকে ম্যানেজার পদে নিয়োগ, লাগবে স্নাতক পাস
ব্র্যাক ব্যাংকে ম্যানেজার পদে নিয়োগ, লাগবে স্নাতক পাস

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ‘অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার/ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি বিভাগের নাম ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদের নাম অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার/ম্যানেজার পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ৩-৮ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা নির্ধারিত নয় সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

এসবিএসি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৫৫ বছরেও আবেদনের সুযোগ
এসবিএসি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৫৫ বছরেও আবেদনের সুযোগ

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি) ‘অফিসিয়াল ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই এমবিএ অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির (এসবিএসি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি) পদের নাম অফিসিয়াল ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ অথবা স্নাতকোত্তর অভিজ্ঞতা ১০ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ৫৫ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি)। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

ডেকো ফুডসে নিয়োগ, ২২ বছর বয়স হলেই আবেদন
ডেকো ফুডসে নিয়োগ, ২২ বছর বয়স হলেই আবেদন

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডেকো ফুডস লিমিটেড ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিবিএ/বিএসসি অথবা স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ডেকো ফুডস লিমিটেডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ডেকো ফুডস লিমিটেড বিভাগের নাম এমআইএস পদের নাম এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবিএ/বিএসসি অথবা স্নাতক অভিজ্ঞতা ১-২ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ২২-৩০ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ডেকো ফুডস লিমিটেড। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চুক্তিতে নিয়োগ, পদ ৫০০০
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চুক্তিতে নিয়োগ, পদ ৫০০০

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ই-জোন এইচআরএম লিমিটেড। আউটসোর্সিং চুক্তিতে মোট ৫০০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। চাকরির বিবরণ পদের নাম: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদসংখ্যা: ৫০০০ শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি/ সমমান ডিগ্রি থাকলে আবেদন করা যাবে।২ লাখ টাকার আইটি স্কলারশিপ, ডিগ্রি যা-ই হোক আবেদনের আছে সুযোগবেতন-ভাতা২৫,০০০-৪০,০০০ টাকা (শর্ত প্রযোজ্য)।নিয়োগের ধরনচুক্তিভিত্তিক (১৮ মাস)।কর্মস্থল৫৩ জেলায় ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে।আবেদনের নিয়মform.ezjobsbd.com লিংকে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করে আবেদন করতে হবে।আবেদনের শেষ তারিখ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়।

বদলির জন্য ১৩৬৭৭ শিক্ষকের আবেদন, এ সপ্তাহেই শুরু
বদলির জন্য ১৩৬৭৭ শিক্ষকের আবেদন, এ সপ্তাহেই শুরু

  বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে অনলাইন আবেদনের সময় শেষ হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় এ আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়। এতে ১৩ হাজার ৬৭৭ জন শিক্ষক বদলির আবেদন করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্র এ তথ্য জানায়। মাউশি কর্মকর্তারা জানান, শিগগির বদলির আবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এদিকে, শিক্ষকদের বদলি আবেদন শেষ হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি সপ্তাহেই শিক্ষকদের বদলি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আজ দেশে ফিরছেন। মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থা করা হবে। চলতি সপ্তাহ থেকে শিক্ষকদের এ বদলি শুরু হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন। তিনি উদ্বোধন না করলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে পারেন। এএএইচ/এসএনআর

শিশুরা হারিয়ে যায়, কেউ ফেরে কেউ ফেরে না
শিশুরা হারিয়ে যায়, কেউ ফেরে কেউ ফেরে না

বাবার হাত ধরে স্কুল থেকে ফিরেছিল সকাল। মসজিদের সামনে খেলতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি সাত বছরের শিশুটি। আট বছর পেরিয়ে গেলেও তার অপেক্ষায় পরিবার। আবার কার্টুন দেখতে দেখতে যাদব কখন যে বাড়ির বাইরে চলে গেছে, তা জানে না তার পরিবারের কেউ। অন্যদিকে মাহি রাগ করে ঘর ছেড়ে ১১ দিন পর নিজেই ফিরে এসেছে। তিনটি ঘটনা তিন রকম বাস্তবতা। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, শিশুরা নিখোঁজ হচ্ছে কেন, আর নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের কতজনের সন্ধান মিলছে? সকালের পরিবার জানিয়েছে, নিখোঁজের সময় সিসিটিভির ফুটেজে লাল জ্যাকেট পরিহিত দুজনকে তাদের ছেলেকে রিকশায় করে নিয়ে যেতে দেখা গেলেও দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও তারা আর সকালের খোঁজ পাননি। তারা দাবি করেন, ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে কী উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হতে পারে, সেই ব্যাখ্যা জানেন না সকালের বাবা ইসমাইল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। ছেলেকে ফেরাতে লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও এখন পর্যন্ত মুক্তিপণ চেয়ে কোনো ফোনও পাননি তিনি। এদিকে, গত ৩০ জুলাই প্রতিদিনের মতো ছেলে যাদবকে তার দাদুর কাছে রেখে ঢাকার সাভার এলাকার নিজ কর্মস্থলে গিয়েছিলেন পোশাকশ্রমিক অর্চনা রানী দাস। এর কিছুক্ষণ পর ফোনে জানতে পারেন ছেলে নিখোঁজের ঘটনা। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত এত খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান মেলেনি যাদবের। পরিবারের ভাষ্য, টিভি দেখতে দেখতে বাসার বাইরে বের হয়েছিল যাদব। তবে আর ফিরে আসেনি সে। যাদবকে কেউ নিয়ে গেছে, নাকি নিজে থেকে কোথাও চলে গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করতে পারেনি তার পরিবার। একই সঙ্গে মুক্তিপণের জন্যও কোনো ফোন পাননি তারা। পরিবারের ছোট সদস্যদের হারিয়ে যাওয়া এবং পুরোপুরি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ফলে প্রশ্ন তুলছেন, কোথায় হারিয়ে গেল তাদের স্বজন? আরও পড়ুন ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজের কারণ জানালো পুলিশ, এখনো উদ্ধার হয়নি ২ হাজার সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ হয়। তবে এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, তা উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি বলে জানায় পুলিশ সদর দপ্তর। শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়।  গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬৮ জন এখনো নিখোঁজ। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জায় পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবকে নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এছাড়া ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৩। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জন উদ্ধার হয়েছে এবং এক হাজার ৯৭০ জন এখনো নিখোঁজ। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বলছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, তা উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে পুলিশ বলছে, সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জন এখনো উদ্ধার হয়নি। আরও পড়ুন নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ চান স্বজনরা পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জায় পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবকে নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে। গত ৩০ আগস্ট ময়মনসিংহের আকুয়া পূর্ব নয়াপাড়া থেকে নিখোঁজ হয় ১৪ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহি। টানা ১০ দিন নিখোঁজ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও পরিবারের কেউই তার হদিস মেলাতে পারেননি। এরপর ১১তম দিনে নিজেই অবস্থান জানায় মাহি। ফিরে যায় বাড়িতে। মাহির পরিবারের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। পরিবার জানায়, ৩০ আগস্ট (রোববার) মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে দুই ভাইয়ের মনোমালিন্য হয়। এরপর মাহি রাগ করে ৫০ টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাত ৩টার ময়মনসিংহগামী ট্রেনে চড়ে পৌঁছে যায় রাজধানীর কমলাপুরে। বিভিন্ন হোটেলে ঘুরে একটি কাজ জোগাড় করে। সারারাত কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে সারাদিন ঘুমিয়ে পার করে অনেকটাই পরিবারের কথা ভুলে থাকত সে। পরে এভাবেই কেটে যায় ১১ দিন। পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। ১১ দিন পর গত ৯ সেপ্টেম্বর নিজে থেকেই বাড়িতে ফোন দিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানায় মাহি। এরপর তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি আমার কেসটা পিবিআইতে হ্যান্ডওভার করেন। সে সময় একটা মাত্র ক্লু—সিসিটিভির একটা ফুটেজ ছিল। যেখানে দেখা যাচ্ছিল আমার ছেলেকে দুজন রিকশায় বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের চেহারা দেখা যায় না। এরপর পিবিআইয়ের সিআইজি বিভিন্ন জায়গায় আমার মামলার তদন্ত হলেও ছেলেকে আর খুঁজে পাইনি। কী বলছে ভুক্তভোগী পরিবার ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি রাজধানীর লালবাগের খান মোহাম্মদ মসজিদ এলাকা থেকে হারিয়ে যায় ইসমাইল হাসানের ছেলে সকাল। সে সময় সকালের বয়স ছিল ৭ বছর। নিখোঁজ সকালের বাবা ইসমাইল হাসান রাজন বলেন, ‘খান মোহাম্মদ মসজিদের ওখানে আমার ছেলে খেলছিল। ওখানে লাল জ্যাকেট পরা একটা লোক আসছে। এসে বলছে, চলো তোমাকে ভিডিও গেমস খেলতে নিয়ে যাই। এই কথা বলে নিয়ে গেছে। আমি তখন বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। অন্য বাচ্চাদের কাছে শুনেছি। এর ঘণ্টাখানেক আগে আমি আমার ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসি। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্কুল ছুটি হয়েছে। এরপর আমি ওকে বাসায় নিয়ে আইসা, বাসায় ঘুমায় গেছি। ও (নিখোঁজ ছেলে) কী করছে, খাওয়া-দাওয়া কইরা প্রতিদিনের মতো ওই মসজিদের সামনে খেলতে যায়। ঠিক পৌনে ৫টায় হঠাৎ সবাই চিল্লাচিল্লি, কান্নাকাটি করে। এই সকালরে জানি কে নিয়ে গেছে—এভাবে চিল্লাপাল্লা করছে। পরে আমি দৌড়াইতে দৌড়াইতে গেছি। আমার বন্ধু যারা ছিল, তাদের দিয়ে চারদিকে হোন্ডা ছাড়ছি। কোনো জায়গায় পাইনি। পরে মাইকিং করা হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করছি, পাইনি। ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে ব্রেইন স্ট্রোক পর্যন্ত করেছি। স্ট্রোক করে এক সাইড পঙ্গু হয়ে গেছি। এখন আমি প্যারালাইজড রোগী।’ আরও পড়ুন শিশুরা হারিয়ে যাচ্ছে কোথায়, কেন? থানার সহযোগিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেসময় বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হয়েছিলেন। থানা সেই সময় ভিআইপি কেস নিয়ে ব্যস্ত ছিল। আমার কেসের উন্নতি না দেখে আমি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে গিয়ে আইজির সঙ্গে দেখা করি। সেই সময় আইজিপি ছিলেন জাবেদ পাটোয়ারী। তার সঙ্গে দেখা করি। তাকে সব বুঝিয়ে বললে তিনি আমার কেসটা পিবিআইতে হ্যান্ডওভার করেন। সে সময় একটা মাত্র ক্লু—সিসিটিভির একটা ফুটেজ ছিল। যেখানে দেখা যাচ্ছিল আমার ছেলেকে দুজন রিকশায় বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের চেহারা দেখা যায় না। এরপর পিবিআইয়ের সিআইজি বিভিন্ন জায়গায় আমার মামলার তদন্ত হলেও ছেলেকে আর খুঁজে পাইনি।’ পরিবারে স্ত্রী ও এক মেয়ে। মেয়ের বয়স ২১ বছর। আর নিখোঁজ ছেলের বর্তমান বয়স প্রায় ১৬ বছর। মেয়ে তেজগাঁও কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবার কীভাবে চলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষের সাহায্যে চলে। আমি একসময় কন্ট্রাক্টর ছিলাম। পরে আমার জমানো যা ছিল, আমার স্ত্রীর যত সোনা ছিল, সব বিক্রি করে ফকির-কবিরাজ-তান্ত্রিক—বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমি না গেছি। সে সময় আমার নগদ টাকা ছিল ২৭ লাখ টাকা। এই ২৭ লাখ টাকা শুধু ফকিরে খাইছে। এই ফকিরেই আজ আমারে রাস্তার ফকির বানিয়ে দিয়েছে। আজ আমরা টোটালি নিঃস্ব। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, এলাকার বড় ভাই-ছোট ভাই—সবার সহযোগিতায় আজ আমার সংসার চলে।’ গত ৩০ জুলাই রাজধানীর সাভার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় গার্মেন্টসকর্মী অর্চনা রানীর ছেলে যাদব কর্মকার (৫)। অর্চনা রানী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি একজন পোশাক শ্রমিক। গত জুলাই মাসের ৩০ তারিখ প্রতিদিনের মতোই অফিসে চলে যাই। এর দুই ঘণ্টা পরে আমার বাবা আমাকে ফোন দিয়ে বলে, মা, দাদুরে পাওয়া যাচ্ছে না। তা আমি কই, যাদবরে পাওয়া যাচ্ছে না। ও গেছে কই?’ আরও পড়ুন কাফরুলে শিশু অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার নারী কারাগারে ‘আমার বাবা আমার বাসায় আমার সঙ্গে থাকে। গরিব মানুষ আমরা। আমি ডিউটি করি, আর আমার বাবা ছেলেরে সঙ্গে সঙ্গে দেখে রাখে। আমি অফিসে গেলে আমার ছেলে নাকি বাবারে বলেছে, দাদু দোকানে যাব। তখন বাবা বলেছে, বৃষ্টি কমলে আমরা দোকানে যাব। তখন বাবা বলছে, তুমি আমার কাছে একটু ঘুমাও। এরপর আমার ছেলে নাকি বলছে, দাদু কার্টুন ছেড়ে দাও, আমি কার্টুন দেখি। এরপর বাবা কার্টুন চালিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে গেছে। এরপর ঘুম থেকে ফাল দিয়ে উঠে দেখে যাদব নেই। পরে আমি এসে কোনো খোঁজ না পেয়ে অটো নিয়ে পুরো এলাকায় মাইকিং করেও খোঁজ পাইনি।’ ‘পরে ওইদিন আবার থানায় গেছি। গিয়ে আমি সব বললাম। তখন তারা আমাকে বললো, ২৪ ঘণ্টা না গেলে জিডি নেবে না। পরে আমরা বললাম, একটা বাচ্চা মানুষ—২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে। পরে কী করব? জিডি নিলো না, চলে আসলাম। পরদিন গিয়ে জিডি করলাম। এই জিডি যার দায়িত্বে দিয়েছে, উনি যায়-আসে তদন্ত করে। আজ পর্যন্ত এটাই চলছে। কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।’—এই বলে কান্না করতে করতে ছেলের সন্ধান চান তিনি। কোনো সময় মুক্তিপণ চেয়ে ফোন এসেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো ফোন আসেনি।’ আগস্ট মাসের ৩০ তারিখ রোববার বনানী সৈনিক ক্লাব ফুটওভার ব্রিজে জুতা কিনতে গিয়ে বড় মেয়ে সাইবাকে (৪) হারিয়ে ফেলেন বিথী। বিথী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগস্ট মাসের ৩০ তারিখ রোববার বিকেল আনুমানিক ৫টা। আমি আমার মাইয়া দুইডারে লইয়া বিকালে সৈনিক ক্লাব ফুটওভার ব্রিজে জুতা কিনতে গেছিলাম। বড় মেয়ের জন্য জুতা কিনতে গেছি। ছোট মেয়ের বয়স ১ বছর। ও আমার কোলে। আর বড় মেয়ের হাতটা ছেড়ে জুতা দেখছি, দাম-দর করে জুতাটা কিনছি। এরপর পিছে তাকায় দেখি আমার মেয়ে নেই। ব্রিজের ওপর ছিলাম। সঙ্গে সঙ্গেই আমার মায়েডারে খুঁজছি, যে গেল কই। খুঁজে দেখি আশপাশের কোনো জায়গায় নেই। পায়ে হেঁটে যতটুকু খোঁজা যায়, সবটুকু খুঁজছি। আশপাশে যত জায়গা আছে, সব খুঁজে ফেলেছি।’ তিনি বলেন, ‘বনানীর সোসাইটিতে আমি কাজ করতাম। এরপর মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমার স্বামীকে ফোন দিয়ে বলেছি, সাইবার আব্বু, আমি তো সাইবারে পাইতেছি না। জুতা কিনতে গিয়ে হাতটা ছাড়ছি আর সাইবারে খুইজ্জা পাইতাছি না। এরপর সঙ্গে সঙ্গে ওর আব্বু চলে আসলো। আমরা দুজন মিলে অনেক খুঁজছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। পরে ৭টার দিকে থানায় গিয়ে কইলাম—স্যার, আমার মাইয়াটা হারায় গেছে। তখন স্যার বলে, তোমাদের বাচ্চা তোমরা খেয়াল রাখো না কেন? তোমাদের বাচ্চা হারায় গেছে, এইডা কি আমরা খুঁজে দিবো? তারপর বলে, ২৪ ঘণ্টার আগে জিডি নেওয়া হয় না। যাও, আরও খোঁজো।’ আরও পড়ুন গোসলে নেমে দুই রোহিঙ্গা শিশু নিখোঁজ, একজনের মরদেহ উদ্ধার ‘তারপর আমরা গিয়ে আবার সবদিকে অনেক খুঁজলাম। রাত ১০টার দিকে আবার থানায় গিয়ে বললাম—স্যার, এমন জায়গা বাদ নেই যে খুঁজিনি। পুরো বনানী হেঁটে হেঁটে খুঁজেছি, কিন্তু আমার মাইয়ারে তো পাইলাম না। এরপরও আমার জিডি নিলো না। আমি আমার আম্মুরে ফোন দিলাম—আম্মু, আমার মাইয়াডা হারায় গেছে। থানাতো জিডি নিতেছে না। পরদিন সকালেই আম্মু চলে আসছে। এসে আমার সঙ্গে থানায় গিয়ে অনেক অনুরোধ করার পরও জিডি নিলো না। পরে আম্মু এক ম্যাডামরে ধরছে। আম্মু ম্যাডামরে সবকিছু বুঝাইয়া বললো। পরে বড় ওসির সঙ্গে কথা বইলা জিডির অনুমোদন করায় দিলো। পরে ওইদিনও জিডি হলো না। কইলো, আজকে সার্ভারের সমস্যা। আপনারা কালকে আসেন। পরদিন মঙ্গলবার আবার গেলাম। আমার মাইয়া হারাইছে রোববার আর মঙ্গলবার ৩টায় জিডিটা হাতে দেছে।’ মহিলা পরিষদের উদ্বেগ এদিকে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সম্প্রতি শিশু নিখোঁজ ও গুম হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের নিখোঁজ ও গুম হওয়ার ঘটনা ঘটছে। নিখোঁজ শিশুদের কেউ কেউ বাড়ির সামনে খেলা করতে গিয়ে, স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে, বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের প্রলোভনের শিকার হয়ে, অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হচ্ছে। চলতি বছর সাত মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশু নিখোঁজ ও গুম হয়ে যাওয়ার ঘটনা আতঙ্কজনক। উদ্বেগজনকভাবে শিশু নিখোঁজ বেড়ে যাওয়া সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা তৈরি করছে এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সূচক তৈরি করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা শিশু কোনো পাচার চক্রের শিকার হচ্ছে কি না বা কোনো অসাধু অপরাধজগতে পা রাখছে কি না, তা নিয়ে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আকস্মিকভাবে শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছে। আরও পড়ুন নিখোঁজের পাঁচদিন পর ২ বছরের শিশু উদ্ধার নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজের সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান সরকারকে এ নোটিশ দেন। এই সাত মাসে যত শিশু অপহরণ হয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগ হয়েছে জয়পুরহাটে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে অপহৃত শিশুদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ জয়পুরহাটের। আমাদের যে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার আছে, তারা তাদের বাড়ি গিয়েছে। তাদের বাবা-মায়ের কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছে। অধিকাংশই বলেছে, আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। নোটিশে সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে শিশু নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধ, নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধার, কেন্দ্রীয় মিসিং চিলড্রেন ডেটাবেজ/পোর্টাল প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট সিস্টেম চালুসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। অপহরণের চেয়ে নিখোঁজ বেশি শিশু নিখোঁজের বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অপহরণের চেয়ে নিখোঁজের সংখ্যাটা বেশি। এমন অপহরণ আবার হচ্ছে না যে ওদের কাছ থেকে মুক্তিপণ চাচ্ছে।’ ‘অনেকেই সন্তান নিখোঁজ হলে জানায় না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সাত মাসে যত শিশু অপহরণ হয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগ হয়েছে জয়পুরহাটে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে অপহৃত শিশুদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ জয়পুরহাটের। আমাদের যে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার আছে, তারা তাদের বাড়ি গিয়েছে। তাদের বাবা-মায়ের কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছে। অধিকাংশই বলেছে, আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। জয়পুরহাটের কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে চায়নি। বলে, আমাদের শিশু নিখোঁজ হয়েছে, আমরা কাউকে বলিনি, থানায় যাইনি—আপনারা কেন আমাদের ঝামেলা করছেন।’ তিনি বলেন, ‘যদি আইনি ঝামেলা বা জিডি করতে গিয়ে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের বললে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ শিশু ও কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাদিয়া আফরিন জাগো নিউজকে বলেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে মতপার্থক্য বা দ্বন্দ্ব, স্কুলে বুলিং এবং পারিবারিক পরিবেশে সমস্যা থাকলে অনেক সময় এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ বা দাম্পত্য কলহের কারণেও শিশুরা আবেগীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। তখন রাগ বা আবেগের বশে হঠাৎ বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে চলে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, আচরণগত সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক সময় শিশুরা এতটাই আবেগপ্রবণ ও সিদ্ধান্তে আবেগনির্ভর হয়ে পড়ে যে, বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই বাসার বাইরে চলে যায়। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পরিবারে যতটা নিরাপদ, বাইরের জগৎ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এ বিষয়ে যথেষ্ট পরিপক্বতা থাকে না। ফলে তাদের সহজেই ফুসলিয়ে কোথাও নিয়ে যাওয়া বা অপহরণ করা সম্ভব হয়। ডা. সাদিয়া আফরিন বলেন, শিশু অপহরণ বা তাদের শিশুশ্রমে নিয়োজিত করা বড় ধরনের অপরাধ। তাই পরিবারে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের আবেগীয় ও সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে বাবা-মায়ের সচেতন থাকা জরুরি। রাগের সময় ‘বাসা থেকে বের হয়ে যা’, এ ধরনের কথা বলা থেকেও অভিভাবকদের বিরত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিশু হঠাৎ চুপ হয়ে গেলে, অতিরিক্ত রাগারাগি করলে বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে অভিভাবকরা সচেতন হয়ে তাদের বোঝার চেষ্টা করলে রাগের বশে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় অনুমতি ছাড়া বাইরে থাকার প্রবণতা কমানো সম্ভব। কেআর/এসএইচএস/এমএফএ

যাত্রাবাড়ীতে চার ছিনতাইকারী গ্রেফতার
যাত্রাবাড়ীতে চার ছিনতাইকারী গ্রেফতার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. রনি (২৯), মো. হৃদয় গাজী (২৬), রহিম হাসান ওরফে ইয়াহিয়া (২৫) ও মোহাম্মদ ফয়সাল (২৬)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। আরও পড়ুন মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেআর/বিএ

নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার ৮ জন রিমান্ডে
নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার ৮ জন রিমান্ডে

রাজধানীর উত্তরখানে একটি অটো গ্যারেজে গোপনে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার আটজনকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের সদস্য সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা যাচাই এবং নাশকতার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন নাশকতার পরিকল্পনা: আওয়ামী লীগের আরও ২২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- মো. মাজহারুল ইসলাম ওরফে রায়হান (৩২), মো. রাকিব (২৩), মো. তানভীর খান (২৬), মো. আবদুর রহমান (৪০), মো. সিফাত (২০), মো. মাহফুজুর রহমান (২৪), মো. আশিক মিয়া (২৩) ও মো. বকুল আহমেদ ওরফে রাজু (২৪)। যেসব কারণে রিমান্ড মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরখান থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে উসকানিদাতা বা পৃষ্ঠপোষকদের নাম-ঠিকানা বের করার জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তবে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার দিপু রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরও পড়ুন গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ২৫ জন রিমান্ডে মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার রাতে উত্তরখানের পুরানপাড়ার একটি অটো গ্যারেজে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য একত্রিত হন। সেখানে তারা সরকার ও সাধারণ মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ওই অটো গ্যারেজে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে সেখানে থাকা আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তরখান থানার এসআই মো. জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এমডিএএ/ইএ

ঢাকায় এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা
ঢাকায় এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। রোববার বিকেলে বাংলামোটরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সভায় ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা নিরসন, ‘জুলাই শহীদদের’ পরিবারের পাশে থাকা এবং ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের’ তৎপরতা প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ১১ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত এক ছাত্র
সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ১১ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত এক ছাত্র

রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম অমিত ঘোষ (১৬)। সে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার উচ্চমাধ্যমিকের (দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্কুলটির শিক্ষকরা। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, রোববার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় সে। উপুড় হয়ে পড়ায় তার নাক-মুখ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সেখান থেকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মালিবাগ ক্যাম্পাসের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মাধ্যমের দিবা শাখার অভিভাবকদের গ্রুপে গণিতের শিক্ষক গোপাল দেবনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী anime নামক মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে আজ ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। সে সুইসাইড নোট রেখে গেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’ বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষক গোপাল দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে লাফ দিয়েছে, এটুকুই শুনেছি। কিন্তু সে লাফ দিয়েছে, নাকি পড়ে গেছে তা জানি না। আর তার ব্যাগে নাকি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সবই শুনেছি। আমি কিছু দেখিনি।’ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক শাকিলা আক্তার দীপা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের একটি ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের একটা ছেলে নিজে নিজেই লাফ দিয়েছে। সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে ওর ব্যাগে। সঙ্গে সঙ্গে ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন ওর কী অবস্থা তা বলতে পারছি না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সামনেই ঘটনাটা ঘটেছে। এখনো আমার হাত-পা কাঁপছে। স্থির হতে পারছি না। একদম মুখ-চোখ থেতলে গেছে। ছেলেটা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠুক সেই দোয়া করি।’ এদিকে, সুইসাইড নোটে অমিত ঘোষ কী লিখে গেছে, তা জানা যায়নি। তবে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক জানিয়েছেন, ছেলেটা পড়ালেখার চাপের কথা সুইসাইড নোটে লিখে গেছে। তবে কেউ কেউ বলছে, সুইসাইড নোট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। স্কুলের দুজন শিক্ষক বলেন, ৬ নম্বর ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ১১ তলার ছাদ খোলা। সেখানে এখনো কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়া নিষেধ। তারপরও কেন অমিত ঘোষ সেখানে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম, উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনকল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অমিত ঘোষের পরিবারের একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, সকালে আহত শিক্ষার্থী অমিত ঘোষকে ঢামেকে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢামেক থেকে তার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।  এএএইচ/এমকেআর

ওসমানীনগরে ত্রাসের রাজত্ব ইউএনও মুনমুনের.
ওসমানীনগরে ত্রাসের রাজত্ব ইউএনও মুনমুনের.

  সিলেটের ওসমানীনগরে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা। তার একের পর এক বিতর্কিত ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। ‘আপা’ সম্বোধন করায় জরিমানা করাসহ ক্ষমতার অপব্যবহার, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ওসমানীনগরে যোগদানের পর থেকেই ৩৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বছরজুড়ে আলোচিত ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ‘আপা’ সম্বোধন করায় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের ওসমানীনগর শাখার এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আলোচনায় আসেন ইউএনও মুনমুন। এ ঘটনার পর তার কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মচারী আব্দুল মান্নানের দাবি, ইউএনও মুনমুনকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ভয় দেখিয়ে ওই জরিমানায় স্বাক্ষর করানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে গত বুধবার আমার দেশ অনলাইনে ‘ইউএনওকে আপা সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর থেকে ঘটনাটি আড়াল করতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে শুরু করেন ইউএনও মুনমুন। গত বৃহস্পতিবার সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউএনও মুনমুন। নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করেন। সংবাদ সম্মেলনে বনফুলের কর্মচারীকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের করা গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি। অভিযানে নিজের ছয় বছরের শিশু কন্যাকে সঙ্গে নেওয়ার বৈধতা, বনফুলের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কর্মচারীর স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি ইউএনও মুনমুন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পকের অধীন উপজেলার ৫৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ কেন্দ্রে ছয়টি করে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশন ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় । কিন্তু ওই টাকা বণ্টন না করে আত্মসাৎ করেন ইউএনও মুনমুন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক শতাংশ বরাদ্দ খাত থেকে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অথচ প্রকৃত সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী ব্যয় হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ গোপন রেখে ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল উত্তোলন করা হয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দ্রুত বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে ক্যামেরা স্থাপন শুরু করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি তাজপুর বাজারে একটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউএনওর স্বামীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ’-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে। সিসিটিভি প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ফলে উচ্চ আদালতে চলমান রিট মামলা থাকা অবস্থায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ওসমানীনগর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে বেআইনি এবং বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী দাবি করে কবির আহমদ গত ১২ মে পুনরায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে পরিষদের রাজস্ব খাতে একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি গাড়ি মেরামতের নামে ৯৬ হাজার টাকা, উপজেলা পরিষদ ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা ক্রয় ও মেরামতের নামে ৭৩ হাজার টাকা, বাংলোর পানির পাম্প মেরামত ও স্থাপনে ৭২ হাজার টাকা এবং ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্লান্ট সংযোজন বাবদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব প্রকল্পে আংশিক কাজ বা কোনো কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত ‘আয়ান এন্ড ইয়াকুব বিরিয়ানি হাউজে’ সরকারি চাল মজুত রয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিপন রায় প্রাথমিকভাবে চালগুলো জব্দ করেন। পরদিন ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ওই প্রতিষ্ঠানে ইউএনও মুনমুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সরকারি ১২০ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মাছুম আবির ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় চাল ক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। আদালত যাচাই-বাছাই শেষে চালের বৈধতা স্বীকার করে দ্রুত বাজারজাত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চাল বৈধ ঘোষণা করার পরও ফুডগ্রেইন (খাদ্যশস্য) সনদ না থাকার অভিযোগে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আল মাছুম আবির অভিযোগ করেন, ইউএনওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার কারণেই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে আল মাছুম আবির ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রায় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এ সময় ইউএনও তার বিরুদ্ধে আগের মানববন্ধনের প্রসঙ্গ তুলে রায় পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানান। এর আগে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে একটি রিট মামলা চলমান থাকাবস্থায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ইউএনওর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর একই ধরনের প্রক্রিয়ায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে আন্দালন করে কোনো লাভ হয়নি। এদিকে, গত ৩ এপ্রিল রাতে উপজেলার তাজপুর বাজারে বারণী মেলার নামে অবৈধভাবে র‌্যাফেল ড্র বিক্রির অভিযোগে ভাড়ায় কাজ করা লিপন আহমদ নামে একজনকে তিন দিনের কারাদণ্ড দেন ইউএনও মুনমুন। একই সঙ্গে প্রচারকাজে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত টমটম ও মাইক জব্দ করা হয়। অথচ পরদিন ৪ এপ্রিল তাজপুর বাজারে জনসম্মুখে ওই লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দ করা টমটম, মাইক ও টিকিট বই পরদিন আয়োজকরা ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেন। আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভাড়ায় কাজ করা ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ায় ইউএনওর রায় নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বিভাগীয় কমিশনার অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে অনেকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তিন বছরের মধ্যে প্রথম ব্যাংক সুদের হার বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র
তিন বছরের মধ্যে প্রথম ব্যাংক সুদের হার বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র

তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির লাগান টানার লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ'। আগামীতে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ঘুমের সময় সঙ্গীর নাক ডাকা যেভাবে আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে
ঘুমের সময় সঙ্গীর নাক ডাকা যেভাবে আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে

নাক ডাকেন এমন কারো পাশে ঘুমানো আপনার স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে- বিবিসিকে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পত্রিকা: 'একই শহরে একই কোম্পানির ৩ মেট্রো প্রকল্প, তবু খরচে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য'
পত্রিকা: 'একই শহরে একই কোম্পানির ৩ মেট্রো প্রকল্প, তবু খরচে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য'

চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা কম; কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কঠোর নির্দেশনা; কলেজগুলোয় বিপুল পরিমাণ আসন খালি— এ সংক্রান্ত খবর গুরুত্ব পেয়েছে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।

স্বর্ণের দাম কি আরও কমতে পারে?
স্বর্ণের দাম কি আরও কমতে পারে?

২০২৬ সালের শুরুর দিকে স্বর্ণের দাম সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ হয়েছিল। এরপর থেকেই ঘন ঘন ওঠানামার মধ্যেও গত কয়েক সপ্তাহে মূল্যবান এই ধাতুর দামে নিম্নমুখী প্রবণতাই দেখা গেছে। ফলে ভবিষ্যতে সোনার দাম আরও কমতে পারে কি না, নাকি আবার বাড়বে- এই প্রশ্ন সামনে আসছে।

ছবিতে দেখা গেলো ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোয় ব্যাপক ক্ষতির চিত্র
ছবিতে দেখা গেলো ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোয় ব্যাপক ক্ষতির চিত্র

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমান বাহিনীর একটি বিধ্বস্ত বিমান ও ধ্বংসপ্রাপ্ত সব ভবনের ছবি।

মসজিদ ভাঙা নিয়ে কী হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশে?
মসজিদ ভাঙা নিয়ে কী হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশে?

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে কালেক্টরেট কমপ্লেক্সের মধ্যে একটা মসজিদ ছিল যা সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি ওই মসজিদ শতাব্দী প্রাচীন। প্রশাসনের দাবি সরকারি জমির উপর অবৈধভাবে তা নির্মাণ করা হয়েছিল।

শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে?
শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন: শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে? উত্তর: নামাজের শেষ বৈঠকে দরুদ দুইবার পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। তবে দরুদ একবার পড়াই নিয়ম। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা যাবে না। ভুলে হলে অসুবিধা নেই। বৈঠক বা হাঁটুগেড়ে বসা নামাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নামাজের প্রতি দুই রাকাত পর বৈঠক করতে হয়। দুই রাকাতবিশিষ্ট নামাজের শেষে বৈঠক করা ফরজ, চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের প্রথম দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ওয়াজিব এবং শেষের বৈঠক ফরজ। নামাজের প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া সুন্নত। আরও পড়ুন অপ্রয়োজনে গলা খাঁকারি দিলে কি নামাজ ভেঙে যাবে? চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুআকক্কাদা নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পরে আর কিছু পড়া যায় না। কেউ যদি ভুল করে এ সব নামাজের প্রথম বৈঠকে দরুদ বা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। তবে চার রাকাতবিশিষ্ট নফল নামাজের প্রথম বৈঠকে দরুদ শরিফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া যায়; বরং ফকিহরা চার রাকাতবিশিষ্ট নফল নামাজের প্রথব বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ ও দুআয়ে মাসুরা পড়া উত্তম বলেছেন। তাই কেউ যদি নফল নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ইচ্ছাকৃত বা ভুল করে দরুদ বা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ফেলে, তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। অর্থ ও উচ্চারণসহ দরুদে ইবরাহিমি اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ। অর্থ: হে আল্লাহ! উম্মি নবি মুহাম্মাদের ওপর এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিমের ওপর এবং ইবরাহিমের পরিবারের ওপর। উম্মি নবি মুহাম্মাদ ও তার পরিবারকে বরকত দান করুন, যেমন ইবরাহিম ও তার পরিবারকে বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। (সুনানে দারাকুতনি) আরও পড়ুন শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেলে কসর নামাজ পড়তে হবে? ওএফএফ

যত হাসি তত কান্না বলেছেন রামসন্না, কে ছিলেন এই ‘রামসন্না’?
যত হাসি তত কান্না বলেছেন রামসন্না, কে ছিলেন এই ‘রামসন্না’?

‘যত হাসি তত কান্না, বলে গেছে রাম সন্না’ বাংলা ভাষায় বহুল পরিচিত একটি প্রবাদ। কারো জীবনে যখন অতিরিক্ত আনন্দ আসে, তখন বয়স্করা অনেক সময় সতর্ক করে বলেন, ‘বেশি হাসতে নেই, যত হাসি তত কান্না।’ কথাটির মধ্যে রয়েছে জীবনের সুখ-দুঃখের ওঠানামার একটি সহজ দর্শন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই রাম সন্না আসলে কে? সত্যিই কি এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন, যিনি এই কথা বলে গিয়েছিলেন? রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত পরিচয় হলো তিনি ছিলেন রামশংকর শর্মা। তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। রামশংকর শর্মা নামে এমন একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন এবং তার জীবনী ‘আত্মচরিত’ নামে একটি বই লিখেছিলেন এমন একটি কাহিনি বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় গোয়েন্দা উপন্যাসে পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাধীন ঐতিহাসিক সূত্রে এই ব্যক্তির জীবন ও প্রবাদটির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ সহজে পাওয়া যায় না। আরও পড়ুন নেতারও ছাড় নেই, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ঠান্ডা পানিতে চুবানো হয়! রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত গল্পটি পাওয়া যায় কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের কর্নেল সিরিজের ‘বলে গেছেন রাম সন্না’ বইয়ে। সেখানে কর্নেল নীলাদ্রি সরকার রাম সন্নার পরিচয় হিসেবে ‘রামশংকর শর্মা’ নামটি উল্লেখ করেন। বইয়ের কাহিনি অনুযায়ী, রামশংকর অল্প বয়সে বাড়ি ছেড়ে জাহাজে সি-বয়ের চাকরি নেন। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। জীবনের শেষদিকে নদিয়ার একটি গ্রামে ফিরে এসে নিজের পৈতৃক ভিটায় বড় বাড়ি তৈরি করেন। সেই কাহিনিতে আরও বলা হয়েছে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় রামশংকর গোপনে বিদ্রোহীদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এ কারণে ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে তার বিচার হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়। ফাঁসির সেলে থাকার সময় তিনি নিজের জীবনী ‘আত্মচরিত’ লিখেছিলেন বলেও উপন্যাসে উল্লেখ রয়েছে। পরে তার ভাই শ্যামশংকর সরকারের অনুমতি নিয়ে বইটি প্রকাশ করেন। শুনতে অনেকটা ইতিহাসের গল্পের মতো হলেও সমস্যা হলো, এই তথ্যগুলোর বড় অংশই পাওয়া যায় কথাসাহিত্যের ভেতরে। ফলে উপন্যাসে বর্ণিত ঘটনাগুলোকে সরাসরি ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। এমনকি রাম সন্নার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে যেসব লেখালেখি হয়েছে, সেখানেও এই তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আরও পড়ুন ৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে তাহলে প্রবাদটি এলো কীভাবে? এখানেও নিশ্চিত ইতিহাসের বদলে লোকমুখে প্রচলিত ভাষার বিবর্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। বাংলার লোকজ প্রবাদে কোনো একটি কথা অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে প্রচলিত হয়ে যায়। সেই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় সময়ের সঙ্গে অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। ‘রাম সন্না’ও তেমন কোনো লোকচরিত্র বা প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে থাকতে পারেন। প্রবাদটির মূল বক্তব্য অবশ্য বেশ পরিষ্কার। জীবনে যেমন আনন্দ আছে, তেমনি দুঃখও আছে। অতিরিক্ত আনন্দের পর হতাশা আসতে পারে, সুখের সময়ের পর কঠিন সময়ও আসতে পারে। তাই কথাটি মূলত মানুষকে জীবনের উত্থান-পতন সম্পর্কে সচেতন করে। অর্থাৎ ‘যত হাসি তত কান্না’ কথাটি আক্ষরিক অর্থে যতবার হাসা হবে, ঠিক ততবার কাঁদতে হবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক বা গাণিতিক নিয়ম নয়। এটি জীবনের ভারসাম্য ও অনিশ্চয়তার একটি রূপক ব্যাখ্যা। বাংলা সাহিত্যেও এই প্রবাদের ব্যবহার বেশ পুরোনো ও পরিচিত। হুমায়ূন আহমেদের ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে ‘যত হাসি তত কান্না, কহে গেল রাম সন্না’ এই ছন্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রবাদটি শুধু মুখে মুখে নয়, বাংলা কথাসাহিত্যের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছে। আহসান হাবীবও তার একটি বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘যত হাসি তত কান্না বলে গেছে রাম সন্না’। বইটির নামের মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, রাম সন্না নামটি বাংলা সংস্কৃতিতে কতটা পরিচিত একটি প্রবাদপ্রতিম চরিত্রে পরিণত হয়েছে। তবে তিনিও রাম সন্নার নিশ্চিত ঐতিহাসিক জীবনী তুলে ধরেছেন এমন প্রমাণ নেই। আরেকটি মজার বিষয় হলো, ‘রাম সন্না’ নামটি নিয়েও ভিন্নতা দেখা যায়। কোথাও ‘রাম সন্না’, কোথাও ‘রাম সন্যা’, আবার কোথাও রামশংকর শর্মার সঙ্গে নামটি যুক্ত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুখে মুখে চলতে চলতে প্রবাদের শব্দ ও চরিত্রের পরিচয়েও পরিবর্তন এসেছে। আরও পড়ুন সিলেটের আছে নিজস্ব বর্ণমালা, ঐতিহ্য ফিরছে সাইনবোর্ডে তবে এই প্রবাদের জনপ্রিয়তার আসল কারণ সম্ভবত রাম সন্নার পরিচয় নয়, বরং কথাটির সহজ জীবনদর্শন। মানুষ আনন্দের সময় যেমন ভবিষ্যৎ ভুলে যায়, তেমনি দুঃখের সময়ও মনে হয় এই পরিস্থিতি বুঝি আর শেষ হবে না। ‘যত হাসি তত কান্না’ সেই দুই অবস্থার মাঝখানে দাঁড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় জীবন কখনো একই রকম থাকে না। তাই রাম সন্না সত্যিই ইতিহাসের কোনো ব্যক্তি ছিলেন, নাকি লোককথা ও সাহিত্যের হাত ধরে তৈরি হওয়া এক প্রবাদপ্রতিম চরিত্র তার নিশ্চিত উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। রামশংকর শর্মা সম্পর্কিত কাহিনির উল্লেখ থাকলেও সেটিকে ঐতিহাসিক সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করার মতো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার পরিচয় যতই অস্পষ্ট হোক, বাংলা ভাষার প্রবাদে রাম সন্না বেশ পরিচিত। আর তার নামে চালু হওয়া একটি ছোট্ট বাক্য আজও বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয় জীবনে যেমন হাসি আছে, তেমনি কান্নাও আছে। কেএসকে

আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ, সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি
আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ, সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি

  আজ মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক পবিত্র স্থান পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে সুশোভিত হবে। এ উপলক্ষে দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত যত্ন, শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে, যা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও কাবা শরিফ ধৌতকরণ কার্যক্রম সুপরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রস্তুতি পর্বে সকল প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ধৌতকরণ ও সুগন্ধিকরণের জন্য বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এ মিশ্রণে ব্যবহার করা হয় ১৫ লিটার পবিত্র জমজমের পানি, ১৫ লিটার তাইফের গোলাপ পানি, ১৫ লিটার গোলাপ তেল এবং ১০০ মিলিলিটার উৎকৃষ্ট মানের উদ (আগর) তেল। এ ছাড়া ধৌতকরণ চলাকালে কাবার গিলাফ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দরজার আবরণের নিচের অংশ সতর্কতার সঙ্গে উপরে তুলে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় মূল ধৌতকরণ পর্ব। বিশেষভাবে প্রস্তুত করা কাপড়ের সাহায্যে জমজমের পানি ও তাইফের গোলাপ পানির মিশ্রণ দিয়ে কাবা শরিফের অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ এবং মেঝে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। সবশেষে সুগন্ধিকরণ ও ধূপন পর্ব। এ সময় কাবা শরিফের ভেতরের দেয়াল ও কোণাগুলো উৎকৃষ্ট মানের উদ তেল ও আম্বর দিয়ে সুগন্ধিত করা হয়। পরে মনোমুগ্ধকর সুগন্ধি ও ধূপের সুবাসে কাবার অভ্যন্তর ভরে ওঠে। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে নতুন আবেগ ও ভালোবাসার সঞ্চার করে। দুই পবিত্র মসজিদের সাধারণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ ও সরঞ্জাম আগেভাগেই সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশুদ্ধতা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করেই সম্পন্ন করা হবে কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই আধ্যাত্মিক আয়োজন

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ বাংলাদেশি
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ বাংলাদেশি

  পবিত্র হজ পালন শেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ৬৪ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। এ বছর হজ করতে গিয়ে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (২৪ জুন) হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ৮৮০ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

বেধড়ক পিটুনিতে ইংল্যান্ড দলে পিটারসেনকে বরণ করলেন ব্রুক
বেধড়ক পিটুনিতে ইংল্যান্ড দলে পিটারসেনকে বরণ করলেন ব্রুক

৪৯ বলে ১১৪*। সেঞ্চুরিটা এসেছে ৪২ বলে—ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম। গতকাল রাতে ব্রুকের দুর্দান্ত এ সেঞ্চুরিতে সাউদাম্পটনে তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১১৯ রানে হারায় ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড যেখানে করেছে ২৫৪ রান, শ্রীলঙ্কা সেই উইকেটেই গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৩৫ রানে।দুর্দান্ত এ ইনিংসে ইংলিশ কিংবদন্তি কেভিন পিটারসেনকে বরণ করে নিয়েছেন ব্রুক। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে জমে থাকা মান-অভিমান ভুলে এই সিরিজে ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেবে ইংল্যান্ড দলে যোগ দিয়েছেন পিটারসেন।ব্রুক যে এমন বেধড়ক পিটুনি দিতে পারেন, সেটা পিটারসেন ভালো করেই জানেন। তিনিও আগে ব্রুকের প্রশংসা করেছেন। তবে এবার হয়তো প্রথমবার দেখলেন ড্রেসিংরুম থেকে। প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে মেন্টর পিটারসেনপিটারসেনের সঙ্গে এমনিতেই ব্রুকের নামটা জুড়ে আছে বেশ কিছুদিন। কে বেশি প্রতিভাবান, পিটারসেন নাকি ব্রুক, এই আলোচনাও নতুন নয়। এ প্রশ্নের উত্তর ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস কাল নিজের মতো করে এক্সে দিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার তো মনে হয় না, কেভিন পিটারসেনের মতো জিনিয়াসও প্রতিভার দিক থেকে হ্যারি ব্রুকের ধারেকাছে আসতে পারে।’আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩২ সেঞ্চুরি করা পিটারসেনকে ব্রুক ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কি না, সে রায় এখনই দেওয়া ঠিক হবে না। সেটা সময়ই বলবে। তবে ব্রুক পথেই আছেন, সেটা বলা যায়। ২৭ বছর বয়সী ব্রুকের সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৫। সংখ্যাটা আরও বেশি থাকত। কিন্তু সেঞ্চুরির পরোয়া করে ব্রুক সাধারণত খেলেন না। সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেই এক ইনিংসে ৯১ রানে আউট হন। এরপরও চলতি সময়ে ব্রুককে সব সংস্করণ মিলিয়ে দুনিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান বিবেচনা করেন অনেকেই। সেটা এমনি এমনি নয়। সামর্থ্যই তার প্রমাণ। যেমন ধরুন, শ্রীলঙ্কার বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দেওয়া ব্রুকই আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ব্যাটসম্যান।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে লম্বা ক্যারিয়ার কারব্রুকের প্রশংসায় জস বাটলারকেও ভুলে যাওয়া যাবে না। কাল ৪৪ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন। এ মাঠেই সর্বশেষ জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১৩১। বাটলার করেছেন ৮০ রান, সেই পথে খেলছেন রিভার্স সুইপমানে শেষ দুই টি-টুয়েন্টিতে বাটলারের ব্যাট থেকে এসেছে মোট ২১১ রান। মজার ব্যাপার, চলতি বছর টি-টুয়েন্টিতে এ দুটি ম্যাচের আগে খেলেছেন ১৪ ম্যাচ, রান মাত্র ২১২। বাটলারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপও কেটেছে জঘন্য। অনেকে তো ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের শেষটাই দেখেছিলেন। বাটলার আপাতত এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছেন।শুধু তা–ই নয়, রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে গতকাল আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন বাটলার। ১৫১ ইনিংসে ৪২৩১ রান করা রোহিত এখন তৃতীয়, ১৪৮ ইনিংসে ৪২৯২ রান করা বাটলার দ্বিতীয়। ১৩৬ ইনিংসে ৪৫৯৬ রান নিয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের বাবর আজম।কাউন্টিতে এবার খালেদের ৫ উইকেট

ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগের অপেক্ষায় হকির মেয়েরা
ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগের অপেক্ষায় হকির মেয়েরা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরুর পর এবার আরও বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ নারী হকি দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে জাপানে পৌঁছেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে দেশের নারী হকিতে যোগ হতে যাচ্ছে নতুন এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। চলতি বছরের এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অভিষেক হয় বাংলাদেশ নারী দলের। অভিষেকেই দারুণ সাফল্য পায় তারা। বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়ে হকির মেয়েরা। সেই ঐতিহাসিক অর্জনের ধারাবাহিকতায় এখন জাপানে বাংলাদেশের নারী হকি দল। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে প্রথমবারের অংশগ্রহণই দলটির জন্য বিশেষ এক মাইলফলক। প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের নারী হকির ইতিহাসে যুক্ত হবে নতুন একটি অধ্যায়। দলের একটি বড় অংশ অবশ্য আগেই জাপানে পৌঁছেছে। চীনে অনুষ্ঠিত জুনিয়র এশিয়া কাপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের ১৩ জন খেলোয়াড় ছিলেন জাতীয় দলের সদস্য। চীন থেকে তারা সরাসরি জাপানে গেছেন। বাকি খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টরা ঢাকা থেকে জাপানে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পাওয়ায় প্রত্যাশার পাশাপাশি রয়েছে চ্যালেঞ্জও। এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন হলেও গত কয়েক মাসে পাওয়া অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। নারী হকির বিকাশে বাংলাদেশের জন্য এই অংশগ্রহণ তাই কেবল একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়ার উপলক্ষ। ইতিহাস গড়ার পর এবার ইতিহাসের মঞ্চে নিজেদের গল্প লেখার অপেক্ষায় লাল-সবুজের হকির মেয়েরা। এশিয়ান গেমস হকির নারী বিভাগে ১২ দেশ দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। বাংলাদেশ পড়েছে ‘এ’ গ্রুপে। অন্য ৫ দেশ হচ্ছে-চীন, চাইনিজ তাইপে, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তান। আরআই/আইএন

শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের
শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের

নিজের টেনিস কেরিয়ারের সম্ভবত সেরা বছর কাটালেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। ফরাসি ওপেনের পর এবার ইউএস ওপেনও জিতলেন তিনি। টুর্নামেন্ট খেলতে নামতে পারেননি ইয়ানিক সিনার। চোট সারিয়ে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়েন কার্লোস আলকারাজ। প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যান নোভাক জকোভিচ। সেই সুযোগ কাজে লাগালেন জভেরেভ। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটনকে চার সেটের লড়াইয়ে (৬-৩, ৭-৬, ৫-৭, ৬-২) হারালেন জার্মান তারকা। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন জভেরেভ। চলতি বছর ফরাসি ওপেন জিতেছেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেছেন। বছরের শেষটা করলেন ইউএস ওপেন জিতে। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন এই জার্মান তারকা। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে শুধু শেলটন নন, ২৪ হাজার দর্শকের সিংহভাগের বিরুদ্ধে খেলতে হল জভেরেভকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘরের ছেলে শেলটনকে সমর্থন করে গেলেন দর্শকেরা। তাতে লাভ হলো না। একমাত্র তৃতীয় সেটের শেষ দিক ছাড়া শেলটনের খেলায় সেই ঝাঁঝ দেখা গেল না। প্রথম গেমেই শেলটনের সার্ভিস ভাঙেন জভেরেভ। সেই থেকে শুরু। একবার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভাঙার পর সেই সেটে আর তাকে থামানো যায়নি। আরও এক বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সহজেই প্রথম সেট নিজের নামে করেন জভেরেভ। শেলটন বাঁ-হাতি। সাধারণত বাঁ-হাতিদের সামনে ডানহাতিরা একটু হলেও সমস্যায় পড়েন। কিন্তু শেলটন প্রথমবার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনাল খেলছিলেন। ফলে কিছুটা হলেও চাপে ছিলেন। সেখানেই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন জভেরেভ। বেশ কয়েকটি লম্বা র‌্যালি হল। শেলটন অপেক্ষা করছিলেন, জভেরেভ কখন ভুল করেন। কিন্তু খুব একটা ভুল করলেন না জার্মান তারকা। দ্বিতীয় সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজের নিজের সার্ভিস ধরে রাখলেন। ফলে ফয়সালা হল টাইব্রেকারে। সেখানে শেলটনকে উড়িয়ে দিলেন জভেরেভ। তৃতীয় সেটও টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু দ্বাদশ গেমে জভেরেভের সার্ভিস ভাঙেন শেলটন। ওই একবারই জভেরেভের সার্ভিস খারাপ দেখাল। জোড়া ডাবল ফল্টের খেসারত দিতে হল তাকে। তৃতীয় সেটে ফেরার পর মনে হচ্ছিল, শেলটন খেলা পঞ্চম সেট পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু চতুর্থ সেটে আবার নিজের জাত চেনালেন জভেরেভ। দু’বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সেট ও সেই সঙ্গে ম্যাচ নিজের নামে করলেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে যাওয়ার পর ডমিনিক টিয়েমের কাছে শেষ তিন সেটে হেরে ম্যাচ হারতে হয়েছিল জভেরেভকে। এবার আর সেটা হতে দিলেন না তিনি। ১৯৮৯ সালে বরিস বেকারের পর দ্বিতীয় জার্মান তারকা হিসাবে এই ট্রফি তুললেন জভেরেভ। মাত্র চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন জভেরেভ। খেলার মাঝে দেখা যাচ্ছিল, বারবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করছেন। কখনও চকলেট খাচ্ছেন। কখনও কোনও পানীয়। এত বছর ধরে এই রোগ সামলে পেশাদার টেনিসে সফল হওয়ার কৃতিত্ব নিজের মাকে দিয়েছেন তিনি। খেলা শেষে জভেরেভ বলেন, ‘চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসক বলেছিল, পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা আমার কম। কিন্তু আমার পাশে আমার মা ছিল। আমাকে সব সময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি যা হয়েছি, তার কৃতিত্ব পুরোটাই মায়ের।’ খেলা শেষে শেলটনের প্রেমিকা ট্রিনিটি রডম্যানেরও মন জয় করেছেন জভেরেভ। পেশাদার ফুটবলার ট্রিনিটি নিজের ম্যাচ ছেড়ে শেলটনের ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলেন। খেলা শেষে শেলটনের কথা শুনে কেঁদে ফেলেন তিনি। তা দেখে জভেরেভ বলেন, ‘ট্রিনিটি, আমার মনে হয় তোমার আজ খেলা ছিল। তাই না? সেই ম্যাচ ছেড়ে তুমি আমাদের খেলা দেখতে এসেছ। তুমি আমার কাছে পয়া’- এ কথা শুনে ট্রিনিটি হেসে ফেলেন। আইএইচএস/

প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ
প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচেই ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই ৭ গোল হজম করেছিল মারিয়া মান্দারা। কোনোভাবেই উত্তর কোরিয়ার সামনে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ নারী দল এর আগে কখনো এতগুলো গোল হজম করে হারেনি। জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশকে দিশেহারা করে তোলে উত্তর কোরিয়া। প্রথমার্ধেই একে-একে বাংলাদেশের জালে ৭ বার বল জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার কিছুটা কমে আসলেও আরও ৩ গোল যোগ করে ব্যবধানকে উন্নীত করে ১০-০ ব্যবধানে। প্রতিপক্ষের জন রং, চাই উন ও কিম কিয়ং করেছেন জোড়া গোল। বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার গোল উৎসবের শুরুটা হয় ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই। শুরু করেন জন রিয়ং জং। এরপর ১০ম মিনিটেও তিনি নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন। তবে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোল করেছিলেন রি সং। তার গোলটি বাতিল করে দেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। ১২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন হোয়াং ইউ। ৬ মিনিট পর ১৮ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন চায়ে উন ইয়ং। ৩৫ মিনিটে তিনিও সম্পন্ন করেন নিজের জোড়া গোল। দলের স্কোরলাইন হয় ৫-০। ৪০ ও ৪৩ মিনিটে জোড়া গোল করে প্রথমার্ধেই ৭-০ ব্যবধান করেন কিম কিয়ং ইয়ং। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোল উৎসব শুরু করে উত্তর কোরিয়া। ৫১তম মিনিটে দলের ৮ম গোল করেন রি সং আ। ৬০ মিনিটে ৯ম গোল করেন জং কুম। ৬০-৯০, এই ৩০ মিনিটে উত্তর কোরিয়াকে বেশ ভালোভাবেই ঠেকিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই আধাঘন্টায় কোনো গোল হতে দেননি তারা। তবে, ৯০তম মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে ১০ম গোল করেন হান জিন হং। আরআই/আইএন/আইএইচএস

সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন
সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন

মোহাম্মদ সালাহর গন্তব্য নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ ছিল না। কেউ ভেবেছিলেন সৌদি আরব, কেউ আবার আমেরিকা। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল মোহাম্মদ সালাহ নিজের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোর। নামটা অপরিচিত লাগছে? তুরস্কের লিগেও ক্লাবটা কিন্তু জনপ্রিয়তায় শীর্ষে নেই, এমনকি শীর্ষ তিনেও নেই। তবু সালাহকে তারা বরণ করে নিয়েছে জমকালো আয়োজনে। সালাহর আগমন ত্রাবজোনস্পোর সমর্থকদের কাছে যেন ছেলের বহুদিন পর ঘরে ফেরার গল্প।শুধু সালাহ নন, বেলজিয়ান তারকা রোমেলু লুকাকু দীর্ঘ ইউরোপিয়ান ক্যারিয়ার ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ফেনারবাচে। দুসান ভ্লাহোভিচও জুভেন্টাস ছেড়ে এই মৌসুমে যোগ দিয়েছেন বেসিকতাসে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পাঁচ লিগ ছেড়ে গালাতাসারাইতে আছেন ভিক্টর ওশিমেন। গত কয়েক মৌসুম ধরেই খেলোয়াড়দের বিমান ভিড়ছিল সৌদি আরব আর আমেরিকায়। সেই বিমান এবার গন্তব্য বদলে পৌঁছে গিয়েছে তুরস্কে। হঠাৎ এই রদবদলের কারণ কী?লুকাকুর জন্য মধ্যরাতে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিল হাজারো মানুষ।যত দিন যাচ্ছে, তুরস্কে ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এই মৌসুমেই ইউরোপের শীর্ষ লিগ ছেড়ে তুরস্কে পাড়ি দিয়েছেন ম্যাসন গ্রিনউড, নাথান আকে, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড, আলেকজান্ডার নুবেলের মতো তারকা। সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচের কথা তো বললামই। শুধু যে বয়সের ভারে নুয়ে পরা তারকারা যোগ দিচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। বরং তরুণ তারকারাও সৌদি-আমেরিকা ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন তুরস্ক? কিন্তু কেন?ইউরোপিয়ান ফুটবলের ছোঁয়াসৌদি থেকে আমেরিকা—টাকার ঝনঝনানির পেছনে ছুটতে গেলেই বের হয়ে যেতে হচ্ছে ইউরোপ থেকে। ইউরোপিয়ান ফুটবল ছেড়ে যখনই ভিন্ন মহাদেশে পাড়ি দিচ্ছেন ফুটবলাররা, একেবারেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাচ্ছেন। মেসি-রোনালদোর পাঁড় ভক্ত না হলে হয়তো কোনো দিন এমএলএস বা সৌদি লিগের ম্যাচ খুলেও দেখা হয়নি নিশ্চয়। তুর্কি লিগ কিন্তু তেমন নয়। এই লিগের খেলা নিয়মিত দেখা না হলেও তাদের নিয়মিতই দেখা যাবে ইউরোপের বড় মঞ্চে। চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগে প্রতি মৌসুমেই চমক দেখায় তুর্কি দলগুলো। এতে করে দর্শকদের চোখের আড়ালে যাওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই। সালাহর জন্য বিমানবন্দরে প্রস্তুত ছিল ব্যানার। রাত তখন দেড়টা।১৭ বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছে ফেনারবাচ। ফলে লুকাকু-আসেনসিওদের দেখা যাবে ইউরোপের সেরা মঞ্চে। ইউরোপিয়ান বলয়ে থাকায় বাকি দলগুলোও চাইলে নজর রাখতে পারবে খেলোয়াড়দের দিকে। ফলে ভবিষ্যৎ দলবদলের ক্ষেত্রেও একটা সুবিধা পাবেন খেলোয়াড়েরা।দর্শকদের উন্মাদনা:সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচের ছবিগুলো দেখেছ? এখনো কিন্তু ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়নি দর্শকদের সঙ্গে। তাঁরা মাত্র বিমানবন্দরে নেমেছেন দলের সঙ্গে যোগ দিতে। এর মধ্যেই দর্শকদের চিৎকারে কান পাতা দায়। দর্শকেরা বিমানবন্দরে হাজির হয়েছেন শুধু খেলোয়াড়কে বরণ করে নিতে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলোয়াড়দের হাতে জার্সি তুলে দেওয়ার দিনও এত দর্শক আসেন না। শীর্ষ তারকা ছাড়া দর্শকদের এমন উন্মাদনা দেখার সাক্ষী হন না কেউ। এমন সমর্থন পেতে কে না চায়?মোহাম্মদ সালাহকে বরণ করার জন্য বিমানবন্দর থেকে মাঠ পর্যন্ত ছিল দর্শকদের ঢল। এমনকি মাঠে তাঁকে নিয়ে আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন সালাহ নিজেও। ফোন বের করে দর্শকদের স্বাগত আয়োজন ভিডিও করেছেন নিজ হাতে। সালাহকে যেন ঘরের ছেলে হিসেবেই বরণ করে নিয়েছে তুরস্ক।সালাহকে স্বাগত জানাতে ত্রাবজোনস্পোরের বিশাল আয়োজন।এ তো গেল বরণ করার কথা। মাঠের উন্মাদনাতেই তুর্কি লিগ ছাড়িয়ে যায় শীর্ষ পাঁচ লিগকে। অন্যান্য লিগে যেমন দেখা যায়, বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ না হলে দর্শকদের আগ্রহও থাকে কম। কিন্তু তুর্কি লিগ তেমন নয়। প্রতিটি ম্যাচই যেন দর্শকদের কাছে একেকটি উৎসব। ফ্লেয়ার, ব্যানার নিয়ে হাজির হন মাঠে। নিজেদের খেলোয়াড়দের সমর্থন দিতে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই কারও। ফুটবলের প্রতি তাদের প্যাশন নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো সাহস নেই কারও।টাকার ঝনঝনানিএবার আসা যাক টাকার প্রশ্নে। সৌদি ও আমেরিকান লিগ টাকার বান্ডিল দেখিয়েই যেন বড় বড় খেলোয়াড়ের হাত করে নিচ্ছে। তুর্কি লিগ কিন্তু সেদিক দিয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই। হ্যাঁ, সৌদি আর আমেরিকার মতো টাকার বস্তা নিয়ে হাজির হতে পারেনি তারা। কিন্তু খেলোয়াড়দের চুক্তির ব্যাপারে তারা এমন কিছু পন্থার আশ্রয় নিয়েছে, যাতে করে খেলোয়াড়দেরই লাভ বেশি।মোহাম্মদ সালাহর কথাই ধরো। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বেতন তো পাবেনই। সঙ্গে তাঁর নামে যত জার্সি বিক্রি হবে, তাঁর অফিসিয়াল খেলনা থেকে শুরু করে যা কিছু বিক্রি হবে, সবকিছু থেকে একটা বড় অংশ পাবেন তিনি। ত্রাবজোনস্পোরের হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে সালাহর জার্সি বিক্রি করে তাঁর দেওয়া বেতনের বড় একটা অংশ উঠে গেছে তাদের। তাহলে বোঝো, বাকি খেলোয়াড়দের লাভের পরিমাণটা ঠিক কত?তুর্কি লিগের প্রতি তাই এই মৌসুমে খেলোয়াড়দের আগ্রহটাও তাই দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর বড় বড় খেলোয়াড়ের দেখাদেখি স্পনসর, দর্শকেরাও লুফে নিচ্ছেন তুর্কি লিগের খেলা। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগার পাশাপাশি তুর্কি লিগেও আলাদা করে নজর রাখতে হতে পারে তোমাদের।

এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা
এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা

কঠিন, আরও কঠিন, একেবারে অগ্নিপরীক্ষার মতো কঠিন—বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এবারের এশিয়ান গেমসের গ্রুপটা ঠিক তেমনই। উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার—তিন প্রতিপক্ষই শক্তিতে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাই এই গ্রুপকে বাংলাদেশের জন্য ‘কঠিন’ বললে হয়তো কমই বলা হবে।বাস্তবতাটা বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারেরও অজানা নয়। কিন্তু কঠিন গ্রুপ মানেই যে আগেই হাল ছেড়ে দিতে হবে, তা মনে করেন না তিনি। তাঁর বার্তা বরং ভিন্ন—চ্যালেঞ্জটা উপভোগ করতে হবে, নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিতে হবে।জাপানের আইচি-নাগোয়াতে ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। তবে ফুটবল, ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলা শুরু হচ্ছে এর আগেই। আজ মেয়েদের ফুটবলে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের সামনে উত্তর কোরিয়া। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা একটায়।শুরুতেই এমন প্রতিপক্ষ, যারা কাগজে–কলমের শক্তিতে তো বটেই, অভিজ্ঞতা ও সাফল্যেও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১ নম্বরে, বাংলাদেশ ১০৭। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৯৬ ধাপ। এর সঙ্গে যোগ করুন উত্তর কোরিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাফল্য—তাহলে কাজটা কতটা কঠিন, সেটি বুঝতে খুব বেশি হিসাব করতে হবে না।বাংলাদেশ নারী দলের বড় সাফল্যের তালিকায় এখন পর্যন্ত দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাই সবচেয়ে উজ্জ্বল। এশিয়ান গেমসেও এর আগে খেলেছে মাত্র একবারই, ২০২২ সালের গত আসরে। সেবার গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ ড্র করেই বিদায় নিতে হয়েছিল।অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে উঠেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। এশিয়ার সেরা হয়েছে তিনবার। অলিম্পিকেও অংশ নিয়েছে দুবার। আর এশিয়ান গেমসে ছয়বার সোনার লড়াইয়ে নেমে তিনবারই জিতেছে। এমন দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতবে—এমন প্রত্যাশা করলে বাস্তবতার চেয়ে কল্পনাকেই বেশি প্রশ্রয় দেওয়া হবে। তাই জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরে গিয়ে নিজেদের খেলাটাকে গুরুত্ব দিতে চাইছে বাংলাদেশ।ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বলা বাটলারের কথাতেও তারই প্রতিফলন, ‘বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি আমরা। আমরা ভালো করেই জানি, এমন একটি গ্রুপে খেলছি, যেখানে এশিয়ান ফুটবলের শক্তিশালী দলগুলোর দুটি—উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া আছে। এমনকি র‍্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমারও আমাদের চেয়ে এগিয়ে। পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে আমাদের জন্য, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। তবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা খেলাটি উপভোগ করতে চাই।’উত্তর কোরিয়ার পর বাংলাদেশের সামনে দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী বৃহস্পতিবার সেই ম্যাচ। র‍্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ১৯তম, বাংলাদেশের চেয়ে ৮৮ ধাপ এগিয়ে। পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলা দলটি এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে নয়বার, জিতেছে তিনটি ব্রোঞ্জপদক। সিনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এখনো দেখা হয়নি। অর্থাৎ নতুন এক পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমার ৫৫তম—বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে। শক্তির বিচারে তারাও পিছিয়ে থাকার মতো দল নয়। তবে এ ম্যাচটিই বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে একটু আশার জায়গা তৈরি করছে।কারণ, তিন গ্রুপ প্রতিপক্ষের মধ্যে একমাত্র মিয়ানমারের বিপক্ষেই বাংলাদেশের মেয়েদের একাধিকবার খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এখন পর্যন্ত দুবার মুখোমুখি হয়ে একবার জিতেছেও বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবারই প্রথম সিনিয়র পর্যায়ে দেখা হবে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তো গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে ৫–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।সেই হিসাবেই হয়তো মিয়ানমার ম্যাচটিকে মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে কোচ বাটলারও জানেন, শুধু অতীতের একটি জয় দিয়ে বর্তমানের ম্যাচ জেতা যায় না। বরং প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই শেষ ম্যাচে ভালো করার চেষ্টার কথা বললেন তিনি, ‘আমাদের দেশে তো মেয়েদের নিয়মিত কোনো লিগই নেই! তাই এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের বড় কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা না করে বাস্তববাদী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতিবাচক ও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই। দেখা যাক, প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে কতটা কাজে দেয়।’বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা অবশ্য শুধু প্রতিপক্ষের শক্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও ধাক্কা খেয়েছে দল। ফর্মে থাকা ডিফেন্ডার নবীরণ খাতুন চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। তবে স্বস্তির খবর, নবীরণ ছাড়া স্কোয়াডে আর কারও চোটের সমস্যা নেই।সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পথটা মোটেও সহজ নয়। তবে কঠিন পথ বলেই হয়তো এই যাত্রার আলাদা মূল্য আছে। বাংলাদেশ জানে, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী। জানে, ব্যবধানও অনেক। তবু সেই কঠিনকেই ভালোবেসে মাঠে নামতে প্রস্তুত তারা।

অবশেষে বিয়ে করছেন 'দুষ্টু কোকিল', প্রি-ওয়েডিং ফ্ল্যাশব্যাকে দেখুন তাঁর ১৩টি বোল্ড লুক
অবশেষে বিয়ে করছেন 'দুষ্টু কোকিল', প্রি-ওয়েডিং ফ্ল্যাশব্যাকে দেখুন তাঁর ১৩টি বোল্ড লুক

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও ফ্যাশন নিয়েও অনুরাগীদের আগ্রহের কমতি নেই। বারবার বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও তা নাকচ করে আসছেন এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে পর্দায় নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে দর্শকের মন জয় করা মিমিকে নানা সময় দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলের পোশাকে। কখনো গ্ল্যামারাস, কখনো এলিগ্যান্ট, আবার কখনো একেবারে ছিমছাম সাজে—প্রতিটি লুকেই নিজের মতো করে নজর কেড়েছেন মিমি। এবার তাঁর জীবনে আসতে চলেছে নতুন অধ্যায়। শোনা যাচ্ছে দীর্ঘদিনের প্রেমিক, পেশায় নৌবাহিনীতে কর্মরত এক ব্যক্তির সঙ্গে নভেম্বর মাসে আইনি বিয়ে করতে চলেছেন তিনি। ডিসেম্বর মাসে কালিম্পংয়ে পাহাড়ে হবে বিয়ের আয়োজন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাই নতুন করে আলোচনায় দুষ্টু কোকিল গান দিয়ে দুই বাংলা জয় করে নেওয়া মিমি। চলুন, তাঁর প্রি-ওয়েডিং ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে দেখা যাক, নানা সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া কিছু বোল্ড লুক।গোলাপি ওয়ান-শোল্ডার ক্রপ টপের সঙ্গে জুটি হয়েছে ফুল-পাতার প্রিন্টের হাই-ওয়েস্ট স্কার্ট। পুরো সাজে ফুটে উঠেছে একেবারে নিখুঁত সামার ভাইব। সোনালি ও মেটালিক পুঁতির ভারী এমব্রয়ডারি করা কালো শর্ট ড্রেসে দারুণ গ্ল্যামারাস মিমি। পান্না সবুজ ও কালো রঙের ড্রেসে ধরা দিয়েছেন মিমি। ডিপ ভি-নেকের এই ড্রেসে রয়েছে থ্রি-ডি ফ্লোরাল সিকুইন মোটিফ, নিচের অংশে কালো ফ্রিঞ্জ ডিটেইলিং। সঙ্গে পায়ে পরেছেন গ্লিটারি হাই হিল। গলায় পান্না বসানো ডায়মন্ড নেকলেস ও কানে প্রজাপতি আকৃতির ইয়ার কাফ। চুলে রেখেছেন চমৎকার বাবল পনিটেল। শিয়ার সাদা শাড়ির সঙ্গে নজর কাড়ছে মেটালিক গোল্ডেন ব্লাউজ। জমকালো এই লুককে আরও আকর্ষণীয় করতে খোঁপা করেছেন সুন্দরী আর গলায় পরেছেন ডায়মন্ড চোকারআকর্ষণীয় ব্যাকলেস ব্লাউজের সঙ্গে শাড়ির লুকে মিমি চক্রবর্তী। হলুদ রঙে যেন উষ্ণ আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। ড্রামাটিক ও বোল্ড এই লুকে মিমি পরেছেন সাদা ব্র্যালেট টপের ওপর কালো ফ্যাব্রিক জড়ানো ক্রপ টপ। বটমে আছে জমকালো এমব্রয়ডারি করা বেল্টের সাদা-কালো স্কার্ট। সঙ্গে কানে পরেছেন সিলভার মেটালিক ইয়াররিংস। হাতে মেটালিক চেইনের স্টেটমেন্ট কাফ। সাদা ও কালো জ্যামিতিক প্রিন্টের স্ট্র্যাপলেস জাম্পসুটে দেখা দিয়েছেন মিমি। এর সঙ্গে গলায় পরেছেন মেটালিক গোল্ডেন চোকার নেকলেস। কানে শোভা পাচ্ছে মানানসই গোল্ডেন ইয়ার কাফঅল ব্ল্যাক এই লুকে মিমি চোখ ধাঁধাচ্ছেন একেবারে। পরেছেন কালো ব্রালেট ও লো রাইজ স্কার্টের সঙ্গে উইংড কেপ বাদামি শর্ট-স্লিভ ক্রু-নেক টপের সঙ্গে চেক প্রিন্টের স্টাইলিশ মিনি স্কার্ট জুটি হয়েছে এই লুকে । স্মার্ট ক্যাজুয়াল এই আউটফিটের সঙ্গে পায়ে পরেছেন ন্যুড রঙের হাই হিল পাম্পস। চোখে কালো শেডস আর কানে গোল্ডেন হুপস  লুকটি সম্পূর্ণ করেছে।রেড লুকে ল্যাটেক্স ওয়ান-শোল্ডার মিনি ড্রেস আর মায়চিং হিলে দেখা দিয়েছেন নায়িকা। সঙ্গে চোখে পরেছেন মানানসই শেডস ডিপনেক, ফুলস্লিভ রয়েল ব্লু ব্লাউজের সঙ্গে ম্যাচিং ফিউশন শাড়ির লুকে মিমি বডি হাগিং কালো গাউন তাঁর পরনে। যেখানে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে এক্সট্রিম কাট-আউট ডিজাইন। অফ-হোয়াইট স্লিভলেস ড্রেসে রয়েছে সাইড হাই-স্লিট ডিটেইলিং।  কানে পরেছেন মেটালিক ফ্লোরাল ডিজাইনের বড় ইয়াররিংস। চুল পেছনে টেনে রেখেছেন স্লিক স্টাইলে। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

‘কিং’ নিয়ে আর অপেক্ষা নয়, শাহরুখের বড় ঘোষণা
‘কিং’ নিয়ে আর অপেক্ষা নয়, শাহরুখের বড় ঘোষণা

শাহরুখ খানের পরবর্তী সিনেমা ‘কিং’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই সিনেমাটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে যেতে পারে- এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। এবার সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন স্বয়ং শাহরুখ খান। জানিয়ে দিলেন, ‘কিং’ নিয়ে আর অপেক্ষা করতে হবে না ভক্তদের। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন শাহরুখ। সেখানে এক ভক্ত ‘কিং’ নিয়ে নতুন কোনো খবর জানতে চান। তিন বছর ধরে প্রেক্ষাগৃহে শাহরুখের নতুন সিনেমা দেখার অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়ে ওই ভক্ত অন্তত ছবিটির একটি ঝলক প্রকাশের অনুরোধ করেন। জবাবে শাহরুখ জানান, এবার আর বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। নির্ধারিত সময়েই প্রেক্ষাগৃহে আসবে ‘কিং’। আগামী ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে সিনেমাটি। আরও পড়ুন ১০ হাজার টাকা ছিল ব্যাংকে, যেভাবে ৮০ কোটির মালিক হলেন আয়ুষ্মান শাহরুখ লেখেন, ‘এবার ছবিটা দেখবেন। অপেক্ষা করাচ্ছি না আর। ভালো একটা ছবি তৈরি করছি, যাতে মনটা তৃপ্ত হবে। সব কিছুই আসবে ২৪ ডিসেম্বরের আগে।’ তবে ‘কিং’র শুটিংয়ে বেশ কিছু বাধার মুখে পড়তে হয়েছে অভিনেতাকে। কাজ চলাকালে একাধিকবার চোট পেয়েছেন তিনি। ফলে কয়েক দফায় শুটিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে এখন সব চোট সেরে গেছে বলে জানিয়েছেন শাহরুখ। ছবির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। অভিনেতার কথায়, শুটিংয়ের সময় কয়েকবার চোট পাওয়ায় কাজ থামাতে হয়েছিল। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ এবং ছবির কাজও ঠিকঠাক এগোচ্ছে। ‘কিং’ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসের কথাও জানিয়েছেন শাহরুখ। ভক্তদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দর্শকদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে ছবিটির জন্য অনেক পরিশ্রম করা হয়েছে। সিনেমায় থাকছে অ্যাকশন, গানসহ নানা চমক। নিজের চুল নিয়েও মজা করেছেন এই বলিউড তারকা। আরও পড়ুন ওটিটিতে ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’, দর্শকদের উচ্ছ্বাস ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’র পর ফের অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় দেখা যাবে শাহরুখকে। ‘কিং’ পরিচালনা করছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ। ছবিতে শাহরুখের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তার মেয়ে সুহানা খান। আরও রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও অভিষেক বচ্চন। যদিও সিনেমাটির গল্প নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি। তবে তারকাবহুল এই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ শুরু থেকেই তুঙ্গে। এবার শাহরুখ নিজেই মুক্তির তারিখ নিশ্চিত করায় ‘কিং’ ঘিরে সেই আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। এমএমএফ/এএসএম

‘হুঙ্কার’ এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও
‘হুঙ্কার’ এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও

২০২৫ সালে ‘সাইয়ারা’র সাফল্যের পর প্রচারের আলো থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন অনীত পাড্ডা। সম্প্রতি ‘হুঙ্কার: দ্য রোর’ সিরিজের ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে তাঁকে পাওয়া গেল। সাইয়ারার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রচার অনুষ্ঠান। গণমাধ্যমের মুখোমুখিও হলেন প্রথমবার। ফলে অনীতকে ঘিরে পাপারাজ্জি ও গণমাধ্যমকর্মীদের আগ্রহ ছিল বাড়তি। অনুষ্ঠানে অনীতের সঙ্গে ছিলেন ফাতিমা সানা শেখ, রঘুবীর যাদব, জোয়া হুসেন, মোহাম্মদ জিশান আয়ুব ও পরিচালক নিত্যা মেহরা। অনীতের কবিতা পাঠ দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। পরে সিরিজ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনান তিনি। হুঙ্কার–এর বিষয়বস্তুই অনীতকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে এলে কীভাবে অন্যের মতামতের চাপে তার অর্থ বদলে যেতে থাকে, সিরিজে সেই প্রশ্নই উঠে এসেছে। অনীত বলেন, ‘কেউ নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরলে খুব দ্রুত সেটি সবার আলোচনার বিষয় হয়ে যায়। চারপাশ থেকে শুনতে হয়—তোমার এটা করা উচিত ছিল, ওটা বলা উচিত ছিল। এত মতামতের মধ্যে একসময় মানুষ নিজের সত্য নিয়েও সংশয়ে পড়ে। আমার কাছে এটাই হুঙ্কার–এর মূল বিষয়।’সিরিজে অনীত ১৭ বছরের কিশোরী মীনু রাওয়াত। তার জীবনে ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। নিজেই যখন সেই অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারছে না, তখনই তাকে এ নিয়ে কথা বলতে হয়। চরিত্রটির বয়স অনীতের বাস্তব বয়স থেকে খুব বেশি দূরের নয়। তিনি বলেন, ‘অডিশনের সময় আমার বয়স ছিল ১৯, শুটিংয়ের সময় ২০। মীনুর বয়স ১৭। তাই চরিত্রটির বয়স আমার কাছে স্বাভাবিকভাবেই এসেছে। তবে সিরিজের বিষয়টি এত শক্তিশালী ও সংবেদনশীল যে আমার মতো কম বয়সী কারও পক্ষে পুরোটা বোঝা সহজ ছিল না।’চিত্রনাট্য পড়তে পড়তে মীনুর মানসিক টানাপোড়েনের সঙ্গেও নিজেকে মিলিয়ে ফেলেছিলেন অনীত। তাঁর ভাষায়, ‘একসময় আমারও মনে হচ্ছিল, আমি কি মিথ্যা বলছি? অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি এত জোরালো হয়ে উঠছিল যে নিজের সত্য নিয়েও প্রশ্ন জাগছিল।’অনীত পড্ডা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে মীনুকে শুধু তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা দিয়ে বিচার করতে চান না অনীত। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ঘটনার পর মেয়েটি কীভাবে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। অনীত বলেন, ‘মীনু অল্পবয়সী। তার মধ্যে অনেক জটিলতা আছে। তাকে সব সময় বোঝা সহজ নয়। এ কারণেই চরিত্রটি এত বাস্তব। তবে একটা জায়গায় সে একই রকম—কারও কাছে চুপ করে থাকবে না।’চরিত্রটির প্রস্তুতিতে কর্মশালাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দ্বিতীয় দিন অভিনয়ের শিক্ষক রচিত তাঁকে কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল, ‘আপনি কি ভুক্তভোগী?’ ‘আপনার কেমন লাগছে?’ অনীত জানান, তাঁর উত্তরগুলো এসেছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সেখানে ভয় ও রাগের পাশাপাশি ছিল অনিশ্চয়তা ও দৃঢ়তা। কর্মশালার সেই অভিজ্ঞতার ছাপও পরে সিরিজে জায়গা পেয়েছে।হঠাৎ তুমুল বিতর্কে ‘সাইয়ারা’ নায়িকা, আসলে কী হয়েছিলঅনীতের কাছে হুঙ্কার শুধু একটি ঘটনার গল্প নয়, এটি এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও। তাঁর কথায়, ‘মাত্র ১৭ বছরের একটি মেয়েকে খুব কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে সময়ের আগেই তাকে বড় ও পরিণত হয়ে উঠতে হয়।’বিরলা স্টুডিওস ও অ্যাপলজ এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে `হুঙ্কার: দ্য রোর' প্রযোজনা করেছে পার্পল পেবল পিকচার্স। সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজক প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভিডিও বার্তা পাঠান তিনি।`হুঙ্কার: দ্য রোর' ২৫ সেপ্টেম্বর জিওহটস্টারে মুক্তি পাবে।

এমির লালগালিচায় নজর কাড়লেন যেসব তারকা
এমির লালগালিচায় নজর কাড়লেন যেসব তারকা

বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটারে বসেছিল ৭৮তম এমি অ্যাওয়ার্ডসের আসর। টেলিভিশনের সবচেয়ে বড় এই পুরস্কারের আসরে লালগালিচায় চমকে দিলেন কোন তারকারা? এএফপি, ভোগ ও বিবিসি অবলম্বনে জেনে নেওয়া যাক ছবিতে ছবিতে—অলংকারখচিত প্রাডার গাউন পরে নীলগালিচায় হাজির হন জেনডায়া। এএফপি আলোচিত অভিনেতা কোলম্যান ডোমিঙ্গেও এসেছিলেন এই আয়োজনে। এবার ‘দ্য ফোর সিজন’–এর জন্য মনোনয়নও পেয়েছিলেন তিনি। এএফপিফপিলালগালিচায় নজর কাড়ে ‘অনলি মার্ডারাস ইন দ্য বিল্ডিং’–এর অন্যতম প্রযোজক ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। এএফপি প্লরিবাস’ দিয়ে আলোচিত অভিনেত্রী রিয়া সিহর্ন; পরে পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। এএফপি ‘দ্য টেস্টমেনটস’ তারকা চেজ ইনফিনিটি। এএফপি লালগালিচায় নজর কাড়েন এল ফ্যানিং। ‘মার্গোস গট মানি ট্রাবল’–এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। এএফপি ‘মার্গোস গট মানি ট্রাবল’–এর প্রযোজক হিসেবে অনুষ্ঠানে ছিলেন নিকোল কিডম্যান। এএফপি ‘বিফ’–এর জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ক্যারি মুলিগান। এএফপি‘দ্য বিস্ট ইন মি’ ও ‘উইডোজ বে’—দুই সিরিজের জন্য অভিনয়ের পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন ওয়েলশ অভিনেতা ম্যাথিউ রাইস। এএফপি ছিলেন ব্রিটিশ তারকা রিজ আহমেদ। এএফপি এই সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউও ছিলেন এমির আসরে। এএফপি স্ত্রী মলি ম্যাকনার্নির সঙ্গে আলোচিত সঞ্চালক জিমি কিমেল। এএফপিতারকা দম্পতি হ্যারিসন ফোর্ড ও ক্যালিস্তা ফ্লকহার্টও ছিলেন। এএফপি টেলিভিশন পুরস্কারের সবচেয়ে বড় আয়োজন, সেখানে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ তারকা ডেভিড হারবার থাকবেন না; তা কি হয়! এএফপিএমিতে বাজিমাত ভৌতিক গল্পের সিরিজেরছিলেন ‘গেম অব থ্রোনস’ তারকা এমিলিয়া ক্লার্কও। এএফপি

শুভশ্রীর সঙ্গে আজকাল কথা বলতেও ভয় পান দেব, জানালেন কারণ
শুভশ্রীর সঙ্গে আজকাল কথা বলতেও ভয় পান দেব, জানালেন কারণ

দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে একসময় কম আলোচনা হয়নি। প্রেমের গুঞ্জন থেকে শুরু করে বিচ্ছেদ- দীর্ঘ সময় পরও এই দুই তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দর্শকের আগ্রহের কমতি নেই। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন দেব। আরও পড়ুন দুই মাসেই ভেঙে গেল ১১৪ বছরের রেকর্ড, সবার সেরা এখন ‘দ্য ওডিসি’ দুর্গাপূজায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেব ও শুভশ্রী অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’। সিনেমাটির প্রচার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে বলে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন দেব। সম্প্রতি কলকাতায় একটি স্যালোনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন অভিনেতা। দেব জানান, শুভশ্রীর সঙ্গে এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও তিনি ভয় পান। কারণ তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেই সেটিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। দেব বলেন, একসময় শুভশ্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এখন তারা বন্ধু। কিন্তু প্রকাশ্যে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও সেটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়ে যায়। এমনকি কোনো অনুষ্ঠানে শুভশ্রীকে স্বাভাবিকভাবে আলিঙ্গন করলেও সেটি নিয়েও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দেবের ভাষ্য, এসব কারণেই ‘দেশু ৭’-এর প্রচারে তারা সেভাবে একসঙ্গে বের হচ্ছেন না। কারণ প্রচারে গেলেই সিনেমার গল্প, নির্মাণ বা অভিনয়ের বদলে তাদের সম্পর্ক, বিচ্ছেদ কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। অভিনেতা বলেন, তারা প্রচারে বের হলেই বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অথচ কেউ ‘দেশু ৭’ নিয়ে কথা বলছে না। সিনেমাটিতে তিনি যে নতুন ধরনের নির্মাণভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, সেটিও আলোচনায় আসছে না। এমনকি দীর্ঘদিন পর কোনো বাংলা সিনেমার শুটিং লাদাখে হয়েছে, সেই বিষয়টিও আলোচনায় আসছে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। বড় বাজেটের ‘দেশু ৭’ সিনেমায় দেবের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন শুভশ্রী। সিনেমাটির টিজার প্রকাশের পর থেকেই এর অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দেব-শুভশ্রীর রোমান্টিক দৃশ্যও। দেব জানান, শুধু শুভশ্রীকে নিয়ে কয়েক দিনের শুটিং করেই চাইলে একাধিক সিনেমা তৈরি করা সম্ভব ছিল। এতে ব্যবসায়িক সাফল্যও আসত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে ‘ধূমকেতু’র পর দর্শক যেভাবে দেব-শুভশ্রীকে দেখতে চেয়েছেন, সেই প্রত্যাশা মাথায় রেখেই ‘দেশু ৭’ নির্মাণ করেছেন তিনি। আরও পড়ুন মোশাররফ করিমের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে চান? জানুন কীভাবে সিনেমাটিতে দেব ও শুভশ্রী ছাড়াও অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রজতাভ দত্ত, অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক ও লোকনাথ দে। দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই সিনেমাটির টিকিট বিক্রিতে দর্শকের আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে।   এলআইএ

অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে রেলস্টেশনে কেন পাথর ছুড়ে মেরেছিল দর্শক?
অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে রেলস্টেশনে কেন পাথর ছুড়ে মেরেছিল দর্শক?

পর্দায় খল চরিত্রে এমনভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন যে, একসময় দর্শক বাস্তবের সাদেক বাচ্চু আর পর্দার খলনায়ককে আলাদা করতে পারেননি। এমনকি দুর্দান্ত অভিনয়ে চরিত্র বাস্তবের মতো ফুটিয়ে তোলার কারণে একপর্যায়ে দর্শকের কাছ থেকে বাদামের খোসা ও পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছিল তার সঙ্গে। আরও পড়ুন এবার বিসিএস ক্যাডার ফারহান, ভুলে ভরা গল্পে বিরক্ত দর্শক মঞ্চ থেকে বেতার, টেলিভিশন হয়ে চলচ্চিত্র; সব মাধ্যমেই নিজের অভিনয় প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন সাদেক বাচ্চু। তবে চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পর্দায় তার নেতিবাচক চরিত্র দেখে দর্শক যেমন তাকে নিন্দা করেছেন, তেমনি অভিনয়ের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে ভালোবাসাও দিয়েছেন। আজ গুণী এই অভিনেতার ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবস। ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সাদেক বাচ্চু। তার চলে যাওয়ার পরও বাংলা চলচ্চিত্রে তার অভিনীত অসংখ্য চরিত্র দর্শকের মনে অমলিন হয়ে আছে। সাদেক বাচ্চুর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়। তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুরে। তার আসল নাম মাহবুব আহমেদ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগে চাকরি করলেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে যান। ২০১৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। অভিনয়ের শুরুটা ষাটের দশকেই। ১৯৭২ সালের দিকে ‘গণনাট্য পরিষদ’ থিয়েটারে যুক্ত হন তিনি। সেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক রচনা ও নির্দেশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এরপর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। প্রযোজক আব্দুল্লাহ ইউসুফ ইমামের ‘প্রথম অঙ্গীকার’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে পথচলা শুরু করেন তিনি। এরপর অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন সাদেক বাচ্চু। তবে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৮৫ সালে ‘রামের সুমতি’ সিনেমার মাধ্যমে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নায়কের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। পরে ধীরে ধীরে খল চরিত্রে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন। বিশেষ করে ‘চাঁদনী’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। এরপর থেকে নেতিবাচক চরিত্রে তার উপস্থিতি যেন হয়ে ওঠে দর্শকের কাছে আলাদা এক আকর্ষণ। তার অভিনীত চরিত্রগুলো এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠত যে, পর্দার বাইরে সেই চরিত্রের রেশও দর্শকের মনে থেকে যেত। অভিনেতা নিজেই একটি অভিজ্ঞতার গল্প জানিয়ে বলেছিলেন, একটি সিরিয়ালে রাজাকারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সাদেক বাচ্চু। দর্শকমহলে তুমুল আলোচিত নাটকের এক দৃশ্যে একজনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন সাদেক বাচ্চু। সেই পর্ব প্রচারের পরদিন বোনকে আনতে ট্রেনে জামালপুর গিয়েছিলেন তিনি। স্টেশনে তাকে দেখে দর্শকরা বাদামের খোসা ছুড়ে মারেন, কেউবা আবার পাথর ছুড়তে থাকেন। সেই যাত্রায় কোনোমতে সেখান থেকে আসতে পেরেছিলেন তিনি। চরিত্রকে এতটাই বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই ছিল সাদেক বাচ্চুর অভিনয়ের বড় সাফল্য। সাদেক বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’, ‘জীবন নদীর তীরে’, ‘জোর করে ভালোবাসা হয় না’, ‘তোমার মাঝে আমি’, ‘ঢাকা টু বোম্বে’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘এক জবান’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘বধূবরণ’, ‘ময়দান’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রিয়জন’ ও ‘সুজন সখী’। আরও পড়ুন ৮০-৮১ সালে কেমন ছিলেন দিলারা জামান? ৪০ বছর আগের ছবি প্রকাশ্যে খল চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এই অভিনেতা। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অভিনয়কে ভালোবেসেছেন সাদেক বাচ্চু। পর্দায় তার খল চরিত্র দেখে দর্শক কখনো ক্ষুব্ধ হয়েছেন, কখনো তাকে ঘৃণা করেছেন, আবার কখনো সেই অভিনয়েই মুগ্ধ হয়েছেন।   এলআইএ

নারী অধিকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হলেও প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি
নারী অধিকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হলেও প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি

বাংলাদেশে নারীদের প্রকৃত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, নারীবাদ যতটা না নারীর স্বার্থে কাজ করে, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে নারীবাদের নামে বহু সংগঠন ও আন্দোলন হয়েছে, সভা-সমিতি হয়েছে। কিন্তু নারীর নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহিলা ও পরিবার বিষয়ক উপকমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারীর প্রকৃত সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চায়। এজন্য চলতি সেশনে দলের নারী উইংকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী পাটওয়ারী বৈঠকে দেশব্যাপী দলের সব শাখায় নারী সদস্যদের সক্রিয় করা, ছাত্রী উইংয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়া ছাত্রী ও মহিলা ইউনিটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এমইউ/কেএসআর

বিচার চেয়ে রুনির ভাইয়ের আবেদন, যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর
বিচার চেয়ে রুনির ভাইয়ের আবেদন, যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু, তা এখনো জানেন না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রুনির ভাই নওশের আলম ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা জানান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নওশের আলমের আবেদনটি তারা খতিয়ে দেখবেন। এ হত্যাকাণ্ড ‘ওয়াইডস্প্রেড’ বা ‘সিস্টেমেটিক’ (ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগত) অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। যদি এর আওতায় না পড়ে, তাহলে বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি পড়ে, তাহলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আরও পড়ুন চিফ প্রসিকিউটর / সাগর-রুনি হত্যায় এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততার তথ্য মিললো তিনি বলেন, আজ নওশের আলম একটি লিখিত আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। তারা প্রত্যাশা করছেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করুক। অথবা তদন্তে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পিবিআইকে দিয়ে সহযোগিতা করা হোক। আমিনুল ইসলাম বলেন, নওশের আলম যে আবেদন দিয়েছেন, সেটার ওপর তদন্ত করার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আছে, তা আমি জানি না। আবেদনটি তারা দিয়েছেন, আমরা খতিয়ে দেখবো। আবেদনে যা বলা হয়েছে নওশের আলমের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২টা থেকে পরদিন সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পার হলেও এখনো এ মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র‍্যাবের পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তবে টাস্কফোর্স গঠনের প্রায় দুই বছর হতে চললেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। নওশের আলম আবেদনে বলেন, পরিবারের সদস্যরা চান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনুক। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। আরও পড়ুন ডিভাইস মিসিংয়ের সূত্রে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় নতুন ক্লু অভিযোগটি ‘কমপ্লেইন্ট’ হিসেবে রেজিস্টারভুক্ত করে মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানান তিনি। যেভাবে তদন্ত এগিয়েছে সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তভার যায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি)। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব। ঘটনার এক যুগ পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। গত বছরের নভেম্বরে র‍্যাবের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই। আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার তারিখ এখন পর্যন্ত ১২৯ বার পিছিয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এফএইচ/ইএ

গণপূর্তের কাঠের কারখানায় ভুতুড়ে নীরবতা, সরকারি সব কাজ পাচ্ছে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান
গণপূর্তের কাঠের কারখানায় ভুতুড়ে নীরবতা, সরকারি সব কাজ পাচ্ছে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান

  রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানা। একসময় সেখানে তৈরি হতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দরজা-জানালা, আদালতের আসবাব, বিভিন্ন দপ্তরের কক্ষের টেবিল-চেয়ার, এমনকি শৈল্পিক কাঠের নকশাও। কর্মচঞ্চল সেই কারখানাজুড়ে এখন কেবল ভুতুড়ে নীরবতা। যেসব শেডে সারা দিন কাঠ কাটার শব্দ, মেশিনের গর্জন আর শ্রমিকদের ব্যস্ততা থাকত; সেখানে পড়েছে ধুলাবালির স্তর। প্রায় এক দশক ধরে কার্যত অচল হয়ে থাকা সরকারি এ কারখানার আশপাশে যদিও গড়ে উঠেছে আসবাবের অনেক কারখানা ও দোকান। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যাচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের হাতেই। আর সেগুলো পাইয়ে দিতে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য রুচিশীল ও আলংকারিক কাঠের আসবাব তৈরির উদ্দেশ্যে পাকিস্তান আমলে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় যুক্ত করা হয় কাঠ প্রক্রিয়াকরণের আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। দীর্ঘ সময় ধরে এখান থেকেই সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন স্থাপনায় প্রয়োজনীয় কাঠের সামগ্রী। বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চালাতে কারখানার ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক। কিন্তু এক দশক আগে নানা কারণ দেখিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সরকারি প্রকল্পের আসবাব তৈরির কাজ চলে যায় আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয়। গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, সরকারি বিভিন্ন ভবনে গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত দরজা-জানালা ও কাঠের আসবাবের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রকল্পে উদ্বোধনের আগেই দরজা-জানালা নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অথচ অতীতে সরকারি কাঠের কারখানায় তৈরি আসবাব এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে, যার মান নিয়ে নেই তেমন অভিযোগ। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-৬ নম্বরে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্পের পাশে থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানার মূল ফটক বন্ধ। আবাসন প্রকল্পের ভেতর দিয়ে বিকল্প পথে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিশাল চত্বরজুড়ে সারিবদ্ধ ১৫টি শেড। রয়েছে কারখানা, মেকানিক্যাল স্টোর, গ্যারেজ ও স্টাফ কোয়ার্টার। কিন্তু অধিকাংশই তালাবদ্ধ। কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কিছু আসবাব। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ফাটল ধরেছে ভবনগুলোর দেয়াল, ছাদের টিন মরিচা ধরা, চারপাশে জরাজীর্ণ পরিবেশ। আবার একটি শেডে হাঁস-মুরগি লালনপালন করতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইএম কাঠ কারখানা উপবিভাগ গণপূর্তের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। অন্তর্বর্তী সরকার সেটি পুনরায় সচলের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পরবর্তী সময়ে তা আর এগোয়নি। বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্তের ইএম কাঠের কারখানা উপবিভাগের প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন ডেইলি ভয়েস নিউজ কে  বলেন, ‘চালু হয়নি ব্যাপারটা সে রকম না। বিভাগটির কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় দুই শতাধিক ছোট-বড় আসবাবের কারখানা ও শোরুম গড়ে উঠেছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আসবাবের বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া হয়। ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালগুলোকে সম্প্রতি ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আসবাব সরবরাহে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কাজ দেয়া হয়েছে নয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের দরপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে অংশ নেয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর যান্ত্রিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট, সিজনিং প্লান্ট, ল্যাকার প্লান্টসহ কাঠ ও ইস্পাতের আসবাব উৎপাদন কারখানা থাকা বাধ্যতামূলক। তবে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পেয়েছে তাদের অনেকেরই কোনো প্লান্ট নেই। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাঠের সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। উন্নয়ন প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের ঘটনা বারবারই ঘটছে। আর এর জন্য এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একটি অংশ পারস্পরিক যোগসাজশে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বা কাটমানির বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলনের মতো অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এসব অনিয়মের তদন্তও একই প্রভাববলয়ের ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে আসবাবপত্র ও কাঠসংক্রান্ত ক্রয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেটিও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি উদাহরণ। এসব ঘটনা প্রমাণ করে এখনো সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে।’ জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেটিকে অকার্যকর রেখে একই ধরনের পণ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের যৌক্তিকতা নেই। বরং সরকারি কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা গেলে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ রেখে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি কাজ করানোর পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ডেইলি ভয়েস নিউজ কে তিনি বলেন, ‘বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের সময়ে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার একটি বড় অংশ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। দুঃখজনকভাবে সেই চর্চার ধারাবাহিকতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু কীভাবে গণপূর্তের কাঠের কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, কেন বন্ধ হলো এবং সে সিদ্ধান্তের কোনো দালিলিক ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না—এটি প্রশাসনিক জবাবদিহির বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।’ কারখানাটি বন্ধ থাকার ফলে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে এবং এর জন্য কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কারখানাটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা।’ প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানাটি পুনরায় চালু করা গেলে সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত কাঠের আসবাব ও সরঞ্জামের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তার মতে, নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকলে সরকারের একদিকে যেমন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, অন্যদিকে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহও নিশ্চিত করা যাবে। খালেকুজ্জামান চৌধুরী  ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘নিজস্ব কারখানা থাকলে আমাদের অনেক সুবিধা হয়। ঠিকাদারদের মাধ্যমে সবসময় ভালো মানের উপকরণ পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজস্ব কারখানা থাকলে আমরা নিজেরাই মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। বিশেষ করে আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য যেসব আসবাবপত্রে তুলনামূলক কম অলংকরণ থাকে, সেগুলো নিজস্ব কারখানাতেই দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন করা সম্ভব।’ একসময় কারখানাটিতে বিপুলসংখ্যক ওয়ার্ক-চার্জড কর্মী কাজ করতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবসরের পর তাদের পদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানাটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে নতুন জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে সরকারি এ উৎপাদন ইউনিট আবারো সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকায় বসা নিয়ে তর্ক বির্তক ঘুষির আঘাতে একজনের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়।       ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।       হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান।       তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি।   এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান।       এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাগজ পরীক্ষায় ‌কারসাজি
২১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাগজ পরীক্ষায় ‌কারসাজি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৩১ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে পুরোদমে। কাজ পাওয়া ছাপাখানায় কাগজ দিচ্ছেন কাগজকল মালিকরা। তাতে করা হচ্ছে মুদ্রণ। নিয়ম অনুযায়ী- মুদ্রণের আগে কাগজকল থেকে আসা কাগজের মান ল্যাবে (পরীক্ষাগার) পরীক্ষা করা হয়। কাগজ মানে উত্তীর্ণ হলে তাতে ছাপার অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই ছাপার এ কাগজ পরীক্ষায় ঘটছে ভয়াবহ কারসাজি। নিম্নমানের কাগজও পেয়ে যাচ্ছে অনুমোদন। কোনো ল্যাব (পরীক্ষাগার) টেস্ট ছাড়াই ঘুসের বিনিময়ে নিম্নমানের কাগজের অনুমোদন দিচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ভাড়া করা নামসর্বস্ব একটি ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান। টেন্ডারের মাধ্যমে ৫২ লাখ টাকায় তদারকির কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি’। এ বছর মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণি ও ইবতেদায়ির ২১ কোটি ২৮ লাখেরও বেশি পাঠ্যবই ছাপা ও কাগজ তদারকির দায়িত্ব পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বই ছাপাতে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। অথচ কাগজ পরীক্ষার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবের অধিকাংশ মেশিন নষ্ট। নেই স্থায়ী কোনো কেমিস্টও (কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ)। আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ের ভূতুড়ে চাহিদায় ৩০০ কোটি টাকা লুটপাটের ছক অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি বড় ছাপাখানার মালিক যোগসাজশ করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে ছাপাখানাগুলো এ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হাজার হাজার টন নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছে। এমনকি কাগজকলগুলোর কেমিস্টরাই (বিশেষজ্ঞ) এসে স্বতন্ত্র তদারককারী এ প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে কাগজ পরীক্ষা করে ছাড়পত্র বানিয়ে নিচ্ছেন। অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে নিম্নমানের কাগজ। তাতেই চলছে বই ছাপা। পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কাজ পাওয়ার জন্য ধার করা মেশিন এনে ল্যাবে রেখেছিল। কাজ পাওয়ার পর সেই মেশিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি এনসিটিবির নজরেও এসেছে। তদন্ত করে প্রমাণ মিললে প্রয়োজনে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার কথা ভাবছে এনসিটিবি। কাজ বাগিয়ে নিতে প্রতারণা পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপার মান ঠিক রাখতে প্রতি বছর স্বতন্ত্র ইন্সপেকশন (তদারকি) প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। টেন্ডারের মাধ্যমে এ নিয়োগ করা হয়। এবার চতুর্থ দরদাতা হিসেবে ইন্সপেকশনের কাজ পেয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। টেন্ডার মূল্যায়ন চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির অফিস, ল্যাব, কতজন কেমিস্ট ও কর্মচারী আছে, তা সরেজমিনে যাচাই করে এনসিটিবি। এবারও তা করা হয়েছে। কিন্তু ওই সময় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল তার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে মেশিন ধার করে ল্যাবে রেখেছিলেন। পাশাপাশি খণ্ডকালীন একজন কেমিস্টকে (বিশেষজ্ঞ) দেখানো হয়। আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ের ‘ভূতুড়ে’ চাহিদা ঠেকিয়ে শতকোটি টাকা সাশ্রয় অনুসন্ধানে জানা যায়, টেন্ডারের কাজ পাওয়ার পর মেশিনগুলো ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির ল্যাব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। আনা হয় পুরোনো ও নিম্নমানের কিছু মেশিন। এখন নেই কোনো কেমিস্টও। প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ বেলাল নিজেই এ ঘটনা স্বীকার করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেশিনগুলো আমার ছোট ভাইয়ের ছিল। রাগারাগি হওয়ায় ভাই মেশিনগুলো নিয়ে গেছে।’ ল্যাবে সরেজমিনে যা দেখা গেল মতিঝিলের সিটি সেন্টারের ২৫ তলায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিডি সার্ভিসেসের অফিস। সেখানে গত ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসে দুজন কর্মকর্তা ও একজন পিয়ন। তারা কম্পিউটারে একের পর এক ছাপাখানার কাগজের মানের প্রতিবেদন তৈরি করছেন। অথচ সেগুলোর কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে অনুমাননির্ভরভাবে কাগজের ওজন (জিএসএম), ব্রাইটনেস (উজ্জ্বলতা), বার্স্টিং ফ্যাক্টর (ফেটে যাওয়া প্রতিরোধক), অপাসিটি (চোখে দেখতে স্বস্তিদায়ক), বাল্ক (কাগজের পুরুত্ব), গ্লোস (চকচকে) ও স্টিফনেস (বেঁকে যাওয়া প্রতিরোধক) বসিয়ে দিচ্ছেন। অথচ পাশেই থাকা কাচঘেরা ল্যাব বা পরীক্ষাগারে কেউ নেই। নামসর্বস্ব কিছু মেশিন পড়ে আছে। কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। পরীক্ষার আয়োজনও নেই। আরও পড়ুন বই ছাপায় সিন্ডিকেট / আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি কিছুক্ষণ পরই অফিসে আসেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল। কেমিস্ট না থাকা ও ল্যাব অচল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শেখ বেলাল বলেন, ‘আমার কেমিস্ট আছে। তিনি এখন বাইরে।’ কেমিস্ট কখন আসবেন-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই। তবে টানা দুই ঘণ্টা তার অফিসে বসে থেকেও কেমিস্টের দেখা মেলেনি। একপর্যায়ে শেখ বেলালকে তার ল্যাবের মেশিনগুলো সচল কি না তা দেখাতে বলা হলে তিনি কাগজের জিএসএম মাপার মেশিনে পরীক্ষা করে দেখান। সেখানে একই কাগজ রাখার পর একবার ৬২ জিএসএম, আবার ৭২ জিএসএম দেখাতে থাকে। এতে মেশিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে শেখ বেলাল নিজেই বলেন, ‘হয়তো এখন মেশিনের মাথায় গন্ডগোল হয়েছে।’ বাকি মেশিনগুলো কেমিস্ট ছাড়া সচল করা যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আরও পড়ুন ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপাবে এনসিটিবি, খরচ ১৭০০ কোটি টাকা একইভাবে কোপ টেস্টার মেশিন দিয়ে কাগজের পানি শোষণের সক্ষমতা এবং বাস্টিং ফ্যাক্টর মেশিন দিয়ে কাগজের ছেঁড়ার প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এ দুটি মেশিনও অকেজো। ল্যাবের এমন বেহাল দশার ছবি ও কাগজ পরিমাপে অসামঞ্জস্যতার ভিডিও জাগো নিউজের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এনসিটিবির মিনি ল্যাবেও ভুয়া মেশিন সরবরাহ! ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডি নামের এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু নিজের অফিসের ল্যাবেই অচল মেশিন রেখেছে, তা নয়। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে বসানো মিনি ল্যাবেও ভুয়া মেশিন দিয়ে প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজ পাওয়ার চুক্তির শর্ত অনুযায়ী- পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অফিসে সব মেশিন দিয়ে একটি মিনি ল্যাব তৈরি করে দিতে হয়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি যে ল্যাব বসিয়ে দিয়েছে, তাতে ব্রাইটনেস মাপার মেশিন না দিয়ে হোয়াইটনেস মাপার মেশিন দিয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে হোয়াইটনেস মেশিনে ব্রাইটনেস মেশিনের নাম-কাজসহ বিস্তারিত তথ্যের লেবেল লাগিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এ দুটি মেশিনের কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আরও পড়ুন প্রাথমিকের বই ছাপায় অগ্রগতি, মাধ্যমিকে মাত্র শুরু কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞরা (কেমিস্ট) জানান, ব্রাইটনেস ও হোয়াইটনেস পরীক্ষার মেশিন আলাদা। ব্রাইটনেস হলো- কাগজ নির্দিষ্ট আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে কতটা আলো প্রতিফলিত করে তার পরিমাপ। আর হোয়াইটনেস হলো- কাগজ কতটা সাদা তা পরিমাপ করে। কিন্তু এনসিটিবি এবার সাদা কাগজে বই ছাপাচ্ছে না। ফলে হোয়াইটনেস মেশিন দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। কাগজকলের লোক দিয়েই মান পরীক্ষা! বই ছাপার কাগজ সরবরাহে দেশীয় কাগজকলগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রেশ পেপার মিল। এবারও ছাপাখানাগুলোতে কাগজ দিচ্ছে ফ্রেশ। অথচ এ কাগজল কলে চাকরি করা একজনকে খণ্ডকালীন কেমিস্ট নিয়োগ করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। ওই কেমিস্টের নাম আব্দুল্লাহ আল শাকিল। এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কেমিস্ট শাকিল বিনা বেতনে কাজ করছে। মূলত ফ্রেশ পেপার মিলের পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, ফ্রেশের দেওয়া কাগজই আবার তৃতীয়পক্ষের হয়ে ফ্রেশে চাকরি করা শাকিল বৈধতা দিচ্ছেন। এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত।’ বিষয়টি নিয়ে কেমিস্ট আব্দুল্লাহ আল শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ওখানে (ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি) চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। কিন্তু চাকরি তো করি না।’ কিন্তু তার নাম ও মোবাইল নম্বরসহ একটি তালিকা এনসিটিবিতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক তাকে কেমিস্ট দাবি করেছেন, বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’ আরও পড়ুন এইচএসসি পরীক্ষা / ৫ বছর পর পূর্ণ সিলেবাস, সময় স্বল্পতায় প্রস্তুতির ঘাটতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘শাকিল যে ফ্রেশের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, তা জানতাম না। জানলে তাকে নিতাম না।’ কাগজ অনুমোদনে টনপ্রতি ঘুস! এবার ৩১ কোটি বই ছাপাচ্ছে এনসিটিবি। এতে কাগজ প্রয়োজন হচ্ছে ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তার মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ২১ কোটির বেশি বই ছাপাতে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন কাগজ লাগবে। এ কাগজের মান যাচাই করছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি। এরই মধ্যে নামকাওয়াস্তে পরীক্ষা করে প্রায় তিন হাজার টন কাগজ অনুমোদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।- অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা, চেয়ারম্যান, এনসিটিবি অভিযোগ রয়েছে, কাগজকল ও ছাপাখানা মালিকরা যোগসাজশ করে টেন্ডারে যে মানের কাগজে বই ছাপার কথা বলা হয়েছে, তার থেকে নিম্নমানের কাগজ দিচ্ছে। এ অনিয়ম ধরার দায়িত্ব ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু টনপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা করে ঘুস নিয়ে নিম্নমানের কাগজও ছাড় করিয়ে বৈধতা দিচ্ছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি। সম্প্রতি দোয়েল প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা প্রিন্টার্স, ইস্টার্ন প্রিন্টার্স অফিসে বসে ছাপাখানা মালিক ও কাগজকল মালিকদের সঙ্গে দফারফা হয়। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন ছাপাখানা মালিক জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন পাঠ্যবই পরিমার্জনে দলমত বিবেচনায় নেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জাগো নিউজকে জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে শুরুতে টনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং মাঝামাঝি সময়ে টনপ্রতি দুই হাজার টাকা দিতে হবে। কারণ ছাপার শুরুর দিকে খারাপ কাগজ তুলনামূলক কম দেওয়া হয়। মাঝামাঝি ও শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে খারাপ কাগজ বেশি চালিয়ে দেওয়া হয়। সেজন্য দুই সময়ে দুই রকম রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘুসগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিক শেখ বেলাল বলেন, ‘এ অভিযোগ একেবারে মিথ্যা।’ কিন্তু পরক্ষণে তিনি একাধিক বড় ছাপাখানা মালিককে এ প্রতিবেদকের সামনে বসে মোবাইলে কল করে সহযোগিতা চান। সংবাদ যেন প্রকাশিত না হওয়া, তার জন্য তদবির করতে অনুরোধও করেন। সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের, নিয়ন্ত্রণে বড় কয়েকটি ছাপাখানা বিনামূল্যে পাঠ্যবই ছাপানোর সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের। কাগজকল, ছাপাখানা ও ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করেই প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এ কাজ করে। নিম্নমানের কাগজে বই ছাপিয়ে দিয়ে বিরাট অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন ছাপাখানা ব্যবসায়ে জড়িত বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে কাজ করলে বইয়ের মান ভালো হয়। কিন্তু কখনই তা করে না। কারণ ‍প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের কাগজ ও ছাপার কাজ ইন্সপেকশনে যে ‍দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়, তারাও ছাপাখানা মালিকদের হয়ে কাজ করে।’ আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ওসমান হাদির বীরত্বগাথা তোফায়েল খানের ভাষ্য, ‘কয়েকটি ছাপাখানা মালিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবির কর্মকর্তাদের পেছনে টাকা ঢেলে পছন্দের ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়। এ সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র ভাঙতে না পারলে পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপানোর মান কখনই ঠিক হবে না।’ যেভাবে কাজ করে ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান এ বছর এনসিটিবির বই ছাপার কাজ করছে ১১৪টি ছাপাখানা। ছাপাখানাগুলো বই ছাপার আগে যে কাগজ এনে রাখে, তা থেকে দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে (র‌্যানডম) কাগজ সংগ্রহ করে আনে ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। পরে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। টেন্ডারে যে বিষয়গুলো এবং তার প্যারামিটার ঠিক করে দেওয়া হয়েছে, তা কাগজে আছে কি না সেটি ল্যাবে পরীক্ষা করে এনসিটিবিকে প্রতিবেদন দেয় ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ছাপাখানাগুলোকে নির্দিষ্ট কাগজ অনুমোদন এবং বই ছাপা শুরু করতে নির্দেশনা দেয় এনসিটিবি। বই ছাপার কাগজ পরীক্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন পাঠ্যবই ছাপার কাজে কাগজ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাগজের ওজন, পুরুত্ব, উজ্জ্বলতা, চোখে সহনীয়, ছেঁড়া প্রতিরোধক, পানি শোষণ ক্ষমতাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হয়। কারণ শিক্ষার্থীরা এক বছর এ বই পড়ে। শিশুদের চোখের ক্ষতি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বই যেন সহজেই ছিঁড়ে না যায়; ছাপা যেন উঠে না যায় এবং পানি বা তরল পড়লে যেন টিস্যু পেপারের মতো গলে ছিঁড়ে না পড়ে, সে কারণে কাগজ পরীক্ষা করে তারপর বই ছাপানো হয়। বিপাকে এনসিটিবি, তবুও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বই ছাপার কাজ আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে হবে। বই ছাপাতে হলে কাগজের অনুমোদন করানোর নিয়ম রয়েছে। এ কারণে এখন হুট করেই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করলে বিপাকে পড়বে এনসিটিবি। তারপরও অভিযোগগুলোকে ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।’ এএএইচ/ইএ

রূপবতী ও রূপহীনাদের গল্প
রূপবতী ও রূপহীনাদের গল্প

গল্পটি প্রকাশিত হয় প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকীতে ২০০৫ সালের ১১ নভেম্বর। এত দিন শুধু কাগজের পাতাজুড়ে থাকা সেই গল্পটি আজ অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।শহরের রূপবতী এক কন্যা—অতিরূপসী, যেন দেবচন্দদিবাকর মোহনীয়া সে, খুব সম্ভবত যৌবনের দ্বারে উপনীত হওয়ামাত্র উন্নাসিকা হয়ে উঠেছিল দুর্দান্ত রূপের গরিমায়—স্পর্ধিত এক দেমাগে তখন সবকিছু তুচ্ছতাচ্ছিল্য; আর শহরের পুরুষ সকলের দৃষ্টির ঔত্সুক্যই তো প্রমাণ করে তত্তুল্য সুন্দরী এই শহরে আর একজনও নেই। সুতরাং দুর্বহ সৌন্দর্যের ঢেউ ভাঙে, ঝপাং শব্দ হরদম যখন–তখন, কিন্তু তারপরও একদিন, যে নাকি সর্বক্ষণ পুরুষের সম্ভ্রম ব্যবহার আর অদম্য কৌতূহলের লোভ–থই-থই নিমগ্ন দৃষ্টি দেখে অভ্যস্ত, সেই নারীর বিশ্বাসে ফাটল ধরিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে এক যুবক ওর অনিন্দ্যসুন্দর রূপশ্রী থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। সুন্দরী তরুণীর অকরুণ চিত্তের স্থির অহংবোধে যেন তির ছুড়ল কেউ অব্যর্থ হাতে, রূপসীর হৃদয় উপহত হলো ওর প্রতি যুবকের অনাগ্রহ ব্যবহার দেখে—এত দিন হৃদয় ওর থমকে-দমকে মহারানির মতোই পুরুষ মানুষের হৃদয়-রক্তের অনুলেহ দ্বারা স্নাত হয়ে আসছিল, সন্দেহ নেই যে পরমা সুন্দরী কুমারী সে, আর তার ওপর চর্চিত প্রসাধনে সে বরাবর অনন্যা—অধরোষ্ঠে রমণীয় হাসি তখনো মোহজনক, চোখের কজ্জল দর্শনে বিদ্যুত্স্পৃষ্টতার তড়িত্প্রবাহ, সে জানে তার চেহারায় কুহেলিকার উপলক্ষণের কথা, তারপরও কেন—কেন, কেন যে ওই দুর্বিনেয় যুবকের বৈমুখ্য!কন্যা বাড়িতে এসে ছুটে গেল আয়নার সম্মুখে। সেই মুখ-চোখ-নাক, সেই ভ্রূভঙ্গি—সব ঠিকঠাক আগের মতো, কাল যেমন ছিল, তবে কেন ওই দুর্মুখ যুবক মুখ ঘুরিয়ে তাকে রেখে অন্য কোনো বিষয়ে মনোযোগী হলো? কী এক উন্মন ভাবের সৃষ্টি হয় ওর রূপ-চৈতন্যে—লোকটি কি মানুষ! মানুষ হলে কী রূপ মানুষ!! ওর অস্তিত্বে এক নতুন দুর্বোধ্য ঢেউ জটিল অনুভূতি সৃষ্টি করে হঠাৎই ঝিকা মারে যেন, ভীষণভাবে বিষম খেয়ে এখন সে স্থির, আশ্চর্য স্থির হয়ে সে নিজেকে দেখছে। যুবক ওর সৌন্দর্যকে অবহেলা করেছে—প্রাবৃত অহংকারের হৃদয় এখন অনলে জ্বলছে, ক্ষুব্ধ মনে ফণা তুলে ফোঁস শব্দও তোলে কি তোলে না, জানি না, আর সে নিজেই কি জানে সে তখন কী করছে না করছে, কী জানি! ঘোরের ভেতর আয়নার কাচের ওপর দৃশ্যত নিজের প্রতিবিম্বের দিকেই তাকিয়ে আছে সে অনেকক্ষণ ধরে, সম্মুখের এই প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে সে স্বীয় প্রতিচ্ছবি দেখছে না, যেন অন্য কোনো দৃশ্য দেখছে, কিংবা কিছুই দেখছে না, সে শুধু বিষে জর্জরিত হয়ে একরূপ শীতল ছোবল অনুভব করতে থাকে অন্তরে অন্তরে। সখী, সখীরে, আজ আমার হৃদয়ে লেগেছে ঘাত, কোথায় বৈদ্য, কোথায় ওষুধ!দুই.এবার বলি এক অজানা শ্রীহীন কন্যার কথা—কন্যার রূপ নেই তো কী, যৌবন এল যথারীতি। তবে বাদ্যহীন বাজনায়, দীনহীন বেশে খুব নীরবে যেন, চুপি চুপি, কেউ জানল কি জানল না, যৌবনাবতীর দিকে কেউ ঔত্সুক্য নয়নে তাকাল না। কন্যাকুমারী যৌবনপ্রাপ্তির পর থেকেই শহরের পুরুষ সকলের দৃষ্টিতে দেখে আসছে অবজ্ঞা, উপেক্ষা, উদাসীনতা। এতে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। কখনো সে নিজের অন্তরের কাছে কিংবা অপরের কাছে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেনি। সে নিজের ভেতর এক বিশ্বাসের আত্মপ্রত্যয় গড়ে তুলতে পেরেছিল, যা তাকে ভাবতে সাহায্য করত পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় হওয়াই নারীর একমাত্র কাজ নয়, আরও অনেক দূরচরণীয় কাজ করার আছে নারীর জন্য—এ বিশ্বাস তার অটল, ধ্রুবতারার মতোই উজ্জ্বল, আজ পর্যন্ত চিড় ধরাতে পারেনি কেউ, আঁধারের ছায়া নামাতে পারেনি এ বোধে। আসলে সে একটি কঠিন বিষয়ের তুখোড় ছাত্রী ছিল। সমবয়সী পুরুষবন্ধুরা ওর প্রতিভায় ঈর্ষান্বিত হচ্ছে, প্রতিযোগিতায় তারা তার কাছে পরাস্ত, এতেই এই নারীর সুখ এবং এ নিয়ে তার ভালো লাগার জগৎ—বেশ তো আছে সে।বেশ তো ছিল সে, কিন্তু সেই-ই আজ অনুভব করল একজন মুগ্ধ দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। হ্যাঁ, এক সুদর্শন যুবকের দৃষ্টি-পুত্তলিতে নিজ ছায়া অনুমান করতে পেরে সে যেন নিমেষেই অন্য আরেকজন হয়ে গেল। যুবক গায়ক স্টেজে দাঁড়িয়ে গান গাইছে—প্রথমত আমি তোমাকে চাই—শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই। বিরাট হলঘরভর্তি মানুষকে উপেক্ষা করে যুবকের আগ্রহী দৃষ্টি যখন তার দিকেই ধাবিত হয়ে স্থির হচ্ছে, তখন সে ঘেমে-নেয়ে থির থির করে কেঁপে উঠছে। এরূপ কেন হচ্ছে তার—বুকের ভেতর রিনরিনি বৃষ্টির ধ্বনি, অনুপ্ত বাসনায় এ কী অজানা ভয়ংকর ঢেউ! শ্রীহীন কন্যার নারীমন এক আশ্চর্য লজ্জা আর সংসক্তির পুলকে দুলে উঠল—সে নত চোখে বসে বসে এই দৃষ্টিপাতের কারণ খুঁজল, পেল না—সে তখন নিজের সারাটি জীবন তছনছ করে খুঁজতে থাকে এরূপ দৃষ্টিতে আর কেউ ওর দিকে তাকিয়েছিল কি না, কিন্তু না, কে তাকাবে তার দিকে? এরূপ দুর্লক্ষ দৃষ্টিপাতের তাজ্জব-বাস্তব-সত্য ঘটনা এই প্রথম। ওই দুটি চোখের আমন্ত্রণভরা দৃষ্টির কারণে এই নারীর পুরোনো জগৎ পাল্টে একেবারে আলাদা এক নয়া জগতের সৃষ্টি হলো। সে জানতই না যে পুরুষের দৃষ্টিতে একরূপ আগুন থাকে, যে আগুনে কাগজের মতোই পুড়তে থাকে নারীর হৃদয়। কন্যাটির মধ্যে দ্বন্দ্ব-দ্বিধামিশ্রিত এরূপ জিজ্ঞাসাই বারবার ঘূর্ণির মতো চক্করবক্কর খেল, এ কীরূপে হয়, ওই যুবক কেন তাকায় তার দিকে, ওর শ্রীহীন মুখের দিকে তাকিয়ে সে কী খোঁজে, কী জানি, ভালোবাসা কী? তা কীরূপে হয়, অযতনে আঁচড়ানো চুল, প্রসাধনহীন ঠোঁট, গাল-চক্ষু সবই তো আগের মতো, তারপরও—ওই তো শেষবারের মতো আরেকবার তার দিকে তাকিয়েই সে গান শেষ করে স্টেজ থেকে চলে যাচ্ছে পর্দার বাইরে। বাড়ি এসে কন্যা ছুটে যায় আয়নার সম্মুখে। স্থির চোখে নিজ মুখ দেখে—হ্যাঁ, সেই চোখ-নাক-ঠোঁট-ভ্রূভঙ্গি সব ঠিকঠাক আগের মতোই, তবে কেন ওই গায়ক যুবক অলক্ষ্যে বারবার তাকাচ্ছিল তার দিকে? কেন?লোকটা কি মানুষ! কী রূপ মানুষ!দেবদূতের মতো আশিস হাতে নিয়ে সে স্বর্গের ছবি দেখিয়ে গেল তাকে। একঝলক আবেগ-স্পন্দন, সে কখনো ভুলবে না। এই যুবকের স্মৃতি, ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি তখন ফুলের মতো সুন্দর-মায়াবী হয়ে ফুটে উঠল।তিন.ওদিকে রূপবতী কন্যার চোখের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। মনে মনে ভীষণ গোসা তার—সে সময়মতো খায় না, গোসল করে না, সাজসজ্জায় মনোযোগ নেই, কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথাও বলে না, ওর প্রতিদিনের রূপসম্পর্কিত বিশ্বাসে ঘুণ ধরেছে—থই দিগন্ত ভাসমান অহংকারের প্রাবল্যে এক জ্বলন্ত বালির অবস্থা যেন—খালি পোড়ায়, জ্বালায়, শুধু ফোসকা পড়ে, সে এক অসহনীয় দুরবস্থা, আসলে অন্তরে সে সর্বক্ষণই যুবকের উদাসীনতা আর দৃষ্টির অবজ্ঞাই অনুভব করছে আর জ্বলছে। যুবককে উদ্দেশ করে নপুংসক গালি দেয় সে, কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারে—এরূপ আকর্ষণীয় পুরুষ সে এ জীবনে আর কখনো দেখেনি, ওর ঈপ্সিত পুরুষ এখন একটাই—অজস্র মুখের ভিড়ে ঘুরেফিরে ওই যুবকের মুখই তার মনে ফিরে ফিরে আসে—এ এক মুশকিল, আশ্চর্য, আশপাশের কত পুরুষই তো তার রূপের উত্তাপে পতঙ্গের মতো পুড়ে মরছে, কিন্তু তার হিসাব কে রাখে, হিসাবের মধ্যে শুধু আজ এক যুবক, হ্যাঁ, সেই যুবক কখনো উজ্জ্বল আর কখনো ছায়াময় হয়ে দুলতে থাকে। দূর হ দূর হ—কাক তাড়ানোর মতো যুবকের প্রতি তার অনুচ্চারিত দুর্বলতাকে তাড়াতে চেষ্টা করে সে। দুর্বলতা কিন্তু মনের এডাল–ওডালে উড়ে বেড়াচ্ছে। কুমারী তাকে শক্তপোক্তভাবে খারিজ করতে চেষ্টা করে—দূর ছাই, কী যে হচ্ছে তার, ক্রোধান্বিত হয়ে যদিও ফুসছে সে তখনো, তারপরও সুন্দরী অবাক হয়ে ভাবে, যুবক তাকে পাত্তাই দিল না! কী নেই আমার—ভ্রূকুঞ্চিত নারী ঠোঁট ফোলায়, যুবক গান গায় ভালো কথা, তাই বলে নারীর রূপের কদর করবে না! উপর্যুপরি জ্বালাই বাড়ছে তার, এ জ্বালা সাতসমুদ্দুর তেরো নদীর পানিতে স্নাত হলেও জুড়াবে না—যুবতী উন্মাদনায় অস্থির হয়ে ওঠে, মনের ভেতর অশান্তির জ্বাল বুনছে কেউ, জালে আটকা পড়ে যাচ্ছে সে; চোখ বন্ধ করে নারী—এরূপ জ্বাল থেকে রক্ষা করতে পারত একজনই, কিন্তু সেই যুবক—সে তো ওর প্রতি উদাসীন, যুবতী বুঝতে পারল যে অশান্তির সূচনা হলো আজ তার থেকে খুব সম্ভবত পরিত্রাণ নেই।চার.রূপহীন কন্যাটিও খায় না, গোসল করে না, কারও সঙ্গে কথাও বলে না, কেন যুবক ওই রূপে তাকাল—এক চাহনিতে সমস্ত জগৎ টালমাটাল—সখীরে, ভালোবাসা কারে কয় জিজ্ঞাসায় অন্তর যখন ব্যাকুল, তখন সে কোথায়?—নেই। হারিয়ে গিয়েছে। যাই হোক, সে তো রেখে গিয়েছে এক অপরূপ স্মৃতি। ওই দৃষ্টির স্মরণে সে শিহরিত হয়ে ভাবে, তবে এর নামই ভালোবাসা! সে কেন বাজায় বাঁশি। সখীরে, সে কেন বাজায় বাঁশি! অজস্র মানুষের ভিড়ে একটি মুখই তার মনের ভেতর দোল খেতে খেতে তাকে বেঁচে থাকবার স্বপ্ন দেখাতে লাগল। কিন্তু এরূপ প্রবল তৃষ্ণায় সে কীরূপ সর্বদাই অস্থির—সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর পানিতে এ তৃষ্ণা মিটবে না, তার নারীমন সেই মুখ আরেকবার দেখতে চায়। উন্মাদনায় অস্থির সেও—না, এর কোনো মানে হয় না, সে জানে, তারপরও সে অপেক্ষা করে।পাঁচ.কিসের তরে এই অপেক্ষা, কোথায় এর শেষ তা কি নিজেরাই জানে? কী একরূপ ঘোরের ভেতর তারা চিন্তা করে ওই যুবককে নিয়ে, ভিন্ন রকমের অনুভূতি কিন্তু ফলাফল একই রূপ থেকে যাচ্ছে, সে আবার আসবে এরূপ আশা দুজনই অন্তরে পোষণ করতে থাকল।রূপবতী কন্যা তার পটলচেরা চোখের তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করে—কন্যাকুমারীর কৃষ্ণ আঁখিতে একসময় ধূসরতার প্রলেপ পড়ে, কুঞ্চনের সৃষ্টি হয় চোখের কোলে, তারপরও নারীর নির্বোধ ভরসা সে আসবে, আসবেই, শুধু আরেকবার তার সঙ্গে দৃষ্টিমিলন হোক—এরূপ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সে একদিন অনূঢ়া অবস্থায় প্রৌঢ়া হলো।আর রূপহীনা নারীর হৃদয় ছুঁয়ে একজোড়া কৌতূহলী চোখ বহুদিন পর্যন্ত শুকতারার মতো মিটমিট করে জ্বলতে থাকল, সে–ও আর বিয়ে করে সংসারী হতে পারেনি, সে–ও অনূঢ়া অবস্থাতেই প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলো।ছয়.বহুদিন পর রূপবতী এক প্রৌঢ়া আর রূপহীন এক প্রৌঢ়ার গমনস্থল হলো এক গানের জলসা। স্রেফ সময় কাটানোর ফন্দি—মধ্যবয়সের সঙ্গীহীন জীবনের সময় যে কাটে না, হাবিজাবি করে করেই যতটুকু সময় ব্যয় করা যায়। বিদেশ থেকে গানের তালিম নিয়ে আগত এক প্রখ্যাত গায়কের গানের জলসা—জলসাঘরে লোকে লোকারণ্য। রূপবতী প্রৌঢ়ার এক চেয়ার বাদেই বসেছে রূপহীনা। রূপবতী তাকিয়ে আছে স্টেজের দিকে স্থিরচিত্তে, রূপহীনা–ও উসখুস দৃষ্টিতে তাকিয়ে। হঠাৎ সচেতন হয়ে উঠল রূপহীনা, একি, কে—ওই তো, স্টেজে উঠে আসছে যে, সে যে সেই, বহুদিনের আরাধনার পর তবে সত্য সত্য তার দেখা মিলল। সেই চেহারা, সেই গানের গলা, সুরের ভেতর আরও পরিপক্বতা, কিন্তু সে হয় কী করে, ওর নাম ছিল জালাল মাহমুদ, খুব সম্ভবত নামটি পাল্টে নিয়ে শোভন সরকার হয়েছে—হায় কপাল, মানুষ কীরূপ নাম পাল্টায়! সে যাই হোক, সেই যুবক আজ প্রৌঢ়ত্বের দ্বারে উপনীত হয়েছে এটা সত্য, কিন্তু লোকটির চেহারা কেন পাল্টায়নি?রূপবতী প্রৌঢ়া চোখ বন্ধ করে তন্ময় হয়ে গান শুনছিল, হঠাৎ কী মনে করে চোখ খুলতেই অবাক হয়ে গেল সে, মানুষটি যার চেহারায় বিশেষ পরিবর্তন না হলেও অন্য মানুষ মনে হচ্ছে। সেই শক্ত চোয়াল, ঘুরিয়ে নেওয়া দৃষ্টি এসব আর নেই। তা না থাক, কিন্তু সঙ্গে ওই যে মহিলা—না রূপবতী না রূপহীনা স্ত্রীলোকটিই কি তার স্ত্রী, না সফরসঙ্গিনী? ঠোঁট উল্টায় সে, কী জানি! মহিলার পরিচয় জানার ঔত্সুক্য বোধ করে সে। ভ্রূ কুঁচকায় রূপসী প্রৌঢ়া, জালাল মাহমুদ তবে আজকের খ্যাতিমান গায়ক শোভন সরকার, জালাল শোভন হয়ে লুকিয়েছিল এত দিন। শোভন সরকারের নাম কত শুনেছে সে, তবু কখনোই ভাবেনি শোভন আসলে জালালের আরেক নাম। রূপবতী কন্যার কাছে এটা একরূপ জোচ্চুরি মনে হলো।সাত.রূপবতী প্রৌঢ়া শোভন সরকারের মুখোমুখি হলো, দেখুন তো চেনা যায় কি না—এরূপ কথা দিয়ে মহিলা শুরু করেছিল।শোভন সরকারের প্রৌঢ় চোখ কৌতূহলে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।—একসময় আপনার প্রতি অমনোযোগী হয়েছিলাম। মনে আছে আপনার, আপনার অহংকারী চোখ সেদিন আহত হয়েছিল, ভেবেছিল কে এই মূর্খ যে রূপের কদর করতে জানে না—আমার চালাকি আপনি ধরতে পারেননি।প্রৌঢ়া কিছুটা বিস্ময় হয়ে তাকিয়ে রইল।—কিছুই বুঝতে পারছি না, কিসের চালাকি।প্রৌঢ় গায়ক হাসে, বলে আপনার দিকে সবাই তখন তাকাত, আমার বিশ্বাস এখনো তাকায়।রূপসী প্রৌঢ়া অতি তিক্ত কণ্ঠে বলে—তাতে কি, আপনি তো তাকাননি।—সেটাই তো চালাকি।প্রৌঢ় মিটমিট করে হাসছে।বলল, সবাই তাকায়, আমিও যদি তাকাই, তাহলে কি আমি আর আপনার চোখে আলাদা হতে পারতাম। রূপবতী প্রৌঢ়া রেগে লাল হয়ে বলল, আপনি তাকান বা না তাকান তাতে আমার কী? আমি কেন আপনাকে সবার থেকে আলাদা করে দেখব?প্রৌঢ় হাসছে।কী শান্ত হাসি, কী নির্মল—বলল, হ্যাঁ আমি জানি, আপনি কাউকে আলাদা করে দেখতে চান না, আমিও পারিনি আপনার চোখে আলাদা হতে।জ্বলন্ত দৃষ্টিতে প্রৌঢ়া তখন তাকিয়ে আছে বহু বছর আগের এক যুবক, আজকের প্রৌঢ়র দিকে। তুমি জালাল হও আর শোভন হও, কী লাভ হয়েছে এরূপ খেলায়। কিছু না, তবু খেলেছ, পুরুষের স্বভাবই বুঝি তা–ই।প্রৌঢ় এবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে রূপহীন প্রৌঢ়ার দিকে তাকাল, বলল—কেমন আছেন আপনি?রূপহীন প্রৌঢ়া কুমারী হৃদয়ের তপ্তশ্বাস নিয়ে বলল, ভালো আছি, কিন্তু আপনি আমাকে মনে রেখেছেন?—কেন মনে রাখব না? আপনার চোখে আলাদা হওয়ার জন্য কতবার তাকিয়েছি, আপনি হয়তো তা ভুলে গিয়েছেন।—না, ভুলিনি। কী করে ভুলি, আপনিই তো প্রথম এবং শেষ আমার দিকে মনোযোগী দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন, আপনাকে আমার মনে আছে।শ্রীহীন মধ্যবয়সী নারী কথার ফাঁকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। প্রৌঢ় গায়ক কেন যেন হঠাৎ মাথা নত করে ফেলে, বলে, বয়সের কিছু ঝোঁক থাকে, আমারও হয়তো মাঝেমধ্যে কিছু ঝোঁক চাপত মাথায়।তারপর অন্যমনস্ক হয়ে হাসে। মদোদ্ধত দিনের বিলসনের স্মৃতি ছায়া হয়ে কম্পন তুলেছে আজ তার প্রৌঢ় হৃদয়ে।আট.দুই প্রৌঢ়া কুমারীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রৌঢ় যখন অতীতে ডুবে যাচ্ছিলেন, তখন সেই না সুন্দর, না অসুন্দর মহিলাটি চলে এল, এসেই নিঃসংকোচে প্রৌঢ়ের হাত ধরে বলল, ‘তুমি এখানে, চলো চলো, যেখানেই মেয়ে মানুষ দেখো সেখানেই ছোক-ছোক।’ ছি! এ কী ভাষা মহিলার! কিন্তু এরূপ ভাষা শুনেও প্রৌঢ় লোকটি বোকার মতো হাসে, বাধ্য স্বামীর মতোই সেই মহিলার পেছন পেছন চলে গেল হলের বাইরে। হলের ভেতরটা শূন্য।

এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...
এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...

  ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ, চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। এবার সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় কেন্দ্রে আনা হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক থাকবেন। কোনো কক্ষে দুজনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। পাঁচ বাই ছয় ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে সেই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদিও সব বোর্ডে একই মানদণ্ড বজায় রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা এবং প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং আর মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৮৬৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বাংলা প্রথম প্রত্র দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা। চলতি বছর ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা। এর মধ্যে ১৪৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার ৪০টিই ঢাকায়। পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এগুলো হলো: পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল ও রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট, আর ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট হতে অন্তত সাত দিন আগে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করবেন। উত্তরপত্রে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ওএমআর ফরমে যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবেন পরীক্ষার্থীরা। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের মধ্যে লেখা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর (নন-প্রোগ্রামেবল) ব্যবহার করতে পারবেন। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবেন না। জরুরি যোগাযোগ ও সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রম এই কন্ট্রোল রুম থেকেই পরিচালনা করা হবে। সেজন্য ১টি টেলিফোন নম্বর, তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর এবং একটি ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার এবং সংবাদ স্ক্রলে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বরটি হলো- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়া যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫৬১০৩১৫২ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী
আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী

  এবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখানে প্রতিটি স্টল ঘুরে আমাদের মনে হলো দেশে নিউটন–আইনস্টাইনের অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী এখনে সময় প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেছেন। প্রতিজনকে প্রশ্ন করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান
সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান

  নিজস্ব প্রতিবেদক; পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা প্রধানদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার  বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, আইকিউএসি'র পরিচালক প্রফেসর ড. মাহবুব রব্বানী, আরটিসির পরিচালক প্রফেসর ড. মামুন-উর-রশিদ, অর্থ ও হিসাব বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডাইরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেলের পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার মিয়া ও মো. তানজিলুর রহমান, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক সৈয়দ নিজাম উদ্দিন এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রিয়াজ কাঞ্চন শহীদসহ বিভিন্ন দপ্তরের শাখা প্রধানরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হলে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি আরও বলেন, "অতীতে বিভিন্ন কারণে পবিপ্রবিতে শিক্ষার প্রত্যাশিত পরিবেশ ব্যাহত হয়েছিল। আমরা সবাই মিলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সেই পরিস্থিতি উত্তরণে কাজ করব। পবিপ্রবিকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা একটি 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স'-এ পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।" ভাইস-চ্যান্সেলর শাখা প্রধানদের  সততা, জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি দপ্তরের দক্ষ ও স্বচ্ছ কার্যক্রমই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে। শিক্ষার্থী কল্যাণ, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং গবেষণার প্রসারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।" মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক হকার্যক্রমের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।.

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকায় বসা নিয়ে তর্ক বির্তক ঘুষির আঘাতে একজনের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়।       ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।       হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান।       তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি।   এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান।       এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবসর ঘোষণার পর বিদায়ী ম্যাচে ডাক পেলেন মেসি, কবে কার বিপক্ষে খেলবেন?
অবসর ঘোষণার পর বিদায়ী ম্যাচে ডাক পেলেন মেসি, কবে কার বিপক্ষে খেলবেন?

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি। অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে অনুষ্ঠেয় প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে রাখা হয়েছে দলটির অধিনায়ককে। দেশের জার্সিতে মেসির আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা ও অধিনায়ককে তার প্রাপ্য বিদায় দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাপিয়া বলেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের দলের আইকন ও অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনায় একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’ অক্টোবরে আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবে তারা। একই ভেন্যুতে ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে মেসির মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে শেষবারের মতো মাঠে দেখার অপেক্ষায় থাকতে পারেন সমর্থকরা। তবে ম্যাচটিই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত বিদায়ী উপস্থিতি হবে কি না, সেটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার কারণে অক্টোবরের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদা। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর স্পেনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের ওপর দীর্ঘ মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমএমআর

দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী
দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী

  প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে।   দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।   তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

  দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।  একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা। এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদেশে খেলা প্রতিভা দেশে তোলা BFF–র চেষ্টায় — প্রবাসী ফুটবলারদের ‘ট্রায়াল’ ডাকা হলো
বিদেশে খেলা প্রতিভা দেশে তোলা BFF–র চেষ্টায় — প্রবাসী ফুটবলারদের ‘ট্রায়াল’ ডাকা হলো

Hamza Choudhury–র (লেস্টার সিটি) বাংলাদেশে খেলার ঘোষণা BFF–এর জন্য প্ররোচনা হিসেবে কাজ করেছে। স্পীডস্টার ফুটবলার হিসেবে তার অভিষেকের পর, BFF একাধিক প্রবাসী ট্যালেন্ট খুঁজে বের করে বাংলাদেশ দলে নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে। 🔹 বিদেশি মূল–বিশ্বে পরিচিত কিছু নাম শামীট সোম (Shamit Som/Shamit Shome): কানাডায় থাকা ২৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, কানাডার জাতীয় দলেরও অংশ ছিলেন। BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, তৈরি হয়েছে দুই সপ্তাহের সময়, যাতে তিনি ক্লাব ও কোচদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন । এর পাশাপাশি, ফাহামিদুল ইসলাম (ইতালির চতুর্থ বিভাগ), ফারহান মাহমুদ (ফ্রান্স), ক্যারিম হাসান স্মিথ, ইলমান মাতিন, ও আশিকুর রহমান (ইংল্যান্ড), নাবিদ আহমেদ (কানাডা), আমির সামি (যুক্তরাষ্ট্র) সহ ১৩ দেশের ৩২ জন বিদেশি খেলোয়াড় BFF–র নজরে এসেছে । 🔹 ট্রায়াল ও পরিকল্পনা BFF ছয় থেকে সাত দিনব্যাপী ১–৫ জুন ২০২৫ ট্রায়ালের আয়োজন করেছে ঢাকায়, যেখানে প্রবাসী ১৬–২০ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করা হবে । BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানান, এটি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি–বাংলাদেশি যোগ উইঙ্গার বা মিডফিল্ডার হিসেবে সম্ভাবনাময় জুড়ির একটি চেষ্টার অংশ en.wikipedia.org। 🔹 Hamza Choudhury–এর ভূমিকা ও প্রভাব Hamza–র বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্তির পরে BFF–র উদ্যোগ আরো জোরালো হয়েছে। তিনি অক্টোবর ২০২৪–এ FIFA অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের জন্য যোগ্যতা পান tds-images.thedailystar.net+3dhakatribune.com+3thedailystar.net+3। BFF–র প্রেসিডেন্ট তাবিথ আওয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সভুজ–এর সাথে UK’র King Power স্টেডিয়ামে দেখা করেন; এসময় Hamza–র সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করা হয় — যা BFF–র বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রলোভনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । BFF মূলত চায়, Hamza কেবল মাঠেই নয়,Pro-ফর্ম ও আন্তর্জাতিক মানে গাইড হিসেবে কাজ করুক এবং তাকে অনুসরণ করে অন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ দলে আসুক reddit.com+14jagonews24.com+14dhakatribune.com+14। 🔹 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সচরাচর বিদেশি জাতীয় দল ইতিবাচক ভাবে একাধিক ম্যাচের জটিলতা সামলে প্রবাসীদের গ্রহণে সময় নেয়, তবে BFF–র পরিকল্পনায় প্রথম ফোকাস থাকবে বিদেশে জন্ম বা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুববলদের, যেন তারা দ্রুত জাতীয় দলের সঙ্গে তাল মিলাতে পারে । সামিট সোম–এর জিপিএস–ম্যাপ হওয়া, স্কুলছাত্রদের টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা andere তরুণদের ধরে বাংলাদেশের শিবিরে যোগ দিতে ইচ্ছুক— জুজের পথ প্রশস্ত হতে পারে আগামী মাসগুলোতে। সংক্ষেপে বিষয় পরিস্থিতি প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩২ জন (১৩ দেশ) প্রধান উদাহরণ Hamza Choudhury, Shamit Shome ট্রায়াল সময় জুন ২০২৫ গতিগতি Hamza–র অভিষেক ও FIFA অনুমোদনের পর BFF–র আরো সক্রিয় পদক্ষেপ লক্ষ্য বিদেশি-প্রমাণ পয়েন্টে প্রয়োগযোগ্য ফুটবলারদের সন্ধান ও সংযোজন বিশ্লেষণ খেলোয়াড় sourced from Europe/N. America–এর সংখ্যা বাড়ছে—এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য স্বপ্নের সম্ভাবনা। Hamza Choudhury–র অভিজ্ঞতা মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। BFF–র লক্ষ্য, এই প্রবাসীদের inclusion–এর মাধ্যমে জাতীয় দলে গুণগত মান ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো—এতে SAFF, AFC, ও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় দলটি শক্তিশালী দাঁড়াতে পারবে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে BFF–কে পারমিট, ক্লাব-নমঞ্জুরি, এবং FIFA–এর clearance ত্বরান্বিত করতে হবে। পাশাপাশি ম্যাচফিটনেস ও জাতীয় আদর্শে খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত করতে হবে। প্রবাসী প্রজন্মের সুশৃঙ্খল তালিকাভুক্তকরণ প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নত করবে। Shamit Shome–এর মতো অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখগুলোর দ্রুত বাংলাদেশ দলে সংযোজন সম্ভাব্য হলে, ভবিষ্যতে প্রবল প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হবে না।

আগস্টেই আংশিক Camp Nou-তে ঘরোয়া ম্যাচের প্রস্তুতি
আগস্টেই আংশিক Camp Nou-তে ঘরোয়া ম্যাচের প্রস্তুতি

ফেসব্যাক্সট্ম Camp Nou রেনোভেশন প্রকল্প ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয়ে দীর্ঘ বিলম্বের পর, অবশেষে গ্যাম্পার ট্রফির মাধ্যমে ১০ আগস্ট ২০২৫ সালে ‘আংশিক’ কার্যক্রমে ফিরছে বার্সেলোনা। এই সময় পর্যন্ত ক্লাব ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মিল রেখেও রয়েছে ফিনান্সিয়াল ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, যা প্রকল্পকে ধাপে এগিয়ে দিয়েছে। সময়সূচির পরিবর্তন ও প্রগতির সারাংশ বার্সেলোনা থেকে ২০২৩–২০২৬ সময়ের ‘Espai Barça’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে Camp Nou পুনর্নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালের জুনে, যা শুরুতে ডিসেম্বরে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ সরাসরি এবং ২০২৬–এর গ্রীষ্মে সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে reuters.com+15padmagazine.co.uk+15fcbarcelonanoticias.com+15thisismoney.co.uk+3eurofootball.news+3reddit.com+3 । মাঠে বায়ো-হাইব্রিড ঘাস বসানো শুরু হয়েছে এপ্রিল ২০২৫–এ, যা মূল যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে । ১ম ও ২য় স্তরে প্রায় ৩৯,০০০ সিট বসানো সম্পন্ন, ৩য় শ্রেণির ভিত্তিক নির্মাণ চলছে ও VIP রিং‑এর কাঠামো তৈরি দ্রুতগতি পেয়েছে । আর্থিক পুনর্গঠন ও ঋণের অধঃবিন্যাস রেনোভেশনের জন্য €১.৪৫–€১.৫ বিলিয়ন ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে €৪২৪ মিলিয়ন বর্তমানে বন্ড ইস্যু করে, ২০২৮ থেকে ২০৩৩-৫০ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে পরিশোধ পরিকল্পনা করা হয়েছে । এই ধরণের আর্থিক পদক্ষেপ ক্লাবের বার্ষিক রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে স্পন্সরশিপ ও টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে €২০০–€৩৫০ মিলিয়ন সম্ভাব্যভাবে অর্জনের হিসেব আছে । প্রশাসনিক বাধা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া গ্যাম্পার ট্রফির আগে সিটি কাউন্সিল, ফায়ার সার্ভিস, মসোস দ’Esquadra ও UEFA-র সাথে বেশ কিছু পারমিট নিতে হবে as.com । বার্সেলোনা পাত্তা দিচ্ছে নেই, এবং আশা করছে জুলাই মাসে আংশিকভাবে লাইসেন্স পেয়ে যাবে । তবে, VIP সেকশন, পঞ্চম তলা, ছাদ অর্থাৎ “roof” ইনস্টলেশন ২০২৬ গ্রীষ্মে সমাপ্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে । ⚽ গ্যাম্পার ট্রফি ও স্বাগতম চান্স ১০ আগস্ট Trofeu Joan Gamper আংশিকভাবে নতুন Camp Nou-তে আয়োজনের পরিকল্পনা, যেখানে আনুমানিক ৫০,০০০–৬০,০০০ দর্শক অংশ নিতে পারে cincodias.elpais.com+13as.com+13elpais.com+13 । ছাদ ছাড়া, লিফ্ট, গ্যালারি, ভিআইপি এলাকা ও বাথরুমে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে — ক্লাব এটি “ট্রায়াল ফেজ” হিসেবে দেখছে, এবং ভক্তদের ধৈর্য কামনা করেছে । সারসংক্ষেপ উপাদান অবস্থা উল্লেখযোগ্য তারিখ মাঠ ও সিট ঘাস বসানো–সিটিং প্রায় সম্পন্ন এপ্রিল–মে ২০২৫ VIP/তৃতীয় শ্রেণি কাঠামো তৈরি প্রক্রিয়াধীন চলমান ছাদ বিলম্বিত, ২০২৬ গ্রীষ্মে সম্ভাব্য — পারমিট অপেক্ষমাণ, জুলাইয়ে মিলতে পারে — আংশিক খোলা গ্যাম্পার ট্রফি: ১০ আগস্ট ২০২৫ ১০ আগস্ট ২০২৫ পূর্ণ উদ্বোধন ২০২৬ গ্রীষ্মের দিকে — ঋণ পুনর্গঠন €৪২৪ মিলিয়ন বন্ড, ২০৩৩–৫০ পর্যন্ত সময়সীমা জুন ২০২৫ Spotify Camp Nou ইউরোপের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশের পথে; তবে নির্মাণ বিলম্ব এবং পারমিট-সংক্রান্ত বাধাগুলি টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জের শুরু। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন অর্থসঙ্কট সামলে রাখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ক্লাবের এখন মূল অগ্রাধিকার আছে — ১০ আগস্টে আংশিক রিটার্ন দিয়ে ফ্যানদের সাথে পুনঃমিলন ঘটানো। আর এটি যদি সাফল্যের সাথে সফল হয়, তাহলে পরবর্তী বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্যাপাসিটিতে ফিরতে সহজ পথ উন্মোচিত হবে।

আর্থিক সঙ্কটে ইতিহাসের গভীরে লিয়োন — প্রশাসনিকভাবে Ligue 1 থেকে Ligue 2-তে
আর্থিক সঙ্কটে ইতিহাসের গভীরে লিয়োন — প্রশাসনিকভাবে Ligue 1 থেকে Ligue 2-তে

ফ্রান্সের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন Olympique Lyonnais (OL) এক বিপদের মুখে পড়েছে — ক্রীড়া না খেলার কারণে নয়, বরং আর্থিক অস্বচ্ছতা ও ঋণ বোঝাইয়ের কারণে তাদের শাস্তি হিসেবে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভভাবে Ligue 1 থেকে Ligue 2-তে নামানো হয়েছে। কী ঘটেছে? LFP-র নিয়ন্ত্রক সংস্থা DNCG ২০২৪ সালের নভেম্বরেই Lyonকে আর্থিক অস্থিতিশীলতার জন্য সতর্ক করেছিল। তারপরও ক্লাব দেড়শো মিলিয়নের বেশি নিশ্চিত তহবিল না জমিয়ে জুনে তাদের নিশ্চিতভাবে অবনমনের নির্দেশ দেন aftonbladet.se+15beinsports.com+15en.wikipedia.org+15reddit.com+1reddit.com+1reddit.com+4indiatoday.in+4indiatoday.in+4। OL-এর মালিক John Textor আর ইকোনমিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে; যদিও মেডিয়া সেলস এবং প্লেয়ার ট্রান্সফার থেকে আয় ছিল, তাও DNCG-কে মিটাতে পারল না । ক্লাব ও মালিক অভিযোগ করছে, “আমরা যথেষ্ট তহবিল জমিয়েছি, এবং ঠান্ডা মাথায় দেখি কিভাবে এটা অলিম্পিক উইথ এফেল্ট করবে”—তাই তারা আপিল জমা দিয়েছে । আর্থিক পটভূমি & ঋণের পরিমাণ DNCG রিপোর্ট অনুযায়ী, OL-এর দেড়শো মিলিয়ন ইউরোর ঋণ আছে। John Textor-এর হোল্ডিং সংস্থা Eagle Football Group-এর দায়ও প্রায় €445–422 মিলিয়ন reddit.com+15ft.com+15indiatoday.in+15। ক্যাপিটাল ইনজেকশনের অধীনে Crystal Palace-এর একটি স্টেক বিক্রি করার পরও Lyon তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি indiatoday.in। ক্লাবের প্রতিক্রিয়া Lyon তাদের অবনমন "বিশ্বাসঘাতক ও অযৌক্তিক" বলেছে এবং দ্রুত apel (appeal) জমা দিয়েছে । প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবের মালিক কিছু কার্যক্রম নিয়েছেন: Crystal Palace থেকে স্টেক বিক্রি, নারী দলের বিক্রি, প্লেয়ার বিক্রয়াদি — যাতে নগদ প্রবাহ বাড়ানো যায় । ক্রীড়া প্রভাব যদিও Lyon লিগে ছয় নম্বরে শেষ করেছে এবং ইউরোপে জায়গা পেয়েছিল, প্রশাসনিক অবনমন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় বাধা হিসেবে দাঁড়াতে পারে indiatoday.in+13theplayoffs.news+13talksport.com+13। UEFA মাল্টি‑ক্লাব হয়রানির কারণে Lyon-এ Europa League-র কোটা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে; কৃষকভাবে তারা ডিসকোয়ালিফাইড হলে অন্য ক্লাব যেমন Strasbourg বা Crystal Palace প্রভাবিত হতে পারে । কি হতে পারে পরবর্তী ধাপ? DNCG‑তে আপিল: Lyon-এর আপিল সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে thekenyatimes.com+10as.com+10beinsports.com+10।   অর্থ সংকটের পুনর্মূল্যায়ন: ক্লাবকে সম্ভবত নতুন গ্যারান্টি দেখাতে হবে। যদি পুনরায় ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের স্থান ধরে নিতে পারে Stade Reims । ইউরোপ ব্যবস্থা: Lyon নিশ্চিত করতে চাইবে Europa League-এ খেলতে পারে কি না—UEFA-মাল্টি ownership বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সারসংক্ষেপ বিষয় বিবরণ স্থিতি DNCG-র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: Ligue 2-এ অবনমন ঋণের পরিমাণ প্রায় €422–445 মিলিয়ন যোগ্যতা Ligue 1-এ 6ম স্থান; ইউরোপে Europa League-এ জায়গা দেওয়া হয়েছিল ক্লাব প্রতিক্রিয়া “অযৌক্তিক” বলছে, আপিলে যাচ্ছে + ফান্ড সংগ্রহে কিছু সিদ্ধান্ত নেয় তারা ইউরোপীয় প্রভাব মাল্টি-ক্লাব ownership বিষয় নিয়ে UEFA সিদ্ধান্ত অপেক্ষায়   Olympique Lyonnais-বিশ্বের এক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব, তবে তাদের আর্থিক নীতির ভঙ্গ হয়েছিল বেশ কয়েকবার। উপরে উল্লেখিত সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও আপিল ব্যবস্থা তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে — কিন্তু তা না হলে দ্বিতীয় বিভাগে নামা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। ক্লাব ও সমর্থকদের নজর এখন শুধু খেলোয়াড়ি প্রতিযোগিতা নয়, বরং অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রক মান বজায় রাখা—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে থাকবে।

যুক্তরাজ্য–ইসরায়েল মুখোমুখি, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা—আন্তর্জাতিক চাপে কি নেতানিয়াহু
যুক্তরাজ্য–ইসরায়েল মুখোমুখি, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা—আন্তর্জাতিক চাপে কি নেতানিয়াহু

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি ও বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ইসরায়েলের এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছে, এই মুহূর্তে পাল্টাপাল্টি এ ঘটনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যসহ মোট ১২টি দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে; যদিও ইসরায়েলের ক্ষোভের সবচেয়ে বড় ধাক্কা যুক্তরাজ্যকেই সামলাতে হচ্ছে। লন্ডনের কর্মকর্তারা সব সময়ই জানতেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের নীতির এমন নাটকীয় পরিবর্তনের জেরে ইসরায়েলের কাছ থেকে বৈরী প্রতিক্রিয়া আসবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া যে এত দ্রুত ও তীব্র হবে, তা হয়তো ভাবতে পারেননি।ইসরায়েল গত সপ্তাহে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকেও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়েছে, যা খুবই বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীরে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো এবং রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা হতো।লন্ডনের কর্মকর্তারা সব সময়ই জানতেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের নীতির এমন নাটকীয় পরিবর্তনের জেরে ইসরায়েলের কাছ থেকে বৈরী প্রতিক্রিয়া আসবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া যে এত দ্রুত ও তীব্র হবে, তা হয়তো ভাবতে পারেননি।আর গত বছর প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টারটির কাজ ছিল, গাজা উপত্যকায় স্থিতিশীলতা ফেরানো ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করা।এ থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাজ্য ও আরও ১১টি দেশের নেওয়া পদক্ষেপে ইসরায়েল কতটা গভীর উদ্বিগ্ন। যদিও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্য ইসরায়েলের মোট রপ্তানির খুব বড় অংশ নয়। কিন্তু এসব পণ্যকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক।পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স ও কানাডাও রয়েছে।ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বাড়ি। ১৪ আগস্ট, ২০২৬ বহু বছর ধরেই যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ বলে মনে করে আসছে, তবে এত দিন তারা এসব বসতিতে উৎপাদিত বা চাষ করা পণ্য নিষিদ্ধ করার পথে যায়নি।২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক রায়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতিসহ পুরো দখলদারত্ব বেআইনি বলে ঘোষণা করেন। যুক্তরাজ্য ওই রায়ের সঙ্গে একমত ঘোষণা করেছে। —এড মিলিব্যান্ড, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের জন্য এরাই দায়ী। আর ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, এটা সত্যিই বিস্ময়কর।এখন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলছেন, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও এটির (পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্ব বেআইনি মনে করা) প্রতিফলন থাকা উচিত।তবে শুধু পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বসতিগুলোয় নির্মাণকাজ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা অর্থায়নে সহায়তা করে—এমন কোম্পানিগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে এমন অস্ত্র বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেগুলো দখলদারত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।এসব পদক্ষেপ অনেকের কাছে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি কঠোর মনে হয়েছে।এড মিলিব্যান্ড নিজে একজন গর্বিত ব্রিটিশ ইহুদি। তিনি সব সময় ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি নিজের অবিচল সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এরপরও তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের প্রায় সবার চেয়ে খোলাখুলি ও স্পষ্ট ভাষায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সমালোচনা করেছেন।মিলিব্যান্ড বলেছেন, ‘ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের জন্য এরাই দায়ী। আর ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, এটা সত্যিই বিস্ময়কর।’২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক রায়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতিসহ পুরো দখলদারত্ব বেআইনি বলে ঘোষণা করেন। যুক্তরাজ্য ওই রায়ের সঙ্গে একমত ঘোষণা করেছে।পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর যুক্তরাজ্যের এ নিষেধাজ্ঞাকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে এক ‘নতুন শুরুর’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছেন মিলিব্যান্ড।যদিও ইসরায়েল–যুক্তরাজ্যের গত সপ্তাহের ঘোষণাগুলো শুনে অনেকের কাছে মনে হয়েছে, এটি যেন তাদের নীতিতে একেবারে আমূল পরিবর্তন। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। —হুসাম জোমলট, লন্ডনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতব্রিটেনের সাহসী পদক্ষেপগুলো ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথ সুগম করতে সহায়তা করবে।অনেক ইসরায়েলিও মনে করেন, বসতি স্থাপনকারীদের কারও কারও সহিংস ও উগ্র মতাদর্শ ভীষণ উদ্বেগজনক। কেউ কেউ তাঁদের দেশের জন্য লজ্জার কারণ বলেও মনে করেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে দখল করা ভূখণ্ডে গড়ে তোলা ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ মনে করেন।পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাঅধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সাপ্তাহিক পরিদর্শনের সময় পাহারা দিচ্ছেন ইসরায়েলি সেনারা। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট গত বছর তাঁর উত্তরসূরি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে ‘আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে রাষ্ট্রে’ পরিণত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। অধিকাংশ ইসরায়েলিই যে তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।তবে আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দার চাপ যে ক্রমেই নেতানিয়াহুকে ঘিরে ফেলছে, সেটি ইসরায়েলিরা অনুভব করতে পারেন। ইউরোভিশন কিংবা বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং এখন বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে এ পরিস্থিতি ইসরায়েলিদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং তাঁরা আত্মরক্ষামূলক মনোভাবের দিকে ঝুঁকছেন।আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দার চাপ যে ক্রমেই নেতানিয়াহুকে ঘিরে ফেলছে, সেটি তাঁরা অনুভব করতে পারেন। ইউরোভিশন কিংবা বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং এখন বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে এ পরিস্থিতি ইসরায়েলিদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং তাঁরা আত্মরক্ষামূলক মনোভাবের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি লক্ষ্যপূরণের পথে দারুণ অগ্রগতি মনে হতে পারে।ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবং ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।লন্ডনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট ব্রিটিশ সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে ‘যুক্তরাজ্য ও ফিলিস্তিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য কেন কঠোর পদক্ষেপ নিলরাষ্ট্রদূত জোমলট বলেন, ‘ব্রিটেনের সাহসী পদক্ষেপগুলো ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথ সুগম করতে সহায়তা করবে।’কিন্তু জোমলট জানেন, বাস্তবতা ভিন্ন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ৫৯ বছরের দখলদারত্ব শেষ হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। এমনকি এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনও আসেনি।একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনো অত্যন্ত ক্ষীণ। আর আপাতদৃষ্টিতে ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখল করে নেওয়ার যে অনিবার্য প্রক্রিয়া চলছে, ১২টি দেশের সম্মিলিত পদক্ষেপে তা থামবে—এমন লক্ষণও এ পর্যন্ত খুব কম। এমন প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের আছে।১৯৯১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক শামিরের সরকারের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের নিশ্চয়তা আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কারণ, কট্টরপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত শামির যুক্তরাষ্ট্রকে এ প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন যে তাঁর সরকার এ অর্থ দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কাজে ব্যবহার করবে না।বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ঠেকানোর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিতে আগ্রহ দেখাননি।

সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের। সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের কারণে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ব্যক্তিদের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে। আরও পড়ুন মক্কার দক্ষিণে ড্রোন হামলা, সৌদির হুঁশিয়ারি একই সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্থানীয় আইন নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সৌদি আরবের কিছু এলাকায় ঝুঁকি আরও বেশি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাই এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। পাশাপাশি, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আরও পড়ুন পাইপলাইন বন্ধ / সৌদির তেল ফুরিয়ে যেতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই সম্প্রতি পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুথিরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। তবে, ড্রোনটি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় পবিত্র মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি) এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করে এজন্য হুথিদের দায়ী করেছে। একই সঙ্গে ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান হামলারও নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। আরও পড়ুন মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, জানাল সৌদি আরব এদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন হয়। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর লোহিত সাগরপথে তেল পরিবহন নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও মার্কিন নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভ্রমণ সতর্কতা এখনো ‘লেভেল ৪—ভ্রমণ করবেন না’ পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েমেনে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/

ট্রাম্পের ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামবেন মামদানি
ট্রাম্পের ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামবেন মামদানি

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। বিধির আওতায় সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। দেখুন ভিডিওতে...

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার কি ‘স্টার ওয়ার্স’ শুরু করবে দেশটি
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার কি ‘স্টার ওয়ার্স’ শুরু করবে দেশটি

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে, মহাকাশে তাদের অস্ত্র মোতায়েন করা রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি (বাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা) ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক বলেন,‘বরাবরের মতো আজও আমরা নিশ্চিত করে বলছি, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক না কেন, তা মোকাবিলার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত থাকি।’ট্রয় মেইঙ্ক, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারিশুধু আকাশেই নয়, মহাকাশেও আমরা আমাদের আধিপত্য বজায় রাখি, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মেইঙ্ক আরও বলেন, ‘এ কারণেই এখন স্পেস ফোর্সের কাছে কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যেটি শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম। প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ।’প্রশ্নোত্তর পর্বে মেইঙ্ক নিজের ওই বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি শুধু জোর দিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’।ট্রয় মেইঙ্কের বরাতে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে।মেইঙ্ক বলেন, ‘শুধু আকাশেই নয়, মহাকাশেও আমরা আমাদের আধিপত্য বজায় রাখি, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে কোনো শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটকেও ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ সম্ভব।শত শত উপগ্রহের সমন্বয়ে তৈরি ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার নকশা নির্বাচন করলেন ট্রাম্পমহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে সেগুলো গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে কোনো শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময় প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের চালু করা স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রকল্পটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।গোল্ডেন ডোম কর্মসূচির বিষয়ে ঘোষণা দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর পাশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস, ওয়াশিংটন ডিসি, ২০ মে ২০২৫রিগ্যানের উচ্চাভিলাষী এ কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা পরিত্যক্ত হয়। এ কর্মসূচির অধীন প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।গত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনাকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ বলে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘গোল্ডেন ডোম’ কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া—এ চার দেশ স্যাটেলাইট–বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।ট্রাম্প কি যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘গোল্ডেন ডোম’ তৈরি করতে পারবেন২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সফলভাবে সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে। সে সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি।রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেবে

ইমরান খানের জন্য মানবিক আবেদন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাত অধিনায়কের
ইমরান খানের জন্য মানবিক আবেদন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাত অধিনায়কের

পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দী দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানে তাঁর এই বন্দিজীবন নিয়ে মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দেশটির সাতজন সাবেক অধিনায়ক।পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ। তাঁরা সবাই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। সবাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তাঁরা ‘কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন; বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কথা বলার তাগিদ অনুভব করেই এই চিঠি লিখেছেন’।চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘এই (সাবেক অধিনায়কদের) দল জনাব খানের বিরুদ্ধে চলা আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।’ বিষয়টি সম্পূর্ণ পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যাপার। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, কারাবন্দী যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে এবং ‘রাজনীতি যা–ই হোক না কেন, এটি মানবতার মৌলিক বিষয়’।অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানকে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো ইমরানের পক্ষে খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের তরফ থেকে আসা এটিই সর্বশেষ আবেদন।নতুন এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ, আইনি সহায়তার সীমিত সুযোগসহ কারাগারে ইমরানের স্বাস্থ্য ও তাঁর প্রতি আচরণের বিষয়টি নিয়ে তাঁর ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বর্তমান চিকিৎসাসেবা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার তুলনায় অপ্রতুল।সেই চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়—১. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড—যাতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরাও অন্তর্ভুক্ত আছেন—তাঁকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া, বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। ২. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ কোনো ধরনের বাধা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই নিশ্চিত করা। ৩. স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, সে অনুযায়ী চিকিৎসকদের প্রস্তাবিত চিকিৎসা অবিলম্বে প্রদান করা।ওরা বাবাকে জেলের ভেতরেই মেরে ফেলতে চায়: শঙ্কা ইমরান খানের দুই ছেলেরচলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কের স্বাক্ষরে পাঠানো প্রথম চিঠির ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় চিঠি পাঠানোর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর পাকিস্তানের সাবেকদের মধ্যে জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খান ইমরানের সুচিকিৎসা ও মুক্তির আহ্বান জানান। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা ও মাইকেল হোল্ডিংও ইমরান খানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।নতুন এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ, আইনি সহায়তার সীমিত সুযোগসহ কারাগারে ইমরানের স্বাস্থ্য ও তাঁর প্রতি আচরণের বিষয়টি নিয়ে তাঁর ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।The Australian government has been urged to contact Pakistan officials over the treatment of cricket legend Imran Khan, with his detention labelled a “matter of basic humanity”.LATEST ▶️ https://t.co/yHPnt6QaQz pic.twitter.com/Gyx7zlo73m— CODE Cricket (@codecricketau) September 15, 2026 অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাতজন অধিনায়কের এই দলের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল, তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলা ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান খান এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।ইমরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে হোল্ডিং বললেন, ‘কেউ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে না’

এমিতে না গিয়েও টেলর সুইফটের চমক, টম ক্রুজের সঙ্গে দেখা গেল তাকে
এমিতে না গিয়েও টেলর সুইফটের চমক, টম ক্রুজের সঙ্গে দেখা গেল তাকে

এমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে ছিলেন না টেলর সুইফট। তবে অনুষ্ঠানে তাকে নিয়ে ছিল বিশেষ চমক। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে স্বামী ট্রাভিস কেলসির দল কানসাস সিটি চিফসের খেলা দেখতে দেখা গেছে তাকে। সেখানে তার সঙ্গী ছিলেন হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজ। ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এমি অ্যাওয়ার্ডসের অনুষ্ঠানে মারিসকা হারগিটের উপস্থাপনায় ‘ল অ্যান্ড অর্ডার: স্পেশাল ভিকটিমস ইউনিট’র আদলে একটি বিশেষ হাস্যরসাত্মক পর্ব প্রচার করা হয়। সেটি আগে ধারণ করা হয়েছিল। ওই পর্বে টেলর সুইফটকে দেখা যায়, যদিও তিনি সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। পর্বটিতে মূলত টেলর সুইফট এমিতে আসবেন কি না, তা নিয়েই মজা করা হয়। মারিসকা হারগিটে ধারাবাহিকটির চরিত্র অলিভিয়া বেনসন হিসেবে হাজির হয়ে বলেন, টেলর সুইফটের ভক্তরা তার প্রতিটি কাজের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপের ইঙ্গিত খুঁজে নেন। এরপর সুইফটও সেই মজায় যোগ দিয়ে নানা ইঙ্গিত ও সম্ভাবনার কথা বলেন। এদিকে এমি অনুষ্ঠানের সময়ই কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে দেখা যায় সুইফটকে। সেখানে তিনি তার স্বামী ট্রাভিস কেলসির দল কানসাস সিটি চিফসের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ দেখতে যান। চিফসের প্রতিপক্ষ ছিল ডেনভার ব্রঙ্কোস। এটি বিয়ের পর কেলসির কোনো ম্যাচে সুইফটের প্রথম উপস্থিতি। সুইফটের পাশের আসনে ছিলেন টম ক্রুজ। দুজনকে পাশাপাশি বসে কথা বলতেও দেখা যায়। এই উপস্থিতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি ২০২৩ সাল থেকে সম্পর্কের কারণে আলোচনায়। গত গ্রীষ্মে তাদের বিয়ের খবরও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর কেলসির খেলার মাঠে সুইফটের উপস্থিতি নতুন করে ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এদিকে এমিতে না থাকলেও অনুষ্ঠানে সুইফটের সেই বিশেষ পর্বটি দর্শকদের জন্য ছিল বড় চমক। ফলে একই রাতে একদিকে এমির পর্দায় সুইফটের উপস্থিতি, অন্যদিকে মাঠে টম ক্রুজের সঙ্গে তার ছবি। দুই ঘটনাতেই আলোচনায় উঠে আসেন এই সংগীত তারকা।   এলআইএ

Follow us

Rss feed news

নিউক্লিয় বল বলতে কি বুঝায়
নিউক্লিয় বল বলতে কি বুঝায়

<a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/vdat8vmqe3" target="_blank" rel=""><span>আগের পর্ব</span></a><p>কল্পনা কর যে, পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে দুটি করে প্রোটন ও নিউট্রন রয়েছে। এগুলোকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে দুটি ইলেকট্রন। তুমি কি জানো, এটা কিসের পরমাণু? এই পরমাণুটি হচ্ছে হিলিয়ামের- যা সম্পূর্ণ নতুন একটি গ্যাস, যার সঙ্গে হাইড্রোজেন গ্যাসের কোনই মিল নেই, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এরা বিপরীতধর্মী। হাইড্রোজেনের পরমাণু অনেক সামাজিক; কারণ এটি সহজেই অন্যান্য পরমাণুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে। কিন্তু হিলিয়ামের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি একেবারেই ভিন্ন। হিলিয়ামের পরমাণু অন্যকোন পদার্থের পরমাণুর সঙ্গে মিলিত হতে অনিচ্ছুক।</p><p>কি অদ্ভুত এই পরমাণু জগৎ! হাইড্রোজেনের পরমাণুতে একটি নিউট্রন যোগ করার ফলে পরমাণুটি কিছুটা ভারী হয়ে গেলেও এটি হাইড্রোজেনই থেকে যায়। আরো একটি নিউট্রন যোগ করলে পরমাণুটি আরো ভারী হয়ে যাবে, কিন্তু এর হাইড্রোজেন জাতীয় গুণাগুণে কোন পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু একটি প্রোটন যোগ করার সঙ্গে সঙ্গে যেন জাদুদণ্ডের স্পর্শে সম্পূর্ণ ভিন্ন গুণাগুণসম্পন্ন নতুন একটি পরমাণুর আবির্ভাব ঘটে। প্রোটনের আকার ও ভর নিউট্রনের মতোই, তবে পার্থক্য এই যে, প্রোটনের চার্জ ধনাত্মক আর নিউট্রনের কোন চার্জ নেই। অর্থাৎ নিউট্রন হচ্ছে চার্জ নিরপেক্ষ। অতএব, পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন যোগ করলে বা বের করে নিলে নিউক্লিয়াসের ইলেকট্রিক চার্জের কোন পরিবর্তন ঘটে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/c4dks0mbdr">পরমাণুর গঠন কেমন</a></aside><blockquote>হাইড্রোজেনের পরমাণুতে একটি নিউট্রন যোগ করার ফলে পরমাণুটি কিছুটা ভারী হয়ে গেলেও এটি হাইড্রোজেনই থেকে যায়। আরো একটি নিউট্রন যোগ করলে পরমাণুটি আরো ভারী হয়ে যাবে।</blockquote><p>পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন যোগ করার ফলে এটির ইলেকট্রিক চার্জ দ্বিগুন হয়ে যায়। পরমাণুর গুণাগুণ সর্বপ্রথমে নির্ভর করে নিউক্লিয়াসের চার্জের ওপর।</p><p>প্রশ্ন জাগে ধনাত্মক চার্জযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও একই নিউক্লিয়াসে কিভাবে একাধিক প্রোটন অবস্থান করে?তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে যে, একই ধরনের চার্জ পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। অর্থাৎ নিউক্লিয়াসে প্রোটনগুলো একসঙ্গে থাকার কথা নয় এবং সাধারণ হিসেবে নিউক্লিয়াস অবশ্যই ভেঙ্গে যেতে বাধ্য।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-17/jqcpru9i/P1.png"></figure><p>কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটি ভিন্ন। নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে যায় না। অধিকন্তু, অনেক পরমাণুর নিউক্লিয়াস আশ্চর্যজনকভাবে স্থির ও শক্ত গাঁথুনিতে বাঁধা। নিশ্চই কোন একটি শক্তি রয়েছে যা প্রোটনগুলোকে নিউক্লিয়াসে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য করে; যদিও এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে থাকে। পদার্থবিদরা এই শক্তির নাম দিয়েছেন নিউক্লীয় বল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/fs4hsyn7hi">দুর্বল নিউক্লীয় বল কী, এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ</a></aside><blockquote>নিশ্চই কোন একটি শক্তি রয়েছে যা প্রোটনগুলোকে নিউক্লিয়াসে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য করে; যদিও এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে থাকে। পদার্থবিদরা এই শক্তির নাম দিয়েছেন নিউক্লীয় বল।</blockquote><p>এখন চল হিলিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আরো চারটি করে প্রোটন ও নিউট্রন যুক্ত করি। এখন কি দাঁড়াল? নিউক্লিয়াসে এখন ছয়টি করে প্রোটন ও নিউট্রন রয়েছে। তোমার মতে এই নিউক্লিয়াসকে ঘিরে কয়টি ইলেকট্রন আবর্তিত হওয়া উচিত? হ্যাঁ ঠিক বলেছো, ছয়টি। নিউক্লিয়াসে যে কয়টি প্রোটন রয়েছে ততো সংখ্যকই রয়েছে ইলেকট্রন। এখন তুমি পেয়ে গেলে কার্বনের পরমাণু, যে বস্তুটির সঙ্গে তোমার নিয়মিত যোগাযোগ ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ গ্রাফাইটের তৈরি পেন্সিলের শীষ। আর এই গ্রাফাইট তৈরি হয়েছে কার্বন পরমাণু দিয়ে।</p><p>আরো ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস সংযোজন সম্ভব। যেমন লোহা, যার নিউক্লিয়াসে ২৬টি প্রোটন ও ৩০টি নিউট্রন রয়েছে। সিলভারের ক্ষেত্রে প্রোটনের সংখ্যা ৪৭টি এবং নিউট্রনের সংখ্যা ৬১টি। সোনার নিউক্লিয়াসে রয়েছে ৯৭টি প্রোটন ও ১১৮টি নিউট্রন। ইউরেনিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে এদের সংখ্যা কত?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-17/vb8nuu0v/9daed487_b5f4_4db7_8330_a91dd20bfd1f.jpg"></figure><p>ইউরেনিয়ামের পরমাণুকে আরো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা যায়। যে কোন পরমাণুর মতোই এটির কেন্দ্রে রয়েছে নিউক্লিয়াস, যার চারদিকে একটি সম্মানজনক দূরত্ব রেখে আবর্তিত হচ্ছে হালকা ইলেকট্রন। নিউক্লিয়াসে ঠাসাঠাসি করে অবস্থান করছে প্রোটন ও নিউট্রন। ইউরেনিয়ামের অধিকাংশ পরমাণুর নিউক্লিয়াসে রয়েছে ৯২টি প্রোটন ও ১৪৬টি নিউট্রন (মোট ২৩৮)। কিন্তু কিছুসংখ্যক নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা ৯২টি হলেও নিউট্রনের সংখ্যা তিনটি কম, মাত্র ১৪৩টি (মোট ২৩৫)।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/5pp3jtorq8">ইউরেনিয়াম থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় </a></aside><blockquote>অন্য পরমাণুর মতোই ইউরেনিয়ামের কেন্দ্রে রয়েছে নিউক্লিয়াস, যার চারদিকে একটি সম্মানজনক দূরত্ব রেখে আবর্তিত হচ্ছে হালকা ইলেকট্রন। নিউক্লিয়াসে ঠাসাঠাসি করে অবস্থান করছে প্রোটন ও নিউট্রন।</blockquote><p>তোমার নিশ্চই মনে আছে, যে সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকলেও নিউট্রনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়; সেগুলোকে বলা হয় আইসোটোপ। পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা 'ভর সংখ্যা' হিসেবে পরিচিত এবং আইসোটোপের নামের সঙ্গে এই সংখ্যাটি যুক্ত থাকে। উদাহরণস্বরূপ ইউরেনিয়াম-২৩৮ ও ইউরেনিয়াম-২৩৫। প্রকৃতিতে ইউরেনিয়াম-২৩৮ এর তুলনায় ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর উপস্থিতি অনেক কম।</p><p>প্রিয় বন্ধু, আমরা এখন মূল বিষয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। এখন আমরা বুঝতে পারব কিভাবে পারমাণবিক শক্তি পাওয়া যায়। তুমি কি জানো, পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে কেন শুধুমাত্র ইউরেনিয়াম-২৩৫ ব্যবহার করা সম্ভব? কারণ হলো, এই পরমাণুর একটি বিস্ময়কর গুণ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরমাণুটি আপনা আপনি ভেঙ্গে দুটি টুকরো হয়ে যায়। এর ফলে নিউক্লিয়াস থেকে দুটি বা তিনটি নিউট্রন মুক্ত হয়ে প্রচণ্ড গতিতে ছুটতে থাকে- প্রতি সেকেন্ডে লাখ কিলোমিটারেরও বেশি। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-17/qshctac8/Untitled_2.png"></figure><p>যখনই এই দ্রুত গতিসম্পন্ন নিউট্রন অন্য একটি ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াসে এসে আঘাত করে তখনই নিউক্লিয়াসটি ভেঙ্গে দুই টুকরো হয়ে যায়। মুক্ত হয় আরো নিউট্রন। নতুন এই নিউট্রনগুলো অন্য নিউক্লিয়াসে আঘাত করে এবং দুই টুকরো করে দেয়। এভাবে মুক্ত নিউট্রনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভেঙ্গে যাওয়া নিউক্লিয়াসের সংখ্যাও। এটাই হচ্ছে চেইন রিঅ্যাকশন। এই চেইন রিঅ্যাকশনের ফলে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং প্রক্রিয়াটি ক্রমান্বয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। যার ফলে এক সময় বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।</p><h4>কৃতজ্ঞতা: রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন- রোসাটম</h4><h4>বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ</h4><h4>বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এনআইএইপি- এএসই, রাশিয়া এবং</h4><h4>পরমাণু শক্তি তথ্য কেন্দ্র, ঢাকা</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE">ইউরেনিয়াম শব্দটি যেভাবে পেলাম </a></aside>

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
পশ্চিম বাজার থেকে জেলা মৌলভীবাজার
পশ্চিম বাজার থেকে জেলা মৌলভীবাজার

বাজারের ভেতরে আধুনিক বাণিজ্যিক ভবনের দাপট বেশি চোখে পড়লেও আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরোনো ‘সাধনা ঔষধালয়’ এবং আরও প্রাচীন টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ ভবন।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে ৭ কোটি টাকার ভবন করেছে সওজ, তবে অফিস চলে ঢাকায়
নারায়ণগঞ্জে ৭ কোটি টাকার ভবন করেছে সওজ, তবে অফিস চলে ঢাকায়

নারায়ণগঞ্জ সড়ক সার্কেলের কার্যক্রম এখনো ঢাকার এলেনবাড়ীতে অবস্থিত ঢাকা সড়ক জোন ভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 
একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 

<p>সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘাড়ব্যথা, শক্ত ভাব বা নড়াচড়ায় অস্বস্তি—এ সমস্যা অনেকেরই হয়। এ জন্য ঘুমের ভঙ্গি বা বালিশের ভুল ব্যবহার দায়ী হতে পারে। মাথার নিচে দুই-তিনটি বা এর বেশি বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড় দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকে। এর ফলে এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।</p><h3>ঘুমে ঘাড়ে কী ঘটে</h3><p>ঘাড়ের মেরুদণ্ড বা সার্ভিক্যাল স্পাইন হাড়, ডিস্ক, লিগামেন্ট ও বিভিন্ন পেশির সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল কাঠামো। ঘুমের সময় বালিশ অতিরিক্ত উঁচু হলে মাথা ও ঘাড় সামনের দিকে বা একদিকে অতিরিক্ত বাঁকা হয়ে যেতে পারে। </p><p>এতে ঘাড়ের পেশি ও জয়েন্টকে দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হয়। বিশেষ করে কাত হয়ে ঘুমানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সঠিক বালিশ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। </p><p>অতিরিক্ত মোটা বালিশ মাথাকে শরীরের তুলনায় বেশি ওপরে তুলে দিতে পারে এবং ঘাড়ের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট নষ্ট করতে পারে।</p><h3>অতিরিক্ত উঁচু বালিশের সমস্যা</h3><p>● মাথা ও ঘাড় অতিরিক্ত বাঁকা হয়ে যেতে পারে।</p><p>● ঘাড়ের স্থিতিশীলতায় নিয়োজিত পেশিগুলো দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকায় সকালে ব্যথা ও শক্ত ভাব হতে পারে।</p><p>● ঘাড় নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে গেলে চাপের বণ্টনও পরিবর্তিত হতে পারে।</p><p>● কাত হয়ে ঘুমানোর সময় ঘাড় ঘুরে বা কাত হয়ে থাকলে এক পাশে বেশি চাপ পড়তে পারে।</p><h3>ঘাড়ব্যথায় করণীয়</h3><p>ব্যথা হলেই জোরে ঘাড় স্ট্রেচ করা বা ফোম রোলার দিয়ে চাপ দেওয়া উচিত নয়। প্রথমে ব্যথামুক্ত সীমার মধ্যে ধীরে ধীরে ঘাড় নাড়াচাড়া করুন এবং বালিশের উচ্চতা ও ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন করে দেখুন। </p><p>কাত হয়ে ঘুমালে বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত, যাতে কাঁধ ও মাথার মধ্যকার ফাঁকা স্থান পূরণ হয়; কিন্তু মাথাকে অতিরিক্ত ওপরে ঠেলে না দেয়। বালিশ নির্বাচন করতে শরীরের গঠন, কাঁধের প্রস্থ, ঘুমের ভঙ্গি এবং গদির দৃঢ়তা বিবেচনা করা উচিত।</p><p>সবার জন্য একই বালিশ উপযুক্ত নয়। দামি বালিশের চেয়ে সঠিক উচ্চতা, পর্যাপ্ত সাপোর্ট এবং ব্যক্তিগত উপযোগিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি, অবশ ভাব, দুর্বলতা, ব্যথা হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া বা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকে, কিংবা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।</p><p><strong><sup>এম ইয়াছিন আলী</sup></strong><sup>, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/l3btlr1u07">বালিশ ছাড়া ঘুমানো ভালো, না খারাপ?</a></aside>

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ পেছাল
একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ পেছাল

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বরের বদলে ২৪ সেপ্টেম্বর।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
বিপিএলে ফিক্সিং: এবার শাস্তি পেলেন দলের মালিক ও ম্যানেজার
বিপিএলে ফিক্সিং: এবার শাস্তি পেলেন দলের মালিক ও ম্যানেজার

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সর্বশেষ আসরে দুর্নীতির অভিযোগে আরও দুজনকে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ
তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ

নিজের মালিকানাধীন থ্রেডস প্ল্যাটফর্মের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্সে মার্ক জাকারবার্গের নিয়মিত পোস্ট করার বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তিবিশ্বে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে
প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে

অসুস্থতার কষ্টের মধ্যেও ইসলাম নামাজ ছাড়ার অনুমতি দেয়নি। এক্ষেত্রে বসে, শুয়ে, এমনকি ইশারায় নামাজ পড়ার সুযোগ তো ইসলামে আছেই।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
সৌদি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি হুথিদের, মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব সফর পুনর্বিবেচনার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
সৌদি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি হুথিদের, মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব সফর পুনর্বিবেচনার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী বুধবার দাবি করেছে যে, তারা একটি সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেট এক বিবৃতিতে মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণের বিষয়ে ‘পুনর্বিবেচনা’ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
তিন বছরের মধ্যে প্রথম ব্যাংক সুদের হার বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র
তিন বছরের মধ্যে প্রথম ব্যাংক সুদের হার বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র

তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির লাগান টানার লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ'। আগামীতে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ঘুমের সময় সঙ্গীর নাক ডাকা যেভাবে আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে
ঘুমের সময় সঙ্গীর নাক ডাকা যেভাবে আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে

নাক ডাকেন এমন কারো পাশে ঘুমানো আপনার স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে- বিবিসিকে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
পত্রিকা: 'একই শহরে একই কোম্পানির ৩ মেট্রো প্রকল্প, তবু খরচে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য'
পত্রিকা: 'একই শহরে একই কোম্পানির ৩ মেট্রো প্রকল্প, তবু খরচে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য'

চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা কম; কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কঠোর নির্দেশনা; কলেজগুলোয় বিপুল পরিমাণ আসন খালি— এ সংক্রান্ত খবর গুরুত্ব পেয়েছে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
স্বর্ণের দাম কি আরও কমতে পারে?
স্বর্ণের দাম কি আরও কমতে পারে?

২০২৬ সালের শুরুর দিকে স্বর্ণের দাম সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ হয়েছিল। এরপর থেকেই ঘন ঘন ওঠানামার মধ্যেও গত কয়েক সপ্তাহে মূল্যবান এই ধাতুর দামে নিম্নমুখী প্রবণতাই দেখা গেছে। ফলে ভবিষ্যতে সোনার দাম আরও কমতে পারে কি না, নাকি আবার বাড়বে- এই প্রশ্ন সামনে আসছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবিতে দেখা গেলো ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোয় ব্যাপক ক্ষতির চিত্র
ছবিতে দেখা গেলো ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোয় ব্যাপক ক্ষতির চিত্র

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমান বাহিনীর একটি বিধ্বস্ত বিমান ও ধ্বংসপ্রাপ্ত সব ভবনের ছবি।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
মসজিদ ভাঙা নিয়ে কী হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশে?
মসজিদ ভাঙা নিয়ে কী হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশে?

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে কালেক্টরেট কমপ্লেক্সের মধ্যে একটা মসজিদ ছিল যা সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি ওই মসজিদ শতাব্দী প্রাচীন। প্রশাসনের দাবি সরকারি জমির উপর অবৈধভাবে তা নির্মাণ করা হয়েছিল।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
বিলুপ্তির কিনারা থেকে ফিরে আসা পান্ডা কেন শুধু চীনেই পাওয়া যায়?
বিলুপ্তির কিনারা থেকে ফিরে আসা পান্ডা কেন শুধু চীনেই পাওয়া যায়?

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের অনেক দেশই বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে অন্য দেশকে বিরল বন্যপ্রাণী উপহার দিলেও বর্তমানে এটি আর খুব বেশি হয় না, কারণ এখন বেশিরভাগ বিরল প্রাণী চিড়িয়াখানাতেই প্রজননের মাধ্যমে জন্মায় এবং চিড়িয়াখানাগুলোর মধ্যেই আদান–প্রদান হয়। কিন্তু পান্ডার ক্ষেত্রে বিষয়টি একদমই আলাদা। কারণ চীন ছাড়া আর কেউ কোনো জায়ান্ট পান্ডার মালিক হতে পারে না।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬