নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ৪ নেতাকে বহিষ্কার
বাংলাদেশে গ্রাহক পর্যায় থেকে অপারেটর পর্যন্ত এলপিজির যে সাপ্লাই চেইন কাজ করে সেখানে কোথায় এই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে তার সন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিটি স্তরেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মুনাফার একটা চেষ্টা রয়েছে ব্যবসায়ীদের যে কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ, ব্যবসা ও অর্থ ব্যবস্থাপনার মতো ব্যবহারিক বিষয় চালু করার পরিকল্পনা করেছে ইংল্যান্ড সরকার।</p><p>ইংল্যান্ডে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৯ সাল থেকে নতুন ধরনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক সনদ চালু করা হবে। প্রচলিত একাডেমিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি এসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ থাকবে শিক্ষার্থীদের।</p><p>নতুন বিষয়গুলোর মধ্যে নির্মাণ ও বিল্ডিং, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও অর্থ এবং শিশুর বিকাশের মতো বিষয় থাকতে পারে। এসব যোগ্যতার মান নির্ধারণ করবে দেশটির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকোয়াল। ফলে প্রচলিত জিসিএসইর সঙ্গে নতুন কারিগরি সনদের ফলাফলের মানের সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হবে।</p><p><strong>কারিগরি শিক্ষার নতুন পথ</strong></p><p>নতুন কারিকুলাম এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে ১৬ বছর বয়সের পর শিক্ষার্থীরা একই ধরনের কারিগরি কোর্সে এগিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২০২৭ সালের শরৎকাল থেকে চালু হতে যাওয়া নতুন ভি–লেভেল ও বিদ্যমান টি–লেভেল রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের লক্ষ্য, বিভিন্ন ধরনের যোগ্যতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে যাওয়ার জন্য একটি ধারাবাহিক পথ তৈরি করা।</p><p><strong>ব্যয় ও শিক্ষকসংকট নিয়ে প্রশ্ন</strong></p><p>সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নে স্কুলগুলোর অতিরিক্ত অর্থ ও দক্ষ শিক্ষক প্রয়োজন হবে। ম্যানচেস্টারের রাইট রবিনসন কলেজে ইতিমধ্যে ১০টি ব্যবহারিক ও বৃত্তিমূলক বিষয় পড়ানো হয়। কলেজটির প্রধান শিক্ষক মার্টিন হাওর্থ বলেন, নতুন যোগ্যতাগুলোকে বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর বাস্তব মূল্য যোগ করতে হবে। তবে ব্যবহারিক বিষয় ও পরীক্ষাকে মানসম্মত করতে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ ও শ্রেণিকক্ষ পরিবর্তনে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/scholarship/u5ygly39un">যুক্তরাষ্ট্রে ফুলব্রাইট ভিজিটিং স্কলার, বাংলাদেশিদের শিক্ষকতা ও গবেষণার সুযোগ, আবেদনের সময় বৃদ্ধি</a></aside><p><strong>১৬ বছরের আগেই কাজের অভিজ্ঞতা</strong></p><p>শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য দুই লাখ কর্মঅভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরির জাতীয় লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হচ্ছে। ইংল্যান্ডের বর্তমান ক্যারিয়ার নির্দেশনায় ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থবহ কর্মঅভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন স্থানীয় ক্যারিয়ার হাবের মাধ্যমে নিয়োগদাতাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।</p><p>ইংল্যান্ডের সরকার বলছে, নতুন কারিগরি সনদের মাধ্যমে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। তবে স্কুলগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক, অবকাঠামো ও অর্থ নিশ্চিত করা না গেলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/gjwt9jpkxk">বিশ্বের সেরা ১০০০ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশের ৩ বেসরকারি ও এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়</a></aside>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/u4s9ccgo/Untitled_1_15.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/xdsew60kia">ঢাকায় বৃষ্টি অতঃপর—</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/4io20fbjen">কিসের টানে বাংলাদেশে ?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d0e3kp2eyp">আমাদের ছোট ফ্যান</a></aside>
যেসব মাছ অন্য ছোট মাছ, পোনা, ডিম খেয়ে ফেলে সেগুলোকে রাক্ষুসে মাছ বলা হয়। এসব মাছের মুখ বেশ বড় হয়। পুকুরে রুই, কাতলা বা মৃগেলের মতো চাষের মাছের সঙ্গে রাক্ষুসে মাছ থাকলে বড় ক্ষতি হয়
বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্টের দ্বিতীয় দিন আজ। ডারবানে চলছে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট। আজ ফিরছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও লা লিগা।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ৭ ক্যাটাগরিতে ৩৮ জন অসামরিক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে উঠে আসার পর দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। প্রথম চার দিনে ভিউ ৬৫ লাখ।
<p>রাশিয়ার একটি প্লেগ-প্রতিরোধ গবেষণাগারে এক দুর্ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক ল্যাব টেকনিশিয়ান মারা গেছেন।</p><p>রাশিয়ার স্বাস্থ্য রাশিয়ার স্বাস্থ্য তদারকি সংস্থা রোসপট্রেবনাদজোরের বরাত দিয়ে <em>দ্য গার্ডিয়ান</em> মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে।</p><p>খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে , ইরকুটস্ক শহরের একটি প্লেগ-প্রতিরোধক গবেষণাগারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ওই গবেষণাগারের টেকনিশিয়ান দারিয়া শিপিলোভা গত ২ অক্টোবর মারা যান।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/ttq9izmhh0">দেহের অতন্দ্র প্রহরী</a></aside><blockquote>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুশ কর্তৃপক্ষ প্লেগের খবর অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরকুটস্ক শহরে প্লেগের মতো কোনো বিপজ্জনক রোগের সংক্রমণ শনাক্ত বা নথিভুক্ত হয়নি।</blockquote><h2>কী ঘটেছিল?</h2><p>ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে রাশিয়ার সূত্র থেকে জানা গেছে, কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়ার দুদিন পরেই দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যু হয়।</p><p>রোসপোট্রেবনাডজোর জানিয়েছে, শিপিলোভা অজানা কারণে সৃষ্ট নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।</p><p>তবে ঘটনা নিয়ে অন্যরকম তথ্যও এসেছে। প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের প্রধান আলেক্সি সিদোনভ শুরুতে বলেছিলেন, ওই নারী প্লেগে মারা গেছেন। অবশ্য পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সংশোধন করে লেখেন, তাঁর মৃত্যু সম্ভবত প্লেগের কারণে হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/gna3uomm/image_6_20261005165555957.webp"><figcaption>দারিয়া শিপিলোভা</figcaption></figure><p>তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) দেওয়া এক বিবৃতিতে রুশ কর্তৃপক্ষ প্লেগের খবর অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরকুটস্ক শহরে প্লেগের মতো কোনো বিপজ্জনক রোগের সংক্রমণ শনাক্ত বা নথিভুক্ত হয়নি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/bh2af6ukyc">হাম: লাল দানব জয়ের ইতিহাস</a></aside><blockquote>সাধারণত বুবোনিক প্লেগ বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত কোনো প্রাণী মানুষের দেহে কামড় দিলে শরীরের লসিকা গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড ফুলে যায়। একেই বলা হয় বুবো। সে কারণেই এর নাম বুবোনিক প্লেগ।</blockquote><h2>যদি এটি সত্যিই প্লেগ হয়ে থাকে, তবে রোগটি আসলে কী?</h2><p>রোসপোট্রেবনাডজোর জানায়, এই রোগটি ঘটে ইয়ার্সিনিয়া পেস্টিস (<em>Yersinia pestis</em>) নামের একধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে। ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও এদের গায়ে থাকা পরজীবী পোকার শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া থাকে। ১৪ শতকে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া ব্ল্যাক ডেথ বা বুবোনিক প্লেগের পেছনেও ছিল এই একই জীবাণু।</p><p>তবে প্লেগ সাধারণত দুই ধরনের হয়। বুবোনিক প্লেগ ও নিউমোনিক প্লেগ। অনেকের ধারণা, শিপিলোভা নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/vsh2gvgh/Yersinia_pestis.jpg"><figcaption>ইয়ার্সিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া</figcaption></figure><p>সাধারণত বুবোনিক প্লেগ বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত কোনো প্রাণী (যেমন ইঁদুর) মানুষের দেহে কামড় দিলে শরীরের লসিকা গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড ফুলে যায়। একেই বলা হয় বুবো। সে কারণেই এর নাম বুবোনিক প্লেগ। অন্যদিকে নিউমোনিক প্লেগ সরাসরি ফুসফুসে আক্রমণ করে। এটি মানুষের নিঃশ্বাস ও কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে এবং এতে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8-%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96-%E0%A6%93%E0%A6%A0%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%87-%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%A3-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87">হাম, চিকেন পক্স, চোখ ওঠা একবারই আক্রমণ করে?</a></aside><blockquote>ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও এদের গায়ে থাকা পরজীবী পোকার শরীরে ইয়ার্সিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া থাকে। ১৪ শতকে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া ব্ল্যাক ডেথ বা বুবোনিক প্লেগের পেছনেও ছিল এই জীবাণু।</blockquote><h2>শিপিলোভা কীভাবে আক্রান্ত হলেন?</h2><p><em>দ্য গার্ডিয়ান</em>–এর খবর অনুযায়ী, শিপিলোভা কীভাবে নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হলেন, তা নিয়ে দুটি ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একটি খবরে বলা হচ্ছে, থাইল্যান্ড থেকে রাশিয়ার ফিরে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অন্য তথ্য অনুযায়ী, গবেষণাগারে কাজ করার সময় একটি টেস্ট টিউব ভেঙে গিয়ে তিনি সংক্রমিত হন। তবে রাশিয়ার স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ল্যাবে এমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।</p><h2>আমাদের কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?</h2><p>প্লেগ কিন্তু কেবল অতীতের কোনো ব্যাধি নয়, এটি এখনো পৃথিবীতে টিকে রয়েছে।</p><p>ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ডক্টর মালিক গিবানি জানান, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্লেগের কয়েক শো কেস রিপোর্ট করা হয়। বিশেষ করে মাদাগাস্কার এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এটি বেশি দেখা যায়। তবে পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্র, মধ্য এশিয়া ও মঙ্গোলিয়াতেও মাঝেমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।</p><p>শুনতে ভীতিজনক মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন অনেক এগিয়েছে। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর সাইমন ক্লার্ক বলেন, অনেক ভাইরাল শ্বাসজনিত রোগের মতো প্লেগ ভাইরাসে হয় না, এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। সঠিক সময়ে ফ্লুরোকুইনোলোন বা অ্যামিনোগ্লাইকোসাইডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে এটি পুরোপুরি সেরে যায়। এমনকি আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় থাকা ব্যক্তিদের আগেভাগে ওষুধ দিয়ে সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।</p><p>তবে সতর্কতার কথা শুনিয়েছেন লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ব্রেন্ডন রেন। তিনি জানান, বর্তমানে কিছু প্লেগ ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। গবেষণাগারে যদি এমন কোনো শক্তিশালী জীবাণু নিয়ে কাজ হয়ে থাকে, তবে প্রচলিত ওষুধে চিকিৎসা করা কঠিন হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/4d7s36tilv">নিপাহ ভাইরাস আবার কেন আলোচনায়</a></aside><blockquote>রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর সাইমন ক্লার্ক বলেন, অনেক ভাইরাল শ্বাসজনিত রোগের মতো প্লেগ ভাইরাসে হয় না, এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ।</blockquote><p>বার্তা সংস্থা <em>এপি</em>’র খবরে জানা গেছে, মৃত শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর কয়েকটি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।</p><p>অধ্যাপক ব্রেন্ডন রেনের মতে, এমন আইসোলেশন ও পর্যবেক্ষণে রাখাটা একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালিস হিউজ আরও জানান, নিউমোনিক প্লেগের লক্ষণ স্পষ্ট হতে ১ থেকে ৩ দিন সময় লাগে। স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকা কারও শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।</p><p>ইংল্যান্ডের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়ান জোন্সও আশ্বস্ত করে বলেন, ঘটনাটিকে গবেষণাগারের একটি বিরল দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। এর থেকে বড় কোনো মহামারি ছড়ানোর সম্ভাবনা একেবারেই নেই।</p><p>তবে ডক্টর ক্লার্ক মনে করেন, আরও তথ্য না আসা পর্যন্ত স্পষ্ট বলা কঠিন। তিনি বলেন, পুরো তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এটি স্রেফ একটি একক ল্যাব দুর্ঘটনা, নাকি কাজের অসাবধানতা, নাকি বড় সংক্রমণের শুরু তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।</p><p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার অবশ্য নিশ্চিত করেছেন সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি একেবারেই কম। ডব্লিউএইচওর প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নে জানা গেছে, এই সংক্রমণের ঝুঁকি ইরকুটস্ক শহরের জন্য মাঝারি থেকে কম। আর পুরো রাশিয়া জুড়ে বেশ কম। ইউরোপীয় অঞ্চলগুলোর জন্য প্রায় শূন্যের কোঠায়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/zj63sbhh3s">নিপাহ ভাইরাস নামটি যেভাবে পেলাম </a></aside><blockquote>অধ্যাপক অ্যালিস হিউজ জানান, নিউমোনিক প্লেগের লক্ষণ স্পষ্ট হতে ১ থেকে ৩ দিন সময় লাগে। স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকা কারও শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।</blockquote><h2>এরপর কী ঘটতে পারে?</h2><p>যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ‘কন্টেইনমেন্ট লেভেল ৩’ ল্যাবরেটরির প্রধান ডক্টর জানিয়া স্টামাটাকি। তিনি জানান, মারাত্মক জীবাণু নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে যে কড়া নিরাপত্তা নিয়ম রয়েছে, তা বেশ কার্যকর। তাই ল্যাবে দুর্ঘটনাবশত সংক্রমণের ঘটনা একেবারেই বিরল। এমন দুর্ঘটনা ঘটা কিন্তু পুরোপুরি অসম্ভব নয়। ঠিক এ কারণেই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তার নিখুঁত তথ্য সবার জানা প্রয়োজন। কেবল রাশিয়ার জন্য নয়, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও তা সমান গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>অন্যান্য বিজ্ঞানীরাও এই পুরো তথ্যের স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন। ডক্টর গিবানি জানান, ঘটনার ওপর নজর রাখা এবং বিশ্ব জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান বজায় রাখা খুবই দরকার। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় এই ঘটনা আমাদের কয়েকটি বড় শিক্ষা দেয়। বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ সম্পর্কে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। সেই সঙ্গে গবেষণাগারের জৈব নিরাপত্তা বাড়ানো ও দ্রুত রোগ নির্ণয় ও নতুন টিকা তৈরির মতো প্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করা জরুরি।</p><h4>সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও সিএনএন</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/5pk5krj52g">মাঙ্কিপক্স কী ও কেন</a></aside>
<p>চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য যত এগোচ্ছে, মানুষের আবেগ, আচরণ আর মনের জটিল সমীকরণগুলো ততই নতুন আলোয় ধরা পড়ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের ‘ডিএসএম-ফাইভ-টিআর’ কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘আইসিডি-ইলেভেন’-এর মতো আধুনিক রোগতাত্ত্বিক নির্দেশিকাগুলো মনের নানা জটিলতাকে সুনির্দিষ্ট জৈব-মনঃসামাজিক মানদণ্ডে রোগ বা ডিজঅর্ডার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে (আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন, ২০২২; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০১৯)। </p><p>অথচ আমাদের দেশে আমরা এখনো আঁকড়ে ধরে আছি ঔপনিবেশিক যুগের কিছু সেকেলে আইন আর সামাজিক অন্ধবিশ্বাস। এর নিদারুণ পরিণতিতে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যা স্পষ্ট রোগ বা চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসংকট, আমাদের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা ও সমাজে তাকে দেগে দেওয়া হচ্ছে অপরাধ হিসেবে। ফলে সহমর্মিতাপূর্ণ চিকিৎসার বদলে জোটে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, যা ব্যক্তির জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম এক বিপর্যয় ডেকে আনছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/07xyltfhzm">মানসিক স্বাস্থ্য আইন শক্তিশালী করতে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে</a></aside><p>আমাদের আইন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত সবচেয়ে প্রকটভাবে চোখে পড়ে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে। ‘ডিএসএম-ফাইভ-টিআর’ কিংবা ‘আইসিডি-ইলেভেন’ স্পষ্ট ভাষায় বলছে, আত্মহত্যার আচরণ কোনো স্বেচ্ছাচারিতা নয়; এটি গভীর মানসিক যন্ত্রণা, বিষণ্নতা কিংবা মানসিক সংকটের এক চরম বহিঃপ্রকাশ (আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন, ২০২২; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০১৯)। </p><p>অথচ বাংলাদেশে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী আত্মহত্যার চেষ্টা করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যে মানুষটি নিদারুণ যন্ত্রণার ভার বইতে না পেরে নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন, তাঁকে সংকটকালীন মনঃসামাজিক সহায়তা না দিয়ে ঠেলে দেওয়া হয় পুলিশি হয়রানি ও জেলহাজতের মুখে। এর ফলে পরিবারগুলো ঘটনা লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হয় এবং ভুক্তভোগী যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন (খান, ২০০৫)।</p><p>একই অন্ধত্ব দেখা যায় মাদকাসক্তির ক্ষেত্রেও। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে মাদকাসক্তি বা ‘সাবস্ট্যান্স ইউজ ডিজঅর্ডার’ মস্তিষ্কের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বারবার ফিরে আসা জৈবিক ব্যাধি (ভলকো ও অন্যান্য, ২০১৬)। এটি মূলত একটি জটিল জনস্বাস্থ্য সংকট। </p><p>কিন্তু আমাদের ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সরবরাহকারীদের পাশাপাশি ব্যবহারকারীকেও কঠোর অপরাধী বানিয়ে কাঠগড়ায় তোলে। আদালতের নির্দেশে একজন মাদকাসক্ত মানুষকে যখন কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়, তখন সেখানে বিজ্ঞানসম্মত ডিটক্সিফিকেশন, কার্যকর সাইকোথেরাপি কিংবা ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ পাওয়ার সুযোগ থাকে নামমাত্র।</p><blockquote>একজন মানসিক যন্ত্রণাগ্রস্ত মানুষকে হাতকড়া পরিয়ে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা নয়, বরং তাকে সহমর্মিতা, সাইকোথেরাপি ও মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের ছায়াতলে টেনে আনাই সভ্য সমাজের একমাত্র পথ।</blockquote><p>আচরণগত আসক্তির ক্ষেত্রে বর্তমান বাংলাদেশের আরেকটি নীরব ও ভয়াবহ বাস্তবতা হলো ‘প্রবলেম গ্যাম্বলিং’ বা জুয়ার প্যাথলজিক্যাল আসক্তি (আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন, ২০২২)। বিশেষ করে স্মার্টফোনে ছড়িয়ে পড়া অবৈধ অনলাইন বেটিং অ্যাপসের মাধ্যমে তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সংকট মহামারি আকার নিয়েছে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি কোনো সাধারণ লোভ বা নিছক আর্থিক অপরাধ নয়; বরং মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমের একটি মারাত্মক বৈকল্য। আক্রান্ত ব্যক্তি সমস্ত ক্ষতি জেনেও বাজি ধরার তীব্র তাগিদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। </p><p>কিন্তু আমাদের ১৮৬৭ সালের প্রকাশ্য জুয়া আইন বা সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তাকাঠামো এই মানসিক সমস্যাকে কেবল বেআইনি জুয়া খেলা ও সাইবার অপরাধ হিসেবে দেখে। ফলে ভুক্তভোগী যখন দেনার দায়ে নিঃস্ব হয়ে অপরাধ কিংবা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, তখনো রাষ্ট্র তাকে কেবল অপরাধী বানায়; অথচ তার প্রয়োজন ছিল জরুরি মনস্তাত্ত্বিক সাইকোথেরাপি।</p><p>আইনি এই অচলাবস্থার পাশাপাশি সমাজে চেপে বসে আছে গভীর সামাজিক কুসংস্কার। আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে দেখা হয় পাপ বা নৈতিক স্খলন হিসেবে, মাদকাসক্তিকে বিচার করা হয় নিছক চরিত্রহীনতা দিয়ে, আর প্রবলেম গ্যাম্বলিংয়ের মতো আচরণকে তকমা দেওয়া হয় অসৎ প্রবৃত্তি হিসেবে। </p><p>সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা অনেকেই অজ্ঞাত যে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি, মোটিভেশনাল ইন্টারভিউ কিংবা আধুনিক ফার্মাকোথেরাপির মাধ্যমে এসব সংকটের দীর্ঘস্থায়ী নিরাময় সম্ভব (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০২২)। অপরাধের ভয় দেখিয়ে চিকিৎসা আটকে দেওয়ার সংস্কৃতি পরিবারগুলোকেও ঠেলে দেয় নীরবতার খাঁচায়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/mqw91txfxd">স্কুলপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বৈজ্ঞানিক মডেল কেন জরুরি</a></aside><p>বিশ্বের বহু দেশ কিন্তু এই অন্ধত্ব থেকে বেরিয়ে এসে দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০০১ সালে পর্তুগাল ব্যক্তিগত পর্যায়ে মাদক ব্যবহারকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ব্যবহারকারীদের আদালতের পরিবর্তে মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ডিসুয়েশন কমিশন’-এর সামনে নেওয়ার নিয়ম করে, যা মাদকজনিত মৃত্যু নাটকীয়ভাবে কমিয়েছে (হিউজেস ও স্টিভেন্স, ২০১০)। </p><p>যুক্তরাজ্য ১৯৬১ সালেই আইন করে আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতেও ২০১৭ সালের মানসিক স্বাস্থ্য আইনের ১১৫ ধারার সুবাদে আত্মহত্যার চেষ্টাকারীকে অপরাধী না ভেবে তীব্র মানসিক চাপে থাকা রোগী বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক মানসিক সেবা নিশ্চিত করা হয় (ডাফি ও অন্যান্য, ২০২০)। </p><p>অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো প্রবলেম গ্যাম্বলিংকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে না দেখে এটিকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে; সেখানে জুয়াড়িদের জন্য জাতীয় হেল্পলাইন, বাধ্যতামূলক সেলফ-এক্সক্লুশন স্কিম এবং ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের আওতায় বিশেষায়িত ক্লিনিকের মাধ্যমে নিখরচায় সাইকোথেরাপির সুব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সাধারণ আদালতের বিকল্প হিসেবে থাকা ‘মেন্টাল হেলথ কোর্ট’ মানসিক রোগীদের শাস্তির বদলে পর্যবেক্ষণমূলক চিকিৎসা ও সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিচ্ছে (স্টেডম্যান ও অন্যান্য, ২০১১)।</p><p>বাংলাদেশকে যদি একটি আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্র হতে হয়, তবে অবিলম্বে দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা বাতিল করে আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে অপরাধমুক্ত করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ, প্রকাশ্য জুয়া আইন ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কাঠামোকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানদণ্ডে যুগোপযোগী করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারকদের জন্য মনের অসুখ ও ফৌজদারি অপরাধের সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। </p><p>একজন মানসিক যন্ত্রণাগ্রস্ত মানুষকে হাতকড়া পরিয়ে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা নয়, বরং তাকে সহমর্মিতা, সাইকোথেরাপি ও মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের ছায়াতলে টেনে আনাই সভ্য সমাজের একমাত্র পথ।</p><ul><li><p><strong>ইমদাদুল হক তালুকদার </strong>মানসিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ</p></li></ul><p>তথ্যসূত্র (References)</p><p>* Alzheimer’s and Related Disorders Society of India. (2020). Dementia India report 2020: Special report on the national dementia strategy. ARDSI. https://www.ardsi.org/</p><p>* GBD 2019 Dementia Forecasting Collaborators. (2022). Estimation of the global prevalence of dementia in 2019 and forecasted prevalence in 2050: An analysis for the Global Burden of Disease Study 2019. The Lancet Public Health, 7(2), e105-e125. https://doi.org/10.1016/S2468-2667(21)00249-8</p><p>* Islam, M. A., Dey, S. K., Hasan, M., Kabir, M. A., & Rahman, M. M. (2022). Prevalence of dementia and associated factors among older adults in Bangladesh: A nationwide population-based study. Journal of Alzheimer's Disease, 88(3), 1125-1137. https://doi.org/10.3233/JAD-220184</p><p>* World Health Organization. (2017). Global action plan on the public health response to dementia 2017-2025. World Health Organization. https://www.who.int/publications/i/item/9789241513487</p><p>* World Health Organization. (2021). Global status report on the public health response to dementia. World Health Organization. https://www.who.int/publications/i/item/9789240033245</p>
আজ শনিবার ১০ই অক্টোবর 'দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের' ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোসহ অন্যান্য বিরোধী দলও এই বিক্ষোভে সামিল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে গ্রাহক পর্যায় থেকে অপারেটর পর্যন্ত এলপিজির যে সাপ্লাই চেইন কাজ করে সেখানে কোথায় এই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে তার সন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিটি স্তরেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মুনাফার একটা চেষ্টা রয়েছে ব্যবসায়ীদের যে কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাইকে তার "শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারের প্রচেষ্টার" জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে ইলন মাস্ক ও ভারত সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের রাইড-শেয়ারিং ও পণ্য সরবরাহ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ এর সার্ভার থেকে গ্রাহকদের কোন ধরনের তথ্য চুরি হয়েছে? এটা কী কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?
“এখানে তো মাটি কাটার সময় থেকেই চান্দা শুরু হয়ে গেছে। আমি ওদের সঙ্গে অনেকবার বসছি। কিন্তু ওরা একেকবার একেকজন আসে।''
একটি প্রত্যন্ত আগ্নেয় দ্বীপে বসবাসকারী চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে।
মাইক্রোসফটকে বিদেশি কর্মী নিয়োগ কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ করেছে হোয়াইট হাউস। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও এই ব্যবস্থা নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আমেরিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চারজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘মক্কা জোট’-এর আওতায় সৌদি আরবে মোতায়েনকৃত পাকিস্তানি সেনারা ইয়েমেনের সীমান্ত অতিক্রম করবে না। কারণ এটি একটি আত্মরক্ষামূলক জোট।
মার্কিনিদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলার ভয় দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ভয় দেখিয়েছেন।
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠানের নগদ টাকা বহনকারী প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিমেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গাড়িচালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদ আহত হয়েছেন।
শরতের স্নিগ্ধতা ও বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যকে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে উদযাপিত হয়েছে ‘শরৎ উৎসব-২০২৬’।
চলতি বছর শান্তিতে নোবেল জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার কমিশনার নাভি পিল্লাইকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়।
মা-বাবার ইচ্ছে পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেছেন সাকিব নামের এক যুবক। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এদিকে, হাতির পিঠে চড়ে আসা বরকে একনজর দেখতে বর ও কনের গ্রামে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।
ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।