এশিয়ান গেমসের আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১ দিনের অনুশীলন ক্যাম্প করছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এবারের এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাপানে। সেখানে ড্রপ ইন উইকেটে খেলা হবে। ফলে বাংলাদেশের অনুশীলনেও আলোচনায় আছে এই উইকেট। রোববার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করেছে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ দল। জাতীয় দলের সাবেক সিনিয়র সহকারী কোচ ও বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের বর্তমান প্রধান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে হয়েছে দিনের অনুশীলন। জাপানের উদ্দেশে ২৪ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ। এর আগে ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুরে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সূচি রয়েছে। ম্যাচ দুটির একটিতে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের ক্রিকেটারদের বিপক্ষে এবং অন্যটি নিজেদের মধ্যে হতে পারে। তবে প্রতিপক্ষ যেই হোক, জাপানের কন্ডিশনে নামার আগে ম্যাচ পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি নেওয়াটাই মূল লক্ষ্য। কারণ জাপানে বাংলাদেশের জন্য বড় অজানা বিষয় হতে পারে উইকেট। এশিয়ান গেমসের ম্যাচগুলোতে যে ড্রপ-ইন সারফেস ব্যবহারের কথা, সেটি তৈরি করছেন বিসিবির সাবেক কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। তাই দেশ ছাড়ার আগেই ওই উইকেটের চরিত্র সম্পর্কে যতটা সম্ভব পরিষ্কার ধারণা নিতে চাইছে বাংলাদেশ। জাতীয় দলের কোচিং সেটআপের এক সদস্য জানিয়েছেন, জাপানে যাওয়ার আগে গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে কথা বলবে টিম ম্যানেজমেন্ট। উইকেটের আচরণ, বাউন্স কিংবা অন্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তা ক্রিকেটারদের জানানো হবে। রোববারের অনুশীলনে অবশ্য স্কোয়াডের সবাইকে পাওয়া যায়নি। যারা ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন, তাদের নিয়ে সেন্টার উইকেট ও স্ল্যাবে কাজ করেছে দল। সেন্টারের দুই উইকেটে ব্যাটাররা অনুশীলন করলেও বোলারদের মধ্যে শুধু মোস্তাফিজুর রহমান সেখানে বল করেছেন। কোচিং স্টাফের সদস্যটি বলেন, ‘আমরা আজ (রোববার) নিয়মিত নেট সেশন করেছি। সেন্টার উইকেট ও স্ল্যাব দুই জায়গাতেই অনুশীলন হয়েছে। সবাই ব্যাটিং করেছে, সেন্টারে দুটি উইকেটও প্রস্তুত করা হয়েছিল। ওই উইকেটগুলোতে শুধু মোস্তাফিজ বোলিং করেছে।’ টি-টোয়েন্টি থেকে বেশ কিছুদিন দূরে থাকার কারণে ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ফরম্যাটটির প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। অনুশীলনে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও ইয়াসির আলী রাব্বিসহ সাতজন ব্যাটার তুলনামূলক বেশি সময় কাটিয়েছেন। জুলাইয়ের পর আর টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি বাংলাদেশের। ফলে এশিয়ান গেমসের আগে মিরপুরের সময়টা শুধু জাপানের কন্ডিশনের প্রস্তুতিতে নয়, টি-টোয়েন্টির ম্যাচ-টেম্পো ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কোচিং স্টাফের ওই সদস্য বলেন, ‘যেহেতু আমরা বেশ কিছুদিন টি-টোয়েন্টি খেলিনি, তাই এখন থেকে আমাদের টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতিতেও মনোযোগ দিচ্ছি।’ জাপানে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগ মিরপুরের মতো পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। সে কারণেই দেশ ছাড়ার আগের সময়টুকু সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ সেই পরিকল্পনারই অংশ। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে টাইগাররা। ‘বি’ গ্রুপের বিজয়ী দলের বিপক্ষে হবে সেই ম্যাচ। ১ অক্টোবর নির্ধারিত সেমিফাইনালের পর ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ ও ফাইনাল। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সাফল্যের স্মৃতিও আছে। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে সোনা জিতেছিল তারা। আর ২০২৩ সালের হাংজু আসরে পাকিস্তানকে ছয় উইকেটে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই সাফল্যকে সোনায় রূপ দিতে চায় টাইগাররা। এসকেডি/আইএন
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি জনতা কলেজের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে মেশিনগানের একটি কার্তুজ পেয়েছে এক শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থী এটিকে খেলনা মনে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে কার্তুজটি উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলেজ মাঠে ফুটবল খেলছিল নবম শ্রেণির ছাত্র জিহাদুল ইসলাম জিসান। একপর্যায়ে মাঠে যাওয়া বল আনতে গিয়ে গাছের নিচে ইটের ফাঁকে তামার মতো দেখতে একটি বস্তু দেখতে পায় সে। পরে খেলনা ভেবে এটি বাড়িতে নিয়ে যায় জিসান। রোববার টিফিনের সময় বন্ধুদের বস্তুটি দেখানোর পর বিষয়টি স্থানীয় জিহাদ হোসাইনের নজরে আসে। তিনি বস্তুটি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। পরে দুমকি থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্তুজটি উদ্ধার করেন। শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম জিসান বলে, ফুটবল খেলার সময় বল আনতে গিয়ে গাছের নিচে ইটের ফাঁকে তামার মতো দেখতে বস্তুটি দেখতে পাই। খেলনা মনে করে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরদিন বড় ভাই জিহাদ হোসাইনকে দেখালে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে এটি কার্তুজ বলে জানায়। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি মেশিনগানের কার্তুজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি কীভাবে কলেজ চত্বরে এলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাহমুদ হাসান রায়হান/এসআর/এএসএম
সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ও আবহা এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এ সতর্কতা জারি করেছে। এদিকে ইয়েমেন সরকারের বিমানবাহিনী দেশটির ধুবাব ও মোচা এলাকায় হুথিদের সরঞ্জাম, সমাবেশ ও সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন। তিনি জানান, তাইজ প্রদেশের ধুবাব ও মোচা এলাকার ‘কিল বক্স’ হিসেবে চিহ্নিত স্থানে এসব হামলা চালানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাইজ শহর থেকে মোচা যাওয়ার সড়কটির আশপাশে সামরিক এলাকা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের ওই সড়ক এড়িয়ে চলার সতর্কতা দেওয়া হয়। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে আকস্মিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মোচা দখল করে নেয় হুথিরা। এর ফলে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় একটি অংশে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমএসএম
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) উত্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। সম্প্রতি দলটির নির্বাচনি সাফল্যের পর এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজধানী বার্লিন, হামবুর্গ ও মিউনিখসহ জার্মানির প্রায় ২০টি শহরে বিক্ষোভ করেন মানুষ। আয়োজকদের হিসাবে, এসব কর্মসূচিতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ অংশ নেন। এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এসব বিক্ষোভের আয়োজন করে অভিযান পরিচালনাকারী সংগঠন প্রুফ। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড। কোনোটিতে লেখা ছিল, ‘এএফডিকে এখনই নিষিদ্ধ করুন’। আবার কোনোটিতে ছিল, ‘গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই’। আরও পড়ুন জার্মান চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে মামলা নাগরিক অধিকার ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে জনমত তৈরিতে কাজ করা সংগঠন ক্যাম্প্যাক্টও বিক্ষোভে অংশ নেয়। সংগঠনটির প্রধান ক্রিস্টফ বাউৎস বলেন, সংবিধানের শত্রুদের সরকার পরিচালনার ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকাতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ রাজপথে নেমেছেন। ক্যাম্প্যাক্টের হিসাবে, হামবুর্গে প্রায় ২৫ হাজার এবং মিউনিখে ১২ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বার্লিনেও কয়েক হাজার মানুষ আলাদা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, বার্লিনে এএফডিও পাল্টা সমাবেশ করেছে। এতে এএফডির বার্লিন রাজ্য শাখার নেত্রী ও আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনে দলটির প্রধান প্রার্থী ক্রিস্টিন ব্রিঙ্কার অংশ নেন। আরও পড়ুন জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান, অভিবাসন নিয়ে বড় বার্তা গত ৬ সেপ্টেম্বর পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে এএফডি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পায়। দলটি চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন বা সিডিইউকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে। সিডিইউ পেয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট। এ নির্বাচনে এএফডির এই সাফল্যের পরই দলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। নির্বাচনটির আগে এএফডির ‘রিমিগ্রেশন’ নীতি নিয়েও জার্মানিতে বিতর্ক তৈরি হয়। গত বুধবার জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেস্টাগে অভিবাসন নিয়ে বিতর্কের সময় চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এ নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বংশপরিচয় বা গায়ের রঙের ভিত্তিতে মানুষকে জার্মানি থেকে বের করে দেওয়ার কথা এএফডির নীতিতে বলা হচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের নীতি ‘জাতিগত নিধনের’ সমান। এর জেরে মের্জের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করে এএফডি। আরও পড়ুন জার্মানিতে কট্টরপন্থিদের উত্থানে ‘হৃদয় রক্তাক্ত’ মেরকেলের এদিকে, অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের পাশাপাশি এএফডির রাশিয়ার প্রতিও তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ৮৩ আসনের রাজ্য পার্লামেন্টে এএফডি ৩৯টি আসন পেতে পারে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দলটির আরও তিনটি আসন প্রয়োজন। এএফডির এ ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় জার্মানির অনেক মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, দেশটির নাৎসি অতীতের কারণে দলটির উত্থান নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। তবে, জার্মানিতে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া আইনগতভাবে খুবই জটিল। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় দুলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় দেন। বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ)। তিনি জানান, রায়ে দুলালকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শারমিনের সঙ্গে দুলাল হোসেনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের পর থেকেই দুলাল হোসেন তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের পরামর্শে শারমিনের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতেন। যৌতুকের জন্য তাঁকে প্রায়ই মারধর করা হতো।মামলায় আরও বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে মারধর করেন। পরে ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুলালের বসতঘরের ভেতর শারমিনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।মামলার সূত্রে জানা যায়, শারমিনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভান। পরে তাঁকে প্রথমে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাঁর শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। খবর পেয়ে শারমিনের মা ও মামলার বাদী মোমেলা বার্ন ইউনিটে গিয়ে মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাত নয়টার দিকে শারমিন মারা যান।এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ কে এম সাইদুজ্জামান। তিনি বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় সাক্ষ্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তৎকালীন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাওহীদ-আল-আজাদ শারমিনের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি রেকর্ড করেন।এসআই মো. শফিয়ার রহমান শারমিনের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।তদন্ত শেষে দুলাল হোসেনের সঙ্গে হারুন, মোর্শেনা, জরিনা, সুমাইয়া ও রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি ১৯ নম্বর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। বিচার চলার সময় আসামি জরিনা মারা যাওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।দণ্ডিত দুলাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামিনে থাকা আসামিদের ও তাঁদের জামিনদারদের জামিনের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে আড়াই বছর আত্মগোপনে থেকে বাড়ি ফিরে নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতা। চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ পরিবারের। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে..
গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজের ছোট মেয়েকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মেজ মেয়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানার বনমালা রেলগেট এলাকায় জনৈক সুমন মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে দুপুরে আদালতে নেওয়া হয়। তবে আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার আবুল কাশেম (৭০) ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার হরিপুর গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে বনমালা রেল গেট সুমন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। থানায় করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল কাশেম ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার স্ত্রী মানসিক প্রতিবন্ধী। দুই বছর আগে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে আবুল কাশেম পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। ভাড়া বাসায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে আবুল কাশেমের মেজ মেয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। আরও পড়ুন ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যা, প্রেমিকসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড বিকেলে সে বাসায় এসে জানতে পারে, তার ১৩ বছর বয়সী ছোট বোনকে বাসায় একা পেয়ে বাবা ধর্ষণ করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আবুল কাশেমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। শিহাব খান/এসআর/এএসএম
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে পারিচালিত অভিযানে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণসহ বিভিন্ন অনিয়ম পেয়েছে সংস্থাটি। এসব অভিযোগে জরিমানা ও মামলাও করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর প্রয়োগ, মনিটরিং কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা, দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযান এবং বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এই সময়ে ২০টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। আরও পড়ুন খাবারে তেলাপোকা ও ক্ষতিকর রং, চট্টগ্রামে ৩ রেস্তোরাঁকে জরিমানা ৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ, পেস্ট কন্ট্রোল প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়া প্রভৃতি অপরাধের কারণে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায়ও নিরাপদ খাদ্য আইন অনুসারে অভিযান চলমান। এই ৭ দিনে লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভিবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও নীলফামারি জেলায় মোট ১৪টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি করা, পোড়াতেল ব্যবহার করা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার করা, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি এর ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে কেওড়াজলের ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন করা প্রভৃতি কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে মোট ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরও পড়ুন ধানমন্ডির জিংলিং রেস্টুরেন্টকে লাখ টাকা জরিমানা এছাড়া, ১২ সেপ্টেম্বর নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পাবনা ও সিলেটে পৃথকভাবে সামারি ট্রায়াল পরিচালিত হয়। পাবনায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য অফিসারের উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় ২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে সিলেটের বিসিক শিল্পনগরী, খাদিমনগরে অবস্থিত দুটি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনকালে একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো দৃশ্যমান অসংগতি পরিলক্ষিত না হলেও অপর প্রতিষ্ঠানে খাদ্য সংরক্ষণ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হওয়ায় ৭ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৯৬টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং পরিচালনা করা হয়। মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আরও পড়ুন ভবনে এডিস মশার লার্ভা, জরিমানা পৌনে ২ লাখ টাকা এছাড়া, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম চলমান। এসব প্রচারণার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তার করণীয় বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। উক্ত সময়ে সচেতনতামূলক টিভিসি বাংলাদেশ টেলিভিশনে টিভিসি প্রচারের পাশাপাশি স্ক্রলবার্তাও প্রচার করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে। চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গবেষণা, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে। এনএইচ/ইএ
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
হামের প্রকোপ এখনো রয়ে গেছে। হামে আক্রান্ত শিশু নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন অভিভাবকেরা। যদিও আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই কমে আসবে এই প্রকোপ। কিন্তু পত্রিকার সংবাদ বলছে, এ বছর হামে শিশুমৃত্যু হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে আরও কিছুদিন।রোগের কারণহাম রোগের মূল কারণ হলো মিজলস ভাইরাস, যা প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।লক্ষণ কীহাম রোগের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ৮-১২ দিনের মধ্যে দেখা যায়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো—উচ্চ জ্বর, শুকনা কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা কনজাংইটিভাইটিস, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট), শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ঢেলে সাজাচ্ছি: উপাচার্যসংক্রমণের ধরনহাম খুব সহজেই ছড়ায়। আক্রান্ত শিশু কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসে থাকা ভাইরাস দুই ঘণ্টা সময় ধরে অন্য সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। আক্রান্ত শিশুর লক্ষণ শুরু হওয়ার চার দিন আগে থেকে এবং ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর্যন্ত সংক্রামক থাকে।চিকিৎসাযথাযথ বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ওষুধই এই রোগের মূল চিকিৎসা। পরপর দুই দিন দুটি উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ক্যাপসুল বয়স অনুযায়ী দেওয়া হয় এই রোগের তীব্রতা কমানোর জন্য। এর পাশে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয়। তবে যদি শিশু গুরুতর অসুস্থ, খাবারে অনীহা, ঘন ঘন বমি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি হলে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।প্রতিরোধসময়মতো হামের টিকা দুই ডোজ ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং ১৫ মাস বয়সে প্রদান করতে হবে। সব সময় হাত–মুখ ধুতে হবে, চোখে হাত দেওয়া যাবে না।হাঁচি, কাশি, শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অন্তত ৫ দিন আলাদা করে রাখতে হবে।শিশুর জ্বর ও ফুসকুড়ি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম, শিশু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা
শহুরে জীবনে পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্ন বেড়েছে অনেক। কিন্তু তার সঙ্গে কমেছে প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। মাটি ছোঁয়া, ঘাসে বসা, কিংবা গাছের বাকলে হাত রাখা এসব সাধারণ কাজ এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে চলে গেছে। অথচ গবেষণা বলছে অন্য কথা।প্রকৃতির মাটি ও গাছপালার সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শ শরীরের উপকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে। এমনকি প্রভাব ফেলতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও।মাটিতে হাত দেওয়া কেন উপকারী হতে পারে?আমাদের ত্বক শুধু শরীরকে বাইরের জগৎ থেকে আলাদা করে রাখে না। এর ওপর বসবাস করে অসংখ্য অণুজীব। এদের সবাই কিন্তু ক্ষতিকর নয়। বরং নানা ধরনের উপকারী জীবাণু একসঙ্গে থাকলে তারা একে অপরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষতিকর জীবাণুর আধিপত্য তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যায়। ফিনল্যান্ডের প্রকৃতি-স্বাস্থ্য গবেষক মিরা গ্রোনরুস একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল প্রায় ২০ সেকেন্ড মাটি আর বাগানের গাছে হাত ঘষতে। পরে হাত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। তারপরও দেখা যায় বড় পরিবর্তন। তাদের হাতের ত্বকে জীবাণুর সংখ্যা আর বৈচিত্র্যে এসেছিল স্পষ্ট বদল। খালি চোখে হাত দেখতে পরিষ্কারই লাগছিল। কিন্তু ত্বকের অণুজীব-জগতে ততক্ষণে ঘটে গিয়েছিল বড় ধরনের পরিবর্তন।মাত্র ২০ সেকেন্ডেই বদল, তবে নিয়মিত সংস্পর্শই আসলমাত্র কয়েক সেকেন্ড প্রকৃতির সংস্পর্শেও ত্বকের জীবাণু-পরিবেশে বদল আসে। তবে এই প্রভাব স্থায়ী নয়। গবেষকদের মতে, কিছুদিন পর ত্বকের জীবাণুর অবস্থা আবার আগের মতো হয়ে যেতে পারে। তাই একবার মাটি ছোঁয়ার চেয়ে বেশি জরুরি হলো নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা। বাগান করা, গাছের যত্ন নেওয়া, ঘাসে বসা, কিংবা প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটানো। এসব দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্য দিয়েই তৈরি হতে পারে এই সংযোগ।শিশুদের মাটিতে খেলাধুলাতেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় উপকারফিনল্যান্ডের কয়েকটি ডে-কেয়ার সেন্টারে চলেছে আরেকটি গবেষণা। সেখানে দেখা হয়, প্রকৃতির কাছাকাছি পরিবেশে শিশুদের খেলতে দিলে কী হয়। কিছু জায়গায় পাথর বা মেঝের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠের গুঁড়ো, বালি, গাছপালা আর মাটির মতো প্রাকৃতিক উপাদান। গবেষণাটি চলে দুই বছর ধরে। সেখানে শিশুদের এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়মিত খেলতে দেওয়া হয়। এরপর পরীক্ষা করা হয় তাদের ত্বকের জীবাণু-পরিবেশ। ২৮ দিন পর আর এক বছর পরের ফলাফল তুলনা করে দেখা যায় একটা স্পষ্ট পার্থক্য। বনভূমির মতো প্রাকৃতিক মাটির সংস্পর্শে থাকা শিশুদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, নানা ধরনের অণুজীবের উপস্থিতিই ত্বকের জীবাণু-পরিবেশকে রাখে ভারসাম্যপূর্ণ।‘ভালো’ জীবাণু থাকলে ক্ষতিকর জীবাণুর জায়গা কমেত্বকে যখন নানা ধরনের অণুজীব একসঙ্গে বসবাস করে, তখন ক্ষতিকর বা রোগ তৈরিকারী জীবাণুর আধিপত্য গড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। গবেষক মারজা রোসলুন্ড বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, একটি বৈচিত্র্যময় পরিবেশে সব জীবাণুর জন্যই জায়গা থাকে। তাই কোনো একটি ক্ষতিকর গোষ্ঠীর একচেটিয়া দখল তৈরি করা সহজ হয় না। অর্থাৎ ত্বককে সবসময় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখাই আদর্শ নয়। বরং দরকার একটা স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য।ত্বকের বদলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাওপ্রকৃতির সংস্পর্শের উপকার শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের জীবাণু-বৈচিত্র্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু সূচকও। শিশুদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গার মাটিতে খেলার পর ত্বকের কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। সঙ্গে বদল এসেছে রক্তের কিছু ইমিউন মার্কার বা সাইটোকাইনের মাত্রাতেও। এই সাইটোকাইনগুলোই মূলত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।তবে এর মানে এই নয় যে মাটির সংস্পর্শ সরাসরি অ্যাজমা, একজিমা বা অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে। গবেষকেরা নিজেরাও বলছেন, এসব রোগে ঠিক কতটা প্রভাব পড়ে, তা নিশ্চিত করে জানতে আরও গবেষণা দরকার।বাগান করাও হতে পারে সহজ একটা উপায়প্রকৃতির সংস্পর্শে যেতে বড় কোনো বনভ্রমণের দরকার নেই। বাগান করাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ পথ। একটি গবেষণায় কিছু প্রাপ্তবয়স্ককে শীতকালে ঘরের ভেতর সবজি চাষ করতে বলা হয়েছিল। কেউ ব্যবহার করেছিলেন জীবাণু-সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় মাটি। কেউ আবার ব্যবহার করেছিলেন তুলনামূলক কম বৈচিত্র্যের মাটি। প্রায় এক মাস পর দেখা যায়, বৈচিত্র্যময় মাটি ব্যবহারকারীদের ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। পাশাপাশি রক্তে কিছু প্রদাহনাশক সাইটোকাইনের মাত্রাতেও এসেছে পরিবর্তন।অর্থাৎ প্রতিদিন গাছে পানি দেওয়া, মাটি খোঁড়া কিংবা নিজের হাতে সবজি ফলানোর মতো সাধারণ কাজও শরীরকে প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করতে পারে।অফিসেও কি প্রকৃতির ছোঁয়া কাজে দেয়?প্রকৃতির উপকার পেতে সবসময় বাইরে যাওয়ারও দরকার নেই। ফিনল্যান্ডের কিছু অফিসে জীবন্ত গাছ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এক ধরনের সবুজ দেয়াল। এরপর দেখা হয় কর্মীদের শরীরে এর প্রভাব। দুই সপ্তাহ পরই দেখা যায় স্পষ্ট বদল। কর্মীদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য বেড়েছিল। রক্তে কিছু প্রদাহ-বর্ধক সাইটোকাইনের মাত্রা কমেছিল। ত্বকে ল্যাকটোব্যাসিলাসের মতো উপকারী কিছু জীবাণুর উপস্থিতিও বেড়েছিল। গবেষণাটি আকারে ছোট হলেও একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেয়। দৈনন্দিন পরিবেশে সবুজ আর প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করাটাও হতে পারে উপকারী।শহুরে জীবনে প্রকৃতির সংস্পর্শ কেন জরুরি?গবেষকদের একটা বড় ধারণার নাম বায়োডাইভার্সিটি হাইপোথিসিস বা জীববৈচিত্র্য প্রকল্প। এই ধারণা অনুযায়ী, গাছপালা, মাটি আর বাতাসে থাকা নানা রকম অণুজীবের বৈচিত্র্যই প্রভাব ফেলে আমাদের শরীরের জীবাণু-পরিবেশের ওপর। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ-সংক্রান্ত কিছু সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। এই ধারণা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন বহুদিন ধরেই। তবে এই সম্পর্কের সঠিক কারণ ও প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।এ কারণেই গবেষকদের পরামর্শ একটাই। শহর এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যেখানে মানুষকে প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে আলাদা করে সময় বের করতে না হয়। স্কুলে যাওয়ার পথে, অফিসে যাওয়ার পথে, কিংবা পার্কে হাঁটার সময়ই যেন গাছপালা আর মাটির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়ে যায় আপনাআপনি।একটু মাটি, একটু ঘাসপ্রকৃতির কাছে ফিরতে বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই। পার্কে হাঁটতে গিয়ে গাছের বাকলে হাত রাখা, কিছুক্ষণ ঘাসে বসা, বারান্দার টবের গাছের যত্ন নেওয়া, কিংবা ছোট করে একটা বাগান করা, এভাবেই শুরু হতে পারে সবকিছু। তবে বাইরে থেকে ফিরে হাত পরিষ্কার করা এবং মাটি ব্যবহারের সময় সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। লক্ষ্য কিন্তু ‘নোংরা থাকা’ নয়। লক্ষ্য হলো প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সঙ্গে পরিমিত আর নিরাপদ একটা সম্পর্ক তৈরি করা।এই গবেষণাগুলো একটা মজার সত্যিই মনে করিয়ে দেয়। স্বাস্থ্যকর জীবনের সব সমাধান হয়তো স্ক্রিন, জিম বা দামি ওয়েলনেস পণ্যের মধ্যে নেই। কখনো কখনো একটু মাটি ছোঁয়া, গাছের পাশে বসা, কিংবা ঘাসে খালি হাতে স্পর্শ করাও হতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে শরীরের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে সহজ পথ।সূত্র: বিবিসিছবি: এআই ও পেকজেলসডটকম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার।আজ রোববার রাজধানীর নভোথিয়েটারের প্লেনারি হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর ‘হেলথ ইনোভেশন ফর অল: এক্সপান্ডিং অ্যাকসেস টু অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ কেয়ার’ শীর্ষক প্লেনারি আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ মেলার আয়োজন করে।জুবাইদা রহমান বলেন, অনেক মানুষ তাদের শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে যাওয়ার পর বিশেষায়িত হাসপাতালে যান। বাড়ির কাছাকাছি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীদের এই সেবা নিতে দূরদূরান্তে যেতে হয়।আধুনিক উচ্চতর চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, তবে এটি কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। অনেক উন্নত দেশও এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আমরা প্রায়ই বলি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। এটি সত্য, তবে রোগ এবং এর ঝুঁকিগুলো মারাত্মক রূপ নেওয়ার আগেই তা নির্ণয় করা জরুরি।দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য তা সহজলভ্য করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে না। হামে আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মায়েদের বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। প্রতিটি স্ক্রিনিং কর্মসূচির সঙ্গে নিশ্চিত রোগনির্ণয়, পরামর্শ, চিকিৎসা, ওষুধ, পর্যবেক্ষণ এবং রেফারেলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।ডা. জুবাইদা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার এই দৃষ্টিভঙ্গি একটি সুস্পষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আয়, অবস্থান বা সামাজিক মর্যাদার ওপর নির্ভরশীল কোনো বিশেষ সুবিধা হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এটি সহজলভ্য হওয়া উচিত।জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, সংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং, রক্তের উপাদান পৃথক্করণ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং রক্তদাতা থেকে রোগী পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের একটি জাতীয়ভাবে সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।এসব উদ্যোগে উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। তবে উদ্ভাবন মানেই সব সময় ব্যয়বহুল কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করা বা নতুন কোনো অ্যাপ চালু করা নয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কে আজাদ খান।প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) মহাপরিচালক (ডিজি) আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বাপি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন, টিএমএসএসের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মতিউর রহমান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) পরিচালক ডা. মো. আকতার হোসেন, ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের মেডিকেল সার্ভিসেস পরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম খান এবং এসকেজেন লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সাদাফ সাজ সিদ্দিকী।
নুভিস্তা ফার্মার আয়োজনে ‘পিসিওএস (PCOS) সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা। সহযোগিতায় এলিসা ও লিয়ানা।এ পর্বের আলোচনায় বিষয়—পিসিওএস (PCOS) কী, কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে কী জানা জরুরি এবং পিসিওএস (PCOS) নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা।আলোচকপ্রফেসর শাহানারা চৌধুরীসাবেক প্রেসিডেন্ট, ওজিএসবি চট্টগ্রামভাইস প্রেসিডেন্ট, এফএসএসবিপ্রফেসর মলয় কান্তি চক্রবর্তীসাবেক অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধান (গাইনী), নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালীসাবেক সভাপতি, ওজিএসবি, নোয়াখালী শাখাসঞ্চালকডা. সালমা আক্তার শিমুসহযোগী অধ্যাপকচট্টগ্রাম মা-ও-শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ ‘দুঃখজনক’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ওই নিয়োগই দুঃখজনক ছিল। তার এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগ পাওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছিল না। তিনি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতির বিষয়গুলো সামনে আসবেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির দুর্গন্ধ থামানো কঠিন, এটি বের হয়ে আসবেই। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। আরও পড়ুন বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে চায় শেভরন সায়মা ওয়াজেদকে শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও কঠোর করা প্রয়োজন। কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থন করছে, যার ভালো যোগ্যতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে। কেএসআর/
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একদিনে মারা গেছেন আরও ছয়জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ১৪৯ জনের মৃত্যু হলো। তাদের মধ্যে ৫২ জনই মারা গেছেন চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার ৫১৬ জন। এ নিয়ে এবার ভর্তি হলেন মোট ৫১ হাজার ৮৩৭ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৩ জন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাদের মধ্যে একজন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৪৯ জনের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আরও পড়ুন ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামের ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৫২ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৪৮, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৮ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৫, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১২, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন। আরও পড়ুন আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর রেকর্ড সেপ্টেম্বরের ১১ দিনেই ভাঙলো রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হন ৮ সেপ্টেম্বর। এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন। একিউএফ/
দেশের আমদানিনির্ভর কফির বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। প্রায় আড়াই দশকের গবেষণায় খাগড়াছড়িতে কফির দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাহাড়ের অনাবাদি ও পতিত জমির পাশাপাশি ফলবাগান কিংবা বনজ গাছের ছায়াতেও আবাদ করা যাবে এসব কফি। ফলে অনুৎপাদনশীল জমিকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে কফি চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুধু নতুন জাত উদ্ভাবনেই থেমে নেই গবেষণা। কৃষকের মাঠে চারা পৌঁছানো, পাহাড়ি পরিবেশে উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই এবং কফিকে ঘিরে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার তৈরির সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। ২০২১ সাল থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ চারা বিতরণ করেছে গবেষণা কেন্দ্র। তবে পাহাড়ি কফিকে বাণিজ্যিক ফসলে রূপ দিতে উৎপাদনের পাশাপাশি মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারব্যবস্থা ও মূল্য সংযোজনের অবকাঠামো গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বারি সূত্রে জানা গেছে, কফির পাশাপাশি কাজুবাদাম নিয়েও গবেষণা ও জাত উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা অবকাঠামোর বিভিন্ন কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (বারি অংগ)’ প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়ন কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘দেশে কফির চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে’ শুধু কফি উৎপাদন নয়, পাহাড়ে এই ফসলকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে নতুন কৃষি অর্থনীতি। বিদ্যমান ফলদ ও বনজ গাছের সঙ্গে companion crop হিসেবে কফি চাষ করা সম্ভব হওয়ায় নতুন করে পুরো জমি পরিষ্কার করারও প্রয়োজন নেই। একই জমি থেকে একাধিক ফসলের আয় পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি চারা উৎপাদন, বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনেও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। আরও পড়ুন কাজুবাদাম-কফিতে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষি জানা গেছে, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কফি নিয়ে গবেষণার সূচনা হয় ২০০১ সালে। এরপর বিভিন্ন উৎস থেকে কফির জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, বাছাই, অগ্রবর্তী লাইন তৈরি, ফলন ও গুণগত মান যাচাই এবং পাহাড়ি পরিবেশে অভিযোজন পরীক্ষা চালানো হয়। দীর্ঘ গবেষণার ধারাবাহিকতায় পাহাড়ি পরিবেশে রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা—দুই ধরনের কফির উপযোগী জাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। গবেষণা-সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বারি কফি-১ (রোবাস্টা) এবং ২০২৫ সালে বারি কফি-২ (অ্যারাবিকা) অবমুক্ত করা হয়। ২০২১ সাল থেকেই বারি কফি-১ নিয়ে গবেষণার অগ্রগতির খবর প্রকাশিত হয়ে আসছিল। পরবর্তী সময়ে গবেষণার ফল হিসেবে দুটি জাত অবমুক্ত করা হয়। গবেষণা নথি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি কফির চারা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এসব চারা মাঠপর্যায়ে রোপণের পর কৃষক পর্যায়েও কফি উৎপাদনের বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছে। গবেষণা নথির হিসাবে, প্রতিদিন ৫০ কাপ কফি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হলে দৈনিক বিক্রি দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ কফিকে শুধু কৃষিপণ্য হিসেবে না দেখে উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্থানীয় বিক্রয়ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা / সীতাকুণ্ডে ‘রোভাস্টা জাতের’ কফি চাষে বাজিমাত ২০২৫ সালের একটি মাঠভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পূর্ণবয়স্ক একটি কফি গাছ থেকে বছরে প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি কফি বীজ পাওয়া যেতে পারে। একই প্রতিবেদনে উৎপাদিত কফি বীজের দাম প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কফির জাত, গুণগত মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর দামের তারতম্য হতে পারে। ফলে এ হিসাবকে নির্দিষ্ট বাজারদর না ধরে সম্ভাব্য কৃষি-অর্থনৈতিক হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষের আরেকটি সুবিধা হলো এটি বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের সঙ্গে সমন্বিতভাবে চাষ করা যায়। ফলে নতুন করে পুরো জমি পরিষ্কার করে শুধু কফির বাগান তৈরি না করেও বিদ্যমান বাগান ব্যবস্থার সঙ্গে কফিকে যুক্ত করা সম্ভব। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসলের আয় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখেও কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তবে পাহাড়ে কফির সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু চারা রোপণ ও উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। কাঙ্ক্ষিত ফলনের জন্য পাহাড়ের মাটি, উচ্চতা ও আবহাওয়া বিবেচনায় উপযুক্ত জাত ও ক্লোন নির্বাচন, ছায়াব্যবস্থা, সার প্রয়োগ, পানি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো ফল সংগ্রহ জরুরি। এর সঙ্গে সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ে কফির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে কাঁচা কফি উৎপাদনের পাশাপাশি ‘চারা থেকে কাপ’ পর্যন্ত পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হবে। পাহাড়েই কফি শুকানো, বীজ আলাদা করা, রোস্টিং, গ্রাইন্ডিং ও প্যাকেটজাত করার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ গড়ে উঠলে কৃষক কাঁচা কফির ফল বিক্রির পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত পণ্যে বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারবেন। আরও পড়ুন রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদামে আশাবাদী চাষিরা এতে কফি চাষের সঙ্গে চারা উৎপাদন, বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ পাহাড়ে কফি চাষ শুধু একটি নতুন অর্থকরী ফসলের সম্ভাবনাই নয়, স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষিভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল তৈরির সুযোগও তৈরি করছে। পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিতে সাবেক প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুস সাত্তার উল্লেখ করেন, পাহাড়ি এলাকার অনাবাদি ও পতিত জমিকে উপযুক্ত অর্থকরী ফসলের আওতায় আনা গেলে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ের কৃষি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। কফি উৎপাদনের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়েই মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে। আরও পড়ুন খেজুরের বীজ থেকে শাহিনের অভিনব ‘কফি’ উদ্ভাবন বর্তমানে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, দেশে কফির চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, রপ্তানির জন্য শুধু কফি উৎপাদন যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মানের কফি বীজ, ধারাবাহিক গুণগত মান, সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং নির্ভরযোগ্য বাজারসংযোগ প্রয়োজন। এসসিএন/কেএইচকে/এএসএম
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: তারিখ: ১৮ মে ২০২৬ বাংলাদেশের স্বনামধন্য বৃহৎ রিসোর্ট ব্র্যান্ড ছুটি রিসোর্ট ২০২৬ সালের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন করে সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ছুটি রিসোর্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বিদ্যা সিনহা মিম, যিনি নিজ হাতে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। ২০১২ সাল থেকে ছুটি রিসোর্ট নিরলসভাবে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ ও বিরল প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে একটি সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতি বছরও ছুটি রিসোর্ট নতুন উদ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ছুটি রিসোর্টের চারটি রিসোর্ট এবং নির্মাণাধীন নতুন প্রকল্পসমূহে প্রায় ৪,০০০ (চার হাজার) গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান এ্যডভোকেট মোস্তফা মাহমুদ আরিফি, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল, ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলমগীর ফেরদৌস, ছুটি রিসোর্ট পুবাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ সামসুল ইসলাম মাসুদসহ রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং আগত অতিথিরা। সকলের অংশগ্রহণে এই সবুজ উদ্যোগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। একটি সবুজ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ছুটি রিসোর্ট সকলকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানায়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ শেষে মিম বলেন, “আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করি। এর মাধ্যমে দেশকে সবুজায়িত করি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি।” তিনি এই মহতী উদ্যোগের জন্য ছুটি রিসোর্টকে ধন্যবাদ জানান। ছুটি রিসোর্ট লি: concern of Chuti group: www.chutigroup.com
শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’-এর প্রভাবে সারাদেশে শুরু হয়েছে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে আজ (রোববার) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধাতেই বজ্রপাতে মারা গেছেন পাঁচজন। আহত হয়েছেন আরও এক ব্যক্তি। এছাড়া বজ্রপাতে একটি গরুও মারা গেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এবং সাঘাটা উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন হলেন- ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫), নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০) এবং সাঘাটা উপজেলার নম্বর আলী (৬৫)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) ধোপাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় ওই দুই তরুণ ও শিশু বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মারা যান নম্বর আলী। এছাড়া বজ্রপাতে নাটোরের সিংড়ায় একজন, জামালপুরের মেলন্দাহে দুজন, সিরাজগঞ্জে দুজন, বগুড়ার গাবতলীতে একজন এবং সকালের দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে একজন নিহত হয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ রাতের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১১ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রকৃতি ও নির্ধারিত ঋতুচক্র। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি যেমন চাষাবাদের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এর অনিয়মিততা কৃষকের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বৃষ্টির আচরণে যে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে, তাতে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। আগে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে চাষাবাদ করা যেত নির্দ্বিধায়, এখন সেখানে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে দোটানার মধ্যে। কখন বৃষ্টি হবে, কতটা হবে, কবে হবে—এই অনিশ্চয়তা কৃষকের পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে বারবার। জুন-জুলাই মাসেই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন অনেক বছরেই দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হচ্ছে দেরিতে অথবা হচ্ছে অতিরিক্ত অল্প সময়ে। এতে করে রোপা আমনের মতো ফসল সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কখনো বৃষ্টি হচ্ছে হঠাৎ করে অতিরিক্ত, যা বীজতলা ধ্বংস করে দিচ্ছে বা সদ্য রোপণ করা চারা নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার কখনো দীর্ঘদিন খরা বিরাজ করায় জমিতে ফাটল ধরছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ফসল। এর ফলে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে চাষাবাদের চক্রে পরিবর্তন আসছে। অনেক কৃষকই নির্ধারিত সময়ে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। কোনো কোনো অঞ্চলে আবার বৃষ্টি এসে প্রস্তুত জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, যা চাষাবাদের উপযোগিতা নষ্ট করছে। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময়েই হঠাৎ বৃষ্টি নেমে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে কৃষকদের শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সাথে বাড়ছে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা। এক সময়ের নির্ভরযোগ্য কৃষি মৌসুমগুলো এখন অনেকটাই অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাও অনেক সময় যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে কৃষকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমন অবস্থায় অনেক কৃষকই বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিচ্ছেন অথবা অন্য পেশায় ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষিখাতের জন্য বড় হুমকি। এতে করে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণ শুধু ধান বা গম নয়, শাকসবজি, তিল, আখ কিংবা মসুরের মতো ফসলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাষের পর সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় ফসল স্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আবার বেশি পানি পেয়ে অনেক ক্ষেতেই গাছ পচে যাচ্ছে বা ফলন হচ্ছে অপূর্ণাঙ্গ। এতে কৃষকদের আয় দিনদিন কমছে, আর ঋণগ্রস্ততার হার বাড়ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, এবং আবহাওয়া তথ্য সেবা সহজলভ্য করতে হবে। একইসাথে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের দিকে এগিয়ে যেতে না পারলে এই অনিয়মিত বৃষ্টির চক্র আগামীতে আরও বড় সমস্যা তৈরি করবে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
বাংলাদেশের কৃষি খাত আজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এক সময় যে চাষাবাদ ছিল কেবল কৃষকের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক নির্ভরশীলতার উপর, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি যন্ত্রের প্রসারে দেশের গ্রামীণ চাষাবাদে এক বিপ্লব ঘটছে। পরিবর্তন আসছে কৃষকের চাষের ধরণ, উৎপাদনের পরিমাণ এবং খরচের পরিমিত ব্যবস্থাপনায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত মানের পাওয়ার টিলার, স্মার্ট স্প্রেয়ার, স্বয়ংক্রিয় পানি সেচ যন্ত্র, ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, স্যাটেলাইট নির্ভর আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের স্মার্ট কৃষি যন্ত্র এখন অনেক গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকের শ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচছে, উৎপাদনও হচ্ছে আরও পরিকল্পিতভাবে। স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি উপকার পাচ্ছেন তরুণ কৃষকরা, যারা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী এবং স্মার্টফোন বা অ্যাপ ব্যবহার করে চাষাবাদে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মাটি পরীক্ষার জন্য পোর্টেবল যন্ত্র, মোবাইল অ্যাপ থেকে আবহাওয়ার আপডেট, এমনকি কৃষি পরামর্শও মিলছে এখন হাতের মুঠোয়। ফলে ফসল উৎপাদনের আগে থেকেই তারা জানেন কোন ফসল কবে লাগাতে হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, আর কখন ফসল ঘরে তুললে সর্বোচ্চ লাভ মিলবে। সবুজ প্রযুক্তির আরও একটি বড় দিক হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে অধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির ক্ষতি হতো, কিন্তু এখন অনেকেই জৈব সার ও বায়োকন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নিরাপদ হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির উর্বরতাও বজায় থাকছে দীর্ঘমেয়াদে। এ ছাড়া সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিও অনেক অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা খরার সময়েও কৃষকদের সহায়তা করছে। তবে এই পরিবর্তনের পথ এখনো সহজ নয়। অনেক কৃষক এখনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের দক্ষতা বা আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছেন না। স্মার্ট যন্ত্রের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন সমবায় ভিত্তিক ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ। এই বিপ্লব সফল করতে হলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে কৃষি প্রযুক্তি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা, কৃষকদের জন্য সহজলভ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিলে কৃষি আরও লাভজনক ও টেকসই হবে। স্মার্ট কৃষি শুধু কৃষকের জীবনে পরিবর্তন আনবে না, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ প্রযুক্তির এই বিপ্লবই হতে পারে আগামী দিনের নিরাপদ ও আধুনিক কৃষির ভিত্তি।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষে ব্যাংক, টেলিকম ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মতো করপোরেট–দুনিয়ায় পা রাখার স্বপ্ন অনেক তরুণেরই থাকে। কিন্তু এই দুনিয়া নিয়ে তাঁদের মনে থাকে নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা। তরুণদের যাত্রাপথ সহজ করতেই লিখেছেন গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন।অনেকের ধারণা, সিজিপিএ বা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ই করপোরেট ক্যারিয়ারের একমাত্র টিকিট। বাস্তব অভিজ্ঞতা কিন্তু ভিন্ন। নিয়োগের প্রক্রিয়ার শুরুতে হয়তো হাজার হাজার আবেদনের মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই করার জন্য আমরা একাডেমিক স্কোর বা সিজিপিএ দেখি, কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে ডাক পাওয়ার পর আসল মূল্যায়ন শুরু হয় শিক্ষার্থীর চিন্তাধারা ও মানসিক দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে।নতুন বিষয় শেখার আগ্রহ প্রযুক্তি ও করপোরেট–জগৎ এখন প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে। আগে যেখানে শুধু ফোনে কথা বলা বা প্রচলিত সেবাই ছিল প্রধান, সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, ওটিটি ও ডিজিটালাইজেশন পুরো ব্যবসার ধরন বদলে দিয়েছে। তাই কোনো প্রার্থী একাডেমিক দিক থেকে কতটা জানেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—নতুন বিষয় শিখতে তিনি কতটা আগ্রহী। একজন ফ্রেশারের মধ্যে যদি গ্রোথ মাইন্ডসেট বা আত্মোন্নয়নের তীব্র তাগিদ থাকে, তবে তিনি যেকোনো জটিল প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও আগ্রহ ইন্টারভিউ বোর্ডে আসার আগেই প্রার্থীকে ঠিক করতে হবে—যে সংস্থায় কাজ করতে যাচ্ছেন, সেই সংস্থা ও শিল্পের চলমান পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি কতটুকু জানেন। ধরা যাক, আপনি টেলিকম খাতে কাজ করতে চান। এই ক্ষেত্রে কী কী রূপান্তর ঘটছে, মূল প্রোডাক্ট বা লক্ষ্য কী—এসব বিষয়ে প্রার্থীর পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। আমরা সব সময় দেখি যে প্রার্থী কি শুধু একটা চাকরির জন্য এসেছেন, নাকি প্রতিষ্ঠানের কাজের সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি মেলাতে পেরেছেন।অভিজ্ঞতা ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড আমরা প্রার্থীর পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগৎ দেখার চেষ্টা করি। তিনি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাব বা প্রজেক্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন? কোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? কিংবা কোনো সামাজিক উদ্যোগে ভূমিকা রেখেছেন? এসব কার্যক্রম প্রার্থীর উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা, টিমওয়ার্ক ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রকাশ করে। একাডেমিক ফলাফলের বাইরে এই অভিজ্ঞতা অনেক সময় প্রার্থীর যোগ্যতা প্রমাণের বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে।নিজের গল্প বলার সাহস জোগায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংগঠনপরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো কর্মক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আসবেই। কোনো কাজের ফলাফল হয়তো প্রত্যাশামতো হবে না কিংবা কাজের ধরন হঠাৎ বদলে যেতে পারে। সেই মুহূর্তে একজন ফ্রেশার কত দ্রুত নিজের ভুল থেকে শিখে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন, তা অত্যন্ত জরুরি। পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের ভেতরে পরিবর্তন আনার মানসিকতা থাকা চাই।বর্তমান চাকরির বাজারে প্রথাগত বা ডিগ্রিভিত্তিক ধারণা অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে। এখন প্রতিষ্ঠানগুলো ডিগ্রি বা সাবজেক্টের চেয়ে প্রার্থীর শেখার ইচ্ছা, ইতিবাচক মানসিকতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। নিজের যোগ্যতা ও চিন্তাভাবনাকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারলে যেকোনো ফ্রেশারের জন্যই করপোরেট সাফল্যের পথ উন্মুক্ত।গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. রনি (২৯), মো. হৃদয় গাজী (২৬), রহিম হাসান ওরফে ইয়াহিয়া (২৫) ও মোহাম্মদ ফয়সাল (২৬)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। আরও পড়ুন মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেআর/বিএ
রাজধানীর উত্তরখানে একটি অটো গ্যারেজে গোপনে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার আটজনকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের সদস্য সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা যাচাই এবং নাশকতার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন নাশকতার পরিকল্পনা: আওয়ামী লীগের আরও ২২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- মো. মাজহারুল ইসলাম ওরফে রায়হান (৩২), মো. রাকিব (২৩), মো. তানভীর খান (২৬), মো. আবদুর রহমান (৪০), মো. সিফাত (২০), মো. মাহফুজুর রহমান (২৪), মো. আশিক মিয়া (২৩) ও মো. বকুল আহমেদ ওরফে রাজু (২৪)। যেসব কারণে রিমান্ড মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরখান থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে উসকানিদাতা বা পৃষ্ঠপোষকদের নাম-ঠিকানা বের করার জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তবে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার দিপু রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরও পড়ুন গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ২৫ জন রিমান্ডে মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার রাতে উত্তরখানের পুরানপাড়ার একটি অটো গ্যারেজে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য একত্রিত হন। সেখানে তারা সরকার ও সাধারণ মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ওই অটো গ্যারেজে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে সেখানে থাকা আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তরখান থানার এসআই মো. জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এমডিএএ/ইএ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। রোববার বিকেলে বাংলামোটরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সভায় ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা নিরসন, ‘জুলাই শহীদদের’ পরিবারের পাশে থাকা এবং ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের’ তৎপরতা প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম অমিত ঘোষ (১৬)। সে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার উচ্চমাধ্যমিকের (দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্কুলটির শিক্ষকরা। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, রোববার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় সে। উপুড় হয়ে পড়ায় তার নাক-মুখ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সেখান থেকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মালিবাগ ক্যাম্পাসের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মাধ্যমের দিবা শাখার অভিভাবকদের গ্রুপে গণিতের শিক্ষক গোপাল দেবনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী anime নামক মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে আজ ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। সে সুইসাইড নোট রেখে গেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’ বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষক গোপাল দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে লাফ দিয়েছে, এটুকুই শুনেছি। কিন্তু সে লাফ দিয়েছে, নাকি পড়ে গেছে তা জানি না। আর তার ব্যাগে নাকি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সবই শুনেছি। আমি কিছু দেখিনি।’ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক শাকিলা আক্তার দীপা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের একটি ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের একটা ছেলে নিজে নিজেই লাফ দিয়েছে। সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে ওর ব্যাগে। সঙ্গে সঙ্গে ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন ওর কী অবস্থা তা বলতে পারছি না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সামনেই ঘটনাটা ঘটেছে। এখনো আমার হাত-পা কাঁপছে। স্থির হতে পারছি না। একদম মুখ-চোখ থেতলে গেছে। ছেলেটা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠুক সেই দোয়া করি।’ এদিকে, সুইসাইড নোটে অমিত ঘোষ কী লিখে গেছে, তা জানা যায়নি। তবে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক জানিয়েছেন, ছেলেটা পড়ালেখার চাপের কথা সুইসাইড নোটে লিখে গেছে। তবে কেউ কেউ বলছে, সুইসাইড নোট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। স্কুলের দুজন শিক্ষক বলেন, ৬ নম্বর ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ১১ তলার ছাদ খোলা। সেখানে এখনো কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়া নিষেধ। তারপরও কেন অমিত ঘোষ সেখানে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম, উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনকল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অমিত ঘোষের পরিবারের একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, সকালে আহত শিক্ষার্থী অমিত ঘোষকে ঢামেকে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢামেক থেকে তার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এএএইচ/এমকেআর
সিলেটের ওসমানীনগরে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা। তার একের পর এক বিতর্কিত ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। ‘আপা’ সম্বোধন করায় জরিমানা করাসহ ক্ষমতার অপব্যবহার, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ওসমানীনগরে যোগদানের পর থেকেই ৩৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বছরজুড়ে আলোচিত ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ‘আপা’ সম্বোধন করায় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের ওসমানীনগর শাখার এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আলোচনায় আসেন ইউএনও মুনমুন। এ ঘটনার পর তার কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মচারী আব্দুল মান্নানের দাবি, ইউএনও মুনমুনকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ভয় দেখিয়ে ওই জরিমানায় স্বাক্ষর করানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে গত বুধবার আমার দেশ অনলাইনে ‘ইউএনওকে আপা সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর থেকে ঘটনাটি আড়াল করতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে শুরু করেন ইউএনও মুনমুন। গত বৃহস্পতিবার সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউএনও মুনমুন। নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করেন। সংবাদ সম্মেলনে বনফুলের কর্মচারীকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের করা গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি। অভিযানে নিজের ছয় বছরের শিশু কন্যাকে সঙ্গে নেওয়ার বৈধতা, বনফুলের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কর্মচারীর স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি ইউএনও মুনমুন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পকের অধীন উপজেলার ৫৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ কেন্দ্রে ছয়টি করে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশন ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় । কিন্তু ওই টাকা বণ্টন না করে আত্মসাৎ করেন ইউএনও মুনমুন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক শতাংশ বরাদ্দ খাত থেকে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অথচ প্রকৃত সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী ব্যয় হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ গোপন রেখে ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল উত্তোলন করা হয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দ্রুত বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে ক্যামেরা স্থাপন শুরু করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি তাজপুর বাজারে একটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউএনওর স্বামীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ’-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে। সিসিটিভি প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ফলে উচ্চ আদালতে চলমান রিট মামলা থাকা অবস্থায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ওসমানীনগর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে বেআইনি এবং বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী দাবি করে কবির আহমদ গত ১২ মে পুনরায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে পরিষদের রাজস্ব খাতে একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি গাড়ি মেরামতের নামে ৯৬ হাজার টাকা, উপজেলা পরিষদ ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা ক্রয় ও মেরামতের নামে ৭৩ হাজার টাকা, বাংলোর পানির পাম্প মেরামত ও স্থাপনে ৭২ হাজার টাকা এবং ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্লান্ট সংযোজন বাবদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব প্রকল্পে আংশিক কাজ বা কোনো কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত ‘আয়ান এন্ড ইয়াকুব বিরিয়ানি হাউজে’ সরকারি চাল মজুত রয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিপন রায় প্রাথমিকভাবে চালগুলো জব্দ করেন। পরদিন ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ওই প্রতিষ্ঠানে ইউএনও মুনমুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সরকারি ১২০ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মাছুম আবির ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় চাল ক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। আদালত যাচাই-বাছাই শেষে চালের বৈধতা স্বীকার করে দ্রুত বাজারজাত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চাল বৈধ ঘোষণা করার পরও ফুডগ্রেইন (খাদ্যশস্য) সনদ না থাকার অভিযোগে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আল মাছুম আবির অভিযোগ করেন, ইউএনওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার কারণেই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে আল মাছুম আবির ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রায় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এ সময় ইউএনও তার বিরুদ্ধে আগের মানববন্ধনের প্রসঙ্গ তুলে রায় পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানান। এর আগে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে একটি রিট মামলা চলমান থাকাবস্থায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ইউএনওর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর একই ধরনের প্রক্রিয়ায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে আন্দালন করে কোনো লাভ হয়নি। এদিকে, গত ৩ এপ্রিল রাতে উপজেলার তাজপুর বাজারে বারণী মেলার নামে অবৈধভাবে র্যাফেল ড্র বিক্রির অভিযোগে ভাড়ায় কাজ করা লিপন আহমদ নামে একজনকে তিন দিনের কারাদণ্ড দেন ইউএনও মুনমুন। একই সঙ্গে প্রচারকাজে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত টমটম ও মাইক জব্দ করা হয়। অথচ পরদিন ৪ এপ্রিল তাজপুর বাজারে জনসম্মুখে ওই লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দ করা টমটম, মাইক ও টিকিট বই পরদিন আয়োজকরা ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেন। আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভাড়ায় কাজ করা ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ায় ইউএনওর রায় নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বিভাগীয় কমিশনার অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে অনেকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, রুশ জেট-চালিত ড্রোন হামলার মাত্র '১৫ মিনিট আগে' ওই ট্রেনের যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হামলার সময় সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রেয়াসও ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা অন্য একটি ট্রেনে ছিলেন। ড্রোনটি ট্রেনটির ইঞ্জিনে আঘাত হানে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের পত্রিকাগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের আনা দুর্নীতির অভিযোগ, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য খসড়া নিয়ে সংবাদ ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়াবলী।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের নিজেদের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের একটি সুযোগও দিয়েছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো একমত যে তাদের একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, তবে বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে কী আসা উচিত এবং সেখানে কীভাবে পৌঁছানো যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আরও কঠিন।
সংস্কার শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন সময়ের কার্যক্রম, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই সংগ্রহশালাটির সংস্কার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সংস্কারকাজ শেষে সংগ্রহশালাটির উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। সংস্কার কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশারফ হোসেন, জিএস এস. এম. ফরহাদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ডাকসুর সাবেক ভিপি বদরুল আলমের কন্যা ফারজানা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা, ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সংস্কার প্রসঙ্গে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি ও নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সংগ্রহশালাটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে আধুনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সংস্কারকাজ শেষে আজ এটি উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংগ্রহশালায় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংযোজন করা হবে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডও এখানে স্থান পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে নতুন নতুন উপকরণ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারক ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হবে বলেও জানান জুমা। ডাকসুর সাবেক ভিপি বদরুল আলমের (১৯৫৭-৫৮ সেশন) কন্যা ফারজানা আলম বলেন, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছাড়াই ১৯৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস ও তথ্য-উপাত্ত ধারাবাহিক ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ডাকসুর সঙ্গে আগের প্রজন্মের সম্পৃক্ততা, কাজ, প্রতিকূলতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি আরও বলেন, তখনকার ছাত্র প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রসমাজের কথা তুলে ধরেছিলেন। ভবিষ্যতে যে দল বা মতের প্রতিনিধিই দায়িত্বে আসুক, এই ইতিহাস যেন অবহেলিত না হয়। কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রকৃত ও সত্য ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ায় ডাকসুকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা এবং প্রায় ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়া ডাকসু সংগ্রহশালাটি সংস্কার করা হয়েছে। এখানে প্রাচীন ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা ক্রমানুসারে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু সাবেক ভিপির ছবি ও অন্যান্য তথ্য এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাই আগামী এক সপ্তাহকে সংশোধন ও তথ্য সংযোজনের সময় হিসেবে রাখা হয়েছে। কারও কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি বা সংশোধনের পরামর্শ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানান তিনি। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা ডাকসু সংগ্রহশালাটি সংস্কার করে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ দলিল, ছবি ও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯২১ সাল থেকে শুরু হওয়া ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি-জিএসদের নামসহ অনার বোর্ডও এখানে যুক্ত করা হয়েছে। সংগ্রহশালাটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসী ও গবেষকদের কাছে থাকা ঐতিহাসিক দলিলপত্র এবং জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি সংগ্রহশালায় জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আরটি/এমকেআর
শিল্প মন্ত্রণালয় নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডে ৫টি পদে ৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন শুরু হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায়, আগামী ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। পরীক্ষার ফি টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এক নজরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬পদের বিবরণ আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা আবেদনের শেষ তারিখ: ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে চাকরির ধরন: অস্থায়ী প্রার্থীর ধরন: নারী - পুরুষ কর্মস্থল: ঢাকা বয়স: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। অনলাইনে আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন শিল্প মন্ত্রণালয়। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদন ফি: টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-৪ নং পদের জন্য ১১২ টাকা, ৫ নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের প্রমিত পরীক্ষা এনএটি-টেস্ট (NAT-Test) সেবা চালু হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপানি প্রতিষ্ঠান সেনমন কিওউইকু পাবলিশিং কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সমঝোতা স্মারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং সেনমন কিওউইকু পাবলিশিং কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট কামাতা সাতোশি সই করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ও জাপানি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন কোনো কর্মকর্তা-জনপ্রতিনিধিকে ঘুস দেওয়া যাবে না: এনবিআর চেয়ারম্যান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ ক্যাম্পাসে কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে জাপানি ভাষার এনএটি-টেস্ট পরিচালনা করবে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করতে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করবে। জাপানি ভাষা যাদের মাতৃভাষা নয়— এমন ব্যক্তিদের ভাষাগত দক্ষতা যাচাইয়ে এনএটি-টেস্ট একটি প্রমিত পরীক্ষা। জাপানি ভাষা শেখা শিক্ষার্থী ও অন্যান্য আগ্রহীদের ভাষা দক্ষতা মূল্যায়নে এ পরীক্ষা ব্যবহৃত হয়। আরটি/কেএসআর
‘যত হাসি তত কান্না, বলে গেছে রাম সন্না’ বাংলা ভাষায় বহুল পরিচিত একটি প্রবাদ। কারো জীবনে যখন অতিরিক্ত আনন্দ আসে, তখন বয়স্করা অনেক সময় সতর্ক করে বলেন, ‘বেশি হাসতে নেই, যত হাসি তত কান্না।’ কথাটির মধ্যে রয়েছে জীবনের সুখ-দুঃখের ওঠানামার একটি সহজ দর্শন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই রাম সন্না আসলে কে? সত্যিই কি এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন, যিনি এই কথা বলে গিয়েছিলেন? রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত পরিচয় হলো তিনি ছিলেন রামশংকর শর্মা। তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। রামশংকর শর্মা নামে এমন একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন এবং তার জীবনী ‘আত্মচরিত’ নামে একটি বই লিখেছিলেন এমন একটি কাহিনি বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় গোয়েন্দা উপন্যাসে পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাধীন ঐতিহাসিক সূত্রে এই ব্যক্তির জীবন ও প্রবাদটির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ সহজে পাওয়া যায় না। আরও পড়ুন নেতারও ছাড় নেই, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ঠান্ডা পানিতে চুবানো হয়! রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত গল্পটি পাওয়া যায় কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের কর্নেল সিরিজের ‘বলে গেছেন রাম সন্না’ বইয়ে। সেখানে কর্নেল নীলাদ্রি সরকার রাম সন্নার পরিচয় হিসেবে ‘রামশংকর শর্মা’ নামটি উল্লেখ করেন। বইয়ের কাহিনি অনুযায়ী, রামশংকর অল্প বয়সে বাড়ি ছেড়ে জাহাজে সি-বয়ের চাকরি নেন। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। জীবনের শেষদিকে নদিয়ার একটি গ্রামে ফিরে এসে নিজের পৈতৃক ভিটায় বড় বাড়ি তৈরি করেন। সেই কাহিনিতে আরও বলা হয়েছে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় রামশংকর গোপনে বিদ্রোহীদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এ কারণে ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে তার বিচার হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়। ফাঁসির সেলে থাকার সময় তিনি নিজের জীবনী ‘আত্মচরিত’ লিখেছিলেন বলেও উপন্যাসে উল্লেখ রয়েছে। পরে তার ভাই শ্যামশংকর সরকারের অনুমতি নিয়ে বইটি প্রকাশ করেন। শুনতে অনেকটা ইতিহাসের গল্পের মতো হলেও সমস্যা হলো, এই তথ্যগুলোর বড় অংশই পাওয়া যায় কথাসাহিত্যের ভেতরে। ফলে উপন্যাসে বর্ণিত ঘটনাগুলোকে সরাসরি ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। এমনকি রাম সন্নার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে যেসব লেখালেখি হয়েছে, সেখানেও এই তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আরও পড়ুন ৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে তাহলে প্রবাদটি এলো কীভাবে? এখানেও নিশ্চিত ইতিহাসের বদলে লোকমুখে প্রচলিত ভাষার বিবর্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। বাংলার লোকজ প্রবাদে কোনো একটি কথা অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে প্রচলিত হয়ে যায়। সেই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় সময়ের সঙ্গে অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। ‘রাম সন্না’ও তেমন কোনো লোকচরিত্র বা প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে থাকতে পারেন। প্রবাদটির মূল বক্তব্য অবশ্য বেশ পরিষ্কার। জীবনে যেমন আনন্দ আছে, তেমনি দুঃখও আছে। অতিরিক্ত আনন্দের পর হতাশা আসতে পারে, সুখের সময়ের পর কঠিন সময়ও আসতে পারে। তাই কথাটি মূলত মানুষকে জীবনের উত্থান-পতন সম্পর্কে সচেতন করে। অর্থাৎ ‘যত হাসি তত কান্না’ কথাটি আক্ষরিক অর্থে যতবার হাসা হবে, ঠিক ততবার কাঁদতে হবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক বা গাণিতিক নিয়ম নয়। এটি জীবনের ভারসাম্য ও অনিশ্চয়তার একটি রূপক ব্যাখ্যা। বাংলা সাহিত্যেও এই প্রবাদের ব্যবহার বেশ পুরোনো ও পরিচিত। হুমায়ূন আহমেদের ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে ‘যত হাসি তত কান্না, কহে গেল রাম সন্না’ এই ছন্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রবাদটি শুধু মুখে মুখে নয়, বাংলা কথাসাহিত্যের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছে। আহসান হাবীবও তার একটি বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘যত হাসি তত কান্না বলে গেছে রাম সন্না’। বইটির নামের মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, রাম সন্না নামটি বাংলা সংস্কৃতিতে কতটা পরিচিত একটি প্রবাদপ্রতিম চরিত্রে পরিণত হয়েছে। তবে তিনিও রাম সন্নার নিশ্চিত ঐতিহাসিক জীবনী তুলে ধরেছেন এমন প্রমাণ নেই। আরেকটি মজার বিষয় হলো, ‘রাম সন্না’ নামটি নিয়েও ভিন্নতা দেখা যায়। কোথাও ‘রাম সন্না’, কোথাও ‘রাম সন্যা’, আবার কোথাও রামশংকর শর্মার সঙ্গে নামটি যুক্ত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুখে মুখে চলতে চলতে প্রবাদের শব্দ ও চরিত্রের পরিচয়েও পরিবর্তন এসেছে। আরও পড়ুন সিলেটের আছে নিজস্ব বর্ণমালা, ঐতিহ্য ফিরছে সাইনবোর্ডে তবে এই প্রবাদের জনপ্রিয়তার আসল কারণ সম্ভবত রাম সন্নার পরিচয় নয়, বরং কথাটির সহজ জীবনদর্শন। মানুষ আনন্দের সময় যেমন ভবিষ্যৎ ভুলে যায়, তেমনি দুঃখের সময়ও মনে হয় এই পরিস্থিতি বুঝি আর শেষ হবে না। ‘যত হাসি তত কান্না’ সেই দুই অবস্থার মাঝখানে দাঁড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় জীবন কখনো একই রকম থাকে না। তাই রাম সন্না সত্যিই ইতিহাসের কোনো ব্যক্তি ছিলেন, নাকি লোককথা ও সাহিত্যের হাত ধরে তৈরি হওয়া এক প্রবাদপ্রতিম চরিত্র তার নিশ্চিত উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। রামশংকর শর্মা সম্পর্কিত কাহিনির উল্লেখ থাকলেও সেটিকে ঐতিহাসিক সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করার মতো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার পরিচয় যতই অস্পষ্ট হোক, বাংলা ভাষার প্রবাদে রাম সন্না বেশ পরিচিত। আর তার নামে চালু হওয়া একটি ছোট্ট বাক্য আজও বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয় জীবনে যেমন হাসি আছে, তেমনি কান্নাও আছে। কেএসকে
আজ মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক পবিত্র স্থান পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে সুশোভিত হবে। এ উপলক্ষে দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত যত্ন, শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে, যা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও কাবা শরিফ ধৌতকরণ কার্যক্রম সুপরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রস্তুতি পর্বে সকল প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ধৌতকরণ ও সুগন্ধিকরণের জন্য বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এ মিশ্রণে ব্যবহার করা হয় ১৫ লিটার পবিত্র জমজমের পানি, ১৫ লিটার তাইফের গোলাপ পানি, ১৫ লিটার গোলাপ তেল এবং ১০০ মিলিলিটার উৎকৃষ্ট মানের উদ (আগর) তেল। এ ছাড়া ধৌতকরণ চলাকালে কাবার গিলাফ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দরজার আবরণের নিচের অংশ সতর্কতার সঙ্গে উপরে তুলে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় মূল ধৌতকরণ পর্ব। বিশেষভাবে প্রস্তুত করা কাপড়ের সাহায্যে জমজমের পানি ও তাইফের গোলাপ পানির মিশ্রণ দিয়ে কাবা শরিফের অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ এবং মেঝে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। সবশেষে সুগন্ধিকরণ ও ধূপন পর্ব। এ সময় কাবা শরিফের ভেতরের দেয়াল ও কোণাগুলো উৎকৃষ্ট মানের উদ তেল ও আম্বর দিয়ে সুগন্ধিত করা হয়। পরে মনোমুগ্ধকর সুগন্ধি ও ধূপের সুবাসে কাবার অভ্যন্তর ভরে ওঠে। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে নতুন আবেগ ও ভালোবাসার সঞ্চার করে। দুই পবিত্র মসজিদের সাধারণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ ও সরঞ্জাম আগেভাগেই সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশুদ্ধতা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করেই সম্পন্ন করা হবে কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই আধ্যাত্মিক আয়োজন
পবিত্র হজ পালন শেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ৬৪ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। এ বছর হজ করতে গিয়ে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (২৪ জুন) হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ৮৮০ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
পরিসংখ্যান দিয়ে কি আর শেন ওয়ার্নকে মাপা যায়? তবুও কিছু সংখ্যা জানিয়ে দেয়, কেন তিনি বাকি সবার চেয়ে আলাদা, কেন তিনি অনন্য। ২০২২ সালে মাত্র ৫২ বছর বয়সে অন্যলোকে চলে যাওয়া ওয়ার্নের আজ জন্মদিন। এই উপলক্ষে সংখ্যার আয়নায় তাঁকে দেখলে কেমন হয়! ১০০১ : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ার্নের মোট উইকেট। তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট শুধু মুত্তিয়া মুরালিধরনের (১৩৪৭)। ২০০৭ সালে সিডনিতে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টেই চার অঙ্কের এই জাদুকরি মাইলফলকে পৌঁছান ওয়ার্ন।৭০৮ : টেস্ট ক্রিকেটে ওয়ার্নের শিকার। এই সংস্করণে মুরালিধরনের (৮০০) পর যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ৬০০ ও ৭০০ উইকেটের চূড়ায় পা রেখেছিলেন তিনি।৩৭ : টেস্টে এক ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন ৩৭ বার। এখানেও তাঁর সামনে শুধু মুরালিধরন, যিনি ৬৭ বার ইনিংসের অর্ধেক ব্যাটসম্যানকে একাই ফিরিয়েছেন। পাশাপাশি ১০টি টেস্টে ম্যাচে ১০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে ওয়ার্নের।২১ : ব্যাটসম্যানকে ‘কট অ্যান্ড বোল্ড’ করে ফিরিয়েছেন ২১ বার। ড্যানিয়েল ভেট্টোরির সঙ্গে যৌথভাবে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। সামনে শুধু অনিল কুম্বলে ও মুরালিধরন (৩৫)।১৭৬১ : টেস্টে মেডেন ওভারের সংখ্যা। কোনো রান না দিয়ে ওভার শেষ করার তালিকায় টেস্ট ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয়, শীর্ষে থাকা মুরালিধরনের মেডেন ১৭৯৪টি।লেগ স্পিনের ‘রকস্টার’ ওয়ার্ন, আর তাঁর চোখে সেরা ১১ ৮ : ২০০২ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের ১০০তম টেস্টে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। শততম টেস্টে ম্যাচ পরিসংখ্যানে যা দ্বিতীয় সেরা। রেকর্ডটি মুরালিধরনের, ২০০৬ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।১৯৫ : অ্যাশেজের ইতিহাসে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্লেন ম্যাকগ্রার (১৫৭) চেয়ে যা ৩৮টি বেশি। টেস্টে নির্দিষ্ট একটি দলের বিপক্ষেও এটি কোনো বোলারের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড।১৩৮ : টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে শিকার করেছেন ১৩৮ উইকেট। ম্যাচের শেষ ইনিংসে এত উইকেট নেই আর কারও, এমনকি মুরালিধরন (১০৬) বা সতীর্থ ম্যাকগ্রারও (১০৩) নয়। ১৯৯৪ সালে ব্রিসবেনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭১ রানে ৮ উইকেট নেওয়া ক্যারিয়ার সেরা বোলিংটিও এসেছিল ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে।১০২ : টেস্টে ১০২ বার ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে আউট করেছেন ওয়ার্ন। মুরালিধরনের সঙ্গে যৌথভাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বেশি ১০৪ বার শূন্য রানে ফিরিয়ে শীর্ষে ম্যাকগ্রা।সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পিনার শেন ওয়ার্ন মারা গেছেন ২০২২ সালে।৯৬ : ২০০৫ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে টেস্টে নিয়েছেন ৯৬ উইকেট, যা এক বছরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। ২০০৬ সালে ৯০ উইকেট নিয়ে দুইয়ে মুরালিধরন। ওয়ার্ন ভেঙেছিলেন ১৯৮১ সালে ডেনিস লিলির (৮৫) গড়া ২৪ বছরের পুরনো রেকর্ড।৪০ : ২০০৫ সালের ঐতিহাসিক অ্যাশেজে ৫ ম্যাচের সিরিজে ৪০ উইকেট নিয়েছিলেন ওয়ার্ন। একটি অ্যাশেজ সিরিজে কোনো বোলারের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট। ১৯৫৬ সালে ৪৯ উইকেট নিয়ে শীর্ষে জিম লেকার।১৪৪০ : টেস্টে ২০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছাতে সময় নিয়েছিলেন মাত্র ১৪৪০ দিন, যা দ্রুততম। ১৯৯২ সালের ২ জানুয়ারি অভিষেক হওয়ার পর ১৯৯৫ সালের ১১ ডিসেম্বরই ২০০ উইকেট ছোঁয়া হয়ে যায় ওয়ার্নের।২১৯৬ : দ্রুততম সময়ে ৩০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটিও তাঁর। ১৯৯৮ সালের ৫ জানুয়ারি এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তিনি সময় নেন ২১৯৬ দিন।এই শেন ওয়ার্নকে হয়তো আপনি চেনেন না ২৮ : ২৮ বছর ১১৪ দিন বয়সে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ওয়ার্ন। ৩০ জন ৩০০ উইকেট শিকারির মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ। সর্বকনিষ্ঠ ভারতের কপিল দেবের, যিনি ২৮তম জন্মদিনের পরদিনই এ কৃতিত্ব গড়েছিলেন।১২৫ : টেস্টে ফিল্ডার হিসেবে ক্যাচ নিয়েছেন ১২৫টি। ইয়ান বোথামের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৩০০ উইকেট ও ১০০ ক্যাচের জোড়া কীর্তি গড়েন তিনি। বোথামের ১২০ ক্যাচের বিপরীতে উইকেট ছিল ৩৮৩টি, যেখানে ওয়ার্নের ৭০৮ উইকেটের পাশে ১২৫ ক্যাচ।১৭ : টেস্টে ১৭ বার হয়েছেন ম্যাচসেরা। ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে যা যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। সামনে জ্যাক কালিস (২৩) ও মুরালিধরন (১৯)।৩১৫৪ : সেঞ্চুরি না করে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড তাঁর। দুবার নব্বইয়ের ঘরে গিয়েও সেঞ্চুরির দেখা পাননি। ২০০১ সালে পার্থে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্যানিয়েল ভেটোরির বলে ৯৯ রানে আউট হন মার্ক রিচার্ডসনের ক্যাচে। আর ২০০৫ সালে ম্যানচেস্টারে সাইমন জোন্সের বলে ৯০ রানে তাঁকে ফেরান অ্যাশলি জাইলস।শেন ওয়ার্ন মানেই চনমনে কিছু ২৯৩ : ওয়ানডেতে উইকেটের সংখ্যা ২৯৩। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে ব্রেট লি (৩৮০) ও গ্লেন ম্যাকগ্রার (৩৮১) পর যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।৩৭৩ : আট নম্বরে বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে টেস্টে মেরেছেন ৩৭৩টি বাউন্ডারি (৩৩৭টি চার ও ৩৬টি ছক্কা)। টেল এন্ডার হিসেবে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সামনে শুধু ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (৪৫৪ বাউন্ডারি)।৩৪ : টেস্টে ৩৪ বার ডাক (শূন্য রান) মেরেছেন ওয়ার্ন। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা চতুর্থ সর্বোচ্চ। তাঁর ওপরে আছেন ম্যাকগ্রা (৩৫), ক্রিস মার্টিন (৩৬) ও কোর্টনি ওয়ালশ (৪৩)।৪ : ২০০৪ সালে পরপর ৪ ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন এই লেগ স্পিনার। ১২ মাসের ডোপিং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রত্যাবর্তন টেস্টেই প্রথম ইনিংসে ৫/১১৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৪৩। ক্যান্ডিতে পরের টেস্টে আবার ৫/৬৫ ও ৫/৯০।প্রয়াত কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন।৪ : ১৯৯৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন ওয়ার্ন। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে যেকোনো স্পিনারের জন্য এটি সেরা বোলিং ফিগার। টুর্নামেন্টে ২০ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের জিওফ অ্যালটের সঙ্গে যৌথভাবে সেরা উইকেটশিকারিও ছিলেন তিনি।৩ : টেস্টে হ্যাটট্রিক করা ইতিহাসের তিন লেগ স্পিনারের একজন তিনি। ১৯৯৪ সালে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন ওয়ার্ন। বাকি দুজন জিম ম্যাথুজ (দুই বার) ও বাংলাদেশের অলক কাপালি।
বয়স বাড়ছে, কিন্তু গোলের ক্ষুধা যেন কমছে না লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও ফুটবল মাঠে নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন দুই মহাতারকা। একজন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মিয়ামির হয়ে, অন্যজন সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের জার্সিতে। চলতি সপ্তাহেও গোল করেছেন দু’জনই। তাতে মেসির ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯২৮, আর রোনালদো পৌঁছে গেছেন ৯৭৯ গোলে। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মাঠের বাইরেও মেসির ফুটবল-সাম্রাজ্য বিস্তৃত হচ্ছে। স্পেনে দ্বিতীয় একটি ক্লাবের মালিকানার পথে এগিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। সব মিলিয়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ক্যারিয়ারে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়। গোলের সঙ্গে মেসির ক্লাব-সাম্রাজ্যও বাড়ছে ইন্টার মিয়ামির হয়ে চলতি সপ্তাহে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। প্রথমটি শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে, পরেরটি ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দল ন্যাশভিলের বিপক্ষে। শিকাগোর বিপক্ষে ম্যাচে মিয়ামি প্রথমে পিছিয়ে পড়ে। নতুন তারকা রবার্ট লেওয়ানডস্কির দুর্দান্ত ফিনিশে এগিয়ে যায় ফায়ার। দ্বিতীয়ার্ধে মিয়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি নিজে গোল করে নয়, তার নিখুঁত কর্নার থেকে ক্যাসেমিরো হেডে গোল করে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ন্যাশভিলের বিপক্ষের ম্যাচে অবশ্য মেসিই হয়ে ওঠেন মূল আকর্ষণ। শুরুতেই স্যাম সারিজের গোলে পিছিয়ে পড়ে মিয়ামি। এরপর শুরু হয় মেসির জাদু। প্রথমে মেসির ভেতরের দিকে বাঁকানো কর্নার থেকে রিড বেকার-হোয়াইটিং নিজেদের জালে বল পাঠান। আত্মঘাতী গোল হওয়ায় সেটি মেসির অ্যাসিস্ট হিসেবে অবশ্য যোগ হয়নি। এরপর নিজেই গোলের চেষ্টা করেন মেসি। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে পরের সুযোগ আর নষ্ট করেননি ৩৯ বছর বয়সী তারকা। রদ্রিগো ডি পলের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁকানো শটে বল পাঠান দূরের পোস্টের কোণে। মেসির সেই চিরচেনা ফিনিশে ম্যাচে সমতায় ফেরে মায়ামি। তবে মেসির গোলের পরও জয় এলো না। গোল করার পরও থামেননি মেসি। লুইস সুয়ারেজের একটি প্রচেষ্টার পর পাওয়া রিবাউন্ড থেকে শট নিয়ে পোস্টে আঘাত করেন তিনি। সেই আক্রমণের শুরুটাও হয়েছিল মেসির পাস থেকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জয়ের দারুণ সুযোগও পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সুয়ারেজের পাসে একেবারে একা গোলরক্ষকের সামনে চলে যান তিনি। গোলরক্ষক ব্রায়ান শভাকেকে কাটিয়েও ফেলেছিলেন মেসি। কিন্তু গোলমুখে তার শট অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন ন্যাশভিলের ডিফেন্ডার জেইসন পালাসিওস। গোললাইন থেকে সেই প্রতিরোধে নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় ন্যাশভিল। আর সেই সুযোগ নষ্ট করার খেসারতও দিতে হয়েছে মিয়ামিকে। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও গোল করেন সারিজ। ফলে ম্যাচ শেষ হয় ২-২ সমতায়। এই ড্রয়ের পর ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিয়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা নয় পয়েন্ট পিছিয়ে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা শার্লট এফসি ও নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে মায়ামি। ৯২৮ গোল মেসির ন্যাশভিলের বিপক্ষে গোলটি যোগ হয়েছে মেসির বিশাল গোলসংখ্যায়। চলতি সপ্তাহে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট যোগ করে তার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ৯২৮ গোল ও ৪২৩ অ্যাসিস্টে। বয়স ৩৯ ছুঁয়েও মেসির পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ফুটবলবিশ্বকে বিস্মিত করে চলেছে। গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের গোল করানো, সুযোগ তৈরি এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এখনো তিনি মিয়ামির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। এরই মধ্যে মাঠের বাইরেও নিজের ফুটবল-ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন মেসি। স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এলদেনসে নেওয়ার পথে এগিয়েছেন তিনি। এর আগে বার্সেলোনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব কর্নেইয়ার মালিকানায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের পাশাপাশি স্প্যানিশ ফুটবলেও তার বিনিয়োগের পরিধি বাড়ছে। রোনালদোর ৯৭৯ মেসির মতোই চলতি সপ্তাহে গোল করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। আল নাসরের হয়ে মঙ্গলবার আবহা এবং শনিবার আল খালিজের বিপক্ষে মাঠে নামেন পর্তুগিজ তারকা। আবহার বিপক্ষে শুরুতেই গোল করেন রোনালদো। অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের নেওয়া ভেতরের দিকে বাঁকানো কর্নারে উঁচুতে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর আরও কয়েকবার গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন রোনালদো। দ্রুত ঘুরে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার শট লাগে দূরের পোস্টে। পরে গোললাইন থেকেও তার আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ডোনোভান লিওন ও আবহার অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। আল নাসরের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন আবদুল্লাহ আল হামদান। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচটি জেতে আল নাসর। তবে সপ্তাহের দ্বিতীয় ম্যাচে আল খালিজের বিপক্ষে জয় পায়নি তারা। ওমর মাসকারেল ও আল হামদানের গোলের পর ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়। রোনালদো গোলের একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে মার্কারকে পেছনে ফেলে কাছ থেকে হেড নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। গোলের মাইলফলকে রোনালদো এগিয়ে আল খালিজের বিপক্ষে গোল না পেলেও আবহার বিপক্ষে করা গোলটি রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যায় যোগ হয়েছে। চলতি সপ্তাহ শেষে তার গোল এখন ৯৭৯টি। সঙ্গে আছে ২৬১টি অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে মেসির গোলসংখ্যা ৯২৮, অ্যাসিস্ট ৪২৩। অর্থাৎ মোট গোলের হিসাবে রোনালদো এখন মেসির চেয়ে ৫১ গোলে এগিয়ে। তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে মেসিই অনেক এগিয়ে। দুজনের বয়স, লিগ ও ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায় আলাদা হলেও ফুটবলবিশ্বে তাদের তুলনা এখনো শেষ হয়নি। বরং ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়েও গোল করে চলার কারণে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। আইএইচএস/
এজবাস্টন টেস্টে হারার পর পাকিস্তানের লাল বলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মাইক হেসন। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের সাদা বলের কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারার পর অন্তর্বর্তী কোচ হেসন জানান, পাকিস্তানের লাল বলের প্রতিভা তাকে আশাবাদী করছে। তৃতীয় টেস্ট শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসেই এই আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। মাইক হেসন বলেন, ‘অবশ্যই, আমি এ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। আমি টেস্ট ক্রিকেট ভালোবাসি। পাকিস্তানের ক্রিকেট ব্যবস্থায় যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে আমরা সামনে এগোতে পারি। অবশ্যই এক-দুই ম্যাচে এর ফল পাওয়া যাবে না। তবে এমন কিছু দক্ষ ক্রিকেটার আছে, যাদের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি আমি অবশ্যই বিবেচনা করবো।’ লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হারার পর সরফরাজ আহমেদকে কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করে পিসিবি। এরপরই লাল বলের কোচের অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পান তিনি। সপ্তাহ দুয়েকের কম সময় আগে এই দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। তখন হেসন জানিয়েছিলেন, তিনি কেবল অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের টেস্ট দলের স্থায়ী দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। টেস্ট দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই একই দায়িত্বের জন্য ইংল্যান্ডের সঙ্গে হেসনের যোগাযোগ হয়েছিল। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের উত্তরসূরি খুঁজতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছিল ইংল্যান্ড। তবে হেসনের ভাষ্য, সেই আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়েই থেমে যায়। শেষ পর্যন্ত স্টিফেন ফ্লেমিংকে দায়িত্ব দেয় ইংল্যান্ড। এর পর পাকিস্তানের হয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন হেসন। আগ্রহ প্রকাশ করলেও পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব তিনি নেবেন কি না, সেটি পুরোপুরি তার হাতে নেই। পিসিবি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। হেসন বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কোনো চাকরির প্রস্তাব নিয়ে ভাবিইনি। দেশে ফেরার এক সপ্তাহ পরই এশিয়ান গেমস আছে। সাদা বলের ক্রিকেটে আপাতত সেটিই আমার মূল মনোযোগ। সময়টা এলে টেস্ট দল নিয়ে নিশ্চয়ই আলোচনা হবে। নির্বাচকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবো।’ ভবিষ্যতে কী হবে বা সেটি যাই হোক, এই সপ্তাহে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন পরিবেশে কিছু বিষয় নিয়ে সন্তুষ্ট হেসন। তিনি বলেন, ‘আমরা বার্মিংহামে পৌঁছানোর পর সবাই সামনে কী আছে, সেটি নিয়ে বেশ মনোযোগী ছিল। লর্ডসে যা ঘটেছিল, দলের কয়েকজন সম্ভবত আমার চেয়েও বেশি সময় ধরে সেটির মধ্য দিয়ে গেছে। আমার মনে হয়েছে, তারা বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই সামলে নিয়েছে।’ পাকিস্তানের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ নভেম্বরে। ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা। আইএন
গ্যালারিতে তিলধারণের জায়গা নেই। মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। গোলের সুযোগ তৈরি হলেই একসঙ্গে উঠে আসে হাজারো কণ্ঠের চিৎকার, আর বল গোলপোস্টের দিকে যেতেই উল্লাসে কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। কেউ বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে, কেউ গ্যালারির রেলিং ধরে, আবার কেউ উঁচু জায়গায় উঠে খেলা দেখছেন।বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জামালপুর স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয় মানুষের আবেগের এক বিশাল মিলনমেলায়। জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে আসা দর্শকদের এ ঢল আর উন্মাদনাই বলে দিচ্ছিল—ফুটবল এখনো বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের আবেগের জায়গা।আজ রোববার দুপুর থেকেই জামালপুরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। বিকেলের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কমতেই ফুটবলপ্রেমীদের ঢল নামতে শুরু করে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়ামে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুপুরের পর থেকেই দলে দলে মানুষ আসতে থাকেন ফাইনাল খেলা দেখতে। খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগেই ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। গ্যালারিতে আর জায়গা না পেয়ে অসংখ্য দর্শক মাঠের ভেতরে ঢুকে দাঁড়িয়ে খেলা দেখেন। ফুটবল খেলা দেখতে মানুষের এই উপচে পড়া ভিড় যেন বলে দিচ্ছিল—জামালপুরে ফুটবল এখনো মানুষের আবেগেরই আরেক নাম।মাঠ ছাপিয়ে ভিআইপি গ্যালারির ওপরে উঠে খেলা উপভোগ করেন দর্শকেরা। আজ বিকেলে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়ামেবিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফাইনাল খেলা শুরু হয় জেলার মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার মধ্যে। এ ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়, তখন ফুটবল ম্যাচের উত্তেজনা এবং নাটকীয়তা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। আর টাইব্রেকারে বল যখন জালে জড়াচ্ছিল, উল্লাসে কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। টাইব্রেকারে এই খেলায় সরিষাবাড়ী উপজেলা ৪-৩ গোলে বিজয়ী হয়েছে।মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকা থেকে খেলা দেখতে এসেছিলেন তরুণ মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ। দুই দলের খেলা ও দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে মুগ্ধ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দলের খেলাই আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে এর চেয়েও বেশি অভিভূত হয়েছি দর্শকদের দেখে। জামালপুরের কোনো মাঠে এর আগে এত মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখতে এসেছেন বলে আমার মনে পড়ে না। আজ আবার মনে করিয়ে দিল—ফুটবল মানুষের কতটা প্রিয় খেলা।’জামালপুর পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রাজু আহাম্মেদ বলেন, ‘আজ স্টেডিয়ামে এসে মনে হলো, জামালপুরে ফুটবলের সেই পুরোনো আবেগ এখনো হারিয়ে যায়নি। এত মানুষ শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে এসেছেন—এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। গোলের সুযোগ হলেই চারপাশ থেকে যে চিৎকার উঠছিল, মনে হচ্ছিল পুরো স্টেডিয়াম একসঙ্গে খেলাটার সঙ্গে মিশে গেছে। এমন দৃশ্য সত্যিই অনেক দিন পর দেখলাম।’দুই দলের খেলোয়াড়দের বল দখলের লড়াই। আজ বিকেলে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়ামেজামালপুর শহরের বানিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা তুহিন মিয়া বলেন, ‘আজকের ম্যাচে একমুহূর্তের জন্যও চোখ সরানোর উপায় ছিল না। দুই দলই একের পর এক আক্রমণ করেছে। গোলের সুযোগ তৈরি হলেই গ্যালারিতে হাজারো মানুষ একসঙ্গে উঠে দাঁড়াচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল, মাঠের ২২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে গ্যালারির হাজারো মানুষও যেন খেলাটার অংশ হয়ে গেছেন।’অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেন, প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই খেলার মধ্য দিয়ে জামালপুর জেলার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, ‘শুধু একটি ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক। এটি জামালপুরের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন করে জেগে ওঠারও একটি শক্তিশালী বার্তা।’জেলা প্রশাসন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ২৩ আগস্ট থেকে জামালপুর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়। এতে জামালপুর সদর উপজেলা, জামালপুর পৌরসভা, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা, বকশীগঞ্জ উপজেলা, ইসলামপুর উপজেলা, মেলান্দহ উপজেলা, মাদারগঞ্জ উপজেলা ও সরিষাবাড়ী উপজেলা অংশ নেয়। আজ ফাইনাল ম্যাচ ছিল।চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ ও দর্শনা পৌরসভা একাদশের খেলোয়াড়দের মধ্যে বল দখলের লড়াইপুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার ও জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ।চুয়াডাঙ্গায় পৌরসভা একাদশ জয়ীচুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬। আজ বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।খেলার নির্ধারিত সময়ে দুই সহোদর শাকিল ও মহিবুলের দেওয়া জোড়া গোলের সুবাদে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ দর্শনা পৌরসভা একাদশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করে। এদিন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলের শাকিলকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ঘোষণা করা হয়। আগামীকাল সোমবার বিকেলে একই মাঠে মুখোমুখি হবে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও জীবননগর উপজেলা একাদশ।বিকেল চারটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন ও কবুতর অবমুক্তকরণের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। পরে শাহ আলমের লেখা ও সুরে এবং হাসিবুল ইসলাম ও জান্নাতুল ফেরদৌস নেরিপার কণ্ঠে গাওয়া থিম সংয়ের সঙ্গে নৃত্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য ও ডিসপ্লে দর্শকদের হৃদয়ে জয় করে। নৃত্য পরিচালনা করেন জাহিদ হাসান ও সৌম্যজিতা শ্রুতি।খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাঠমুখী করা এবং মাদক, বাল্যবিবাহ ও উত্ত্যক্তের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির বার্তাও উঠে আসে এই আয়োজনে। আর মাঠে দর্শকদের উচ্ছ্বাস বলছে, চুয়াডাঙ্গায় ফুটবলের সেই পুরোনো উন্মাদনা এখনো অটুট।জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলি, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান, সিভিল সার্জন হাদী মো. জিয়াউদ্দিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরিফুজ্জামান। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্রের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক উজ জামান।জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই টুর্নামেন্টে জেলার চারটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভার দল অংশ নিচ্ছে। আয়োজকদের আশা, টুর্নামেন্টের মাধ্যমে জেলার ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে এবং তরুণদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।
ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি হয়েছে পাকিস্তানের। দ্বিতীয় টেস্টের পর বাদ দেওয়া হয় ৭ ক্রিকেটারকে। সেই তালিকায় ছিলেন সালমান আলী আগা। বাদ পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছেন তিনি। আর ফিরেই ব্যাট হাতে দিয়েছেন দুর্দান্ত জবাব। প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১-এ কিংসমেন একাডেমির হয়ে মার্কহোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ম্যাচের শুরুতে ৭২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল কিংসমেন। সেখান থেকে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সালমান। মোহাম্মদ সুলেমানের সঙ্গে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৮৫ রানের জুটি। এরপর সেঞ্চুরিকে ডাবল এবং ডাবল সেঞ্চুরিকে ট্রিপলে রূপ দেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার। এই ম্যাচের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সালমানের সর্বোচ্চ রান ছিল ১৬৯। ফলে একই ইনিংসে প্রথম ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরি পাওয়াটা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন। ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন সালমান। কিন্তু হেডিংলিতে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে একাদশ থেকে বাদ পড়েন। এরপর তৃতীয় টেস্টের আগে সাত ক্রিকেটারের সঙ্গে তাকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে এমন ইনিংস যেন সালমানের নীরব জবাব। তার স্ত্রীও ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘মূল জায়গায় ফিরে যেতে কোনো সমস্যা নেই।’ সেই কথারই যেন বাস্তব প্রতিফলন ঘটালেন সালমান। আইএন
বার্মিংহামের এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজের তৃতীয় টেস্টেও হেরে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। এই সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতা, রেকর্ডসংখ্যক ছক্কা ও বোলিংয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স- সব মিলিয়ে হয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলো দেখে নিন- ২: পাকিস্তানকে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করলো ইংল্যান্ড। এর আগে ২০২২ সালে পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ৬: গত চার বছরে দুই বা ততোধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ৬ বার। অর্থ্যাৎ, শেষ ১২ সিরিজের মধ্যে ছয়বারই হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা। ৮: তিন বা তার বেশি ম্যাচের টেস্ট সিরিজে কোনো ব্যাটারের সেঞ্চুরি না পাওয়ার ঘটনা এই ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজসহ অষ্টমবার। ইংল্যান্ডে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল মাত্র একবার- ১৮৮৮ সালে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। ২০: এই সিরিজে করা ফিফটির সংখ্যা। কোনো সেঞ্চুরি ছাড়া টেস্ট সিরিজে এটিই সর্বোচ্চ ফিফটি। এর মধ্যে বার্মিংহ্যাম টেস্টেই হয়েছে ১১টি ফিফটি, যা কোনো সেঞ্চুরি না থাকা টেস্টে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৮.৭৬: সিরিজে ২০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে অলি রবিনসনের বোলিং গড়। সিরিজে ২০ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে এটি ষষ্ঠ সেরা। রবিনসনের চেয়ে ভালো গড়ের পাঁচজনই ইংল্যান্ডের বোলার। সর্বশেষ এমন কীর্তি ছিল টনি লকের- ১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ উইকেট, গড় ৭.৪৭। ৪.৬৬: সিরিজে পাকিস্তানের প্রথম দুই উইকেটের জুটির গড়। ছয় ইনিংসে প্রথম দুই উইকেটে তারা যোগ করেছে মাত্র ৫৬ রান। অন্তত পাঁচ ইনিংসের কোনো টেস্ট সিরিজে প্রথম দুই উইকেটে এটি যে কোনো দলের সবচেয়ে বাজে গড়। ৩: ২০২৬ সালসহ ঘরের মাঠে জো রুটের সেঞ্চুরিবিহীন টেস্ট মৌসুমের সংখ্যা। এর আগে ২০১৯ ও ২০২০ সালেও ঘরের মাঠে সেঞ্চুরি পাননি তিনি। ২০২৬ সালে ছয় টেস্টে রুটের ব্যাটিং গড় ৩৩.৫০, যা এক বছরে তার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। সর্বনিম্ন ২৯.৮৩, ২০১৯ সালে। ৮: চলতি মৌসুমে ১১ ইনিংসে এলবিডব্লিউ হয়ে ৮ বার আউট হয়েছেন রুট। একটি টেস্ট মৌসুমে কোনো ব্যাটারের এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ। ৯: অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে রাজাউল্লাহর মারা ছক্কার সংখ্যা। টেস্ট অভিষেকে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় এটি যৌথভাবে সেরা। ২০০৮ সালে নেপিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই সংখ্যক ছক্কা মেরেছিলেন টিম সাউদি। ১: ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার সংখ্যার হিসাবে রাজাউল্লাহর ৯টি ছক্কা যৌথভাবে প্রথম। ২০২৩ সালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেন স্টোকসও ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন। ৯: পাকিস্তানের কোনো ব্যাটারের এক টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার হিসাবে রাজাউল্লাহর সংখ্যা যৌথভাবে দ্বিতীয়। সবার ওপরে ওয়াসিম আকরাম- ১৯৯৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২টি ছক্কা মারেন তিনি। ৮: রাজাউল্লাহর ৯টি ছক্কার মধ্যে ৮টিই এসেছে পেসারদের বিপক্ষে। টেস্টের এক ইনিংসে পেস বোলারদের বিপক্ষে এর চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন শুধু নাথান অ্যাসল- ১০টি। ২০২৩ সালে লর্ডসে পেসারদের বিপক্ষে ৮টি ছক্কা মেরেছিলেন স্টোকসও। ১: টেস্ট অভিষেকেই ফিফটি ও চার উইকেট নেওয়া প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার রাজাউল্লাহ। সব মিলিয়ে টেস্ট অভিষেকে এই ডাবল করা ১৭তম ক্রিকেটার তিনি। এদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ; ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়ার সময় সাউদির বয়স ছিল ১৯ বছর। ২: বার্মিংহ্যাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম দুই উইকেটে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান মিলে যোগ করেছে মাত্র ২ রান। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দুই উইকেটে যৌথভাবে এটিই সর্বনিম্ন রান। তবে দুই দলই এরপর তৃতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে, যা দুই বা তার কম রানে দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ পাঁচ জুটির মধ্যে রয়েছে। ১: টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস দুটি করে উইকেট নেন। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম দুই দলের ইনিংসের প্রথম ওভারেই একাধিক উইকেট পড়ল। ৪৪৯: প্রথম দুই উইকেট শূন্য রানে হারানোর পর পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে করা ৪৪৯ রান। এমন পরিস্থিতিতে কোনো দলের দ্বিতীয় ইনিংসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। রেকর্ডটি ভারতের- ১৯৮৩ সালে চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৫১/৮। আইএইচএস/
বলিউডের কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিজীবনও তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের মতোই আলোচিত। বিশেষ করে হেমা মালিনীর সঙ্গে তার প্রেম ও বিয়ে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। তবে হেমা মালিনীর আগে ধর্মেন্দ্রর জীবনে এসেছিল আরেকটি ভালো লাগার গল্প। স্কুলজীবনের সেই প্রেম ছিল এক পাকিস্তানি মেয়েকে ঘিরে, যা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি। ধর্মেন্দ্র দুইবার বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর এবং দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনী। তবে হেমার সঙ্গে সম্পর্কের আগে বলিউডের এই অভিনেতার জীবনে ছিল আরও একটি সরল ও আবেগঘন অধ্যায়। সেটি কোনও পরিচিত অভিনেত্রীকে ঘিরে নয়, বরং তার স্কুলজীবনের স্মৃতি। একবার সালমান খানের উপস্থাপনায় ‘দশ কা দম’ অনুষ্ঠানে নিজের ছেলে সানি দেওল ও ববি দেওলকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। সেখানেই নিজের স্কুলজীবনের প্রেমের কথা বলেছিলেন তিনি। অভিনেতা জানান, সেই মেয়েটির নাম ছিল হামিদা। তিনি ছিলেন ধর্মেন্দ্রর স্কুলশিক্ষকের মেয়ে। ধর্মেন্দ্রর সেই স্মৃতি দেশভাগের আগের পাঞ্জাবের। তখন ভারত-পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্র হয়নি। পাঞ্জাবের একটি গ্রামেই জীবনের বড় একটা সময় কাটিয়েছেন তিনি। সেখানেই স্কুলে পড়ার সময় হামিদার প্রতি তার ভালো লাগা তৈরি হয়। অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বয়স ছিল অল্প। ফলে সেই অনুভূতি ছিল কৈশোরের সরল ও অবুঝ ভালো লাগা। কিন্তু সেই সম্পর্ক কখনো পরিণতি পায়নি। আরও পড়ুন জেমসের সঙ্গে দেখা হতেই পা ছুঁয়ে সালাম রূপমের তবে সময়ের সঙ্গে সেই স্মৃতি হারিয়ে যায়নি। বহু বছর পরও স্কুলজীবনের সেই মেয়েটির কথা মনে রেখেছেন ধর্মেন্দ্র। এমনকি সেই অনুভূতিকে একসময় কবিতার আকারও দিয়েছিলেন বলে অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ধর্মেন্দ্রর জীবনে আসে প্রকাশ কৌর। তাকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন এই অভিনেতা। পরে হেমা মালিনীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তিনি। তাদের সম্পর্কও বলিউডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু এসবের বহু আগে, অল্প বয়সেই যে একটি প্রেম তার মনে জায়গা করে নিয়েছিল, সেই গল্প অনেকেরই অজানা। আরও পড়ুন রুমি কারিমকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য, বললেন ‘হিরো আলমই ভালো ছিল’ হামিদার সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর সেই সম্পর্ক পূর্ণতা না পেলেও স্মৃতিতে তা রয়ে গেছে। জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সেই কৈশোরের ভালো লাগার কথা নিজেই প্রকাশ্যে বলেছিলেন বলিউডের ‘হিম্যান’ ধর্মেন্দ্র। এমএমএফ
ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ার পর এবার কনসার্ট নিয়ে নতুন চমক দিলেন পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ‘অরা ওয়ার্ল্ড ট্যুর’র অনুষ্ঠান চলাকালীনই নিজের পরবর্তী স্টেডিয়াম শোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগামী ২১ নভেম্বর ২০২৬ ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কনসার্ট করবেন দিলজিৎ। শনিবার ওয়েম্বলির মঞ্চে প্রায় ৯০ হাজার দর্শকের সামনে পারফর্ম করার পরই ভারতীয় অনুরাগীদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন তিনি। ১২ সেপ্টেম্বর ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে পারফর্ম করেন দিলজিৎ। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথম পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী হিসেবে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে হেডলাইন শো করার নজির গড়েছেন তিনি। পাঞ্জাবি গান, র্যাপ ও হিপ-হপের মিশেলে তার পরিবেশনা মুগ্ধ করে দর্শকদের। আরও পড়ুন জেমসের সঙ্গে দেখা হতেই পা ছুঁয়ে সালাম রূপমের ওয়েম্বলির মঞ্চ থেকেই ভারতের পরবর্তী কনসার্টের ঘোষণা দিয়ে দিলজিৎ জানান, এবার তিনি হাজির হবেন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। ভারতের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত এই ভেন্যুতে তার কনসার্ট ঘিরে এরই মধ্যে অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই ২০২৫ সালে ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের আলোচিত কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলজিৎ বলেন, ‘ভারতের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে কোল্ডপ্লে এরই মধ্যে নিজেদের অনুষ্ঠান সফল করেছে। এবার সেখানে আমার মতো পাঞ্জাবি শিল্পীরও অনুষ্ঠান হোক।’ ওয়েম্বলিতে বিপুল দর্শকের সামনে পারফর্ম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন দিলজিৎ। এবার দেশের মাটিতে আরও বড় পরিসরে দর্শকদের সামনে গান পরিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। পাঞ্জাবি সংগীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়মিত পারফর্ম করে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে বড় একটি শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরি করেছেন তিনি। আরও পড়ুন রুমি কারিমকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য, বললেন ‘হিরো আলমই ভালো ছিল’ ওয়েম্বলির পর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কনসার্টের ঘোষণা দিলজিতের ক্যারিয়ারে আরও একটি বড় সংযোজন হতে যাচ্ছে। এখন এই আয়োজনের জন্য অপেক্ষায় তার ভারতীয় অনুরাগীরা। এমএমএফ
শুধু প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র–নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে এবার রিট করা হয়েছে। জনসাধারণের নৈতিকতা, যুবসমাজের সৃজনশীল মেধা বিকাশ, জাতীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক শৃঙ্খলা সুরক্ষার লক্ষ্যে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক বিষয়বস্তুর প্রচার–সম্প্রচার বাধ্যতামূলক ও অগ্রাধিকার দিতে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির আরজি রয়েছে রিটে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে আজ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন। গত ২৭ আগস্ট যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে শুধু প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র–নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপে অবিলম্বে কার্যকর ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। সরকারের তিন সচিব ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ওই নোটিশ পাঠান তিনি।নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে নোটিশদাতাকে অবহিত করতে অনুরোধ জানানো হয়। নোটিশের জবাব না পেয়ে আজ রিটটি করেন বলে জানান আইনজীবী মাহমুদুল হাসান।যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুধু প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে বলে লিখিত এক বার্তায় জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী মাহমুদুল হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অবকাশে (আগামী সপ্তাহে) কিংবা অবকাশ শেষে (২৫ অক্টোবরের পর) রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।রিট আবেদনকারী অভিযোগ করেছেন, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটকে শুধু প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মূলধারার এসব গণমাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার এবং ধর্ষণের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে মারাত্মকভাবে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সমাজের ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে চরম সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে।রিট আবেদনকারীর ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩’-এর ৫(২) এবং ৮(১) ধারা অনুযায়ী, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং এর পরিপন্থী কনটেন্টের অনুমোদন বাতিল করা কর্তৃপক্ষের বিধিবদ্ধ দায়িত্ব। ‘কেব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর ১৯ ও ২০ ধারা অনুযায়ী, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি করে—এমন যেকোনো সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বিবাদীরা এই আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত ও ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, যা প্রশাসনিক অবহেলার শামিল।রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচারসচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী। মঞ্চ, টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্র-বিভিন্ন মাধ্যমে গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। এবার গানের পাশাপাশি নতুন এক পরিচয়ে আসছেন এই গুণী শিল্পী। নতুন প্রজন্মকে গান শেখাতে গড়ে তুলছেন নিজের সংগীত একাডেমি। সামিনা চৌধুরীর এই উদ্যোগের নাম ‘সামিনাস একাডেমি অব মিউজিক (এসএএম)’। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিটির কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে সামিনা চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই অনেকেই তাকে গান শেখানোর অনুরোধ করে আসছেন। তার স্বামী ও অনুষ্ঠান প্রযোজক ইজাজ খান স্বপনও নিয়মিত তাকে একটি সংগীত একাডেমি প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। সেই ভাবনা থেকেই এবার নিজের একাডেমি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে সামিনা চৌধুরীর। সেখানে প্রায় দুই মাস অবস্থান করবেন তিনি। দেশে ফিরে একাডেমির আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এর ঘোষণা দেবেন। আরও পড়ুন জেমসের সঙ্গে দেখা হতেই পা ছুঁয়ে সালাম রূপমের একাডেমির কার্যক্রমের বড় অংশই অনলাইনে পরিচালিত হবে। ফলে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আগ্রহীরা এখানে গান শেখার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি শেখার ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে অনলাইনে গান শেখার অসংখ্য ভিডিও ও টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। তবে শুধু ভিডিও দেখে ভালোভাবে গান শেখা সম্ভব নয় বলে মনে করেন সামিনা। তার মতে, একজন অভিজ্ঞ শিল্পীর নিয়মিত দিকনির্দেশনা, ভুল শুধরে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীর কণ্ঠ অনুযায়ী অনুশীলনের সুযোগ থাকা জরুরি। শুরুতে একাডেমিতে গানের মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো হবে। এর মধ্যে থাকবে কণ্ঠের সঠিক ব্যবহার, সুর-তাল, উচ্চারণ, গানের আবেগ ও পরিবেশনার বিভিন্ন দিক। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। গানের পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন সামিনা চৌধুরী। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মাহমুদুন্নবীর মেয়ে হিসেবে ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছ থেকে সংগীতের প্রথম পাঠ নিয়েছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে তৈরি করেছেন আলাদা পরিচয়। আরও পড়ুন রুমি কারিমকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য, বললেন ‘হিরো আলমই ভালো ছিল’ এর আগে বাবার স্মৃতি ধরে একটি সংগীত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন সামিনা। এবার সেই ভাবনাই নতুন আকারে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছেন তিনি। তবে একাডেমিটি শুধু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান নয়, নিয়মিত সংগীত শেখা ও চর্চার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান এই শিল্পী। অন্যদিকে নিজের সংগীতচর্চাও চালিয়ে যাচ্ছেন সামিনা চৌধুরী। নিয়মিত নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি সম্প্রতি আরও একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ফারুক আনোয়ারের কথায় গানটির সুর করেছেন সম্রাট আহমেদ। এরই মধ্যে গানটির রেকর্ডিং শেষ হয়েছে। নতুন গানটি প্রসঙ্গে সামিনা বলেন, ‘যারা যেতে চায়, তাদের চলে যেতে দাও, তারা তোমার না’—এই কথাগুলো তার ভালো লেগেছে। গানের সুরও পছন্দ হয়েছে তার। শ্রোতাদের কাছেও গানটি ভালো লাগবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এবার সংগীতশিল্পী হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান সামিনা চৌধুরী। সেই লক্ষ্যেই নিজের একাডেমির মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে তার নতুন পথচলা। এমএমএফ
প্রায় দুই দশক ধরে অভিনয় দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী ও মডেল নুসরাত ইমরোজ তিশা। সাবলীল অভিনয়ের পাশাপাশি তার সৌন্দর্য ও নিজস্ব ফ্যাশন স্টাইলও বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে। এবার শাড়িতে তিশার মিষ্টি ও লাজুক হাসির ছবি নজর কেড়েছে ভক্তদের। মডেলিংয়ের চেয়ে অভিনয়কেই বরাবর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিশা। ফ্যাশন স্টেটমেন্টেও তিনি প্রশংসিত হলেও সাধারণ ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে শাড়িতে তার উপস্থিতি বরাবরই আলাদা নজর কাড়ে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছেন তিশা। ছবিগুলোতে তাকে দেখা গেছে লাল শাড়িতে। সঙ্গে ছিল কাচের চুড়ি ও মানানসই অলংকার। কখনো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি, আবার কখনো মুখ আড়াল করে লাজুক ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন অভিনেত্রী। তিশার এমন মায়াবী লুক ও লাজুক হাসি যে ভক্তদের নজর কেড়েছে, তা তাদের মন্তব্য দেখলেই বোঝা যায়। ছবি প্রকাশের পরপরই তার অনুসারীরা নানা প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছেন। তবে শুধু ছবিই নয়, পোস্টের ক্যাপশনেও ছিল রহস্যের আভাস। ছবিগুলোর সঙ্গে তিশা লিখেছেন ‘কোয়ায়েটলি বিকামিং!’ অর্থাৎ নীরবে নিজেকে বদলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ে তার উপস্থিতি কিছুটা কমলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ, পরিবার ও জীবনের নানা বিশেষ মুহূর্ত নিয়মিতই ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী। এলআইএ
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। উপস্থাপিকা হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। এরপর আসেন সিনেমায়। দুই বাংলার সিনেমাতেই তাকে দেখা গেছে। উপহার দিয়েছেন হিট ও ব্যবসা সফল সিনেমা। কাজ করেছেন দুই বাংলার সুপারস্টার নায়কদের বিপরীতে। সম্প্রতি তিনি যুক্ত হয়েছিলেন সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘ট্রাইব্যুনাল’-এ। তবে শুটিং শুরুর আগেই সিনেমাটি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে নুসরাত ফারিয়া জানিয়েছেন, সিনেমাটির অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতার কারণে তার পক্ষে আর কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না। রায়হান খান পরিচালিত সিনেমাটিতে গত বছর যুক্ত হয়েছিলেন ফারিয়া। সিনেমা ছাড়ার প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, রায়হান খান তার কাছের মানুষ। তার সঙ্গে সিনেমাটি নিয়ে কথাও হয়েছিল। তবে পরবর্তীসময়ে সিনেমাটির অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কথা জানতে পারেন তিনি। ফারিয়ার ভাষায়, ‘এখানে আইনজীবী চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু এই সিনেমাটি আমি করছি না। শুনেছি, এই সিনেমার অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা হয়েছে। এ কারণে সিনেমাটির সঙ্গে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।’ জানা গেছে, সিনেমায় ফারিয়ার অংশের শুটিং এখনো শুরু হয়নি। ‘ট্রাইব্যুনাল’-এর বেশিরভাগ অংশের শুটিং এরই মধ্যে হয়েছে। তবে ফারিয়ার চরিত্রের দৃশ্যগুলো মূলত আদালতকেন্দ্রিক হওয়ায় সেগুলোর শুটিং এখনো বাকি ছিল। এ প্রসঙ্গে ফারিয়া বলেন, ‘আমার পার্টগুলো কোর্টরুম বেজ, তাই শুটিং করিনি। এখন আর সিনেমাটির সঙ্গে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’ ২০১১ সালে চট্টগ্রামে এক নারীকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত হচ্ছে ‘ট্রাইব্যুনাল’। সিনেমাটিতে ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের জটিল টানাপোড়েন তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। নুসরাত ফারিয়ার পাশাপাশি সিনেমাটিতে অভিনয় করার কথা তারিক আনাম খান, সাবেরী আলম, মৌসুমী হামিদ, তানিয়া বৃষ্টি, সায়রা আক্তার জাহান, আদর আজাদ, শাহেদ আলী, মিলন ভট্টাচার্য, অশোক ব্যাপারী, রাকিব হোসেন ইভন ও উপমাসহ অনেকের। নুসরাত ফারিয়া সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তার পরিবর্তে কে ব্যারিস্টারের চরিত্রে অভিনয় করবেন, তা এখনো জানা যায়নি। এলআইএ
বাংলাদেশে নারীদের প্রকৃত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, নারীবাদ যতটা না নারীর স্বার্থে কাজ করে, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে নারীবাদের নামে বহু সংগঠন ও আন্দোলন হয়েছে, সভা-সমিতি হয়েছে। কিন্তু নারীর নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহিলা ও পরিবার বিষয়ক উপকমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারীর প্রকৃত সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চায়। এজন্য চলতি সেশনে দলের নারী উইংকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী পাটওয়ারী বৈঠকে দেশব্যাপী দলের সব শাখায় নারী সদস্যদের সক্রিয় করা, ছাত্রী উইংয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়া ছাত্রী ও মহিলা ইউনিটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এমইউ/কেএসআর
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু, তা এখনো জানেন না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রুনির ভাই নওশের আলম ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা জানান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নওশের আলমের আবেদনটি তারা খতিয়ে দেখবেন। এ হত্যাকাণ্ড ‘ওয়াইডস্প্রেড’ বা ‘সিস্টেমেটিক’ (ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগত) অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। যদি এর আওতায় না পড়ে, তাহলে বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি পড়ে, তাহলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আরও পড়ুন চিফ প্রসিকিউটর / সাগর-রুনি হত্যায় এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততার তথ্য মিললো তিনি বলেন, আজ নওশের আলম একটি লিখিত আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। তারা প্রত্যাশা করছেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করুক। অথবা তদন্তে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পিবিআইকে দিয়ে সহযোগিতা করা হোক। আমিনুল ইসলাম বলেন, নওশের আলম যে আবেদন দিয়েছেন, সেটার ওপর তদন্ত করার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আছে, তা আমি জানি না। আবেদনটি তারা দিয়েছেন, আমরা খতিয়ে দেখবো। আবেদনে যা বলা হয়েছে নওশের আলমের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২টা থেকে পরদিন সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পার হলেও এখনো এ মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র্যাবের পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তবে টাস্কফোর্স গঠনের প্রায় দুই বছর হতে চললেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। নওশের আলম আবেদনে বলেন, পরিবারের সদস্যরা চান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনুক। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। আরও পড়ুন ডিভাইস মিসিংয়ের সূত্রে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় নতুন ক্লু অভিযোগটি ‘কমপ্লেইন্ট’ হিসেবে রেজিস্টারভুক্ত করে মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানান তিনি। যেভাবে তদন্ত এগিয়েছে সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তভার যায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি)। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। ঘটনার এক যুগ পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। গত বছরের নভেম্বরে র্যাবের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই। আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার তারিখ এখন পর্যন্ত ১২৯ বার পিছিয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এফএইচ/ইএ
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানা। একসময় সেখানে তৈরি হতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দরজা-জানালা, আদালতের আসবাব, বিভিন্ন দপ্তরের কক্ষের টেবিল-চেয়ার, এমনকি শৈল্পিক কাঠের নকশাও। কর্মচঞ্চল সেই কারখানাজুড়ে এখন কেবল ভুতুড়ে নীরবতা। যেসব শেডে সারা দিন কাঠ কাটার শব্দ, মেশিনের গর্জন আর শ্রমিকদের ব্যস্ততা থাকত; সেখানে পড়েছে ধুলাবালির স্তর। প্রায় এক দশক ধরে কার্যত অচল হয়ে থাকা সরকারি এ কারখানার আশপাশে যদিও গড়ে উঠেছে আসবাবের অনেক কারখানা ও দোকান। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যাচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের হাতেই। আর সেগুলো পাইয়ে দিতে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য রুচিশীল ও আলংকারিক কাঠের আসবাব তৈরির উদ্দেশ্যে পাকিস্তান আমলে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় যুক্ত করা হয় কাঠ প্রক্রিয়াকরণের আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। দীর্ঘ সময় ধরে এখান থেকেই সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন স্থাপনায় প্রয়োজনীয় কাঠের সামগ্রী। বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চালাতে কারখানার ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক। কিন্তু এক দশক আগে নানা কারণ দেখিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সরকারি প্রকল্পের আসবাব তৈরির কাজ চলে যায় আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয়। গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, সরকারি বিভিন্ন ভবনে গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত দরজা-জানালা ও কাঠের আসবাবের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রকল্পে উদ্বোধনের আগেই দরজা-জানালা নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অথচ অতীতে সরকারি কাঠের কারখানায় তৈরি আসবাব এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে, যার মান নিয়ে নেই তেমন অভিযোগ। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-৬ নম্বরে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্পের পাশে থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানার মূল ফটক বন্ধ। আবাসন প্রকল্পের ভেতর দিয়ে বিকল্প পথে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিশাল চত্বরজুড়ে সারিবদ্ধ ১৫টি শেড। রয়েছে কারখানা, মেকানিক্যাল স্টোর, গ্যারেজ ও স্টাফ কোয়ার্টার। কিন্তু অধিকাংশই তালাবদ্ধ। কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কিছু আসবাব। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ফাটল ধরেছে ভবনগুলোর দেয়াল, ছাদের টিন মরিচা ধরা, চারপাশে জরাজীর্ণ পরিবেশ। আবার একটি শেডে হাঁস-মুরগি লালনপালন করতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইএম কাঠ কারখানা উপবিভাগ গণপূর্তের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। অন্তর্বর্তী সরকার সেটি পুনরায় সচলের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পরবর্তী সময়ে তা আর এগোয়নি। বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্তের ইএম কাঠের কারখানা উপবিভাগের প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘চালু হয়নি ব্যাপারটা সে রকম না। বিভাগটির কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় দুই শতাধিক ছোট-বড় আসবাবের কারখানা ও শোরুম গড়ে উঠেছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আসবাবের বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া হয়। ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালগুলোকে সম্প্রতি ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আসবাব সরবরাহে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কাজ দেয়া হয়েছে নয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের দরপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে অংশ নেয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর যান্ত্রিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট, সিজনিং প্লান্ট, ল্যাকার প্লান্টসহ কাঠ ও ইস্পাতের আসবাব উৎপাদন কারখানা থাকা বাধ্যতামূলক। তবে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পেয়েছে তাদের অনেকেরই কোনো প্লান্ট নেই। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাঠের সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। উন্নয়ন প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের ঘটনা বারবারই ঘটছে। আর এর জন্য এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একটি অংশ পারস্পরিক যোগসাজশে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বা কাটমানির বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলনের মতো অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এসব অনিয়মের তদন্তও একই প্রভাববলয়ের ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে আসবাবপত্র ও কাঠসংক্রান্ত ক্রয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেটিও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি উদাহরণ। এসব ঘটনা প্রমাণ করে এখনো সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে।’ জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেটিকে অকার্যকর রেখে একই ধরনের পণ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের যৌক্তিকতা নেই। বরং সরকারি কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা গেলে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ রেখে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি কাজ করানোর পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ডেইলি ভয়েস নিউজ কে তিনি বলেন, ‘বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের সময়ে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার একটি বড় অংশ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। দুঃখজনকভাবে সেই চর্চার ধারাবাহিকতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু কীভাবে গণপূর্তের কাঠের কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, কেন বন্ধ হলো এবং সে সিদ্ধান্তের কোনো দালিলিক ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না—এটি প্রশাসনিক জবাবদিহির বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।’ কারখানাটি বন্ধ থাকার ফলে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে এবং এর জন্য কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কারখানাটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা।’ প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানাটি পুনরায় চালু করা গেলে সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত কাঠের আসবাব ও সরঞ্জামের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তার মতে, নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকলে সরকারের একদিকে যেমন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, অন্যদিকে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহও নিশ্চিত করা যাবে। খালেকুজ্জামান চৌধুরী ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘নিজস্ব কারখানা থাকলে আমাদের অনেক সুবিধা হয়। ঠিকাদারদের মাধ্যমে সবসময় ভালো মানের উপকরণ পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজস্ব কারখানা থাকলে আমরা নিজেরাই মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। বিশেষ করে আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য যেসব আসবাবপত্রে তুলনামূলক কম অলংকরণ থাকে, সেগুলো নিজস্ব কারখানাতেই দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন করা সম্ভব।’ একসময় কারখানাটিতে বিপুলসংখ্যক ওয়ার্ক-চার্জড কর্মী কাজ করতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবসরের পর তাদের পদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানাটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে নতুন জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে সরকারি এ উৎপাদন ইউনিট আবারো সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান। এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৩১ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে পুরোদমে। কাজ পাওয়া ছাপাখানায় কাগজ দিচ্ছেন কাগজকল মালিকরা। তাতে করা হচ্ছে মুদ্রণ। নিয়ম অনুযায়ী- মুদ্রণের আগে কাগজকল থেকে আসা কাগজের মান ল্যাবে (পরীক্ষাগার) পরীক্ষা করা হয়। কাগজ মানে উত্তীর্ণ হলে তাতে ছাপার অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই ছাপার এ কাগজ পরীক্ষায় ঘটছে ভয়াবহ কারসাজি। নিম্নমানের কাগজও পেয়ে যাচ্ছে অনুমোদন। কোনো ল্যাব (পরীক্ষাগার) টেস্ট ছাড়াই ঘুসের বিনিময়ে নিম্নমানের কাগজের অনুমোদন দিচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ভাড়া করা নামসর্বস্ব একটি ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান। টেন্ডারের মাধ্যমে ৫২ লাখ টাকায় তদারকির কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি’। এ বছর মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণি ও ইবতেদায়ির ২১ কোটি ২৮ লাখেরও বেশি পাঠ্যবই ছাপা ও কাগজ তদারকির দায়িত্ব পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বই ছাপাতে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। অথচ কাগজ পরীক্ষার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবের অধিকাংশ মেশিন নষ্ট। নেই স্থায়ী কোনো কেমিস্টও (কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ)। আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ের ভূতুড়ে চাহিদায় ৩০০ কোটি টাকা লুটপাটের ছক অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি বড় ছাপাখানার মালিক যোগসাজশ করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে ছাপাখানাগুলো এ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হাজার হাজার টন নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছে। এমনকি কাগজকলগুলোর কেমিস্টরাই (বিশেষজ্ঞ) এসে স্বতন্ত্র তদারককারী এ প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে কাগজ পরীক্ষা করে ছাড়পত্র বানিয়ে নিচ্ছেন। অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে নিম্নমানের কাগজ। তাতেই চলছে বই ছাপা। পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কাজ পাওয়ার জন্য ধার করা মেশিন এনে ল্যাবে রেখেছিল। কাজ পাওয়ার পর সেই মেশিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি এনসিটিবির নজরেও এসেছে। তদন্ত করে প্রমাণ মিললে প্রয়োজনে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার কথা ভাবছে এনসিটিবি। কাজ বাগিয়ে নিতে প্রতারণা পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপার মান ঠিক রাখতে প্রতি বছর স্বতন্ত্র ইন্সপেকশন (তদারকি) প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। টেন্ডারের মাধ্যমে এ নিয়োগ করা হয়। এবার চতুর্থ দরদাতা হিসেবে ইন্সপেকশনের কাজ পেয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। টেন্ডার মূল্যায়ন চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির অফিস, ল্যাব, কতজন কেমিস্ট ও কর্মচারী আছে, তা সরেজমিনে যাচাই করে এনসিটিবি। এবারও তা করা হয়েছে। কিন্তু ওই সময় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল তার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে মেশিন ধার করে ল্যাবে রেখেছিলেন। পাশাপাশি খণ্ডকালীন একজন কেমিস্টকে (বিশেষজ্ঞ) দেখানো হয়। আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ের ‘ভূতুড়ে’ চাহিদা ঠেকিয়ে শতকোটি টাকা সাশ্রয় অনুসন্ধানে জানা যায়, টেন্ডারের কাজ পাওয়ার পর মেশিনগুলো ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির ল্যাব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। আনা হয় পুরোনো ও নিম্নমানের কিছু মেশিন। এখন নেই কোনো কেমিস্টও। প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ বেলাল নিজেই এ ঘটনা স্বীকার করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেশিনগুলো আমার ছোট ভাইয়ের ছিল। রাগারাগি হওয়ায় ভাই মেশিনগুলো নিয়ে গেছে।’ ল্যাবে সরেজমিনে যা দেখা গেল মতিঝিলের সিটি সেন্টারের ২৫ তলায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিডি সার্ভিসেসের অফিস। সেখানে গত ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসে দুজন কর্মকর্তা ও একজন পিয়ন। তারা কম্পিউটারে একের পর এক ছাপাখানার কাগজের মানের প্রতিবেদন তৈরি করছেন। অথচ সেগুলোর কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে অনুমাননির্ভরভাবে কাগজের ওজন (জিএসএম), ব্রাইটনেস (উজ্জ্বলতা), বার্স্টিং ফ্যাক্টর (ফেটে যাওয়া প্রতিরোধক), অপাসিটি (চোখে দেখতে স্বস্তিদায়ক), বাল্ক (কাগজের পুরুত্ব), গ্লোস (চকচকে) ও স্টিফনেস (বেঁকে যাওয়া প্রতিরোধক) বসিয়ে দিচ্ছেন। অথচ পাশেই থাকা কাচঘেরা ল্যাব বা পরীক্ষাগারে কেউ নেই। নামসর্বস্ব কিছু মেশিন পড়ে আছে। কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। পরীক্ষার আয়োজনও নেই। আরও পড়ুন বই ছাপায় সিন্ডিকেট / আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি কিছুক্ষণ পরই অফিসে আসেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল। কেমিস্ট না থাকা ও ল্যাব অচল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শেখ বেলাল বলেন, ‘আমার কেমিস্ট আছে। তিনি এখন বাইরে।’ কেমিস্ট কখন আসবেন-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই। তবে টানা দুই ঘণ্টা তার অফিসে বসে থেকেও কেমিস্টের দেখা মেলেনি। একপর্যায়ে শেখ বেলালকে তার ল্যাবের মেশিনগুলো সচল কি না তা দেখাতে বলা হলে তিনি কাগজের জিএসএম মাপার মেশিনে পরীক্ষা করে দেখান। সেখানে একই কাগজ রাখার পর একবার ৬২ জিএসএম, আবার ৭২ জিএসএম দেখাতে থাকে। এতে মেশিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে শেখ বেলাল নিজেই বলেন, ‘হয়তো এখন মেশিনের মাথায় গন্ডগোল হয়েছে।’ বাকি মেশিনগুলো কেমিস্ট ছাড়া সচল করা যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আরও পড়ুন ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপাবে এনসিটিবি, খরচ ১৭০০ কোটি টাকা একইভাবে কোপ টেস্টার মেশিন দিয়ে কাগজের পানি শোষণের সক্ষমতা এবং বাস্টিং ফ্যাক্টর মেশিন দিয়ে কাগজের ছেঁড়ার প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এ দুটি মেশিনও অকেজো। ল্যাবের এমন বেহাল দশার ছবি ও কাগজ পরিমাপে অসামঞ্জস্যতার ভিডিও জাগো নিউজের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এনসিটিবির মিনি ল্যাবেও ভুয়া মেশিন সরবরাহ! ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডি নামের এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু নিজের অফিসের ল্যাবেই অচল মেশিন রেখেছে, তা নয়। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে বসানো মিনি ল্যাবেও ভুয়া মেশিন দিয়ে প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজ পাওয়ার চুক্তির শর্ত অনুযায়ী- পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অফিসে সব মেশিন দিয়ে একটি মিনি ল্যাব তৈরি করে দিতে হয়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি যে ল্যাব বসিয়ে দিয়েছে, তাতে ব্রাইটনেস মাপার মেশিন না দিয়ে হোয়াইটনেস মাপার মেশিন দিয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে হোয়াইটনেস মেশিনে ব্রাইটনেস মেশিনের নাম-কাজসহ বিস্তারিত তথ্যের লেবেল লাগিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এ দুটি মেশিনের কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আরও পড়ুন প্রাথমিকের বই ছাপায় অগ্রগতি, মাধ্যমিকে মাত্র শুরু কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞরা (কেমিস্ট) জানান, ব্রাইটনেস ও হোয়াইটনেস পরীক্ষার মেশিন আলাদা। ব্রাইটনেস হলো- কাগজ নির্দিষ্ট আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে কতটা আলো প্রতিফলিত করে তার পরিমাপ। আর হোয়াইটনেস হলো- কাগজ কতটা সাদা তা পরিমাপ করে। কিন্তু এনসিটিবি এবার সাদা কাগজে বই ছাপাচ্ছে না। ফলে হোয়াইটনেস মেশিন দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। কাগজকলের লোক দিয়েই মান পরীক্ষা! বই ছাপার কাগজ সরবরাহে দেশীয় কাগজকলগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রেশ পেপার মিল। এবারও ছাপাখানাগুলোতে কাগজ দিচ্ছে ফ্রেশ। অথচ এ কাগজল কলে চাকরি করা একজনকে খণ্ডকালীন কেমিস্ট নিয়োগ করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। ওই কেমিস্টের নাম আব্দুল্লাহ আল শাকিল। এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কেমিস্ট শাকিল বিনা বেতনে কাজ করছে। মূলত ফ্রেশ পেপার মিলের পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, ফ্রেশের দেওয়া কাগজই আবার তৃতীয়পক্ষের হয়ে ফ্রেশে চাকরি করা শাকিল বৈধতা দিচ্ছেন। এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত।’ বিষয়টি নিয়ে কেমিস্ট আব্দুল্লাহ আল শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ওখানে (ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি) চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। কিন্তু চাকরি তো করি না।’ কিন্তু তার নাম ও মোবাইল নম্বরসহ একটি তালিকা এনসিটিবিতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক তাকে কেমিস্ট দাবি করেছেন, বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’ আরও পড়ুন এইচএসসি পরীক্ষা / ৫ বছর পর পূর্ণ সিলেবাস, সময় স্বল্পতায় প্রস্তুতির ঘাটতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘শাকিল যে ফ্রেশের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, তা জানতাম না। জানলে তাকে নিতাম না।’ কাগজ অনুমোদনে টনপ্রতি ঘুস! এবার ৩১ কোটি বই ছাপাচ্ছে এনসিটিবি। এতে কাগজ প্রয়োজন হচ্ছে ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তার মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ২১ কোটির বেশি বই ছাপাতে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন কাগজ লাগবে। এ কাগজের মান যাচাই করছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি। এরই মধ্যে নামকাওয়াস্তে পরীক্ষা করে প্রায় তিন হাজার টন কাগজ অনুমোদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।- অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা, চেয়ারম্যান, এনসিটিবি অভিযোগ রয়েছে, কাগজকল ও ছাপাখানা মালিকরা যোগসাজশ করে টেন্ডারে যে মানের কাগজে বই ছাপার কথা বলা হয়েছে, তার থেকে নিম্নমানের কাগজ দিচ্ছে। এ অনিয়ম ধরার দায়িত্ব ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু টনপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা করে ঘুস নিয়ে নিম্নমানের কাগজও ছাড় করিয়ে বৈধতা দিচ্ছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি। সম্প্রতি দোয়েল প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা প্রিন্টার্স, ইস্টার্ন প্রিন্টার্স অফিসে বসে ছাপাখানা মালিক ও কাগজকল মালিকদের সঙ্গে দফারফা হয়। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন ছাপাখানা মালিক জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন পাঠ্যবই পরিমার্জনে দলমত বিবেচনায় নেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জাগো নিউজকে জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে শুরুতে টনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং মাঝামাঝি সময়ে টনপ্রতি দুই হাজার টাকা দিতে হবে। কারণ ছাপার শুরুর দিকে খারাপ কাগজ তুলনামূলক কম দেওয়া হয়। মাঝামাঝি ও শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে খারাপ কাগজ বেশি চালিয়ে দেওয়া হয়। সেজন্য দুই সময়ে দুই রকম রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘুসগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিক শেখ বেলাল বলেন, ‘এ অভিযোগ একেবারে মিথ্যা।’ কিন্তু পরক্ষণে তিনি একাধিক বড় ছাপাখানা মালিককে এ প্রতিবেদকের সামনে বসে মোবাইলে কল করে সহযোগিতা চান। সংবাদ যেন প্রকাশিত না হওয়া, তার জন্য তদবির করতে অনুরোধও করেন। সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের, নিয়ন্ত্রণে বড় কয়েকটি ছাপাখানা বিনামূল্যে পাঠ্যবই ছাপানোর সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের। কাগজকল, ছাপাখানা ও ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করেই প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এ কাজ করে। নিম্নমানের কাগজে বই ছাপিয়ে দিয়ে বিরাট অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন ছাপাখানা ব্যবসায়ে জড়িত বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে কাজ করলে বইয়ের মান ভালো হয়। কিন্তু কখনই তা করে না। কারণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের কাগজ ও ছাপার কাজ ইন্সপেকশনে যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়, তারাও ছাপাখানা মালিকদের হয়ে কাজ করে।’ আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ওসমান হাদির বীরত্বগাথা তোফায়েল খানের ভাষ্য, ‘কয়েকটি ছাপাখানা মালিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবির কর্মকর্তাদের পেছনে টাকা ঢেলে পছন্দের ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়। এ সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র ভাঙতে না পারলে পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপানোর মান কখনই ঠিক হবে না।’ যেভাবে কাজ করে ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান এ বছর এনসিটিবির বই ছাপার কাজ করছে ১১৪টি ছাপাখানা। ছাপাখানাগুলো বই ছাপার আগে যে কাগজ এনে রাখে, তা থেকে দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে (র্যানডম) কাগজ সংগ্রহ করে আনে ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। পরে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। টেন্ডারে যে বিষয়গুলো এবং তার প্যারামিটার ঠিক করে দেওয়া হয়েছে, তা কাগজে আছে কি না সেটি ল্যাবে পরীক্ষা করে এনসিটিবিকে প্রতিবেদন দেয় ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ছাপাখানাগুলোকে নির্দিষ্ট কাগজ অনুমোদন এবং বই ছাপা শুরু করতে নির্দেশনা দেয় এনসিটিবি। বই ছাপার কাগজ পরীক্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন পাঠ্যবই ছাপার কাজে কাগজ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাগজের ওজন, পুরুত্ব, উজ্জ্বলতা, চোখে সহনীয়, ছেঁড়া প্রতিরোধক, পানি শোষণ ক্ষমতাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হয়। কারণ শিক্ষার্থীরা এক বছর এ বই পড়ে। শিশুদের চোখের ক্ষতি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বই যেন সহজেই ছিঁড়ে না যায়; ছাপা যেন উঠে না যায় এবং পানি বা তরল পড়লে যেন টিস্যু পেপারের মতো গলে ছিঁড়ে না পড়ে, সে কারণে কাগজ পরীক্ষা করে তারপর বই ছাপানো হয়। বিপাকে এনসিটিবি, তবুও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বই ছাপার কাজ আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে হবে। বই ছাপাতে হলে কাগজের অনুমোদন করানোর নিয়ম রয়েছে। এ কারণে এখন হুট করেই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করলে বিপাকে পড়বে এনসিটিবি। তারপরও অভিযোগগুলোকে ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।’ এএএইচ/ইএ
গল্পটি প্রকাশিত হয় প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকীতে ২০০৫ সালের ১১ নভেম্বর। এত দিন শুধু কাগজের পাতাজুড়ে থাকা সেই গল্পটি আজ অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।শহরের রূপবতী এক কন্যা—অতিরূপসী, যেন দেবচন্দদিবাকর মোহনীয়া সে, খুব সম্ভবত যৌবনের দ্বারে উপনীত হওয়ামাত্র উন্নাসিকা হয়ে উঠেছিল দুর্দান্ত রূপের গরিমায়—স্পর্ধিত এক দেমাগে তখন সবকিছু তুচ্ছতাচ্ছিল্য; আর শহরের পুরুষ সকলের দৃষ্টির ঔত্সুক্যই তো প্রমাণ করে তত্তুল্য সুন্দরী এই শহরে আর একজনও নেই। সুতরাং দুর্বহ সৌন্দর্যের ঢেউ ভাঙে, ঝপাং শব্দ হরদম যখন–তখন, কিন্তু তারপরও একদিন, যে নাকি সর্বক্ষণ পুরুষের সম্ভ্রম ব্যবহার আর অদম্য কৌতূহলের লোভ–থই-থই নিমগ্ন দৃষ্টি দেখে অভ্যস্ত, সেই নারীর বিশ্বাসে ফাটল ধরিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে এক যুবক ওর অনিন্দ্যসুন্দর রূপশ্রী থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। সুন্দরী তরুণীর অকরুণ চিত্তের স্থির অহংবোধে যেন তির ছুড়ল কেউ অব্যর্থ হাতে, রূপসীর হৃদয় উপহত হলো ওর প্রতি যুবকের অনাগ্রহ ব্যবহার দেখে—এত দিন হৃদয় ওর থমকে-দমকে মহারানির মতোই পুরুষ মানুষের হৃদয়-রক্তের অনুলেহ দ্বারা স্নাত হয়ে আসছিল, সন্দেহ নেই যে পরমা সুন্দরী কুমারী সে, আর তার ওপর চর্চিত প্রসাধনে সে বরাবর অনন্যা—অধরোষ্ঠে রমণীয় হাসি তখনো মোহজনক, চোখের কজ্জল দর্শনে বিদ্যুত্স্পৃষ্টতার তড়িত্প্রবাহ, সে জানে তার চেহারায় কুহেলিকার উপলক্ষণের কথা, তারপরও কেন—কেন, কেন যে ওই দুর্বিনেয় যুবকের বৈমুখ্য!কন্যা বাড়িতে এসে ছুটে গেল আয়নার সম্মুখে। সেই মুখ-চোখ-নাক, সেই ভ্রূভঙ্গি—সব ঠিকঠাক আগের মতো, কাল যেমন ছিল, তবে কেন ওই দুর্মুখ যুবক মুখ ঘুরিয়ে তাকে রেখে অন্য কোনো বিষয়ে মনোযোগী হলো? কী এক উন্মন ভাবের সৃষ্টি হয় ওর রূপ-চৈতন্যে—লোকটি কি মানুষ! মানুষ হলে কী রূপ মানুষ!! ওর অস্তিত্বে এক নতুন দুর্বোধ্য ঢেউ জটিল অনুভূতি সৃষ্টি করে হঠাৎই ঝিকা মারে যেন, ভীষণভাবে বিষম খেয়ে এখন সে স্থির, আশ্চর্য স্থির হয়ে সে নিজেকে দেখছে। যুবক ওর সৌন্দর্যকে অবহেলা করেছে—প্রাবৃত অহংকারের হৃদয় এখন অনলে জ্বলছে, ক্ষুব্ধ মনে ফণা তুলে ফোঁস শব্দও তোলে কি তোলে না, জানি না, আর সে নিজেই কি জানে সে তখন কী করছে না করছে, কী জানি! ঘোরের ভেতর আয়নার কাচের ওপর দৃশ্যত নিজের প্রতিবিম্বের দিকেই তাকিয়ে আছে সে অনেকক্ষণ ধরে, সম্মুখের এই প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে সে স্বীয় প্রতিচ্ছবি দেখছে না, যেন অন্য কোনো দৃশ্য দেখছে, কিংবা কিছুই দেখছে না, সে শুধু বিষে জর্জরিত হয়ে একরূপ শীতল ছোবল অনুভব করতে থাকে অন্তরে অন্তরে। সখী, সখীরে, আজ আমার হৃদয়ে লেগেছে ঘাত, কোথায় বৈদ্য, কোথায় ওষুধ!দুই.এবার বলি এক অজানা শ্রীহীন কন্যার কথা—কন্যার রূপ নেই তো কী, যৌবন এল যথারীতি। তবে বাদ্যহীন বাজনায়, দীনহীন বেশে খুব নীরবে যেন, চুপি চুপি, কেউ জানল কি জানল না, যৌবনাবতীর দিকে কেউ ঔত্সুক্য নয়নে তাকাল না। কন্যাকুমারী যৌবনপ্রাপ্তির পর থেকেই শহরের পুরুষ সকলের দৃষ্টিতে দেখে আসছে অবজ্ঞা, উপেক্ষা, উদাসীনতা। এতে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। কখনো সে নিজের অন্তরের কাছে কিংবা অপরের কাছে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেনি। সে নিজের ভেতর এক বিশ্বাসের আত্মপ্রত্যয় গড়ে তুলতে পেরেছিল, যা তাকে ভাবতে সাহায্য করত পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় হওয়াই নারীর একমাত্র কাজ নয়, আরও অনেক দূরচরণীয় কাজ করার আছে নারীর জন্য—এ বিশ্বাস তার অটল, ধ্রুবতারার মতোই উজ্জ্বল, আজ পর্যন্ত চিড় ধরাতে পারেনি কেউ, আঁধারের ছায়া নামাতে পারেনি এ বোধে। আসলে সে একটি কঠিন বিষয়ের তুখোড় ছাত্রী ছিল। সমবয়সী পুরুষবন্ধুরা ওর প্রতিভায় ঈর্ষান্বিত হচ্ছে, প্রতিযোগিতায় তারা তার কাছে পরাস্ত, এতেই এই নারীর সুখ এবং এ নিয়ে তার ভালো লাগার জগৎ—বেশ তো আছে সে।বেশ তো ছিল সে, কিন্তু সেই-ই আজ অনুভব করল একজন মুগ্ধ দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। হ্যাঁ, এক সুদর্শন যুবকের দৃষ্টি-পুত্তলিতে নিজ ছায়া অনুমান করতে পেরে সে যেন নিমেষেই অন্য আরেকজন হয়ে গেল। যুবক গায়ক স্টেজে দাঁড়িয়ে গান গাইছে—প্রথমত আমি তোমাকে চাই—শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই। বিরাট হলঘরভর্তি মানুষকে উপেক্ষা করে যুবকের আগ্রহী দৃষ্টি যখন তার দিকেই ধাবিত হয়ে স্থির হচ্ছে, তখন সে ঘেমে-নেয়ে থির থির করে কেঁপে উঠছে। এরূপ কেন হচ্ছে তার—বুকের ভেতর রিনরিনি বৃষ্টির ধ্বনি, অনুপ্ত বাসনায় এ কী অজানা ভয়ংকর ঢেউ! শ্রীহীন কন্যার নারীমন এক আশ্চর্য লজ্জা আর সংসক্তির পুলকে দুলে উঠল—সে নত চোখে বসে বসে এই দৃষ্টিপাতের কারণ খুঁজল, পেল না—সে তখন নিজের সারাটি জীবন তছনছ করে খুঁজতে থাকে এরূপ দৃষ্টিতে আর কেউ ওর দিকে তাকিয়েছিল কি না, কিন্তু না, কে তাকাবে তার দিকে? এরূপ দুর্লক্ষ দৃষ্টিপাতের তাজ্জব-বাস্তব-সত্য ঘটনা এই প্রথম। ওই দুটি চোখের আমন্ত্রণভরা দৃষ্টির কারণে এই নারীর পুরোনো জগৎ পাল্টে একেবারে আলাদা এক নয়া জগতের সৃষ্টি হলো। সে জানতই না যে পুরুষের দৃষ্টিতে একরূপ আগুন থাকে, যে আগুনে কাগজের মতোই পুড়তে থাকে নারীর হৃদয়। কন্যাটির মধ্যে দ্বন্দ্ব-দ্বিধামিশ্রিত এরূপ জিজ্ঞাসাই বারবার ঘূর্ণির মতো চক্করবক্কর খেল, এ কীরূপে হয়, ওই যুবক কেন তাকায় তার দিকে, ওর শ্রীহীন মুখের দিকে তাকিয়ে সে কী খোঁজে, কী জানি, ভালোবাসা কী? তা কীরূপে হয়, অযতনে আঁচড়ানো চুল, প্রসাধনহীন ঠোঁট, গাল-চক্ষু সবই তো আগের মতো, তারপরও—ওই তো শেষবারের মতো আরেকবার তার দিকে তাকিয়েই সে গান শেষ করে স্টেজ থেকে চলে যাচ্ছে পর্দার বাইরে। বাড়ি এসে কন্যা ছুটে যায় আয়নার সম্মুখে। স্থির চোখে নিজ মুখ দেখে—হ্যাঁ, সেই চোখ-নাক-ঠোঁট-ভ্রূভঙ্গি সব ঠিকঠাক আগের মতোই, তবে কেন ওই গায়ক যুবক অলক্ষ্যে বারবার তাকাচ্ছিল তার দিকে? কেন?লোকটা কি মানুষ! কী রূপ মানুষ!দেবদূতের মতো আশিস হাতে নিয়ে সে স্বর্গের ছবি দেখিয়ে গেল তাকে। একঝলক আবেগ-স্পন্দন, সে কখনো ভুলবে না। এই যুবকের স্মৃতি, ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি তখন ফুলের মতো সুন্দর-মায়াবী হয়ে ফুটে উঠল।তিন.ওদিকে রূপবতী কন্যার চোখের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। মনে মনে ভীষণ গোসা তার—সে সময়মতো খায় না, গোসল করে না, সাজসজ্জায় মনোযোগ নেই, কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথাও বলে না, ওর প্রতিদিনের রূপসম্পর্কিত বিশ্বাসে ঘুণ ধরেছে—থই দিগন্ত ভাসমান অহংকারের প্রাবল্যে এক জ্বলন্ত বালির অবস্থা যেন—খালি পোড়ায়, জ্বালায়, শুধু ফোসকা পড়ে, সে এক অসহনীয় দুরবস্থা, আসলে অন্তরে সে সর্বক্ষণই যুবকের উদাসীনতা আর দৃষ্টির অবজ্ঞাই অনুভব করছে আর জ্বলছে। যুবককে উদ্দেশ করে নপুংসক গালি দেয় সে, কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারে—এরূপ আকর্ষণীয় পুরুষ সে এ জীবনে আর কখনো দেখেনি, ওর ঈপ্সিত পুরুষ এখন একটাই—অজস্র মুখের ভিড়ে ঘুরেফিরে ওই যুবকের মুখই তার মনে ফিরে ফিরে আসে—এ এক মুশকিল, আশ্চর্য, আশপাশের কত পুরুষই তো তার রূপের উত্তাপে পতঙ্গের মতো পুড়ে মরছে, কিন্তু তার হিসাব কে রাখে, হিসাবের মধ্যে শুধু আজ এক যুবক, হ্যাঁ, সেই যুবক কখনো উজ্জ্বল আর কখনো ছায়াময় হয়ে দুলতে থাকে। দূর হ দূর হ—কাক তাড়ানোর মতো যুবকের প্রতি তার অনুচ্চারিত দুর্বলতাকে তাড়াতে চেষ্টা করে সে। দুর্বলতা কিন্তু মনের এডাল–ওডালে উড়ে বেড়াচ্ছে। কুমারী তাকে শক্তপোক্তভাবে খারিজ করতে চেষ্টা করে—দূর ছাই, কী যে হচ্ছে তার, ক্রোধান্বিত হয়ে যদিও ফুসছে সে তখনো, তারপরও সুন্দরী অবাক হয়ে ভাবে, যুবক তাকে পাত্তাই দিল না! কী নেই আমার—ভ্রূকুঞ্চিত নারী ঠোঁট ফোলায়, যুবক গান গায় ভালো কথা, তাই বলে নারীর রূপের কদর করবে না! উপর্যুপরি জ্বালাই বাড়ছে তার, এ জ্বালা সাতসমুদ্দুর তেরো নদীর পানিতে স্নাত হলেও জুড়াবে না—যুবতী উন্মাদনায় অস্থির হয়ে ওঠে, মনের ভেতর অশান্তির জ্বাল বুনছে কেউ, জালে আটকা পড়ে যাচ্ছে সে; চোখ বন্ধ করে নারী—এরূপ জ্বাল থেকে রক্ষা করতে পারত একজনই, কিন্তু সেই যুবক—সে তো ওর প্রতি উদাসীন, যুবতী বুঝতে পারল যে অশান্তির সূচনা হলো আজ তার থেকে খুব সম্ভবত পরিত্রাণ নেই।চার.রূপহীন কন্যাটিও খায় না, গোসল করে না, কারও সঙ্গে কথাও বলে না, কেন যুবক ওই রূপে তাকাল—এক চাহনিতে সমস্ত জগৎ টালমাটাল—সখীরে, ভালোবাসা কারে কয় জিজ্ঞাসায় অন্তর যখন ব্যাকুল, তখন সে কোথায়?—নেই। হারিয়ে গিয়েছে। যাই হোক, সে তো রেখে গিয়েছে এক অপরূপ স্মৃতি। ওই দৃষ্টির স্মরণে সে শিহরিত হয়ে ভাবে, তবে এর নামই ভালোবাসা! সে কেন বাজায় বাঁশি। সখীরে, সে কেন বাজায় বাঁশি! অজস্র মানুষের ভিড়ে একটি মুখই তার মনের ভেতর দোল খেতে খেতে তাকে বেঁচে থাকবার স্বপ্ন দেখাতে লাগল। কিন্তু এরূপ প্রবল তৃষ্ণায় সে কীরূপ সর্বদাই অস্থির—সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর পানিতে এ তৃষ্ণা মিটবে না, তার নারীমন সেই মুখ আরেকবার দেখতে চায়। উন্মাদনায় অস্থির সেও—না, এর কোনো মানে হয় না, সে জানে, তারপরও সে অপেক্ষা করে।পাঁচ.কিসের তরে এই অপেক্ষা, কোথায় এর শেষ তা কি নিজেরাই জানে? কী একরূপ ঘোরের ভেতর তারা চিন্তা করে ওই যুবককে নিয়ে, ভিন্ন রকমের অনুভূতি কিন্তু ফলাফল একই রূপ থেকে যাচ্ছে, সে আবার আসবে এরূপ আশা দুজনই অন্তরে পোষণ করতে থাকল।রূপবতী কন্যা তার পটলচেরা চোখের তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করে—কন্যাকুমারীর কৃষ্ণ আঁখিতে একসময় ধূসরতার প্রলেপ পড়ে, কুঞ্চনের সৃষ্টি হয় চোখের কোলে, তারপরও নারীর নির্বোধ ভরসা সে আসবে, আসবেই, শুধু আরেকবার তার সঙ্গে দৃষ্টিমিলন হোক—এরূপ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সে একদিন অনূঢ়া অবস্থায় প্রৌঢ়া হলো।আর রূপহীনা নারীর হৃদয় ছুঁয়ে একজোড়া কৌতূহলী চোখ বহুদিন পর্যন্ত শুকতারার মতো মিটমিট করে জ্বলতে থাকল, সে–ও আর বিয়ে করে সংসারী হতে পারেনি, সে–ও অনূঢ়া অবস্থাতেই প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলো।ছয়.বহুদিন পর রূপবতী এক প্রৌঢ়া আর রূপহীন এক প্রৌঢ়ার গমনস্থল হলো এক গানের জলসা। স্রেফ সময় কাটানোর ফন্দি—মধ্যবয়সের সঙ্গীহীন জীবনের সময় যে কাটে না, হাবিজাবি করে করেই যতটুকু সময় ব্যয় করা যায়। বিদেশ থেকে গানের তালিম নিয়ে আগত এক প্রখ্যাত গায়কের গানের জলসা—জলসাঘরে লোকে লোকারণ্য। রূপবতী প্রৌঢ়ার এক চেয়ার বাদেই বসেছে রূপহীনা। রূপবতী তাকিয়ে আছে স্টেজের দিকে স্থিরচিত্তে, রূপহীনা–ও উসখুস দৃষ্টিতে তাকিয়ে। হঠাৎ সচেতন হয়ে উঠল রূপহীনা, একি, কে—ওই তো, স্টেজে উঠে আসছে যে, সে যে সেই, বহুদিনের আরাধনার পর তবে সত্য সত্য তার দেখা মিলল। সেই চেহারা, সেই গানের গলা, সুরের ভেতর আরও পরিপক্বতা, কিন্তু সে হয় কী করে, ওর নাম ছিল জালাল মাহমুদ, খুব সম্ভবত নামটি পাল্টে নিয়ে শোভন সরকার হয়েছে—হায় কপাল, মানুষ কীরূপ নাম পাল্টায়! সে যাই হোক, সেই যুবক আজ প্রৌঢ়ত্বের দ্বারে উপনীত হয়েছে এটা সত্য, কিন্তু লোকটির চেহারা কেন পাল্টায়নি?রূপবতী প্রৌঢ়া চোখ বন্ধ করে তন্ময় হয়ে গান শুনছিল, হঠাৎ কী মনে করে চোখ খুলতেই অবাক হয়ে গেল সে, মানুষটি যার চেহারায় বিশেষ পরিবর্তন না হলেও অন্য মানুষ মনে হচ্ছে। সেই শক্ত চোয়াল, ঘুরিয়ে নেওয়া দৃষ্টি এসব আর নেই। তা না থাক, কিন্তু সঙ্গে ওই যে মহিলা—না রূপবতী না রূপহীনা স্ত্রীলোকটিই কি তার স্ত্রী, না সফরসঙ্গিনী? ঠোঁট উল্টায় সে, কী জানি! মহিলার পরিচয় জানার ঔত্সুক্য বোধ করে সে। ভ্রূ কুঁচকায় রূপসী প্রৌঢ়া, জালাল মাহমুদ তবে আজকের খ্যাতিমান গায়ক শোভন সরকার, জালাল শোভন হয়ে লুকিয়েছিল এত দিন। শোভন সরকারের নাম কত শুনেছে সে, তবু কখনোই ভাবেনি শোভন আসলে জালালের আরেক নাম। রূপবতী কন্যার কাছে এটা একরূপ জোচ্চুরি মনে হলো।সাত.রূপবতী প্রৌঢ়া শোভন সরকারের মুখোমুখি হলো, দেখুন তো চেনা যায় কি না—এরূপ কথা দিয়ে মহিলা শুরু করেছিল।শোভন সরকারের প্রৌঢ় চোখ কৌতূহলে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।—একসময় আপনার প্রতি অমনোযোগী হয়েছিলাম। মনে আছে আপনার, আপনার অহংকারী চোখ সেদিন আহত হয়েছিল, ভেবেছিল কে এই মূর্খ যে রূপের কদর করতে জানে না—আমার চালাকি আপনি ধরতে পারেননি।প্রৌঢ়া কিছুটা বিস্ময় হয়ে তাকিয়ে রইল।—কিছুই বুঝতে পারছি না, কিসের চালাকি।প্রৌঢ় গায়ক হাসে, বলে আপনার দিকে সবাই তখন তাকাত, আমার বিশ্বাস এখনো তাকায়।রূপসী প্রৌঢ়া অতি তিক্ত কণ্ঠে বলে—তাতে কি, আপনি তো তাকাননি।—সেটাই তো চালাকি।প্রৌঢ় মিটমিট করে হাসছে।বলল, সবাই তাকায়, আমিও যদি তাকাই, তাহলে কি আমি আর আপনার চোখে আলাদা হতে পারতাম। রূপবতী প্রৌঢ়া রেগে লাল হয়ে বলল, আপনি তাকান বা না তাকান তাতে আমার কী? আমি কেন আপনাকে সবার থেকে আলাদা করে দেখব?প্রৌঢ় হাসছে।কী শান্ত হাসি, কী নির্মল—বলল, হ্যাঁ আমি জানি, আপনি কাউকে আলাদা করে দেখতে চান না, আমিও পারিনি আপনার চোখে আলাদা হতে।জ্বলন্ত দৃষ্টিতে প্রৌঢ়া তখন তাকিয়ে আছে বহু বছর আগের এক যুবক, আজকের প্রৌঢ়র দিকে। তুমি জালাল হও আর শোভন হও, কী লাভ হয়েছে এরূপ খেলায়। কিছু না, তবু খেলেছ, পুরুষের স্বভাবই বুঝি তা–ই।প্রৌঢ় এবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে রূপহীন প্রৌঢ়ার দিকে তাকাল, বলল—কেমন আছেন আপনি?রূপহীন প্রৌঢ়া কুমারী হৃদয়ের তপ্তশ্বাস নিয়ে বলল, ভালো আছি, কিন্তু আপনি আমাকে মনে রেখেছেন?—কেন মনে রাখব না? আপনার চোখে আলাদা হওয়ার জন্য কতবার তাকিয়েছি, আপনি হয়তো তা ভুলে গিয়েছেন।—না, ভুলিনি। কী করে ভুলি, আপনিই তো প্রথম এবং শেষ আমার দিকে মনোযোগী দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন, আপনাকে আমার মনে আছে।শ্রীহীন মধ্যবয়সী নারী কথার ফাঁকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। প্রৌঢ় গায়ক কেন যেন হঠাৎ মাথা নত করে ফেলে, বলে, বয়সের কিছু ঝোঁক থাকে, আমারও হয়তো মাঝেমধ্যে কিছু ঝোঁক চাপত মাথায়।তারপর অন্যমনস্ক হয়ে হাসে। মদোদ্ধত দিনের বিলসনের স্মৃতি ছায়া হয়ে কম্পন তুলেছে আজ তার প্রৌঢ় হৃদয়ে।আট.দুই প্রৌঢ়া কুমারীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রৌঢ় যখন অতীতে ডুবে যাচ্ছিলেন, তখন সেই না সুন্দর, না অসুন্দর মহিলাটি চলে এল, এসেই নিঃসংকোচে প্রৌঢ়ের হাত ধরে বলল, ‘তুমি এখানে, চলো চলো, যেখানেই মেয়ে মানুষ দেখো সেখানেই ছোক-ছোক।’ ছি! এ কী ভাষা মহিলার! কিন্তু এরূপ ভাষা শুনেও প্রৌঢ় লোকটি বোকার মতো হাসে, বাধ্য স্বামীর মতোই সেই মহিলার পেছন পেছন চলে গেল হলের বাইরে। হলের ভেতরটা শূন্য।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ, চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। এবার সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় কেন্দ্রে আনা হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক থাকবেন। কোনো কক্ষে দুজনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। পাঁচ বাই ছয় ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে সেই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদিও সব বোর্ডে একই মানদণ্ড বজায় রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা এবং প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং আর মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৮৬৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বাংলা প্রথম প্রত্র দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা। চলতি বছর ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা। এর মধ্যে ১৪৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার ৪০টিই ঢাকায়। পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এগুলো হলো: পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল ও রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট, আর ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট হতে অন্তত সাত দিন আগে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করবেন। উত্তরপত্রে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ওএমআর ফরমে যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবেন পরীক্ষার্থীরা। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের মধ্যে লেখা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর (নন-প্রোগ্রামেবল) ব্যবহার করতে পারবেন। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবেন না। জরুরি যোগাযোগ ও সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রম এই কন্ট্রোল রুম থেকেই পরিচালনা করা হবে। সেজন্য ১টি টেলিফোন নম্বর, তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর এবং একটি ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার এবং সংবাদ স্ক্রলে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বরটি হলো- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়া যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫৬১০৩১৫২ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখানে প্রতিটি স্টল ঘুরে আমাদের মনে হলো দেশে নিউটন–আইনস্টাইনের অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী এখনে সময় প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেছেন। প্রতিজনকে প্রশ্ন করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক; পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা প্রধানদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, আইকিউএসি'র পরিচালক প্রফেসর ড. মাহবুব রব্বানী, আরটিসির পরিচালক প্রফেসর ড. মামুন-উর-রশিদ, অর্থ ও হিসাব বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডাইরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেলের পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার মিয়া ও মো. তানজিলুর রহমান, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক সৈয়দ নিজাম উদ্দিন এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রিয়াজ কাঞ্চন শহীদসহ বিভিন্ন দপ্তরের শাখা প্রধানরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হলে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি আরও বলেন, "অতীতে বিভিন্ন কারণে পবিপ্রবিতে শিক্ষার প্রত্যাশিত পরিবেশ ব্যাহত হয়েছিল। আমরা সবাই মিলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সেই পরিস্থিতি উত্তরণে কাজ করব। পবিপ্রবিকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা একটি 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স'-এ পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।" ভাইস-চ্যান্সেলর শাখা প্রধানদের সততা, জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি দপ্তরের দক্ষ ও স্বচ্ছ কার্যক্রমই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে। শিক্ষার্থী কল্যাণ, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং গবেষণার প্রসারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।" মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক হকার্যক্রমের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান। এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চাকরি খোঁজার পরিবর্তে কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা অর্জন এবং বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তার প্রত্যাশা, আগামী দিনে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরাই দেশের প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলবে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং এর অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের মধ্যে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ১৩ শিক্ষার্থীকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। ফরিদা খানম বলেন, ভালো ফলাফল অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখলে চলবে না। জিপিএ-৫ কে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি ধাপ হিসেবে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আরও বড় লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আরও পড়ুন ২১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাগজ পরীক্ষায় কারসাজি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশি কয়েকজন সফল ব্যক্তির উদাহরণ দেন। তাদের মধ্যে ড. এফ আর খান, জাওয়েদ করিম, সালমান খান, ড. আতাউল করিম, ড. জাহিদ হাসান ও তাহমিমা আনামের নাম উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকার জেলা প্রশাসক বলেন, এসব মানুষের অর্জন দেখিয়েছে যে বাংলাদেশের মেধাবীদের সামর্থ্যের সীমা নেই। এখন নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব হলো অন্যের সাফল্য অনুসরণ করার পাশাপাশি নিজেদের সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে দেশের মানুষের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশি কোম্পানি, উদ্ভাবন ও পণ্যও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাবে। শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিষ্ঠান তৈরির স্বপ্ন দেখতে হবে, যার পণ্য ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছাবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফরিদা খানম বলেন, জীবনে শুধু একটি চাকরি পাওয়ার লক্ষ্য রাখলে হবে না; অন্যের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরির যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি পণ্য ব্যবহার করার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিনি আরও বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু করার আগ্রহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতিও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে। এ সময় তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, শুধু ভালো ভবিষ্যতের আশায় দেশ ছাড়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর মানসিকতা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, স্টাফ অফিসার টু ডিসি মো. ইসরাফিল জাহান এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। এমডিএএ/কেএসআর
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ রহিত করে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ নামে পাশ হলেও তখনি সরকারের দিক থেকে পরবর্তীতে আইনে আরও সংশোধনী আনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সংশোধনীর খসড়া নিয়ে কেন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে?
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত গ্রিন জেনেসিস উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে উৎসাহিত করা।জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জাতীয় পরিবেশ উৎসব ‘গ্রিন জেনেসিস ২০২৬’ শেষে হয়েছে। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের নতুন ধারণা, উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরার জন্য একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশসচেতন প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আউটরিচ টিমের আয়োজনে এই উৎসবে ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা। এসবের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানও উপস্থাপন করেন।আয়োজকেরা জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী এ আয়োজনে নিবন্ধন করেন। ১২টি বিভাগে জমা পড়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আবেদন। দেশের প্রায় ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৮৮টি ক্লাব এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।উৎসবের প্রথম দিন শুরু হয় ‘আ লেটার টু নেচার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির উদ্দেশে নিজেদের ভাবনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরে চিঠি লেখেন। প্রকৃতির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা উঠে আসে এই পর্বে।‘ইকো ডিকোড’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অঝরা ইসলাম এবং আবদুল্লাহ ইসলাম (টিম ‘গো বিগ গ্রিনস’)। তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরাদ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্লাইমেট সায়েন্স অলিম্পিয়াড’ এবং ‘ক্লাইমেট ওরেটরি’। জলবায়ুবিজ্ঞান, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয় অলিম্পিয়াডে। অন্যদিকে ক্লাইমেট ওরেটরিতে তরুণেরা জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য উপস্থাপন করে নিজেদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘গ্রিন জেনেসিস ইনস্পিরেশন’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশন। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআর পরিচালক গোলাম রব্বানী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট লাইফের প্রধান তাহসিনা রহমান শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।এদিন আরও অনুষ্ঠিত হয় এনভায়রনমেন্টাল প্রজেক্ট ডিসপ্লে, ইকো ডিকোড প্রবলেম-সলভিং চ্যালেঞ্জ, পোস্টার ডিজাইন, ওয়াল ম্যাগাজিন, ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, এআই আর্ট, এনভায়রনমেন্টাল রিল, গ্রিন জার্নালিজমসহ বিভিন্ন সেগমেন্ট। অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই সমাধান, গবেষণা, সৃজনশীল যোগাযোগ এবং পরিবেশবিষয়ক গল্প বলার নতুন নতুন ধারণা উপস্থাপন করেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে তরুণেরা শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেই থেমে থাকেননি, তাঁরা এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও কাজ করেছেন।উৎসবজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পাঁচটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাগুলো পরিচালনা করেন সিথ্রিইআরের ডিরেক্টর গোলাম রব্বানী, অফিস অব কমিউনিকেশনসের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, প্রথম আলোর ডিজিটাল কনটেন্ট লিড ও লেখক খায়রুল বাবুই, সিথ্রিইআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শারমিন নাহার এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই সৃজন বণিক। এসব কর্মশালায় পরিবেশবিষয়ক যোগাযোগ, গবেষণা, সাংবাদিকতা, জনসচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর ও সৃজনশীল উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়।উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত। পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং সচেতনতার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। আর সেই যাত্রায় তরুণেরাই সবচেয়ে বড় শক্তি।’ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন আউটরিচ টিমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দীপ্তি সরকার। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।চার দিনব্যাপী তারুণ্যের এই উৎসবে সহযোগী ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং ইয়ুথ ফর আ গ্রিন আর্থ (ওয়াইজিই)। সহ–আয়োজক ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, এনভায়রনমেন্টাল ক্লাব, কমিউনিটি সার্ভিস ক্লাব এবং ন্যাচারাল সায়েন্স ক্লাব। পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এসিআই মোটরস। ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে ছিল প্রথম আলো ডটকম।
অপরিচিত রাস্তায় যাওয়ার সময় গুগল ম্যাপস খুলে গন্তব্যের ঠিকানা লিখলেই সামনে ভেসে ওঠে রাস্তার অবস্থা। কোথাও সবুজ, কোথাও হলুদ, আবার কোথাও গাঢ় লাল রঙে দেখা যায় রাস্তা। লাল মানেই ধীরগতি বা যানজট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাস্তার প্রতিটি গাড়িকে ক্যামেরায় না দেখেও গুগল ম্যাপস কীভাবে এত দ্রুত বুঝে ফেলে কোথায় জ্যাম তৈরি হয়েছে? এর পেছনে রয়েছে বিপুল পরিমাণ লোকেশন ডাটা, পুরোনো ট্র্যাফিকের হিসাব, ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বিত বিশ্লেষণ। আপনার ফোনই দেয় গুরুত্বপূর্ণ সংকেত গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা বুঝতে স্মার্টফোনের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো রাস্তায় একসঙ্গে অনেক ফোন থাকা অবস্থায় যদি সেগুলোর গতিবিধি স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর হয়ে যায়, তাহলে গুগল বুঝতে পারে ওই অংশে যান চলাচল কমে এসেছে। ধরা যাক, কোনো সড়কে সাধারণত গাড়ি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল ওই এলাকার একাধিক ডিভাইসের চলাচল অনেক ধীর। তখন সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সিস্টেমটি অনুমান করতে পারে যে রাস্তাটিতে যানজট তৈরি হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে গুগল প্রতিটি গাড়িকে আলাদাভাবে নজরদারি করছে। বরং অনেক ডিভাইস থেকে পাওয়া সম্মিলিত তথ্য ব্যবহার করে একটি রাস্তার সামগ্রিক গতির চিত্র তৈরি করা হয়। আরও পড়ুন গুগল ম্যাপে ঠিকানা খুঁজে পাওয়া আরও সহজ শুধু বর্তমান তথ্য নয়, পুরোনো হিসাবও কাজে লাগে গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক অনুমান কেবল ওই মুহূর্তের তথ্যের ওপর নির্ভর করে না। কোনো রাস্তা কোন দিন, কোন সময়ে সাধারণত ব্যস্ত থাকে, সেটিও হিসাবের মধ্যে থাকে। যেমন, কর্মদিবসের সকালে অফিসগামী মানুষের চাপে একটি সড়কে নিয়মিত যানজট তৈরি হতে পারে। আবার বিকেল বা সন্ধ্যায় একই রাস্তায় গাড়ির চাপ বাড়তে পারে। অতীতের এসব প্রবণতার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তথ্য মিলিয়ে সম্ভাব্য ভ্রমণ সময় অনুমান করে গুগল। এই কারণেই আপনি রাস্তায় পৌঁছানোর আগেই ম্যাপস অনেক সময় জানিয়ে দিতে পারে, কোন পথে যেতে কত সময় লাগতে পারে। ব্যবহারকারীর রিপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ দুর্ঘটনা, রাস্তা বন্ধ, নির্মাণকাজ বা অন্য কোনো আকস্মিক ঘটনার কারণে হঠাৎ যানজট তৈরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতি বুঝতে ব্যবহারকারীদের দেওয়া রিপোর্টও কাজে লাগে। কিছু ক্ষেত্রে ট্র্যাফিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও পাওয়া তথ্য সিস্টেমের বিশ্লেষণে যুক্ত হতে পারে। তবে কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত লাইভ ডাটা না থাকলে ট্র্যাফিকের পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল হতে পারে। আরও পড়ুন গুগল ম্যাপসের ৭ ফিচার, যা বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহারই করেন না লাল রাস্তা মানেই কি শতভাগ নিশ্চিত জ্যাম? না। ম্যাপের রং আসলে একটি অনুমানভিত্তিক ট্র্যাফিক চিত্র। পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে কিংবা হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে বাস্তব অবস্থা এবং ম্যাপের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য হতে পারে। অর্থাৎ গুগল ম্যাপসের রঙিন রাস্তা কোনো স্যাটেলাইট ক্যামেরায় তোলা লাইভ দৃশ্য নয়। বরং অসংখ্য ডাটা, ঐতিহাসিক ট্র্যাফিকের ধরন এবং আধুনিক অ্যালগরিদমের বিশ্লেষণ থেকে তৈরি একটি সম্ভাব্য চিত্র। আপনি যখন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা বেছে নেন, তখন পর্দায় কয়েকটি রঙের রেখা দেখা গেলেও এর পেছনে কাজ করে বিশাল এক ডাটা-নির্ভর ব্যবস্থা। সেই কারণেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গুগল ম্যাপস জানিয়ে দিতে পারে কোন পথে গেলে সময় বাঁচতে পারে আর কোথায় হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। কেএসকে
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - AI) এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ, অটোমেশন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং শিক্ষা সহ প্রায় সব খাতে এআই-এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে নয়। দেশীয় স্টার্টআপ, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি। বাংলাদেশের অগ্রগতি: দেশে বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চ্যাটবট, অটোমেটেড কাস্টমার সার্ভিস, ফেস রিকগনিশন, এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ 'AI ফর বাংলাদেশ' প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই শিক্ষা চালু করছে ধীরে ধীরে। চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা: যথাযথ ডেটা অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার অভাবে এআই প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবও অন্যতম বড় বাধা। বিশেষজ্ঞ মতামত: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি সময়মতো ডেটা সুরক্ষা আইন, এআই গবেষণা তহবিল এবং শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে, তবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়—এটি বর্তমানে বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা করতে পারে, তবে এআই হতে পারে দেশের পরবর্তী ডিজিটাল বিপ্লবের চালিকা শক্তি।
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্ময়কর হারে বাড়ছে। তবে এর বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা বিভ্রান্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এবং নীতিমালার আওতায় আনতে বিশেষজ্ঞরা এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত "এআই অ্যান্ড সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট" শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও এর যথাযথ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা এখনও প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক), অটোমেটেড ভুয়া সংবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট ইতিমধ্যেই সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক বলেন, "অনেকেই এখন বিশ্বাস করছে না কোন ছবি বা ভিডিও আসল। এর ফলে সত্য-মিথ্যার সীমা মুছে যাচ্ছে। রাজনীতি, আইন ও সামাজিক সম্প্রীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।" চাকরির বাজারে শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অনেক শ্রমনির্ভর ও মধ্যম স্তরের পেশা অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে কল সেন্টার, কনটেন্ট লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং হিসাবরক্ষণ পেশায় ঝুঁকি বাড়ছে। নীতিমালার ঘাটতি বাংলাদেশে এখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন বা জাতীয় নীতিমালা নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকলেও তা এআই-নির্ভর প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তারা বলছেন, এখনই উচিত শিক্ষা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক মহলে এআই ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা। নৈতিক ও নিরাপদ এআই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপদেরও একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা। এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Hamza Choudhury–র (লেস্টার সিটি) বাংলাদেশে খেলার ঘোষণা BFF–এর জন্য প্ররোচনা হিসেবে কাজ করেছে। স্পীডস্টার ফুটবলার হিসেবে তার অভিষেকের পর, BFF একাধিক প্রবাসী ট্যালেন্ট খুঁজে বের করে বাংলাদেশ দলে নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে। 🔹 বিদেশি মূল–বিশ্বে পরিচিত কিছু নাম শামীট সোম (Shamit Som/Shamit Shome): কানাডায় থাকা ২৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, কানাডার জাতীয় দলেরও অংশ ছিলেন। BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, তৈরি হয়েছে দুই সপ্তাহের সময়, যাতে তিনি ক্লাব ও কোচদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন । এর পাশাপাশি, ফাহামিদুল ইসলাম (ইতালির চতুর্থ বিভাগ), ফারহান মাহমুদ (ফ্রান্স), ক্যারিম হাসান স্মিথ, ইলমান মাতিন, ও আশিকুর রহমান (ইংল্যান্ড), নাবিদ আহমেদ (কানাডা), আমির সামি (যুক্তরাষ্ট্র) সহ ১৩ দেশের ৩২ জন বিদেশি খেলোয়াড় BFF–র নজরে এসেছে । 🔹 ট্রায়াল ও পরিকল্পনা BFF ছয় থেকে সাত দিনব্যাপী ১–৫ জুন ২০২৫ ট্রায়ালের আয়োজন করেছে ঢাকায়, যেখানে প্রবাসী ১৬–২০ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করা হবে । BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানান, এটি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি–বাংলাদেশি যোগ উইঙ্গার বা মিডফিল্ডার হিসেবে সম্ভাবনাময় জুড়ির একটি চেষ্টার অংশ en.wikipedia.org। 🔹 Hamza Choudhury–এর ভূমিকা ও প্রভাব Hamza–র বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্তির পরে BFF–র উদ্যোগ আরো জোরালো হয়েছে। তিনি অক্টোবর ২০২৪–এ FIFA অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের জন্য যোগ্যতা পান tds-images.thedailystar.net+3dhakatribune.com+3thedailystar.net+3। BFF–র প্রেসিডেন্ট তাবিথ আওয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সভুজ–এর সাথে UK’র King Power স্টেডিয়ামে দেখা করেন; এসময় Hamza–র সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করা হয় — যা BFF–র বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রলোভনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । BFF মূলত চায়, Hamza কেবল মাঠেই নয়,Pro-ফর্ম ও আন্তর্জাতিক মানে গাইড হিসেবে কাজ করুক এবং তাকে অনুসরণ করে অন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ দলে আসুক reddit.com+14jagonews24.com+14dhakatribune.com+14। 🔹 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সচরাচর বিদেশি জাতীয় দল ইতিবাচক ভাবে একাধিক ম্যাচের জটিলতা সামলে প্রবাসীদের গ্রহণে সময় নেয়, তবে BFF–র পরিকল্পনায় প্রথম ফোকাস থাকবে বিদেশে জন্ম বা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুববলদের, যেন তারা দ্রুত জাতীয় দলের সঙ্গে তাল মিলাতে পারে । সামিট সোম–এর জিপিএস–ম্যাপ হওয়া, স্কুলছাত্রদের টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা andere তরুণদের ধরে বাংলাদেশের শিবিরে যোগ দিতে ইচ্ছুক— জুজের পথ প্রশস্ত হতে পারে আগামী মাসগুলোতে। সংক্ষেপে বিষয় পরিস্থিতি প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩২ জন (১৩ দেশ) প্রধান উদাহরণ Hamza Choudhury, Shamit Shome ট্রায়াল সময় জুন ২০২৫ গতিগতি Hamza–র অভিষেক ও FIFA অনুমোদনের পর BFF–র আরো সক্রিয় পদক্ষেপ লক্ষ্য বিদেশি-প্রমাণ পয়েন্টে প্রয়োগযোগ্য ফুটবলারদের সন্ধান ও সংযোজন বিশ্লেষণ খেলোয়াড় sourced from Europe/N. America–এর সংখ্যা বাড়ছে—এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য স্বপ্নের সম্ভাবনা। Hamza Choudhury–র অভিজ্ঞতা মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। BFF–র লক্ষ্য, এই প্রবাসীদের inclusion–এর মাধ্যমে জাতীয় দলে গুণগত মান ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো—এতে SAFF, AFC, ও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় দলটি শক্তিশালী দাঁড়াতে পারবে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে BFF–কে পারমিট, ক্লাব-নমঞ্জুরি, এবং FIFA–এর clearance ত্বরান্বিত করতে হবে। পাশাপাশি ম্যাচফিটনেস ও জাতীয় আদর্শে খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত করতে হবে। প্রবাসী প্রজন্মের সুশৃঙ্খল তালিকাভুক্তকরণ প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নত করবে। Shamit Shome–এর মতো অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখগুলোর দ্রুত বাংলাদেশ দলে সংযোজন সম্ভাব্য হলে, ভবিষ্যতে প্রবল প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হবে না।
ফেসব্যাক্সট্ম Camp Nou রেনোভেশন প্রকল্প ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয়ে দীর্ঘ বিলম্বের পর, অবশেষে গ্যাম্পার ট্রফির মাধ্যমে ১০ আগস্ট ২০২৫ সালে ‘আংশিক’ কার্যক্রমে ফিরছে বার্সেলোনা। এই সময় পর্যন্ত ক্লাব ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মিল রেখেও রয়েছে ফিনান্সিয়াল ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, যা প্রকল্পকে ধাপে এগিয়ে দিয়েছে। সময়সূচির পরিবর্তন ও প্রগতির সারাংশ বার্সেলোনা থেকে ২০২৩–২০২৬ সময়ের ‘Espai Barça’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে Camp Nou পুনর্নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালের জুনে, যা শুরুতে ডিসেম্বরে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ সরাসরি এবং ২০২৬–এর গ্রীষ্মে সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে reuters.com+15padmagazine.co.uk+15fcbarcelonanoticias.com+15thisismoney.co.uk+3eurofootball.news+3reddit.com+3 । মাঠে বায়ো-হাইব্রিড ঘাস বসানো শুরু হয়েছে এপ্রিল ২০২৫–এ, যা মূল যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে । ১ম ও ২য় স্তরে প্রায় ৩৯,০০০ সিট বসানো সম্পন্ন, ৩য় শ্রেণির ভিত্তিক নির্মাণ চলছে ও VIP রিং‑এর কাঠামো তৈরি দ্রুতগতি পেয়েছে । আর্থিক পুনর্গঠন ও ঋণের অধঃবিন্যাস রেনোভেশনের জন্য €১.৪৫–€১.৫ বিলিয়ন ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে €৪২৪ মিলিয়ন বর্তমানে বন্ড ইস্যু করে, ২০২৮ থেকে ২০৩৩-৫০ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে পরিশোধ পরিকল্পনা করা হয়েছে । এই ধরণের আর্থিক পদক্ষেপ ক্লাবের বার্ষিক রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে স্পন্সরশিপ ও টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে €২০০–€৩৫০ মিলিয়ন সম্ভাব্যভাবে অর্জনের হিসেব আছে । প্রশাসনিক বাধা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া গ্যাম্পার ট্রফির আগে সিটি কাউন্সিল, ফায়ার সার্ভিস, মসোস দ’Esquadra ও UEFA-র সাথে বেশ কিছু পারমিট নিতে হবে as.com । বার্সেলোনা পাত্তা দিচ্ছে নেই, এবং আশা করছে জুলাই মাসে আংশিকভাবে লাইসেন্স পেয়ে যাবে । তবে, VIP সেকশন, পঞ্চম তলা, ছাদ অর্থাৎ “roof” ইনস্টলেশন ২০২৬ গ্রীষ্মে সমাপ্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে । ⚽ গ্যাম্পার ট্রফি ও স্বাগতম চান্স ১০ আগস্ট Trofeu Joan Gamper আংশিকভাবে নতুন Camp Nou-তে আয়োজনের পরিকল্পনা, যেখানে আনুমানিক ৫০,০০০–৬০,০০০ দর্শক অংশ নিতে পারে cincodias.elpais.com+13as.com+13elpais.com+13 । ছাদ ছাড়া, লিফ্ট, গ্যালারি, ভিআইপি এলাকা ও বাথরুমে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে — ক্লাব এটি “ট্রায়াল ফেজ” হিসেবে দেখছে, এবং ভক্তদের ধৈর্য কামনা করেছে । সারসংক্ষেপ উপাদান অবস্থা উল্লেখযোগ্য তারিখ মাঠ ও সিট ঘাস বসানো–সিটিং প্রায় সম্পন্ন এপ্রিল–মে ২০২৫ VIP/তৃতীয় শ্রেণি কাঠামো তৈরি প্রক্রিয়াধীন চলমান ছাদ বিলম্বিত, ২০২৬ গ্রীষ্মে সম্ভাব্য — পারমিট অপেক্ষমাণ, জুলাইয়ে মিলতে পারে — আংশিক খোলা গ্যাম্পার ট্রফি: ১০ আগস্ট ২০২৫ ১০ আগস্ট ২০২৫ পূর্ণ উদ্বোধন ২০২৬ গ্রীষ্মের দিকে — ঋণ পুনর্গঠন €৪২৪ মিলিয়ন বন্ড, ২০৩৩–৫০ পর্যন্ত সময়সীমা জুন ২০২৫ Spotify Camp Nou ইউরোপের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশের পথে; তবে নির্মাণ বিলম্ব এবং পারমিট-সংক্রান্ত বাধাগুলি টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জের শুরু। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন অর্থসঙ্কট সামলে রাখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ক্লাবের এখন মূল অগ্রাধিকার আছে — ১০ আগস্টে আংশিক রিটার্ন দিয়ে ফ্যানদের সাথে পুনঃমিলন ঘটানো। আর এটি যদি সাফল্যের সাথে সফল হয়, তাহলে পরবর্তী বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্যাপাসিটিতে ফিরতে সহজ পথ উন্মোচিত হবে।
ফ্রান্সের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন Olympique Lyonnais (OL) এক বিপদের মুখে পড়েছে — ক্রীড়া না খেলার কারণে নয়, বরং আর্থিক অস্বচ্ছতা ও ঋণ বোঝাইয়ের কারণে তাদের শাস্তি হিসেবে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভভাবে Ligue 1 থেকে Ligue 2-তে নামানো হয়েছে। কী ঘটেছে? LFP-র নিয়ন্ত্রক সংস্থা DNCG ২০২৪ সালের নভেম্বরেই Lyonকে আর্থিক অস্থিতিশীলতার জন্য সতর্ক করেছিল। তারপরও ক্লাব দেড়শো মিলিয়নের বেশি নিশ্চিত তহবিল না জমিয়ে জুনে তাদের নিশ্চিতভাবে অবনমনের নির্দেশ দেন aftonbladet.se+15beinsports.com+15en.wikipedia.org+15reddit.com+1reddit.com+1reddit.com+4indiatoday.in+4indiatoday.in+4। OL-এর মালিক John Textor আর ইকোনমিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে; যদিও মেডিয়া সেলস এবং প্লেয়ার ট্রান্সফার থেকে আয় ছিল, তাও DNCG-কে মিটাতে পারল না । ক্লাব ও মালিক অভিযোগ করছে, “আমরা যথেষ্ট তহবিল জমিয়েছি, এবং ঠান্ডা মাথায় দেখি কিভাবে এটা অলিম্পিক উইথ এফেল্ট করবে”—তাই তারা আপিল জমা দিয়েছে । আর্থিক পটভূমি & ঋণের পরিমাণ DNCG রিপোর্ট অনুযায়ী, OL-এর দেড়শো মিলিয়ন ইউরোর ঋণ আছে। John Textor-এর হোল্ডিং সংস্থা Eagle Football Group-এর দায়ও প্রায় €445–422 মিলিয়ন reddit.com+15ft.com+15indiatoday.in+15। ক্যাপিটাল ইনজেকশনের অধীনে Crystal Palace-এর একটি স্টেক বিক্রি করার পরও Lyon তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি indiatoday.in। ক্লাবের প্রতিক্রিয়া Lyon তাদের অবনমন "বিশ্বাসঘাতক ও অযৌক্তিক" বলেছে এবং দ্রুত apel (appeal) জমা দিয়েছে । প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবের মালিক কিছু কার্যক্রম নিয়েছেন: Crystal Palace থেকে স্টেক বিক্রি, নারী দলের বিক্রি, প্লেয়ার বিক্রয়াদি — যাতে নগদ প্রবাহ বাড়ানো যায় । ক্রীড়া প্রভাব যদিও Lyon লিগে ছয় নম্বরে শেষ করেছে এবং ইউরোপে জায়গা পেয়েছিল, প্রশাসনিক অবনমন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় বাধা হিসেবে দাঁড়াতে পারে indiatoday.in+13theplayoffs.news+13talksport.com+13। UEFA মাল্টি‑ক্লাব হয়রানির কারণে Lyon-এ Europa League-র কোটা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে; কৃষকভাবে তারা ডিসকোয়ালিফাইড হলে অন্য ক্লাব যেমন Strasbourg বা Crystal Palace প্রভাবিত হতে পারে । কি হতে পারে পরবর্তী ধাপ? DNCG‑তে আপিল: Lyon-এর আপিল সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে thekenyatimes.com+10as.com+10beinsports.com+10। অর্থ সংকটের পুনর্মূল্যায়ন: ক্লাবকে সম্ভবত নতুন গ্যারান্টি দেখাতে হবে। যদি পুনরায় ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের স্থান ধরে নিতে পারে Stade Reims । ইউরোপ ব্যবস্থা: Lyon নিশ্চিত করতে চাইবে Europa League-এ খেলতে পারে কি না—UEFA-মাল্টি ownership বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সারসংক্ষেপ বিষয় বিবরণ স্থিতি DNCG-র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: Ligue 2-এ অবনমন ঋণের পরিমাণ প্রায় €422–445 মিলিয়ন যোগ্যতা Ligue 1-এ 6ম স্থান; ইউরোপে Europa League-এ জায়গা দেওয়া হয়েছিল ক্লাব প্রতিক্রিয়া “অযৌক্তিক” বলছে, আপিলে যাচ্ছে + ফান্ড সংগ্রহে কিছু সিদ্ধান্ত নেয় তারা ইউরোপীয় প্রভাব মাল্টি-ক্লাব ownership বিষয় নিয়ে UEFA সিদ্ধান্ত অপেক্ষায় Olympique Lyonnais-বিশ্বের এক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব, তবে তাদের আর্থিক নীতির ভঙ্গ হয়েছিল বেশ কয়েকবার। উপরে উল্লেখিত সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও আপিল ব্যবস্থা তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে — কিন্তু তা না হলে দ্বিতীয় বিভাগে নামা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। ক্লাব ও সমর্থকদের নজর এখন শুধু খেলোয়াড়ি প্রতিযোগিতা নয়, বরং অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রক মান বজায় রাখা—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে থাকবে।
ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে চলা ডোপিং-বানের পর ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং চূড়ান্তভাবে তিনি যুক্ত হতে চলেছেন ফরাসি ক্লাব AS মোনাকো'-তে। ⏯️ ফেরার সময়রেখা জুলাই ২০২২-এ জুভেন্টাসে ফিরে দুর্দান্ত শুরুর পরই ২০২৩ সালের আগস্টে ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ আসে, যা ৪ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় ইটালিয়ান অ্যান্টিডোপিং ট্রাইব্যুনাল thesun.co.uk+15en.wikipedia.org+15footballtransfers.com+15। কিন্তু তারা সেই শাস্তি ১৮ মাসে কমিয়ে দেয়, যার ফলে মার্চ ২০২৫ থেকে পগবা আবার মাঠে নামতে পারবেন । আর এখন, জুন ২০২৫-এ জানা যাচ্ছে, তিনি মোনাকো-র সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করতে চলেছেন, যা আগামী জুন ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে । 📝 চুক্তির বিবরণ গণমাধ্যম “লা প্যারিসিয়েন” এবং BBC জানিয়েছে পগবা মোনাকোর সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিতে মৌখিকভাবে একমত হয়েছেন । Guardian আরও পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছে: ২০২৩ সালের শেষ থেকে প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকলেও, তিনি অবশেষে মোনাকোতে ফিরছেন, যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ অনুরূপ জায়গা নিশ্চিত রয়েছে । পরবর্তী সপ্তাহে তাকে মেডিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কার প যন । 🎯 মোনাকোর পরিকল্পনা মোনাকো ২০২৪–২৫ মৌসুমে ফ্রেঞ্চ লিগে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরছে — সেখানে পগবার অভিজ্ঞতা তাঁদের মসৃণ অন্তর্ভুক্তি ও তরুণদের জন্য নেতৃত্বের প্রাধান্য জোগাবে । The Guardian লিখেছে, 'তাঁর যোগদানে মোনাকোর মিডফিল্ডে দৃঢ়তা বাড়তে পারে' । €৬–৭ মিলিয়ন পরিসরে বার্ষিক বেতন পার হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে, যা ফ্রি ট্রান্সফার হলেও প্রতিযোগিতামূলক এক ডিল । 🔄 অন্য ক্লাবের আগ্রহ পগবা ছিলেন মার্সেইয়েল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়েল মাদ্রিদ, গোল্ডন বিৎস্য চাইকার সঙ্গে সুসংলগ্ন । তবে সে-সব আগ্রহ এখন মিথ্যা বা অনিশ্চিত — তবে জুভেন্টাস ছাড়ার পর তিনি এলএফসি, মাইয়ামি ও স울 লিগের দিকে তাকিয়েছিলেন । অবশেষে, ইউরোপে থেকে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন মোনাকোই তাঁর প্রথম পছন্দ । 🌍 জাতীয় দলের আশাবাদের সাথে সম্পর্ক পগবা তার ৯১টি জাতীয় দলের ক্যাপ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য । তিনি চান আগামী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য ফ্রান্স দলে জায়গা করতে পারেন, কিন্তু ফর্ম আর ম্যাচ ফুটবল পাওয়া জরুরি । Didier Deschamps খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর মান পুনঃস্থাপনের সুযোগে আশাবাদী, যদিও ফর্মই শেষ বিচারক । ✅ সারসংক্ষেপ বিষয় অবস্থা নিষেধাজ্ঞা সমাপ্তি মার্চ ২০২৫ চুক্তি ক্লাব AS মোনাকো (২০২৫–২০২৭) চুক্তির ধরণ দুই বছর, ফ্রি ট্রান্সফার প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, Ligue 1 অন্যান্য ক্লাব আগ্রহ ছিল মার্সেইয়েল, ম্যান ইউ, রিয়েল মাদ্রিদ; MLS/সৌদি আগ্রহী ছিল জাতীয় দলের স্বপ্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ-এ ফেরা পগবার এই মোনাকো-ফেরা প্রমাণ করে, তিনি এখনো বড় মঞ্চে খেলার ক্ষমতা নিয়ে দৃঢ় মনোভাবী। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং প্রিমিয়ারের চাইতে একটি সম্ভাবনাময় পরিবেশ চেয়েছেন। ফ্রান্স জাতীয় দলে ফেরার জন্য মাঝপথে পা ফেলতে চান। তবে, ১৮ মাসের পার্থিব জার্নি এবং শরীরচর্চার খোলিকতা এখনো সমঝোতা প্রয়োজন — সেটাই আসল পরীক্ষা।
আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় রয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। তাদের এই অগ্রগতি সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, হুথি মূলত কারা? তারা ঠিক কতটা শক্তিশালী? আসুন, এই প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজা যাক... ইতিহাস ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানী সানা দখলের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে হুথি সৈন্যরা/ ছবি: এএফপি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা একসময় মূলত স্থানীয় গেরিলা বাহিনী হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ, ইরানের সহায়তা এবং নিজেদের অস্ত্র উৎপাদন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার কারণে তারা এখন এমন এক সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌ-অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। সর্বশেষ লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অগ্রগতি এবং কৌশলগত মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সামনের সারিতে সংঘাত তুলনামূলকভাবে স্থবির থাকলেও ২০২৬ সালে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক যুদ্ধ নতুন করে ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এখন লোহিত সাগরের দিকে হুথিদের অগ্রগতি তাদের শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ শক্তি হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম আঞ্চলিক সামরিক শক্তি হিসেবে সামনে এনেছে। ক্ষেপণাস্ত্রই প্রধান শক্তি হুথিদের সামরিক শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলোর একটি হলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার। তাদের হাতে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণেও হুথিদের ব্যবহৃত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে ইয়েমেন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হুথিদের ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সুযোগ দিয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতীতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। রিয়াদের মতো দূরবর্তী লক্ষ্যেও হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছিল গোষ্ঠীটি। তবে হুথিদের হাতে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে নেই। বিভিন্ন মডেল ও উৎসের অস্ত্র তাদের ভাণ্ডারে থাকায় সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- তারা এসব অস্ত্র নিয়মিতভাবে ব্যবহার এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সংযোজন বা উৎপাদন করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। ড্রোনে বড় পরিবর্তন হুথিদের সামরিক শক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ড্রোন। একসময় অপেক্ষাকৃত সীমিত সক্ষমতার এই অস্ত্র এখন তাদের যুদ্ধকৌশলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তাদের হাতে স্বল্পপাল্লার ড্রোন থেকে শুরু করে দীর্ঘপাল্লার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন বা ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ইউএভি’ রয়েছে। কাসেফ ও সাম্মাদ পরিবারের ড্রোনসহ ইরানি নকশার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবস্থা হুথিরা ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের ভেতরে তুলনামূলক সহজ প্রযুক্তির ড্রোন তৈরি বা সংযোজনের সক্ষমতাও গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ড্রোনের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখানেই হুথিদের শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। অত্যাধুনিক একটি অস্ত্র পুরোপুরি তৈরি করার সক্ষমতা না থাকলেও তারা বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি ও নকশা ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্র তৈরি বা সংযোজন করতে পারে। ফলে একটি নির্দিষ্ট কারখানা বা সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে তাদের পুরো ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা কঠিন। সমুদ্রেও ভয়ংকর সক্ষমতা হুথিদের সামরিক শক্তিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে তাদের নৌ-আক্রমণ সক্ষমতা। জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোনবোট ও অন্যান্য নৌ-অস্ত্র ব্যবহার করে তারা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। ২০২৩ সালের শেষদিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলার ধারাবাহিকতায় হুথিরা প্রমাণ করেছে যে তাদের সক্ষমতা শুধু স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। তারা বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে এবং একটি ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার থেকে যোদ্ধারা জাহাজে নেমে সেটি দখলও করেছিল। ২০২৬ সালে পেরিম দ্বীপের মতো কৌশলগত অবস্থান তাদের হাতে আসায় এই সক্ষমতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পেরিম দ্বীপ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছেই অবস্থিত। ফলে হুথিরা সেখানে অবস্থান শক্ত করতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি থেকে তুলনামূলক কম দূরত্বে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও নৌ-অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে। ইরানের ভূমিকা কতটা? হুথিদের সামরিক শক্তি গড়ে ওঠার পেছনে ইরানের ভূমিকা নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা রয়েছে। ইরান সরাসরি হুথিদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিভিন্ন সূত্র ও গবেষণায় অস্ত্র, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও সামরিক পরামর্শের সহায়তার কথা উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক হুথি অভিযানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং উন্নত অস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহের ভূমিকার কথা আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে হুথিদের পুরো সামরিক সক্ষমতাকে শুধু ইরানের অস্ত্র সরবরাহ দিয়ে ব্যাখ্যা করাও ঠিক হবে না। এক দশকের যুদ্ধ তাদের নিজস্ব যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, অস্ত্র পরিবর্তন, স্থানীয় উৎপাদন এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরিচালনার দক্ষতা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের ড্রোন সক্ষমতায় ইরানি প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের নিজস্ব অপারেশনাল অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অস্ত্র নয়, যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও শক্তি হুথিদের বড় সুবিধা তাদের দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে লড়াই তাদেরকে আকাশ হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর কৌশল শিখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পরও তাদের অস্ত্র তৈরির ও হামলা চালানোর সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, হুথিরা বিভিন্ন ধরনের ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অ্যান্টি-শিপ অস্ত্র ধরে রেখেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সক্ষমতাও তৈরি করছে। এ কারণেই হুথিদের ক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে সামরিক শক্তি বিচার করা কঠিন। একটি বড় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মতো তাদের বিমানবাহিনী বা অত্যাধুনিক নৌবহর নেই। কিন্তু তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক নৌযান ব্যবহার করে তারা অত্যন্ত ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজ, তেল স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে বড় শক্তি- ভৌগোলিক অবস্থান হুথিদের সামরিক সক্ষমতার সবচেয়ে বড় গুণ সম্ভবত তাদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডের অবস্থান। বাব আল-মান্দাব হলো লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল। এই পথ দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে হুথিরা এই অঞ্চলে চাপ সৃষ্টি করতে পারলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণও এখানেই। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের কাছে ইরানের মতো বিপুল সামরিক অবকাঠামো নেই এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যে ধরনের দীর্ঘদিনের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, তার সমতুল্য শক্তিও তাদের নেই। কিন্তু লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের কাছে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তাহলে হুথিরা কতটা শক্তিশালী? সব মিলিয়ে হুথিদেরকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। তাদের কাছে আধুনিক যুদ্ধবিমান, বড় নৌবহর বা ব্যাপক সাঁজোয়া বাহিনী নেই। কিন্তু ক্ষুদ্র ও তুলনামূলক কম খরচের অস্ত্র দিয়ে বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব সৃষ্টি করার সক্ষমতা তাদের সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, দীর্ঘপাল্লার ড্রোন, অ্যান্টি-শিপ অস্ত্র, বিস্ফোরক নৌযান, স্থানীয় অস্ত্র সংযোজনের সক্ষমতা এবং দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা- সব মিলিয়ে হুথিরা মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র শক্তিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। আর এখন পেরিম দ্বীপ ও মোখার মতো কৌশলগত অবস্থানে তাদের অগ্রগতি এই শক্তিকে আরও বড় আঞ্চলিক প্রভাবের সুযোগ করে দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য ন্যাশনাল, আল-জাজিরা এসএএইচ
পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সে দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় বাণিজ্য মেলা হবে। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য দিয়ে পাকিস্তানে অনুরূপ বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে তার দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান। আরও পড়ুন দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির এ বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে হাইকমিশনার পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেএইচ/একিউএফ
এবার রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিকূলতা, পদ্ধতিগত দমনপীড়ন আর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর তীব্র তাণ্ডব ও রাষ্ট্রীয় দ্বিচারিতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারতের মাটিতে এক নীরব, অলৌকিক বিপ্লব ঘটে চলেছে। সত্যের আলো নেভানোর যত চেষ্টাই হচ্ছে, মানুষের হৃদয়ে সেই আলোর তীব্রতা যেন তত বেশি প্রস্ফুটিত হচ্ছে। সব ভয়ভীতি আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে পায়ে ঠেলে, কেবল আত্মিক শান্তি আর পরম সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন বহু মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। এই যেন এক অবিনশ্বর সত্যের জয়গান—যেখানে শত জুলুম আর অপপ্রচারের অন্ধকারকে চিরে ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্য মানুষের অন্তরকে জয় করে চলেছে, এবং সমস্ত বাধা পেরিয়ে কেরালাসহ পুরো ভারতে ইসলামের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে স্বমহিমায়। ভারতের কেরালার সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে রাজ্যের ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এক চমকপ্রদ ও ভিন্নমুখী চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার যেমন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, ঠিক তেমনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিগত কয়েক বছরের সরকারি গেজেট ডেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কেরালা সরকারের অফিসিয়াল গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারীদের সংখ্যার চেয়ে নতুন করে এই বিশ্বাসের ছায়াতলে আসা মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেশি। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবধান আরও প্রকট ও শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে। ২০২০ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে বছর কেরালায় মাত্র ৪০ জন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু এর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মীয় আদর্শ থেকে ১৪৪ জন নতুন বিশ্বাসী ইসলাম গ্রহণ করেন—যা ত্যাগের তুলনায় গ্রহণের হার প্রায় সাড়ে তিন গুণেরও (৩.৬ গুণ) বেশি ছিল। এই নবাগতদের সিংহভাগই (৭৭%) এসেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায় থেকে, যার মধ্যে একটি বড় অংশ (৬৩%) ছিলেন নারী। বিশেষ করে ইঝাভা, থিয়্যা এবং নায়ারের মতো প্রতিষ্ঠিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরাই বেশি সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। চার বছরের ব্যবধানে, ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গেজেট ডেটাতে এই প্রবণতা আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। ২০২৪ সালে কেরালায় মোট ৫৭ জন ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করলেও (৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্ট ধর্মে), তার বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৩৪৩ জন মানুষ (২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান) নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বছর কেরালায় ইসলাম ত্যাগের তুলনায় ইসলাম গ্রহণের অনুপাতিক হার প্রায় ৬ গুণ (৬.০১ গুণ) বেশি। নেট বা নিট পরিবর্তনের এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, কেরালায় ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ও স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। ইসলামের এই রকেটের গতিতে বৃদ্ধির বিপরীতে হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটি বেশ উদ্বেগজনক। ডেটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেরালায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণের চেয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগের (অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার) হার ও সংখ্যা দিন দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০ সালের তথ্যে দেখা যায়, কেরালায় ২৪১ জন ব্যক্তি অন্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তবে এই ধর্মান্তরের ভেতরের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি পরিসংখ্যান মতে, হিন্দু ধর্মে আসা এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২% মানুষই ছিলেন মূলত দলিত খ্রিষ্টান (যেমন—খ্রিষ্টান চেরামার, খ্রিষ্টান সাম্বাভা এবং খ্রিষ্টান পুলায়া)। তারা মূলত খ্রিষ্টান ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে দলিতদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কোটা বা রিজার্ভেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ফলে কেবল সেই আইনি ও অর্থনৈতিক সুবিধা ফিরে পেতেই তারা কাগজে–কলমে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে বাধ্য হন। অর্থাৎ, এটি কোনো আত্মিক আকর্ষণে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সুযোগ–সুবিধা পাওয়ার একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ছিল মাত্র। অন্যদিকে, সে বছর ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছিলেন মাত্র ৩২ জন। কিন্তু ২০২৪ সালের কেরালা স্টেট গেজেটের ডেটায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগের এক অভাবনীয় ও ব্যাপক চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে হিন্দু ধর্মে আসার চেয়ে তা ছেড়ে যাওয়ার হার অনেক বেশি। ২০২৪ সালে অন্য ধর্ম (ইসলাম ও খ্রিষ্টান) থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছেন সর্বমোট ৩৬৫ জন (যার মধ্যে খ্রিষ্টান থেকে ৩২৯ জন এবং ইসলাম থেকে মাত্র ৩৬ জন)। এর বিপরীতে, ২০২৪ সালে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে গেছেন রেকর্ড সংখ্যক ৫১০ জন মানুষ! এর মধ্যে সরাসরি ইসলাম গ্রহণ করেছেন ২৭৬ জন এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন ২৩৪ জন। অর্থাৎ, চার বছরের ব্যবধানে ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল (২০২০ সালে ৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ৩৬ জন) থাকলেও, হিন্দু ধর্ম থেকে সরাসরি ইসলাম গ্রহণের হার দ্বিগুণেরও বেশি (২০২০ সালে ১১১ জন থেকে ২০২৪ সালে ২৭৬ জন) বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিক সরকারি গেজেট ও পরিসংখ্যানের এই তুলনামূলক চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করে যে, কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার প্রবণতা শুধু বজায়–ই নেই, বরং তা নাটকীয় গতিতে বাড়ছে। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মে ফেরার বিষয়টি অনেকাংশে সরকারি সুযোগ–সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থার আইনি মারপ্যাঁচের সাথে যুক্ত হলেও, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মে চলে যাওয়ার হার সমাজ ও জনমিতির জন্য একটি শক্তিশালী ও বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস/নিউজলন্ড্রি
এবার পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় নিহত সেনাসদস্যদের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগেই ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেও বলেছে দলটি। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ হতাহতের তথ্য নিয়ে দেশটির সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। মোদি সরকারের দাবি, একবছর আগের ওই সংঘাতে ভারতের ছয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঁচজন এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর একজন সদস্য রয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের সেনাসদস্যবিষয়ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার অনূমা আচার্য অভিযোগ করেন, নিহত ছয় সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য গোপন করে সরকার তাদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করেছে। উইং কমান্ডার অনূমা আচার্য দাবি করেন, আগের সরকারগুলো দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রতিটি সেনাসদস্যকে প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, ‘মোদি সরকার সেনাবাহিনী ও সেনাসদস্যদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তারা বারবার দেশ ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’ কর্নেল রোহিত চৌধুরী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভোটের সময় সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে বলেছিলেন, কোনও সেনাসদস্য নিহত হননি। তখন বিজেপির সংসদ সদস্যরা হাততালি দিয়েছিলেন। রাজনাথ সিং দেশের সেনাবাহিনী ও সেনাসদস্যদের অপমান করেছেন। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।’ একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিহত সেনাসদস্যদের নাম প্রকাশ করতে সরকারের ১৩ মাস সময় লাগল কেন। কংগ্রেসের দাবি তুলে ধরে কর্নেল রোহিত চৌধুরী বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে বিশেষ অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ (ব্রিচ অব প্রিভিলেজ) আনার জন্য দলীয় নেতৃত্বকে অনুরোধ জানানো হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাত চলাকালে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত ছয় সেনাসদস্যের নাম এক বছরেরও বেশি সময় পর সম্প্রতি প্রকাশ করে ভারত। এর আগে ওই সংঘাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হতাহতের খবর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলেও, অপারেশন সিঁদুরে নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ভারত সরকার।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পারমাণবিক ও শান্তি চুক্তি রোববার সই হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই চুক্তিকে মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের দলিল বলে সমালোচনা করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতারা। তারা ট্রাম্পের প্রত্যাশিত ইরান শান্তিচুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এই চুক্তি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ এক্সে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট বলেছেন যুদ্ধ শেষ। আমি আশা করি তিনি সঠিক। কিন্তু আমরা এর আগেও অনেক ভঙ্গ হওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এমন কথা শুনেছি।’ তিনি বলেন, ‘তিনি নতুন নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন, কিন্তু ব্যয় কমাতে পারেননি। আর এর ফলে আমেরিকার জনগণ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান সেথ মোল্টন সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ‘মূলত একটি আত্মসমর্পণের দলিল’ বলে অভিহিত করেছেন। এমএস নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোল্টন বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ চুক্তি! এটি মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের দলিল। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে করদাতাদের ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, ১৪ জন আমেরিকান নিহত হয়েছেন, আর আমরা এমন একটি চুক্তি পাচ্ছি, যা শুধু সেই প্রণালীটি আবার খুলে দিচ্ছে, যা ট্রাম্প এই অহেতুক যুদ্ধ শুরু করার আগেই খোলা ছিল। এতে জয়ের কী আছে?’
এবার আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। ইসরাইলের সঙ্গে আবু ধাবির ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সংযম দেখালেও তাদের এই ধৈর্যের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ইরানের আধা–সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন দেশটির প্রভাবশালী নীতি–নির্ধারক ও ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর বর্তমান সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসির) সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, তেহরান এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বন্ধুত্বের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। তবে আমিরাতের মনে রাখা উচিত, ইরানের ধৈর্যের দেয়াল ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। মোহসেন রেজায়ি সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে নানা ধরনের যোগাযোগ এবং লেনদেন চলছে। তবে আমিরাতের প্রতি আমাদের পরামর্শ থাকবে—তারা যেন কোনোভাবেই ইসরাইলের কোনো ফাঁদ বা ষড়যন্ত্রের অংশ না হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত এবং ভূ–রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব বৃদ্ধির ব্যাপারে তেহরান যে কোনোভাবেই আপস করবে না, এই বার্তার মাধ্যমে আমিরাতকে সেটিই স্মরণ করিয়ে দিল ইরান। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
<p>মানুষের কেনাকাটার বিল সহজে পরিশোধের জন্য চালু হওয়া ‘বাংলা কিউআর’ কোড এখন নগদ টাকা উত্তোলনের সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। পণ্য বা সেবা বিক্রি না করেই কিউআর কোডের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দিচ্ছেন অনেক পণ্য বা সেবা বিক্রেতা (মার্চেন্ট)। এতে একদিকে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা এমএফএসের দীর্ঘদিনের চেষ্টায় গড়ে তোলা লেনদেন ইকোসিস্টেম বা এজেন্ট ব্যবস্থা। দেশে সব মিলিয়ে এমএফএসের ২০ লাখ এজেন্ট রয়েছে। এজেন্টদের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন কিউআর কোড ব্যবস্থা চালুর পর মার্চেন্ট অবৈধ ক্যাশ আউট সেবার কারণে এসব এজেন্টের ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে।</p><p> সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতে চালু হওয়া সর্বজনীন বাংলা কিউআর কোড ব্যবস্থার অপব্যবহার শুরু হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলেন, এমএফএস ইকোসিস্টেমে এজেন্ট থেকে নগদ টাকা তুলতে বা ক্যাশ আউট করতে গ্রাহককে নির্দিষ্ট হারে মাশুল বা ফি দিতে হয়। এমএফএস–ভেদে এই মাশুল হাজারে সর্বনিম্ন ১২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। তাতে কোনো গ্রাহক যদি এমএফএসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ সীমা অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা নগদে উত্তোলন করেন বা ক্যাশ আউট করেন, তাঁকে সর্বনিম্ন ৩৮৭ টাকা মাশুল বা ফি দিতে হয়। কিন্তু অনেক গ্রাহক এখন পণ্য বা সেবা বিক্রেতা বিভিন্ন মার্চেন্ট থেকে এই অর্থ নগদে উত্তোলন করছেন কোনো ধরনের ফি বা মাশুল ছাড়া। যেমন একজন দোকানদারের কাছ থেকে কোনো পণ্য বা সেবা না কিনে একজন গ্রাহক কিউআর কোডে ৩০ হাজার টাকা স্থানান্তর করে তা ওই দোকানদারের কাছ থেকে নগদে গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বিনিময়ে নির্দিষ্ট কোনো ফি না দিয়ে দোকানদারের চাহিদা অনুযায়ী নামমাত্র কিছু অর্থ দিয়েই এই সুবিধা পাচ্ছেন। তাতে একদিকে নগদ অর্থ উত্তোলনকারী গ্রাহকের ফি বাবদ খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। আর দোকানদার কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি না করে গ্রাহকের কাছ থেকে কিছু অর্থ পাচ্ছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার বাইরে গ্রাহক বড় অঙ্কের অর্থ ক্যাশ আউটের সুযোগ পাচ্ছেন।</p><p>এ কারণে নগদ অর্থ উত্তোলনে বাংলা কিউআর কোডের এই অপব্যবহার বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বলছে, বাংলা কিউআর কোডের অপব্যবহারের কারণে শুধু এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর ইকোসিস্টেমই নষ্ট হচ্ছে তা নয়, বরং এই অপব্যবহারের কারণে অর্থ পাচারের মতো নানা ঘটনার সুযোগও তৈরি হয়েছে। কেননা, এমএফএসের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা বিধিনিষেধ ও লেনদেনের সীমা আরোপিত রয়েছে। কিন্তু বাংলা কিউআর কোডে লেনদেনে সেই ধরনের বিধিনিষেধ বা সীমা নেই। ফলে বিভিন্ন মার্চেন্ট থেকে গ্রাহকেরা ইচ্ছামতো অবৈধভাবে নগদে টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত জুলাইয়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে দেশের সব ব্যাংক ও এমএফএস বাধ্য হয়ে নিজস্ব কোডের পরিবর্তে পণ্য ও সেবা বিক্রেতাদের (মার্চেন্ট) কাছে বাংলা কিউআর কোড স্থাপন করছে। এই মার্চেন্টদের এক ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান ৪-৫টি পর্যন্ত বাংলা কিউআর কোড দিয়েছে। এতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মার্চেন্টরা নগদ অর্থ উত্তোলনের বিকল্প ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। গ্রামগঞ্জের দোকানদার থেকে শুরু করে বড় বড় সেবা ও পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এই মার্চেন্টের তালিকায় রয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক মার্চেন্টের প্রভাবে ভেঙে পড়েছে এমএফএসে এজেন্ট ইকোসিস্টেম।</p><h3>কেন ও কীভাবে তৈরি এই সমস্যা </h3><p>বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণে বিক্রেতাদের খরচ শূন্য করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ ও নগদে তা গ্রাহককে ফেরত দিতে কোনো মাশুল দিতে হবে না মার্চেন্টদের। তার বিপরীতে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো এমএফএসের এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউটে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি দিতে হবে। এই ফি বাবদ এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো যে অর্থ পায় তার মধ্যে প্রতি হাজারের জন্য সরকারকে রাজস্ব দেয় ৩ টাকার বেশি। কিন্তু মার্চেন্টদের মাধ্যমে অর্থ তুললে কোনো খরচ নেই। আবার সরকারকে কোনো রাজস্ব দিতে হবে না মার্চেন্টদের। ফলে এই কিউআর কোড ব্যবহার করে মার্চেন্টদের কাছ থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন গ্রাহক ও মার্চেন্ট উভয়ের জন্য লাভজনক। সরকার ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের জন্য তা বড় ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।</p><p>এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর সম্প্রতি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির জন্য লেনদেনে বড় ছাড় দিয়েছে। সেই অনুযায়ী বছরে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে কোনো টার্নওভার বা লেনদেন কর দিতে হবে না। এই সুবিধার কারণে কিউআর কোডে অর্থ স্থানান্তর করে নগদে তা গ্রাহককে পরিশোধে করের কোনো ঝামেলায়ও পড়তে হবে না মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।</p><aside><cite>কে এ এস মুরশিদ, সাবেক মহাপরিচালক, বিআইডিএস</cite>তড়িঘড়ি করে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক ও মাশুল প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে মার্চেন্টরা পণ্য বা সেবা বিক্রির পরিবর্তে অর্থ উত্তোলন ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে।</aside><p>জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদের সাবেক চেয়ারম্যান কে এ এস মুরশিদ প্রথম আলোকে বলেন,‘বাংলাদেশের মতো নগদ টাকা নির্ভর অর্থনীতির দেশে রাতারাতি ক্যাশলেস করা সম্ভব না। ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলা কিউআর চালুর পর পূর্ণাঙ্গভাবে তা শুরু করা দরকার ছিল। সেটা না করে তড়িঘড়ি করে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক ও মাশুল প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে মার্চেন্টরা পণ্য বা সেবা বিক্রির পরিবর্তে অর্থ উত্তোলন ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং অবৈধ অর্থের লেনদেনের সুযোগ বেড়ে যাবে।’</p><p>এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষের জীবন সহজ করতে ও নগদ টাকার লেনদেন কমাতে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। তবে এই সুবিধার কোনো অপব্যবহার হলে আইনের আওতায় শাস্তির সুযোগ আছে।’</p><h3>যা হচ্ছে বাংলা কিউআরে </h3><p>বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পর গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩৫ লাখ মার্চেন্ট কিউআর কোড স্থাপন করেছে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৩৭ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে কিউআর কোডে। এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, মার্চেন্টদের মাধ্যমে কম খরচে নগদ টাকা উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এখন অনেকে সেই পথ বেছে নিয়েছে। এ কারণে দ্রুত কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন বাড়ছে।</p><p>সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান কিউআর কোডে কয়েকজন গ্রাহকের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। পরে বিষয়টি যাচাই–বাছাই করতে গিয়ে এসব গ্রাহকের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পায় প্রতিষ্ঠানগুলো। যেমন নেত্রকোনার ৩০ বছর বয়সী জাকিয়া আফরিন নামের বিকাশের এক গ্রাহক গত ১৪ থেকে ১৮ আগস্ট দুটি ব্যাংকের কিউআর কোড ব্যবহার করে ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯০ টাকা লেনদেন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি মোবাইল ফোনের দোকানে এই লেনদেন হয়। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোহাগ মিয়া নামে এমএফএসের এক গ্রাহক গত ১৬ ও ১৭ আগস্ট দুই দিনে জেলার কয়েকটি দোকানে বাংলা কিউআর কোডে ৪০ লাখ টাকার লেনদেন করেন। এ রকম আরও বেশ কিছু গ্রাহকের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো।</p><p>সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেসব গ্রাহকের নামে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসব লেনদেন করা হয়েছে সেসব গ্রাহকের বেশির ভাগ হিসাব অন্য কারো নামে নিবন্ধিত। মূলত প্রবাসী আয়ের অর্থ, ব্যাংক থেকে জমা হওয়া টাকা মার্চেন্টদের মাধ্যমে নগদে উত্তোলন করা হয়েছে। এসব অর্থের প্রেরক ও গতিপথও অজানা।</p><p>এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি তাঁরা অবগত হয়েছেন। এটা প্রতিরোধে মার্চেন্টভিত্তিক লেনদেনের সীমা বেঁধে দেওয়া যায় কি না, তা যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।</p><p>ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভরতায় এগিয়ে থাকা ব্যাংকগুলোর একটি পূবালী ব্যাংক। দেশজুড়ে ব্যাংকটি প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বাংলা কিউআর কোড স্থাপন করেছে। বাংলা কিউআরের অপব্যবহারের বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মার্চেন্টের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলন সেবা বন্ধ করতে হবে। কারণ, এতে কে টাকা পাঠাচ্ছে ও কে উত্তোলন করছে, তার হদিস পাওয়া যায় না। এই সুবিধা বন্ধ না হলে হুন্ডির প্রবণতা বেড়ে যাবে।’</p><h3>কার খরচ কে দিচ্ছে </h3><p>দেশের শীর্ষ দুই এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও নগদের একাধিক কর্মকর্তা জানান, একজন গ্রাহক যখন এমএফএস হিসাবে নগদ টাকা জমা করে ডিজিটাল টাকায় রূপান্তর করেন তার পেছনে এমএফএসগুলোর অর্থ খরচ হয়। কিন্তু এমএফএস অ্যাপ থেকে ব্যাংকের কিউআরে লেনদেনে এমএফএসগুলোর কোনো মুনাফা থাকে না। উল্টো ভর্তুকি দিতে হয়।</p><p>ধরা যাক, একজন গ্রাহক এজেন্টের মাধ্যম এমএফএস হিসাবে ১ হাজার টাকা জমা করলেন। যে এজেন্ট টাকা জমা নিলেন তাঁকে ও তাঁর পরিবেশক এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরকে কমিশন বাবদ ন্যূনতম ৬ টাকা ৪০ পয়সা দেন এমএফএসগুলো। কিন্তু বাংলা কিউআরে একজন গ্রাহক যখন অন্য ব্যাংকের কিউআরের মাধ্যমে মার্চেন্টে লেনদেন করেন তখন ১ শতাংশ রেটে এমডিআর (মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট) কাটে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা মার্চেন্টরা। তাতে এক হাজার টাকা লেনদেনে মার্চেন্ট ১০ টাকা কেটে রাখেন। এই ১০ টাকা পান কিউআর কোড স্থাপন করা ব্যাংক বা এমএফএস। যে প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেন করা হলো, ওই প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট বাদ দিয়ে কিউআর স্থাপন করা ব্যাংক ৬ টাকা ১০ পয়সা আইআরএফ (ইন্টারচেঞ্জ রেইমবার্সমেন্ট ফি) প্রদান করে। ফলে প্রতি ১ হাজার টাকা লেনদেনে গ্রাহকের কোনো খরচ নেই, মার্চেন্টের খরচ ১০ টাকা। যার মধ্যে সরকার ভ্যাট ও এআইটি বাবদ পায় ২ টাকা ৯১ পয়সা। এজেন্ট, পরিবেশক এবং মোবাইল অপারেটর পায় ৬ টাকা ৪০ পয়সা। ব্যাংকের খরচ বাদে আয় হয় ১৭ পয়সা। আর এমএফএসের লোকসান হয় কমপক্ষে ৩০ পয়সা।</p><p>এখন অনেক ব্যাংক প্রচারণা ও জনপ্রিয় করার অংশ হিসেবে মার্চেন্ট থেকে কোনো মাশুল নিচ্ছে না। ফলে কিউআরের অপব্যবহার আরও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে আইআরএফ ও এমডিআর শূন্য হয়ে যাবে। তাতে বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্ট থেকে গ্রাহকের নগদে অর্থ গ্রহণের প্রবণতা আরও বাড়বে।</p><p>খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মডেল হলো, ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের খরচ মার্চেন্টরাই বহন করে এবং মুনাফা থেকে এই খরচের সংস্থান করে। কিন্তু সেটি না হওয়ায় এখন মার্চেন্টরা হয়ে উঠেছেন এমএফএসের এজেন্টদের বিকল্প। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোও চাপে পড়েছে। ক্যাশ আউট কমে যাওয়ায় অনেক এমএফএস এজেন্ট ব্যবসায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।</p><p>এ বিষয়ে নগদের সাবেক চেয়ারম্যান কে এ এস মুরশিদ বলেন, ‘ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে বিশ্বজুড়ে যেসব স্বীকৃত মডেল আছে, তা হুবহু অনুসরণ না করে বাংলাদেশ উপযোগী মডেল তৈরি করতে হবে। কারণ, যে মডেল দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠিত এমএফএস কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’</p>
<p>মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের ছোট একটি গ্রাম বড়বাড়ি। মেঠো পথ ভেঙে গ্রামে যেতে আমন ধানের সবুজ খেত আর শরতের আকাশ যেন স্বাগত জানায়। রোদ আর মেঘের লুকোচুরি খেলা চলে সারা পথজুড়ে।</p><p> গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের আমতলা থেকে শ্যামরারবাজারের দিকে যেতে চোখে পড়ে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আমন ধানের সবুজ খেত রোদে ঝলমল করছে। কোথাও মেঘের ছায়া এসে পড়ছে খেতে, আবার কিছুক্ষণ পরই রোদে চকচক করছে সবুজে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-13/df44jwca/MOULAVIBAZARVillage-2.JPG"><figcaption>এক খেত থেকে অন্য খেতে উড়ে চলেছে বকের ঝাঁক। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বড়বাড়ি মাঠে</figcaption></figure><p>শ্যামরারবাজার পেরিয়ে সিংকাপন গ্রাম হয়ে বড়বাড়ির দিকে যেতে যেতে দেখা যায় গ্রামের আরেক রূপ। পাকা সড়কের দুই পাশে বাড়িঘর, ধানখেত, সবজির খেত, দু–একটি পুকুর, পাড়ে সুপারিগাছ। কোনো বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে মাধবীলতা, কোথাও ফুটে আছে টকটকে জবা। পাকা সড়ক শেষ হলে শুরু হয় ইট বিছানো পথ, দুই পাশে সবুজ ঘাস বিছানো। পথের মাঝখানে পায়ে চলার স্থানটি সাদা মাটির রেখা হয়ে আছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-13/8fdwncjj/MOULAVIBAZARVillage-3.jpg"><figcaption>নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বড়বাড়িতে</figcaption></figure><p>আরও কিছুটা এগোলে আঁকাবাঁকা মেঠো পথ। প্রাণজুড়ানো হাওয়া, সবুজের মায়া এখানে পথে পথে ছড়িয়ে আছে। খেতের আল ধরে কোথাও জাল পেতে মাছ ধরছেন লোকজন। শিশুরাও ছোট জাল হাতে ছুটছে এদিক-ওদিক। ধানের খেতে সাদা বকের দল এসে সবুজের মধ্যে তৈরি করেছে অন্য রকম এক দৃশ্য। কখনো ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাচ্ছে তারা। আকাশে চিলও চক্কর কাটছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-13/naj5gwni/MOULAVIBAZARVillage-4.JPG"><figcaption>কড়া রোদেও ঘরে বসে নেই শিশুরা। তাদের মতো করে মাছ ধরতে বেরিয়েছে পথে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বড়বাড়ি মাঠে</figcaption></figure><p>বড়বাড়ি গ্রামের উত্তরে বিশাল কাউয়াদীঘি হাওর। হাওরে তখন ফুটে আছে শাপলা-শালুক, দূরে সাদা জলরাশি। ছোট ছোট নৌকায় জেলেরা ছুটছেন মাছ ধরতে। ধানখেত, গ্রাম ও হাওর মিলে জায়গাটি শরতের দিনে হয়ে উঠেছে মন ভরে দেখার মতো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-13/jx01d6oa/MOULAVIBAZARVillage-5.JPG"><figcaption>এঁকেবেঁকে পথ গেছে গ্রামের দিকে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বড়বাড়ি মাঠে</figcaption></figure><p>হাওরের কাছের মানিকনগর গ্রামের দোকানের সামনে গাছতলায় বসে কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছেন। মাঠের কাজ শেষে কেউ সেখানে এসে জিরিয়েও নিচ্ছেন। তপ্ত দুপুরেও গাছের ছায়ায় শীতল বাতাস। কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন অবসরটুকু অন্যদের সঙ্গে কাটাতে। এখানে এলে মনে হয়, ঘুরে বেড়াতে শুধু পাহাড়–সাগর-নদীই নয়, গ্রামের শান্ত সবুজ বুকটিও হতে পারে প্রশান্তির, ভালো লাগার।</p>
গত বছরের পুরুষদের এশিয়া কাপ ফাইনালের পর এবার নারী এশিয়া কাপের ফাইনালেও একই দৃশ্য। চ্যাম্পিয়ন হয়েও ট্রফি নেয়নি ভারত।
বিএনপি সরকার গঠনের পর সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করলেও এটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।
চলতি বছরের শেষে পাহাড়ের কোলে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন অভিনেত্রী। সম্ভাব্য পাত্র হিসেবে উঠে এসেছে নৌবাহিনীর কর্মকতার নাম।
মাটি ভেদ করে, যক্ষের ধন উঠে আসবে, সোনাদানা এত রাজকীয় সুখ, চাই না তোমাকেই শুধু চাই প্রতিদিন যা হারাই, সাকার ও নিরাকার তার ভেতরে বেঁচে থাকার সান্ত্বনায় ছিটেফোঁটা, ক্ষীরের অঙ্গার
<p>সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশ লাইনসে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার কারণে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে। একই সময়ে একদল লোকের দাবির মুখে কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হামলা বা হুমকির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়ার বেশ কিছু ঘটনা গত কয়েক মাসে ঘটেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই হামলাকারী বা হুমকিদাতারা তাদের এসব পদক্ষেপের পেছনে কারণ হিসেবে ‘ধর্ম’কে সামনে নিয়ে এসেছে। একবিংশ শতাব্দীর সিকি ভাগ পার হওয়ার পরও তারা দাবি করছে, গান ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে ইসলাম ধর্মের সম্পর্ক সাংঘর্ষিক। এ ভূখণ্ডে ধর্মের এমন স্বঘোষিত ব্যাখ্যাকারের আবির্ভাব নতুন নয়। গত শতাব্দীতেও এমন অযৌক্তিক ও উগ্র কথাবার্তা শোনা গেছে।</p><p> ১৯২৬ সালে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্যোগে সংগঠিত বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এ বছর শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। এ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। ‘আনন্দ ও মুসলমান গৃহ’ প্রবন্ধে তিনি বলেছিলেন—</p><p>‘মুসলমানের যে গৃহ নেই, তার একটা কারণ, আনন্দের উপকরণের অভাব। মুসলমান গান গাইবে না, ছবি আঁকবে না, এক কথায় মনোরঞ্জনকর ললিতকলার কোনও সংশ্রবেই থাকবে না। মুসলমান পুরুষেরা কেবল কাজ করবে, আর ঘর শাসন করবে; মেয়েরা কেবল রাঁধবে বাড়বে, আর বসে বসে স্বামীর পা টিপে দেবে;—তা ছাড়া খেলাধুলা, হাসিতামাশা বা কোনও প্রকার আনন্দ তারা করবে না—সব সময় আদব-কায়দা নিয়ে দুরস্ত হয়ে থাকবে। মুসলমান বাপের সামনে হাসবে না, বড় ভাইয়ের সামনে খেলবে না, গুরুজনের অন্যায় কথারও প্রতিবাদ করবে না,—এমনকি কচি ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত মার খেলেও চেঁচিয়ে কাঁদবে না! এই রকম হাজার হাজার আইনকানুনের বেড়াজালে পড়ে মুসলমান ত্রাহি ত্রাহি ডাক ছাড়ছে। আনন্দ? কোথায় আনন্দ? কী হবে আনন্দে? মুসলমান তো বেঁচে থাকতে আনন্দ করে না, সে মরে গিয়ে বেহেশতে প্রবেশ করে পেট ভরে খাবে, আর হুরপরীদের নিয়ে অনন্তকাল ধরে আনন্দ করবে। ব্যস্! এই তার সান্ত্বনা!’</p><p>এ উদ্ধৃতাংশটুকু অনায়াসে বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে পাঠ করা যায়। শুধু কাজী মোতাহার হোসেন নন, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অন্য লেখকেরাও তাঁদের প্রবন্ধে যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চা মানে ধর্মবিরোধিতা নয়।</p><p>মুসলিম সাহিত্য সমাজের নেতৃত্বে সংগঠিত বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনকে নানা চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে। উদার ও শিক্ষিত মুসলমানরা এ আন্দোলনকে স্বাগত জানালেও রক্ষণশীল নবাব পরিবার ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারকবাহকেরা এ আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। শুধু বিরোধিতা করেনি, আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় সংগঠকদের মানসিক নির্যাতন করেছে, এমনকি জীবননাশের হুমকিও দিয়েছে। আন্দোলনের বিরুদ্ধ পক্ষ নিজেদের পত্রপত্রিকায় সংগঠকদের সম্পর্কে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়েছে।</p><p>বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন কখনো ধর্মবিরোধিতা করেনি। অথচ এ আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের ‘ধর্মবিরোধিতা’র দায়ে অভিযুক্ত হতে হয়েছে। উদার মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছিল এ আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য। ধর্মান্ধতা, সংকীর্ণতা ও কূপমণ্ডূকতার অন্ধকারের বিপরীতে এ আন্দোলন জ্ঞানের আলো জ্বালিয়েছিল। এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত চিন্তাবিদদের মধ্যে কেউ ‘নাস্তিক’ বলে নিজের পরিচয় দেননি। কেউ কেউ ‘ধার্মিক’ ছিলেন। কেউ কেউ ‘ধর্মমোহ’ দ্বারা আচ্ছন্ন হননি। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের নেতারা অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যুক্তিবাদ ও মানবকল্যাণের তাগিদ থেকে। তাঁরা যে জ্ঞানভিত্তিক, পরমতসহিষ্ণু, উদার ও মুক্ত সমাজের জন্য লড়াই করেছিলেন, সেই সমাজ কি আমরা পেয়েছি?</p><p>শতবর্ষ আগে মুসলিম সাহিত্য সমাজ যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করেছিল, এর মধ্যে ছিল অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য, ধর্মীয় কূপমণ্ডূকতা, নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, অসহিষ্ণুতা, সাম্প্রদায়িকতা, শিল্পকলার প্রতি বিরূপতা, সর্বোপরি প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী জীবনদর্শনের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ। এ থেকে কি আমরা মুক্ত হতে পেরেছি? সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, অশিক্ষা, নারীবিদ্বেষ, শিল্পকলার প্রতি বিরূপতা একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশেও বিদ্যমান। কোনো কোনো সমস্যা আগের চেয়েও প্রকট হয়েছে। গত কয়েক বছরে ধর্মান্ধতা ও অসহিষ্ণুতা এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে সম্পদহানির পাশাপাশি বিপুল প্রাণহানিও ঘটেছে। নারীর অবরোধদশা ক্ষেত্রবিশেষে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।</p><p>চল্লিশের দশক থেকে এ ভূখণ্ডে পাকিস্তান আন্দোলনের জোয়ার তৈরি হয়। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র পাকিস্তান নিঃসন্দেহে বাঙালি মুসলমানের সমর্থন লাভ করেছিল। তবে দ্রুত তাদের পাকিস্তান মোহ কেটে যায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম শক্তিশালী প্রতিবাদ। এ প্রতিবাদ সাংস্কৃতিক তথা ভাষাভিত্তিক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রশ্নে বাঙালির অনমনীয় অবস্থান বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনেরই ফলশ্রুতি। এ আন্দোলনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ গোটা পাকিস্তান পর্বেই মুক্তবুদ্ধির আলোকশিখা প্রজ্বলিত রেখেছেন। ষাটের দশকে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনেরই ফলাফল। ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক জাগরণ বাঙালি জাতিকে রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। বাংলাদেশের অভ্যুদয় বাঙালির জাগরণের এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়।</p><p>কাজেই এটি দাবি করা অযৌক্তিক হবে না, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রভাব একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম লাভ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। স্বাধীনতা–পরবর্তীকালে নৈরাশ্য ও স্বপ্নভঙ্গ জাতির মর্মবেদনার কারণ হয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক জগৎ প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কখনো কখনো পশ্চাৎপদ চিন্তা আমাদের আচ্ছন্ন করেছে। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মুক্তবুদ্ধির মশালটি নির্বাপিত হয়নি। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের উত্তরসূরিরা কখনো বিচ্ছিন্নভাবে, কখনোবা ঐক্যবদ্ধভাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাধীনতা–পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সংস্কৃতিচর্চায় উদার মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে ধারা দৃশ্যমান, তা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনেরই উত্তরাধিকার বহন করছে।</p><p>বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের চলার পথে যে চড়াই-উতরাই থাকে, তা এক কঠিন সত্য। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ইউরোপের ইতিহাসে যাকে ‘মধ্যযুগ’ বলা হয়, সেই মধ্যযুগে অজ্ঞতার অন্ধকারকে টিকিয়ে রেখেছিল তখনকার ক্যাথলিক চার্চকেন্দ্রিক ধর্মতন্ত্রের ধারকেরাই। সেই অন্ধকার দূর করে রেনেসাঁস ঘটাতে চাইলেন যাঁরা, তাঁদের অনেককেই ক্ষমতাধর ধর্মতন্ত্রীদের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। যাঁর বিরুদ্ধেই ধর্মবিরোধিতার অভিযোগ উঠত, তাঁরই প্রাণ হনন করা হতো। সে সময়কার প্রখ্যাত মুক্তবুদ্ধিসাধক গিওর্দানো ব্রুনোকে ধর্মবিরোধিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আট বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় এবং পরে চার্চের আদেশে তাঁকে অগ্নিদগ্ধ করে মেরে ফেলা হয়। এর বেশ কিছুদিন পর ‘সূর্য নয়, পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে’—বিজ্ঞানী গ্যালিলিও যখন অকাট্য প্রমাণসহযোগে এই সত্য উপস্থিত করলেন, তখন চার্চের ক্ষমতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। তাই ব্রুনোর মতো তাঁকে পুড়িয়ে মেরে ফেলতে পারেনি, কারাগারে আটক করে রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে চার্লস ডারউইন যখন ‘প্রাণীর ক্রমবিবর্তনের’ যুগান্তকারী তত্ত্ব প্রকাশ করলেন, তখন সারা পৃথিবীর ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ক্ষিপ্ত হলেও ডারউইন ও তাঁর সমর্থকদের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।</p><p>উনিশ শতকে কলকাতায় রেনেসাঁসের মতো যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল, সেই রেনেসাঁসের পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায় যদিও গভীরভাবে ঈশ্বর-বিশ্বাসী ও ধার্মিক ছিলেন, তবু একেশ্বরবাদের কথা বলে ও হিন্দু সমাজে প্রচলিত সতীদাহর মতো চূড়ান্ত অমানবিক প্রথাকে উচ্ছেদ করতে গিয়ে তিনি ধর্মবিরোধীরূপে চিহ্নিত হন এবং সীমাহীন লাঞ্ছনার শিকার হন। একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল বিধবাবিবাহ প্রবর্তন ও বহুবিবাহ বন্ধে উদ্যোগী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ রেনেসাঁস-চৈতন্যের ধারকবাহক প্রায় সব মনীষীরই। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করতে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এ আন্দোলনের সংগঠকদের ধর্মবিরোধিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এ অভিযোগ অসাধারণ যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেছেন যতীন সরকার। ‘মুক্তবুদ্ধির চড়াই-উতরাই’ বইয়ে তিনি লিখেছিলেন—</p><p>‘দুর্গতির পঙ্ক থেকে উদ্ধার করে সমাজকে এঁরা প্রগতির রথযাত্রী করতে চেয়েছিলেন। এঁরা ধর্মবিরোধী তো ছিলেন না, বরং প্রকৃত ধর্ম প্রতিষ্ঠাই ছিল এঁদের জীবনের ব্রত। মুসলমানরূপে এঁরা অবশ্যই ইসলামের মর্মবাণীকে অন্তরে ধারণ করতেন। তবে এঁদের ইসলাম-ভাবনা তথা ধর্মবোধ সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার ঘোলাজলের ডোবায় আবদ্ধ ছিল না, ছিল বিশ্ববোধের স্বচ্ছ স্রোতোধারায় স্নাত। তাই, অনায়াসেই এঁরা পূর্বসূরি নানক, কবীর, রামমোহন প্রমুখ মনীষীর উদার ধর্মচিন্তার উপাদান দিয়েও নিজেদের সমৃদ্ধ করে নিতে পেরেছিলেন। বিকৃত ভাষ্যের অন্ধকার থেকে ধর্মের মুক্তি ঘটিয়ে সমাজকে আলোকিত করে তোলাই ছিল এঁদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।’</p><p>বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে সংঘবদ্ধভাবে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা। এ আন্দোলনের আগেও উপমহাদেশের মুসলমান মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদিতার চর্চা করেছে; কিন্তু তা ছিল বিচ্ছিন্ন প্রয়াস। বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তা ছিল লক্ষ্যহীন। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে সংঘবদ্ধভাবে কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত প্রথম স্থাপন করে মুসলিম সাহিত্য সমাজ।</p><p>বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে এর সংগঠকেরা সচেতন ছিলেন। কেউ কেউ আত্মসমালোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মোতাহের হোসেন চৌধুরী। মুসলিম সাহিত্য সমাজ কেন তখন লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, সে বিষয়ে ‘রিনেসাঁস: গোড়ার কথা ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, ‘এর আরব্ধ কাজ শেষ হতে পারেনি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আবির্ভাবে।’ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সাম্প্রদায়িক ধ্যানধারণাকে পুষ্ট করেছিল। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রেরণা ছিল সেক্যুলারিজম অর্থাৎ ইহজাগতিকতা, যা চরিত্রগতভাবে অসাম্প্রদায়িক, উদার ও যুক্তিবাদী। এ আন্দোলনের সঙ্গে তৎকালীন রাজনৈতিক ধারার সংঘাত অনিবার্য ছিল। বাঙালি মুসলমান রাজনীতিবিদদের ও মুসলিম সাহিত্য সমাজের লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গিগত অবস্থান ছিল বিপরীত মেরুতে। রাজনীতি কখনোই সাহিত্য সমাজের আগ্রহের বিষয় ছিল না। তাঁদের অবলম্বিত পথ ছিল শিক্ষা ও সংস্কৃতি। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা মানুষের মনোজগতের উৎকর্ষ সাধন করতে চেয়েছিলেন।</p><p>মুসলিম সাহিত্য সমাজ রাজনীতিতে না জড়াতে চাইলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। এটাই স্বাভাবিক। সমাজ কখনো রাজনীতি–বিচ্ছিন্ন নয়। সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাবে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এক চলমান প্রক্রিয়া। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন নানা ঘাত–প্রতিঘাতের সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমান সমাজ যেসব সংকটের মুখোমুখি, সেই সংকট নিরসনে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এক অসামান্য প্রেরণা। অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও পশ্চাৎপদ চিন্তাভাবনা যত দিন সমাজে থাকবে, তত দিন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা থাকবে। এ ক্ষেত্রে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম। এটি নিশ্চিত করতে হলে সংস্কৃতিচর্চা বেগবান করার কোনো বিকল্প নেই। হাঙ্গেরির দার্শনিক লুকাচ বলেছিলেন, সংস্কৃতিই লক্ষ্য, রাজনীতি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর উপায় মাত্র। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের পুনর্জাগরণের জন্য কথাটি মনে রাখা খুব জরুরি।</p>
<p>ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরেকটি ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত মহানগর এক্সপ্রেসকে পর্যটন শহর কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।</p><p> বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চললেও চট্টগ্রাম ছাড়া মাঝপথে আর কোথাও যাত্রাবিরতি দেয় না। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের চাপ রয়েছে। মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করে ওই স্টেশনগুলোর যাত্রীদের কক্সবাজারে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে।</p><p> গত ১ আগস্ট চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শনে এসেছিলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। পরিদর্শনকালে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন, যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চার জোড়া ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করছে। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় এই সংখ্যা পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।</p><p>রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, কক্সবাজার রুটে প্রচুর যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা বিবেচনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ট্রেনটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। এতে যাত্রীরা স্বস্তি ও নিরাপদে পর্যটন শহরে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।</p><p>বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দুই জোড়া (চারটি) বিরতিহীন আন্তনগর এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দুই জোড়া (চারটি) আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে।</p><aside><cite>সুজিত বিশ্বাস, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল</cite>কক্সবাজার রুটে প্রচুর যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা বিবেচনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ট্রেনটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। এতে যাত্রীরা স্বস্তি ও নিরাপদে পর্যটন শহরে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।</aside><p>রেলওয়ের ওয়ার্কিং টাইম টেবিল-৫৪ (ডব্লিউটিটি) অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস বর্তমানে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। চট্টগ্রামে পৌঁছায় দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায়। কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসার পর বিমানবন্দরসহ ১২টি স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি রয়েছে। এসব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ রয়েছে।</p><p>বিমানবন্দর ছাড়া নরসিংদী জেলার নরসিংদী, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া ও কসবা, কুমিল্লার কুমিল্লা, লাকসাম ও নাঙ্গলকোট, ফেনী এবং চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেস থামে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/g70v3s5b07">চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেনে এসি বগি কি রেলের কথার কথা</a></aside><p>এসব জেলা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন না থাকায় যাত্রীদের সড়কপথে পর্যটন শহরটিতে যেতে হয়। মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত হলে ওই এলাকার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যেতে পারবেন।</p><p>রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল শুরু হলে মহানগর এক্সপ্রেসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। তখন ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে আটটায় ট্রেনটি ছাড়বে এবং কক্সবাজারে পৌঁছাবে সকাল ছয়টায়। কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফিরতি ট্রেন ছাড়বে সকাল ৯টায়। একদিকে যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা।</p><blockquote>রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল শুরু হলে মহানগর এক্সপ্রেসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। তখন ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে আটটায় ট্রেনটি ছাড়বে এবং কক্সবাজারে পৌঁছাবে সকাল ৬টায়। কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফিরতি ট্রেন ছাড়বে সকাল ৯টায়। একদিকে যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা।</blockquote><p>বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত কক্সবাজার এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ১১টায় ছেড়ে কক্সবাজারে পৌঁছায় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে। আর পর্যটক এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে সকাল সোয়া ছয়টায় ছেড়ে কক্সবাজারে পৌঁছায় বেলা ২টা ৪০ মিনিটে।</p><p>রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেস চালানোর প্রস্তুতি চলছে। ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করলে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি কক্সবাজারে ট্রেনটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।</p><p><strong>চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে পুরোনো কোচ</strong></p><p>এদিকে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেস চালুর তোড়জোড় চললেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তনগর ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগি সংযোজনসহ উন্নত মানের কোচ যুক্ত করার প্রক্রিয়া থমকে আছে।</p><p>চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বর্তমানে দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। একটিমাত্র রেক দিয়ে (ইঞ্জিন ও একাধিক কোচ মিলে একটি রেক) এই চারটি ট্রেন চালানো হয়। ফলে প্রায়ই সময়সূচি বিঘ্নিত হয়। ট্রেন দেরিতে চলাচল করায় যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়।</p><p>যাত্রীদের অভিযোগ, এই রুটে যাত্রী চাহিদা বাড়লেও ট্রেনগুলোর সব কটি বগিই পুরোনো ও মানসম্মত নয়। বিশেষ করে এসি বগি ও কেবিন সুবিধা না থাকায় অনেক যাত্রী এই রুটে ট্রেন ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। পর্যটননির্ভর এই রুটে উন্নত মানের সেবা না থাকায় রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।</p><p>রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ১৬টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। পুরোনো বগিগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে প্রতিটি ট্রেনে ১টি এসি কেবিন, ১টি নন-এসি কেবিন, ৩টি এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা), ৮টি শোভন চেয়ার, ১টি পাওয়ার কার এবং ২টি গার্ড ব্রেক সংযোজনের পরিকল্পনা ছিল। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় সাড়ে ৭০০ আসন রয়েছে।</p><p>রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান ট্রেনের বগি পরিবর্তন করে এসি বগিসহ উন্নত মানের কোচ সংযোজনের আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। নতুন কোচ আমদানি করা হলে তখন বগিগুলো পরিবর্তন করা হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%9A%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%9C-%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE">চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল: স্টেশনে লাগেজ রেখেই ছুটতে পারবেন পর্যটকেরা</a></aside>
দীর্ঘ ৩৯ বছরের কর্মজীবন শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেলেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার পুলিশ সদস্য রওশন আলী। সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই সংবর্ধনা দেন এনায়েতপুর থানার ওসি জাহিদ হোসেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থানা চত্বরে পুলিশ কনস্টেবল রওশন আলীর জন্য এই বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়। এসময় থানার ওসির গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে কর্মস্থল থেকে রওশন আলীর নিজ বাড়ি শাহজাদপুরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর আগে সহকর্মীরা ভালোবাসার সঙ্গে বিদায় দেন এই পুলিশ সদস্যকে। এসময় এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ও ওসির এমন আয়োজনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পুলিশ সদস্য রওশন আলী। তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, এই আয়োজন আমার কর্মজীবনের শেষে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। আমি চাকরি জীবনে কখনো দায়িত্বে অবহেলা করিনি। এতদিন দেখে আসছি বড় বড় পুলিশ কর্মকর্তাদের ঢাকঢোল পিটিয়ে বিদায় দেওয়া হয়। কিন্তু একজন সাধারণ পুলিশ সদস্যকে এভাবে বিদায় জানাবে কল্পনাও করিনি। আমি ধন্য, আমি কৃতজ্ঞ। এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, রওশন আলী অত্যন্ত সরল প্রকৃতির মানুষ। তার সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের পুলিশ সদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে। এমন একজন সৎ সহকর্মীকে যথাযথ মর্যাদায় বিদায় দিতে পেরে আমরা নিজেরাও গর্বিত। এম এ মালেক/এফএ
আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইংরেজি, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বাংলা, ১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো- নামাজের সময়সূচি ফজর- ৪:২৯ মিনিট। জোহর- ১১:৫৮ মিনিট। আসর- ৪:২১ মিনিট। মাগরিব- ৬:০৮ মিনিট। ইশা- ৭:২৩ মিনিট। আজ সূর্যাস্ত- ৬:০৪ মিনিট। আজ সূর্যোদয়- ৫:৪৪ মিনিট। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফজর- ৪:৩০ মিনিট। সূর্যোদয়- ৫:৪৪ মিনিট। বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তা হলো- বিয়োগ করতে হবে- চট্টগ্রাম: -০৫ মিনিট। সিলেট: -০৬ মিনিট। যোগ করতে হবে- খুলনা: +০৩ মিনিট। রাজশাহী: +০৭ মিনিট। রংপুর: +০৮ মিনিট। বরিশাল: +০১ মিনিট। (সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন) কোন ওয়াক্তে কত রাকাত নামাজ ফরজ, কত রাকাত সুন্নত? প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তে মোট ১৭ রাকাত নামাজ ফরজ, ১২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা (যা নবীজি (সা.) নিয়মিত পড়তেন)। এ ছাড়া পাঁচ ওয়াক্তে কিছু সুন্নতে যায়েদা (যা নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে পড়তেন) নামাজও রয়েছে। আর ইশার পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ ওয়াজিব। ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য, ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। কখনও অনিচ্ছায় ছুটে গেলে পরে কাজা করে নিতে হবে। সুন্নতে মুআক্কাদা ও যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব হবে, আদায় না করলে গুনাহ হবে না। এখানে আমরা পাঁচ ওয়াক্তে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের রাকাতসংখ্যা উল্লেখ করছি: ফজর ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। জোহর জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত ও পরে ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আসর আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত নামাজ সুন্নতে যায়েদা। মাগরিব মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পর ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। ইশা ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত নামাজ সুন্নতে যায়েদা, ফরজের পর ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা। ইশার ফরজের ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ইসলামে ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় ফরজ ঘোষণা করে বলেন, নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩) ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়াকে হাদিসে কুফুরি গণ্য করা হয়েছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল, সে কুফুরি করল। (সুনানে তিরমিজি: ২১১৩) নবীজি (সা.) আরও বলেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ১৪৮) কেয়ামতের দিন নামাজের হিসাবই সবচেয়ে আগে নেওয়া হবে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবচেয়ে আগে তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। সেটি যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে সে সফল হয়ে গেলো এবং মুক্তি পেয়ে গেলো। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (সহিহ জামে সগির: ২০২০) ওএফএফ
একজন মানুষ বাসে উঠলেন। তাঁর হাতে হয়তো অফিসের ব্যাগ, পাশে সন্তান কিংবা দূরের বাড়ি ফেরার তাড়া। তিনি শুধু একটি আসন চান, নির্ধারিত ভাড়া দিতে চান এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান। এই চাওয়াগুলো খুব বেশি কিছু নয়। অথচ বাংলাদেশের গণপরিবহনে এ সামান্য প্রত্যাশাগুলোই অনেক সময় বিলাসিতার মতো মনে হয়। বাসে উঠেই যাত্রীকে ভাবতে হয়—ভাড়া কত চাইবে, বাসটি আদৌ নিরাপদ কি না, চালক অতিরিক্ত গতিতে চালাবেন কি না, পথে নামিয়ে দেবেন কি না, প্রতিবাদ করলে অপমানিত হতে হবে কি না। আরও বড় ভয়—জীবিত অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে তো? গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে যাত্রী অধিকার দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ২০১৯ সাল থেকে প্রতীকীভাবে এ দিবস পালন করে আসছে। যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য, পরিবহনে বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালনের পরও যাত্রীদের মৌলিক নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত হলো না? প্রশ্নটি কেবল বাসের নয়। সড়ক, রেল ও নৌপথ—সব ধরনের যাত্রীর ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নাগরিক অধিকারের অংশ। একজন মানুষ যখন টিকিট কিনে কোনো পরিবহন ব্যবহার করেন, তখন তিনি কেবল একটি সেবা কিনছেন না; তিনি রাষ্ট্রের একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছেন। সেই আস্থার বিনিময়ে তাঁর নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা প্রায়ই উল্টো। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই বিষয়টির ভয়াবহতা বোঝা যায়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের হিসাবে আগের বছরের তুলনায় দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, মৃত্যু ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। সরকারি হিসাবে ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৪৮০ জন নিহত হয়েছেন; অন্যদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৭ হাজার ২৯৪ এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ৮ হাজার ৫৪৩। এই পরিসংখ্যানের পার্থক্য নিজেই একটি বড় সমস্যা। কারণ যে দেশে দুর্ঘটনার তথ্যের নির্ভরযোগ্য, সমন্বিত ও স্বচ্ছ জাতীয় তথ্যভান্ডার নেই, সেখানে দুর্ঘটনা কমানোর নীতিও কতটা কার্যকর হবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ২০২১ সালের সড়ক দুর্ঘটনায় সরকারি হিসাবে ৫ হাজার ৮৪ জন মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে সংস্থাটির মডেলভিত্তিক অনুমান ছিল ৩১ হাজার ৫৭৮ মৃত্যু। এই বিপুল ব্যবধান দেখায়, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র জানতে আমাদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকেও নতুন করে ভাবতে হবে। কিন্তু সংখ্যা দিয়ে যাত্রী নিরাপত্তার পুরো গল্প বলা যায় না। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার। একটি মৃত্যু মানে একজন মানুষের জীবন শেষ হওয়া নয়; একটি পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া, সন্তানের পড়াশোনা অনিশ্চিত হওয়া, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরসা হারানো কিংবা একটি শিশুর সারাজীবনের জন্য বাবাহীন বা মায়ের স্নেহহীন হয়ে পড়া। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতি তাই হাসপাতালের বিছানা কিংবা থানার মামলার কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে পরিবার, অর্থনীতি ও সমাজে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমরা দুর্ঘটনাকে এখনো অনেকটা নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছি। বাস উল্টে গেলে বলি ‘দুর্ঘটনা’, ট্রাক চাপা দিলে বলি ‘দুর্ভাগ্য’, চালক বেপরোয়া হলে বলি ‘অসাবধানতা’। কিন্তু অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা আসলে অনিবার্য নয়। অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, চালকের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো, পথচারীবান্ধব অবকাঠামোর অভাব, অবৈধ পার্কিং, দুর্বল আইন প্রয়োগ—এসব মানুষের তৈরি সমস্যা। মানুষের তৈরি সমস্যার সমাধানও মানুষের পক্ষেই সম্ভব। যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদানের ব্যবস্থায়ও স্বচ্ছতা দরকার। কাগজে একটি বাস ফিট অথচ বাস্তবে তার ব্রেক দুর্বল, টায়ার জীর্ণ, দরজা ভাঙা—এমন পরিবহন যাত্রীর জন্য চলন্ত মৃত্যুফাঁদ। ফিটনেস পরীক্ষা হতে হবে ডিজিটাল, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক। একই গাড়ি বারবার দুর্ঘটনায় জড়ালে তার মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাসও নজরদারির আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশে আইন নেই—এ কথা বলা যাবে না। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-তে নিরাপদ সড়ক পরিবহন, চালকের প্রশিক্ষণ, যাত্রী স্বার্থ-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি, বাস-স্টপেজ, ফুটপাত, জেব্রাক্রসিং, যাত্রী ছাউনি, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নীতিমালা ও ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সমস্যা হলো, আইন থাকা আর আইনের কার্যকর প্রয়োগ এক জিনিস নয়। সড়কে একটি বাস থামিয়ে চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয়তো সহজ; কিন্তু কেন একজন চালক টানা ১২–১৪ ঘণ্টা গাড়ি চালাচ্ছেন, কেন মালিক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপ দিচ্ছেন, কেন একটি বাসের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত হচ্ছে না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পরিবহন ব্যবস্থার গভীরে যেতে হয়। সেখানে রয়েছে মালিকানা কাঠামো, শ্রমিকের কর্মপরিবেশ, রুট ব্যবস্থাপনা, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সীমাবদ্ধতা। যাত্রী নিরাপত্তার প্রশ্নে তাই শুধু চালককে শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। দুর্ঘটনার পর চালককে গ্রেফতার করা দৃশ্যমান পদক্ষেপ; কিন্তু দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজন অদৃশ্য অথচ কঠিন সংস্কার। গণপরিবহনের চালকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করতে হবে। দীর্ঘ সময় বিশ্রামহীন অবস্থায় গাড়ি চালানো যে কতটা বিপজ্জনক, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। চালকের নিয়োগে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে কঠোরভাবে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে চালক ও পরিবহনশ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ মজুরি ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একজন ক্লান্ত, অনিরাপদ ও অনিশ্চিত শ্রমিকের কাছ থেকে নিরাপদ পরিবহন আশা করা যেমন অবাস্তব, তেমনি অন্যায়। যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদানের ব্যবস্থায়ও স্বচ্ছতা দরকার। কাগজে একটি বাস ফিট, অথচ বাস্তবে তার ব্রেক দুর্বল, টায়ার জীর্ণ, দরজা ভাঙা—এমন পরিবহন যাত্রীর জন্য চলন্ত মৃত্যুফাঁদ। ফিটনেস পরীক্ষা হতে হবে ডিজিটাল, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক। একই গাড়ি বারবার দুর্ঘটনায় জড়ালে তার মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাসও নজরদারির আওতায় আনতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যাত্রীর অভিযোগের কার্যকর ব্যবস্থা। একজন যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া, চালকের বেপরোয়া আচরণ, হয়রানি কিংবা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ কোথায় করবেন? অভিযোগ করার পর কী হবে? যদি যাত্রী জানেন যে অভিযোগ করেও কোনো ফল হবে না, তাহলে তিনি কেন অভিযোগ করবেন? ফলে প্রয়োজন একটি সহজ, একীভূত ও দৃশ্যমান যাত্রী অভিযোগ ব্যবস্থা—যেখানে মুঠোফোন, অনলাইন ও সরাসরি অভিযোগের সুযোগ থাকবে এবং প্রতিটি অভিযোগের নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারিত থাকবে। ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যাত্রীকে কেবল টাকা দেওয়ার মানুষ হিসেবে দেখলে চলবে না। ভাড়া নির্ধারণে যাত্রী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছিল, পরিবহন ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের মতামতের যথেষ্ট প্রতিফলন নেই। অথচ যাত্রীই সেবার প্রধান ভোক্তা। তাঁর কথা বাদ দিয়ে তাঁর জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হলে সেখানে জবাবদিহির ঘাটতি থাকবেই। নিরাপত্তা মানে শুধু দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে থাকা নয়। একজন নারী যেন বাসে হয়রানির শিকার না হন, একজন প্রতিবন্ধী যেন উঠতে গিয়ে অপমানিত না হন, একজন বয়স্ক মানুষ যেন বসার জায়গা পান, একজন শিশু যেন অনিরাপদ দরজার পাশে দাঁড়িয়ে না থাকে—এসবও যাত্রী অধিকারের অংশ। একটি সভ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা মানুষকে শুধু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় না; নাগরিক হিসেবে তার মর্যাদাও রক্ষা করে। বিশ্বের অনেক দেশ সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখেনি; এটিকে জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অধিকারের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছে। নিরাপদ সড়কের জন্য অবকাঠামো, যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকের আচরণ, জরুরি চিকিৎসা—সবকিছুকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনা হয়েছে। বাংলাদেশকেও সেই সমন্বিত পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। শুধু দুর্ঘটনার পর তদন্ত নয়, দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি বিষয় জরুরি—দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা। সড়কে আহত একজন মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছাতে যত সময় বেশি লাগে, মৃত্যুর ঝুঁকিও তত বাড়ে। তাই মহাসড়কে কার্যকর জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা, অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, স্থানীয় হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষিত প্রথম সাড়াদানকারী দল থাকা দরকার। একটি দুর্ঘটনার পর কে দায়ী, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্নও হতে হবে—কীভাবে একজন আহত মানুষকে বাঁচানো যায়? আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার তাই কোনো বিলাসী প্রকল্প নয়। এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ সেই বৈশ্বিক লক্ষ্যের বাইরে নয়। যাত্রী অধিকার দিবসের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য তাই ফুল, ব্যানার, আলোচনা সভা কিংবা বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এই দিনটি হওয়া উচিত সরকারের কাছে একটি আয়না—যেখানে দেখা যাবে, আমরা যাত্রীকে আসলে কতটা নাগরিক হিসেবে দেখি। একজন মানুষ বাসে উঠলে তাঁর হাতে রাষ্ট্রের কাছে কোনো বিশেষ ক্ষমতা থাকে না। তিনি সাধারণ মানুষ। কিন্তু তাঁর একটি মৌলিক অধিকার আছে—নিরাপদে ঘরে ফেরার অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, পরিবহন মালিকের দায়িত্ব, চালকের দায়িত্ব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব। কোনো দুর্ঘটনার পর শোকবার্তা দিয়ে এই দায়িত্ব শেষ হয় না। যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখন দরকার কথার চেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা—নির্ভরযোগ্য দুর্ঘটনা-তথ্যভান্ডার, কঠোর ও স্বচ্ছ ফিটনেস পরীক্ষা, চালকের কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা যাচাই, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ডিজিটাল ভাড়া ও অভিযোগব্যবস্থা, যাত্রী প্রতিনিধিত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের সংস্কার এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা ও উদ্ধারব্যবস্থা। সবচেয়ে বড় কথা, আইন প্রয়োগে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য যেন আলাদা দরজা না থাকে। কারণ সড়কে একটি বাস যখন ছুটে চলে, তার ভেতরে শুধু যাত্রী থাকে না—থাকে একটি পরিবারের আশা, কারও ভবিষ্যৎ, কারও ভালোবাসা, কারও অপেক্ষা। একটি নিরাপদ যাত্রা তাই নিছক পরিবহনসেবা নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের মানবিকতার পরীক্ষা। প্রতিবছর ১৩ সেপ্টেম্বর আমরা যদি শুধু বলি ‘যাত্রী অধিকার নিশ্চিত হোক’, কিন্তু পরদিনও যদি অতিরিক্ত ভাড়া, বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যান আর চালকের অনিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টা একইভাবে চলতে থাকে, তবে দিবসটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ হয়ে থাকবে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—যাত্রী কি কেবল ভাড়া দেওয়ার মানুষ, নাকি এই রাষ্ট্রের একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক? যেদিন একটি বাসে ওঠার সময় কোনো মা তাঁর সন্তানের হাত শক্ত করে ধরে মনে মনে বলবেন না, ‘সৃষ্টিকর্তা, নিরাপদে পৌঁছে দিও’; যেদিন একজন বৃদ্ধ নিশ্চিন্তে বাসে উঠবেন; যেদিন একজন নারী প্রতিবাদ করলে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হবে না; যেদিন দুর্ঘটনা আর ‘নিয়তি’ বলে মেনে নেওয়া হবে না—সেদিনই সত্যিকারের যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রশ্নটি তাই আর শুধু ‘যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কবে?’ নয়। প্রশ্ন হলো—আর কত প্রাণ গেলে আমরা বুঝব, নিরাপদ যাত্রা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি মানুষের অধিকার? লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com এইচআর/এমএফএ/জেআইএম
এশিয়ান গেমসের আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১ দিনের অনুশীলন ক্যাম্প করছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এবারের এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাপানে। সেখানে ড্রপ ইন উইকেটে খেলা হবে। ফলে বাংলাদেশের অনুশীলনেও আলোচনায় আছে এই উইকেট। রোববার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করেছে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ দল। জাতীয় দলের সাবেক সিনিয়র সহকারী কোচ ও বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের বর্তমান প্রধান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে হয়েছে দিনের অনুশীলন। জাপানের উদ্দেশে ২৪ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ। এর আগে ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুরে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সূচি রয়েছে। ম্যাচ দুটির একটিতে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের ক্রিকেটারদের বিপক্ষে এবং অন্যটি নিজেদের মধ্যে হতে পারে। তবে প্রতিপক্ষ যেই হোক, জাপানের কন্ডিশনে নামার আগে ম্যাচ পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি নেওয়াটাই মূল লক্ষ্য। কারণ জাপানে বাংলাদেশের জন্য বড় অজানা বিষয় হতে পারে উইকেট। এশিয়ান গেমসের ম্যাচগুলোতে যে ড্রপ-ইন সারফেস ব্যবহারের কথা, সেটি তৈরি করছেন বিসিবির সাবেক কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। তাই দেশ ছাড়ার আগেই ওই উইকেটের চরিত্র সম্পর্কে যতটা সম্ভব পরিষ্কার ধারণা নিতে চাইছে বাংলাদেশ। জাতীয় দলের কোচিং সেটআপের এক সদস্য জানিয়েছেন, জাপানে যাওয়ার আগে গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে কথা বলবে টিম ম্যানেজমেন্ট। উইকেটের আচরণ, বাউন্স কিংবা অন্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তা ক্রিকেটারদের জানানো হবে। রোববারের অনুশীলনে অবশ্য স্কোয়াডের সবাইকে পাওয়া যায়নি। যারা ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন, তাদের নিয়ে সেন্টার উইকেট ও স্ল্যাবে কাজ করেছে দল। সেন্টারের দুই উইকেটে ব্যাটাররা অনুশীলন করলেও বোলারদের মধ্যে শুধু মোস্তাফিজুর রহমান সেখানে বল করেছেন। কোচিং স্টাফের সদস্যটি বলেন, ‘আমরা আজ (রোববার) নিয়মিত নেট সেশন করেছি। সেন্টার উইকেট ও স্ল্যাব দুই জায়গাতেই অনুশীলন হয়েছে। সবাই ব্যাটিং করেছে, সেন্টারে দুটি উইকেটও প্রস্তুত করা হয়েছিল। ওই উইকেটগুলোতে শুধু মোস্তাফিজ বোলিং করেছে।’ টি-টোয়েন্টি থেকে বেশ কিছুদিন দূরে থাকার কারণে ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ফরম্যাটটির প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। অনুশীলনে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও ইয়াসির আলী রাব্বিসহ সাতজন ব্যাটার তুলনামূলক বেশি সময় কাটিয়েছেন। জুলাইয়ের পর আর টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি বাংলাদেশের। ফলে এশিয়ান গেমসের আগে মিরপুরের সময়টা শুধু জাপানের কন্ডিশনের প্রস্তুতিতে নয়, টি-টোয়েন্টির ম্যাচ-টেম্পো ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কোচিং স্টাফের ওই সদস্য বলেন, ‘যেহেতু আমরা বেশ কিছুদিন টি-টোয়েন্টি খেলিনি, তাই এখন থেকে আমাদের টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতিতেও মনোযোগ দিচ্ছি।’ জাপানে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগ মিরপুরের মতো পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। সে কারণেই দেশ ছাড়ার আগের সময়টুকু সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ সেই পরিকল্পনারই অংশ। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে টাইগাররা। ‘বি’ গ্রুপের বিজয়ী দলের বিপক্ষে হবে সেই ম্যাচ। ১ অক্টোবর নির্ধারিত সেমিফাইনালের পর ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ ও ফাইনাল। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সাফল্যের স্মৃতিও আছে। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে সোনা জিতেছিল তারা। আর ২০২৩ সালের হাংজু আসরে পাকিস্তানকে ছয় উইকেটে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই সাফল্যকে সোনায় রূপ দিতে চায় টাইগাররা। এসকেডি/আইএন
সিরাজগঞ্জ শহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- নবগঠিত জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও শহরের কালিবাড়ী মহল্লার শেখ মামুনের ছেলে হেদায়েতুল্লাহ টুকটুক, শহর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভাঙ্গাবাড়ি মহল্লার লিটন শেখের ছেলে সোহান শেখ এবং শহর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও দিয়ার ধানগড়া মহল্লার আলমগীর হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নাশকতার চেষ্টায় বৃহস্পতিবার ভোরে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে একটি ঝটিকা মিছিল হয়। ওই মিছিলে তারা প্রত্যেকেই অংশ নিয়েছিলেন। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে। এম এ মালেক/এফএ
কক্সবাজারের টেকনাফে চোরাকারবারিরা মাদক কেনাবেচার সময় র্যাবের অভিযানে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করতে পারেনি র্যাব। র্যাব-১৫ কক্সবাজারের মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ.ম. ফারুক রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, র্যাব-১৫ সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী টেকনাফের সাবরাং বাজার পাড়া এলাকায় ইয়াবা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে মজুত করে অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে আভিযানিক দলটি ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে সাবরাং ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ফিরোজের লবণের মাঠের পাশের এলাকায় পৌঁছালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ৮-১০ জন মাদক কারবারি ৪টি পোটলা ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পোটলাগুলো থেকে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট বিধি মোতাবেক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার আলামত টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম/এফএ
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতে দাখিলের কথা রয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে তদন্ত চললেও এখনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় এরই মধ্যে ৯৭তম বারের মতো সময় পেয়েছে সংস্থাটি। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় করা এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আজ জমা হবে কি না তা নিয়ে চলছে আলোচনা। এর আগে গত ৯ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। সেদিন সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় শুনানি শেষে আদালত নতুন করে ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। আরও পড়ুন রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছালো ৯৭ বার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২০১৬ সালে মামলা, তদন্তভার সিআইডিতে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সাইবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশের ভেতরের একটি চক্রের সহায়তায় এ অর্থ চুরি ও পরে পাচার করা হয়েছিল। ঘটনার পর একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় মামলা করেন। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরদিন ১৬ মার্চ মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় এক দশক ধরে মামলাটির তদন্ত করছে সংস্থাটি। তবে এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা সম্ভব হয়নি। আজ কি মিলবে তদন্ত প্রতিবেদন? দেশে করা মূল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ সোমবার দিন নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে ৯ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ দেন। এতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৯৭তমবারের মতো পিছিয়ে যায়। আরও পড়ুন ব্যাংকখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বর্তমানে তদন্ত সংস্থা সিআইডি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। যেভাবে সরানো হয় ১০১ মিলিয়ন ডলার তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এর আগে অর্থ সরাতে ৩৫টি ভুয়া সুইফট বার্তা পাঠানো হয়েছিল। এসবের মধ্যে পাঁচটি নির্দেশনা কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) চারটি হিসাবে এবং ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থের লেনদেনে নামের বানান ভুল থাকায় সেটি আটকে যায়। পরে পুরো ২ কোটি ডলারই বাংলাদেশে ফেরত আসে। আরও পড়ুন খসড়া চার্জশিট / রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, আতিউরসহ বাংলাদেশেরই ১০ জন অন্যদিকে ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের বড় অংশ বিভিন্ন ক্যাসিনোর মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ফিলিপাইন থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে চুরি যাওয়া অর্থের প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার এখনো উদ্ধারের বাইরে রয়েছে। তদন্ত নিয়ে সিআইডির অবস্থান রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত ও সম্ভাব্য অভিযোগপত্র নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে নানা তথ্য প্রকাশিত হলেও এসব তথ্যের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান জানিয়েছে সিআইডি। চলতি বছরের ১৯ জুন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত ও খসড়া অভিযোগপত্র নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে গণ্য না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ না হলেও চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে দেশি-বিদেশি পর্যায়ে আইনি ও আর্থিক তৎপরতা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে ফিলিপাইনের আরসিবিসির সঙ্গে সালিশ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে চলমান মামলাও এগিয়ে নিচ্ছে। এর আগে কয়েকটি গণমাধ্যমে মামলার খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত এবং এতে ৬৪ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার খবর প্রকাশিত হয়। তবে সিআইডি ওই তথ্য সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান ও নাকচ করে দেয়। সংস্থাটি জানায়, প্রতিবেদন তৈরির তথ্য ভিত্তিহীন এবং মামলাটির তদন্ত তখনও চলমান ছিল। জসীম উদ্দিন খান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত ও খসড়া চার্জশিট সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে সিআইডির কর্মকর্তাদের বরাতে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সিআইডির কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে দেননি। তিনি বলেন, এসব বক্তব্যকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর সিআইডি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য জানাবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে রিজার্ভ চুরি মামলার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সিআইডির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অথবা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসরণ করার জন্য গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়। সিআইডির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পেশাদারত্ব ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি তৎপরতা মামলার তদন্ত শেষ না হলেও চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে দেশি-বিদেশি পর্যায়ে আইনি ও আর্থিক তৎপরতা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে ফিলিপাইনের আরসিবিসির সঙ্গে সালিশ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে চলমান মামলাও এগিয়ে নিচ্ছে। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট এক বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছিলেন। আরও পড়ুন রিজার্ভ চুরি : যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা ওই কর্মকর্তা জানান, আরসিবিসির কাছে চুরি যাওয়া মূল অর্থের পাশাপাশি সুদ ও আইনি খরচও দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরে আরসিবির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছিল বলে তিনি জানান। নিউইয়র্কে মামলা, ২০২০ সালে নতুন আইনি লড়াই চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেও আইনি পদক্ষেপ নেয়। ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে অর্থ উদ্ধারের মামলা করা হয়। পরে ২০২০ সালের ২৭ মে নিউইয়র্কের সুপ্রিম কোর্টে আরসিবিসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্ট মামলার তিনটি অভিযোগ—কনভার্সন, কনভার্সনে সহায়তা এবং কনভার্সনের ষড়যন্ত্র—খারিজ করে। তবে মামলার অন্য অভিযোগগুলো নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫: ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্তের আদেশ অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যে ঢাকার একটি সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের আরসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতের আদেশের অনুলিপি ফিলিপাইনে আরসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৭(২)(৭) ধারার আওতায় এ আদেশ দেওয়া হয় বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। আদালতের নির্দেশনায় বাজেয়াপ্ত অর্থ বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত আনার কথাও উল্লেখ করা হয়। সিআইডির তৎকালীন প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে আরসিবিসির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লরেঞ্জো টান, জুপিটার শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া হিসাব খোলা এবং চুরি করা অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা সিআইডি জানিয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ করার বার্তা পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্টরা অর্থ বিতরণে ভূমিকা রাখেন। ফিলিপাইনের আদালতে আরসিবিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দণ্ডিত হওয়ার তথ্যও সিআইডির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরসিবিসিকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছিল। আরও পড়ুন রিজার্ভ চুরির মামলায় মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল সিআইডি আরও জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আরসিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংককে ৬৮ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছিল। সংস্থাটির তদন্তে আরসিবিসিকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৭ ধারার আওতায় করপোরেট সত্তা হিসেবে অর্থ পাচারের ঘটনায় দায়ী করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান তখন জানিয়েছিলেন, ঢাকার আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এমডিএএ/এমআইএইচএস/
যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছেদের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার। বৈঠকে তারা একটি যৌথ ঘোষণায় সই করবেন বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ। ঘোষণায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের অধিকার দাবি করা হবে। পাঁচ তারকা সেন্ট ডেভিড’স হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে এই বৈঠক। কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে থাকবেন আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দলের নেতা ও সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড। বদলে গেছে তিন দেশের রাজনৈতিক চিত্র স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে এবারই প্রথম তিনটি ডিভলভড সরকারের (Devolved Government) নেতৃত্বে স্বাধীনতাপন্থি দল রয়েছে। স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টার। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হয়েছে প্লেইড কামরু। দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব নিয়েছেন। অন্যদিকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ২০২২ সালের স্টর্মন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল সিন ফেইন। ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) বয়কটের কারণে অবশ্য মিশেল ও’নিল ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব নিতে পারেননি।আগামী বছর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নির্বাচনে সিন ফেইন আবারও ক্ষমতায় থাকবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ‘বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয়’ স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেছেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব থাকা প্রমাণ করে যে বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থা টেকসই নয়। তার কথায়, ওয়েস্টমিনস্টারকে যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সুইনি আরও বলেন, সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে গতি এখন অস্বীকার করার মতো নয়। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে বলেন, বার্নহামকে হয়তো ভাবতে হচ্ছে যে, ইতিহাসে তিনিই যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন। কার্ডিফের বৈঠককে স্বাধীনতার দিকে একটি ‘নতুন শুরু’ হিসেবে দেখছেন সুইনি। স্বাধীনতার গণভোট নিয়ে বার্নহামের অবস্থান তিন নেতার বৈঠকের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা গণভোট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বলেছেন, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার পক্ষে যদি ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তাহলে আরেকটি গণভোটের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। তার এই বক্তব্যকেই নিজেদের দাবির পক্ষে ব্যবহার করতে চাইছেন স্কটিশ স্বাধীনতাপন্থিরা। সুইনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রশ্নে বার্নহামের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। তাদের মতে, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কাঠামো সম্পর্কে তার অজ্ঞতারই প্রকাশ। আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছাড়তে চান—এমন সম্ভাবনা তৈরি হলে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজনের পথ রয়েছে। সিন ফেইন মনে করছে, সেই সম্ভাবনার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। দলটির এক সূত্র বলেছে, প্রতিটি জাতিরই গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। তাদের ভাষায়, আইরিশ ঐক্য কোনো দূরবর্তী আকাঙ্ক্ষা নয়। নতুন আয়ারল্যান্ড গঠনের কাজ এখনই শুরু করা উচিত। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কও হবে আলোচনায় কার্ডিফের বৈঠকে তিন দলের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা। অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এই চারটি বিষয় থাকবে সমঝোতার আওতায়। তিন দলই মনে করে, তাদের ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়া উচিত। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে পারে বলে মনে করছে তারা। আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্বাধীনতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিওবৈঠকে ওয়েলসের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তুলবে প্লেই সমঝোতায় থাকবে। ওয়েলসের আরও ক্ষমতা চায় প্লেইড কামরু বৈঠকে ওয়েলসের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তুলবে প্লেইড কামরু। দলটি ওয়েলস সরকারের হাতে কর ও ব্যয়ের ওপর আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি করছে। ক্রাউন এস্টেট থেকে পাওয়া রাজস্বের একটি অংশও ওয়েলসকে দেওয়ার দাবি রয়েছে। এর মধ্যে অফশোর উইন্ড ফার্ম স্থাপিত সমুদ্রতল থেকে পাওয়া আয়ও রয়েছে। বর্তমানে এসব রাজস্ব ব্রিটিশ সরকারের কোষাগারে যায়। প্লেইড কামরু আরও উদার অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং পুলিশ ও রেল খাতের মতো অতিরিক্ত ক্ষমতা ওয়েলস সরকারের হাতে দেওয়ার দাবি করছে। দলটির মতে, জ্বালানি, অর্থনীতি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে তিন দেশের রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। লন্ডনের আপত্তি তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম স্কটল্যান্ডের আরেকটি স্বাধীনতা গণভোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার জন সুইনিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে আরেকটি গণভোটের প্রশ্নই ওঠে না। বার্নহামের দাবি, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে কোনো ঐকমত্য নেই। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছা রয়েছে—এমন স্পষ্ট ভিত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে লেবার পার্টির ইশতেহারে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছিল, দলটি স্বাধীনতা বা আরেকটি গণভোট সমর্থন করে না। বার্নহামের মতে, স্বাধীনতা ও গণভোটের বিতর্ক অর্থনীতি সচল করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে সরকারের মনোযোগ সরিয়ে দেবে। ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন মাত্রা এই বৈঠকের মাত্র দুইদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড নিয়ে মন্তব্য করেছেন। শনিবার ডাবলিন সফরের সময় তিনি বলেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে ‘খুবই আগ্রহী’। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিবর্তন কীভাবে খারাপ হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কে আন্তর্জাতিক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফকেএএ/
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগসহ সকল অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে দেওয়া প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে করা রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে বাংলাদেশের হাইকোর্ট।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, রুশ জেট-চালিত ড্রোন হামলার মাত্র '১৫ মিনিট আগে' ওই ট্রেনের যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হামলার সময় সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রেয়াসও ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা অন্য একটি ট্রেনে ছিলেন। ড্রোনটি ট্রেনটির ইঞ্জিনে আঘাত হানে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের পত্রিকাগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের আনা দুর্নীতির অভিযোগ, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য খসড়া নিয়ে সংবাদ ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়াবলী।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের নিজেদের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের একটি সুযোগও দিয়েছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো একমত যে তাদের একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, তবে বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে কী আসা উচিত এবং সেখানে কীভাবে পৌঁছানো যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আরও কঠিন।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৩১শে অগাস্ট নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় সরকার। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হতে পারে বলে তখন ইঙ্গিত দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হলেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন এখনো জারি করা হয়নি। বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ রহিত করে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ নামে পাশ হলেও তখনি সরকারের দিক থেকে পরবর্তীতে আইনে আরও সংশোধনী আনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সংশোধনীর খসড়া নিয়ে কেন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে?
সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বর্তমান বাজারে কিলোওয়াট প্রতি ৪০-৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তিন কিলোওয়াট সক্ষমতা তৈরি করলে মাসে চারশ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।
কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে এক গবেষণায় ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে। যেখানে ক্যামেরা ট্র্যাপে দেখা গেছে অত্যন্ত বিপন্ন বন্য প্রাণী মেঘলা চিতা বা ক্লাউডেড লেপার্ডসহ আরও কিছু প্রাণী। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কী বলছেন তারা?