ঢাকার সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান নির্মাণকাজের কারণে কোথাও কোথাও সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও চলছে কার্পেটিং ও ড্রেনের কাজ। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন নিয়মিত চলাচল করা মানুষ। পণ্য পরিবহন থেকে রোগী বহন—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তির কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা এ সড়কে হেলেদুলে চলায় প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঝাঁকুনিতে যানবাহন থেকে পড়ে যাচ্ছে কাঁচামাল, ভেঙে যাচ্ছে পণ্য। শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে। এ ছাড়া রোগীরাও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কটি মূলত সাভার–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত সড়কের এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ হলে ভোগান্তি থাকবে না।সড়ক বেহাল দশাগত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য বাইপাইল মোড়ের কিছু অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। পাশেই সড়কে জমেছে কাদা। স্থানটিতে সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় কিছুক্ষণ পরপরই যানজট তৈরি হচ্ছে। বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী এলাকা পর্যন্ত রাস্তাটি ইটের সলিং করা। এই অংশের জায়গায় জায়গায় ইট উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিক বাসস্ট্যান্ডের ফয়সাল মার্কেট থেকে শিমুলতলা এলাকা পর্যন্ত দুই পাশের নতুন সড়কের কাজ করা হয়েছে। সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। নরসিংহপুর এলাকায় নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়েছে।এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে উঁচু করে ফেলে রাখা বালুর স্তূপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সড়কের নিশ্চিন্তপুর অংশটিও সংকুচিত হয়ে গেছে। নিশ্চিন্তপুরে আল মুসলিম অ্যাপারেলস লিমিটেড থেকে ঘোষবাগের বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পর্যন্ত আশুলিয়ামুখী লেনের কাজ করা হয়েছে। বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে উঁচু–নিচু ও ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। আবার কিছু অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।নষ্ট হচ্ছে যানবাহন, পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিবাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের কারণে যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলে। খানাখন্দের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা।সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের চালক মো. কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তা ভাঙাচোরার কারণে মালিকেরা ড্যামারেজ দিয়া গাড়ি চালাইতেছে। রাস্তার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। পাতি ভাঙার খরচটা একটু বেশি। ব্রেক নষ্ট হয় প্রায়ই। চাকার ভেতরে ইটের টুকরা ঢুইকা চাকা বাস্ট হয় (ফেটে যায়)।’এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে ফেলে রাখা বালুর স্তুপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। গত সোমবার দুপুরে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়কাভার্ড ভ্যানে করে গাজীপুর থেকে সিরামিকের পণ্য আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান চালক মো. মামুন মিয়া। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকির কারণে মাঝেমধ্যেই গাড়িতে থাকা সিরামিকের দামি দামি বাসনপত্র ভেঙে যায় বলে জানান তিনি। মামুন মিয়া বলেন, ‘এক দিন ভাঙা না পাইলেও অন্য দিন ভাঙেই। দুই-তিন বছর ধইরা চলতাছি, দেখতাছি রাস্তার কাজ চলতেছে।’বাইপাইল আড়ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকুনিতে অনেক সময় পণ্য সড়কে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই সড়কে পণ্য পরিবহনে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। জামগড়া চৌরাস্তায় কাজী মার্কেটের সবজি বিক্রেতা মো. আকাশ বলেন, ‘যে ঝাঁকি খায়, মানুষই পইড়া যায়। আর মাল তো পড়বোই। আগে যে জিনিস ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়া আনতাম, এখন লাগে ২৫০ টাকা।’শিল্পকারখানাগুলোও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। বাইপাইল–সংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আশিকুল ইসলাম বলেন, বাইপাইল থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। বিকল্প পথ হিসেবে নবীনগর ও সাভারের সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে।ভাঙাচোরা সড়কে সাবধানে চলছে যানবাহন। সোমবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় শিল্পকারখানাসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের আশপাশে কয়েক লাখ শ্রমিক বসবাস করেন। সাধারণত এসব মানুষ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সড়ক বেহালের কারণে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ দিয়ে অনেকটা ঘুরে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, বাচ্চাদের অসুখ হলে আগে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। এখন ওই রাস্তা ভালো না। ধুলাবালু ও ভাঙাচোরা। তাই এখন অসুস্থ হলে সাভারে নিয়ে যান।স্বস্তি এসেছে কিছু অংশে২ সেপ্টেম্বর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ওই সেতুসংলগ্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলো পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাচ্ছে। তবে ওই সেতুর দূরবর্তী স্থান থেকে সড়কের ভাঙাচোরা অংশ পেরিয়ে যথাসময়ে কারখানায় পৌঁছানোসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের।আশুলিয়ার জিরাবোর ঘোষবাগ এলাকায় সড়কের কাজ চলছে। সোমবার দুপুরে সেতুসংলগ্ন পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ন্যাচারাল গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স) মো. রাকিবুল আহসান বলেন, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত অংশটি খুলে দেওয়ায় কারখানা থেকে পণ্য পরিবহন এখন অনেক সহজ হয়েছে। তবে কারখানার কর্মচারী ও শ্রমিকেরা অন্য এলাকায় বসবাস করায় তাঁরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।বর্তমানে সড়কের যেসব স্থানে গর্ত বা খানাখন্দ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করা হলেও বৃষ্টির কারণে আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল এবং ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশ অর্থাৎ দুই লেন পুরোটার কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া যেসব জায়গায় ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
বাদাবন সংঘ ও প্রথম আলোর আয়োজনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার সমতা: নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে। ড. মো. সাইমুম পারভেজ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন এলেও নারীর দৃষ্টিভঙ্গি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। তাই প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে, টোকেন প্রতিনিধিত্ব নয়। এ ধরনের আলোচনা নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের নানা ধরনের সংকটে নারীর ওপর বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে। দুর্যোগের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতি ও চলাচলের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির ক্ষেত্রেও নারীদের বেশি ক্ষতির শিকার হতে দেখি। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, কমিউনিটি থেকে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের উপস্থিতি আমরা এখনো সেভাবে দেখতে পাই না। আমরা শুধু সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি না, এর সমাধানেও কাজ করছি। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় কমিউনিটি পর্যায়ের বৃক্ষরোপণে ৮০ শতাংশ নারীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করেছি। প্রতিটি জেলায় স্থানীয় ও দেশীয় জাতের গাছকে উৎসাহিত করা হবে এবং নারীদের হাতে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা থাকবে। কোথাও কোথাও রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ—দুই দায়িত্বই নারীদের দেওয়া হবে। এটিকে শুধু সরকারি প্রকল্প হিসেবে নয়, সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় জেন্ডার, বিশেষ করে প্রজননস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য ও পানি সম্পর্কিত বিষয়গুলো যুক্ত করা জরুরি। উপকূলের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও পানির সংকট ও খাদ্যনিরাপত্তার সমস্যা বাড়ছে। তাই সমন্বিত পরিকল্পনার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রান্তিক নারী ও পুরুষের কণ্ঠ নিশ্চিত করতে হবে। এনএপিতে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানির বিষয় অন্তর্ভুক্তির জন্য আলোচনা করা হবে। সেখ ফরিদ আহমেদ যুগ্ম সচিব, ত্রাণ কর্মসূচি অধিশাখা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের সঙ্গে যুক্ত। খালের দুই পাড়ের দরিদ্র নারী–পুরুষকে সম্পৃক্ত করে মাছ ও শাকসবজি চাষ এবং সামাজিক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই বছর সরকারি সহায়তায় পরিচালনার পর স্থানীয় মানুষের হাতে এর দায়িত্ব দেওয়া হবে। উপকারভোগীদের ৫০ শতাংশ নারী ও ৫০ শতাংশ পুরুষ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে ২০টি খালে এটি পাইলট হিসেবে শুরু হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির সঙ্গে পানির সংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সামাজিক পটভূমির কারণে উপকূলের নারীরা যে বেশি দুর্ভোগ পোহান, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগেও নারী, শিশু ও বয়স্করা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। অঞ্চলভেদে নারীদের বাস্তবতাও ভিন্ন। কোথাও নারীরা মাঠে কাজ করেন, আবার কোথাও সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে তা করতে পারেন না। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষার বিস্তার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিতে হবে। শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না, আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। ছেলে ও মেয়ের কাজ আলাদা করে দেওয়ার যে সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, তা নারীর সক্ষমতাকে সীমিত করে। এই পরিবর্তন এক দিনে হবে না, তবে পরিবর্তনের শুরুটা আমাদের নিজেদের জায়গা থেকেই করতে হবে। ফারাহ কবির কান্ট্রি ডিরেক্টর, একশনএইড বাংলাদেশ উপকূলীয় সাতক্ষীরা এলাকায় তিন বছরের গবেষণায় আমরা দেখেছি, পানির সংকট ও লবণাক্ততার কারণে নারী-পুরুষ উভয়েই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যে এর প্রভাব রয়েছে। সুপেয় পানির সংকটে ৯০ শতাংশ পরিবারে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলেও চিকিৎসা ব্যয় বহনের সক্ষমতা না থাকায় অনেকে সেবা নিতে পারেন না। নারীর এসব ঝুঁকির সঙ্গে জেন্ডার বৈষম্য ও সামাজিক কাঠামোর প্রভাবও যুক্ত হচ্ছে। তাই শুধু জীবিকার বিকল্প বা প্রশিক্ষণ নয়, এসব সামাজিক ও কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করতে হবে। উপকূলীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় নারীর অংশগ্রহণ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। ওপর থেকে পরিকল্পনা চাপিয়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। নারীকে কৃষক বা মৎস্যজীবী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে শুধু দায়িত্ব দিলেও হবে না; দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা, উপকরণ ও সহায়তা দিতে হবে। জলবায়ু ও জেন্ডার সম্পর্কিত নীতিমালা ও বাজেট থাকলেও বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ না করলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। পরিবেশ, নারী ও শিশু, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা বাড়াতে তাঁদের স্বীকৃতি, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও প্রয়োজনীয় বাজেট নিশ্চিত করতে হবে। আজমান আহমেদ চৌধুরী কান্ট্রি ডিরেক্টর, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ সমতার জায়গা থেকেই আমাদের শুরু করা দরকার। পানির সংকট মানবসৃষ্ট হোক বা জলবায়ু পরিবর্তনের ফল, সংকটটি বাস্তব। কিন্তু পানি সংগ্রহের দায়িত্ব শুধু নারীর—এটি সমাজের চাপিয়ে দেওয়া বিষয়, জলবায়ুর কারণে নয়। সাতক্ষীরায় কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, নারীরা পানি আনছেন, অথচ পুরুষেরা মনে করেন, এটি তাঁদের দায়িত্ব নয়। এই জেন্ডার বৈষম্য ভাঙতে প্রজন্মগত পরিবর্তন প্রয়োজন। দুর্যোগের পর কর্মক্ষম পুরুষেরা বাইরে চলে গেলে পরিবারে আয়ের সংকট তৈরি হয়। এ অবস্থায় নারীদের আয় ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আমরা পানি উদ্যোক্তা তৈরির একটি উদ্যোগ নিয়েছি। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানি পরিশোধনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনা নারীদের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তাঁদের ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক মূলধনের সুযোগও তৈরি করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারীর স্বাস্থ্যেও পড়ছে। অবকাঠামো নির্মাণেও জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। আমার মনে হয়, শুধু অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করলেই হবে না; নারীর নেতৃত্বের সক্ষমতা তৈরিতেও বিনিয়োগ করতে হবে। যেসব নারী জলবায়ুর সংকট নিজেরা মোকাবিলা করছেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই জেন্ডার বৈষম্যের চর্চা বদলাতে হবে। তাহলেই জলবায়ুর সংকট মোকাবিলায় নারীর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব কাজে লাগানো সম্ভব হবে। গওহার নঈম ওয়ারা প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব, ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরাম সুন্দরবনের পানির সংকটের সব দায় জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। ফারাক্কার কারণে পানির সংকট, পদ্মা থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রত্যাহার এবং সুন্দরবন পর্যন্ত পানির প্রবাহ—এসব বিষয়ও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। সাত মাস বৃষ্টি হলেও সেই পানি ধরে রাখতে পারছি না। তাই স্থানীয়ভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কার্যকর উপায় খুঁজতে হবে। নারী ও কিশোরীর সক্ষমতার ক্ষেত্রেও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনে কাঁকড়া কমে যাওয়ায় কুমির লোকালয়ে আসছে, নারীরা কুমিরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। আবার কাঁকড়ার প্রজনন নষ্ট করার সঙ্গে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টিও আমাদের বুঝতে হবে। বাল্যবিবাহও নারীদের পিছিয়ে দিচ্ছে। বিয়ের পর কোনো মেয়ে স্কুলে ফিরতে চাইলেও সামাজিক নিয়মের কারণে তাকে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে ফিরতে দেওয়া হয় না। এসব বিষয়ে আমাদের আরও সোচ্চার হতে হবে। সুন্দরবন রক্ষায় মানুষকে সুন্দরবন থেকে দূরে সরিয়ে দিলেই হবে না। সুন্দরবনের মানুষই এর ওপর নির্ভরশীল এবং তাঁরা সুন্দরবন ধ্বংস করেন না। স্থানীয় অভিযোজন ও জীবনযাপনের পদ্ধতিগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ুর ওপর সব দায় না চাপিয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করতে হবে। তাহলেই সুন্দরবন ও এর মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হবে। মো. শামসুদ্দোহা প্রধান নির্বাহী, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বুঝতে হলে লবণাক্ততার সঙ্গে নারীর এক্সপোজার বা সংস্পর্শের বিষয়টি দেখতে হবে। পানি সংগ্রহ, চিংড়ির পোনা ধরা, কাঁকড়ার ঘেরে কাজসহ নানা কারণে নারীরা দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে থাকেন। এ কারণে তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। নারীরা কেন এত বেশি লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে থাকছেন? এর পেছনে তাঁদের কাজের ধরন, সামাজিক ও আর্থিক বাস্তবতা এবং সস্তা শ্রম হিসেবে নারীর শ্রম ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে। দাদন, ঋণব্যবস্থা ও বনসম্পদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা ধরনের শোষণও তাঁদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব সংকটকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে দেখলে হবে না; এখানে শাসনব্যবস্থার সংকটও রয়েছে। পানিসংকট মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো সমন্বিত ও টেকসই নয়। তাই স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে সেবাব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে। একই সঙ্গে শুধু অবকাঠামোকেন্দ্রিক নয়, মানুষকে কেন্দ্র করে অভিযোজন পরিকল্পনা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করলেই নারী ও কিশোরীর ঝুঁকি কমানো এবং সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। লিপি রহমান নির্বাহী পরিচালক, বাদাবন সংঘ ২০১৬ সালে বাগেরহাটে আমাদের কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই নারীর অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি অধিকার নিয়ে কাজ করছি। মোংলায় কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশেষ করে নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্য, জীবিকা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ঝুঁকিতে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনে নারীরা কীভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাঁদের জীবন-জীবিকায় এর কী প্রভাব পড়ছে—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আনা প্রয়োজন। এসব ঝুঁকির পেছনে কী কারণ কাজ করছে, কেন তা যথাযথভাবে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে কী করা প্রয়োজন—এসব বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। শুধু সমস্যা চিহ্নিত করা নয়, এর কারণগুলো বুঝে কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজে বের করাও আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য আমরা প্রমাণভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা করছি, যাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এই গবেষণার মাধ্যমে উপকূলীয় নারী ও কিশোরীর বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং তাঁদের স্বাস্থ্য, জীবিকা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজকের আলোচনায় বিশেষজ্ঞদের মতামত ও অভিজ্ঞতা আমাদের গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সহায়ক হবে। স্নিগ্ধা রেজওয়ানা অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বুঝতে হলে পানির সঙ্গে জেন্ডারের সম্পর্ক বুঝতে হবে। নারীরা পানি সংগ্রহ ও গৃহস্থালির কাজে যুক্ত থাকায় লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে বেশি আসেন। নিরাপদ পানি সংগ্রহের জন্য ঋণে ‘পিংক ট্যাংক’ পেলেও মাসিক ব্যবস্থাপনায় সেই পানি ব্যবহারের সুযোগ তাঁরা পান না। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সেই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের গবেষণায় দেখেছি, উপকূলীয় নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকিকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তন বা লবণাক্ততার ফল হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। চিংড়িঘেরের বিস্তার, দাদন, ঋণব্যবস্থা, বনসম্পদ সংগ্রহ এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থার নানা সংকটও নারীদের দীর্ঘ সময় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে থাকতে বাধ্য করছে। বাল্যবিবাহ, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ও নারীর প্রতি সামাজিক নিয়ন্ত্রণও তাঁদের যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। উপকূলের স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সেবাব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে। শুধু অবকাঠামোকেন্দ্রিক নয়, মানুষকে কেন্দ্র করে অভিযোজন পরিকল্পনা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার সংকট বিবেচনায় নিয়েই নারী ও কিশোরীর ঝুঁকি কমিয়ে তাঁদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দিলরুবা হায়দার প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট, ইউএন উইমেন জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আমাদের পরিমাণগত গবেষণা দরকার। আমরা অনেক বিষয় জানি, কিন্তু সেগুলোর পক্ষে শক্ত প্রমাণ দিতে হলে সংখ্যাভিত্তিক তথ্য প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার কর্মপরিকল্পনাকেও আমাদের গবেষণার আওতায় আনতে হবে। সেখানে থাকা প্রকল্প ও সূচকগুলো পর্যালোচনা করাও জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখতে গিয়ে শুধু লবণাক্ততা বা পানির সংকটের দিকে তাকালে হবে না, তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবও দেখতে হবে। সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করলেই নারী ও কিশোরীর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক প্রভাব আমরা বুঝতে পারব। এ ছাড়া বনায়নের জন্য উপযুক্ত জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। বাংলাদেশের বাঁধগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সামাজিক বনায়নে নারীরা বড় ভূমিকা পালন করেছেন। একইভাবে বনায়ন কার্যক্রমে নারীদের যুক্ত করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার সমতা ও নারী-কিশোরীর সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে হলে গবেষণা, তথ্য ও বাস্তব উদ্যোগ—সবকিছু একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। ইকবাল কবীর সাবেক পরিচালক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ উপকূলের বাস্তবতার সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে মানিয়ে নিতে হবে। মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা কমিউনিটির অংশগ্রহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে জলবায়ু-সহনশীল ও নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার মডেল তৈরি করেছি। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এর সঙ্গে পানি, স্বাস্থ্য, জীবিকা, সামাজিক রীতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সম্পর্ক রয়েছে। নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যক্তিগত পরিচর্যায় বৈষম্য এবং চিংড়িঘেরসহ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নারীর শ্রম বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় তাঁদের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। উপকূলের অনেক নারী জরায়ু প্রোল্যাপ্সের সমস্যা সামাজিক সংকোচে গোপন রাখেন এবং চিকিৎসা নেন না। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে কাজ করায় তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। একপর্যায়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু অপসারণের প্রয়োজন হয়। তাই জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার বৈষম্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকিকে আন্তসম্পর্কিতভাবে বিবেচনা করে নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। মুমিতা তানজিলা সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি নারীকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ হিসেবে দেখলে তাঁর সক্ষমতার জায়গাটি আড়ালে থেকে যায়। নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা, দৈনন্দিন জীবনে অর্জিত দক্ষতা এবং স্থানীয় জ্ঞান ও চর্চাকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। নীতিতে নারীদের শুধু সুবিধাভোগী নয়, সক্রিয় অংশীজন হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। সুন্দরবন এলাকার ৪০০ বনজীবী পরিবারের ওপর আমাদের একটি গবেষণায় দেখেছি, জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ায় বননির্ভর মানুষের জীবিকায় প্রভাব পড়েছে। স্থায়ী অভিবাসন কম হলেও মৌসুমি অভিবাসনের ক্ষেত্রে নারীদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু ও জেন্ডার বিষয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণগত তথ্য নেই। তাই বড় পরিসরে পরিমাণগত গবেষণা ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান তৈরি করা জরুরি। উপকূলের স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সেবাব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে। শুধু অবকাঠামোকেন্দ্রিক নয়, মানুষকে কেন্দ্র করে অভিযোজন পরিকল্পনা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার সংকট বিবেচনায় নিয়েই নারী ও কিশোরীর ঝুঁকি কমিয়ে তাঁদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। মাহফুজা পারভীন বিভাগীয় প্রধান, পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সচেতনতা বাড়ানো, স্থানীয় জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা গেলে নারীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন। উপকূলের লবণাক্ততার জন্য শুধু জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করলে হবে না। এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট হস্তক্ষেপ, পানি উত্তোলন এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। লবণাক্ততা দ্রুত কমবে না, তাই এর সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। পানির সংকট মোকাবিলায় পুকুরগুলোকে বৈজ্ঞানিকভাবে কৃত্রিম জলাভূমিতে রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে যে পরিবর্তন আসছে, তার প্রভাব বননির্ভর মানুষের জীবিকার ওপরও পড়ছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারী ও কিশোরীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা, পানিপ্রবাহ ও জীবিকার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতিনির্ভর সমাধান কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজনের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। ডা. জেবুন্নেসা রহমান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর জোর দিতে চাই। অতিরিক্ত গরম, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকি নারী ও কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে। দুর্যোগে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় নিরাপদ প্রসব ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে প্রয়োজনীয় সবজি বেশি দামে কিনতে হয়, যা নারী ও কিশোরীর পুষ্টিতে প্রভাব ফেলে। খাদ্যসংকটে অপুষ্টির পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জেন্ডার-সংবেদনশীল জলবায়ু অভিযোজন নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগে মাতৃ ও শিশুসেবার ধারাবাহিকতা, জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও রেফারেল ব্যবস্থার পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। পারভীন সুলতানা নারী মৎস্যজীবী, মোংলা, বাগেরহাট আমি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা থেকে এসেছি। কয়েক বছর আগে ৬০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে একটি জাল কিনেছিলাম। সেই জাল দিয়ে স্বামী-স্ত্রী পশুর নদে মাছ ধরি। মাছ দেওয়ার বিনিময়ে দাদন শোধ করলেও ঋণের চক্র থেকে বের হতে পারছি না। মাছ ধরার পাশাপাশি সংসারের কাজ ও সুপেয় পানি সংগ্রহের বাড়তি চাপ, শারীরিক অসুস্থতা এবং দাদন শোধের চিন্তা সামলাতে হয়। পশুর নদের পাড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ নদীনির্ভর। আমাদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা পানিতে থাকতে হয়। লবণাক্ততার কারণে চুলকানি, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছি। তাপমাত্রা বাড়ায় কৃষিকাজেও সমস্যা হচ্ছে। বৈশাখ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত বেশি মাছ ধরতে হয়, তখন দাদনের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়ে। ১ হাজার টাকা নিলে মাছ বিক্রি করে ৬০০ টাকা করে পরিশোধ করতে হয়। ফলে মাছ ধরেও সংসার চালাতে পারছি না। কুসুম আক্তার নারী মৎস্যজীবী, মোংলা, বাগেরহাট আমি মোংলার নিচু অঞ্চলের মানুষ। প্রতিদিন দেড়–দুই কিলোমিটার হেঁটে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে হয়। সংসার চালাতে বাবার সঙ্গে বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করি। দিনের বড় সময় লবণাক্ত পানিতে থাকায় প্রায়ই গায়ে চুলকানি হয়। এক বছরে চিকিৎসায় ১৭–১৮ হাজার টাকা খরচ করেও এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাইনি। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, তাপদাহ, খরা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে আমাদের ঘরবাড়ি, কৃষি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। পানি আনতে গিয়ে নারীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়, অনেক সময় ইভ টিজিংয়ের শিকার হতে হয়। অর্থনৈতিক সংকটে মেয়েদের পড়াশোনায় কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বাল্যবিবাহও হচ্ছে। চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারায় অনেকে সময়মতো চিকিৎসা ও পরীক্ষা করাতে পারছেন না। সরকারের উদ্যোগ চাই, ব্যবস্থা চাই। ফারিহা জেসমিন প্রোগ্রাম ম্যানেজার, বাদাবন সংঘ আমরা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করি। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীরা কীভাবে সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হচ্ছেন, তা আমরা মাঠে দেখছি। মোংলায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীরা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। পুরুষেরা জেলে পরিচয়পত্র পেলেও নারীরা তা পাচ্ছেন না। ফলে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে নারীদের দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে কাজ করতে হচ্ছে। এতে চর্মরোগ, গর্ভপাতসহ নানা শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরা। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জেন্ডার বৈষম্য কীভাবে নারীর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, সেটিই আমাদের গবেষণার মূল বিষয়। অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের কারণে বহু নারী ও কিশোরী একাকী জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে বাণিজ্যিক জলযান ও বহিরাগতদের উপস্থিতি, অন্যদিকে জীবন-জীবিকার সংকট এসবের যৌথ প্রভাবে তাঁরা যৌন নিপীড়ন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের উচ্চ ঝুঁকিতে পড়ছেন। অতএব, নারীদের স্বীকৃতি ও তাঁদের অধিকার সুরক্ষা করা অত্যন্ত আবশ্যক। সারাবান তহুরা জামান নারীবাদী আইনজীবী ও উন্নয়ন পেশাজীবী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলের নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্য, জীবিকা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় (এনএপি) নারীর যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং পানির লবণাক্ততার প্রভাব আরও বিশদভাবে বিবেচনা করতে হবে। দুর্যোগের সময় মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, রেফারেল ব্যবস্থা ও স্থানীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে জীবিকার সংকটে নারীরা যাতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হতে বাধ্য না হন, সে জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রান্তিক নারীদের শুধু সহায়তা গ্রহণকারী হিসেবে নয়, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সক্রিয় অংশীজন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারি সংস্থাগুলোকে আরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জলবায়ু অভিযোজনের অগ্রগতি বুঝতে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য ও কার্যকর পর্যবেক্ষণব্যবস্থাও জরুরি। সুপারিশ: এনএপিতে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য ও লবণাক্ততার প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা। স্থানীয় বাস্তবতা ও জ্ঞানভিত্তিক অভিযোজন পরিকল্পনা করা। জেন্ডারভিত্তিক তথ্য ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা শক্তিশালী করা। নারীকে কৃষক ও মৎস্যজীবী হিসেবে স্বীকৃতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। নারীর নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করা। বাল্যবিবাহ ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগ জোরদার করা। অভিযোজন পরিকল্পনায় নারী ও কিশোরীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। অংশগ্রহণকারী: ড. মো. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; সেখ ফরিদ আহমেদ, যুগ্ম সচিব, ত্রাণ কর্মসূচি অধিশাখা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; ফারাহ কবির, কান্ট্রি ডিরেক্টর, একশনএইড বাংলাদেশ; আজমান আহমেদ চৌধুরী, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ; গওহার নঈম ওয়ারা, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব, ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরাম; মো. শামসুদ্দোহা, প্রধান নির্বাহী, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট; লিপি রহমান, নির্বাহী পরিচালক, বাদাবন সংঘ; স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; দিলরুবা হায়দার, প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট, ইউএন উইমেন; ইকবাল কবীর, সাবেক পরিচালক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ; মুমিতা তানজিলা, সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি; মাহফুজা পারভীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; ডা. জেবুন্নেসা রহমান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ; পারভীন সুলতানা, নারী মৎস্যজীবী, মোংলা, বাগেরহাট; কুসুম আক্তার, নারী মৎস্যজীবী, মোংলা, বাগেরহাট; ফারিহা জেসমিন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, বাদাবন সংঘ; সারাবান তহুরা জামান, নারীবাদী আইনজীবী ও উন্নয়ন পেশাজীবী; সঞ্চালক: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো।
চলতি বছর গ্রীষ্মে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এক হাজার ৭৫০টিরও বেশি দাবানল লেগেছে। আর প্রতি গ্রীষ্মেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া প্রস্তুত হয় দাবানলের মৌসুমের জন্য। তবে আজকাল সেখানে দাবানল ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ছাগল। কিন্তু ছাগল কি সত্যিই দাবানল প্রতিরোধে সাহায্য করে?আসলে আমরা যেভাবে ভাবছি, ছাগল সেভাবে সরাসরি আগুন নেভাতে কোনো সাহায্য করে না। তবে সঠিকভাবে ছাগলের পাল ব্যবহার করলে দাবানলের তীব্রতা ও ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বিভিন্ন গবেষণা ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থাগুলো আসলে কী বলছে এই বিষয়ে?ফ্রান্স ও স্পেনের বিশাল দাবানল নেভাতে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা বিমান খুঁজে পাচ্ছেন না। এমন সময় জলবায়ুর এই সংকট মোকাবিলায় অভিনব এক সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাগল ও ভেড়ার দল। শুনতে অবাক লাগলেও ভবিষ্যতে দাবানল ঠেকানোর কাজটা কিন্তু নির্ভর করছে পর্যাপ্ত ছাগল পাওয়ার ওপর।বিশ্বজুড়ে ২০২৬, কিন্তু ইথিওপিয়ায় কেন ২০১৯ সালের নববর্ষ উদ্যাপন করা হচ্ছেবনে বা ঝোপঝাড়ের শুকনা পাতা ও গাছপালা খেয়ে অগ্নিনিরোধক পথ বা ‘ফায়ারব্রেক’ তৈরি করতে তৃণভোজী প্রাণীদের এই ব্যবহার এখন ইউরোপজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন ও কৃষকদের বড় বড় সংগঠনগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধারণাকে মেনে নিয়েছে। স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাগল ও ভেড়ারা বনের ছোট ছোট ঝোপঝাড় খেয়ে ফেলায় সেখানে আগুন বেশি দূর ছড়াতে পারেনি।অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের মতো মেষপালকদের কাজের গুরুত্বও আমাদের সমানভাবে বোঝা দরকারউপায়টি খুব জটিল প্রযুক্তিনির্ভর না হলেও এতে কিছুটা খরচ আছে। মেষপালকদের এই কাজে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সাহায্যের দরকার পড়ে। তবে অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞদের মতে বড় সমস্যা অন্য জায়গায়। নেতারা আগুন লাগার পর তা নেভাতে যত টাকা ঢালেন, আগুন যাতে না লাগে সেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় ততটা বরাদ্দ দেন না।স্পেনের দাবানল গবেষণাকারী সংস্থা ‘পাউ কোস্টা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান জর্দি ভেন্ড্রেল। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের মতো মেষপালকদের কাজের গুরুত্বও আমাদের সমানভাবে বোঝা দরকার।এদিকে ফ্রান্সে দাবানল বাড়ায় কৃষকেরা নিজেদের পানির ট্যাংক নিয়ে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে নেমে পড়েছেন। তবে গ্রামে কৃষকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়াও এক বড় সংকট।ইনানী জাতীয় উদ্যানে যেভাবে মেঘলা চিতার দেখা মিললবিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জ্বলছে দাবানল। ধোঁয়ায় ঢেকেছে আকাশ। সড়ক দিয়ে এগিয়ে চলেছে একটি গাড়ি। গতকাল স্পেনের আলমেরিয়া অঞ্চলেমানুষ যখন চাষাবাদ ছেড়ে দেয়, তখন সেই পরিত্যক্ত জমিতে ঘাস ও ঝোপঝাড় জমে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার কৃত্রিম উপগ্রহ ‘কোপার্নিকাস’ দেখিয়েছে, বর্তমানে ইউরোপের যেসব জায়গায় বড় দাবানল ছড়াচ্ছে, সেগুলো মূলত এই ধরনের ঝোপঝাড় আর পরিত্যক্ত বনভূমির অংশ।বনে ছাগল বা গবাদিপশু চরানোর জন্য পর্যাপ্ত চারণভূমি থাকলেও রাখালদের জন্য অর্থনৈতিক লাভ খুব একটা নেই। লাভজনক না হলে তরুণেরা ছাগল পালনে উৎসাহ পাবে না। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে এবং দাবানলপ্রবণ এলাকা সুরক্ষায় রাখালদের বিশেষ সরকারি তহবিল বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।বনে বা ঝোপঝাড়ের শুকনা পাতা ও গাছপালা খেয়ে অগ্নিনিরোধক পথ বা ‘ফায়ারব্রেক’ তৈরি করতে তৃণভোজী প্রাণীদের এই ব্যবহার এখন ইউরোপজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছেকাতালুনিয়ার ‘ফায়ার ফ্লকস’ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি সহায়তায় ছাগল ও ভেড়ার পালকে বনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই পশুগুলো বনের ছোট ছোট ঝোপঝাড় খেয়ে আগুন ছড়ানোর সুযোগ কমিয়ে দেয়। আবার এসব পশুর দুধ দিয়ে তৈরি পনির ও দই বাজারে বিশেষ লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগে উৎসাহিত হন। স্পেনের ‘কুসো’ এলাকায় এই কাজের জন্য ব্যবহৃত গরুর মাংসের চাহিদাও এখন সবচেয়ে বেশি।একসময় বনের আশপাশের জমি অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন তা কমে যাওয়ায় বনের যত্ন নেওয়ার মানুষ নেই। অথচ গবাদিপশু চরানোর মাধ্যমে পরিবেশদূষণ না করেই দাবানল প্রতিরোধ করা সম্ভব।স্পেনের মাদ্রিদে সম্প্রতি ২৭ হাজার হেক্টর বন পুড়ে যাওয়ার পর সরকার মাত্র ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর বনে ছাগল চরানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। গবেষকেরা মনে করেন, শুধু ছাগল চরানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে একে বাদ দিয়েও উপায় নেই। কারণ, চারণকারী প্রাণী না থাকলে বনের ঝোপঝাড় বারবার গজিয়ে উঠতেই থাকবে। নেতাদের উচিত কেবল আগুন লাগলে নেভানোর কথা না ভেবে, আগে থেকেই পুরো বনাঞ্চলকে সঠিকভাবে চারণভূমির মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা।সূত্র: ইউরো পলিটিকো, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকআবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ব্রিকসের প্রথম দিনের নৈশভোজে ছিল ভারতের বৈচিত্র্যময় নিরামিষ খাবারের আয়োজন। তবে এত আয়োজনের মধ্যেও কেন ছিলেন না চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং? বিস্তারিত ভিডিওতে…
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ‘ফাঁদ’ পেতে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আজ শুক্রবার জানান সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের গণমাধ্যম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ।গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি হলেন—মো. জুলহাস উদ্দিন (৩৯) ও প্রহড় (২৮)। সিআইডি বলছে, এই দুই ব্যক্তি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য।ঘটনার বিষয়ে সিআইডির ভাষ্য, মেহেদি হক নিয়ন নামের এক ব্যক্তিকে গত বছরের আগস্টে টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেয় চক্রটি। মেহেদি চাকরি করতে আগ্রহী হন। তখন তাঁকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়। তাঁকে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্নের মাধ্যমে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি।এই ঘটনায় গত ৩ জানুয়ারি মেহেদি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন। সিআইডি জানায়, মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর তারা এই প্রতারণার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের জড়িত থাকার বিষয়টি শনাক্ত করে। এর ধারাবাহিকতায় আগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল দুজনকে গ্রেপ্তার করা।
বাসে ডাকাতি মামলার আসামি ইমরান হোসেন। তবে ওই ঘটনা যখন ঘটেছে, তখন তিনি কারাগারে ছিলেন। বিষয়টি জানানোর পরও পুলিশ তাঁকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ১০ বছর ধরে ওই মামলায় তাঁকে হাজিরা দিতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন (৩২) নাটোর সদর উপজেলার পাইকেরদৌল গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি এলাকায় সেচপাম্প চালান। অর্থের বিনিময়ে কৃষকদের সেচের সুবিধা দেন। ওই মামলা থেকে অব্যাহতি ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ইমরান গত ২০ জুলাই পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর অভিযোগ করেছেন। ইমরান হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উদয় কুমার সাহাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সম্পর্কে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন, অভিযোগটি নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের নথি ও ওই লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইমরান হোসেন ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান। ওই বছরের ২২ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি আসেন। ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই নাটোর সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আবু সাদাদ ডাকাতির মামলায় ইমরানকে গ্রেপ্তার করেন। ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর একটি বাসে ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ওই সময় ইমরান কারাগারে ছিলেন। আদালতে এ–বিষয়ক নথিপত্র উপস্থাপনের পর ইমরান জামিনে মুক্তি পান। ইমরান হোসেন ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। ওই বছরের ২২ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি আসেন। ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই নাটোর সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আবু সাদাদ ডাকাতির মামলায় ইমরানকে গ্রেপ্তার করেন। ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর একটি বাসে ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাটোর সদর থানার তৎকালীন এসআই আলী আকবর প্রায় দুই বছর তদন্ত শেষে ইমরান হোসেনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। আলী আকবর বর্তমানে বগুড়ার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক পদে কর্মরত। গতকাল বুধবার মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্তকালে আসামি ইমরান হোসেন তাঁর বন্দিদশার কথা আমাকে জানাননি।’ ঘটনার সময় কারাগারে থাকলে কিসের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগের ঘটনা। এখন মনে নেই।’ ইমরান হোসেন, ভুক্তভোগী আসামি আমি ছোটবেলা থেকেই দাদি আনোয়ারা বিবির কাছে বড় হয়েছি। মিথ্যা মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করার শোকে এক দিন পরই তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। দাদির মরা মুখটাও দেখতে পারিনি। তবে ইমরান হোসেনের ভাষ্য, ডাকাতির ঘটনার সময় তিনি কারাবন্দী থাকার কথা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। ওই বিষয়ক কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি জামিন পেয়েছেন। তারপরও তদন্তকারী কর্মকর্তা কিসের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেন, তা বোধগম্য নয়। ইমরান হোসেন বলেন, ‘মামলাটি এখনো চলমান। ১০ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছি, টাকা খরচ হচ্ছে।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই দাদি আনোয়ারা বিবির কাছে বড় হয়েছি। মিথ্যা মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করার শোকে এক দিন পরই তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। দাদির মরা মুখটাও দেখতে পারিনি।’ ডাকাতি মামলায় ইমরান হোসেনের আইনজীবী রবিউল হোসেন জানান, বর্তমানে মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাঁর মক্কেল নিশ্চিত খালাস পাবেন। তবে তাঁর মানবেতর জীবনযাপনের জন্য কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।
মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল নজরদারিতে আছেন বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বিশ্বাস করেন, মাকসুদ কামাল দেশে থাকলে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ তাঁর পক্ষে নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় লেখক-অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামিরা হলেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির (শয়ন) ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।আসামিদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, জামাল উদ্দীন ও তানভীর হাসান সৈকত গ্রেপ্তার আছেন।ট্রাইব্যুনালে গতকাল এই আটজনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। আজ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি উপস্থাপন করার জন্য তালিকায় ছিল। বেলা দুইটার দিকে চিফ প্রসিকিউটর যখন ব্রিফিং করেন, তখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। রাত ৭টা ৪০ মিনিটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ শেষ পর্যন্ত অভিযোগটি উপস্থাপন হয়নি।এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, মাকসুদ কামালের মামলাটি আজকের মামলা তালিকার দুই নম্বরে। এখনো শুনানি হয়নি এটির। তাঁর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, মাকসুদ কামাল দেশে আছেন। প্রসিকিউশন কি মাকসুদ কামালকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে?জাফর ইকবাল, মাকসুদ কামালসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলএর জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো আসামিকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় না প্রসিকিউশন। এই আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যদি কোনো আসামি পলাতক থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক আছে। মাকসুদ কামাল অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তি। তিনি (মাকসুদ) প্রসিকিউশনের নজরদারিতে আছেন। তিনি (চিফ প্রসিকিউটর) বিশ্বাস করেন, দেশে থাকলে মাকসুদ কামাল পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ তাঁর পক্ষে নেই।
কুমিল্লা আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজত থেকে রুবেল হোসেন নামের এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের নিচতলায় আদালত পুলিশের হাজতখানায় হস্তান্তরের সময় তিনি পালিয়ে যান।প্রায় দুই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে আদালত এলাকার পাশ থেকে রুবেল হোসেনকে আবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।রুবেল হোসেন নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের কোটালিয়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় নারী নির্যাতনের একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুমিল্লার আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান এ তথ্য জানান।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ওই মামলায় রুবেলকে আদালতে হাজির করার জন্য নাঙ্গলকোট থানার পুলিশের সদস্যরা কুমিল্লা আদালতে নিয়ে আসেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের নিচতলায় তাঁকে আদালত পুলিশের হাজতখানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় কৌশলে তিনি পুলিশের সদস্যদের হাত ফসকে পালিয়ে যান। রুবেলের হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। তবে হাত সরু হওয়ায় তিনি হাতকড়া খুলে ফেলেন। এরপর আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যান তিনি।ঘটনার পরপরই রুবেলকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা তিনটার দিকে আদালতের পাশের এলাকা থেকে রুবেলকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, পুনরায় গ্রেপ্তারের পর রুবেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর লাস্কার পুরস্কার প্রদান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ সম্মাননা বিশ্বজুড়ে আমেরিকার নোবেল হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মৌলিক চিকিৎসা গবেষণা, ক্লিনিক্যাল সায়েন্স ও জনসেবা বিভাগে লাস্কার পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে লাস্কার ফাউন্ডেশন। মৌলিক চিকিৎসা গবেষণায় পুরস্কার পেয়েছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ইমানুয়েল মিগনট এবং জাপানের ইউনিভার্সিটি অব সুকুবার মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া। এই দুই বিজ্ঞানী মস্তিষ্কে এমন এক রাসায়নিক উপাদান খুঁজে পেয়েছেন, যা মানুষের ঘুম ও জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। নারকোল্যাপসি নামের এক বিশেষ ঘুমের ব্যাধিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে এ উপাদানের ঘাটতি দেখা যায়। দিনে অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া এবং হঠাৎ পেশির শক্তি হারিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা এ রোগের লক্ষণ। বিজ্ঞানীরা কোষের উপরিভাগে থাকা জিপিসিআর নামের প্রোটিন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁরা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে আসা বিশেষ পেপটাইড আবিষ্কার করেন। ক্ষুধা মেটানোর গ্রিক শব্দ ওরেক্সিস থেকে এই পেপটাইডের নাম দেওয়া হয়েছে ওরেক্সিন। উপাদানটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে মূলত মানুষকে সজাগ রাখতে সাহায্য করে। মানুষের নারকোল্যাপসি রোগের পেছনেও এই ওরেক্সিনের ঘাটতি দায়ী বলে জানিয়েছেন তাঁরা। বিজ্ঞানীদের এই যৌথ আবিষ্কার অনিদ্রা ও নারকোল্যাপসির নতুন ওষুধ তৈরির পথ উন্মুক্ত করবে। ক্লিনিক্যাল মেডিকেল রিসার্চ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন চুগাই ফার্মাসিউটিক্যালসের কুনিহিরো হাত্তরি, তাকেহিসা কিতাজাওয়া এবং তোমোয়ুকি ইগাওয়া। ‘হেমোফিলিয়া এ’ নামের বংশগত রক্তক্ষরণজনিত রোগের অ্যান্টিবডি আবিষ্কার করেছেন এই তিন বিজ্ঞানী। জিনগত ত্রুটির কারণে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে পর্যাপ্ত ফ্যাক্টর এইট তৈরি হয় না। এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না এবং সামান্য আঘাতেই মারাত্মক রক্তক্ষরণ ঘটে। বিজ্ঞানীরা ফ্যাক্টর নাইন ও ফ্যাক্টর টেনকে যুক্ত করে এক নতুন অ্যান্টিবডি তৈরি করেন। এমিসিজুম্যাব নামের এ ওষুধ ২০১৭ সালে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন লাভ করে। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি রোগী এই জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। জনসেবা বিভাগে লাস্কার পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মাইকেল জে ফক্স। পারকিনসনস রোগ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা তহবিল সংগ্রহের কাজে ভূমিকা রাখায় এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। মাত্র উনত্রিশ বছর বয়সে পারকিনসনস রোগে আক্রান্ত হন মাইকেল জে ফক্স। পারকিনসনস রোগ প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করতে বিভিন্ন গবেষণার জন্য এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন তিনি। লাস্কার ফাউন্ডেশনের এই সম্মাননা পারকিনসনস রোগে আক্রান্ত সবাইকে উৎসর্গ করেছেন মাইকেল জে ফক্স। সূত্র: লাইভ সায়েন্স
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদের পলেস্তারা ধসে চারজন আহত হয়েছেন। পুরোনো ভবনটি নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কার পাশাপাশি রয়েছে জনবল–সংকট।
সাপের বিষে আক্রান্ত মানুষকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের হাতে এত দিন ছিল সীমিত কিছু উপায়। বিষধর সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। তাই একটি অ্যান্টিভেনম দিয়ে সব ধরনের বিষ মোকাবিলা করা কঠিন। এবার সে সমস্যার সমাধানে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন ভারত ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা। তারা এমন একটি অ্যান্টিভেনম তৈরি করেছেন, যা ভারতের বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। গবেষকদের ধারণা, এ চিকিৎসা পদ্ধতি সফল হলে বিশ্বজুড়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমানো সম্ভব হবে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন অ্যান্টিভেনমটি পাঁচ ধরনের ক্ষুদ্র অ্যান্টিবডি খণ্ড বা ন্যানোবডি দিয়ে তৈরি। পরীক্ষায় চশমা কোবরা, মনোকলড কোবরা ও ভারতের দুই প্রজাতির কিং কোবরার বিষ ঠেকাতে এটি খুবই কার্যকর হয়েছে। শুধু ভারতেই প্রতি বছর সাপের কামড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়। এ সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। কোনো বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে, আবার কোনোটি রক্ত বা শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই সব ধরনের বিষের বিরুদ্ধে একই অ্যান্টিভেনম তৈরি করা কঠিন। আরও পড়ুন অভিনয় করছে সাপ, চরিত্র পেতে দিতে হলো অডিশনও! হাসপাতালে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমেরও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তৈরি করা অ্যান্টিভেনমের কার্যকারিতায় পার্থক্য থাকতে পারে। এছাড়া এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। পাশাপাশি সব প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে এটি সমানভাবে কাজও করে না। প্রচলিত পদ্ধতিতে অ্যান্টিভেনম তৈরির জন্য ঘোড়ার মতো প্রাণীকে বারবার বিষপ্রয়োগ করা হয়। এতে প্রাণীর শরীরে বিষের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। পরে প্রাণীর রক্ত থেকে সেই অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিতে খরচ যেমন বেশি, তেমনি প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডিও তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। তবে, নতুন পদ্ধতিতে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন। গবেষকরা বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষ লামা ও আলপাকার মতো উটজাতীয় প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করেন। এরপর এসব প্রাণীর রক্তে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোন অ্যান্টিবডি বিষের ক্ষতিকর উপাদান নিষ্ক্রিয় করতে পারে। পরে, সেই অ্যান্টিবডিগুলো শনাক্ত করে পরীক্ষাগারে অণুজীবের মাধ্যমে তৈরি করার সম্ভাবনা দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আরও পড়ুন সাপের শরীরে কেমোথেরাপি, ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ইতিহাস এভাবে পাওয়া অ্যান্টিবডিগুলো থেকে গবেষকরা পাঁচটি ন্যানোবডি বেছে নেন। পরে এগুলো মিলিয়ে তৈরি করেন অ্যান্টিবডির একটি মিশ্রণ বা ককটেল। এ অ্যান্টিবডিগুলো কোবরার বিষের ক্ষতিকর উপাদানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিষকে শরীরের নির্দিষ্ট কোষ বা টিস্যুতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। পরীক্ষায় এ অ্যান্টিবডি ককটেল বিষের কার্যকারিতা ঠেকাতে সফল হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিষপ্রয়োগের ৩০ মিনিট পরও এটি ইঁদুরকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এমনকি বিষের কারণে যেসব ইঁদুর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল বা স্নায়ুতন্ত্রে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, তারাও পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো উপসর্গও দেখা যায়নি। আরও পড়ুন সাপ ধরার কৌশল প্রদর্শনীতে কর্মকর্তার মৃত্যু গবেষণার অন্যতম লেখক কার্তিক সুনাগর বলেন, অ্যান্টিভেনম চিকিৎসায় প্রায় ১০০ বছর ধরে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নতুন এ পদ্ধতি ভারতের সাপের কামড়ের সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ও গবেষণার আরেক লেখক আন্দ্রেয়াস লাউটসেন বলেন, এ গবেষণা নতুন ধরনের অ্যান্টিভেনম তৈরির একটি পথ দেখিয়েছে। স্থানীয় সাপের বিষে যেসব উপাদান মানুষের শরীরে বেশি ক্ষতি করে, সেগুলো লক্ষ্য করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা অ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন অ্যান্টিবডিতে আরও উপাদান যুক্ত করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষধর সাপের বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, মানুষের চিকিৎসায় এটি ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এমডিআরএইচ/
হামের প্রকোপ এখনো রয়ে গেছে। হামে আক্রান্ত শিশু নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন অভিভাবকেরা। যদিও আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই কমে আসবে এই প্রকোপ। কিন্তু পত্রিকার সংবাদ বলছে, এ বছর হামে শিশুমৃত্যু হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে আরও কিছুদিন।রোগের কারণহাম রোগের মূল কারণ হলো মিজলস ভাইরাস, যা প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।লক্ষণ কীহাম রোগের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ৮-১২ দিনের মধ্যে দেখা যায়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো—উচ্চ জ্বর, শুকনা কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা কনজাংইটিভাইটিস, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট), শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ঢেলে সাজাচ্ছি: উপাচার্যসংক্রমণের ধরনহাম খুব সহজেই ছড়ায়। আক্রান্ত শিশু কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসে থাকা ভাইরাস দুই ঘণ্টা সময় ধরে অন্য সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। আক্রান্ত শিশুর লক্ষণ শুরু হওয়ার চার দিন আগে থেকে এবং ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর্যন্ত সংক্রামক থাকে।চিকিৎসাযথাযথ বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ওষুধই এই রোগের মূল চিকিৎসা। পরপর দুই দিন দুটি উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ক্যাপসুল বয়স অনুযায়ী দেওয়া হয় এই রোগের তীব্রতা কমানোর জন্য। এর পাশে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয়। তবে যদি শিশু গুরুতর অসুস্থ, খাবারে অনীহা, ঘন ঘন বমি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি হলে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।প্রতিরোধসময়মতো হামের টিকা দুই ডোজ ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং ১৫ মাস বয়সে প্রদান করতে হবে। সব সময় হাত–মুখ ধুতে হবে, চোখে হাত দেওয়া যাবে না।হাঁচি, কাশি, শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অন্তত ৫ দিন আলাদা করে রাখতে হবে।শিশুর জ্বর ও ফুসকুড়ি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম, শিশু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা
শহুরে জীবনে পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্ন বেড়েছে অনেক। কিন্তু তার সঙ্গে কমেছে প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। মাটি ছোঁয়া, ঘাসে বসা, কিংবা গাছের বাকলে হাত রাখা এসব সাধারণ কাজ এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে চলে গেছে। অথচ গবেষণা বলছে অন্য কথা।প্রকৃতির মাটি ও গাছপালার সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শ শরীরের উপকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে। এমনকি প্রভাব ফেলতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও।মাটিতে হাত দেওয়া কেন উপকারী হতে পারে?আমাদের ত্বক শুধু শরীরকে বাইরের জগৎ থেকে আলাদা করে রাখে না। এর ওপর বসবাস করে অসংখ্য অণুজীব। এদের সবাই কিন্তু ক্ষতিকর নয়। বরং নানা ধরনের উপকারী জীবাণু একসঙ্গে থাকলে তারা একে অপরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষতিকর জীবাণুর আধিপত্য তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যায়। ফিনল্যান্ডের প্রকৃতি-স্বাস্থ্য গবেষক মিরা গ্রোনরুস একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল প্রায় ২০ সেকেন্ড মাটি আর বাগানের গাছে হাত ঘষতে। পরে হাত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। তারপরও দেখা যায় বড় পরিবর্তন। তাদের হাতের ত্বকে জীবাণুর সংখ্যা আর বৈচিত্র্যে এসেছিল স্পষ্ট বদল। খালি চোখে হাত দেখতে পরিষ্কারই লাগছিল। কিন্তু ত্বকের অণুজীব-জগতে ততক্ষণে ঘটে গিয়েছিল বড় ধরনের পরিবর্তন।মাত্র ২০ সেকেন্ডেই বদল, তবে নিয়মিত সংস্পর্শই আসলমাত্র কয়েক সেকেন্ড প্রকৃতির সংস্পর্শেও ত্বকের জীবাণু-পরিবেশে বদল আসে। তবে এই প্রভাব স্থায়ী নয়। গবেষকদের মতে, কিছুদিন পর ত্বকের জীবাণুর অবস্থা আবার আগের মতো হয়ে যেতে পারে। তাই একবার মাটি ছোঁয়ার চেয়ে বেশি জরুরি হলো নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা। বাগান করা, গাছের যত্ন নেওয়া, ঘাসে বসা, কিংবা প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটানো। এসব দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্য দিয়েই তৈরি হতে পারে এই সংযোগ।শিশুদের মাটিতে খেলাধুলাতেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় উপকারফিনল্যান্ডের কয়েকটি ডে-কেয়ার সেন্টারে চলেছে আরেকটি গবেষণা। সেখানে দেখা হয়, প্রকৃতির কাছাকাছি পরিবেশে শিশুদের খেলতে দিলে কী হয়। কিছু জায়গায় পাথর বা মেঝের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠের গুঁড়ো, বালি, গাছপালা আর মাটির মতো প্রাকৃতিক উপাদান। গবেষণাটি চলে দুই বছর ধরে। সেখানে শিশুদের এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়মিত খেলতে দেওয়া হয়। এরপর পরীক্ষা করা হয় তাদের ত্বকের জীবাণু-পরিবেশ। ২৮ দিন পর আর এক বছর পরের ফলাফল তুলনা করে দেখা যায় একটা স্পষ্ট পার্থক্য। বনভূমির মতো প্রাকৃতিক মাটির সংস্পর্শে থাকা শিশুদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, নানা ধরনের অণুজীবের উপস্থিতিই ত্বকের জীবাণু-পরিবেশকে রাখে ভারসাম্যপূর্ণ।‘ভালো’ জীবাণু থাকলে ক্ষতিকর জীবাণুর জায়গা কমেত্বকে যখন নানা ধরনের অণুজীব একসঙ্গে বসবাস করে, তখন ক্ষতিকর বা রোগ তৈরিকারী জীবাণুর আধিপত্য গড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। গবেষক মারজা রোসলুন্ড বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, একটি বৈচিত্র্যময় পরিবেশে সব জীবাণুর জন্যই জায়গা থাকে। তাই কোনো একটি ক্ষতিকর গোষ্ঠীর একচেটিয়া দখল তৈরি করা সহজ হয় না। অর্থাৎ ত্বককে সবসময় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখাই আদর্শ নয়। বরং দরকার একটা স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য।ত্বকের বদলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাওপ্রকৃতির সংস্পর্শের উপকার শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের জীবাণু-বৈচিত্র্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু সূচকও। শিশুদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গার মাটিতে খেলার পর ত্বকের কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। সঙ্গে বদল এসেছে রক্তের কিছু ইমিউন মার্কার বা সাইটোকাইনের মাত্রাতেও। এই সাইটোকাইনগুলোই মূলত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।তবে এর মানে এই নয় যে মাটির সংস্পর্শ সরাসরি অ্যাজমা, একজিমা বা অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে। গবেষকেরা নিজেরাও বলছেন, এসব রোগে ঠিক কতটা প্রভাব পড়ে, তা নিশ্চিত করে জানতে আরও গবেষণা দরকার।বাগান করাও হতে পারে সহজ একটা উপায়প্রকৃতির সংস্পর্শে যেতে বড় কোনো বনভ্রমণের দরকার নেই। বাগান করাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ পথ। একটি গবেষণায় কিছু প্রাপ্তবয়স্ককে শীতকালে ঘরের ভেতর সবজি চাষ করতে বলা হয়েছিল। কেউ ব্যবহার করেছিলেন জীবাণু-সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় মাটি। কেউ আবার ব্যবহার করেছিলেন তুলনামূলক কম বৈচিত্র্যের মাটি। প্রায় এক মাস পর দেখা যায়, বৈচিত্র্যময় মাটি ব্যবহারকারীদের ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। পাশাপাশি রক্তে কিছু প্রদাহনাশক সাইটোকাইনের মাত্রাতেও এসেছে পরিবর্তন।অর্থাৎ প্রতিদিন গাছে পানি দেওয়া, মাটি খোঁড়া কিংবা নিজের হাতে সবজি ফলানোর মতো সাধারণ কাজও শরীরকে প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করতে পারে।অফিসেও কি প্রকৃতির ছোঁয়া কাজে দেয়?প্রকৃতির উপকার পেতে সবসময় বাইরে যাওয়ারও দরকার নেই। ফিনল্যান্ডের কিছু অফিসে জীবন্ত গাছ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এক ধরনের সবুজ দেয়াল। এরপর দেখা হয় কর্মীদের শরীরে এর প্রভাব। দুই সপ্তাহ পরই দেখা যায় স্পষ্ট বদল। কর্মীদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য বেড়েছিল। রক্তে কিছু প্রদাহ-বর্ধক সাইটোকাইনের মাত্রা কমেছিল। ত্বকে ল্যাকটোব্যাসিলাসের মতো উপকারী কিছু জীবাণুর উপস্থিতিও বেড়েছিল। গবেষণাটি আকারে ছোট হলেও একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেয়। দৈনন্দিন পরিবেশে সবুজ আর প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করাটাও হতে পারে উপকারী।শহুরে জীবনে প্রকৃতির সংস্পর্শ কেন জরুরি?গবেষকদের একটা বড় ধারণার নাম বায়োডাইভার্সিটি হাইপোথিসিস বা জীববৈচিত্র্য প্রকল্প। এই ধারণা অনুযায়ী, গাছপালা, মাটি আর বাতাসে থাকা নানা রকম অণুজীবের বৈচিত্র্যই প্রভাব ফেলে আমাদের শরীরের জীবাণু-পরিবেশের ওপর। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ-সংক্রান্ত কিছু সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। এই ধারণা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন বহুদিন ধরেই। তবে এই সম্পর্কের সঠিক কারণ ও প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।এ কারণেই গবেষকদের পরামর্শ একটাই। শহর এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যেখানে মানুষকে প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে আলাদা করে সময় বের করতে না হয়। স্কুলে যাওয়ার পথে, অফিসে যাওয়ার পথে, কিংবা পার্কে হাঁটার সময়ই যেন গাছপালা আর মাটির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়ে যায় আপনাআপনি।একটু মাটি, একটু ঘাসপ্রকৃতির কাছে ফিরতে বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই। পার্কে হাঁটতে গিয়ে গাছের বাকলে হাত রাখা, কিছুক্ষণ ঘাসে বসা, বারান্দার টবের গাছের যত্ন নেওয়া, কিংবা ছোট করে একটা বাগান করা, এভাবেই শুরু হতে পারে সবকিছু। তবে বাইরে থেকে ফিরে হাত পরিষ্কার করা এবং মাটি ব্যবহারের সময় সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। লক্ষ্য কিন্তু ‘নোংরা থাকা’ নয়। লক্ষ্য হলো প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সঙ্গে পরিমিত আর নিরাপদ একটা সম্পর্ক তৈরি করা।এই গবেষণাগুলো একটা মজার সত্যিই মনে করিয়ে দেয়। স্বাস্থ্যকর জীবনের সব সমাধান হয়তো স্ক্রিন, জিম বা দামি ওয়েলনেস পণ্যের মধ্যে নেই। কখনো কখনো একটু মাটি ছোঁয়া, গাছের পাশে বসা, কিংবা ঘাসে খালি হাতে স্পর্শ করাও হতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে শরীরের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে সহজ পথ।সূত্র: বিবিসিছবি: এআই ও পেকজেলসডটকম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার।আজ রোববার রাজধানীর নভোথিয়েটারের প্লেনারি হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর ‘হেলথ ইনোভেশন ফর অল: এক্সপান্ডিং অ্যাকসেস টু অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ কেয়ার’ শীর্ষক প্লেনারি আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ মেলার আয়োজন করে।জুবাইদা রহমান বলেন, অনেক মানুষ তাদের শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে যাওয়ার পর বিশেষায়িত হাসপাতালে যান। বাড়ির কাছাকাছি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীদের এই সেবা নিতে দূরদূরান্তে যেতে হয়।আধুনিক উচ্চতর চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, তবে এটি কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। অনেক উন্নত দেশও এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আমরা প্রায়ই বলি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। এটি সত্য, তবে রোগ এবং এর ঝুঁকিগুলো মারাত্মক রূপ নেওয়ার আগেই তা নির্ণয় করা জরুরি।দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য তা সহজলভ্য করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে না। হামে আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মায়েদের বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। প্রতিটি স্ক্রিনিং কর্মসূচির সঙ্গে নিশ্চিত রোগনির্ণয়, পরামর্শ, চিকিৎসা, ওষুধ, পর্যবেক্ষণ এবং রেফারেলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।ডা. জুবাইদা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার এই দৃষ্টিভঙ্গি একটি সুস্পষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আয়, অবস্থান বা সামাজিক মর্যাদার ওপর নির্ভরশীল কোনো বিশেষ সুবিধা হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এটি সহজলভ্য হওয়া উচিত।জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, সংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং, রক্তের উপাদান পৃথক্করণ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং রক্তদাতা থেকে রোগী পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের একটি জাতীয়ভাবে সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।এসব উদ্যোগে উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। তবে উদ্ভাবন মানেই সব সময় ব্যয়বহুল কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করা বা নতুন কোনো অ্যাপ চালু করা নয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কে আজাদ খান।প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) মহাপরিচালক (ডিজি) আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বাপি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন, টিএমএসএসের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মতিউর রহমান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) পরিচালক ডা. মো. আকতার হোসেন, ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের মেডিকেল সার্ভিসেস পরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম খান এবং এসকেজেন লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সাদাফ সাজ সিদ্দিকী।
জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় একদম ওপরের দিকে থাকে বাংলাদেশ। বেশ কয়েক বছর ধরেই এমন চলছে। এবার নতুন এক প্রতিবেদনে বিশ্বের বড় শহরগুলো জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কতটা মানিয়ে নিতে পেরেছে, তার ভিত্তিতে একটি তালিকা করা হয়েছে।জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ঘটে বন্যা, দাবানলসহ নানা দুর্যোগ। এসব দুর্যোগে কোনো জায়গা কতটা ঝুঁকিতে আছে, সেটিই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, এই ঝুঁকি মোকাবিলা করে টিকে থাকার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা জলবায়ু দুর্যোগের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির একটি উদাহরণ।ভূস্থানভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করে আলফাজিও নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের ৭২টি বড় শহরের জলবায়ু-সহনশীলতার তালিকা তৈরি করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব শহরের মধ্যে অনেকের ‘ঝুঁকির মাত্রা এবং তা মোকাবিলার সক্ষমতার মধ্যে বিপজ্জনক ব্যবধান’ রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের কি বুদ্ধি কমে যাচ্ছেআলফাজিওর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পারাগ খান্না বলেছেন, ‘জলবায়ু–সহনশীলতা হলো ঝুঁকি বাদ দিয়ে অভিযোজনের সক্ষমতা।’ সবাই সহনশীলতার কথা বলে, কিন্তু কেউ তা পরিমাপ করে না।প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে কোনো শহর কতটা সহনশীল, তা নির্ধারণে দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। প্রথমত, জলবায়ুজনিত বিভিন্ন ঝুঁকির সরাসরি প্রভাব শহরটির ওপর কতটা পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ বন্যা, উপকূলীয় বন্যা, অতিরিক্ত গরম, খরা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস। দ্বিতীয়ত, এসব ঝুঁকির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শহরটি কতটা প্রস্তুত।শহরগুলোর এই প্রস্তুতি বা অভিযোজন সক্ষমতা যাচাই করতে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, নীতিগত পদক্ষেপ এবং বন্যা প্রতিরোধী বাঁধ ও পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিষ্কাশনব্যবস্থার মতো অবকাঠামো বিবেচনা করা হয়েছে।হিমালয়ের হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ঢলে কোনো কোনো ভবন ধসে গেছে, কোনোটির ছাদ পর্যন্ত কর্দমাক্তএ ধরনের ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। যেমন অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডার চাপে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু শক্তিশালী বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি বা বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।জলবায়ু-সহনশীল শহরের তালিকায় প্রথম হয়েছে শিকাগো। শহরটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে মিঠা পানির পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিও কম। শহরটি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে আছে বিশাল ‘ডিপ টানেল প্রজেক্ট’। বন্যা ও পানিদূষণ কমানোর লক্ষ্যেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে সবচেয়ে কম সহনশীল শহরগুলোর অনেকগুলোই দক্ষিণ এশিয়ায়। এসব শহরে বন্যা ও মৌসুমি বৃষ্টির ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে সে তুলনায় এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি কম। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শহর ভারতের আহমেদাবাদ। শহরটি নদীর তীরে অবস্থিত। এরপর ভারতের হায়দরাবাদ। তৃতীয় স্থানে আছে পাকিস্তানের মুলতান শহর। চতুর্থ স্থান ঢাকা। চট্টগ্রাম আছে তালিকায় নয় নম্বরে।মহাবিপর্যয় এলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হবে কোনটিজলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে সহনশীল ১০ শহর জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে কম সহনশীল ১০ শহর সূত্র: আলফাজিও, নিউইয়র্ক টাইমস
দেশের আমদানিনির্ভর কফির বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। প্রায় আড়াই দশকের গবেষণায় খাগড়াছড়িতে কফির দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাহাড়ের অনাবাদি ও পতিত জমির পাশাপাশি ফলবাগান কিংবা বনজ গাছের ছায়াতেও আবাদ করা যাবে এসব কফি। ফলে অনুৎপাদনশীল জমিকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে কফি চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুধু নতুন জাত উদ্ভাবনেই থেমে নেই গবেষণা। কৃষকের মাঠে চারা পৌঁছানো, পাহাড়ি পরিবেশে উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই এবং কফিকে ঘিরে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার তৈরির সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। ২০২১ সাল থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ চারা বিতরণ করেছে গবেষণা কেন্দ্র। তবে পাহাড়ি কফিকে বাণিজ্যিক ফসলে রূপ দিতে উৎপাদনের পাশাপাশি মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারব্যবস্থা ও মূল্য সংযোজনের অবকাঠামো গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বারি সূত্রে জানা গেছে, কফির পাশাপাশি কাজুবাদাম নিয়েও গবেষণা ও জাত উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা অবকাঠামোর বিভিন্ন কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (বারি অংগ)’ প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়ন কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘দেশে কফির চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে’ শুধু কফি উৎপাদন নয়, পাহাড়ে এই ফসলকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে নতুন কৃষি অর্থনীতি। বিদ্যমান ফলদ ও বনজ গাছের সঙ্গে companion crop হিসেবে কফি চাষ করা সম্ভব হওয়ায় নতুন করে পুরো জমি পরিষ্কার করারও প্রয়োজন নেই। একই জমি থেকে একাধিক ফসলের আয় পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি চারা উৎপাদন, বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনেও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। আরও পড়ুন কাজুবাদাম-কফিতে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষি জানা গেছে, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কফি নিয়ে গবেষণার সূচনা হয় ২০০১ সালে। এরপর বিভিন্ন উৎস থেকে কফির জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, বাছাই, অগ্রবর্তী লাইন তৈরি, ফলন ও গুণগত মান যাচাই এবং পাহাড়ি পরিবেশে অভিযোজন পরীক্ষা চালানো হয়। দীর্ঘ গবেষণার ধারাবাহিকতায় পাহাড়ি পরিবেশে রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা—দুই ধরনের কফির উপযোগী জাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। গবেষণা-সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বারি কফি-১ (রোবাস্টা) এবং ২০২৫ সালে বারি কফি-২ (অ্যারাবিকা) অবমুক্ত করা হয়। ২০২১ সাল থেকেই বারি কফি-১ নিয়ে গবেষণার অগ্রগতির খবর প্রকাশিত হয়ে আসছিল। পরবর্তী সময়ে গবেষণার ফল হিসেবে দুটি জাত অবমুক্ত করা হয়। গবেষণা নথি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি কফির চারা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এসব চারা মাঠপর্যায়ে রোপণের পর কৃষক পর্যায়েও কফি উৎপাদনের বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছে। গবেষণা নথির হিসাবে, প্রতিদিন ৫০ কাপ কফি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হলে দৈনিক বিক্রি দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ কফিকে শুধু কৃষিপণ্য হিসেবে না দেখে উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্থানীয় বিক্রয়ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা / সীতাকুণ্ডে ‘রোভাস্টা জাতের’ কফি চাষে বাজিমাত ২০২৫ সালের একটি মাঠভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পূর্ণবয়স্ক একটি কফি গাছ থেকে বছরে প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি কফি বীজ পাওয়া যেতে পারে। একই প্রতিবেদনে উৎপাদিত কফি বীজের দাম প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কফির জাত, গুণগত মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর দামের তারতম্য হতে পারে। ফলে এ হিসাবকে নির্দিষ্ট বাজারদর না ধরে সম্ভাব্য কৃষি-অর্থনৈতিক হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষের আরেকটি সুবিধা হলো এটি বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের সঙ্গে সমন্বিতভাবে চাষ করা যায়। ফলে নতুন করে পুরো জমি পরিষ্কার করে শুধু কফির বাগান তৈরি না করেও বিদ্যমান বাগান ব্যবস্থার সঙ্গে কফিকে যুক্ত করা সম্ভব। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসলের আয় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখেও কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তবে পাহাড়ে কফির সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু চারা রোপণ ও উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। কাঙ্ক্ষিত ফলনের জন্য পাহাড়ের মাটি, উচ্চতা ও আবহাওয়া বিবেচনায় উপযুক্ত জাত ও ক্লোন নির্বাচন, ছায়াব্যবস্থা, সার প্রয়োগ, পানি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো ফল সংগ্রহ জরুরি। এর সঙ্গে সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ে কফির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে কাঁচা কফি উৎপাদনের পাশাপাশি ‘চারা থেকে কাপ’ পর্যন্ত পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হবে। পাহাড়েই কফি শুকানো, বীজ আলাদা করা, রোস্টিং, গ্রাইন্ডিং ও প্যাকেটজাত করার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ গড়ে উঠলে কৃষক কাঁচা কফির ফল বিক্রির পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত পণ্যে বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারবেন। আরও পড়ুন রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদামে আশাবাদী চাষিরা এতে কফি চাষের সঙ্গে চারা উৎপাদন, বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ পাহাড়ে কফি চাষ শুধু একটি নতুন অর্থকরী ফসলের সম্ভাবনাই নয়, স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষিভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল তৈরির সুযোগও তৈরি করছে। পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিতে সাবেক প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুস সাত্তার উল্লেখ করেন, পাহাড়ি এলাকার অনাবাদি ও পতিত জমিকে উপযুক্ত অর্থকরী ফসলের আওতায় আনা গেলে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ের কৃষি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। কফি উৎপাদনের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়েই মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে। আরও পড়ুন খেজুরের বীজ থেকে শাহিনের অভিনব ‘কফি’ উদ্ভাবন বর্তমানে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, দেশে কফির চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, রপ্তানির জন্য শুধু কফি উৎপাদন যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মানের কফি বীজ, ধারাবাহিক গুণগত মান, সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং নির্ভরযোগ্য বাজারসংযোগ প্রয়োজন। এসসিএন/কেএইচকে/এএসএম
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: তারিখ: ১৮ মে ২০২৬ বাংলাদেশের স্বনামধন্য বৃহৎ রিসোর্ট ব্র্যান্ড ছুটি রিসোর্ট ২০২৬ সালের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন করে সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ছুটি রিসোর্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বিদ্যা সিনহা মিম, যিনি নিজ হাতে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। ২০১২ সাল থেকে ছুটি রিসোর্ট নিরলসভাবে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ ও বিরল প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে একটি সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতি বছরও ছুটি রিসোর্ট নতুন উদ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ছুটি রিসোর্টের চারটি রিসোর্ট এবং নির্মাণাধীন নতুন প্রকল্পসমূহে প্রায় ৪,০০০ (চার হাজার) গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান এ্যডভোকেট মোস্তফা মাহমুদ আরিফি, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল, ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলমগীর ফেরদৌস, ছুটি রিসোর্ট পুবাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ সামসুল ইসলাম মাসুদসহ রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং আগত অতিথিরা। সকলের অংশগ্রহণে এই সবুজ উদ্যোগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। একটি সবুজ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ছুটি রিসোর্ট সকলকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানায়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ শেষে মিম বলেন, “আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করি। এর মাধ্যমে দেশকে সবুজায়িত করি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি।” তিনি এই মহতী উদ্যোগের জন্য ছুটি রিসোর্টকে ধন্যবাদ জানান। ছুটি রিসোর্ট লি: concern of Chuti group: www.chutigroup.com
শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’-এর প্রভাবে সারাদেশে শুরু হয়েছে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে আজ (রোববার) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধাতেই বজ্রপাতে মারা গেছেন পাঁচজন। আহত হয়েছেন আরও এক ব্যক্তি। এছাড়া বজ্রপাতে একটি গরুও মারা গেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এবং সাঘাটা উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন হলেন- ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫), নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০) এবং সাঘাটা উপজেলার নম্বর আলী (৬৫)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) ধোপাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় ওই দুই তরুণ ও শিশু বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মারা যান নম্বর আলী। এছাড়া বজ্রপাতে নাটোরের সিংড়ায় একজন, জামালপুরের মেলন্দাহে দুজন, সিরাজগঞ্জে দুজন, বগুড়ার গাবতলীতে একজন এবং সকালের দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে একজন নিহত হয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ রাতের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১১ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রকৃতি ও নির্ধারিত ঋতুচক্র। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি যেমন চাষাবাদের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এর অনিয়মিততা কৃষকের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বৃষ্টির আচরণে যে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে, তাতে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। আগে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে চাষাবাদ করা যেত নির্দ্বিধায়, এখন সেখানে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে দোটানার মধ্যে। কখন বৃষ্টি হবে, কতটা হবে, কবে হবে—এই অনিশ্চয়তা কৃষকের পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে বারবার। জুন-জুলাই মাসেই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন অনেক বছরেই দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হচ্ছে দেরিতে অথবা হচ্ছে অতিরিক্ত অল্প সময়ে। এতে করে রোপা আমনের মতো ফসল সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কখনো বৃষ্টি হচ্ছে হঠাৎ করে অতিরিক্ত, যা বীজতলা ধ্বংস করে দিচ্ছে বা সদ্য রোপণ করা চারা নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার কখনো দীর্ঘদিন খরা বিরাজ করায় জমিতে ফাটল ধরছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ফসল। এর ফলে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে চাষাবাদের চক্রে পরিবর্তন আসছে। অনেক কৃষকই নির্ধারিত সময়ে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। কোনো কোনো অঞ্চলে আবার বৃষ্টি এসে প্রস্তুত জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, যা চাষাবাদের উপযোগিতা নষ্ট করছে। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময়েই হঠাৎ বৃষ্টি নেমে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে কৃষকদের শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সাথে বাড়ছে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা। এক সময়ের নির্ভরযোগ্য কৃষি মৌসুমগুলো এখন অনেকটাই অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাও অনেক সময় যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে কৃষকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমন অবস্থায় অনেক কৃষকই বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিচ্ছেন অথবা অন্য পেশায় ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষিখাতের জন্য বড় হুমকি। এতে করে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণ শুধু ধান বা গম নয়, শাকসবজি, তিল, আখ কিংবা মসুরের মতো ফসলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাষের পর সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় ফসল স্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আবার বেশি পানি পেয়ে অনেক ক্ষেতেই গাছ পচে যাচ্ছে বা ফলন হচ্ছে অপূর্ণাঙ্গ। এতে কৃষকদের আয় দিনদিন কমছে, আর ঋণগ্রস্ততার হার বাড়ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, এবং আবহাওয়া তথ্য সেবা সহজলভ্য করতে হবে। একইসাথে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের দিকে এগিয়ে যেতে না পারলে এই অনিয়মিত বৃষ্টির চক্র আগামীতে আরও বড় সমস্যা তৈরি করবে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
বাংলাদেশের কৃষি খাত আজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এক সময় যে চাষাবাদ ছিল কেবল কৃষকের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক নির্ভরশীলতার উপর, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি যন্ত্রের প্রসারে দেশের গ্রামীণ চাষাবাদে এক বিপ্লব ঘটছে। পরিবর্তন আসছে কৃষকের চাষের ধরণ, উৎপাদনের পরিমাণ এবং খরচের পরিমিত ব্যবস্থাপনায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত মানের পাওয়ার টিলার, স্মার্ট স্প্রেয়ার, স্বয়ংক্রিয় পানি সেচ যন্ত্র, ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, স্যাটেলাইট নির্ভর আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের স্মার্ট কৃষি যন্ত্র এখন অনেক গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকের শ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচছে, উৎপাদনও হচ্ছে আরও পরিকল্পিতভাবে। স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি উপকার পাচ্ছেন তরুণ কৃষকরা, যারা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী এবং স্মার্টফোন বা অ্যাপ ব্যবহার করে চাষাবাদে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মাটি পরীক্ষার জন্য পোর্টেবল যন্ত্র, মোবাইল অ্যাপ থেকে আবহাওয়ার আপডেট, এমনকি কৃষি পরামর্শও মিলছে এখন হাতের মুঠোয়। ফলে ফসল উৎপাদনের আগে থেকেই তারা জানেন কোন ফসল কবে লাগাতে হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, আর কখন ফসল ঘরে তুললে সর্বোচ্চ লাভ মিলবে। সবুজ প্রযুক্তির আরও একটি বড় দিক হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে অধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির ক্ষতি হতো, কিন্তু এখন অনেকেই জৈব সার ও বায়োকন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নিরাপদ হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির উর্বরতাও বজায় থাকছে দীর্ঘমেয়াদে। এ ছাড়া সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিও অনেক অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা খরার সময়েও কৃষকদের সহায়তা করছে। তবে এই পরিবর্তনের পথ এখনো সহজ নয়। অনেক কৃষক এখনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের দক্ষতা বা আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছেন না। স্মার্ট যন্ত্রের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন সমবায় ভিত্তিক ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ। এই বিপ্লব সফল করতে হলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে কৃষি প্রযুক্তি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা, কৃষকদের জন্য সহজলভ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিলে কৃষি আরও লাভজনক ও টেকসই হবে। স্মার্ট কৃষি শুধু কৃষকের জীবনে পরিবর্তন আনবে না, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ প্রযুক্তির এই বিপ্লবই হতে পারে আগামী দিনের নিরাপদ ও আধুনিক কৃষির ভিত্তি।
ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান আশা ‘হেলথ সেন্টার ইনচার্জ/মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই ডিপ্লোমা পাস হতে হবে। এক নজরে আশার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম আশা পদের নাম হেলথ সেন্টার ইনচার্জ/মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদসংখ্যা ৩ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী- পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা (মেডিকেল ফ্যাকাল্টি) অভিজ্ঞতা ২ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা ৩৩,০০০ টাকা বয়সসীমা ৩০ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন আশা। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ‘অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার/ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি বিভাগের নাম ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদের নাম অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার/ম্যানেজার পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ৩-৮ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা নির্ধারিত নয় সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি) ‘অফিসিয়াল ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই এমবিএ অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির (এসবিএসি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি) পদের নাম অফিসিয়াল ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ অথবা স্নাতকোত্তর অভিজ্ঞতা ১০ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ৫৫ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি)। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডেকো ফুডস লিমিটেড ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিবিএ/বিএসসি অথবা স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ডেকো ফুডস লিমিটেডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ডেকো ফুডস লিমিটেড বিভাগের নাম এমআইএস পদের নাম এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবিএ/বিএসসি অথবা স্নাতক অভিজ্ঞতা ১-২ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ২২-৩০ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ডেকো ফুডস লিমিটেড। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ই-জোন এইচআরএম লিমিটেড। আউটসোর্সিং চুক্তিতে মোট ৫০০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। চাকরির বিবরণ পদের নাম: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদসংখ্যা: ৫০০০ শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি/ সমমান ডিগ্রি থাকলে আবেদন করা যাবে।২ লাখ টাকার আইটি স্কলারশিপ, ডিগ্রি যা-ই হোক আবেদনের আছে সুযোগবেতন-ভাতা২৫,০০০-৪০,০০০ টাকা (শর্ত প্রযোজ্য)।নিয়োগের ধরনচুক্তিভিত্তিক (১৮ মাস)।কর্মস্থল৫৩ জেলায় ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে।আবেদনের নিয়মform.ezjobsbd.com লিংকে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করে আবেদন করতে হবে।আবেদনের শেষ তারিখ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়।
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে অনলাইন আবেদনের সময় শেষ হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় এ আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়। এতে ১৩ হাজার ৬৭৭ জন শিক্ষক বদলির আবেদন করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্র এ তথ্য জানায়। মাউশি কর্মকর্তারা জানান, শিগগির বদলির আবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এদিকে, শিক্ষকদের বদলি আবেদন শেষ হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি সপ্তাহেই শিক্ষকদের বদলি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আজ দেশে ফিরছেন। মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থা করা হবে। চলতি সপ্তাহ থেকে শিক্ষকদের এ বদলি শুরু হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন। তিনি উদ্বোধন না করলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে পারেন। এএএইচ/এসএনআর
ছাত্রদলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপন করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ১৭ সেপ্টেম্বর সংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়। বিস্তারিত ভিডিওতে...
বাবার হাত ধরে স্কুল থেকে ফিরেছিল সকাল। মসজিদের সামনে খেলতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি সাত বছরের শিশুটি। আট বছর পেরিয়ে গেলেও তার অপেক্ষায় পরিবার। আবার কার্টুন দেখতে দেখতে যাদব কখন যে বাড়ির বাইরে চলে গেছে, তা জানে না তার পরিবারের কেউ। অন্যদিকে মাহি রাগ করে ঘর ছেড়ে ১১ দিন পর নিজেই ফিরে এসেছে। তিনটি ঘটনা তিন রকম বাস্তবতা। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, শিশুরা নিখোঁজ হচ্ছে কেন, আর নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের কতজনের সন্ধান মিলছে? সকালের পরিবার জানিয়েছে, নিখোঁজের সময় সিসিটিভির ফুটেজে লাল জ্যাকেট পরিহিত দুজনকে তাদের ছেলেকে রিকশায় করে নিয়ে যেতে দেখা গেলেও দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও তারা আর সকালের খোঁজ পাননি। তারা দাবি করেন, ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে কী উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হতে পারে, সেই ব্যাখ্যা জানেন না সকালের বাবা ইসমাইল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। ছেলেকে ফেরাতে লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও এখন পর্যন্ত মুক্তিপণ চেয়ে কোনো ফোনও পাননি তিনি। এদিকে, গত ৩০ জুলাই প্রতিদিনের মতো ছেলে যাদবকে তার দাদুর কাছে রেখে ঢাকার সাভার এলাকার নিজ কর্মস্থলে গিয়েছিলেন পোশাকশ্রমিক অর্চনা রানী দাস। এর কিছুক্ষণ পর ফোনে জানতে পারেন ছেলে নিখোঁজের ঘটনা। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত এত খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান মেলেনি যাদবের। পরিবারের ভাষ্য, টিভি দেখতে দেখতে বাসার বাইরে বের হয়েছিল যাদব। তবে আর ফিরে আসেনি সে। যাদবকে কেউ নিয়ে গেছে, নাকি নিজে থেকে কোথাও চলে গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করতে পারেনি তার পরিবার। একই সঙ্গে মুক্তিপণের জন্যও কোনো ফোন পাননি তারা। পরিবারের ছোট সদস্যদের হারিয়ে যাওয়া এবং পুরোপুরি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ফলে প্রশ্ন তুলছেন, কোথায় হারিয়ে গেল তাদের স্বজন? আরও পড়ুন ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজের কারণ জানালো পুলিশ, এখনো উদ্ধার হয়নি ২ হাজার সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ হয়। তবে এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, তা উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি বলে জানায় পুলিশ সদর দপ্তর। শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬৮ জন এখনো নিখোঁজ। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জায় পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবকে নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এছাড়া ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৩। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জন উদ্ধার হয়েছে এবং এক হাজার ৯৭০ জন এখনো নিখোঁজ। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বলছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, তা উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে পুলিশ বলছে, সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জন এখনো উদ্ধার হয়নি। আরও পড়ুন নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ চান স্বজনরা পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জায় পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবকে নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে। গত ৩০ আগস্ট ময়মনসিংহের আকুয়া পূর্ব নয়াপাড়া থেকে নিখোঁজ হয় ১৪ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহি। টানা ১০ দিন নিখোঁজ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও পরিবারের কেউই তার হদিস মেলাতে পারেননি। এরপর ১১তম দিনে নিজেই অবস্থান জানায় মাহি। ফিরে যায় বাড়িতে। মাহির পরিবারের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। পরিবার জানায়, ৩০ আগস্ট (রোববার) মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে দুই ভাইয়ের মনোমালিন্য হয়। এরপর মাহি রাগ করে ৫০ টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাত ৩টার ময়মনসিংহগামী ট্রেনে চড়ে পৌঁছে যায় রাজধানীর কমলাপুরে। বিভিন্ন হোটেলে ঘুরে একটি কাজ জোগাড় করে। সারারাত কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে সারাদিন ঘুমিয়ে পার করে অনেকটাই পরিবারের কথা ভুলে থাকত সে। পরে এভাবেই কেটে যায় ১১ দিন। পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। ১১ দিন পর গত ৯ সেপ্টেম্বর নিজে থেকেই বাড়িতে ফোন দিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানায় মাহি। এরপর তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি আমার কেসটা পিবিআইতে হ্যান্ডওভার করেন। সে সময় একটা মাত্র ক্লু—সিসিটিভির একটা ফুটেজ ছিল। যেখানে দেখা যাচ্ছিল আমার ছেলেকে দুজন রিকশায় বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের চেহারা দেখা যায় না। এরপর পিবিআইয়ের সিআইজি বিভিন্ন জায়গায় আমার মামলার তদন্ত হলেও ছেলেকে আর খুঁজে পাইনি। কী বলছে ভুক্তভোগী পরিবার ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি রাজধানীর লালবাগের খান মোহাম্মদ মসজিদ এলাকা থেকে হারিয়ে যায় ইসমাইল হাসানের ছেলে সকাল। সে সময় সকালের বয়স ছিল ৭ বছর। নিখোঁজ সকালের বাবা ইসমাইল হাসান রাজন বলেন, ‘খান মোহাম্মদ মসজিদের ওখানে আমার ছেলে খেলছিল। ওখানে লাল জ্যাকেট পরা একটা লোক আসছে। এসে বলছে, চলো তোমাকে ভিডিও গেমস খেলতে নিয়ে যাই। এই কথা বলে নিয়ে গেছে। আমি তখন বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। অন্য বাচ্চাদের কাছে শুনেছি। এর ঘণ্টাখানেক আগে আমি আমার ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসি। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্কুল ছুটি হয়েছে। এরপর আমি ওকে বাসায় নিয়ে আইসা, বাসায় ঘুমায় গেছি। ও (নিখোঁজ ছেলে) কী করছে, খাওয়া-দাওয়া কইরা প্রতিদিনের মতো ওই মসজিদের সামনে খেলতে যায়। ঠিক পৌনে ৫টায় হঠাৎ সবাই চিল্লাচিল্লি, কান্নাকাটি করে। এই সকালরে জানি কে নিয়ে গেছে—এভাবে চিল্লাপাল্লা করছে। পরে আমি দৌড়াইতে দৌড়াইতে গেছি। আমার বন্ধু যারা ছিল, তাদের দিয়ে চারদিকে হোন্ডা ছাড়ছি। কোনো জায়গায় পাইনি। পরে মাইকিং করা হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করছি, পাইনি। ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে ব্রেইন স্ট্রোক পর্যন্ত করেছি। স্ট্রোক করে এক সাইড পঙ্গু হয়ে গেছি। এখন আমি প্যারালাইজড রোগী।’ আরও পড়ুন শিশুরা হারিয়ে যাচ্ছে কোথায়, কেন? থানার সহযোগিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেসময় বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হয়েছিলেন। থানা সেই সময় ভিআইপি কেস নিয়ে ব্যস্ত ছিল। আমার কেসের উন্নতি না দেখে আমি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে গিয়ে আইজির সঙ্গে দেখা করি। সেই সময় আইজিপি ছিলেন জাবেদ পাটোয়ারী। তার সঙ্গে দেখা করি। তাকে সব বুঝিয়ে বললে তিনি আমার কেসটা পিবিআইতে হ্যান্ডওভার করেন। সে সময় একটা মাত্র ক্লু—সিসিটিভির একটা ফুটেজ ছিল। যেখানে দেখা যাচ্ছিল আমার ছেলেকে দুজন রিকশায় বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের চেহারা দেখা যায় না। এরপর পিবিআইয়ের সিআইজি বিভিন্ন জায়গায় আমার মামলার তদন্ত হলেও ছেলেকে আর খুঁজে পাইনি।’ পরিবারে স্ত্রী ও এক মেয়ে। মেয়ের বয়স ২১ বছর। আর নিখোঁজ ছেলের বর্তমান বয়স প্রায় ১৬ বছর। মেয়ে তেজগাঁও কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবার কীভাবে চলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষের সাহায্যে চলে। আমি একসময় কন্ট্রাক্টর ছিলাম। পরে আমার জমানো যা ছিল, আমার স্ত্রীর যত সোনা ছিল, সব বিক্রি করে ফকির-কবিরাজ-তান্ত্রিক—বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমি না গেছি। সে সময় আমার নগদ টাকা ছিল ২৭ লাখ টাকা। এই ২৭ লাখ টাকা শুধু ফকিরে খাইছে। এই ফকিরেই আজ আমারে রাস্তার ফকির বানিয়ে দিয়েছে। আজ আমরা টোটালি নিঃস্ব। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, এলাকার বড় ভাই-ছোট ভাই—সবার সহযোগিতায় আজ আমার সংসার চলে।’ গত ৩০ জুলাই রাজধানীর সাভার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় গার্মেন্টসকর্মী অর্চনা রানীর ছেলে যাদব কর্মকার (৫)। অর্চনা রানী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি একজন পোশাক শ্রমিক। গত জুলাই মাসের ৩০ তারিখ প্রতিদিনের মতোই অফিসে চলে যাই। এর দুই ঘণ্টা পরে আমার বাবা আমাকে ফোন দিয়ে বলে, মা, দাদুরে পাওয়া যাচ্ছে না। তা আমি কই, যাদবরে পাওয়া যাচ্ছে না। ও গেছে কই?’ আরও পড়ুন কাফরুলে শিশু অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার নারী কারাগারে ‘আমার বাবা আমার বাসায় আমার সঙ্গে থাকে। গরিব মানুষ আমরা। আমি ডিউটি করি, আর আমার বাবা ছেলেরে সঙ্গে সঙ্গে দেখে রাখে। আমি অফিসে গেলে আমার ছেলে নাকি বাবারে বলেছে, দাদু দোকানে যাব। তখন বাবা বলেছে, বৃষ্টি কমলে আমরা দোকানে যাব। তখন বাবা বলছে, তুমি আমার কাছে একটু ঘুমাও। এরপর আমার ছেলে নাকি বলছে, দাদু কার্টুন ছেড়ে দাও, আমি কার্টুন দেখি। এরপর বাবা কার্টুন চালিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে গেছে। এরপর ঘুম থেকে ফাল দিয়ে উঠে দেখে যাদব নেই। পরে আমি এসে কোনো খোঁজ না পেয়ে অটো নিয়ে পুরো এলাকায় মাইকিং করেও খোঁজ পাইনি।’ ‘পরে ওইদিন আবার থানায় গেছি। গিয়ে আমি সব বললাম। তখন তারা আমাকে বললো, ২৪ ঘণ্টা না গেলে জিডি নেবে না। পরে আমরা বললাম, একটা বাচ্চা মানুষ—২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে। পরে কী করব? জিডি নিলো না, চলে আসলাম। পরদিন গিয়ে জিডি করলাম। এই জিডি যার দায়িত্বে দিয়েছে, উনি যায়-আসে তদন্ত করে। আজ পর্যন্ত এটাই চলছে। কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।’—এই বলে কান্না করতে করতে ছেলের সন্ধান চান তিনি। কোনো সময় মুক্তিপণ চেয়ে ফোন এসেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো ফোন আসেনি।’ আগস্ট মাসের ৩০ তারিখ রোববার বনানী সৈনিক ক্লাব ফুটওভার ব্রিজে জুতা কিনতে গিয়ে বড় মেয়ে সাইবাকে (৪) হারিয়ে ফেলেন বিথী। বিথী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগস্ট মাসের ৩০ তারিখ রোববার বিকেল আনুমানিক ৫টা। আমি আমার মাইয়া দুইডারে লইয়া বিকালে সৈনিক ক্লাব ফুটওভার ব্রিজে জুতা কিনতে গেছিলাম। বড় মেয়ের জন্য জুতা কিনতে গেছি। ছোট মেয়ের বয়স ১ বছর। ও আমার কোলে। আর বড় মেয়ের হাতটা ছেড়ে জুতা দেখছি, দাম-দর করে জুতাটা কিনছি। এরপর পিছে তাকায় দেখি আমার মেয়ে নেই। ব্রিজের ওপর ছিলাম। সঙ্গে সঙ্গেই আমার মায়েডারে খুঁজছি, যে গেল কই। খুঁজে দেখি আশপাশের কোনো জায়গায় নেই। পায়ে হেঁটে যতটুকু খোঁজা যায়, সবটুকু খুঁজছি। আশপাশে যত জায়গা আছে, সব খুঁজে ফেলেছি।’ তিনি বলেন, ‘বনানীর সোসাইটিতে আমি কাজ করতাম। এরপর মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমার স্বামীকে ফোন দিয়ে বলেছি, সাইবার আব্বু, আমি তো সাইবারে পাইতেছি না। জুতা কিনতে গিয়ে হাতটা ছাড়ছি আর সাইবারে খুইজ্জা পাইতাছি না। এরপর সঙ্গে সঙ্গে ওর আব্বু চলে আসলো। আমরা দুজন মিলে অনেক খুঁজছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। পরে ৭টার দিকে থানায় গিয়ে কইলাম—স্যার, আমার মাইয়াটা হারায় গেছে। তখন স্যার বলে, তোমাদের বাচ্চা তোমরা খেয়াল রাখো না কেন? তোমাদের বাচ্চা হারায় গেছে, এইডা কি আমরা খুঁজে দিবো? তারপর বলে, ২৪ ঘণ্টার আগে জিডি নেওয়া হয় না। যাও, আরও খোঁজো।’ আরও পড়ুন গোসলে নেমে দুই রোহিঙ্গা শিশু নিখোঁজ, একজনের মরদেহ উদ্ধার ‘তারপর আমরা গিয়ে আবার সবদিকে অনেক খুঁজলাম। রাত ১০টার দিকে আবার থানায় গিয়ে বললাম—স্যার, এমন জায়গা বাদ নেই যে খুঁজিনি। পুরো বনানী হেঁটে হেঁটে খুঁজেছি, কিন্তু আমার মাইয়ারে তো পাইলাম না। এরপরও আমার জিডি নিলো না। আমি আমার আম্মুরে ফোন দিলাম—আম্মু, আমার মাইয়াডা হারায় গেছে। থানাতো জিডি নিতেছে না। পরদিন সকালেই আম্মু চলে আসছে। এসে আমার সঙ্গে থানায় গিয়ে অনেক অনুরোধ করার পরও জিডি নিলো না। পরে আম্মু এক ম্যাডামরে ধরছে। আম্মু ম্যাডামরে সবকিছু বুঝাইয়া বললো। পরে বড় ওসির সঙ্গে কথা বইলা জিডির অনুমোদন করায় দিলো। পরে ওইদিনও জিডি হলো না। কইলো, আজকে সার্ভারের সমস্যা। আপনারা কালকে আসেন। পরদিন মঙ্গলবার আবার গেলাম। আমার মাইয়া হারাইছে রোববার আর মঙ্গলবার ৩টায় জিডিটা হাতে দেছে।’ মহিলা পরিষদের উদ্বেগ এদিকে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সম্প্রতি শিশু নিখোঁজ ও গুম হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের নিখোঁজ ও গুম হওয়ার ঘটনা ঘটছে। নিখোঁজ শিশুদের কেউ কেউ বাড়ির সামনে খেলা করতে গিয়ে, স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে, বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের প্রলোভনের শিকার হয়ে, অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হচ্ছে। চলতি বছর সাত মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশু নিখোঁজ ও গুম হয়ে যাওয়ার ঘটনা আতঙ্কজনক। উদ্বেগজনকভাবে শিশু নিখোঁজ বেড়ে যাওয়া সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা তৈরি করছে এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সূচক তৈরি করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা শিশু কোনো পাচার চক্রের শিকার হচ্ছে কি না বা কোনো অসাধু অপরাধজগতে পা রাখছে কি না, তা নিয়ে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আকস্মিকভাবে শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছে। আরও পড়ুন নিখোঁজের পাঁচদিন পর ২ বছরের শিশু উদ্ধার নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজের সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান সরকারকে এ নোটিশ দেন। এই সাত মাসে যত শিশু অপহরণ হয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগ হয়েছে জয়পুরহাটে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে অপহৃত শিশুদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ জয়পুরহাটের। আমাদের যে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার আছে, তারা তাদের বাড়ি গিয়েছে। তাদের বাবা-মায়ের কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছে। অধিকাংশই বলেছে, আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। নোটিশে সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে শিশু নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধ, নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধার, কেন্দ্রীয় মিসিং চিলড্রেন ডেটাবেজ/পোর্টাল প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট সিস্টেম চালুসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। অপহরণের চেয়ে নিখোঁজ বেশি শিশু নিখোঁজের বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অপহরণের চেয়ে নিখোঁজের সংখ্যাটা বেশি। এমন অপহরণ আবার হচ্ছে না যে ওদের কাছ থেকে মুক্তিপণ চাচ্ছে।’ ‘অনেকেই সন্তান নিখোঁজ হলে জানায় না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সাত মাসে যত শিশু অপহরণ হয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগ হয়েছে জয়পুরহাটে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে অপহৃত শিশুদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ জয়পুরহাটের। আমাদের যে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার আছে, তারা তাদের বাড়ি গিয়েছে। তাদের বাবা-মায়ের কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছে। অধিকাংশই বলেছে, আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। জয়পুরহাটের কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে চায়নি। বলে, আমাদের শিশু নিখোঁজ হয়েছে, আমরা কাউকে বলিনি, থানায় যাইনি—আপনারা কেন আমাদের ঝামেলা করছেন।’ তিনি বলেন, ‘যদি আইনি ঝামেলা বা জিডি করতে গিয়ে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের বললে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ শিশু ও কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাদিয়া আফরিন জাগো নিউজকে বলেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে মতপার্থক্য বা দ্বন্দ্ব, স্কুলে বুলিং এবং পারিবারিক পরিবেশে সমস্যা থাকলে অনেক সময় এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ বা দাম্পত্য কলহের কারণেও শিশুরা আবেগীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। তখন রাগ বা আবেগের বশে হঠাৎ বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে চলে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, আচরণগত সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক সময় শিশুরা এতটাই আবেগপ্রবণ ও সিদ্ধান্তে আবেগনির্ভর হয়ে পড়ে যে, বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই বাসার বাইরে চলে যায়। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পরিবারে যতটা নিরাপদ, বাইরের জগৎ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এ বিষয়ে যথেষ্ট পরিপক্বতা থাকে না। ফলে তাদের সহজেই ফুসলিয়ে কোথাও নিয়ে যাওয়া বা অপহরণ করা সম্ভব হয়। ডা. সাদিয়া আফরিন বলেন, শিশু অপহরণ বা তাদের শিশুশ্রমে নিয়োজিত করা বড় ধরনের অপরাধ। তাই পরিবারে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের আবেগীয় ও সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে বাবা-মায়ের সচেতন থাকা জরুরি। রাগের সময় ‘বাসা থেকে বের হয়ে যা’, এ ধরনের কথা বলা থেকেও অভিভাবকদের বিরত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিশু হঠাৎ চুপ হয়ে গেলে, অতিরিক্ত রাগারাগি করলে বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে অভিভাবকরা সচেতন হয়ে তাদের বোঝার চেষ্টা করলে রাগের বশে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় অনুমতি ছাড়া বাইরে থাকার প্রবণতা কমানো সম্ভব। কেআর/এসএইচএস/এমএফএ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. রনি (২৯), মো. হৃদয় গাজী (২৬), রহিম হাসান ওরফে ইয়াহিয়া (২৫) ও মোহাম্মদ ফয়সাল (২৬)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। আরও পড়ুন মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেআর/বিএ
রাজধানীর উত্তরখানে একটি অটো গ্যারেজে গোপনে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার আটজনকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের সদস্য সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা যাচাই এবং নাশকতার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন নাশকতার পরিকল্পনা: আওয়ামী লীগের আরও ২২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- মো. মাজহারুল ইসলাম ওরফে রায়হান (৩২), মো. রাকিব (২৩), মো. তানভীর খান (২৬), মো. আবদুর রহমান (৪০), মো. সিফাত (২০), মো. মাহফুজুর রহমান (২৪), মো. আশিক মিয়া (২৩) ও মো. বকুল আহমেদ ওরফে রাজু (২৪)। যেসব কারণে রিমান্ড মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরখান থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে উসকানিদাতা বা পৃষ্ঠপোষকদের নাম-ঠিকানা বের করার জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তবে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার দিপু রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরও পড়ুন গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ২৫ জন রিমান্ডে মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার রাতে উত্তরখানের পুরানপাড়ার একটি অটো গ্যারেজে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য একত্রিত হন। সেখানে তারা সরকার ও সাধারণ মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ওই অটো গ্যারেজে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে সেখানে থাকা আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তরখান থানার এসআই মো. জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এমডিএএ/ইএ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। রোববার বিকেলে বাংলামোটরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সভায় ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা নিরসন, ‘জুলাই শহীদদের’ পরিবারের পাশে থাকা এবং ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের’ তৎপরতা প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম অমিত ঘোষ (১৬)। সে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার উচ্চমাধ্যমিকের (দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্কুলটির শিক্ষকরা। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, রোববার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় সে। উপুড় হয়ে পড়ায় তার নাক-মুখ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সেখান থেকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মালিবাগ ক্যাম্পাসের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মাধ্যমের দিবা শাখার অভিভাবকদের গ্রুপে গণিতের শিক্ষক গোপাল দেবনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী anime নামক মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে আজ ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। সে সুইসাইড নোট রেখে গেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’ বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষক গোপাল দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে লাফ দিয়েছে, এটুকুই শুনেছি। কিন্তু সে লাফ দিয়েছে, নাকি পড়ে গেছে তা জানি না। আর তার ব্যাগে নাকি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সবই শুনেছি। আমি কিছু দেখিনি।’ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক শাকিলা আক্তার দীপা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের একটি ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের একটা ছেলে নিজে নিজেই লাফ দিয়েছে। সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে ওর ব্যাগে। সঙ্গে সঙ্গে ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন ওর কী অবস্থা তা বলতে পারছি না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সামনেই ঘটনাটা ঘটেছে। এখনো আমার হাত-পা কাঁপছে। স্থির হতে পারছি না। একদম মুখ-চোখ থেতলে গেছে। ছেলেটা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠুক সেই দোয়া করি।’ এদিকে, সুইসাইড নোটে অমিত ঘোষ কী লিখে গেছে, তা জানা যায়নি। তবে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক জানিয়েছেন, ছেলেটা পড়ালেখার চাপের কথা সুইসাইড নোটে লিখে গেছে। তবে কেউ কেউ বলছে, সুইসাইড নোট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। স্কুলের দুজন শিক্ষক বলেন, ৬ নম্বর ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ১১ তলার ছাদ খোলা। সেখানে এখনো কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়া নিষেধ। তারপরও কেন অমিত ঘোষ সেখানে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম, উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনকল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অমিত ঘোষের পরিবারের একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, সকালে আহত শিক্ষার্থী অমিত ঘোষকে ঢামেকে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢামেক থেকে তার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এএএইচ/এমকেআর
ম্যাক্স মূলত রাশিয়ার নিজস্ব ‘সুপার অ্যাপ’। এই অ্যাপে বিভিন্ন ধরনের সেবা একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। যা রাশিয়ার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। তবে সম্প্রতি এক গবেষণা বলছে, নজরদারির জন্য ম্যাক্স অ্যাপ হলো সবচেয়ে চতুর এবং ভীতিকর এক মাধ্যম। ম্যাক্স অ্যাপটি তৈরি করেছে রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি ‘ভিকোনতাকতে’। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশটির সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাশিয়ায় গত দেড় বছরে দেশটির কয়েক কোটি মানুষকে তাদের মোবাইল ফোনে একটি নতুন অ্যাপ ইনস্টল করতে বাধ্য করা হয়েছে। রঙিন আইকনযুক্ত বার্তা আদান–প্রদান ও লেনদেনের এই অ্যাপটির নাম ‘ম্যাক্স’। তবে গবেষণা বলছে, এই অ্যাপ আসলে ব্যবহারকারীদের ফোনে নজরদারির ‘গোপন প্রবেশদ্বার’ হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে সরকারের নজরদারি চলছে। রুশ কর্তৃপক্ষ এই অ্যাপটিকে যোগাযোগের অ্যাপ টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের ‘দেশপ্রেমিক বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরেছে। দেশটির নামীদামি তারকারাও তাঁদের র্যাপ ভিডিও এবং কমেডি শোতে এই অ্যাপের প্রচারণা চালিয়েছেন। ফলে চলতি গ্রীষ্মেই এটি রাশিয়ার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপে পরিণত হয়েছে। অ্যাপটি তৈরি করেছে রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি ‘ভিকোনতাকতে’। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশটির সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। জানা গেছে, এই অ্যাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও পরোক্ষ মালিকানা রয়েছে। ম্যাক্স মূলত রাশিয়ার নিজস্ব ‘সুপার অ্যাপ’, যেখানে বিভিন্ন ধরনের সেবা একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। এটি এমন এক অ্যাপ, যার ভেতর একাধিক ‘মিনি অ্যাপ’ রয়েছে—যেগুলো রাশিয়ার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং সেবা, টেলিগ্রামের বিকল্প হিসেবে মেসেজিং সেবা এবং সরকারের নানা সেবা প্রদানকারী অ্যাপ। বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সুপার অ্যাপ হলো চীনের ‘উইচ্যাট’, যা দেশটির সব ধরনের সেবার পাশাপাশি সরকারের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির মূল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তবে উইচ্যাট যেখানে চীনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে বহু দশক ধরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে, সেখানে ম্যাক্সকে হঠাৎ করেই এমন এক জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা একসময় অনেকটাই মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেত। সাম্প্রতিক এক ফরেনসিক গবেষণায় ম্যাক্সের ভয়াবহ নজরদারি ক্ষমতার বিস্তারিত চিত্র সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক রয়া এনসাফি বলেন, ম্যাক্স অ্যাপের ক্ষমতা মূলত প্রতিটি ব্যবহারকারীর ডিভাইসে থাকা পুরো মিনি অ্যাপ ইকোসিস্টেমে একটি ‘গোপন প্রবেশদ্বারের’ শামিল। নিকোলাই, মস্কোর বাসিন্দাম্যাক্স অ্যাপ ব্যবহার করার সময় মনে হয়—আপনি জানেন না আর কে বা কারা আপনাকে নজরদারিতে রাখছে।...এটি ব্যবহারের সময় সব সময় একটা অশুভ অনুভূতির সৃষ্টি হয়। রয়া এনসাফি বলেন, ‘আমরা এক দশক ধরে রাশিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের তীব্রতা বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করেছি। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো তাদের নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালাতে এযাবৎ যেসব কৌশল নিয়েছে, তার মধ্যে ম্যাক্স হলো সবচেয়ে চতুর এবং ভীতিকর একটি মাধ্যম।’ তিনি বলেন, ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ম্যাক্স হলো যেকোনো সরকারের জন্য অনুকরণীয় একটি নীলনকশা বা ব্লুপ্রিন্ট। এটি ইরান, কাজাখস্তান ও ভারতের মতো সরকারগুলো সামনে যা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে, তার এক অত্যাধুনিক রূপ প্রদর্শন করছে। ইরানকে সমর্থনের ঘোষণা পুতিনের, বললেন—‘ক্ষুধার্ত হাঙরের’ দাঁতভাঙা জবাব দেবে রাশিয়া এনসাফির গবেষক দল রাশিয়ায় ব্যবহৃত অ্যাপটির একটি সংস্করণ ডাউনলোড করতে সক্ষম হয়। তাতে দেখা যায়, ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ডিভাইসের স্ক্রিনশট এবং এর মিনি অ্যাপগুলোর তথ্যের ছবি তুলতে পারে ম্যাক্স। এটি এসব মিনি অ্যাপে জমা থাকা সব তথ্য, বার্তা এবং আর্থিক লেনদেনের হিসাবে প্রবেশ করতে সক্ষম। এমনকি ব্যবহারকারী টের পাওয়ার আগেই তার পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কাউকে বিভ্রান্তও করতে পারে অ্যাপটি। সাম্প্রতিক এক ফরেনসিক গবেষণায় ম্যাক্স অ্যাপের ভয়াবহ নজরদারি ক্ষমতার বিস্তারিত চিত্র সামনে এসেছে এমনকি মিনি অ্যাপগুলোর ভেতর ক্ষতিকর কোড প্রবেশের সুযোগও রয়েছে ম্যাক্স অ্যাপে। এনসাফির মতে, এর অর্থ হলো রাশিয়ার সরকার চাইলে ম্যাক্সকে ব্যবহার করে সাইবার হামলাও চালাতে পারবে। এই গবেষণা ম্যাক্সের নজরদারি ক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এনসাফি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে জানান, ব্যবহারকারীদের ফোনে যদি টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করা থাকে, তবে অ্যাপটি সরাসরি সেগুলোতে ঢুকতে পারে না। যদিও রাশিয়া ইতিমধ্যে এই দুটি অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে। রাশিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান বা এর সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মরত বহু নাগরিককে কার্যত ‘ম্যাক্স’ ব্যবহারে বাধ্য করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এমনকি স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ এই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ডিভাইসের স্ক্রিনশট এবং এর মিনি অ্যাপগুলোর তথ্যের ছবি তুলতে পারে ম্যাক্স। এটি মিনি অ্যাপে জমা থাকা সব তথ্য, বার্তা এবং আর্থিক লেনদেনের হিসাবে প্রবেশ করতে সক্ষম। মস্কোর একজন স্কুলশিক্ষক জানান, নগর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পর তাঁদের স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের যোগাযোগের সব কাজ ম্যাক্সে স্থানান্তরিত করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘গত বছরের মার্চে আমাদের স্কুলের প্রধান আমাদের সরাসরি ডেকে বলেন, এখন থেকে সবকিছুই ম্যাক্সে হবে। এর মধ্যে অভিভাবকদের সঙ্গে চ্যাট, হোমওয়ার্ক পাঠানো এবং স্কুলের অন্য সব যোগাযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে “না” বলার আসলেই কোনো সুযোগ নেই। তাই শেষ পর্যন্ত অ্যাপটি ব্যবহার করতেই হয়।’ সেন্ট পিটার্সবার্গের এক বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী দানিল। তিনি বলেন, শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে ম্যাক্স অ্যাপটি ডাউনলোড করতে বাধ্য হন। তাঁকে জানানো হয়েছিল, এই অ্যাপের মাধ্যমে তৈরি কিউআর কোড ছাড়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন বা হলে প্রবেশ করতে পারবে না। ইউক্রেনে পুতিনের এ কেমন তাণ্ডব, কে থামাবে? দানিল জানান, অ্যাপটির নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে তাঁর মনে সংশয় ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতে এর বাইরে কোনো বিকল্প ছিল না বললেই চলে। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীর মতে, রাশিয়ার অভিজাত শ্রেণির কাছে ম্যাক্স অ্যাপটির ব্যবহার কেবল লোকদেখানো। দৈনন্দিন যোগাযোগের জন্য তাঁরা এখনো টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছেন। ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু শুধু ম্যাক্স ব্যবহার করার জন্যই আলাদা ফোন কিনেছেন। আর আগের মতোই তাঁদের প্রধান ফোন এবং পছন্দের মেসেজিং অ্যাপগুলো দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে যাচ্ছেন। ‘এসবই লোকদেখানো। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ সত্যি সত্যি এটা ব্যবহার করে না’, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন ওই ব্যক্তি। রয়া এনসাফি, সহযোগী অধ্যাপক, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়আমরা এক দশক ধরে রাশিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের তীব্রতা বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করেছি। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো তাদের নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালাতে এযাবৎ যেসব কৌশল নিয়েছে, তার মধ্যে ম্যাক্স হলো সবচেয়ে চতুর এবং ভীতিকর একটি মাধ্যম। খবরের প্রধান উৎস হিসেবে রাশিয়ার মানুষের কাছে টেলিগ্রাম অ্যাপের জায়গা এখনো দখল করতে পারেনি ম্যাক্স। গণমাধ্যম, ব্লগার এবং সরকারি কর্মকর্তারা বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে সংবাদ ও মতামত পৌঁছে দিতে যে পাবলিক চ্যানেলগুলো ব্যবহার করেন, সেগুলো ম্যাক্সে এখনো তেমন উন্নত নয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কয়েকজন ‘ম্যাক্স’ ব্যবহারকারী জানান, অ্যাপটির ডিজাইন এবং কাজের ধরন রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় বার্তা আদান–প্রদানের প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের মতোই। তবে এর গোপনীয়তা এবং সম্ভাব্য নজরদারি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। মিনি-অ্যাপগুলোর মধ্যে ক্ষতিকর কোড প্রবেশের সুযোগও রয়েছে ম্যাক্স অ্যাপে। এনসাফির মতে, এর অর্থ হলো রাশিয়ার সরকার চাইলে ম্যাক্সকে ব্যবহার করে সাইবার হামলাও চালাতে পারবে। মস্কোর ৩৪ বছর বয়সী বাসিন্দা নিকোলাই বলেন, ‘ম্যাক্স ব্যবহার করার সময় মনে হয়—আপনি জানেন না আর কে বা কারা আপনাকে নজরদারিতে রাখছে।’ অ্যাপটি দেখতে বেশ আধুনিক এবং আকর্ষণীয় হলেও নিকোলাই জানান, এটি ব্যবহারের সময় সব সময় একটা অশুভ অনুভূতির সৃষ্টি হয়। ‘অন্য অ্যাপগুলোর বিকল্প সুবিধা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে এটি বেশি বেশি ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু তা–ও মনে হয় কোথাও যেন একটা বড় ভুল থেকে যাচ্ছে’, উল্লেখ করেন তিনি। ম্যাক্সকে এত দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সাফল্যকে একটি ‘সতর্কবার্তাসূচক সংকেত’ হিসেবে দেখা উচিত বলে মনে করেন রয়া এনসাফি। চীন ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রায় ৩৫ বছর সময় নিয়েছে। অথচ রাশিয়া মাত্র এক দশকের মধ্যেই মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারকে পুরোপুরি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত–ব্যবস্থার মধ্যে বন্দী করে এই কঠোর বিধিনিষেধ চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। রয়া এনসাফি বলেন, ‘পৃথিবী বদলে যাচ্ছে, ব্যক্তিগত যোগাযোগের যে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো—তা–ও পরিবর্তিত হচ্ছে। আর কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোর পক্ষ থেকে আসা এই আক্রমণাত্মক নিয়ন্ত্রণচেষ্টাও অত্যন্ত তীব্র।’ গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ম্যাক্স ও ভিকোনতাকতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
গ্রিনল্যান্ডকে দখল বা অধিগ্রহণ করার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের হুমকির পর এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হলো। তিনি জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, প্রতিরক্ষার দিক থেকে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং এর খনিজ সম্পদের কারণে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা; মসজিদে গোপন বৈঠক চলাকালে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক; পাঁচ বছরের মধ্যে এখন কারাগারে বন্দির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি- এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোয়।
বিদ্যুতের বিল নিয়ে সম্প্রতি গ্রাহকদের বড় ধরনের অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। জুন মাসে নতুন দাম নির্ধারণের পর শহর-গ্রাম নির্বিশেষে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচন চিহ্ন নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের পরে মমতা ব্যানার্জী নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ড. জাফর ইকবাল এবং অধ্যাপক মাকসুদ কামালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগপত্রে কোন বিষয়গুলো এনেছে প্রসিকিউশন? অভিযোগপত্র দাখিল এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কী বলছেন মানবাধকারকর্মী এবং আইন বিশেষজ্ঞরা?
প্রশ্ন: শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে? উত্তর: নামাজের শেষ বৈঠকে দরুদ দুইবার পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। তবে দরুদ একবার পড়াই নিয়ম। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা যাবে না। ভুলে হলে অসুবিধা নেই। বৈঠক বা হাঁটুগেড়ে বসা নামাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নামাজের প্রতি দুই রাকাত পর বৈঠক করতে হয়। দুই রাকাতবিশিষ্ট নামাজের শেষে বৈঠক করা ফরজ, চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের প্রথম দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ওয়াজিব এবং শেষের বৈঠক ফরজ। নামাজের প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া সুন্নত। আরও পড়ুন অপ্রয়োজনে গলা খাঁকারি দিলে কি নামাজ ভেঙে যাবে? চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুআকক্কাদা নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পরে আর কিছু পড়া যায় না। কেউ যদি ভুল করে এ সব নামাজের প্রথম বৈঠকে দরুদ বা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। তবে চার রাকাতবিশিষ্ট নফল নামাজের প্রথম বৈঠকে দরুদ শরিফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া যায়; বরং ফকিহরা চার রাকাতবিশিষ্ট নফল নামাজের প্রথব বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ ও দুআয়ে মাসুরা পড়া উত্তম বলেছেন। তাই কেউ যদি নফল নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ইচ্ছাকৃত বা ভুল করে দরুদ বা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ফেলে, তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। অর্থ ও উচ্চারণসহ দরুদে ইবরাহিমি اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ। অর্থ: হে আল্লাহ! উম্মি নবি মুহাম্মাদের ওপর এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিমের ওপর এবং ইবরাহিমের পরিবারের ওপর। উম্মি নবি মুহাম্মাদ ও তার পরিবারকে বরকত দান করুন, যেমন ইবরাহিম ও তার পরিবারকে বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। (সুনানে দারাকুতনি) আরও পড়ুন শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেলে কসর নামাজ পড়তে হবে? ওএফএফ
‘যত হাসি তত কান্না, বলে গেছে রাম সন্না’ বাংলা ভাষায় বহুল পরিচিত একটি প্রবাদ। কারো জীবনে যখন অতিরিক্ত আনন্দ আসে, তখন বয়স্করা অনেক সময় সতর্ক করে বলেন, ‘বেশি হাসতে নেই, যত হাসি তত কান্না।’ কথাটির মধ্যে রয়েছে জীবনের সুখ-দুঃখের ওঠানামার একটি সহজ দর্শন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই রাম সন্না আসলে কে? সত্যিই কি এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন, যিনি এই কথা বলে গিয়েছিলেন? রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত পরিচয় হলো তিনি ছিলেন রামশংকর শর্মা। তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। রামশংকর শর্মা নামে এমন একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন এবং তার জীবনী ‘আত্মচরিত’ নামে একটি বই লিখেছিলেন এমন একটি কাহিনি বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় গোয়েন্দা উপন্যাসে পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাধীন ঐতিহাসিক সূত্রে এই ব্যক্তির জীবন ও প্রবাদটির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ সহজে পাওয়া যায় না। আরও পড়ুন নেতারও ছাড় নেই, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ঠান্ডা পানিতে চুবানো হয়! রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত গল্পটি পাওয়া যায় কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের কর্নেল সিরিজের ‘বলে গেছেন রাম সন্না’ বইয়ে। সেখানে কর্নেল নীলাদ্রি সরকার রাম সন্নার পরিচয় হিসেবে ‘রামশংকর শর্মা’ নামটি উল্লেখ করেন। বইয়ের কাহিনি অনুযায়ী, রামশংকর অল্প বয়সে বাড়ি ছেড়ে জাহাজে সি-বয়ের চাকরি নেন। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। জীবনের শেষদিকে নদিয়ার একটি গ্রামে ফিরে এসে নিজের পৈতৃক ভিটায় বড় বাড়ি তৈরি করেন। সেই কাহিনিতে আরও বলা হয়েছে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় রামশংকর গোপনে বিদ্রোহীদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এ কারণে ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে তার বিচার হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়। ফাঁসির সেলে থাকার সময় তিনি নিজের জীবনী ‘আত্মচরিত’ লিখেছিলেন বলেও উপন্যাসে উল্লেখ রয়েছে। পরে তার ভাই শ্যামশংকর সরকারের অনুমতি নিয়ে বইটি প্রকাশ করেন। শুনতে অনেকটা ইতিহাসের গল্পের মতো হলেও সমস্যা হলো, এই তথ্যগুলোর বড় অংশই পাওয়া যায় কথাসাহিত্যের ভেতরে। ফলে উপন্যাসে বর্ণিত ঘটনাগুলোকে সরাসরি ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। এমনকি রাম সন্নার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে যেসব লেখালেখি হয়েছে, সেখানেও এই তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আরও পড়ুন ৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে তাহলে প্রবাদটি এলো কীভাবে? এখানেও নিশ্চিত ইতিহাসের বদলে লোকমুখে প্রচলিত ভাষার বিবর্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। বাংলার লোকজ প্রবাদে কোনো একটি কথা অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে প্রচলিত হয়ে যায়। সেই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় সময়ের সঙ্গে অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। ‘রাম সন্না’ও তেমন কোনো লোকচরিত্র বা প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে থাকতে পারেন। প্রবাদটির মূল বক্তব্য অবশ্য বেশ পরিষ্কার। জীবনে যেমন আনন্দ আছে, তেমনি দুঃখও আছে। অতিরিক্ত আনন্দের পর হতাশা আসতে পারে, সুখের সময়ের পর কঠিন সময়ও আসতে পারে। তাই কথাটি মূলত মানুষকে জীবনের উত্থান-পতন সম্পর্কে সচেতন করে। অর্থাৎ ‘যত হাসি তত কান্না’ কথাটি আক্ষরিক অর্থে যতবার হাসা হবে, ঠিক ততবার কাঁদতে হবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক বা গাণিতিক নিয়ম নয়। এটি জীবনের ভারসাম্য ও অনিশ্চয়তার একটি রূপক ব্যাখ্যা। বাংলা সাহিত্যেও এই প্রবাদের ব্যবহার বেশ পুরোনো ও পরিচিত। হুমায়ূন আহমেদের ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে ‘যত হাসি তত কান্না, কহে গেল রাম সন্না’ এই ছন্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রবাদটি শুধু মুখে মুখে নয়, বাংলা কথাসাহিত্যের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছে। আহসান হাবীবও তার একটি বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘যত হাসি তত কান্না বলে গেছে রাম সন্না’। বইটির নামের মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, রাম সন্না নামটি বাংলা সংস্কৃতিতে কতটা পরিচিত একটি প্রবাদপ্রতিম চরিত্রে পরিণত হয়েছে। তবে তিনিও রাম সন্নার নিশ্চিত ঐতিহাসিক জীবনী তুলে ধরেছেন এমন প্রমাণ নেই। আরেকটি মজার বিষয় হলো, ‘রাম সন্না’ নামটি নিয়েও ভিন্নতা দেখা যায়। কোথাও ‘রাম সন্না’, কোথাও ‘রাম সন্যা’, আবার কোথাও রামশংকর শর্মার সঙ্গে নামটি যুক্ত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুখে মুখে চলতে চলতে প্রবাদের শব্দ ও চরিত্রের পরিচয়েও পরিবর্তন এসেছে। আরও পড়ুন সিলেটের আছে নিজস্ব বর্ণমালা, ঐতিহ্য ফিরছে সাইনবোর্ডে তবে এই প্রবাদের জনপ্রিয়তার আসল কারণ সম্ভবত রাম সন্নার পরিচয় নয়, বরং কথাটির সহজ জীবনদর্শন। মানুষ আনন্দের সময় যেমন ভবিষ্যৎ ভুলে যায়, তেমনি দুঃখের সময়ও মনে হয় এই পরিস্থিতি বুঝি আর শেষ হবে না। ‘যত হাসি তত কান্না’ সেই দুই অবস্থার মাঝখানে দাঁড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় জীবন কখনো একই রকম থাকে না। তাই রাম সন্না সত্যিই ইতিহাসের কোনো ব্যক্তি ছিলেন, নাকি লোককথা ও সাহিত্যের হাত ধরে তৈরি হওয়া এক প্রবাদপ্রতিম চরিত্র তার নিশ্চিত উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। রামশংকর শর্মা সম্পর্কিত কাহিনির উল্লেখ থাকলেও সেটিকে ঐতিহাসিক সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করার মতো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার পরিচয় যতই অস্পষ্ট হোক, বাংলা ভাষার প্রবাদে রাম সন্না বেশ পরিচিত। আর তার নামে চালু হওয়া একটি ছোট্ট বাক্য আজও বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয় জীবনে যেমন হাসি আছে, তেমনি কান্নাও আছে। কেএসকে
আজ মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক পবিত্র স্থান পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে সুশোভিত হবে। এ উপলক্ষে দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত যত্ন, শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে, যা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও কাবা শরিফ ধৌতকরণ কার্যক্রম সুপরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রস্তুতি পর্বে সকল প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ধৌতকরণ ও সুগন্ধিকরণের জন্য বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এ মিশ্রণে ব্যবহার করা হয় ১৫ লিটার পবিত্র জমজমের পানি, ১৫ লিটার তাইফের গোলাপ পানি, ১৫ লিটার গোলাপ তেল এবং ১০০ মিলিলিটার উৎকৃষ্ট মানের উদ (আগর) তেল। এ ছাড়া ধৌতকরণ চলাকালে কাবার গিলাফ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দরজার আবরণের নিচের অংশ সতর্কতার সঙ্গে উপরে তুলে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় মূল ধৌতকরণ পর্ব। বিশেষভাবে প্রস্তুত করা কাপড়ের সাহায্যে জমজমের পানি ও তাইফের গোলাপ পানির মিশ্রণ দিয়ে কাবা শরিফের অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ এবং মেঝে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। সবশেষে সুগন্ধিকরণ ও ধূপন পর্ব। এ সময় কাবা শরিফের ভেতরের দেয়াল ও কোণাগুলো উৎকৃষ্ট মানের উদ তেল ও আম্বর দিয়ে সুগন্ধিত করা হয়। পরে মনোমুগ্ধকর সুগন্ধি ও ধূপের সুবাসে কাবার অভ্যন্তর ভরে ওঠে। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে নতুন আবেগ ও ভালোবাসার সঞ্চার করে। দুই পবিত্র মসজিদের সাধারণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ ও সরঞ্জাম আগেভাগেই সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশুদ্ধতা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করেই সম্পন্ন করা হবে কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই আধ্যাত্মিক আয়োজন
পবিত্র হজ পালন শেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ৬৪ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। এ বছর হজ করতে গিয়ে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (২৪ জুন) হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ৮৮০ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
দলের সবাই পরেছিলেন টি–শার্টটা, বাদ ছিলেন শুধু তাঁরা তিনজন—কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইব্রাহিমা কোনাতে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তিন ফুটবলার ও তাঁদের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে। এবার এ নিয়ে মুখ খুলেছেন রিয়ালের ফরাসি ফরোয়ার্ড।মঙ্গলবার লা লিগায় এলচের মুখোমুখি হওয়ার আগে রিয়াল মাদ্রিদ ‘আমরা সবাই সেউতার বাসিন্দা’ লেখা টি-শার্ট পরতে সম্মত হয়েছিল। গত জুলাইয়ে মরক্কো থেকে ব্যাপক অভিবাসী ঢলের পর স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন এই ছিটমহলের মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এই উদ্যোগ নেয়।যৌথ সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস ও কোনাতেরা জার্সিটি গায়ে পরেননি। ম্যাচ শুরুর আগে এই তিনজন পোশাকটি গুটিয়ে বুকের কাছে তুলে ধরেন, তাতে ‘আমরা সবাই সেউতার বাসিন্দা’ লেখাটি ঢেকে যায়।এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া এমবাপ্পে এএসকে জানান, কেন তাঁরা দলের বাকিদের মতো সেউতার টি–শার্ট পরেননি, ‘টি–শার্ট পরার সিদ্ধান্ত ক্লাবের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের তা পরতে হতো। প্রথমত আমি বলতে চাই, আমি সেউতা এবং এর সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। কারণ, একজন ফুটবলার হওয়ার আগে আমি একজন মানুষ।’এমবাপ্পের বাবা-মা আলজেরিয়া ও ক্যামেরুন থেকে ফ্রান্সে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। এমবাপ্পের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফ্রান্সে। একটি অভিবাসী পরিবারের সদস্য হিসেবে এ ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর যন্ত্রণা ভালোভাবেই বোঝেন এমবাপ্পে। সেউতার জনগণের দুর্ভোগের বিপরীতে মরক্কো থেকে ছুটে আসা অভিবাসীদের কষ্টের বিষয়ও যে আছে, সেটি ভুলে যাননি রিয়ালে খেলা এই ফরোয়ার্ড, ‘যেসব অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন এবং যাঁরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, আমি তাঁদের সমর্থনেও দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। এটা খুব কঠিন এক অবস্থান ছিল। কারণ, মানুষ হয়তো ভেবে বসতে পারে যে আমি সেউতার মানুষের বিপক্ষে। কিন্তু না, একদমই তা নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে আমার কিছুই বলার নেই এবং মনেপ্রাণে আমি তাঁদের সমর্থন করি। তবে কষ্ট ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হওয়া প্রত্যেক মানুষের পাশেও আমি দাঁড়াতে চেয়েছিলাম।’ম্যাচের আগে বিশেষ জার্সি পরেছিলেন এলচে ও রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা।সেউতা মরক্কো সীমান্তে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী স্পেনের ভূখণ্ডে ঢোকার উদ্দেশ্যে সেউতায় চলে আসেন, যা ৮৫ হাজার জনগোষ্ঠীর ছোট্ট শহরটির জন্য পরিণত হয় বড় ধরনের সংকটে। আকস্মিক ও বিপুল এই মানুষের ঢলে স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান আর স্থানীয় প্রশাসনের ওপর তীব্র চাপ পড়ে। দুই পক্ষের জন্যই সহমর্মিতার কথা জানিয়েছেন এমবাপ্পে।ফরাসি তারকা বলেন, ‘আমি একজন মানুষ এবং আমি একজনের কষ্টকে অন্যজনের চেয়ে ছোট বা বড় করে দেখতে চাই না। মানুষ কষ্টে আছে এবং পৃথিবীতে এমনটা দেখতে আমার খুব কষ্ট হয়। আমি এমন একজন যে পুরো বিশ্বের কল্যাণ চাই। আমি ইতিবাচকতা ও শান্তির বার্তা পৌঁছাতে চাই এবং আশা করি, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।’এমবাপ্পে–ভিনিদের বিশেষ জার্সি না পরা নিয়ে সমালোচনার মুখে রিয়াল
গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ ড্র করা বাংলাদেশ দলকে আজ সংবর্ধনা দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্লেয়ার্স লাউঞ্জ ‘টাইগার্স ডেন’–এ দেওয়া হয় এই সংবর্ধনা।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া সফর করে আসা দলের সব সদস্যকে সাফল্যের স্মারক হিসেবে কোয়াবের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, অন্যান্য বোর্ড পরিচালক এবং কোয়াবের উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা এতে উপস্থিত ছিলেন।কোয়াবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর দলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। টেস্ট ক্রিকেটে এই অগ্রগতির জন্য পুরো কোচিং স্টাফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্ট সিরিজের কথা মনে পড়লেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।কোয়াবের অনুষ্ঠানে কথা বলছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারবাংলাদেশ দলের সাবেক ক্রিকেটার, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কোয়াবের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সৈয়দ আশরাফুল হকও বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নিজের বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার চেষ্টার দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন।অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল দলের প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ দল এমন একটি কীর্তি অর্জন করেছে, যা সবার প্রত্যাশার বাইরে ছিল।’পরে বিসিবির প্রধান নির্বাচক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ, ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্রিকেটার আতহার আলী খান এবং সাবেক ক্রিকেটার এনামুল হক টেস্ট দলের প্রতি সম্মান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়াফেরত দলের ক্রিকেটার লিটন দাস, হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসান।বাংলাদেশের কাছে ধাক্কা খাওয়া অস্ট্রেলিয়া আগের মতো নেই, বললেন ডোনাল্ড
৪৯ বলে ১১৪*। সেঞ্চুরিটা এসেছে ৪২ বলে—ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম। গতকাল রাতে ব্রুকের দুর্দান্ত এ সেঞ্চুরিতে সাউদাম্পটনে তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১১৯ রানে হারায় ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড যেখানে করেছে ২৫৪ রান, শ্রীলঙ্কা সেই উইকেটেই গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৩৫ রানে।দুর্দান্ত এ ইনিংসে ইংলিশ কিংবদন্তি কেভিন পিটারসেনকে বরণ করে নিয়েছেন ব্রুক। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে জমে থাকা মান-অভিমান ভুলে এই সিরিজে ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেবে ইংল্যান্ড দলে যোগ দিয়েছেন পিটারসেন।ব্রুক যে এমন বেধড়ক পিটুনি দিতে পারেন, সেটা পিটারসেন ভালো করেই জানেন। তিনিও আগে ব্রুকের প্রশংসা করেছেন। তবে এবার হয়তো প্রথমবার দেখলেন ড্রেসিংরুম থেকে। প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে মেন্টর পিটারসেনপিটারসেনের সঙ্গে এমনিতেই ব্রুকের নামটা জুড়ে আছে বেশ কিছুদিন। কে বেশি প্রতিভাবান, পিটারসেন নাকি ব্রুক, এই আলোচনাও নতুন নয়। এ প্রশ্নের উত্তর ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস কাল নিজের মতো করে এক্সে দিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার তো মনে হয় না, কেভিন পিটারসেনের মতো জিনিয়াসও প্রতিভার দিক থেকে হ্যারি ব্রুকের ধারেকাছে আসতে পারে।’আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩২ সেঞ্চুরি করা পিটারসেনকে ব্রুক ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কি না, সে রায় এখনই দেওয়া ঠিক হবে না। সেটা সময়ই বলবে। তবে ব্রুক পথেই আছেন, সেটা বলা যায়। ২৭ বছর বয়সী ব্রুকের সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৫। সংখ্যাটা আরও বেশি থাকত। কিন্তু সেঞ্চুরির পরোয়া করে ব্রুক সাধারণত খেলেন না। সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেই এক ইনিংসে ৯১ রানে আউট হন। এরপরও চলতি সময়ে ব্রুককে সব সংস্করণ মিলিয়ে দুনিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান বিবেচনা করেন অনেকেই। সেটা এমনি এমনি নয়। সামর্থ্যই তার প্রমাণ। যেমন ধরুন, শ্রীলঙ্কার বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দেওয়া ব্রুকই আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ব্যাটসম্যান।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে লম্বা ক্যারিয়ার কারব্রুকের প্রশংসায় জস বাটলারকেও ভুলে যাওয়া যাবে না। কাল ৪৪ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন। এ মাঠেই সর্বশেষ জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১৩১। বাটলার করেছেন ৮০ রান, সেই পথে খেলছেন রিভার্স সুইপমানে শেষ দুই টি-টুয়েন্টিতে বাটলারের ব্যাট থেকে এসেছে মোট ২১১ রান। মজার ব্যাপার, চলতি বছর টি-টুয়েন্টিতে এ দুটি ম্যাচের আগে খেলেছেন ১৪ ম্যাচ, রান মাত্র ২১২। বাটলারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপও কেটেছে জঘন্য। অনেকে তো ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের শেষটাই দেখেছিলেন। বাটলার আপাতত এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছেন।শুধু তা–ই নয়, রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে গতকাল আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন বাটলার। ১৫১ ইনিংসে ৪২৩১ রান করা রোহিত এখন তৃতীয়, ১৪৮ ইনিংসে ৪২৯২ রান করা বাটলার দ্বিতীয়। ১৩৬ ইনিংসে ৪৫৯৬ রান নিয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের বাবর আজম।কাউন্টিতে এবার খালেদের ৫ উইকেট
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরুর পর এবার আরও বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ নারী হকি দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে জাপানে পৌঁছেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে দেশের নারী হকিতে যোগ হতে যাচ্ছে নতুন এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। চলতি বছরের এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অভিষেক হয় বাংলাদেশ নারী দলের। অভিষেকেই দারুণ সাফল্য পায় তারা। বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়ে হকির মেয়েরা। সেই ঐতিহাসিক অর্জনের ধারাবাহিকতায় এখন জাপানে বাংলাদেশের নারী হকি দল। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে প্রথমবারের অংশগ্রহণই দলটির জন্য বিশেষ এক মাইলফলক। প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের নারী হকির ইতিহাসে যুক্ত হবে নতুন একটি অধ্যায়। দলের একটি বড় অংশ অবশ্য আগেই জাপানে পৌঁছেছে। চীনে অনুষ্ঠিত জুনিয়র এশিয়া কাপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের ১৩ জন খেলোয়াড় ছিলেন জাতীয় দলের সদস্য। চীন থেকে তারা সরাসরি জাপানে গেছেন। বাকি খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টরা ঢাকা থেকে জাপানে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পাওয়ায় প্রত্যাশার পাশাপাশি রয়েছে চ্যালেঞ্জও। এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন হলেও গত কয়েক মাসে পাওয়া অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। নারী হকির বিকাশে বাংলাদেশের জন্য এই অংশগ্রহণ তাই কেবল একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়ার উপলক্ষ। ইতিহাস গড়ার পর এবার ইতিহাসের মঞ্চে নিজেদের গল্প লেখার অপেক্ষায় লাল-সবুজের হকির মেয়েরা। এশিয়ান গেমস হকির নারী বিভাগে ১২ দেশ দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। বাংলাদেশ পড়েছে ‘এ’ গ্রুপে। অন্য ৫ দেশ হচ্ছে-চীন, চাইনিজ তাইপে, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তান। আরআই/আইএন
নিজের টেনিস কেরিয়ারের সম্ভবত সেরা বছর কাটালেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। ফরাসি ওপেনের পর এবার ইউএস ওপেনও জিতলেন তিনি। টুর্নামেন্ট খেলতে নামতে পারেননি ইয়ানিক সিনার। চোট সারিয়ে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়েন কার্লোস আলকারাজ। প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যান নোভাক জকোভিচ। সেই সুযোগ কাজে লাগালেন জভেরেভ। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটনকে চার সেটের লড়াইয়ে (৬-৩, ৭-৬, ৫-৭, ৬-২) হারালেন জার্মান তারকা। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন জভেরেভ। চলতি বছর ফরাসি ওপেন জিতেছেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেছেন। বছরের শেষটা করলেন ইউএস ওপেন জিতে। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন এই জার্মান তারকা। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে শুধু শেলটন নন, ২৪ হাজার দর্শকের সিংহভাগের বিরুদ্ধে খেলতে হল জভেরেভকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘরের ছেলে শেলটনকে সমর্থন করে গেলেন দর্শকেরা। তাতে লাভ হলো না। একমাত্র তৃতীয় সেটের শেষ দিক ছাড়া শেলটনের খেলায় সেই ঝাঁঝ দেখা গেল না। প্রথম গেমেই শেলটনের সার্ভিস ভাঙেন জভেরেভ। সেই থেকে শুরু। একবার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভাঙার পর সেই সেটে আর তাকে থামানো যায়নি। আরও এক বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সহজেই প্রথম সেট নিজের নামে করেন জভেরেভ। শেলটন বাঁ-হাতি। সাধারণত বাঁ-হাতিদের সামনে ডানহাতিরা একটু হলেও সমস্যায় পড়েন। কিন্তু শেলটন প্রথমবার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনাল খেলছিলেন। ফলে কিছুটা হলেও চাপে ছিলেন। সেখানেই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন জভেরেভ। বেশ কয়েকটি লম্বা র্যালি হল। শেলটন অপেক্ষা করছিলেন, জভেরেভ কখন ভুল করেন। কিন্তু খুব একটা ভুল করলেন না জার্মান তারকা। দ্বিতীয় সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজের নিজের সার্ভিস ধরে রাখলেন। ফলে ফয়সালা হল টাইব্রেকারে। সেখানে শেলটনকে উড়িয়ে দিলেন জভেরেভ। তৃতীয় সেটও টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু দ্বাদশ গেমে জভেরেভের সার্ভিস ভাঙেন শেলটন। ওই একবারই জভেরেভের সার্ভিস খারাপ দেখাল। জোড়া ডাবল ফল্টের খেসারত দিতে হল তাকে। তৃতীয় সেটে ফেরার পর মনে হচ্ছিল, শেলটন খেলা পঞ্চম সেট পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু চতুর্থ সেটে আবার নিজের জাত চেনালেন জভেরেভ। দু’বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সেট ও সেই সঙ্গে ম্যাচ নিজের নামে করলেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে যাওয়ার পর ডমিনিক টিয়েমের কাছে শেষ তিন সেটে হেরে ম্যাচ হারতে হয়েছিল জভেরেভকে। এবার আর সেটা হতে দিলেন না তিনি। ১৯৮৯ সালে বরিস বেকারের পর দ্বিতীয় জার্মান তারকা হিসাবে এই ট্রফি তুললেন জভেরেভ। মাত্র চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন জভেরেভ। খেলার মাঝে দেখা যাচ্ছিল, বারবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করছেন। কখনও চকলেট খাচ্ছেন। কখনও কোনও পানীয়। এত বছর ধরে এই রোগ সামলে পেশাদার টেনিসে সফল হওয়ার কৃতিত্ব নিজের মাকে দিয়েছেন তিনি। খেলা শেষে জভেরেভ বলেন, ‘চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসক বলেছিল, পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা আমার কম। কিন্তু আমার পাশে আমার মা ছিল। আমাকে সব সময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি যা হয়েছি, তার কৃতিত্ব পুরোটাই মায়ের।’ খেলা শেষে শেলটনের প্রেমিকা ট্রিনিটি রডম্যানেরও মন জয় করেছেন জভেরেভ। পেশাদার ফুটবলার ট্রিনিটি নিজের ম্যাচ ছেড়ে শেলটনের ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলেন। খেলা শেষে শেলটনের কথা শুনে কেঁদে ফেলেন তিনি। তা দেখে জভেরেভ বলেন, ‘ট্রিনিটি, আমার মনে হয় তোমার আজ খেলা ছিল। তাই না? সেই ম্যাচ ছেড়ে তুমি আমাদের খেলা দেখতে এসেছ। তুমি আমার কাছে পয়া’- এ কথা শুনে ট্রিনিটি হেসে ফেলেন। আইএইচএস/
এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচেই ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই ৭ গোল হজম করেছিল মারিয়া মান্দারা। কোনোভাবেই উত্তর কোরিয়ার সামনে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ নারী দল এর আগে কখনো এতগুলো গোল হজম করে হারেনি। জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশকে দিশেহারা করে তোলে উত্তর কোরিয়া। প্রথমার্ধেই একে-একে বাংলাদেশের জালে ৭ বার বল জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার কিছুটা কমে আসলেও আরও ৩ গোল যোগ করে ব্যবধানকে উন্নীত করে ১০-০ ব্যবধানে। প্রতিপক্ষের জন রং, চাই উন ও কিম কিয়ং করেছেন জোড়া গোল। বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার গোল উৎসবের শুরুটা হয় ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই। শুরু করেন জন রিয়ং জং। এরপর ১০ম মিনিটেও তিনি নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন। তবে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোল করেছিলেন রি সং। তার গোলটি বাতিল করে দেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। ১২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন হোয়াং ইউ। ৬ মিনিট পর ১৮ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন চায়ে উন ইয়ং। ৩৫ মিনিটে তিনিও সম্পন্ন করেন নিজের জোড়া গোল। দলের স্কোরলাইন হয় ৫-০। ৪০ ও ৪৩ মিনিটে জোড়া গোল করে প্রথমার্ধেই ৭-০ ব্যবধান করেন কিম কিয়ং ইয়ং। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোল উৎসব শুরু করে উত্তর কোরিয়া। ৫১তম মিনিটে দলের ৮ম গোল করেন রি সং আ। ৬০ মিনিটে ৯ম গোল করেন জং কুম। ৬০-৯০, এই ৩০ মিনিটে উত্তর কোরিয়াকে বেশ ভালোভাবেই ঠেকিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই আধাঘন্টায় কোনো গোল হতে দেননি তারা। তবে, ৯০তম মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে ১০ম গোল করেন হান জিন হং। আরআই/আইএন/আইএইচএস
গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমায় কখনো তিনি পুলিশ, কখনো রহস্যভেদী কাকাবাবুর চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। তবে এবার পর্দায় কোনো নায়কোচিত চরিত্র নয়, চিকিৎসকের ভূমিকায় দেখা যাবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। ‘ডাক্তার কাকু’ নামে সিনেমাটি গতকাল মুক্তি পেয়েছে। পাভেল পরিচালিত সিনেমাটিতে আরও আছেন ঋদ্ধি সেন, এনা সাহা। বাবা ও ছেলের গল্প এই ছবির কেন্দ্রে। দুজনই চিকিৎসক। কিন্তু পেশা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের ভাবনায় বিস্তর তফাত। ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের সঙ্গে যখন রোগীর জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব এসে মিশে যায়, তখন সম্পর্কের সেই টানাপোড়েনই ছবির মূল বিষয়। অন্যদিকে চিকিৎসাকে ঘিরে অর্থনৈতিক বৈষম্যও ছবির গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ। ভালো চিকিৎসা পাওয়ার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়া, চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ এবং পেশাগত নৈতিকতার সংকট—এসব প্রশ্ন নিয়েও সিনেমাটি কথা বলে। ছবির প্রচারে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ বলেন, তিনি নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছ থেকেও শিখতে চান। ভারতের জাতীয় পুরস্কার পাওয়া তরুণ অভিনেতা ঋদ্ধি সেনও আছেন এই সিনেমায়। তাই ডাক্তার কাকুতে অভিনয় করতে তিনি বিশেষভাবে আগ্রহী হন। ‘ঋদ্ধির কোনো কাজ বা ভিডিও ভালো লাগলে মাঝরাতেও ওকে মেসেজ দিই। নতুন প্রজন্মের নিজস্ব একটি অভিনয়ের ভাষা তৈরি হয়েছে। সেই ভাষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াও জরুরি। কোনো জটিল দৃশ্য থাকলে শুটিংয়ের আগে ঋদ্ধির সঙ্গে বসে স্ক্রিপ্ট পড়তাম,’ বলেন প্রসেনজিৎ। ‘ডাক্তার কাকু’ সিনেমার পোস্টার থেকে। প্রসেনজিতের ফেসবুক থেকে ‘ডাক্তার কাকু’ ছবিতে প্রথমবার চিকিৎসকের চরিত্রে দেখা যাবে প্রসেনজিৎকে। তবে চরিত্রটি শুধু চিকিৎসকের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে রয়েছে মধ্যবিত্ত মানসিকতা, নিজস্ব বিশ্বাস ও আদর্শবোধ। এমনকি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কেও রয়েছে টানাপোড়েন। প্রসেনজিতের ভাষায়, ‘ছবিটিতে বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের পরিচিত আবহ এবং শিকড়ের কাছাকাছি থাকা বাঙালিয়ানা রয়েছে। চরিত্রটি পরিচিত মনে হলেও এমন চরিত্র আগে করা হয়নি।’ ‘নতুন প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণর আবিষ্কার’ সংবাদ প্রতিদিন–এ দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘আমি আবেগপ্রবণ মানুষ এবং অতীতের সঙ্গে যুক্ত শিকড়কে আঁকড়ে থাকতে ভালোবাসি। সিনেমাটি সেই শিকড়ের গল্প বলতে চেয়েছে। আমার জীবনেও এমন একাধিক “ডাক্তার কাকু” দেখেছি। তাই চরিত্রটির কথা শুনে রাজি না হয়ে পারিনি।’ গতকাল মুক্তি পেলেও সিনেমাটির নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল করোনা মহামারির আগে। দীর্ঘ সময় পর অবশেষে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে এল।
ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। গত সোমবার থেকে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে শুরু হয়েছে আরেক ধারাবাহিক ‘কর্মফল’। নাটক, সিনেমাসহ ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে প্রথম আলোর মুখোমুখি হলেন অভিনেতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম। শুটিং না থাকলে বাসায় কী করেন? ইরফান সাজ্জাদ : বাসায় বাচ্চা ও পরিবারের লোকদের বেশি সময় দেওয়া হয়। কখনো পরিবার নিয়ে বের হই। নিজের কিছু কাজ জমে যায়, সেগুলো করি। কিছুটা সিনেমা, সিরিজ দেখার চেষ্টা করি। সময় কেটে যায়। এখন বেশির ভাগই আপনাকে পারিবারিক গল্পে দেখা যাচ্ছে, এর মধ্যে দর্শক নতুন কী পাবে? ইরফান সাজ্জাদ : আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো একটি কাজ আলোচিত হলে বেশির ভাগ প্রোডাকশন হাউস একই রকমের গল্প নিয়ে কাজ করতে চায়। সে ক্ষেত্রে একঘেয়েমি যেন না হয়, অডিয়েন্স যেন বিরক্ত না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হচ্ছে। পরিবার নিয়ে হাজারটা গল্প বানানো যায়। সেভাবেই গল্পগুলো নিয়ে ভাবতে পরিচালক ও টিমের সঙ্গে কথা বলি। কারণ, যে দর্শক আমাকে ভালো একটি গল্পের জন্য প্রশংসা করেছেন, সেই দর্শকই কিন্তু গতানুগতিক, ভালো গল্প না হলে আমার সমালোচনা করবেন। মাথায় রাখতে হয়, প্রশংসা-সমালোচনা কিন্তু একই দর্শক করেন। আমাকে নিয়ে দর্শকদের একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই জায়গাটা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। ইরফান সাজ্জাদ। শিল্পীর সৌজন্যে নতুন সিনেমায় নাম লেখাচ্ছেন কবে? ইরফান সাজ্জাদ : আমি অবশ্যই সিনেমা করতে চাই। কিন্তু প্রপারভাবে কাজটি হচ্ছে না। আমার সর্বশেষ সিনেমা আলী রিলিজের সময় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় সিনেমা নিয়ে প্রচারণার অবস্থা কারও ছিল না। ফলে হলে সিনেমাটি দর্শক পেল না। সেই একই সিনেমা পরে যখন ওটিটিতে রিলিজ হয়, তখন আমি বহু দর্শকের প্রশংসা পেয়েছি। তাঁরা সিনেমা, গল্পের প্রশংসা করেছেন। এখন সিনেমা করলে প্রোফেশনাল হাউস ও যারা প্রচারণার জন্য বাজেট রাখে, তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। শুধু শুধু সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কাজ করতে চাই না। যে সিনেমা দর্শক দেখবেন না, সেটাও করতে চাই না। কিন্তু দর্শক কম হবে জেনেও তো অনেক শিল্পী চলচ্চিত্র উৎসবকেন্দ্রিক সিনেমা করেন... ইরফান সাজ্জাদ : উৎসবের জন্য আমিও সিনেমা করতে চাই। সিনেমা ভালো উৎসবে গেলে এটা তো গৌরবের। কিন্তু উৎসবেও গেল না, আবার হলে দর্শকও দেখলেন না, সেই সিনেমা করতে চাই না। একটা স্বীকৃতি তো পেতে হবে। বিশ্বের উৎসবে অংশ নেওয়া বহু ভালো ছবি কিন্তু বক্স অফিসে বাজিমাত করে না। অনেক সিনেমা ব্যবসাও করে। ব্যবসায়িক সফলতা না পেলেও এসব সিনেমায় শিল্পী, কলাকুশলীরা প্রশংসিত হন। যে কারণেই বলছি, স্বীকৃতি পেলাম না, টাকাও পেলাম না, কোনোটাই হলো না, এমন কোনো কিছু কেউ কি করবে? সঠিক জায়গায় শ্রম দিতে চাই। ইরফান সাজ্জাদ। খালেদ সরকার গত এক বছরে আপনার মধ্যে কী পরিবর্তন এসেছে? ইরফান সাজ্জাদ : এক বছরে আমি ‘না’ করতে শিখেছি। আগে বুঝে না বুঝে প্রচুর কাজ করেছি। এখন না করতে ভয় পাই না। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক শিক্ষা আছে। সেগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজ লাগাচ্ছি। এই সময়ে এটা বুঝে গেছি, দর্শকদের ভালো কোনো কমেডি, পরিবারের গল্প দিলে তাঁরা অবশ্যই দেখবেন। সেই প্যাটার্নটাই তৈরি করছি। এক বছর সেভাবেই নাটকগুলোর প্রচারে যুক্ত হয়েছি। আমার মনে হয়েছে, সততা দিয়ে কাজ করলে সেটা দর্শকের কাছে যাবেই। আর ভিউ? ইরফান সাজ্জাদ : ভিউ না হলে প্রযোজক পরের নাটক কীভাবে বানাবেন? ভিউ অবশ্যই দরকার। ভালো গল্প দিয়েও এটা সম্ভব। গত এক বছরে সেই সাহসটা আমি পেয়েছি। আমাকে এই সাহস দিয়েছে ধারাবাহিক এটা আমাদেরই গল্প। এ জন্য পরিচালক (মোস্তফা কামাল) রাজ ভাইকে ধন্যবাদ। কাজটি আমরা ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে করিনি। আমরা ভালো গল্প দর্শকদের দেখাতে চেয়েছি। আমার কথা, ভালো গল্পও হতে হবে, আবার ভিউও হতে হবে। পরীক্ষার দুই দিন আগেও শুটিং! ‘এটা আমাদেরই গল্প’র ফারহানার এসএসসির ফলাফল কী আপনার আরেক ধারাবাহিক ‘কর্মফল’–এর প্রচার শুরু হলো... ইরফান সাজ্জাদ : আমার আগের গল্প, চরিত্র থেকে এটা একেবারেই আলাদা। গল্প শোনার পরেই মনে হয়েছিল, এটি করা উচিত। এই গল্পের মধ্যে দিয়ে নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করেছি। এত পরিশ্রম খুব কম কাজেই হয়। এই নাটকের মূল থিমটা ভালো লেগেছে, মানুষ জীবনে যা করে, তার কর্মফলটা কোনো না কোনোভাবে পেয়ে যায়। ইতিবাচক আর নেতিবাচক কাজ, যা–ই হোক। আমার কাছে মনে হচ্ছে, এই ধারাবাহিক দর্শক গ্রহণ করবেন।
চেনা শোলাঙ্কির অচেনা স্টাইল, লেদার লুকে আবেদন কাড়লেন বং সুন্দরী পর্দায় যাঁকে বেশির ভাগ সময় মিষ্টি ঘরোয়া সাজে দেখা যায়, সেই শোলাঙ্কিই এবার বেছে নিয়েছেন একেবারে বিপরীত মেরুর স্টাইল। কালো লেদারের সাজে অভিনেত্রী ধরা দিয়েছেন ভিন্ন এক আমেজে। পশ্চিমবঙ্গের এই সুন্দরী অভিনেত্রীকে অনেকেই চেনেন টেলিভিশন সিরিয়ালে অভিনয়ের মাধ্যমে। ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্রেও এখন পরিচিত মুখ তিনি। মিষ্টি হাসি আর অভিনব ফ্যাশনের মেলবন্ধনে শোলাঙ্কি রায় যেন হয়ে উঠেছেন সবার ‘বং ক্রাশ’। পর্দায় যাকে বেশির ভাগ সময় মিষ্টি ঘরোয়া সাজে দেখা যায়, সেই শোলাঙ্কিই এবার বেছে নিয়েছেন একেবারে বিপরীত মেরুর স্টাইল। কালো লেদারের সাজে ধরা দিয়েছেন একেবারে অন্য আমেজে। পুরো লুকের কেন্দ্রে আছে গ্লসি ব্ল্যাক লেদারের কো-অর্ড সেট। ডিপ ভি-নেকের স্লিভলেস ক্রপ টপের সঙ্গে জুটি হয়েছে হাই-ওয়েস্ট স্কার্ট। কালো পোশাকের একঘেয়েমি ভেঙেছে অলংকার। গলায় মাল্টি-লেয়ার চেইন নেকলেস, হাতে কাফ ব্রেসলেট আর পায়ে কালো পয়েন্টেড হিল। খোলা চুল রেখেছেন। মেকআপেও উষ্ণতার ছোঁয়া—মিনিমাল বেসের সঙ্গে উইংড আইলাইনার আর ব্রিক-রেড লিপ। সব মিলিয়ে চেনা শোলাঙ্কির বাইরে এই সাজে ফুটে উঠেছে তাঁর অন্য এক ফ্যাশন সত্তা। ছবিগুলোর প্রতিটি ফ্রেমও তাই আলাদা করে নজর কেড়েছে। চাইলে আপনিও এমন লুক নিতে পারেন। তবে ঢাকার আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে পুরো লেদার সেটের বদলে লেদার স্কার্ট বা প্যান্টের সঙ্গে সুতি কিংবা সিল্কের টপ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। রঙের ক্ষেত্রে কালো যেমন নিরাপদ, তেমনি ডিপ ব্রাউন বা অলিভেও লুকে আসতে পারে আলাদা মাত্রা। অলংকারে বেশি কিছু নয়, শোলাঙ্কির মতো একটি সিলভার কাফ বা চেইনই যথেষ্ট লুকে আলাদা মাত্রা যোগ করতে। ছবি: শোলাঙ্কি রায়ের ইনস্টাগ্রাম থেকে
তেলেগু, কন্নড়, তামিল কিংবা হিন্দি—একাধিক ভাষার ছবিতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে রাশমিকা মান্দানাকে। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা থেকে বলিউড—কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন দ্রুত। ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে তৈরি করেছেন নানা অঞ্চলের দর্শকও। তবে সেই বহুভাষিক ক্যারিয়ারই মাঝেমধ্যে তাঁকে নিয়ে এসেছে সমালোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে বিভিন্ন ছবিতে তাঁর উচ্চারণ ও ভাষা বলার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম ট্রল হয়নি। এবার সেই ট্রল নিয়েই মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ নন; বরং নানা ভাষায় কাজ করতে করতে প্রতিটি ভাষার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আর সেটিই তিনি স্বাভাবিকভাবে দেখেন। রাশমিকার মাতৃভাষা কোদাভা টাক। ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে এই ভাষার প্রচলন থাকলেও এ ভাষায় কোনো বড় চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে অভিনয়ে আসার পর থেকেই তাঁকে অন্য ভাষায় কাজ করতে হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরু কন্নড় সিনেমা দিয়ে হলেও পরে তেলেগু ছবিতে জনপ্রিয়তা পান। এরপর হিন্দি সিনেমাতেও জায়গা করে নেন। তামিল ছবিতেও কাজ করেছেন। রাশমিকা মান্দানা এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে রাশমিকা বলেন, কোনো একটি ভাষাকে আঁকড়ে ধরে তাঁর ক্যারিয়ার তৈরি হয়নি; বরং কাজের সুযোগ এবং দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় নিয়ে গেছে। রাশমিকার ভাষায়, তিনি সব ভাষাকেই নিজের ভাষা মনে করেন। ভিন্ন ভাষার দর্শকের সঙ্গে তাঁদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর কাছে এটি শুধু ভাষা শেখার বিষয় নয়, দর্শকের প্রতি সম্মান দেখানোরও একটি উপায়। তবে উচ্চারণ নিয়ে যে সমালোচনা হয়, সেটি নিয়েও রাশমিকার অবস্থান বেশ পরিষ্কার। নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি কোনো ভাষাতেই ‘খুব ভালো’ নন। অনেক ভাষা জানেন, অনেক ভাষায় কাজ করেন, কিন্তু কোনো একটি ভাষায় নিজেকে বিশেষজ্ঞ দাবি করেন না। এ কথার মধ্যেই যেন ট্রলের পাল্টাজবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যের সারকথা—একাধিক ভাষায় কাজ করতে গেলে প্রতিটি ভাষার উচ্চারণে শতভাগ নিখুঁত হওয়া সব সময় সম্ভব নয়; বরং চেষ্টা, শেখার আগ্রহ এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির বিষয়টিই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রাশমিকার ক্যারিয়ারও সেই কথারই প্রমাণ। ২০১৬ সালে কন্নড় ছবি দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক। এরপর তেলেগু সিনেমায় একের পর এক সফল ছবি তাঁকে দক্ষিণ ভারতের পরিচিত মুখ করে তোলে। ‘গীত গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘সারিলেরু নিক্কেভারু’, ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর মতো ছবির মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। পরে ‘গুডবাই’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেন। ‘অ্যানিমেল’ ছবির পর হিন্দি সিনেমাতেও তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়। রাশমিকা মান্দানা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে একাধিক ভাষার সিনেমায় কাজ করার কারণে রাশমিকাকে এখন ভারতের অন্যতম বহুভাষিক তারকা হিসেবেও দেখা হয়। তবে এই পরিচয়ের সঙ্গে এসেছে বাড়তি চাপও। একটি ভাষায় দর্শক যেভাবে অভিনেত্রীর কথা বলা শুনতে অভ্যস্ত, অন্য ভাষায় সেই একই অভিনেত্রীকে দেখলে উচ্চারণের সামান্য পার্থক্যও অনেকের চোখে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে সেই পার্থক্য থেকেই তৈরি হয় ট্রল। কোনো দৃশ্যের সংলাপ, উচ্চারণ কিংবা অভিব্যক্তি নিয়ে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে নানা মন্তব্য। রাশমিকার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অভিনেত্রী বলছেন, এসব নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে চান না তিনি। সেই ‘বাজে’ সিনেমাই বাংলাদেশে শীর্ষে, কারণ কি রাশমিকা রাশমিকার কাছে সিনেমা মূলত দলগত কাজ। একজন অভিনেতা নিজের চরিত্রে যতটা সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করেন, কিন্তু একটি ছবির চূড়ান্ত ফল তৈরি হয় পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, সংগীতশিল্পীসহ অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত পরিশ্রমে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে চলতে চান না তিনি। বর্তমানে রাশমিকার হাতেও বেশ কিছু বড় কাজ। বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। বিয়ের পর এই প্রথম জুটি হয়ে আসবেন তাঁরা। পাশাপাশি ‘মাইসা’ ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এ ছাড়া এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনভিত্তিক একটি ছবির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে
অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার শাড়ির লুক মানেই একরাশ আবেদন। স্লিভলেস লুকের ছবি শেয়ার করেছেন তিনি সম্প্রতি। সাজপোশাকে আবেদনের সঙ্গে আছে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া। ক্যাপশনে ভাবনা লিখলেন, 'আমি আর আমার শাড়ি, দুজনেই যেন মায়ায় পোড়া'। সোনালি ব্লক করা মভ-সাদা সুতির শাড়ি পরেছেন ভাবনা সঙ্গে গোলাপি স্লিভলেস ভেলভেট ব্লাউজে আবেদন ছড়াচ্ছেন তিনি সফট গ্ল্যাম মেকওভারে ফলস ল্যাশ, লেন্স আর গোলাপি লিপটিন্ট নজর কাড়ছে সফট কার্লসে ছেড়ে রেছেন চেস্টনাট হাইলাইট করা চুল নাকফুলটি জ্বলজ্বল করছে পুরো লুকের মাঝে হাতে আছে সোনালি চেনের ঘড়ি হালকা রোদে ফুরফুরে স্নিগ্ধ লাগছেন এই লুকে ভাবনা। হাতে আংটি আর কানে ঝোলানো দুল দেখা যাচ্ছে। শাড়ি, ব্লাউজ আর সাজ মিলিয়ে বেশ নজর কেড়েছেন তিনি ছবি: ভাবনার ইন্সটাগ্রাম
অতিথি: চয়নিকা চৌধুরী নির্মাতা সঞ্চালক: মৌসুমী মৌ
বাংলাদেশে নারীদের প্রকৃত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, নারীবাদ যতটা না নারীর স্বার্থে কাজ করে, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে নারীবাদের নামে বহু সংগঠন ও আন্দোলন হয়েছে, সভা-সমিতি হয়েছে। কিন্তু নারীর নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহিলা ও পরিবার বিষয়ক উপকমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারীর প্রকৃত সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চায়। এজন্য চলতি সেশনে দলের নারী উইংকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী পাটওয়ারী বৈঠকে দেশব্যাপী দলের সব শাখায় নারী সদস্যদের সক্রিয় করা, ছাত্রী উইংয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়া ছাত্রী ও মহিলা ইউনিটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এমইউ/কেএসআর
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু, তা এখনো জানেন না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রুনির ভাই নওশের আলম ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা জানান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নওশের আলমের আবেদনটি তারা খতিয়ে দেখবেন। এ হত্যাকাণ্ড ‘ওয়াইডস্প্রেড’ বা ‘সিস্টেমেটিক’ (ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগত) অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। যদি এর আওতায় না পড়ে, তাহলে বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি পড়ে, তাহলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আরও পড়ুন চিফ প্রসিকিউটর / সাগর-রুনি হত্যায় এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততার তথ্য মিললো তিনি বলেন, আজ নওশের আলম একটি লিখিত আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। তারা প্রত্যাশা করছেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করুক। অথবা তদন্তে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পিবিআইকে দিয়ে সহযোগিতা করা হোক। আমিনুল ইসলাম বলেন, নওশের আলম যে আবেদন দিয়েছেন, সেটার ওপর তদন্ত করার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আছে, তা আমি জানি না। আবেদনটি তারা দিয়েছেন, আমরা খতিয়ে দেখবো। আবেদনে যা বলা হয়েছে নওশের আলমের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২টা থেকে পরদিন সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পার হলেও এখনো এ মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র্যাবের পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তবে টাস্কফোর্স গঠনের প্রায় দুই বছর হতে চললেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। নওশের আলম আবেদনে বলেন, পরিবারের সদস্যরা চান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনুক। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। আরও পড়ুন ডিভাইস মিসিংয়ের সূত্রে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় নতুন ক্লু অভিযোগটি ‘কমপ্লেইন্ট’ হিসেবে রেজিস্টারভুক্ত করে মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানান তিনি। যেভাবে তদন্ত এগিয়েছে সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তভার যায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি)। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। ঘটনার এক যুগ পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। গত বছরের নভেম্বরে র্যাবের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই। আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার তারিখ এখন পর্যন্ত ১২৯ বার পিছিয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এফএইচ/ইএ
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানা। একসময় সেখানে তৈরি হতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দরজা-জানালা, আদালতের আসবাব, বিভিন্ন দপ্তরের কক্ষের টেবিল-চেয়ার, এমনকি শৈল্পিক কাঠের নকশাও। কর্মচঞ্চল সেই কারখানাজুড়ে এখন কেবল ভুতুড়ে নীরবতা। যেসব শেডে সারা দিন কাঠ কাটার শব্দ, মেশিনের গর্জন আর শ্রমিকদের ব্যস্ততা থাকত; সেখানে পড়েছে ধুলাবালির স্তর। প্রায় এক দশক ধরে কার্যত অচল হয়ে থাকা সরকারি এ কারখানার আশপাশে যদিও গড়ে উঠেছে আসবাবের অনেক কারখানা ও দোকান। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যাচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের হাতেই। আর সেগুলো পাইয়ে দিতে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য রুচিশীল ও আলংকারিক কাঠের আসবাব তৈরির উদ্দেশ্যে পাকিস্তান আমলে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় যুক্ত করা হয় কাঠ প্রক্রিয়াকরণের আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। দীর্ঘ সময় ধরে এখান থেকেই সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন স্থাপনায় প্রয়োজনীয় কাঠের সামগ্রী। বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চালাতে কারখানার ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক। কিন্তু এক দশক আগে নানা কারণ দেখিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সরকারি প্রকল্পের আসবাব তৈরির কাজ চলে যায় আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয়। গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, সরকারি বিভিন্ন ভবনে গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত দরজা-জানালা ও কাঠের আসবাবের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রকল্পে উদ্বোধনের আগেই দরজা-জানালা নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অথচ অতীতে সরকারি কাঠের কারখানায় তৈরি আসবাব এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে, যার মান নিয়ে নেই তেমন অভিযোগ। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-৬ নম্বরে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্পের পাশে থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানার মূল ফটক বন্ধ। আবাসন প্রকল্পের ভেতর দিয়ে বিকল্প পথে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিশাল চত্বরজুড়ে সারিবদ্ধ ১৫টি শেড। রয়েছে কারখানা, মেকানিক্যাল স্টোর, গ্যারেজ ও স্টাফ কোয়ার্টার। কিন্তু অধিকাংশই তালাবদ্ধ। কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কিছু আসবাব। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ফাটল ধরেছে ভবনগুলোর দেয়াল, ছাদের টিন মরিচা ধরা, চারপাশে জরাজীর্ণ পরিবেশ। আবার একটি শেডে হাঁস-মুরগি লালনপালন করতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইএম কাঠ কারখানা উপবিভাগ গণপূর্তের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। অন্তর্বর্তী সরকার সেটি পুনরায় সচলের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পরবর্তী সময়ে তা আর এগোয়নি। বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্তের ইএম কাঠের কারখানা উপবিভাগের প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘চালু হয়নি ব্যাপারটা সে রকম না। বিভাগটির কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় দুই শতাধিক ছোট-বড় আসবাবের কারখানা ও শোরুম গড়ে উঠেছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আসবাবের বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া হয়। ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালগুলোকে সম্প্রতি ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আসবাব সরবরাহে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কাজ দেয়া হয়েছে নয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের দরপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে অংশ নেয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর যান্ত্রিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট, সিজনিং প্লান্ট, ল্যাকার প্লান্টসহ কাঠ ও ইস্পাতের আসবাব উৎপাদন কারখানা থাকা বাধ্যতামূলক। তবে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পেয়েছে তাদের অনেকেরই কোনো প্লান্ট নেই। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাঠের সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। উন্নয়ন প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের ঘটনা বারবারই ঘটছে। আর এর জন্য এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একটি অংশ পারস্পরিক যোগসাজশে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বা কাটমানির বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলনের মতো অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এসব অনিয়মের তদন্তও একই প্রভাববলয়ের ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে আসবাবপত্র ও কাঠসংক্রান্ত ক্রয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেটিও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি উদাহরণ। এসব ঘটনা প্রমাণ করে এখনো সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে।’ জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেটিকে অকার্যকর রেখে একই ধরনের পণ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের যৌক্তিকতা নেই। বরং সরকারি কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা গেলে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ রেখে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি কাজ করানোর পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ডেইলি ভয়েস নিউজ কে তিনি বলেন, ‘বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের সময়ে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার একটি বড় অংশ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। দুঃখজনকভাবে সেই চর্চার ধারাবাহিকতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু কীভাবে গণপূর্তের কাঠের কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, কেন বন্ধ হলো এবং সে সিদ্ধান্তের কোনো দালিলিক ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না—এটি প্রশাসনিক জবাবদিহির বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।’ কারখানাটি বন্ধ থাকার ফলে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে এবং এর জন্য কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কারখানাটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা।’ প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানাটি পুনরায় চালু করা গেলে সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত কাঠের আসবাব ও সরঞ্জামের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তার মতে, নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকলে সরকারের একদিকে যেমন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, অন্যদিকে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহও নিশ্চিত করা যাবে। খালেকুজ্জামান চৌধুরী ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘নিজস্ব কারখানা থাকলে আমাদের অনেক সুবিধা হয়। ঠিকাদারদের মাধ্যমে সবসময় ভালো মানের উপকরণ পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজস্ব কারখানা থাকলে আমরা নিজেরাই মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। বিশেষ করে আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য যেসব আসবাবপত্রে তুলনামূলক কম অলংকরণ থাকে, সেগুলো নিজস্ব কারখানাতেই দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন করা সম্ভব।’ একসময় কারখানাটিতে বিপুলসংখ্যক ওয়ার্ক-চার্জড কর্মী কাজ করতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবসরের পর তাদের পদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানাটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে নতুন জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে সরকারি এ উৎপাদন ইউনিট আবারো সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান। এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৩১ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে পুরোদমে। কাজ পাওয়া ছাপাখানায় কাগজ দিচ্ছেন কাগজকল মালিকরা। তাতে করা হচ্ছে মুদ্রণ। নিয়ম অনুযায়ী- মুদ্রণের আগে কাগজকল থেকে আসা কাগজের মান ল্যাবে (পরীক্ষাগার) পরীক্ষা করা হয়। কাগজ মানে উত্তীর্ণ হলে তাতে ছাপার অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই ছাপার এ কাগজ পরীক্ষায় ঘটছে ভয়াবহ কারসাজি। নিম্নমানের কাগজও পেয়ে যাচ্ছে অনুমোদন। কোনো ল্যাব (পরীক্ষাগার) টেস্ট ছাড়াই ঘুসের বিনিময়ে নিম্নমানের কাগজের অনুমোদন দিচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ভাড়া করা নামসর্বস্ব একটি ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান। টেন্ডারের মাধ্যমে ৫২ লাখ টাকায় তদারকির কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি’। এ বছর মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণি ও ইবতেদায়ির ২১ কোটি ২৮ লাখেরও বেশি পাঠ্যবই ছাপা ও কাগজ তদারকির দায়িত্ব পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বই ছাপাতে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। অথচ কাগজ পরীক্ষার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবের অধিকাংশ মেশিন নষ্ট। নেই স্থায়ী কোনো কেমিস্টও (কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ)। আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ের ভূতুড়ে চাহিদায় ৩০০ কোটি টাকা লুটপাটের ছক অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি বড় ছাপাখানার মালিক যোগসাজশ করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে ছাপাখানাগুলো এ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হাজার হাজার টন নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছে। এমনকি কাগজকলগুলোর কেমিস্টরাই (বিশেষজ্ঞ) এসে স্বতন্ত্র তদারককারী এ প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে কাগজ পরীক্ষা করে ছাড়পত্র বানিয়ে নিচ্ছেন। অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে নিম্নমানের কাগজ। তাতেই চলছে বই ছাপা। পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কাজ পাওয়ার জন্য ধার করা মেশিন এনে ল্যাবে রেখেছিল। কাজ পাওয়ার পর সেই মেশিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি এনসিটিবির নজরেও এসেছে। তদন্ত করে প্রমাণ মিললে প্রয়োজনে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার কথা ভাবছে এনসিটিবি। কাজ বাগিয়ে নিতে প্রতারণা পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপার মান ঠিক রাখতে প্রতি বছর স্বতন্ত্র ইন্সপেকশন (তদারকি) প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। টেন্ডারের মাধ্যমে এ নিয়োগ করা হয়। এবার চতুর্থ দরদাতা হিসেবে ইন্সপেকশনের কাজ পেয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। টেন্ডার মূল্যায়ন চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির অফিস, ল্যাব, কতজন কেমিস্ট ও কর্মচারী আছে, তা সরেজমিনে যাচাই করে এনসিটিবি। এবারও তা করা হয়েছে। কিন্তু ওই সময় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল তার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে মেশিন ধার করে ল্যাবে রেখেছিলেন। পাশাপাশি খণ্ডকালীন একজন কেমিস্টকে (বিশেষজ্ঞ) দেখানো হয়। আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ের ‘ভূতুড়ে’ চাহিদা ঠেকিয়ে শতকোটি টাকা সাশ্রয় অনুসন্ধানে জানা যায়, টেন্ডারের কাজ পাওয়ার পর মেশিনগুলো ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির ল্যাব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। আনা হয় পুরোনো ও নিম্নমানের কিছু মেশিন। এখন নেই কোনো কেমিস্টও। প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ বেলাল নিজেই এ ঘটনা স্বীকার করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেশিনগুলো আমার ছোট ভাইয়ের ছিল। রাগারাগি হওয়ায় ভাই মেশিনগুলো নিয়ে গেছে।’ ল্যাবে সরেজমিনে যা দেখা গেল মতিঝিলের সিটি সেন্টারের ২৫ তলায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিডি সার্ভিসেসের অফিস। সেখানে গত ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসে দুজন কর্মকর্তা ও একজন পিয়ন। তারা কম্পিউটারে একের পর এক ছাপাখানার কাগজের মানের প্রতিবেদন তৈরি করছেন। অথচ সেগুলোর কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে অনুমাননির্ভরভাবে কাগজের ওজন (জিএসএম), ব্রাইটনেস (উজ্জ্বলতা), বার্স্টিং ফ্যাক্টর (ফেটে যাওয়া প্রতিরোধক), অপাসিটি (চোখে দেখতে স্বস্তিদায়ক), বাল্ক (কাগজের পুরুত্ব), গ্লোস (চকচকে) ও স্টিফনেস (বেঁকে যাওয়া প্রতিরোধক) বসিয়ে দিচ্ছেন। অথচ পাশেই থাকা কাচঘেরা ল্যাব বা পরীক্ষাগারে কেউ নেই। নামসর্বস্ব কিছু মেশিন পড়ে আছে। কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। পরীক্ষার আয়োজনও নেই। আরও পড়ুন বই ছাপায় সিন্ডিকেট / আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি কিছুক্ষণ পরই অফিসে আসেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল। কেমিস্ট না থাকা ও ল্যাব অচল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শেখ বেলাল বলেন, ‘আমার কেমিস্ট আছে। তিনি এখন বাইরে।’ কেমিস্ট কখন আসবেন-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই। তবে টানা দুই ঘণ্টা তার অফিসে বসে থেকেও কেমিস্টের দেখা মেলেনি। একপর্যায়ে শেখ বেলালকে তার ল্যাবের মেশিনগুলো সচল কি না তা দেখাতে বলা হলে তিনি কাগজের জিএসএম মাপার মেশিনে পরীক্ষা করে দেখান। সেখানে একই কাগজ রাখার পর একবার ৬২ জিএসএম, আবার ৭২ জিএসএম দেখাতে থাকে। এতে মেশিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে শেখ বেলাল নিজেই বলেন, ‘হয়তো এখন মেশিনের মাথায় গন্ডগোল হয়েছে।’ বাকি মেশিনগুলো কেমিস্ট ছাড়া সচল করা যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আরও পড়ুন ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপাবে এনসিটিবি, খরচ ১৭০০ কোটি টাকা একইভাবে কোপ টেস্টার মেশিন দিয়ে কাগজের পানি শোষণের সক্ষমতা এবং বাস্টিং ফ্যাক্টর মেশিন দিয়ে কাগজের ছেঁড়ার প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এ দুটি মেশিনও অকেজো। ল্যাবের এমন বেহাল দশার ছবি ও কাগজ পরিমাপে অসামঞ্জস্যতার ভিডিও জাগো নিউজের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এনসিটিবির মিনি ল্যাবেও ভুয়া মেশিন সরবরাহ! ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডি নামের এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু নিজের অফিসের ল্যাবেই অচল মেশিন রেখেছে, তা নয়। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে বসানো মিনি ল্যাবেও ভুয়া মেশিন দিয়ে প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজ পাওয়ার চুক্তির শর্ত অনুযায়ী- পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অফিসে সব মেশিন দিয়ে একটি মিনি ল্যাব তৈরি করে দিতে হয়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি যে ল্যাব বসিয়ে দিয়েছে, তাতে ব্রাইটনেস মাপার মেশিন না দিয়ে হোয়াইটনেস মাপার মেশিন দিয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে হোয়াইটনেস মেশিনে ব্রাইটনেস মেশিনের নাম-কাজসহ বিস্তারিত তথ্যের লেবেল লাগিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এ দুটি মেশিনের কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আরও পড়ুন প্রাথমিকের বই ছাপায় অগ্রগতি, মাধ্যমিকে মাত্র শুরু কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞরা (কেমিস্ট) জানান, ব্রাইটনেস ও হোয়াইটনেস পরীক্ষার মেশিন আলাদা। ব্রাইটনেস হলো- কাগজ নির্দিষ্ট আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে কতটা আলো প্রতিফলিত করে তার পরিমাপ। আর হোয়াইটনেস হলো- কাগজ কতটা সাদা তা পরিমাপ করে। কিন্তু এনসিটিবি এবার সাদা কাগজে বই ছাপাচ্ছে না। ফলে হোয়াইটনেস মেশিন দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। কাগজকলের লোক দিয়েই মান পরীক্ষা! বই ছাপার কাগজ সরবরাহে দেশীয় কাগজকলগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রেশ পেপার মিল। এবারও ছাপাখানাগুলোতে কাগজ দিচ্ছে ফ্রেশ। অথচ এ কাগজল কলে চাকরি করা একজনকে খণ্ডকালীন কেমিস্ট নিয়োগ করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। ওই কেমিস্টের নাম আব্দুল্লাহ আল শাকিল। এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কেমিস্ট শাকিল বিনা বেতনে কাজ করছে। মূলত ফ্রেশ পেপার মিলের পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, ফ্রেশের দেওয়া কাগজই আবার তৃতীয়পক্ষের হয়ে ফ্রেশে চাকরি করা শাকিল বৈধতা দিচ্ছেন। এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত।’ বিষয়টি নিয়ে কেমিস্ট আব্দুল্লাহ আল শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ওখানে (ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি) চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। কিন্তু চাকরি তো করি না।’ কিন্তু তার নাম ও মোবাইল নম্বরসহ একটি তালিকা এনসিটিবিতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক তাকে কেমিস্ট দাবি করেছেন, বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’ আরও পড়ুন এইচএসসি পরীক্ষা / ৫ বছর পর পূর্ণ সিলেবাস, সময় স্বল্পতায় প্রস্তুতির ঘাটতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘শাকিল যে ফ্রেশের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, তা জানতাম না। জানলে তাকে নিতাম না।’ কাগজ অনুমোদনে টনপ্রতি ঘুস! এবার ৩১ কোটি বই ছাপাচ্ছে এনসিটিবি। এতে কাগজ প্রয়োজন হচ্ছে ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তার মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ২১ কোটির বেশি বই ছাপাতে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন কাগজ লাগবে। এ কাগজের মান যাচাই করছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি। এরই মধ্যে নামকাওয়াস্তে পরীক্ষা করে প্রায় তিন হাজার টন কাগজ অনুমোদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।- অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা, চেয়ারম্যান, এনসিটিবি অভিযোগ রয়েছে, কাগজকল ও ছাপাখানা মালিকরা যোগসাজশ করে টেন্ডারে যে মানের কাগজে বই ছাপার কথা বলা হয়েছে, তার থেকে নিম্নমানের কাগজ দিচ্ছে। এ অনিয়ম ধরার দায়িত্ব ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু টনপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা করে ঘুস নিয়ে নিম্নমানের কাগজও ছাড় করিয়ে বৈধতা দিচ্ছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি। সম্প্রতি দোয়েল প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা প্রিন্টার্স, ইস্টার্ন প্রিন্টার্স অফিসে বসে ছাপাখানা মালিক ও কাগজকল মালিকদের সঙ্গে দফারফা হয়। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন ছাপাখানা মালিক জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন পাঠ্যবই পরিমার্জনে দলমত বিবেচনায় নেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জাগো নিউজকে জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে শুরুতে টনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং মাঝামাঝি সময়ে টনপ্রতি দুই হাজার টাকা দিতে হবে। কারণ ছাপার শুরুর দিকে খারাপ কাগজ তুলনামূলক কম দেওয়া হয়। মাঝামাঝি ও শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে খারাপ কাগজ বেশি চালিয়ে দেওয়া হয়। সেজন্য দুই সময়ে দুই রকম রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘুসগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিক শেখ বেলাল বলেন, ‘এ অভিযোগ একেবারে মিথ্যা।’ কিন্তু পরক্ষণে তিনি একাধিক বড় ছাপাখানা মালিককে এ প্রতিবেদকের সামনে বসে মোবাইলে কল করে সহযোগিতা চান। সংবাদ যেন প্রকাশিত না হওয়া, তার জন্য তদবির করতে অনুরোধও করেন। সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের, নিয়ন্ত্রণে বড় কয়েকটি ছাপাখানা বিনামূল্যে পাঠ্যবই ছাপানোর সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের। কাগজকল, ছাপাখানা ও ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করেই প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এ কাজ করে। নিম্নমানের কাগজে বই ছাপিয়ে দিয়ে বিরাট অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন ছাপাখানা ব্যবসায়ে জড়িত বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে কাজ করলে বইয়ের মান ভালো হয়। কিন্তু কখনই তা করে না। কারণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের কাগজ ও ছাপার কাজ ইন্সপেকশনে যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়, তারাও ছাপাখানা মালিকদের হয়ে কাজ করে।’ আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ওসমান হাদির বীরত্বগাথা তোফায়েল খানের ভাষ্য, ‘কয়েকটি ছাপাখানা মালিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবির কর্মকর্তাদের পেছনে টাকা ঢেলে পছন্দের ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়। এ সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র ভাঙতে না পারলে পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপানোর মান কখনই ঠিক হবে না।’ যেভাবে কাজ করে ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান এ বছর এনসিটিবির বই ছাপার কাজ করছে ১১৪টি ছাপাখানা। ছাপাখানাগুলো বই ছাপার আগে যে কাগজ এনে রাখে, তা থেকে দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে (র্যানডম) কাগজ সংগ্রহ করে আনে ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। পরে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। টেন্ডারে যে বিষয়গুলো এবং তার প্যারামিটার ঠিক করে দেওয়া হয়েছে, তা কাগজে আছে কি না সেটি ল্যাবে পরীক্ষা করে এনসিটিবিকে প্রতিবেদন দেয় ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ছাপাখানাগুলোকে নির্দিষ্ট কাগজ অনুমোদন এবং বই ছাপা শুরু করতে নির্দেশনা দেয় এনসিটিবি। বই ছাপার কাগজ পরীক্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন পাঠ্যবই ছাপার কাজে কাগজ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাগজের ওজন, পুরুত্ব, উজ্জ্বলতা, চোখে সহনীয়, ছেঁড়া প্রতিরোধক, পানি শোষণ ক্ষমতাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হয়। কারণ শিক্ষার্থীরা এক বছর এ বই পড়ে। শিশুদের চোখের ক্ষতি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বই যেন সহজেই ছিঁড়ে না যায়; ছাপা যেন উঠে না যায় এবং পানি বা তরল পড়লে যেন টিস্যু পেপারের মতো গলে ছিঁড়ে না পড়ে, সে কারণে কাগজ পরীক্ষা করে তারপর বই ছাপানো হয়। বিপাকে এনসিটিবি, তবুও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বই ছাপার কাজ আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে হবে। বই ছাপাতে হলে কাগজের অনুমোদন করানোর নিয়ম রয়েছে। এ কারণে এখন হুট করেই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করলে বিপাকে পড়বে এনসিটিবি। তারপরও অভিযোগগুলোকে ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।’ এএএইচ/ইএ
গল্পটি প্রকাশিত হয় প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকীতে ২০০৫ সালের ১১ নভেম্বর। এত দিন শুধু কাগজের পাতাজুড়ে থাকা সেই গল্পটি আজ অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।শহরের রূপবতী এক কন্যা—অতিরূপসী, যেন দেবচন্দদিবাকর মোহনীয়া সে, খুব সম্ভবত যৌবনের দ্বারে উপনীত হওয়ামাত্র উন্নাসিকা হয়ে উঠেছিল দুর্দান্ত রূপের গরিমায়—স্পর্ধিত এক দেমাগে তখন সবকিছু তুচ্ছতাচ্ছিল্য; আর শহরের পুরুষ সকলের দৃষ্টির ঔত্সুক্যই তো প্রমাণ করে তত্তুল্য সুন্দরী এই শহরে আর একজনও নেই। সুতরাং দুর্বহ সৌন্দর্যের ঢেউ ভাঙে, ঝপাং শব্দ হরদম যখন–তখন, কিন্তু তারপরও একদিন, যে নাকি সর্বক্ষণ পুরুষের সম্ভ্রম ব্যবহার আর অদম্য কৌতূহলের লোভ–থই-থই নিমগ্ন দৃষ্টি দেখে অভ্যস্ত, সেই নারীর বিশ্বাসে ফাটল ধরিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে এক যুবক ওর অনিন্দ্যসুন্দর রূপশ্রী থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। সুন্দরী তরুণীর অকরুণ চিত্তের স্থির অহংবোধে যেন তির ছুড়ল কেউ অব্যর্থ হাতে, রূপসীর হৃদয় উপহত হলো ওর প্রতি যুবকের অনাগ্রহ ব্যবহার দেখে—এত দিন হৃদয় ওর থমকে-দমকে মহারানির মতোই পুরুষ মানুষের হৃদয়-রক্তের অনুলেহ দ্বারা স্নাত হয়ে আসছিল, সন্দেহ নেই যে পরমা সুন্দরী কুমারী সে, আর তার ওপর চর্চিত প্রসাধনে সে বরাবর অনন্যা—অধরোষ্ঠে রমণীয় হাসি তখনো মোহজনক, চোখের কজ্জল দর্শনে বিদ্যুত্স্পৃষ্টতার তড়িত্প্রবাহ, সে জানে তার চেহারায় কুহেলিকার উপলক্ষণের কথা, তারপরও কেন—কেন, কেন যে ওই দুর্বিনেয় যুবকের বৈমুখ্য!কন্যা বাড়িতে এসে ছুটে গেল আয়নার সম্মুখে। সেই মুখ-চোখ-নাক, সেই ভ্রূভঙ্গি—সব ঠিকঠাক আগের মতো, কাল যেমন ছিল, তবে কেন ওই দুর্মুখ যুবক মুখ ঘুরিয়ে তাকে রেখে অন্য কোনো বিষয়ে মনোযোগী হলো? কী এক উন্মন ভাবের সৃষ্টি হয় ওর রূপ-চৈতন্যে—লোকটি কি মানুষ! মানুষ হলে কী রূপ মানুষ!! ওর অস্তিত্বে এক নতুন দুর্বোধ্য ঢেউ জটিল অনুভূতি সৃষ্টি করে হঠাৎই ঝিকা মারে যেন, ভীষণভাবে বিষম খেয়ে এখন সে স্থির, আশ্চর্য স্থির হয়ে সে নিজেকে দেখছে। যুবক ওর সৌন্দর্যকে অবহেলা করেছে—প্রাবৃত অহংকারের হৃদয় এখন অনলে জ্বলছে, ক্ষুব্ধ মনে ফণা তুলে ফোঁস শব্দও তোলে কি তোলে না, জানি না, আর সে নিজেই কি জানে সে তখন কী করছে না করছে, কী জানি! ঘোরের ভেতর আয়নার কাচের ওপর দৃশ্যত নিজের প্রতিবিম্বের দিকেই তাকিয়ে আছে সে অনেকক্ষণ ধরে, সম্মুখের এই প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে সে স্বীয় প্রতিচ্ছবি দেখছে না, যেন অন্য কোনো দৃশ্য দেখছে, কিংবা কিছুই দেখছে না, সে শুধু বিষে জর্জরিত হয়ে একরূপ শীতল ছোবল অনুভব করতে থাকে অন্তরে অন্তরে। সখী, সখীরে, আজ আমার হৃদয়ে লেগেছে ঘাত, কোথায় বৈদ্য, কোথায় ওষুধ!দুই.এবার বলি এক অজানা শ্রীহীন কন্যার কথা—কন্যার রূপ নেই তো কী, যৌবন এল যথারীতি। তবে বাদ্যহীন বাজনায়, দীনহীন বেশে খুব নীরবে যেন, চুপি চুপি, কেউ জানল কি জানল না, যৌবনাবতীর দিকে কেউ ঔত্সুক্য নয়নে তাকাল না। কন্যাকুমারী যৌবনপ্রাপ্তির পর থেকেই শহরের পুরুষ সকলের দৃষ্টিতে দেখে আসছে অবজ্ঞা, উপেক্ষা, উদাসীনতা। এতে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। কখনো সে নিজের অন্তরের কাছে কিংবা অপরের কাছে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেনি। সে নিজের ভেতর এক বিশ্বাসের আত্মপ্রত্যয় গড়ে তুলতে পেরেছিল, যা তাকে ভাবতে সাহায্য করত পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় হওয়াই নারীর একমাত্র কাজ নয়, আরও অনেক দূরচরণীয় কাজ করার আছে নারীর জন্য—এ বিশ্বাস তার অটল, ধ্রুবতারার মতোই উজ্জ্বল, আজ পর্যন্ত চিড় ধরাতে পারেনি কেউ, আঁধারের ছায়া নামাতে পারেনি এ বোধে। আসলে সে একটি কঠিন বিষয়ের তুখোড় ছাত্রী ছিল। সমবয়সী পুরুষবন্ধুরা ওর প্রতিভায় ঈর্ষান্বিত হচ্ছে, প্রতিযোগিতায় তারা তার কাছে পরাস্ত, এতেই এই নারীর সুখ এবং এ নিয়ে তার ভালো লাগার জগৎ—বেশ তো আছে সে।বেশ তো ছিল সে, কিন্তু সেই-ই আজ অনুভব করল একজন মুগ্ধ দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। হ্যাঁ, এক সুদর্শন যুবকের দৃষ্টি-পুত্তলিতে নিজ ছায়া অনুমান করতে পেরে সে যেন নিমেষেই অন্য আরেকজন হয়ে গেল। যুবক গায়ক স্টেজে দাঁড়িয়ে গান গাইছে—প্রথমত আমি তোমাকে চাই—শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই। বিরাট হলঘরভর্তি মানুষকে উপেক্ষা করে যুবকের আগ্রহী দৃষ্টি যখন তার দিকেই ধাবিত হয়ে স্থির হচ্ছে, তখন সে ঘেমে-নেয়ে থির থির করে কেঁপে উঠছে। এরূপ কেন হচ্ছে তার—বুকের ভেতর রিনরিনি বৃষ্টির ধ্বনি, অনুপ্ত বাসনায় এ কী অজানা ভয়ংকর ঢেউ! শ্রীহীন কন্যার নারীমন এক আশ্চর্য লজ্জা আর সংসক্তির পুলকে দুলে উঠল—সে নত চোখে বসে বসে এই দৃষ্টিপাতের কারণ খুঁজল, পেল না—সে তখন নিজের সারাটি জীবন তছনছ করে খুঁজতে থাকে এরূপ দৃষ্টিতে আর কেউ ওর দিকে তাকিয়েছিল কি না, কিন্তু না, কে তাকাবে তার দিকে? এরূপ দুর্লক্ষ দৃষ্টিপাতের তাজ্জব-বাস্তব-সত্য ঘটনা এই প্রথম। ওই দুটি চোখের আমন্ত্রণভরা দৃষ্টির কারণে এই নারীর পুরোনো জগৎ পাল্টে একেবারে আলাদা এক নয়া জগতের সৃষ্টি হলো। সে জানতই না যে পুরুষের দৃষ্টিতে একরূপ আগুন থাকে, যে আগুনে কাগজের মতোই পুড়তে থাকে নারীর হৃদয়। কন্যাটির মধ্যে দ্বন্দ্ব-দ্বিধামিশ্রিত এরূপ জিজ্ঞাসাই বারবার ঘূর্ণির মতো চক্করবক্কর খেল, এ কীরূপে হয়, ওই যুবক কেন তাকায় তার দিকে, ওর শ্রীহীন মুখের দিকে তাকিয়ে সে কী খোঁজে, কী জানি, ভালোবাসা কী? তা কীরূপে হয়, অযতনে আঁচড়ানো চুল, প্রসাধনহীন ঠোঁট, গাল-চক্ষু সবই তো আগের মতো, তারপরও—ওই তো শেষবারের মতো আরেকবার তার দিকে তাকিয়েই সে গান শেষ করে স্টেজ থেকে চলে যাচ্ছে পর্দার বাইরে। বাড়ি এসে কন্যা ছুটে যায় আয়নার সম্মুখে। স্থির চোখে নিজ মুখ দেখে—হ্যাঁ, সেই চোখ-নাক-ঠোঁট-ভ্রূভঙ্গি সব ঠিকঠাক আগের মতোই, তবে কেন ওই গায়ক যুবক অলক্ষ্যে বারবার তাকাচ্ছিল তার দিকে? কেন?লোকটা কি মানুষ! কী রূপ মানুষ!দেবদূতের মতো আশিস হাতে নিয়ে সে স্বর্গের ছবি দেখিয়ে গেল তাকে। একঝলক আবেগ-স্পন্দন, সে কখনো ভুলবে না। এই যুবকের স্মৃতি, ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি তখন ফুলের মতো সুন্দর-মায়াবী হয়ে ফুটে উঠল।তিন.ওদিকে রূপবতী কন্যার চোখের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। মনে মনে ভীষণ গোসা তার—সে সময়মতো খায় না, গোসল করে না, সাজসজ্জায় মনোযোগ নেই, কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথাও বলে না, ওর প্রতিদিনের রূপসম্পর্কিত বিশ্বাসে ঘুণ ধরেছে—থই দিগন্ত ভাসমান অহংকারের প্রাবল্যে এক জ্বলন্ত বালির অবস্থা যেন—খালি পোড়ায়, জ্বালায়, শুধু ফোসকা পড়ে, সে এক অসহনীয় দুরবস্থা, আসলে অন্তরে সে সর্বক্ষণই যুবকের উদাসীনতা আর দৃষ্টির অবজ্ঞাই অনুভব করছে আর জ্বলছে। যুবককে উদ্দেশ করে নপুংসক গালি দেয় সে, কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারে—এরূপ আকর্ষণীয় পুরুষ সে এ জীবনে আর কখনো দেখেনি, ওর ঈপ্সিত পুরুষ এখন একটাই—অজস্র মুখের ভিড়ে ঘুরেফিরে ওই যুবকের মুখই তার মনে ফিরে ফিরে আসে—এ এক মুশকিল, আশ্চর্য, আশপাশের কত পুরুষই তো তার রূপের উত্তাপে পতঙ্গের মতো পুড়ে মরছে, কিন্তু তার হিসাব কে রাখে, হিসাবের মধ্যে শুধু আজ এক যুবক, হ্যাঁ, সেই যুবক কখনো উজ্জ্বল আর কখনো ছায়াময় হয়ে দুলতে থাকে। দূর হ দূর হ—কাক তাড়ানোর মতো যুবকের প্রতি তার অনুচ্চারিত দুর্বলতাকে তাড়াতে চেষ্টা করে সে। দুর্বলতা কিন্তু মনের এডাল–ওডালে উড়ে বেড়াচ্ছে। কুমারী তাকে শক্তপোক্তভাবে খারিজ করতে চেষ্টা করে—দূর ছাই, কী যে হচ্ছে তার, ক্রোধান্বিত হয়ে যদিও ফুসছে সে তখনো, তারপরও সুন্দরী অবাক হয়ে ভাবে, যুবক তাকে পাত্তাই দিল না! কী নেই আমার—ভ্রূকুঞ্চিত নারী ঠোঁট ফোলায়, যুবক গান গায় ভালো কথা, তাই বলে নারীর রূপের কদর করবে না! উপর্যুপরি জ্বালাই বাড়ছে তার, এ জ্বালা সাতসমুদ্দুর তেরো নদীর পানিতে স্নাত হলেও জুড়াবে না—যুবতী উন্মাদনায় অস্থির হয়ে ওঠে, মনের ভেতর অশান্তির জ্বাল বুনছে কেউ, জালে আটকা পড়ে যাচ্ছে সে; চোখ বন্ধ করে নারী—এরূপ জ্বাল থেকে রক্ষা করতে পারত একজনই, কিন্তু সেই যুবক—সে তো ওর প্রতি উদাসীন, যুবতী বুঝতে পারল যে অশান্তির সূচনা হলো আজ তার থেকে খুব সম্ভবত পরিত্রাণ নেই।চার.রূপহীন কন্যাটিও খায় না, গোসল করে না, কারও সঙ্গে কথাও বলে না, কেন যুবক ওই রূপে তাকাল—এক চাহনিতে সমস্ত জগৎ টালমাটাল—সখীরে, ভালোবাসা কারে কয় জিজ্ঞাসায় অন্তর যখন ব্যাকুল, তখন সে কোথায়?—নেই। হারিয়ে গিয়েছে। যাই হোক, সে তো রেখে গিয়েছে এক অপরূপ স্মৃতি। ওই দৃষ্টির স্মরণে সে শিহরিত হয়ে ভাবে, তবে এর নামই ভালোবাসা! সে কেন বাজায় বাঁশি। সখীরে, সে কেন বাজায় বাঁশি! অজস্র মানুষের ভিড়ে একটি মুখই তার মনের ভেতর দোল খেতে খেতে তাকে বেঁচে থাকবার স্বপ্ন দেখাতে লাগল। কিন্তু এরূপ প্রবল তৃষ্ণায় সে কীরূপ সর্বদাই অস্থির—সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর পানিতে এ তৃষ্ণা মিটবে না, তার নারীমন সেই মুখ আরেকবার দেখতে চায়। উন্মাদনায় অস্থির সেও—না, এর কোনো মানে হয় না, সে জানে, তারপরও সে অপেক্ষা করে।পাঁচ.কিসের তরে এই অপেক্ষা, কোথায় এর শেষ তা কি নিজেরাই জানে? কী একরূপ ঘোরের ভেতর তারা চিন্তা করে ওই যুবককে নিয়ে, ভিন্ন রকমের অনুভূতি কিন্তু ফলাফল একই রূপ থেকে যাচ্ছে, সে আবার আসবে এরূপ আশা দুজনই অন্তরে পোষণ করতে থাকল।রূপবতী কন্যা তার পটলচেরা চোখের তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করে—কন্যাকুমারীর কৃষ্ণ আঁখিতে একসময় ধূসরতার প্রলেপ পড়ে, কুঞ্চনের সৃষ্টি হয় চোখের কোলে, তারপরও নারীর নির্বোধ ভরসা সে আসবে, আসবেই, শুধু আরেকবার তার সঙ্গে দৃষ্টিমিলন হোক—এরূপ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সে একদিন অনূঢ়া অবস্থায় প্রৌঢ়া হলো।আর রূপহীনা নারীর হৃদয় ছুঁয়ে একজোড়া কৌতূহলী চোখ বহুদিন পর্যন্ত শুকতারার মতো মিটমিট করে জ্বলতে থাকল, সে–ও আর বিয়ে করে সংসারী হতে পারেনি, সে–ও অনূঢ়া অবস্থাতেই প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলো।ছয়.বহুদিন পর রূপবতী এক প্রৌঢ়া আর রূপহীন এক প্রৌঢ়ার গমনস্থল হলো এক গানের জলসা। স্রেফ সময় কাটানোর ফন্দি—মধ্যবয়সের সঙ্গীহীন জীবনের সময় যে কাটে না, হাবিজাবি করে করেই যতটুকু সময় ব্যয় করা যায়। বিদেশ থেকে গানের তালিম নিয়ে আগত এক প্রখ্যাত গায়কের গানের জলসা—জলসাঘরে লোকে লোকারণ্য। রূপবতী প্রৌঢ়ার এক চেয়ার বাদেই বসেছে রূপহীনা। রূপবতী তাকিয়ে আছে স্টেজের দিকে স্থিরচিত্তে, রূপহীনা–ও উসখুস দৃষ্টিতে তাকিয়ে। হঠাৎ সচেতন হয়ে উঠল রূপহীনা, একি, কে—ওই তো, স্টেজে উঠে আসছে যে, সে যে সেই, বহুদিনের আরাধনার পর তবে সত্য সত্য তার দেখা মিলল। সেই চেহারা, সেই গানের গলা, সুরের ভেতর আরও পরিপক্বতা, কিন্তু সে হয় কী করে, ওর নাম ছিল জালাল মাহমুদ, খুব সম্ভবত নামটি পাল্টে নিয়ে শোভন সরকার হয়েছে—হায় কপাল, মানুষ কীরূপ নাম পাল্টায়! সে যাই হোক, সেই যুবক আজ প্রৌঢ়ত্বের দ্বারে উপনীত হয়েছে এটা সত্য, কিন্তু লোকটির চেহারা কেন পাল্টায়নি?রূপবতী প্রৌঢ়া চোখ বন্ধ করে তন্ময় হয়ে গান শুনছিল, হঠাৎ কী মনে করে চোখ খুলতেই অবাক হয়ে গেল সে, মানুষটি যার চেহারায় বিশেষ পরিবর্তন না হলেও অন্য মানুষ মনে হচ্ছে। সেই শক্ত চোয়াল, ঘুরিয়ে নেওয়া দৃষ্টি এসব আর নেই। তা না থাক, কিন্তু সঙ্গে ওই যে মহিলা—না রূপবতী না রূপহীনা স্ত্রীলোকটিই কি তার স্ত্রী, না সফরসঙ্গিনী? ঠোঁট উল্টায় সে, কী জানি! মহিলার পরিচয় জানার ঔত্সুক্য বোধ করে সে। ভ্রূ কুঁচকায় রূপসী প্রৌঢ়া, জালাল মাহমুদ তবে আজকের খ্যাতিমান গায়ক শোভন সরকার, জালাল শোভন হয়ে লুকিয়েছিল এত দিন। শোভন সরকারের নাম কত শুনেছে সে, তবু কখনোই ভাবেনি শোভন আসলে জালালের আরেক নাম। রূপবতী কন্যার কাছে এটা একরূপ জোচ্চুরি মনে হলো।সাত.রূপবতী প্রৌঢ়া শোভন সরকারের মুখোমুখি হলো, দেখুন তো চেনা যায় কি না—এরূপ কথা দিয়ে মহিলা শুরু করেছিল।শোভন সরকারের প্রৌঢ় চোখ কৌতূহলে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।—একসময় আপনার প্রতি অমনোযোগী হয়েছিলাম। মনে আছে আপনার, আপনার অহংকারী চোখ সেদিন আহত হয়েছিল, ভেবেছিল কে এই মূর্খ যে রূপের কদর করতে জানে না—আমার চালাকি আপনি ধরতে পারেননি।প্রৌঢ়া কিছুটা বিস্ময় হয়ে তাকিয়ে রইল।—কিছুই বুঝতে পারছি না, কিসের চালাকি।প্রৌঢ় গায়ক হাসে, বলে আপনার দিকে সবাই তখন তাকাত, আমার বিশ্বাস এখনো তাকায়।রূপসী প্রৌঢ়া অতি তিক্ত কণ্ঠে বলে—তাতে কি, আপনি তো তাকাননি।—সেটাই তো চালাকি।প্রৌঢ় মিটমিট করে হাসছে।বলল, সবাই তাকায়, আমিও যদি তাকাই, তাহলে কি আমি আর আপনার চোখে আলাদা হতে পারতাম। রূপবতী প্রৌঢ়া রেগে লাল হয়ে বলল, আপনি তাকান বা না তাকান তাতে আমার কী? আমি কেন আপনাকে সবার থেকে আলাদা করে দেখব?প্রৌঢ় হাসছে।কী শান্ত হাসি, কী নির্মল—বলল, হ্যাঁ আমি জানি, আপনি কাউকে আলাদা করে দেখতে চান না, আমিও পারিনি আপনার চোখে আলাদা হতে।জ্বলন্ত দৃষ্টিতে প্রৌঢ়া তখন তাকিয়ে আছে বহু বছর আগের এক যুবক, আজকের প্রৌঢ়র দিকে। তুমি জালাল হও আর শোভন হও, কী লাভ হয়েছে এরূপ খেলায়। কিছু না, তবু খেলেছ, পুরুষের স্বভাবই বুঝি তা–ই।প্রৌঢ় এবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে রূপহীন প্রৌঢ়ার দিকে তাকাল, বলল—কেমন আছেন আপনি?রূপহীন প্রৌঢ়া কুমারী হৃদয়ের তপ্তশ্বাস নিয়ে বলল, ভালো আছি, কিন্তু আপনি আমাকে মনে রেখেছেন?—কেন মনে রাখব না? আপনার চোখে আলাদা হওয়ার জন্য কতবার তাকিয়েছি, আপনি হয়তো তা ভুলে গিয়েছেন।—না, ভুলিনি। কী করে ভুলি, আপনিই তো প্রথম এবং শেষ আমার দিকে মনোযোগী দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন, আপনাকে আমার মনে আছে।শ্রীহীন মধ্যবয়সী নারী কথার ফাঁকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। প্রৌঢ় গায়ক কেন যেন হঠাৎ মাথা নত করে ফেলে, বলে, বয়সের কিছু ঝোঁক থাকে, আমারও হয়তো মাঝেমধ্যে কিছু ঝোঁক চাপত মাথায়।তারপর অন্যমনস্ক হয়ে হাসে। মদোদ্ধত দিনের বিলসনের স্মৃতি ছায়া হয়ে কম্পন তুলেছে আজ তার প্রৌঢ় হৃদয়ে।আট.দুই প্রৌঢ়া কুমারীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রৌঢ় যখন অতীতে ডুবে যাচ্ছিলেন, তখন সেই না সুন্দর, না অসুন্দর মহিলাটি চলে এল, এসেই নিঃসংকোচে প্রৌঢ়ের হাত ধরে বলল, ‘তুমি এখানে, চলো চলো, যেখানেই মেয়ে মানুষ দেখো সেখানেই ছোক-ছোক।’ ছি! এ কী ভাষা মহিলার! কিন্তু এরূপ ভাষা শুনেও প্রৌঢ় লোকটি বোকার মতো হাসে, বাধ্য স্বামীর মতোই সেই মহিলার পেছন পেছন চলে গেল হলের বাইরে। হলের ভেতরটা শূন্য।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ, চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। এবার সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় কেন্দ্রে আনা হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক থাকবেন। কোনো কক্ষে দুজনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। পাঁচ বাই ছয় ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে সেই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদিও সব বোর্ডে একই মানদণ্ড বজায় রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা এবং প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং আর মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৮৬৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বাংলা প্রথম প্রত্র দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা। চলতি বছর ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা। এর মধ্যে ১৪৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার ৪০টিই ঢাকায়। পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এগুলো হলো: পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল ও রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট, আর ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট হতে অন্তত সাত দিন আগে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করবেন। উত্তরপত্রে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ওএমআর ফরমে যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবেন পরীক্ষার্থীরা। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের মধ্যে লেখা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর (নন-প্রোগ্রামেবল) ব্যবহার করতে পারবেন। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবেন না। জরুরি যোগাযোগ ও সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রম এই কন্ট্রোল রুম থেকেই পরিচালনা করা হবে। সেজন্য ১টি টেলিফোন নম্বর, তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর এবং একটি ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার এবং সংবাদ স্ক্রলে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বরটি হলো- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়া যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫৬১০৩১৫২ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখানে প্রতিটি স্টল ঘুরে আমাদের মনে হলো দেশে নিউটন–আইনস্টাইনের অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী এখনে সময় প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেছেন। প্রতিজনকে প্রশ্ন করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক; পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা প্রধানদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, আইকিউএসি'র পরিচালক প্রফেসর ড. মাহবুব রব্বানী, আরটিসির পরিচালক প্রফেসর ড. মামুন-উর-রশিদ, অর্থ ও হিসাব বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডাইরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেলের পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার মিয়া ও মো. তানজিলুর রহমান, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক সৈয়দ নিজাম উদ্দিন এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রিয়াজ কাঞ্চন শহীদসহ বিভিন্ন দপ্তরের শাখা প্রধানরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হলে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি আরও বলেন, "অতীতে বিভিন্ন কারণে পবিপ্রবিতে শিক্ষার প্রত্যাশিত পরিবেশ ব্যাহত হয়েছিল। আমরা সবাই মিলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সেই পরিস্থিতি উত্তরণে কাজ করব। পবিপ্রবিকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা একটি 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স'-এ পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।" ভাইস-চ্যান্সেলর শাখা প্রধানদের সততা, জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি দপ্তরের দক্ষ ও স্বচ্ছ কার্যক্রমই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে। শিক্ষার্থী কল্যাণ, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং গবেষণার প্রসারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।" মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক হকার্যক্রমের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান। এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি। অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে অনুষ্ঠেয় প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে রাখা হয়েছে দলটির অধিনায়ককে। দেশের জার্সিতে মেসির আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা ও অধিনায়ককে তার প্রাপ্য বিদায় দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাপিয়া বলেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের দলের আইকন ও অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনায় একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’ অক্টোবরে আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবে তারা। একই ভেন্যুতে ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে মেসির মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে শেষবারের মতো মাঠে দেখার অপেক্ষায় থাকতে পারেন সমর্থকরা। তবে ম্যাচটিই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত বিদায়ী উপস্থিতি হবে কি না, সেটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার কারণে অক্টোবরের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদা। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর স্পেনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের ওপর দীর্ঘ মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমএমআর
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা। এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Hamza Choudhury–র (লেস্টার সিটি) বাংলাদেশে খেলার ঘোষণা BFF–এর জন্য প্ররোচনা হিসেবে কাজ করেছে। স্পীডস্টার ফুটবলার হিসেবে তার অভিষেকের পর, BFF একাধিক প্রবাসী ট্যালেন্ট খুঁজে বের করে বাংলাদেশ দলে নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে। 🔹 বিদেশি মূল–বিশ্বে পরিচিত কিছু নাম শামীট সোম (Shamit Som/Shamit Shome): কানাডায় থাকা ২৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, কানাডার জাতীয় দলেরও অংশ ছিলেন। BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, তৈরি হয়েছে দুই সপ্তাহের সময়, যাতে তিনি ক্লাব ও কোচদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন । এর পাশাপাশি, ফাহামিদুল ইসলাম (ইতালির চতুর্থ বিভাগ), ফারহান মাহমুদ (ফ্রান্স), ক্যারিম হাসান স্মিথ, ইলমান মাতিন, ও আশিকুর রহমান (ইংল্যান্ড), নাবিদ আহমেদ (কানাডা), আমির সামি (যুক্তরাষ্ট্র) সহ ১৩ দেশের ৩২ জন বিদেশি খেলোয়াড় BFF–র নজরে এসেছে । 🔹 ট্রায়াল ও পরিকল্পনা BFF ছয় থেকে সাত দিনব্যাপী ১–৫ জুন ২০২৫ ট্রায়ালের আয়োজন করেছে ঢাকায়, যেখানে প্রবাসী ১৬–২০ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করা হবে । BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানান, এটি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি–বাংলাদেশি যোগ উইঙ্গার বা মিডফিল্ডার হিসেবে সম্ভাবনাময় জুড়ির একটি চেষ্টার অংশ en.wikipedia.org। 🔹 Hamza Choudhury–এর ভূমিকা ও প্রভাব Hamza–র বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্তির পরে BFF–র উদ্যোগ আরো জোরালো হয়েছে। তিনি অক্টোবর ২০২৪–এ FIFA অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের জন্য যোগ্যতা পান tds-images.thedailystar.net+3dhakatribune.com+3thedailystar.net+3। BFF–র প্রেসিডেন্ট তাবিথ আওয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সভুজ–এর সাথে UK’র King Power স্টেডিয়ামে দেখা করেন; এসময় Hamza–র সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করা হয় — যা BFF–র বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রলোভনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । BFF মূলত চায়, Hamza কেবল মাঠেই নয়,Pro-ফর্ম ও আন্তর্জাতিক মানে গাইড হিসেবে কাজ করুক এবং তাকে অনুসরণ করে অন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ দলে আসুক reddit.com+14jagonews24.com+14dhakatribune.com+14। 🔹 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সচরাচর বিদেশি জাতীয় দল ইতিবাচক ভাবে একাধিক ম্যাচের জটিলতা সামলে প্রবাসীদের গ্রহণে সময় নেয়, তবে BFF–র পরিকল্পনায় প্রথম ফোকাস থাকবে বিদেশে জন্ম বা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুববলদের, যেন তারা দ্রুত জাতীয় দলের সঙ্গে তাল মিলাতে পারে । সামিট সোম–এর জিপিএস–ম্যাপ হওয়া, স্কুলছাত্রদের টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা andere তরুণদের ধরে বাংলাদেশের শিবিরে যোগ দিতে ইচ্ছুক— জুজের পথ প্রশস্ত হতে পারে আগামী মাসগুলোতে। সংক্ষেপে বিষয় পরিস্থিতি প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩২ জন (১৩ দেশ) প্রধান উদাহরণ Hamza Choudhury, Shamit Shome ট্রায়াল সময় জুন ২০২৫ গতিগতি Hamza–র অভিষেক ও FIFA অনুমোদনের পর BFF–র আরো সক্রিয় পদক্ষেপ লক্ষ্য বিদেশি-প্রমাণ পয়েন্টে প্রয়োগযোগ্য ফুটবলারদের সন্ধান ও সংযোজন বিশ্লেষণ খেলোয়াড় sourced from Europe/N. America–এর সংখ্যা বাড়ছে—এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য স্বপ্নের সম্ভাবনা। Hamza Choudhury–র অভিজ্ঞতা মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। BFF–র লক্ষ্য, এই প্রবাসীদের inclusion–এর মাধ্যমে জাতীয় দলে গুণগত মান ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো—এতে SAFF, AFC, ও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় দলটি শক্তিশালী দাঁড়াতে পারবে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে BFF–কে পারমিট, ক্লাব-নমঞ্জুরি, এবং FIFA–এর clearance ত্বরান্বিত করতে হবে। পাশাপাশি ম্যাচফিটনেস ও জাতীয় আদর্শে খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত করতে হবে। প্রবাসী প্রজন্মের সুশৃঙ্খল তালিকাভুক্তকরণ প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নত করবে। Shamit Shome–এর মতো অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখগুলোর দ্রুত বাংলাদেশ দলে সংযোজন সম্ভাব্য হলে, ভবিষ্যতে প্রবল প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হবে না।
ফেসব্যাক্সট্ম Camp Nou রেনোভেশন প্রকল্প ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয়ে দীর্ঘ বিলম্বের পর, অবশেষে গ্যাম্পার ট্রফির মাধ্যমে ১০ আগস্ট ২০২৫ সালে ‘আংশিক’ কার্যক্রমে ফিরছে বার্সেলোনা। এই সময় পর্যন্ত ক্লাব ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মিল রেখেও রয়েছে ফিনান্সিয়াল ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, যা প্রকল্পকে ধাপে এগিয়ে দিয়েছে। সময়সূচির পরিবর্তন ও প্রগতির সারাংশ বার্সেলোনা থেকে ২০২৩–২০২৬ সময়ের ‘Espai Barça’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে Camp Nou পুনর্নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালের জুনে, যা শুরুতে ডিসেম্বরে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ সরাসরি এবং ২০২৬–এর গ্রীষ্মে সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে reuters.com+15padmagazine.co.uk+15fcbarcelonanoticias.com+15thisismoney.co.uk+3eurofootball.news+3reddit.com+3 । মাঠে বায়ো-হাইব্রিড ঘাস বসানো শুরু হয়েছে এপ্রিল ২০২৫–এ, যা মূল যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে । ১ম ও ২য় স্তরে প্রায় ৩৯,০০০ সিট বসানো সম্পন্ন, ৩য় শ্রেণির ভিত্তিক নির্মাণ চলছে ও VIP রিং‑এর কাঠামো তৈরি দ্রুতগতি পেয়েছে । আর্থিক পুনর্গঠন ও ঋণের অধঃবিন্যাস রেনোভেশনের জন্য €১.৪৫–€১.৫ বিলিয়ন ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে €৪২৪ মিলিয়ন বর্তমানে বন্ড ইস্যু করে, ২০২৮ থেকে ২০৩৩-৫০ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে পরিশোধ পরিকল্পনা করা হয়েছে । এই ধরণের আর্থিক পদক্ষেপ ক্লাবের বার্ষিক রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে স্পন্সরশিপ ও টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে €২০০–€৩৫০ মিলিয়ন সম্ভাব্যভাবে অর্জনের হিসেব আছে । প্রশাসনিক বাধা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া গ্যাম্পার ট্রফির আগে সিটি কাউন্সিল, ফায়ার সার্ভিস, মসোস দ’Esquadra ও UEFA-র সাথে বেশ কিছু পারমিট নিতে হবে as.com । বার্সেলোনা পাত্তা দিচ্ছে নেই, এবং আশা করছে জুলাই মাসে আংশিকভাবে লাইসেন্স পেয়ে যাবে । তবে, VIP সেকশন, পঞ্চম তলা, ছাদ অর্থাৎ “roof” ইনস্টলেশন ২০২৬ গ্রীষ্মে সমাপ্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে । ⚽ গ্যাম্পার ট্রফি ও স্বাগতম চান্স ১০ আগস্ট Trofeu Joan Gamper আংশিকভাবে নতুন Camp Nou-তে আয়োজনের পরিকল্পনা, যেখানে আনুমানিক ৫০,০০০–৬০,০০০ দর্শক অংশ নিতে পারে cincodias.elpais.com+13as.com+13elpais.com+13 । ছাদ ছাড়া, লিফ্ট, গ্যালারি, ভিআইপি এলাকা ও বাথরুমে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে — ক্লাব এটি “ট্রায়াল ফেজ” হিসেবে দেখছে, এবং ভক্তদের ধৈর্য কামনা করেছে । সারসংক্ষেপ উপাদান অবস্থা উল্লেখযোগ্য তারিখ মাঠ ও সিট ঘাস বসানো–সিটিং প্রায় সম্পন্ন এপ্রিল–মে ২০২৫ VIP/তৃতীয় শ্রেণি কাঠামো তৈরি প্রক্রিয়াধীন চলমান ছাদ বিলম্বিত, ২০২৬ গ্রীষ্মে সম্ভাব্য — পারমিট অপেক্ষমাণ, জুলাইয়ে মিলতে পারে — আংশিক খোলা গ্যাম্পার ট্রফি: ১০ আগস্ট ২০২৫ ১০ আগস্ট ২০২৫ পূর্ণ উদ্বোধন ২০২৬ গ্রীষ্মের দিকে — ঋণ পুনর্গঠন €৪২৪ মিলিয়ন বন্ড, ২০৩৩–৫০ পর্যন্ত সময়সীমা জুন ২০২৫ Spotify Camp Nou ইউরোপের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশের পথে; তবে নির্মাণ বিলম্ব এবং পারমিট-সংক্রান্ত বাধাগুলি টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জের শুরু। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন অর্থসঙ্কট সামলে রাখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ক্লাবের এখন মূল অগ্রাধিকার আছে — ১০ আগস্টে আংশিক রিটার্ন দিয়ে ফ্যানদের সাথে পুনঃমিলন ঘটানো। আর এটি যদি সাফল্যের সাথে সফল হয়, তাহলে পরবর্তী বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্যাপাসিটিতে ফিরতে সহজ পথ উন্মোচিত হবে।
ফ্রান্সের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন Olympique Lyonnais (OL) এক বিপদের মুখে পড়েছে — ক্রীড়া না খেলার কারণে নয়, বরং আর্থিক অস্বচ্ছতা ও ঋণ বোঝাইয়ের কারণে তাদের শাস্তি হিসেবে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভভাবে Ligue 1 থেকে Ligue 2-তে নামানো হয়েছে। কী ঘটেছে? LFP-র নিয়ন্ত্রক সংস্থা DNCG ২০২৪ সালের নভেম্বরেই Lyonকে আর্থিক অস্থিতিশীলতার জন্য সতর্ক করেছিল। তারপরও ক্লাব দেড়শো মিলিয়নের বেশি নিশ্চিত তহবিল না জমিয়ে জুনে তাদের নিশ্চিতভাবে অবনমনের নির্দেশ দেন aftonbladet.se+15beinsports.com+15en.wikipedia.org+15reddit.com+1reddit.com+1reddit.com+4indiatoday.in+4indiatoday.in+4। OL-এর মালিক John Textor আর ইকোনমিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে; যদিও মেডিয়া সেলস এবং প্লেয়ার ট্রান্সফার থেকে আয় ছিল, তাও DNCG-কে মিটাতে পারল না । ক্লাব ও মালিক অভিযোগ করছে, “আমরা যথেষ্ট তহবিল জমিয়েছি, এবং ঠান্ডা মাথায় দেখি কিভাবে এটা অলিম্পিক উইথ এফেল্ট করবে”—তাই তারা আপিল জমা দিয়েছে । আর্থিক পটভূমি & ঋণের পরিমাণ DNCG রিপোর্ট অনুযায়ী, OL-এর দেড়শো মিলিয়ন ইউরোর ঋণ আছে। John Textor-এর হোল্ডিং সংস্থা Eagle Football Group-এর দায়ও প্রায় €445–422 মিলিয়ন reddit.com+15ft.com+15indiatoday.in+15। ক্যাপিটাল ইনজেকশনের অধীনে Crystal Palace-এর একটি স্টেক বিক্রি করার পরও Lyon তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি indiatoday.in। ক্লাবের প্রতিক্রিয়া Lyon তাদের অবনমন "বিশ্বাসঘাতক ও অযৌক্তিক" বলেছে এবং দ্রুত apel (appeal) জমা দিয়েছে । প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবের মালিক কিছু কার্যক্রম নিয়েছেন: Crystal Palace থেকে স্টেক বিক্রি, নারী দলের বিক্রি, প্লেয়ার বিক্রয়াদি — যাতে নগদ প্রবাহ বাড়ানো যায় । ক্রীড়া প্রভাব যদিও Lyon লিগে ছয় নম্বরে শেষ করেছে এবং ইউরোপে জায়গা পেয়েছিল, প্রশাসনিক অবনমন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় বাধা হিসেবে দাঁড়াতে পারে indiatoday.in+13theplayoffs.news+13talksport.com+13। UEFA মাল্টি‑ক্লাব হয়রানির কারণে Lyon-এ Europa League-র কোটা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে; কৃষকভাবে তারা ডিসকোয়ালিফাইড হলে অন্য ক্লাব যেমন Strasbourg বা Crystal Palace প্রভাবিত হতে পারে । কি হতে পারে পরবর্তী ধাপ? DNCG‑তে আপিল: Lyon-এর আপিল সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে thekenyatimes.com+10as.com+10beinsports.com+10। অর্থ সংকটের পুনর্মূল্যায়ন: ক্লাবকে সম্ভবত নতুন গ্যারান্টি দেখাতে হবে। যদি পুনরায় ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের স্থান ধরে নিতে পারে Stade Reims । ইউরোপ ব্যবস্থা: Lyon নিশ্চিত করতে চাইবে Europa League-এ খেলতে পারে কি না—UEFA-মাল্টি ownership বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সারসংক্ষেপ বিষয় বিবরণ স্থিতি DNCG-র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: Ligue 2-এ অবনমন ঋণের পরিমাণ প্রায় €422–445 মিলিয়ন যোগ্যতা Ligue 1-এ 6ম স্থান; ইউরোপে Europa League-এ জায়গা দেওয়া হয়েছিল ক্লাব প্রতিক্রিয়া “অযৌক্তিক” বলছে, আপিলে যাচ্ছে + ফান্ড সংগ্রহে কিছু সিদ্ধান্ত নেয় তারা ইউরোপীয় প্রভাব মাল্টি-ক্লাব ownership বিষয় নিয়ে UEFA সিদ্ধান্ত অপেক্ষায় Olympique Lyonnais-বিশ্বের এক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব, তবে তাদের আর্থিক নীতির ভঙ্গ হয়েছিল বেশ কয়েকবার। উপরে উল্লেখিত সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও আপিল ব্যবস্থা তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে — কিন্তু তা না হলে দ্বিতীয় বিভাগে নামা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। ক্লাব ও সমর্থকদের নজর এখন শুধু খেলোয়াড়ি প্রতিযোগিতা নয়, বরং অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রক মান বজায় রাখা—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আরও একবার ভরসা করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান—যে ট্রাম্প সৌদি আরবকে সুরক্ষা দেবেন। তবে ফলাফল সেই আগের মতোই, ট্রাম্প তাঁকে আবারও হতাশ করেছেন। গত সপ্তাহে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিরা অগ্রগতি নিশ্চিত করলে মোহাম্মদ বিন সালমান দুবার ফোন করে ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক হামলা চালানোর অনুরোধ জানান। তবে ট্রাম্প তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন; বদলে তিনি কেবল গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। মোহাম্মদ বিন সালমান কেন ভেবেছিলেন ট্রাম্প এবার তাঁর কথায় রাজি হবেন, তা এক রহস্য। কারণ, এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাঁর আগেও হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় হামলার পর—যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করেছিল—তেহরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি তখন স্পষ্টভাবেই সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে সৌদি আরবকে রক্ষা করার কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি কখনো দেননি। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে একটি সাঁজোয়া যানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাত বছর পরও রিয়াদ এবং পুরো উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একই ভুল ধারণা কাজ করছে। তাদের ধারণা, যখনই নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তব হলো, তারা তা করবে না। এই ধারণা কেবল ভুলই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি নিরাপত্তার ব্যবস্থাটি এখন মৃত। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে আগের মতো নাটক চালানো এখন অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যই বড় হুমকি হয়ে উঠছে। ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করে দিয়েছে যে এই ব্যবস্থা আর নির্ভরযোগ্য বা কার্যকর কোনোটিই নয়। উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তার জায়গায় বরং অনিরাপত্তার বড় উৎস হয়ে উঠেছে। এসব ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল যেন ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে না পারে। কিন্তু বাস্তবে উল্টো জিসিসির কয়েকটি দেশের আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধ উসকে দেয়—আর সেই যুদ্ধের ভেতর মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানকে আক্রমণ থেকে ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। বরং এই ঘাঁটিগুলো উল্টো ইরানের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সিআইএর সাবেক পরিচালক ডেভিড পেট্রেয়াস স্বীকার করেছেন যে ইরানের ভয়াবহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই ঘাঁটিগুলো এখন আর কোনো কাজের নয়। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে নিজের ঘাঁটিগুলোকেই রক্ষা করতে ব্যর্থ, সেখানে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তারা সুরক্ষা দেবে কীভাবে? অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় মার্কিন নিরাপত্তা চাদর কিছু বছরের জন্য হয়তো সুরক্ষা দিয়েছিল, কিন্তু ইরানকে বাদ দিয়ে ও কোণঠাসা করে রাখার যে ব্যবস্থার ওপর ভর করে তা তৈরি হয়েছিল, সেটাই শেষ পর্যন্ত আজকের এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পথ তৈরি করে দিয়েছে। জোটভিত্তিক এই আঞ্চলিক রাজনীতি কোনো সুরক্ষাবর্ম হতে পারেনি, বরং ওয়াশিংটনের সহযোগী দেশগুলোর অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রতিটি সংকটই নতুন সুযোগের জন্ম দেয়। পুরোনো ব্যবস্থার পতন একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে—এমন এক ব্যবস্থা, যা হবে সর্বজনীন ও যৌথ নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এখানে কোনো পক্ষভিত্তিক জোট থাকবে না এবং বাহ্যিক কোনো শক্তির হাতে এর চাবিকাঠি না থেকে দায়িত্ব থাকবে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর হাতেই। এর অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যের অর্ধেক দেশকে অন্য অর্ধেকের বিরুদ্ধে ব্যবহারের মার্কিন নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আঞ্চলিক দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব বিরোধ নিজেরাই সমাধানের উপযোগী স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। হুতিরা যে কারণে সরাসরি ইরান যুদ্ধে জড়াল হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকা কেন পিছু হটল ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি ধ্বংসাত্মক সংঘাত হিসেবে শেষ হতে পারে, যা কেবল দুর্দশা আর ধ্বংসাবশেষই রেখে যাবে। আবার এটি একটি ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট বা মোড়ও হতে পারে। ইরানকে চিরতরে এই ব্যবস্থা থেকে বাদ দিয়ে রাখা অসম্ভব। আর ইসরায়েলকে কেবল তখনই এই নতুন ব্যবস্থার অংশ করা যেতে পারে, যখন তারা ফিলিস্তিনে তাদের অবৈধ দখলদারির অবসান ঘটাবে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোও ওয়াশিংটনের ওপর চিরকাল নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না। তুরস্ক, পাকিস্তান কিংবা ইরাককে আর প্রান্তিক দেশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আর ছোট দেশগুলোও কোনো পরাশক্তির হাত ধরে টিকে থাকবে—এমন ভাবাও ভুল। যুক্তরাষ্ট্রের ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট’-এর ‘বেটার অর্ডার প্রজেক্ট’-এর মূল ভিত্তি এটিই। মধ্যপ্রাচ্যের ব্যর্থ সামরিক প্রতিরোধ, জোট ও বিদেশি হস্তক্ষেপের রাজনীতি বাদ দিয়ে একটি সর্বজনীন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। ইয়েমেনে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত উড়োজাহাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি বিদ্রোহীরা। তাঁদের দাবি, এটি সৌদি আরবের একটি যুদ্ধবিমান। মারিব, ইয়েমেন, ১৬ সেপ্টেম্বর এই নতুন ব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সব দেশ—ইরান, তুরস্ক, ইরাক ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্র—একটি স্থায়ী সংস্থায় অংশ নেবে। যুদ্ধ দূর করা নয়, বরং নিজেদের মধ্যে থাকা অনিবার্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলো নিয়ন্ত্রণ করাই হবে এর কাজ। এটি সংকটকালে যোগাযোগ, সংঘাত নিরসন, মধ্যস্থতা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি পানি, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলোয় একসঙ্গে কাজ করবে। আঞ্চলিক দেশগুলোই তাদের নিরাপত্তার প্রাথমিক দায়িত্ব নেবে। আর যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলের স্থায়ী সামরিক নিশ্চয়তাকারী না হয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহ্যিক অংশীদার হিসেবে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিরাপত্তা সহযোগিতা দিয়ে যেতে পারবে। হুতিদের হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি এখন কী করতে পারে বড় অনুপ্রেরণা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কাঠামো উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত থেকে আলাদা করে দেখবে না। ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধান না করে কেবল উপসাগরে নতুন নিরাপত্তা চুক্তি করলে তা অস্থিতিশীলতার নতুন উৎসেরই জন্ম দেবে। তাই এই মডেলের শর্ত হওয়া উচিত যে ইসরায়েলের জন্য এই নতুন জোটের দরজা সব সময় খোলা থাকবে, তবে তার প্রবেশমূল্য হবে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন। এটি হয়তো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নিরর্থক ও অবৈধ দখলদারি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা বন্ধ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী উদ্দীপক হিসেবে কাজ করতে পারে। ২০০২ সালের ‘আরব পিস ইনিশিয়েটিভ’ (স্বীকৃতির বদলে স্বীকৃতি) কিংবা ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ (সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বদলে স্বাভাবিকীকরণ)-এর মতো নয়—এই প্রস্তাব ইসরায়েলকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরেই সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, যদি তারা ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রগঠনের অধিকার স্বীকার করে নেয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এক বড় জয় হবে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে অনর্থক সম্পদ না ঢেলে মার্কিন সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনার পক্ষে সোচ্চার। হুতির হামলায় মক্কা চুক্তি কি কার্যকর হবে হুতিদের হাতে বাব আল-মানদেব গেলে যা হবে যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই সামরিক উপস্থিতি ও ব্যয় বিপুল পরিমাণে কমিয়েও এখানে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গভীরভাবে যুক্ত থাকতে পারে। আর আঞ্চলিক দেশগুলো সামরিক প্রতিযোগিতায় না নেমে যৌথভাবে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরা নিতে পারবে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে এসব চিন্তাভাবনা হয়তো অনেকের কাছে একটু ভাবালু বা অবাস্তব মনে হতে পারে। তবে মানবতার সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর ছাই থেকেই কিন্তু নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার মহৎ সব দর্শনের জন্ম হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্ম হয়েছিল, যা ফ্রান্স ও জার্মানির শত বছরের বৈরিতাকে বদলে একটি যৌথ ইউরোপীয় প্রকল্পের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। স্নায়ুযুদ্ধের চরম মুহূর্তে, যখন ইউরোপ দুই পারমাণবিক শক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিভক্ত ছিল, তখনই শুরু হয়েছিল ‘হেলসিঙ্কি প্রক্রিয়া’—যা সেই বৈরিতা সামলানোর জন্য নতুন নিয়ম ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিল। ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ধ্বংসাত্মক আরেকটি অধ্যায় হতে পারে, কিংবা এটি হতে পারে এমন এক মোড়, যা এই অঞ্চলকে একটি টেকসই ও শান্তিময় ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে। তবে এর কোনোটিই আপনা-আপনি হবে না। এটি তখনই সম্ভব, যখন আঞ্চলিক নেতারা কোনো কাল্পনিক মার্কিন ‘ত্রাতা’র কাছে ফোন করার বদলে নিজেদের দেশগুলোকেই নিজেদের ভবিষ্যতের উত্তর হিসেবে দেখতে শুরু করবেন। ত্রিতা পারসি কুইন্সি ইনস্টিটিউটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির বিশ্লেষখ
ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলায় ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ পড়া মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর ঘোষণা দিয়েছেন, এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া তাঁর ১০ লাখ ডলার তিনি ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করবেন। ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মার্কিন শিল্পী ফিনিয়াস, ড্যানিশ শিল্পী লুকাস গ্রাহাম, ব্রিটিশ-আইরিশ সংগীতশিল্পী অ্যারন রো এবং আইরিশ ব্যান্ড বিওগাও ট্যুর থেকে সরে দাঁড়ান। এসবের মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় বড় অঙ্কের অর্থ দানের এই ঘোষণা দিলেন ম্যাকলমোর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত বুধবার দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ম্যাকলমোর জানান, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া তাঁর পুরো ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করবেন। অর্থ যাবে ছয়টি সংগঠনের কাছে—প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি ও আনেরা। পোস্টে ম্যাকলমোর বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় যা ঘটেছে, তারপর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনের মানুষের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘যে বিষয়েই আমাদের মতপার্থক্য থাকুক না কেন, অন্তত এ বিষয়ে আমরা একমত হতে পারি যে ফিলিস্তিনের মানুষের জীবন রক্ষা করা জরুরি। পৃথিবীর অন্য যেকোনো মানুষের জীবনের চেয়ে একজন ফিলিস্তিনির জীবনের মূল্য কম নয়।’ তিনি আরও বলেন, আলোচনার কেন্দ্রে তিনি নিজে থাকতে চান না। তাঁর মনোযোগ থাকবে সেই বাবা-মায়েদের দিকে, যাঁরা সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন অথচ চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সেখানে নেই; চিকিৎসক, প্যারামেডিক, সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের দিকে, যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।ম্যাকলমোর শুধু নিজের অর্থ দানের ঘোষণা দিয়েই থামেননি। তিনি ম্যাসাচুসেটসের জিলেট স্টেডিয়াম ও আমেরিকান ফুটবল দল নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটকেও সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। ম্যাকলমোরের এই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফটের পক্ষ থেকে নতুন ঘোষণা আসে। তাঁকে ফোন করে মানবিক সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলার দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এড শিরান বলেও জানান ক্রাফট। শিরান ও ক্রাফট মিলে মোট ৪০ লাখ ডলার মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই অর্থ কোন কোন সংগঠনের হাতে যাবে, তা ম্যাকলমোরের অনুদানের মতো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। ক্রাফট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, সব মানুষের জীবন রক্ষা করা উচিত।’ ফিলিস্তিনিদের জন্য কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।শিরানের সমালোচনায় রজার ওয়াটার্সম্যাকলমোরকে ঘিরে বিতর্কে মুখ খুললেন ব্রিটিশ ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের সহপ্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে সরব এই সংগীতশিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে ম্যাকলমোরের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ‘এড হু’ শিরোনামের ভিডিওতে এড শিরানের সমালোচনাও করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ আছে। একধরনের মানুষ ‘সঠিক কাজটি করেন’, উদাহরণ হিসেবে তিনি ম্যাকলমোরের কথা বলেন। এরপর আছেন অন্য ধরনের মানুষ, যাঁরা ‘সঠিক কাজটি করতে পারেন না’। ‘সঠিক কাজটি করতে পারেন না’ বলে রজার শিরানের দিকে ইঙ্গিত করেন।ম্যাকলমোর। রয়টার্স ফিলিস্তিন ইস্যুতে তারকাদের বিভাজন নতুন নয়ম্যাকলমোরের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তারকাদের বিভাজন কয়েক বছর ধরেই স্পষ্ট। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হলিউড ও সংগীতাঙ্গনের বহু তারকা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলেছেন। কেউ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন, কেউ গাজায় মানবিক সহায়তার দাবি তুলেছেন, আবার কেউ ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছেন।ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে মেক্সিকান অভিনেত্রী মেলিসা বারেরাকে ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্ক্রিম ৭ থেকে বাদ দেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্পাইগ্লাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে গাজাকে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ এবং ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ ও ‘জাতিগত নির্মূল’ বলার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। স্পাইগ্লাস জানায়, তাদের ‘ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা’ নীতি রয়েছে। বারেরা অবশ্য বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলা আর ইহুদিবিদ্বেষ এক না। ঘটনাটি তখন হলিউডে বড় বিতর্ক তৈরি করে। কারণ, বারেরা ছিলেন ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন প্রজন্মের অন্যতম প্রধান মুখ। তাঁর বাদ পড়ার পর পরিচালক ক্রিস্টোফার ল্যান্ডনও প্রকল্পটি ছেড়ে দেন।অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন বহু বছর ধরেই রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুতে সরব। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর তাঁর ট্যালেন্ট এজেন্সি ইউটিএ তাঁকে বাদ দেয়। তাঁর বক্তব্য নিয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগও ওঠে। সারান্ডন পরে নিজের একটি মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং ইহুদিবিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়া—দুটিরই বিরোধিতা করার কথা বলেন। তবে তাঁর ক্ষেত্রে বিতর্ক সেখানেই থামেনি। সদ্য শেষ হওয়া ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সারান্ডন জানান, ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থানের কারণে এখনো তিনি সিনেমার কাজ হারাচ্ছেন। তাঁর দাবি, হলিউডের বড় স্টুডিওগুলো ইসরায়েলের সমালোচনা করেন, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করতে অনীহা দেখাচ্ছে।ফিলিস্তিন নিয়ে কথা বলার পর শুধু অভিনেতারাই পেশাগত চাপে পড়েননি। এড শিরান। রয়টার্স হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী এজেন্সি সিএএর এজেন্ট মাহা দাখিলও বিতর্কে পড়েছিলেন। ২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করার পর তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে সিএএর নেতৃত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান।ব্রিটিশ-আলবেনীয় পপ তারকা দুয়া লিপাও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন এবং যুদ্ধবিরতির পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলপন্থী মহল থেকে সমালোচনা আসে।ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মডেল বেলা হাদিদ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে কথা বলে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনের মানুষের দুর্ভোগ, গাজায় মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিরতির পক্ষে কথা বলেছেন বেলা। ২০২৪ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিলিস্তিনি পাতাকার কেফিয়াহ পরে আলোচনায় আসেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তাঁর ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। সুসান সারান্ডন। এএফপি অ্যাভেঞ্জার্স তারকা মার্ক রাফালোও গাজা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তিনি যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।অভিনেতা ও কমেডিয়ান র্যামি ইউসুফও ফিলিস্তিনের পক্ষে সরব। ২০২৪ সালের অস্কারে তিনি ‘আর্টিস্ট ফর সিজফায়ার’ লেখা পিন পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। ওই প্রচারণার মূল দাবি ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি।স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম ২০২৪ সালের সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার গ্রহণের সময় গাজায় যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানান। পরেও বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে অনেকবারই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান, তারপর এড শিরানের সফরে যা ঘটল ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’ ও ‘স্নো হোয়াইট’ অভিনেত্রী র্যাচেল জেগলারও প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লিখেছেন। তাঁর এই অবস্থান বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কারণ, ‘স্নো হোয়াইট’-এ তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ইসরায়েলি অভিনেত্রী গাল গ্যাদত।ফিলিস্তিনপন্থী তারকাদের বিপরীতে বহু হলিউড তারকা প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানান। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর সাত শতাধিক হলিউড অভিনেতা, নির্মাতা ও বিনোদনজগতের ব্যক্তিত্ব একটি খোলাচিঠিতে হামাসের হামলার নিন্দা এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির দাবি জানান। এই তালিকায় ছিলেন গাল গ্যাদত, মাইকেল ডগলাস, মার্ক হ্যামিল, জেমি লি কার্টিস, হেলেন মিরেন, জেরি সাইনফেল্ড, ক্রিস পাইন, জ্যাকরি লেভিসহ আরও অনেকে। অভিনেত্রী-কমেডিয়ান অ্যামি শুমারও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে
অতিথি:মো. ওবায়দুল হকসহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সঞ্চালক:পার্থ শঙ্কর সাহা
ভারত ও পাকিস্তান এই ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ যেমন করেছে, একইসঙ্গে দুই দেশই অপরপক্ষের কূটনীতিকদের তলব করেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি ও বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ইসরায়েলের এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছে, এই মুহূর্তে পাল্টাপাল্টি এ ঘটনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যসহ মোট ১২টি দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে; যদিও ইসরায়েলের ক্ষোভের সবচেয়ে বড় ধাক্কা যুক্তরাজ্যকেই সামলাতে হচ্ছে। লন্ডনের কর্মকর্তারা সব সময়ই জানতেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের নীতির এমন নাটকীয় পরিবর্তনের জেরে ইসরায়েলের কাছ থেকে বৈরী প্রতিক্রিয়া আসবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া যে এত দ্রুত ও তীব্র হবে, তা হয়তো ভাবতে পারেননি।ইসরায়েল গত সপ্তাহে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকেও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়েছে, যা খুবই বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীরে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো এবং রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা হতো।লন্ডনের কর্মকর্তারা সব সময়ই জানতেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের নীতির এমন নাটকীয় পরিবর্তনের জেরে ইসরায়েলের কাছ থেকে বৈরী প্রতিক্রিয়া আসবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া যে এত দ্রুত ও তীব্র হবে, তা হয়তো ভাবতে পারেননি।আর গত বছর প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টারটির কাজ ছিল, গাজা উপত্যকায় স্থিতিশীলতা ফেরানো ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করা।এ থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাজ্য ও আরও ১১টি দেশের নেওয়া পদক্ষেপে ইসরায়েল কতটা গভীর উদ্বিগ্ন। যদিও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্য ইসরায়েলের মোট রপ্তানির খুব বড় অংশ নয়। কিন্তু এসব পণ্যকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক।পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স ও কানাডাও রয়েছে।ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বাড়ি। ১৪ আগস্ট, ২০২৬ বহু বছর ধরেই যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ বলে মনে করে আসছে, তবে এত দিন তারা এসব বসতিতে উৎপাদিত বা চাষ করা পণ্য নিষিদ্ধ করার পথে যায়নি।২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক রায়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতিসহ পুরো দখলদারত্ব বেআইনি বলে ঘোষণা করেন। যুক্তরাজ্য ওই রায়ের সঙ্গে একমত ঘোষণা করেছে। —এড মিলিব্যান্ড, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের জন্য এরাই দায়ী। আর ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, এটা সত্যিই বিস্ময়কর।এখন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলছেন, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও এটির (পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্ব বেআইনি মনে করা) প্রতিফলন থাকা উচিত।তবে শুধু পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বসতিগুলোয় নির্মাণকাজ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা অর্থায়নে সহায়তা করে—এমন কোম্পানিগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে এমন অস্ত্র বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেগুলো দখলদারত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।এসব পদক্ষেপ অনেকের কাছে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি কঠোর মনে হয়েছে।এড মিলিব্যান্ড নিজে একজন গর্বিত ব্রিটিশ ইহুদি। তিনি সব সময় ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি নিজের অবিচল সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এরপরও তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের প্রায় সবার চেয়ে খোলাখুলি ও স্পষ্ট ভাষায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সমালোচনা করেছেন।মিলিব্যান্ড বলেছেন, ‘ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের জন্য এরাই দায়ী। আর ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, এটা সত্যিই বিস্ময়কর।’২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক রায়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতিসহ পুরো দখলদারত্ব বেআইনি বলে ঘোষণা করেন। যুক্তরাজ্য ওই রায়ের সঙ্গে একমত ঘোষণা করেছে।পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর যুক্তরাজ্যের এ নিষেধাজ্ঞাকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে এক ‘নতুন শুরুর’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছেন মিলিব্যান্ড।যদিও ইসরায়েল–যুক্তরাজ্যের গত সপ্তাহের ঘোষণাগুলো শুনে অনেকের কাছে মনে হয়েছে, এটি যেন তাদের নীতিতে একেবারে আমূল পরিবর্তন। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। —হুসাম জোমলট, লন্ডনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতব্রিটেনের সাহসী পদক্ষেপগুলো ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথ সুগম করতে সহায়তা করবে।অনেক ইসরায়েলিও মনে করেন, বসতি স্থাপনকারীদের কারও কারও সহিংস ও উগ্র মতাদর্শ ভীষণ উদ্বেগজনক। কেউ কেউ তাঁদের দেশের জন্য লজ্জার কারণ বলেও মনে করেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে দখল করা ভূখণ্ডে গড়ে তোলা ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ মনে করেন।পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাঅধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সাপ্তাহিক পরিদর্শনের সময় পাহারা দিচ্ছেন ইসরায়েলি সেনারা। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট গত বছর তাঁর উত্তরসূরি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে ‘আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে রাষ্ট্রে’ পরিণত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। অধিকাংশ ইসরায়েলিই যে তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।তবে আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দার চাপ যে ক্রমেই নেতানিয়াহুকে ঘিরে ফেলছে, সেটি ইসরায়েলিরা অনুভব করতে পারেন। ইউরোভিশন কিংবা বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং এখন বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে এ পরিস্থিতি ইসরায়েলিদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং তাঁরা আত্মরক্ষামূলক মনোভাবের দিকে ঝুঁকছেন।আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দার চাপ যে ক্রমেই নেতানিয়াহুকে ঘিরে ফেলছে, সেটি তাঁরা অনুভব করতে পারেন। ইউরোভিশন কিংবা বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং এখন বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে এ পরিস্থিতি ইসরায়েলিদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং তাঁরা আত্মরক্ষামূলক মনোভাবের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি লক্ষ্যপূরণের পথে দারুণ অগ্রগতি মনে হতে পারে।ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবং ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।লন্ডনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট ব্রিটিশ সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে ‘যুক্তরাজ্য ও ফিলিস্তিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য কেন কঠোর পদক্ষেপ নিলরাষ্ট্রদূত জোমলট বলেন, ‘ব্রিটেনের সাহসী পদক্ষেপগুলো ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথ সুগম করতে সহায়তা করবে।’কিন্তু জোমলট জানেন, বাস্তবতা ভিন্ন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ৫৯ বছরের দখলদারত্ব শেষ হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। এমনকি এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনও আসেনি।একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনো অত্যন্ত ক্ষীণ। আর আপাতদৃষ্টিতে ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখল করে নেওয়ার যে অনিবার্য প্রক্রিয়া চলছে, ১২টি দেশের সম্মিলিত পদক্ষেপে তা থামবে—এমন লক্ষণও এ পর্যন্ত খুব কম। এমন প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের আছে।১৯৯১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক শামিরের সরকারের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের নিশ্চয়তা আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কারণ, কট্টরপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত শামির যুক্তরাষ্ট্রকে এ প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন যে তাঁর সরকার এ অর্থ দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কাজে ব্যবহার করবে না।বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ঠেকানোর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিতে আগ্রহ দেখাননি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের। সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের কারণে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ব্যক্তিদের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে। আরও পড়ুন মক্কার দক্ষিণে ড্রোন হামলা, সৌদির হুঁশিয়ারি একই সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্থানীয় আইন নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সৌদি আরবের কিছু এলাকায় ঝুঁকি আরও বেশি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাই এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। পাশাপাশি, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আরও পড়ুন পাইপলাইন বন্ধ / সৌদির তেল ফুরিয়ে যেতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই সম্প্রতি পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুথিরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। তবে, ড্রোনটি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় পবিত্র মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি) এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করে এজন্য হুথিদের দায়ী করেছে। একই সঙ্গে ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান হামলারও নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। আরও পড়ুন মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, জানাল সৌদি আরব এদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন হয়। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর লোহিত সাগরপথে তেল পরিবহন নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও মার্কিন নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভ্রমণ সতর্কতা এখনো ‘লেভেল ৪—ভ্রমণ করবেন না’ পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েমেনে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/
গতকাল শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল ইশায়াত।
<p>১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালমাটিয়ার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিউকলোনি আবাসিক এলাকায় অভিযানে যায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এ সময় সেখানকার এক বাসিন্দা মশার লার্ভা পরিষ্কারের কাজ মিউনিসিপ্যালিটির বলে মন্তব্য করেন। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
এসআরবি জানায়, বাহাদুর মিয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়। তিনি একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দী ছিলেন।
<p>চট্টগ্রামে ব্যস্ত সড়কে রিকশা থামিয়ে ছুরি দেখিয়ে যাত্রীর মুঠোফোনসহ মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
<p>আলোকচিত্রীদের কাছে সাগরের সবচেয়ে শ্বাসরুদ্ধকর ছবি চায় ‘ওশান ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’। এবারের আসরে বিজয়ী ছবিগুলোতে উঠে এসেছে কৌতূহলী সিল, সি–হর্স বাবা, সচরাচর দেখা যায় না গভীর সমুদ্রের এমন প্রাণীদের গল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-18/qc9w6gw4/p0p94sqn_jpg.webp"><figcaption>সমুদ্রের তলদেশের ওপর দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভেসে যাচ্ছে পাঁচটি স্পটেড ইগল রে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-17/87kv7wjx/Pic02.jpg"><figcaption>সমুদ্রের নিচে খাদ্যশৃঙ্খলের নির্মম বাস্তবতার একটি মুহূর্ত। লিজার্ডফিশকে গিলে খাচ্ছে একটি স্করপিয়নফিশ</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-17/f9fl6dgw/Pic06.jpg"><figcaption>স্যাল্পের ঝাঁকের মাঝে সাঁতার কাটছে একটি গভীর সমুদ্রের রিবনফিশ</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-17/lfc8aipu/Pic05.jpg"><figcaption>ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সি লায়ন আইল্যান্ডের অগভীর পাথুরে জলাধারে সমুদ্রের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হচ্ছে একটি সাউদার্ন এলিফ্যান্ট সিলের বাচ্চার</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-17/k5prmpsn/Pic08.jpg"><figcaption>হাঙর জরিপের সময় লেজার-ক্যালিব্রেটেড ভিডিও ফটোগ্রামেট্রি ব্যবহার করছেন বৈজ্ঞানিক ডুবুরিরা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-17/b5tn9djr/Pic_09.jpg"><figcaption>সিডনির তামারামা সৈকতে সার্ফারদের সঙ্গে ঢেউয়ের তালে ভেসে চলেছে কয়েকটি ডলফিন</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-17/uraawqmc/Pic_04.jpg"><figcaption>বাবা সি–হর্সের কাছ থেকে দুই বাচ্চার বিদায় মুহূর্তের ছবিটি ওশান ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার ২০২৬-এ সামগ্রিক বিজয়ী। ঘোড়ার মতো দেখতে বলেই সমুদ্রতলের প্রাণীটির নাম সি–হর্স। এই প্রাণীদের পুরুষেরা গর্ভধারণ করে</figcaption></figure>
আমাদের পূর্বসূরি মনীষীরা খুব ভালো করে উপলব্ধি করেছিলেন যে অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করতে হলে মুখের দরজায় কড়া পাহারা বসাতে হবে।
রঙিন বস্ত্র, পুঁতির অলংকার, বাঁশের ছাতা, মাটির প্রদীপ আর নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র—এক জায়গায় জড়ো হয়েছে পাহাড়ের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ।
রাধিকার মতে, মানুষ খুব দ্রুত কোনো কিছুতে আপত্তি জানায়। আর শিল্পের ক্ষেত্রে সেটিই বড় সমস্যা।
জুলাই মাস থেকে এ অঞ্চলে একই ধরনের পরিস্থিতিতে নয়জন নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। এসব ভয়াবহ উদ্ধারকাণ্ড আবারও দেশজুড়ে নারী-নির্যাতনের ব্যাপকতা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার জুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ এবং জ্বালাময়ী সম্পর্ক রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গ্রিনল্যান্ডকে দখল বা অধিগ্রহণ করার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের হুমকির পর এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হলো। তিনি জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, প্রতিরক্ষার দিক থেকে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং এর খনিজ সম্পদের কারণে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা; মসজিদে গোপন বৈঠক চলাকালে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক; পাঁচ বছরের মধ্যে এখন কারাগারে বন্দির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি- এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোয়।
বিদ্যুতের বিল নিয়ে সম্প্রতি গ্রাহকদের বড় ধরনের অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। জুন মাসে নতুন দাম নির্ধারণের পর শহর-গ্রাম নির্বিশেষে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচন চিহ্ন নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের পরে মমতা ব্যানার্জী নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ড. জাফর ইকবাল এবং অধ্যাপক মাকসুদ কামালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগপত্রে কোন বিষয়গুলো এনেছে প্রসিকিউশন? অভিযোগপত্র দাখিল এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কী বলছেন মানবাধকারকর্মী এবং আইন বিশেষজ্ঞরা?
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি শিল্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আবারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে।