পৃথিবীর বুকে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পানির ভূমিকা অপরিসীম। ভূত্বকের গভীরে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি এক গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মাইল নিচে থাকা গভীর ভূগর্ভে পানির বিশাল ভান্ডার লুকিয়ে থাকতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব লিডসের ভূবিজ্ঞানী আলফ্রেড উইলসন জানান, পানিই পৃথিবীর বাসযোগ্যতার মূল চাবিকাঠি। তবে এই পানি কীভাবে গ্রহের ম্যানটেল স্তরে পৌঁছাল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। গ্রহ সৃষ্টির সময় উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে পানি এসেছিল বলে একদল গবেষক মনে করেন। আবার অনেকে মনে করেন পরবর্তী সময়ে কোনো প্রক্রিয়ায় শুকনা ম্যানটেল পানিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পানি সম্ভবত ম্যানটেল এবং তরল বহিঃস্থ কোরের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ভূকম্পন পরীক্ষার মাধ্যমে এই এলাকায় অতি কম বেগের অঞ্চল বা আল্ট্রালো ফেলোসিটি জোনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ম্যানটেলের নিচের অংশে থাকা খনিজগুলো সাধারণত শুষ্ক প্রকৃতির হয়ে থাকে। তবে চরম তাপমাত্রা ও চাপে খনিজগুলোর ভেতরে পানি আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা লেজার হিটেড ডায়মন্ড আনভিল সেল ব্যবহার করে চরম তাপমাত্রা ও চাপ তৈরি করেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দুটি নতুন আয়রন অক্সিহাইড্রোক্সাইড শনাক্ত করেছেন। এই বিশেষ খনিজ বিপুল পরিমাণ পানি আটকে রাখতে সক্ষম। স্বল্প পরিমাণ হাইড্রোজেন উপস্থিত থাকলেও এই খনিজগুলো স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পরীক্ষাগারে প্রমাণিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে কোনো বিশাল সমুদ্রের মতো তরল পানি সরাসরি জমা নেই। খনিজের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে এই পানি ভূগর্ভে সংরক্ষিত রয়েছে। ভারী ও ঘন হওয়ায় পৃথিবীর শুরুর দিকে এই জলবাহী খনিজগুলো কোরের সীমানার দিকে ডুবে গিয়েছিল। ম্যানটেল স্রোতের টানে এই জল আবার ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসতে পারে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা প্লুমের মাধ্যমে এই পানি একসময় ভূত্বকে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব বায়রয়তের খনিজ পদার্থবিদ লিওনিড ডব্রোভিনস্কি জানান, সামান্য পরিমাণ হাইড্রোজেনও এই পানিসমৃদ্ধ খনিজ তৈরিতে যথেষ্ট। তবে এই খনিজে ঠিক কী পরিমাণ পানি রয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পৃথিবীর বুকে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পানির ভূমিকা অপরিসীম। ভূত্বকের গভীরে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি এক গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মাইল নিচে থাকা গভীর ভূগর্ভে পানির বিশাল ভান্ডার লুকিয়ে থাকতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব লিডসের ভূবিজ্ঞানী আলফ্রেড উইলসন জানান, পানিই পৃথিবীর বাসযোগ্যতার মূল চাবিকাঠি। তবে এই পানি কীভাবে গ্রহের ম্যানটেল স্তরে পৌঁছাল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। গ্রহ সৃষ্টির সময় উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে পানি এসেছিল বলে একদল গবেষক মনে করেন। আবার অনেকে মনে করেন পরবর্তী সময়ে কোনো প্রক্রিয়ায় শুকনা ম্যানটেল পানিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।গবেষণায় দেখা গেছে, পানি সম্ভবত ম্যানটেল এবং তরল বহিঃস্থ কোরের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ভূকম্পন পরীক্ষার মাধ্যমে এই এলাকায় অতি কম বেগের অঞ্চল বা আল্ট্রালো ফেলোসিটি জোনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ম্যানটেলের নিচের অংশে থাকা খনিজগুলো সাধারণত শুষ্ক প্রকৃতির হয়ে থাকে। তবে চরম তাপমাত্রা ও চাপে খনিজগুলোর ভেতরে পানি আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা লেজার হিটেড ডায়মন্ড আনভিল সেল ব্যবহার করে চরম তাপমাত্রা ও চাপ তৈরি করেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দুটি নতুন আয়রন অক্সিহাইড্রোক্সাইড শনাক্ত করেছেন। এই বিশেষ খনিজ বিপুল পরিমাণ পানি আটকে রাখতে সক্ষম। স্বল্প পরিমাণ হাইড্রোজেন উপস্থিত থাকলেও এই খনিজগুলো স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পরীক্ষাগারে প্রমাণিত হয়েছে।বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে কোনো বিশাল সমুদ্রের মতো তরল পানি সরাসরি জমা নেই। খনিজের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে এই পানি ভূগর্ভে সংরক্ষিত রয়েছে। ভারী ও ঘন হওয়ায় পৃথিবীর শুরুর দিকে এই জলবাহী খনিজগুলো কোরের সীমানার দিকে ডুবে গিয়েছিল। ম্যানটেল স্রোতের টানে এই জল আবার ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসতে পারে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা প্লুমের মাধ্যমে এই পানি একসময় ভূত্বকে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব বায়রয়তের খনিজ পদার্থবিদ লিওনিড ডব্রোভিনস্কি জানান, সামান্য পরিমাণ হাইড্রোজেনও এই পানিসমৃদ্ধ খনিজ তৈরিতে যথেষ্ট। তবে এই খনিজে ঠিক কী পরিমাণ পানি রয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
অপরিচিত রাস্তায় যাওয়ার সময় গুগল ম্যাপস খুলে গন্তব্যের ঠিকানা লিখলেই সামনে ভেসে ওঠে রাস্তার অবস্থা। কোথাও সবুজ, কোথাও হলুদ, আবার কোথাও গাঢ় লাল রঙে দেখা যায় রাস্তা। লাল মানেই ধীরগতি বা যানজট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাস্তার প্রতিটি গাড়িকে ক্যামেরায় না দেখেও গুগল ম্যাপস কীভাবে এত দ্রুত বুঝে ফেলে কোথায় জ্যাম তৈরি হয়েছে? এর পেছনে রয়েছে বিপুল পরিমাণ লোকেশন ডাটা, পুরোনো ট্র্যাফিকের হিসাব, ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বিত বিশ্লেষণ। আপনার ফোনই দেয় গুরুত্বপূর্ণ সংকেত গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা বুঝতে স্মার্টফোনের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো রাস্তায় একসঙ্গে অনেক ফোন থাকা অবস্থায় যদি সেগুলোর গতিবিধি স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর হয়ে যায়, তাহলে গুগল বুঝতে পারে ওই অংশে যান চলাচল কমে এসেছে। ধরা যাক, কোনো সড়কে সাধারণত গাড়ি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল ওই এলাকার একাধিক ডিভাইসের চলাচল অনেক ধীর। তখন সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সিস্টেমটি অনুমান করতে পারে যে রাস্তাটিতে যানজট তৈরি হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে গুগল প্রতিটি গাড়িকে আলাদাভাবে নজরদারি করছে। বরং অনেক ডিভাইস থেকে পাওয়া সম্মিলিত তথ্য ব্যবহার করে একটি রাস্তার সামগ্রিক গতির চিত্র তৈরি করা হয়। আরও পড়ুন গুগল ম্যাপে ঠিকানা খুঁজে পাওয়া আরও সহজ শুধু বর্তমান তথ্য নয়, পুরোনো হিসাবও কাজে লাগে গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক অনুমান কেবল ওই মুহূর্তের তথ্যের ওপর নির্ভর করে না। কোনো রাস্তা কোন দিন, কোন সময়ে সাধারণত ব্যস্ত থাকে, সেটিও হিসাবের মধ্যে থাকে। যেমন, কর্মদিবসের সকালে অফিসগামী মানুষের চাপে একটি সড়কে নিয়মিত যানজট তৈরি হতে পারে। আবার বিকেল বা সন্ধ্যায় একই রাস্তায় গাড়ির চাপ বাড়তে পারে। অতীতের এসব প্রবণতার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তথ্য মিলিয়ে সম্ভাব্য ভ্রমণ সময় অনুমান করে গুগল। এই কারণেই আপনি রাস্তায় পৌঁছানোর আগেই ম্যাপস অনেক সময় জানিয়ে দিতে পারে, কোন পথে যেতে কত সময় লাগতে পারে। ব্যবহারকারীর রিপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ দুর্ঘটনা, রাস্তা বন্ধ, নির্মাণকাজ বা অন্য কোনো আকস্মিক ঘটনার কারণে হঠাৎ যানজট তৈরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতি বুঝতে ব্যবহারকারীদের দেওয়া রিপোর্টও কাজে লাগে। কিছু ক্ষেত্রে ট্র্যাফিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও পাওয়া তথ্য সিস্টেমের বিশ্লেষণে যুক্ত হতে পারে। তবে কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত লাইভ ডাটা না থাকলে ট্র্যাফিকের পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল হতে পারে। আরও পড়ুন গুগল ম্যাপসের ৭ ফিচার, যা বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহারই করেন না লাল রাস্তা মানেই কি শতভাগ নিশ্চিত জ্যাম? না। ম্যাপের রং আসলে একটি অনুমানভিত্তিক ট্র্যাফিক চিত্র। পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে কিংবা হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে বাস্তব অবস্থা এবং ম্যাপের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য হতে পারে। অর্থাৎ গুগল ম্যাপসের রঙিন রাস্তা কোনো স্যাটেলাইট ক্যামেরায় তোলা লাইভ দৃশ্য নয়। বরং অসংখ্য ডাটা, ঐতিহাসিক ট্র্যাফিকের ধরন এবং আধুনিক অ্যালগরিদমের বিশ্লেষণ থেকে তৈরি একটি সম্ভাব্য চিত্র। আপনি যখন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা বেছে নেন, তখন পর্দায় কয়েকটি রঙের রেখা দেখা গেলেও এর পেছনে কাজ করে বিশাল এক ডাটা-নির্ভর ব্যবস্থা। সেই কারণেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গুগল ম্যাপস জানিয়ে দিতে পারে কোন পথে গেলে সময় বাঁচতে পারে আর কোথায় হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। কেএসকে
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।