ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের জয় পেয়েছে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। দেশটির তাইজ শহরের পশ্চিমে ৯ দিন ধরে চলা লড়াইয়ের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল–মোখা শহর দখলে নিয়েছে তারা।
বেশ কিছুদিন ধরেই তাইজের পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল হুতিরা। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল আল–মোখা শহর ও লোহিত সাগরের উপকূল দখল করা।
আল–মোখা ও উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে বাব আল–মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঠেকানোর ক্ষেত্রে হুতিরা বড় ধরনের সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করার সক্ষমতাও তারা অর্জন করবে।

হুতিরা এরই মধ্যে এসব এলাকা দখল করেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে আল–মোখা শহর পুরোপুরি দখলের ঘোষণা দেওয়ার অপেক্ষা।
আল–মোখায় থাকা কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে আল–জাজিরার সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, শহরটি ইতিমধ্যে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সরকারি বাহিনী আল–মোখা থেকে তাদের সব সামরিক ইউনিট সরিয়ে নিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে হুতিদের এই জয়কে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াইয়ে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ নানা ধরনের ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে তাইজ, পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা, আল-জাউফ, মারিব ও আল-দালির অনেক এলাকায় লড়াইয়ে অন্তত ১৯৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮৮০ জন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পাকিস্তান: ১৩৩ ও ৫২/২। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৪৫৩। চার বলেই ০ রানে ২ উইকেট। এরপর ৩২০ রানের প্রথম ইনিংস ঘাটতি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের সামনে শুরুতেই ছিল পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। দিন শেষে সেই চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আগেভাগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষের সময় দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের রান ২ উইকেটে ৫২। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৪৫৩ রানের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে তারা। অর্থাৎ তিন দিনেই ইনিংস হারের শঙ্কা চোখ রাঙাচ্ছে পাকিস্তানকে।হেডিংলি ও লর্ডসে মোট ১৬ নেওয়া ওলি রবিনসন পাকিস্তানকে তাড়া করে ফিরছেন এজবাস্টনেও। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়া এই পেসার আজ দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম বলেই সাইম আইয়ুবকে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ বানিয়েছেন। তড়িঘড়ি করে সিপিএল থেকে ডেকে নিয়ে আসা সাইম দুই ইনিংসেই ফিরলেন শূন্য রানে।রবিনসন প্রথম ওভারে শুধু সাইমকেই ফেরাননি, তিন বল পর আবদুল্লাহ শফিককে প্রথম স্লিপে জো রুটের ক্যাচ বানিয়ে পাকিস্তানকে ঠেলে দেন ০/২-এ। ৬ ওভারে ৩ মেডেনসহ ১০ রানে ২ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেছেন রবিনসন। এই সিরিজে তাঁর উইকেট এখন ২১, গড় মাত্র ৬.৬৬।এর আগে ৪ উইকেটে ১৫৬ রানে দিন শুরু করা ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে আরও ২৯৭ রান যোগ করে। এমিলিও গে (৬০) ও হ্যারি ব্রুক (৭৫) ফিফটি পেয়েছিলেন গতকালই, আজই পেয়েছেন জেমি স্মিথ, ড্যান লরেন্স ও রবিসনসনও। লরেন্স করেন ৬৫, স্মিথ ৬৯, রবিনসন ৫০। শেষ দিকে জফরা আর্চারের ২৭ বলে অপরাজিত ৩২ রানে ইংল্যান্ডের ইনিংসটা আরও বড় হয়।পাকিস্তানের হয়ে অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ ৪ উইকেট নিয়েছেন। তবে ৪৫৩ রানের পাহাড় ঠেকাতে পারেনি তাঁর বোলিং। দ্বিতীয় ইনিংসে শান মাসুদ ২১ ও আজান আওয়াইস ২৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। বৃষ্টি না এলে পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। এখন তৃতীয় দিনে ২৬৮ রান পেরিয়ে ইংল্যান্ডকে আবার ব্যাটিংয়ে নামানোর লক্ষ্য নিয়েই নামতে হবে পাকিস্তানকে।
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। এ ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোর বিস্তারিত শুনুন প্রথম আলোর অডিও সংবাদে...
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নেতাদের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া ‘ভুল–বোঝাবুঝির’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে রাকসু। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাকসুর কোনো নেতা সাংবাদিকদের উদ্দেশে অবমাননাকর বক্তব্য দিলে এর দায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বলে গণ্য হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।আজ বৃহস্পতিবার রাকসুর মিডিয়া ও প্রকাশনা বিভাগের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাবলির মাধ্যমে রাকসুর সঙ্গে ক্যাম্পাসের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। রাকসুর কিছু নেতার বক্তব্যসহ নানা ইস্যুতে যে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং সংকট তৈরি করে।যেসব ঘটনা ক্যাম্পাসের জন্য সংকট তৈরি করছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে রাকসু বলেছে, ‘রাকসুর কেউ এর পর থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অবমাননাকর কোনো বক্তব্য দিলে, সে দায় একান্তই তার ব্যক্তিগত বলে গণ্য হবে এবং এর দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাকসু নেবে না।’সাংবাদিকেরা সব সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ও দাবি আদায়ের ব্যাপারে কাঁধে কাঁধ রেখে তাদের সঙ্গে লড়াই করেছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে যেকোনো যৌক্তিকতা ও ইনসাফের ব্যাপারে তাদের কাজের ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপস না করার ব্যাপারে সবাই একমত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে রাকসু।এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধরের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। প্রকাশিত সংবাদে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে আপত্তি তুলে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলেছেন, আমরা হামলা করেছি। এটা কোন ধরনের কথা? তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। আপনারা এই শব্দ বলতে এত কাঁপাকাঁপি করেন কেন? আর আপনারা এত মায়া কান্না দেখান কেন ছাত্রলীগের প্রতি?’ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানো সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেব: রাকসু ভিপিসাংবাদিকদের উদ্দেশে রাকসু ভিপি আরও বলেছিলেন, ‘এত মায়া কান্না করা যাবে না। আপনারা সাংবাদিকেরা যেসব শব্দ ব্যবহার করেন, এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা কালকে ছাত্রলীগকে ডিফেন্স করে (পক্ষ হয়ে) অনেকে নিউজ করেছেন। এই সাংবাদিক এখানেও অনেকে আছে। আমরা সেগুলো জড়ো করে করে এখানে ব্যবস্থা নেব।’রাকসু ভিপির এমন বক্তব্যে দেশব্যাপী সমালোচনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের তিনটি সাংবাদিক সংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) রাকসুর কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দেয় এবং ভিপিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।রাকসুর সব কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা সাংবাদিকদের, ভিপিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি