জাতীয়

ইয়ামাল ছুঁলেন মেসিকে, এমবাপের ৬- ইউরোপে সপ্তাহান্তের যত চমক

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইয়ামাল ছুঁলেন মেসিকে, এমবাপের ৬- ইউরোপে সপ্তাহান্তের যত চমক
ইয়ামাল ছুঁলেন মেসিকে, এমবাপের ৬- ইউরোপে সপ্তাহান্তের যত চমক

সপ্তাহান্তের ইউরোপীয় ফুটবলে ছিল গোল, নাটক আর রেকর্ডের সমাহার। ১০ জনের ম্যানচেস্টার সিটি বিতর্কিত এক ম্যাচে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়েছে আরলিং হালান্ডের গোলে। আর্সেনালও সান্ডারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের নিখুঁত শুরু ধরে রেখেছে।

লিভারপুল ফুলহ্যামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে খুব একটা ছন্দে ছিল না। চেলসিও হালের কাছে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে।

লা লিগায় লেভান্তেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই পাঁচ জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদও রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে। আর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ শেষ দিকে তিন গোল করে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে।

বুন্দেসলিগায় এসভি এলভার্সবার্গকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। বরুশিয়া মঞ্চেনগ্ল্যাডবাখকে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফ্রেইবুর্গ। পাদেরবর্নকে হারিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় পেয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডও। সপ্তাহান্তের ইউরোপীয় ফুটবলের সেরা পরিসংখ্যানগুলো একনজরে-

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

৯: ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যকার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন আরলিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফ্রান্সিস লি ও জো হেইসের রেকর্ড ছুঁতে আর মাত্র ১ গোল প্রয়োজন হালান্ডের। আর ম্যানচেস্টার ডার্বির সর্বকালের রেকর্ড থেকে তিনি ২ গোল পিছিয়ে। ওয়েন রুনির ডার্বি গোলসংখ্যা ১১।

১০: প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সফরকারী দল হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটি ১০টি জয় পেয়েছে। এই ভেন্যুতে সফরকারী দল হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ জয়। লিভারপুল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৮ বার জিতেছে। আর্সেনাল ও চেলসি জিতেছে ৬ বার করে।

২: প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সফরকারী দল হিসেবে এখন পর্যন্ত ৫০টি দল লাল কার্ড দেখেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ২টি দল লাল কার্ড দেখেও ম্যাচ জিতেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এভার্টন এবং এবার ম্যানচেস্টার সিটি। মজার বিষয়, দুই ম্যাচেই জয়ী দলের হয়ে মাঠে ছিলেন ইলিমান এনদিয়ায়ে।

MANCHESTER IS BLUE

Down to 10 men since the 23rd minute, Man City find the winner through Erling Haaland and take all three points at Old Trafford pic.twitter.com/eUd7Ic2dOF

— ESPN FC (@ESPNFC) September 13, 2026

০: প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে নিজেদের মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই হেরে কোনো গোল করতে পারেনি- এমন দলের তালিকায় পঞ্চম দল হলো কভেন্ট্রি সিটি। এর আগে ডার্বি ১৮৯৯-০০, স্টোক ১৯০৬-০৭, প্রেস্টন ১৯২৪-২৫ এবং ক্রিস্টাল প্যালেস ২০১৭-১৮ মৌসুমে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল।

৪: ২০২৬-২৭ মৌসুমে টটেনহ্যাম হটস্পার প্রথম চার ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেনি। প্রিমিয়ার লিগে মৌসুম শুরুর পর গোলহীন থাকার দিক থেকে তাদের চেয়ে দীর্ঘ সময় পার করেছে শুধু ক্রিস্টাল প্যালেস। ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্যালেস প্রথম ৭ ম্যাচে গোল করতে পারেনি। এটি ইংল্যান্ডের শীর্ষ চার স্তরের ফুটবলে টটেনহ্যামের মৌসুম শুরুর সবচেয়ে দীর্ঘ গোলখরা।

৯: প্রিমিয়ার লিগে টানা ৯ ম্যাচ জিতেছে আর্সেনাল। ২০০৪ সালের মার্চের পর এটি তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়ধারা। সেবারও টানা ৯ ম্যাচ জিতেছিল তারা। প্রিমিয়ার লিগের কোনো মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই জয় পাওয়ার ঘটনা আর্সেনালের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবার। এর আগে ২০০৩-০৪, ২০০৪-০৫ ও ২০২২-২৩ মৌসুমে তারা এমন শুরু করেছিল।

৮: নটিংহাম ফরেস্টের মরগ্যান গিবস-হোয়াইট প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শেষ ৮টি অ্যাওয়ে ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছেন অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন। এই সময়ে তার গোল ৬টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। তার চেয়ে দীর্ঘ ধারার রেকর্ড আছে মাত্র তিনজনের- আরলিং হালান্ড, রবিন ফন পার্সি ও অ্যান্ড্রু কোল। তিনজনেরই ধারাটি ছিল ৯ ম্যাচের।

৫: চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই গোল বা অ্যাসিস্ট করা পঞ্চম খেলোয়াড় হলেন মরগ্যান রজার্স। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন দিদিয়ের দ্রগবা (২০১০-১১), সেস ফ্যাব্রেগাস (২০১৪-১৫), দিয়েগো কস্তা (২০১৪-১৫ ও ২০১৬-১৭) এবং এডেন হ্যাজার্ড (২০১৮-১৯)।

Tottenham still have not scored a goal this Premier League season pic.twitter.com/5moTdrZ1AX

— ESPN FC (@ESPNFC) September 12, 2026

৪: অ্যানফিল্ডে প্রিমিয়ার লিগের শেষ ৪ ম্যাচেই ড্র করেছে লিভারপুল। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা ৮ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর এটাই অ্যানফিল্ডে তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন ধারা। সেই ৮ ম্যাচে লিভারপুলের ফল ছিল ২ জয়, ৬ ড্র ও কোনো হার।

স্প্যানিশ লা লিগা

৩: একুশ শতকে লা লিগার মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে তিনটি জোড়া গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়েই এই কীর্তি গড়েছিলেন লিওনেল মেসি।

৯: ২০২৬-২৭ লা লিগায় বার্সেলোনার প্রথম পাঁচ ম্যাচে ৯টি গোলে অবদান রেখেছেন রাফিনহা- ৬ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে বার্সেলোনার কোনো খেলোয়াড়ের এর চেয়ে বেশি গোল-অবদান ছিল সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমে। সেবার মেসির গোল-অবদান ছিল ১০টি, ৯ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট।

২: ১৯ বছর ১১৫ দিন বয়সে বার্সেলোনার হয়ে একুশ শতকে লা লিগায় গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ডিফেন্ডার হয়েছেন জাভি এসপার্ট। বার্সেলোনার হয়ে তার চেয়ে কম বয়সে গোল করা একমাত্র ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিরোনার বিপক্ষে ১৯ বছর ২৫ দিন বয়সে গোল করেছিলেন তিনি।

৫: মৌসুমের শুরুতে টানা ৫টি লা লিগা ম্যাচ জিতেছে বার্সেলোনা। গোল ব্যবধানও +১৭। বার্সেলোনার ইতিহাসে মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে এমন জয় ও গোল ব্যবধানের কীর্তি তৃতীয়বার। সর্বশেষ তারা এমন শুরু করেছিল ২০১৭-১৮ মৌসুমে।

১৭: সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়ে লা লিগার কোনো ম্যাচের প্রথম ১৭ মিনিটের মধ্যে গোল ও অ্যাসিস্ট করা রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এস্পানিওলের বিপক্ষে হামেস রদ্রিগেজের পর আর কেউ এই কীর্তি গড়তে পারেননি।

৬: ২০২৬-২৭ লা লিগায় ৬ গোল করেছেন এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মৌসুমের প্রথম পাঁচ লা লিগা ম্যাচে ৬ গোল করা প্রথম খেলোয়াড় তিনি নন; সর্বশেষ এই কীর্তি করেছিলেন করিম বেনজেমা, ২০২১-২২ মৌসুমে।

৫: লা লিগায় চলতি মৌসুমে জুড বেলিংহামের গোল ৩টি, অ্যাসিস্ট ২টি- মোট গোল-অবদান ৫টি। ২০২৩-২৪ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে অভিষেকের পর প্রথম পাঁচ লিগ ম্যাচে ৬ গোল- অবদানের পর এবারই তার সেরা শুরু।

26 G/A THROUGH SIX GAMES

Raphinha - 8 goals and 3 assists
Lamine Yamal - 7 goals and 2 assists
Fermín López - 4 goals and 2 assists
Anthony Gordon - 4 assists
Karim Adeyemi - 3 goals and 1 assist

Barcelona's attack is nearly unstoppable to start the season pic.twitter.com/YCRrqDi23s

— ESPN FC (@ESPNFC) September 13, 2026

৮: লা লিগায় এমবাপের ৮টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন আরদা গুলের। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত তিন মৌসুমে কোনো সতীর্থের গোলের জন্য এতবার অ্যাসিস্ট করা আর কেউ নেই।

ইতালিয়ান সিরি আ

১৯ বছর ২৮ দিন: ফিওরেন্তিনার হয়ে ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ৪-২ জয়ে তিন গোল করে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে হ্যাটট্রিক করা সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় এখন তিনি। মেসিকে ছাড়িয়ে এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মাস্তানতুয়ানো।

২২ বছর ৩৭ দিন: এসির হয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এক ম্যাচে একাধিক গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছেন দিয়েগো মোরেইরা। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে হিসাব করলে সিরি আতে এসির কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বদলি নেমে জোড়া গোল করার ক্ষেত্রে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ।

০: সাসুওলোর বিপক্ষে জুভেন্টাসের শুরুর একাদশে ১০ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন ইতালিয়ানও ছিলেন না। জুভেন্টাসের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে শুরুর একাদশের ১০ আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের একজনও ইতালিয়ান না থাকার ঘটনা এটাই প্রথম।

৪৯: ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে গত পাঁচ সিরি আ মৌসুমে বদলি খেলোয়াড়দের মাধ্যমে ৪৯ গোল করেছে এসি মিলান। এই সময়ে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে লাজিও পেয়েছে ৫০ গোল, যা সবচেয়ে বেশি।

বুন্দেসলিগা

৯৯: এসভি এলভার্সবার্গের বিপক্ষে চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম বুন্দেসলিগা গোল করেছেন হ্যারি কেইন। এটি ছিল বুন্দেসলিগায় ৯৭ ম্যাচে তার ৯৯তম গোল। এখন ১০০ গোলের মাইলফলক থেকে মাত্র ১ গোল দূরে কেইন। বুন্দেসলিগায় সবচেয়ে দ্রুত ১০০ গোলের রেকর্ড এখন ডিয়েটার মুলারের দখলে। কোলনের হয়ে ১২৯ ম্যাচে ১০০ গোল করেছিলেন তিনি।

৫০০: বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০০তম ম্যাচ খেলেছেন জশুয়া কিমিখ। এই ৫০০ ম্যাচে তার গোল ৪৭টি এবং অ্যাসিস্ট ১২২টি।

ফরাসী লিগ ওয়ান

৬: পিএসজির হয়ে পাঁচ লিগ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন ফেরান তোরেস। ব্রেস্টের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে গোল করে তিনি প্রথম পাঁচ লিগ ম্যাচে ৬ গোলের কীর্তি গড়েছেন। এই কীর্তিতে তিনি ছুঁয়েছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে। পিএসজির হয়ে লিগ মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে জ্লাতানও ৬ গোল করেছিলেন।

আইএইচএস/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
তৈরি হচ্ছিল নকল বিদেশি সিগারেট, মেশিনসহ গ্রেফতার ৯
তৈরি হচ্ছিল নকল বিদেশি সিগারেট, মেশিনসহ গ্রেফতার ৯

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে সিগারেট তৈরির মেশিনসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ভারতীয় ‘মেসি’ ব্র্যান্ডের ছয় কার্টন সিগারেট ও একটি মেশিন জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘীসংলগ্ন এলাকায় একটি অবৈধ ডিপুতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। রাতে নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রাম থেকে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে একটি সিগারেট তৈরির মেশিন জব্দ করা হয়। এ সময় কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় মেশিনটি পেরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়। পরদিন ৫ আগস্ট মেশিনটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘীসংলগ্ন এলাকায় একটি অবৈধ ডিপুতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে চোরাই সিগারেট তৈরির মেশিন দিয়ে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির সময় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় মেশিনটি ও ছয় কার্টন নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রশাসন অভিযানে পাওয়া সিগারেট তৈরির মেশিনটি আমার জিম্মায় রেখেছিল। চোরের দল ৫ আগস্ট মেশিনটি চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি ৬ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করি। মঙ্গলবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে মেশিনটি উদ্ধার করেছে বলে জানতে পেরেছি।’ নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস বলেন, ‘নাঙ্গলকোট থানায় দায়ের হওয়া সিগারেট তৈরির মেশিন চুরির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চৌদ্দগ্রামের বাতিসা এলাকায় একটি ডিপুতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে মেশিন দিয়ে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির সময় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মেশিন ও ছয় কার্টন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট জব্দ করা হয়।’ তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানাননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ

ঢাবির জগন্নাথ হলের পাশে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ

ঢাবির জগন্নাথ হলের পাশে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ

সামাজিক অবক্ষয় রোধে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা: পরিবেশমন্ত্রী
সামাজিক অবক্ষয় রোধে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা: পরিবেশমন্ত্রী

সামাজিক অবক্ষয় রোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দেশের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, ‘সামাজিক অবক্ষয় এক দিনে ঘটে না। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে সঠিকভাবে সমাজকে খাপ খাওয়াতে হয়। এর দায়িত্ব পিতা-মাতা, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক ও রাষ্ট্রের।’ মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সরকারি কার্যাবলির তদারকি ও সমন্বয়-সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরিবেশমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুর জেলার তদারকির দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম সভা। কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সব সমস্যা শুধু রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও দেশের কল্যাণে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।’ এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটি কাজ করার নির্দেশনা দেন।লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা শাহাদাত হোসেন সেলিম।এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ভার্চ্যুয়ালি সভায় যুক্ত হন।সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ২০৮টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ২৬টি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ৬৬টি এবং অন্যান্য অপরাধ ৯১টি।একই মাসে (আগস্ট) জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ৮৫২টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে মোট অমীমাংসিত (পেন্ডিং) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৪টি। পরোয়ানা তামিলের হার আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।পরিবেশ সুরক্ষায় জেলার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানানো হয়, গত এক বছরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে ৬৫টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন আইনে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে জমির ওপরের মাটি (টপসয়েল) কাটা বন্ধে ৬৬টি অভিযানে ৫৯টি মামলা ও ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নদী-খাল ও পরিবেশ রক্ষা এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়।মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মোট ৯৮৭টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে ১৮৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ৫১টি নিয়মিত মামলাসহ মোট ২৪০টি মামলা হয়েছে। এ সময় ১৭ হাজার ২৫০টি ইয়াবা বড়ি এবং ২৮ দশমিক ৮৫৯ কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক আলোচনা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি খাল-বিল ও নদ-নদী দূষণ, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের বিষয়েও আলোচনা হয়।সভায় জেলার চলমান সড়ক উন্নয়নকাজের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ, পৌর এলাকায় অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল, অবৈধ ইটভাটা, মাদক ও পরিবেশদূষণসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।সভায় লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ বাহারুল আলমসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
বিশ্বসেরা ৫০০ ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক

বিশ্বসেরা ৫০০ ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক

এবার শাহরুখ খান-কাজলের গান দিয়ে ভাইরাল মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী

এবার শাহরুখ খান-কাজলের গান দিয়ে ভাইরাল মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী

ইউল্যাবে ফল সেমিস্টারের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

ইউল্যাবে ফল সেমিস্টারের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার ঘটনাকে ‘মব’ উল্লেখ করে বিচার দাবি করলেন ডাকসু নেতারা
জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার ঘটনাকে ‘মব’ উল্লেখ করে বিচার দাবি করলেন ডাকসু নেতারা

ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা এবং সেখানে গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি লাগানোকে ‘মব’ হিসেবে উল্লেখ করে এতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন ডাকসুর নেতারা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর কার্যালয়ে যান ডাকসুর নেতারা। উপাচার্য চীন সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ায় তাঁকে না পেয়ে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর কাছে এ দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।সাক্ষাৎ শেষে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছি, যারা ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা করে ঐতিহাসিক সম্পদ ও ছবি নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? একই সাথে ডাকসু সংগ্রহশালা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য, শাহবাগ থানায় সাংবাদিক ও ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলা, ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীকে প্রভোস্ট কর্তৃক নির্যাতন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।’ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা ফরহাদ বলেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালা উদ্বোধনের আগে উপাচার্য দুবার সেটি পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি ডাকসুর সভাপতি হিসেবে সেখানে কী কাজ হচ্ছে, কী ছবি লাগানো হচ্ছে, এসব জানার সুযোগও তাঁর ছিল। যদি প্রশাসন মনে করে, ওই ছবি সরানো প্রয়োজন, তাহলে তারা আমাদের সেটা স্পষ্টভাবে বলুক। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া দেয়নি।’ডাকসু সংগ্রহশালা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্যের বিষয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্যের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আমরা ছবি ও বক্তব্য প্রকাশ করেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। আমরা প্রশ্ন করেছি, জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্য তো বাংলাদেশের বিভিন্ন পাঠ্যবই ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে উল্লেখ আছে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা এসব বই প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে?’ফরহাদ বলেন, ‘যারা ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা করে ঐতিহাসিক সম্পদ ও ছবি নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও আমরা কথা বলেছি।’প্রসঙ্গত ডাকসু সংগ্রহশালা গত রোববার উদ্বোধন করার পর সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার ঐতিহাসিক কোনো ছবি দেখা যায়নি। দেখা যায়, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা জিন্নাহর ছবির স্থানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে জুতাপেটার একটি ছবি টাঙিয়ে দেন। এসব ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডাকসুর নেতারা।এ ছাড়া ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে কেন উল্টো শোকজ করা হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ডাকসু প্রতিনিধিদেরও কেন শোকজ করা হয়েছে, তা–ও জানতে চেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়েও আমরা স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছি। সংবিধান অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা না হলে তিন মাস মেয়াদ বাড়ার সুযোগ থাকলেও আমরা সে মেয়াদ বাড়াতে চাই না। আমরা দ্রুত নির্বাচনের তফসিল চাই।’বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডাকসুর নেতারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আজকে এসেছিল। আমরা তাদের জানিয়েছি, ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এ ছাড়া ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন কার্যক্রম শুরু করেছে জানিয়ে অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটিও তদন্তাধীন। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বলেও জানান তিনি।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইউ গেট আউট ফ্রম দিস রুম, সিভিল সার্জনকে আইনমন্ত্রী

ইউ গেট আউট ফ্রম দিস রুম, সিভিল সার্জনকে আইনমন্ত্রী

জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বিএনপি অফিসে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৬

জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বিএনপি অফিসে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৬

কাউন্টিতে এবার খালেদের ৫ উইকেট

কাউন্টিতে এবার খালেদের ৫ উইকেট

0 Comments