যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছেদের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।
বৈঠকে তারা একটি যৌথ ঘোষণায় সই করবেন বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ। ঘোষণায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের অধিকার দাবি করা হবে। পাঁচ তারকা সেন্ট ডেভিড’স হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে এই বৈঠক।
কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে থাকবেন আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দলের নেতা ও সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড।
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে এবারই প্রথম তিনটি ডিভলভড সরকারের (Devolved Government) নেতৃত্বে স্বাধীনতাপন্থি দল রয়েছে।
স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টার। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হয়েছে প্লেইড কামরু। দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব নিয়েছেন।
অন্যদিকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ২০২২ সালের স্টর্মন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল সিন ফেইন। ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) বয়কটের কারণে অবশ্য মিশেল ও’নিল ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব নিতে পারেননি।আগামী বছর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নির্বাচনে সিন ফেইন আবারও ক্ষমতায় থাকবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেছেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব থাকা প্রমাণ করে যে বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থা টেকসই নয়। তার কথায়, ওয়েস্টমিনস্টারকে যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
সুইনি আরও বলেন, সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে গতি এখন অস্বীকার করার মতো নয়। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে বলেন, বার্নহামকে হয়তো ভাবতে হচ্ছে যে, ইতিহাসে তিনিই যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন।
কার্ডিফের বৈঠককে স্বাধীনতার দিকে একটি ‘নতুন শুরু’ হিসেবে দেখছেন সুইনি।
তিন নেতার বৈঠকের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা গণভোট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বলেছেন, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার পক্ষে যদি ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তাহলে আরেকটি গণভোটের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
তার এই বক্তব্যকেই নিজেদের দাবির পক্ষে ব্যবহার করতে চাইছেন স্কটিশ স্বাধীনতাপন্থিরা। সুইনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রশ্নে বার্নহামের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
তাদের মতে, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কাঠামো সম্পর্কে তার অজ্ঞতারই প্রকাশ।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।
‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছাড়তে চান—এমন সম্ভাবনা তৈরি হলে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজনের পথ রয়েছে।
সিন ফেইন মনে করছে, সেই সম্ভাবনার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। দলটির এক সূত্র বলেছে, প্রতিটি জাতিরই গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে।
তাদের ভাষায়, আইরিশ ঐক্য কোনো দূরবর্তী আকাঙ্ক্ষা নয়। নতুন আয়ারল্যান্ড গঠনের কাজ এখনই শুরু করা উচিত।
কার্ডিফের বৈঠকে তিন দলের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা। অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এই চারটি বিষয় থাকবে সমঝোতার আওতায়।
তিন দলই মনে করে, তাদের ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়া উচিত। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে পারে বলে মনে করছে তারা।
আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্বাধীনতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিওবৈঠকে ওয়েলসের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তুলবে প্লেই সমঝোতায় থাকবে।
বৈঠকে ওয়েলসের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তুলবে প্লেইড কামরু। দলটি ওয়েলস সরকারের হাতে কর ও ব্যয়ের ওপর আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি করছে।
ক্রাউন এস্টেট থেকে পাওয়া রাজস্বের একটি অংশও ওয়েলসকে দেওয়ার দাবি রয়েছে। এর মধ্যে অফশোর উইন্ড ফার্ম স্থাপিত সমুদ্রতল থেকে পাওয়া আয়ও রয়েছে। বর্তমানে এসব রাজস্ব ব্রিটিশ সরকারের কোষাগারে যায়।
প্লেইড কামরু আরও উদার অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং পুলিশ ও রেল খাতের মতো অতিরিক্ত ক্ষমতা ওয়েলস সরকারের হাতে দেওয়ার দাবি করছে। দলটির মতে, জ্বালানি, অর্থনীতি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে তিন দেশের রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম স্কটল্যান্ডের আরেকটি স্বাধীনতা গণভোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার জন সুইনিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে আরেকটি গণভোটের প্রশ্নই ওঠে না।
বার্নহামের দাবি, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে কোনো ঐকমত্য নেই। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছা রয়েছে—এমন স্পষ্ট ভিত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে লেবার পার্টির ইশতেহারে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছিল, দলটি স্বাধীনতা বা আরেকটি গণভোট সমর্থন করে না।
বার্নহামের মতে, স্বাধীনতা ও গণভোটের বিতর্ক অর্থনীতি সচল করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে সরকারের মনোযোগ সরিয়ে দেবে।
এই বৈঠকের মাত্র দুইদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড নিয়ে মন্তব্য করেছেন। শনিবার ডাবলিন সফরের সময় তিনি বলেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে ‘খুবই আগ্রহী’।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিবর্তন কীভাবে খারাপ হতে পারে।
এর ফলে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কে আন্তর্জাতিক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
কেএএ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
স্মার্টফোনের বাজারে ‘আইফোন’ নামটি এতটাই পরিচিত যে এর নামের প্রতিটি অক্ষর নিয়েই আলাদা করে ভাবেন খুব কম মানুষ। কিন্তু আইফোনের শুরুতে থাকা ছোট্ট ‘i’ আসলে কী বোঝায়? অনেকেই মনে করেন, এর অর্থ শুধু ‘Internet’। তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস বহু বছর আগেই এই একটি অক্ষরের সঙ্গে একাধিক ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। আইফোনের নামের এই ‘i’ আসলে প্রথমে ব্যবহার করা হয়েছিল আইম্যাকের ক্ষেত্রে। ১৯৯৮ সালে আইম্যাক উন্মোচনের সময় স্টিভ জবস ব্যাখ্যা করেছিলেন, ‘i’ শুধু একটি শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পাঁচটি আলাদা অর্থ-Internet, Individual, Instruct, Inform এবং Inspire। ইন্টারনেট (Internet) ‘i’-এর সবচেয়ে পরিচিত অর্থ হলো Internet। ১৯৯৮ সালে আইম্যাক বাজারে আসার সময় ইন্টারনেট ব্যবহার আজকের মতো সহজ ছিল না। অ্যাপল এমন একটি কম্পিউটার তৈরি করতে চেয়েছিল, যা ব্যবহারকারীদের সহজেই ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। সেই ভাবনা থেকেই ‘i’ অক্ষরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আরও পড়ুন আইফোন ১৮ কিনতে কিডনি বিক্রি! ভাইরাল এআই ছবি বানাবেন যেভাবে ইন্ডিভিজ্যুয়াল (Individual) দ্বিতীয় অর্থ Individual। অর্থাৎ ব্যক্তিগত বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক। অ্যাপলের ভাবনায় প্রযুক্তি শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং প্রত্যেক ব্যবহারকারীর নিজস্ব প্রয়োজন ও পছন্দের সঙ্গে মানানসই অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। সেই ব্যক্তিগত ব্যবহারের ধারণাটিও ‘i’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। ইনস্ট্রাক্ট (Instruct) তৃতীয় অর্থ Instruct। এর মাধ্যমে শেখানো, নির্দেশ দেওয়া বা শিক্ষার বিষয়টি বোঝানো হয়। অ্যাপলের প্রযুক্তি যেন শুধু বিনোদন বা কাজের জন্য নয়, শেখার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায় এই ধারণার প্রতিফলন ছিল এই শব্দে। ইনফর্ম (Inform) ‘i’-এর চতুর্থ অর্থ Inform। অর্থাৎ তথ্য দেওয়া বা জানানো। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ যাতে দ্রুত তথ্য পেতে পারে এবং বিশ্বের নানা ঘটনার সঙ্গে আপডেট থাকতে পারে, সেই ভাবনাও এর মধ্যে রয়েছে। ইন্সপায়ার (Inspire) সবশেষে রয়েছে Inspire, অর্থাৎ অনুপ্রাণিত করা। অ্যাপলের পণ্য ও প্রযুক্তি মানুষের সৃজনশীলতা বাড়াবে এবং নতুন কিছু ভাবতে উৎসাহ দেবে এই দর্শনের সঙ্গে শব্দটি যুক্ত। আরও পড়ুন আইফোন ডুওর দাম প্রায় ৫ লাখ, তবুও কেন মানুষ কিনবে স্টিভ জবস নিজেই দিয়েছিলেন ব্যাখ্যা ১৯৯৮ সালে আইম্যাক উন্মোচনের একটি অনুষ্ঠানে স্টিভ জবস একটি স্লাইডের মাধ্যমে ‘i’-এর এই পাঁচটি অর্থ ব্যাখ্যা করেছিলেন। অর্থাৎ iPhone-এর ‘i’ কোনো নির্দিষ্ট একটি শব্দের ‘ফুল ফর্ম’ নয়। বরং এটি অ্যাপলের একটি নির্দিষ্ট ভাবনা ও ব্র্যান্ড দর্শনের অংশ। সময় বদলের সঙ্গে অ্যাপলের নামকরণের ধরনও বদলেছে। নতুন অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে সংস্থাটি ‘i’ প্রফিক্সের বদলে সরাসরি ‘Apple’ নাম ব্যবহার করছে। কিন্তু iPhone, iPad-এর মতো জনপ্রিয় পণ্যের ক্ষেত্রে ছোট্ট ‘i’ এখনো অ্যাপলের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। কেএসকে
‘প্রকৃত সংবাদ প্রাপ্তি সকলের অধিকার, অপতথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে’ - এ স্লোগানকে সামনে রেখে পুলিশিং সেবা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের গত ২৪ ঘণ্টার অপরাধ চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এ সময়ে রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ মোট ১৮৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশের প্রকাশিত অপরাধ চিত্র অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী রেঞ্জ এলাকায় মোট ৫৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি খুন, একটি যৌতুকের জন্য হত্যা, সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি, চুরির চারটি, নারী ও শিশু নির্যাতনের পাঁচটি এবং অন্যান্য অপরাধে ৪২টি মামলা রয়েছে। একই সময়ে অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ছয়টি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার ১৮৩ জনের মধ্যে পরোয়ানামূলে ৯৭ জন, সাজাপ্রাপ্ত ১৫ জন, তদন্তাধীন মামলায় ৫৯ জন এবং অন্যান্য (প্রতিরোধমূলক) ব্যবস্থায় ১২ জন রয়েছেন। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী হিসেবে ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানকালে পুলিশ দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এছাড়া উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২২ গ্রাম হেরোইন, ১২২ পিস ইয়াবা, ৩২২ পিস ট্যাপেন্টাডল, ২ কেজি ৭০৮ গ্রাম গাঁজা, ২ দশমিক ২ লিটার বিদেশি মদ এবং ২০ লিটার চোরাই মদ। গ্রেফতার ও মাদক-অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে রাজশাহী রেঞ্জজুড়ে মোট ১৪৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এদিকে পুলিশি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক থানায় এসেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী রেঞ্জের বিভিন্ন থানায় মোট ১ হাজার ৮৩ জন নাগরিক বিভিন্ন ধরনের পুলিশি সেবা গ্রহণ করেছেন। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত রেঞ্জভুক্ত থানাগুলোতে সেবাগ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১২২ জনে। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম
একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও নৈতিক সমাজব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় পরিবারের অভ্যন্তরে। আর সেই পরিবারের আত্মিক কেন্দ্রবিন্দু হলো নারী। ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে পবিত্র কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সুরার নামকরণ করা হয়েছে ‘সুরা নিসা’ (নারী)।মানবজাতির সৃষ্টি পরম্পরা ও দাম্পত্য সম্পর্কের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে আল্লাহ–তাআলা পৃথিবীর বুকে নর–নারীর সৃষ্টিকে তাঁর কুদরতের অন্যতম বড় নিদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো—তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)দাম্পত্যের মূল ভিত্তি প্রশান্তি, ভালোবাসা ও সহানুভূতি স্বামী–স্ত্রীর পারস্পরিক আস্থা, গভীর মমত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই একটি আদর্শ পরিবার গড়ে ওঠে। দাম্পত্য সম্পর্কের মূল উদ্দেশ্য শুধু শারীরিক সাহচর্য নয়; বরং তা হলো আত্মিক ও মানসিক আশ্রয়।পবিত্র কোরআনে স্ত্রীর পরিচয় দিতে গিয়ে ‘সাকিনা’ বা অন্তরের পরম শান্তির কথা বলা হয়েছে, ‘তিনিই তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার স্ত্রীকে বানিয়েছেন, যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৮৯)সুরা আন–নিসা, আয়াত: ১৯তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। তোমরা যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে এমনও হতে পারে যে আল্লাহ যাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন, তোমরা তা–ই অপছন্দ করছ।ইসলামে নারী কি পুরুষের অনুগামীসংসারজীবন কখনো শতভাগ নিখুঁত হতে পারে না; মান–অভিমান, মতভেদ কিংবা স্বভাবের ভিন্নতা আসতেই পারে। ইসলাম সেখানে পারস্পরিক ক্ষমা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেয়।স্ত্রীর কোনো আচরণ পছন্দ না হলেও তার ভালো গুণগুলোর দিকে তাকিয়ে সহনশীল থাকার তাগিদ দিয়ে আল্লাহ–তাআলা স্বামীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। তোমরা যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে এমনও হতে পারে যে আল্লাহ যাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন, তোমরা তা–ই অপছন্দ করছ।’ (সুরা আন–নিসা, আয়াত: ১৯)উত্তম স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য পরিবারের সামগ্রিক পরিবেশ শান্তিময় রাখতে স্ত্রীর মননশীলতা ও ইতিবাচক মনোভাবের ভূমিকা অপরিসীম। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে স্বামী ঘরে ফিরে যখন স্ত্রীর মুখে স্নিগ্ধ হাসি ও উষ্ণ সান্নিধ্য পায়, তখন সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়।একবার নবীজিকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘কোন নারী সবচেয়ে উত্তম?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘স্বামী যার দিকে তাকালে সে তার মন প্রফুল্ল করে দেয়, কোনো বৈধ নির্দেশ দিলে তা সানন্দে পালন করে এবং নিজের সততা ও স্বামীর সম্পদের ব্যাপারে এমন কোনো আচরণ করে না, যা স্বামীর কাছে অপছন্দনীয়।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩২৩১)পার্থিব মোহ ও বিভ্রান্তির পথ পরিহার পরিবারে নারীর ভূমিকা শুধু সুখের নয়, নৈতিক দিকনির্দেশনারও। কোনো স্ত্রী যদি স্বামীকে হালাল আয়ে সন্তুষ্ট থাকার অনুপ্রেরণা না জুগিয়ে অতিরিক্ত ভোগবিলাসের চাপে হারাম উপার্জনের দিকে ঠেলে দেয়, তবে সে পরিবার নৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।ফকিহদের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের মধ্যকার প্রেম–ভালোবাসাপ্রয়োজন স্বামী–স্ত্রীর মধ্যকার গভীর বিশ্বাস, পারস্পরিক হক আদায় ও ত্যাগ স্বীকার। পরিবারে যদি সংঘাত ও অশান্তি বিরাজ করে, তবে তার বিষবাষ্প ধীরে ধীরে সন্তান ও সামগ্রিক সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।ইসলামে এমন অসৎ প্ররোচনা ও অতিরিক্ত পার্থিব চাহিদাকে মারাত্মক সতর্কতার সঙ্গে দেখা হয়েছে।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা মুমিনদের সতর্ক করে বলেন, ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু (অর্থাৎ তাদের অতিরিক্ত মোহ তোমাদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে)। সুতরাং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো। তবে তোমরা যদি তাদের মার্জনা করো, এড়িয়ে চলো এবং ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আত–তাগাবুন, আয়াত: ১৪)এখানে শত্রুর অর্থ হলো এমন মোহ বা প্ররোচনা, যা মানুষকে তার ইমান ও হালাল উপার্জনের পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে একজন স্বামীর দায়িত্ব হলো প্রজ্ঞার সঙ্গে স্ত্রীকে নসিহত করা এবং সংশোধনের চেষ্টা অব্যাহত রাখা।সুস্থ পরিবার থেকেই সুস্থ সমাজ একটি পরিবারের সুখ–শান্তি কোনো কৃত্রিমতা বা লোকদেখানো আচার দিয়ে স্থায়ী হতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন স্বামী–স্ত্রীর মধ্যকার গভীর বিশ্বাস, পারস্পরিক হক আদায় ও ত্যাগ স্বীকার। পরিবারে যদি সংঘাত ও অশান্তি বিরাজ করে, তবে তার বিষবাষ্প ধীরে ধীরে সন্তান ও সামগ্রিক সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।সমাজ রূপান্তরের সবচেয়ে প্রাথমিক ও মৌলিক দুর্গ হলো পরিবার। আর সেই পরিবারের প্রশান্তির চাবিকাঠি রয়েছে নারীর স্নেহ, প্রজ্ঞা ও নৈতিক দৃঢ়তার হাতে। ঘর ঠিক থাকলে তবেই একটি পরিশুদ্ধ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।মাহমুদ হাসান ফাহিম: আলেম ও লেখকহিজরতে মহানবী (সা.)–কে সাহায্য করলেন দৃঢ়চেতা এক নারী