জাতীয়

তল্লাশিচৌকিতে না থেমে মোটরসাইকেল দিয়ে এসআইকে ধাক্কা, আরোহীদের খুঁজছে পুলিশ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
তল্লাশিচৌকিতে না থেমে মোটরসাইকেল দিয়ে এসআইকে ধাক্কা, আরোহীদের খুঁজছে পুলিশ
তল্লাশিচৌকিতে না থেমে মোটরসাইকেল দিয়ে এসআইকে ধাক্কা, আরোহীদের খুঁজছে পুলিশ

রাজশাহীতে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে থামার সংকেত অমান্য করে মোটরসাইকেল দিয়ে এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ধাক্কা দিয়ে পালিয়েছেন দুই আরোহী। এতে এসআই কিবরিয়া আহমেদ গুরুতর আহত হন। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজশাহী মহানগরের মতিহার থানার চৌদ্দপাই বিহাস মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। ইতিমধ্যে মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে অভিযুক্ত দুজনের ছবি প্রকাশ করে শনাক্ত করতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মতিহার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কের এক পাশে পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে তল্লাশিচৌকির দিকে এগিয়ে আসে। পুলিশ সদস্যরা থামার সংকেত দিলেও মোটরসাইকেলটি না থেমে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন।

অভিযুক্ত দুই মোটরসাইকেল আরোহী। তাঁদের শনাক্ত করতে সহায়তা চেয়েছে পুলিশ

রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (সিটিটিসি) ও মুখপাত্র মো. গাজীউর রহমান বলেন, গতকাল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বিহাস মোড়ে তল্লাশিচৌকি বসিয়ে পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছিল। মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্র বহন ঠেকানোর পাশাপাশি হেলমেট পরা, মোটরসাইকেলের নিবন্ধন, চালকের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছিল।

গাজীউর রহমান বলেন, ওই দুই আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না এবং দ্রুতগতিতে আসছিলেন। পুলিশ তাঁদের থামার সংকেত দেয়। তাঁরা সংকেত অমান্য করে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে পুলিশকে ধাক্কা দেন। এতে এসআই কিবরিয়া আহমেদ গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় মতিহার থানায় মামলা হয়েছে জানিয়ে আরএমপির এই মুখপাত্র বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে নিজেদের ফেসবুক পেজে ওই দুই মোটরসাইকেল আরোহীর ছবি প্রকাশ করেছে মহানগর পুলিশ। তাঁদের শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, তাঁদের শনাক্ত করতে তথ্য দিয়ে আরএমপির পাশে থাকতে। তথ্য দিতে আরএমপির হটলাইন নম্বর ০১৩২০-০৬৩৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগেও একই ধরনের ঘটনায় মোটরসাইকেল দিয়ে পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ আগস্ট এমন একটি ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বায়তুল মোকাররমে শুরু মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা
বায়তুল মোকাররমে শুরু মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা। আজ শনিবার আসরের নামাজের পর মেলার উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ ও প্রকাশকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির যৌথ আয়োজনে এ মেলা চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং পরে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।উদ্বোধনী বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ এবং ইসলামের শান্তি ও কল্যাণের বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ইসলামি বইমেলার আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে মানুষের মধ্যে জ্ঞান, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব রয়েছে।একটি ভালো বই মানুষের চিন্তা ও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে—এমন মন্তব্য করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘বই জ্ঞানের আলো ও ভান্ডার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন কেবল বই কেনাবেচার উদ্দেশ্যে করা হয়নি; দেশি-বিদেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এটি লেখক, পাঠক, গবেষক ও ইসলামি সাহিত্যপ্রেমীদের একটি মিলনমেলায় পরিণত হবে।’আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলার স্টলে পাঠকেরা। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে, ১২ সেপ্টেম্বরধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, ইসলামি জ্ঞান ও সাহিত্যচর্চাকে মানুষের কাছে সহজলভ্য করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের ফলে পাঠকেরা দেশি-বিদেশি ইসলামি সাহিত্য ও গবেষণাধর্মী বই সম্পর্কে জানার এবং সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, এবারের মেলায় স্টল রয়েছে ১৪৪টি, যেখানে দেশি-বিদেশি মোট ১০০টির বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই পাওয়া যাচ্ছে।বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ভারত, মিসর ও লেবাননের কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে।মেলায় কোরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিস, সিরাত, ইসলামি দর্শন, ইতিহাস, গবেষণা, ধর্মীয় সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই পাওয়া যাবে। শিশু-কিশোরদের জন্যও থাকছে ইসলামি ও শিক্ষামূলক বই।মেলায় নারী কর্নার, শিশু কর্নার, সিরাত কর্নার ও ম্যাগাজিন কর্নার থাকছে। পাশাপাশি মাসব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোচনা সভা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন থাকবে।আগামীকাল রোববার থেকে বৃহস্পতিবার মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। শুক্র ও শনিবার মেলা খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
৬৩ বিদেশির কারও কাছে মিললো না পাসপোর্ট, খুলশীতে কী করছিলেন তারা?

৬৩ বিদেশির কারও কাছে মিললো না পাসপোর্ট, খুলশীতে কী করছিলেন তারা?

‘প্রিয় মানুষদের সামনে গান করতে পেরে আনন্দিত হয়েছি’

‘প্রিয় মানুষদের সামনে গান করতে পেরে আনন্দিত হয়েছি’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো অন্তঃসত্ত্বার, বাঁচেনি গর্ভের সন্তানও
ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো অন্তঃসত্ত্বার, বাঁচেনি গর্ভের সন্তানও

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অর্পিতা দাশ (৩৫) নামের এক অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে তার গর্ভে থাকা সন্তানও মারা গেছে। অর্পিতা দাশ চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী। আগামী ১২ অক্টোবর তাদের প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার সম্ভাব্য তারিখ ছিল। পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জ্বরে আক্রান্ত হন অর্পিতা। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই সময়ে গর্ভের শিশুটিও মারা যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, বৃহস্পতিবার তাকে আনা হয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় আইসিইউতে রাখা হয়। গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে তিনি মারা যান। তিনি ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি সন্তানসম্ভবা ছিলেন। মা মারা যাওয়াতে গর্ভে থাকা সন্তানটিও মারা গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, ডেঙ্গু এক্সপ্যান্ডেড সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে অর্পিতার মৃত্যু হয়েছে। অর্পিতা ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও তদন্তে গতি আনতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও তদন্তে গতি আনতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

শেয়ারবাজারে ৫০০ কোটি টাকার কোম্পানি আসতে পারবে সরাসরি

শেয়ারবাজারে ৫০০ কোটি টাকার কোম্পানি আসতে পারবে সরাসরি

মিরপুরে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৬৬

মিরপুরে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৬৬

0 Comments