প্রতিষ্ঠার পর গত ৭৮ বছরে উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে গেছে। তারপরও শাসনব্যবস্থার পতন হয়নি। বরং বর্তমান নেতা কিম জং–উনের হাতে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র, কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও চীন–রাশিয়ার সহায়তা দেশটিকে টিকে থাকার নতুন শক্তি দিয়েছে। আজ ৯ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জেনে নেওয়া যাক দেশটির উত্থান–পতনের নানা কাহিনি।
১৯৪৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তর কোরিয়া। এরপর কেটে গেছে ৭৮ বছর। এ সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙেছে, পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক শাসন বিলুপ্ত হয়েছে এবং চীন বাজার অর্থনীতির পথে অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা টিকে আছে প্রায় একইভাবে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাও একটি পরিবারের বাইরে যায়নি। প্রথমে কিম ইল–সুং, পরে তাঁর ছেলে কিম জং–ইল এবং এখন নাতি কিম জং–উন—তিন প্রজন্ম ধরে উত্তর কোরিয়া শাসন করছে কিম পরিবার।
এই ৭৮ বছরে উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে গেছে। তারপরও শাসনব্যবস্থার পতন হয়নি। বরং বর্তমান নেতা কিম জং–উনের হাতে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র, কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও চীন–রাশিয়ার সহায়তা দেশটিকে টিকে থাকার নতুন শক্তি দিয়েছে।
কিম ইল–সুংয়ের শাসনে নেতাকে ঘিরে প্রবল ব্যক্তিপূজাও গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রের ইতিহাস, স্বাধীনতা, যুদ্ধ ও উন্নয়নের সব সাফল্যের কেন্দ্রে তাঁকে রাখা হয়। এভাবে কিম পরিবারের শাসনকে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশে পরিণত করা হয়।
১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপ জাপানের অধীন ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর কোরিয়াকে সাময়িকভাবে দুই ভাগে ভাগ করে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। ৩৮তম অক্ষরেখার উত্তরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বিস্তার করে।
এই সাময়িক বিভাজন পরে স্থায়ী রূপ নেয়। উত্তরে সোভিয়েত–সমর্থিত কিম ইল–সুং এবং দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত সিংম্যান রি ক্ষমতায় আসেন। ১৯৪৮ সালে দুই অংশে দুটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তর অংশের নাম হয় ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া বা উত্তর কোরিয়া।
দুই রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষই পুরো কোরীয় উপদ্বীপের বৈধ সরকার বলে নিজেদের দাবি করেছিল। ১৯৫০ সালের জুনে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলা চালায়। শুরু হয় কোরীয় যুদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নামে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয় চীন। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে কোনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হয়নি। থেকে যায় উপদ্বীপের বিভাজনও।
কিম ইল–সুং উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম নেতা। তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৯৪ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত দেশটি শাসন করেন।
কিম ইল–সুংয়ের সময়েই উত্তর কোরিয়ায় একদলীয় ও অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। রাষ্ট্র, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ক্রমে একজন নেতাকে ঘিরে সাজানো হয়।
কিম ইল–সুং ‘জুচে’ বা নিজ শক্তির ওপর নির্ভর করার রাজনৈতিক ধারণা সামনে আনেন। এ ধারণার মূলকথা ছিল, উত্তর কোরিয়া রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় নিজের পথ অনুসরণ করবে। তবে বাস্তবে দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

কিম ইল–সুংয়ের শাসনে নেতাকে ঘিরে প্রবল ব্যক্তিপূজাও গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রের ইতিহাস, স্বাধীনতা, যুদ্ধ ও উন্নয়নের সব সাফল্যের কেন্দ্রে তাঁকে রাখা হয়। এভাবে কিম পরিবারের শাসনকে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশে পরিণত করা হয়।
রাষ্ট্রের ক্ষমতার পাশাপাশি উত্তরসূরি তৈরির কাজও কিম ইল–সুং নিজের জীবনকালেই শুরু করেন। তাঁর ছেলে কিম জং–ইলকে ধীরে ধীরে দল, রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়। ফলে ১৯৯৪ সালে কিম ইল–সুংয়ের মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ায় পিতা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা যায়।
কিম জং–ইল এমন একসময় ক্ষমতা নেন, যখন উত্তর কোরিয়া গভীর সংকটে ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর উত্তর কোরিয়া গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা ও বাণিজ্যের সুযোগ হারায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি উত্তর কোরিয়ায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ঠিক কত মানুষ মারা গিয়েছিল, তার নিশ্চিত হিসাব নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে, দুর্ভিক্ষে প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারে। খাদ্যের সন্ধানে কয়েক লাখ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে চীনে চলে যায়।
এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পরও শাসনব্যবস্থার পতন হয়নি। কিম জং–ইল ‘সামরিক বাহিনী প্রথম’ নীতি গ্রহণ করেন। এতে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। সামরিক বাহিনী একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কিম পরিবারের শাসন রক্ষার প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে।
কিম জং–ইলের সময়েই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের পথে দ্রুত এগোয়। দেশটি ২০০৩ সালে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এরপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভিক্ষ উত্তর কোরিয়াকে দুর্বল করেছিল। কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি দেশটির নিরাপত্তাকৌশল বদলে দেয়। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রকে সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা হিসেবে দেখতে শুরু করে পিয়ংইয়ং।
কিম জং–ইল ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। এরপর তাঁর ছেলে কিম জং–উন ক্ষমতায় আসেন। তখন তাঁর বয়স কম এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতাও সীমিত ছিল। ফলে তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দেশের বাইরে প্রশ্ন ছিল।
কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই কিম জং–উন দল, সরকার ও সেনাবাহিনীর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সময়েই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অনেক দ্রুত এগিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে চারটি হয়েছে কিম জং–উনের শাসনে। ২০১৭ সালের সর্বশেষ পরীক্ষাটি আগের সব পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।
২০১৮ সালে কিম জং–উন কূটনীতির দিকে এগোন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুন জে–ইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্প ও কিমের প্রথম বৈঠক হয় ২০১৮ সালের জুনে সিঙ্গাপুরে।
এ দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এরপর আলোচনা আর এগোয়নি।
কিম জং–উনের সরকার এখন বলছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রের মর্যাদা বদলানো যাবে না। ২০২২ সালে দেশটি নতুন পারমাণবিক নীতি আইনে পরিণত করে। সেই আইনে কিম জং–উনকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একক ক্ষমতা দেওয়া হয়।
কিম জং–উনের শাসনের শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁর ক্ষমতা হয়তো দল ও সেনাবাহিনীর প্রবীণ নেতাদের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের কর্তৃত্ব বাড়িয়েছেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেসে দলের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ, দলের বৈঠক ডাকা এবং বিভিন্ন বিভাগ ভেঙে দেওয়ার স্পষ্ট ক্ষমতা কিম জং–উনকে দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মে কিম ইল–সুং ও কিম জং–ইলের কাজের উল্লেখও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে বর্তমান নেতা কিম জং–উনের ভূমিকা সামনে আনা হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি একে ‘কিম জং–উন যুগ ২.০’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
উত্তর কোরিয়ার মানুষ কী জানতে পারবেন, কোথায় যেতে পারবেন এবং কীভাবে জীবন কাটাবেন—তার ওপর রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। স্বাধীন গণমাধ্যম নেই। বিদেশি খবর ও বিনোদনের ওপরও কঠিন বিধিনিষেধ আছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলেছে, আগের ১০ বছরে উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি; বরং নজরদারি, বাধ্যতামূলক শ্রম ও কঠোর শাস্তির ব্যবহার বেড়েছে। বিদেশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভিক্ষ উত্তর কোরিয়াকে দুর্বল করেছিল। কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি দেশটির নিরাপত্তাকৌশল বদলে দেয়। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রকে সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা হিসেবে দেখতে শুরু করে পিয়ংইয়ং।
প্রতিবেদনটি উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া তিন শতাধিক ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। উত্তর কোরিয়া এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারি এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা উত্তর কোরিয়ায় বিরোধী শক্তি গড়ে ওঠার সুযোগ খুবই সীমিত করে রেখেছে। কিম পরিবারের শাসনও টিকে থাকার পেছনে এটি বড় একটি কারণ।
উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের জীবন এখনো কঠিন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাবে, দেশটির ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় প্রতি পাঁচ শিশুর একজনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চাষযোগ্য জমির স্বল্পতা, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও সারের অভাব ও বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশটিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম খাদ্য উৎপাদিত হয়।
এরপরও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে টানা তিন বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের বেশি হলো।
রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও অস্ত্রের চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে উত্তর কোরিয়া নিজে নিয়মিত অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা ও বাণিজ্য তথ্যের ভিত্তিতে এসব হিসাব তৈরি করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তাকারী চীন। ২০২৫ সালে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই ছিল চীনের সঙ্গে।
কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক দ্রুত বদলে গেছে। পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে বিপুল অস্ত্র ও সেনাসদস্য দিয়েছে। বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা পাচ্ছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে।
২০২৪ সালে দুই দেশ একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করে। সম্প্রতি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়কসেতুও চালু হয়েছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে রেল ও বিমান যোগাযোগ ছিল। নতুন সেতুটি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘৩৮ নর্থ’–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়াকে সহায়তার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া অর্থ, জ্বালানি, খাদ্য, সামরিক প্রযুক্তি ও আধুনিক যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়ার চেষ্টা করছে। মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে চীনের ওপর একক নির্ভরতাও কমাতে চাইছে দেশটি।
উত্তর কোরিয়ার ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিম জং–উনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা চীনের ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের অবিচল নীতি। অন্যদিকে পুতিন দুই দেশের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে কিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা বলেছেন।
দুই নেতার বার্তা উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির পত্রিকা ‘রোডং সিনমুন’-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে।
একই দিনে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইয়ংবিয়নের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে উত্তর কোরিয়া নতুন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা তৈরি করেছে। সেখানে ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড রাখার জায়গা থাকতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, একাধিক স্থানে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবকাঠামোর ধারাবাহিক বিস্তারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার ৭৮ বছরের ইতিহাস থেকে শাসনব্যবস্থাটি টিকে থাকার কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়।
প্রথমত, কিম পরিবারের নেতৃত্বকে রাষ্ট্রের ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে এক করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দল, সরকার, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাকে একই নেতৃত্বের অধীন রাখা হয়েছে।
তৃতীয়ত, তথ্যের প্রবাহ ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে। চতুর্থত, পারমাণবিক অস্ত্রকে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকানোর প্রধান উপায় হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো সোভিয়েত ইউনিয়ন, কখনো চীন এবং এখন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাচ্ছে পিয়ংইয়ং।
তিন প্রজন্মে উত্তর কোরিয়ার চারপাশের বিশ্ব অনেক বদলেছে। কিন্তু কিম পরিবারের শাসনের মূলভিত্তি—কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, সামরিক শক্তি, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী প্রতিবেশীর সহায়তা রয়েছে এখনো অটুট। প্রতিষ্ঠার ৭৮ বছর পরও উত্তর কোরিয়ার টিকে থাকার মূল ব্যাখ্যা সম্ভবত এখানেই।
{তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা, ৩৮ নর্থ ও ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি}
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত অংশে নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুস-বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মূল ফটকে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় বক্তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভায় বেশি নম্বর রাখলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে। নিয়োগে দলীয়করণ বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, ‘সরকারি চাকরির ভাইভা পরীক্ষায় প্রায় ৪০০ শতাংশ নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পেছনে একটাই কারণ রয়েছে—সরকার দলীয় ক্যাডারদেরই চাকরি দিতে চায়। তারা মেধাবীদের বঞ্চিত করে নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দিতে চায়। তবে কোনোভাবেই এ ধরনের প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না।’ আজিজুর রহমান/এসআর
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন রুমিন ফারহানা। এসময় তিনি বলেন, সব সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না— এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না। যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না— সেটাও হতে পারে না। রুমিন ফারহানা আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া— ইত্যাদি ইত্যাদি। তার এ বক্তব্যে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হৈ-চৈ শুরু করেন। এসময় রুমিন ফারহানা বলেন, এত অসহিষ্ণু সংসদ! মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন একই ধরনের আচরণ করছে, আরও খারাপ আচরণ বরং বলি। এরপর ব্যাংক রেজুলেশন বিলে যুক্ত করা নতুন ধারার প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, যাই হোক, এই আইনটিতে ১৮-এর ক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল ১৮-ক রাখা হবে না। কেন রাখা হচ্ছে— এর কারণ হচ্ছে এই সংসদ, বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। আরও পড়ুন সংসদে রুমিন ফারহানা / বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা— এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি রিট, খেলাপি থেকে বাদ দেয়। আর ইলেকশনটা যেই শেষ হয়, ওকে এই...। এ পর্যায়ে সংসদে আবারও হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ধন্যবাদ মাননীয় সদস্য, বসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, সবাই শান্ত হন। মাননীয় সদস্য, আপনি বসেন। হৈ-চৈ অব্যাহত থাকলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাননীয় চিফ হুইপ, মাননীয় সদস্য আপনি বসেন। সংসদের সব সদস্য, অনুগ্রহ করে শান্ত হন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, মাননীয় চিফ হুইপ, একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। তার কথা বলার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু অন্যান্য সংসদ সদস্যরা তার বক্তব্য প্রদানে বাধা দিচ্ছেন— সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে। তিনি আরও বলেন, আমি আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনো অবস্থাতেই কাম্য না। আরও পড়ুন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড / এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি এরপর ডেপুটি স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যকে আপনি সুযোগ দিয়েছেন, হতে পারে তার কথাগুলো সবগুলো সঙ্গত নয়। আবার হতে পারে যে কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, আমরা তো কিছুই শুনতে পারলাম না। তার কথাগুলো শোনার যেমন দায়িত্ব আমাদের আছে, বলারও অধিকার তার আছে। তিনি যদি অসংসদীয় কোনো কথা বলে থাকেন সেটা আপনার জায়গা থেকে রুলিং আসতে পারে। আবার এসব কথার জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যখন দাঁড়াবেন, তিনি যদি প্রয়োজন মনে করেন তিনি দিতেই পারেন। এরপর বক্তব্য দিতে রুমিন ফারহানা কয়েকবার দাঁড়ালেও তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেন, আমরা চাই সংসদে সব সমস্যার সমাধান হোক। কিন্তু সংসদে সমস্যার সমাধানের চেয়ে যদি আমরা সমস্যা তৈরি করি নিজেরা, সেটা একটা প্রবলেম। আমরা চাই এখানে গঠনমূলক আলোচনা হোক। আমরা সংসদে এমন আলোচনা যদি করি যে আলোচনা একজনকে আহত করে অথবা একজনকে ক্ষতি করে, সে আলোচনা আমরা করতে চাই না। এসময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনার মূল দায়িত্ব হাউজে শৃঙ্খলা রাখা। আমরা প্রত্যাশা করবো যার যার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিকভাবে পরিষ্কারভাবে বক্তব্য রাখবেন। এমওএস/কেএসআর
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন শনিরআখড়ায় ব্যবসায়ী আসলাম খানকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় অস্ত্র ও গুলি সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার দুই নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তারা হলেন- আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আব্দুস ছবুর জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক মিঠু মন্ডল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসলাম খানের সঙ্গে আসামি জলিল মন্ডলের জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জেরে আসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আসলাম তার দোকান মেসার্স লাকী ক্রোকারিজে ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে তার ডান চোয়াল ও বাম বাহুতে গুরুতর জখম হয়। মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে আবেদনে বলা হয়, রুনিয়া ও সোনিয়া ঘটনার আগে কামাল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করেন। পরে তারা কদমতলীর জুরাইন বউবাজার এলাকার একটি বাসায় মঞ্জুরুল ইসলাম ও জসিমের সঙ্গে অবস্থান করেন। সেখান থেকে ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে শনিরআখড়া ফ্লাইওভারের নিচে অস্ত্র ও গুলি মঞ্জুরুল ও জসিমের কাছে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অস্ত্র ব্যবহার করেই মঞ্জুরুল মোটরসাইকেল থেকে নেমে আসলামের দোকানে ঢুকে গুলি চালান। এসময় আসলাম আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। জসিমও অস্ত্র হাতে দোকানে ঢোকার চেষ্টা করেন। গুলির শব্দ ও স্থানীয়দের চিৎকার শুনে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে মঞ্জুরুল ও জসিম গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ মঞ্জুরুলকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার ও ৯ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে আরও তিনটি গুলির খোসা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে অন্যরা পালিয়ে যান। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে কাচকুড়ার বগবাড়ির মোড় এলাকা থেকে রুনিয়া এবং উত্তরখান এলাকা থেকে সোনিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আসলাম খানের শ্বশুর বাদল মিয়া ৬ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এর আগে এ মামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম ও ইকবাল কালুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, গুলি চালানোর ঘটনায় কদমতলী থানার এসআই অশোক কুমার সরকার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করেন। ওই মামলায় মঞ্জুরুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এমডিএএ/এমকেআর