খেলা শেষ হওয়ার কথা বিকেলেই, সেটা চলতে থাকলো সন্ধ্যাত পর্যন্তও! দুই দফা বৃষ্টিতে জ্বালাতে হলো মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ফ্ল্যাডলাইটও। তবে তাতেও কাজ হয়নি। সাড়ে ৬টায় বৃষ্টির গতি আচমকা বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
তবে গ্রুপ পর্বের ভালো পারফর্ম্যান্সে কপাল খুলে যায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ছাপিয়ে গেম ডেভোলপলমেন্ট (জিডি) টুর্নামেন্টের শিরোপা যায় যুব দলের কাছেই।
বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিডি ট্রফির ফাইনালে আগে ব্যাটিং করে ২৪৫ রানে অলআউট হয় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। দুই দফা বৃষ্টি বাধার পর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সামনে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) মেথডে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩ ওভারে ১৬১ রান।
১৭.২ ওভারে ৫ উইকেটে ৯৯ রান তোলার পর দ্বিতীয় দফা বৃষ্টিতে ভেসে যায় ম্যাচ। ফাইনালে নজর কেড়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার তাফিউল আলম তামিম। ৮.৪ ওভারে ৩৬ রান খরচায় ছয় উইকেট নিয়েছেন। ৫২টি বল করে ৩৬টিই ডট দিয়েছেন এই পেসার।
গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল অনূর্ধ্ব-১৯ দল। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচে তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল তারা। আর দুই জয় ও একহারে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। গ্রুপ পর্বে এগিয়ে থাকায় ১৯ দলকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
রান তাড়ায় শুরুতে ব্যাটিংয়েই নামতে পারেনি অনূর্ধ্ব-১৯। এরপর যখন ব্যাটিংয়ে নামে তারা, ততক্ষণে ৬ ওভার কাটা পড়েছে, দলটির লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৪ ওভারে ২২৩ রান। আব্দুল্লাহ মুহি দলকে ভালো শুরু এনে দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে ফেরেন ২০ রান করা এই ব্যাটার। পরের পাঁচ বল হওয়ার পর ফের বৃষ্টি বাধায় বন্ধ হয় খেলা। তখন দলটির রান ছিল ১ উইকেটে ২৭।
এরপর আবার খেলা শুরু হলে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩ ওভারে ১৬১ রান। এই দফায় অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফেরেন ৬ রান করা জারিফ সিয়াম।
২৭ রানে দুই উইকেট হারানোর পর কাওসার আহমেদ ও আহসান আল মুমিন তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ২৭ রান। কাওসার ১৪ রানে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর ফারহান সাদিক উইকেটে এসেই আক্রমণ শুরু করেন। ১৫ বলে দুইটি করে চার ও ছয়ে ২৯ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের পর ১৮তম ওভারে ফেরেন মুমিন ফেরেন ২৪ রান করে। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি বাগড়া দেওয়ায় খেলা আর এগোয়নি।
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ওপেনার আদিল বিন সিদ্দিককে হারায় অনূর্ধ-২৩ দল। দশ ওভারে দলটি তোলে কেবল ২৩ রান। ১৩তম ওভারে জোড়া উইকেট হারায় তারা। তাফিউলের করা ওভারে এক বলের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আজিজুল (২৯ বলে ১৫) ও রিজান হোসেন (২ বলে ০)।
৩০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর কালাম ও কিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ধাক্কা সামলান। ৫৪ বলে ২৪ রান কালামের বিদায়ে ভাঙে তাদের ৫২ রানের জুটি। পরে ধারাবাহিক পারফর্ম করা আব্দুল্লাহ ৫৪ বলে ৪৭ করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে।
১০২ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে আহরার আমিন ও দেবাশিস সরকারের ৮৬ রানের জুটি লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। ৪৬ রান করেন আহরার আর ৪৩ রান আসে দেবাশীষের ব্যাট থেকে। এরপর শেষ মাহফুজুর রহমান রাব্বি ২৬ বলে ৩১ রানের ইনিংসে আড়াইশ ছোয়া পুঁজি পায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ৪০ রানে তিন উইকেট নেন শেখ আতিকুর রহমান আকাশ।
এসকেডি/আইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বরগুনার তালতলী উপজেলার আন্ধারমানিক নদের তীরে ভেসে এসেছে ৩০ ফুট লম্বা একটি মৃত তিমি মাছ। খবর পেয়ে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা তিমিটিকে উদ্ধার করেছেন। বিস্তারিত ভিডিওতে...
বেকারি পণ্যের দাম আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। মালিকরা জানিয়েছেন, ওই সময় থেকে পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়বে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম ঠিক রেখে ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হবে। সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দাম বৃদ্ধির কোনো ঘোষণা আমরা দিইনি। তবে সবাই মিলে দাম সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দাম বাড়লে সেটা ২০ শতাংশ হারে বাড়াবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ওজন কমিয়ে দাম সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ ১০ টাকার রুটি ১০ টাকাই থাকবে। তবে যেটা ৪০০ গ্রাম ছিল, সেটা হয়তো ৩৫০ গ্রাম বা ৩২০ গ্রাম হবে।’ এর যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে ২৫-৩০ টাকার আটা ৪২ টাকা হয়ে গেলো, তিন হাজার টাকার ময়দার বস্তা পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা হয়ে গেলো, ২৫ হাজার টাকার ড্রামের তেল ৩৬ হাজার টাকা হয়ে গেলো। এখন আমরা কী করতে পারি? এছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, বাড়তি খরচ। আমরা টিকতে পারছি না। আমার কর্মচারী না খেয়ে থাকবে?’ আরও পড়ুন আগস্টে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানে কোটি টাকা জরিমানা এর মধ্যে কোনো বেকারি কি বন্ধ হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে জালাল উদ্দিন বলেন, ‘না, বন্ধ হয় নাই। তবে উৎপাদন কমাইছে। যে আগে পাঁচ বস্তা ময়দার কাজ করতো, সে এখন তিন বস্তায় চলে আসছে।’ এ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ক্ষুদ্র বেকারি আছে প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাত শতাধিক। তাদের দাবি, কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে গ্যাস-বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে গেছে। চলমান সংকট দীর্ঘ হলে ছয় মাসের মধ্যে বেকারি খাত ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন সমিতির নেতারা। এনএইচ/একিউএফ
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) মেডিকেল অফিসার হাসান আল বান্না বলেন, ‘মেঘমল্লার বসুকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। গতকাল থেকেই তার অবস্থার অবনতি হয়েছে। আমরা চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি, তবে তেমন উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মেঘমল্লারকে হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের আইসিইউতে নেওয়া হয়। বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি সোমবার রাতে ফেসবুক একটি পোস্ট দেন। সেখানে ব্যক্তিগত হতাশা, অপরাধবোধ, পারিবারিক বিষয় ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে সাবেক প্রেমিকাকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী না করতে এবং মা ও পরিবারের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের অনুরোধ জানান। আরও পড়ুন ‘বাবার পাশে সমাধি দিয়েন’ পোস্ট, আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার মেঘমল্লার বসু এই পোস্ট দেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সন্ধান শুরু করেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার পাকস্থলী ওয়াশ করেন। মেঘমল্লালের এক বন্ধু তমা বলেন, ‘আমি তার ফেসবুক পোস্টটি দেখে খুবই চিন্তায় পড়ে যাই এবং সব বন্ধুর কাছে ফোন দিয়ে তার সম্পর্কে জানতে চাইলেও কেউ খবর দিতে পারছিল না। পরে আমাদের ক্যাম্পাসের এক বড় আপুর (দোলা) ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারি মেঘমল্লার বসুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বেশ কিছুদিন থেকেই হতাশাগ্রস্ত ছিলেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।’ মঙ্গলবার হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চিকিৎসকরা মনে করেছেন, তাকে আইসিইউতে নেওয়া দরকার। বিকেল থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। এ কারণেই চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে দিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বুধবার বলেন, বর্তমানে মেঘমল্লার বসু লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। কেএজেডআইএ/একিউএফ