জাতীয়

সারাহ খলিফাকে নিয়ে কেন এত হইচই?

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
সারাহ খলিফাকে নিয়ে কেন এত হইচই?
সারাহ খলিফাকে নিয়ে কেন এত হইচই?

ছোট পর্দার ঝলমলে আলোর আড়ালে গড়ে ওঠা মিথ্যার এক কাল্পনিক প্রাসাদ নাকি বৈশ্বিক অপরাধ জগতের এক ভয়ংকর ছায়ামানবী? মিশরের বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও তৈরি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সারাহ খলিফাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে ‘বিখ্যাত টিভি উপস্থাপক’ তকমা ছড়িয়ে পড়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় রহস্য।

মিশরের সবচেয়ে বড় ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা 'আল-আহরাম’- এর প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাকে একাধারে ‘জনপ্রিয় ক্রাইম শো সঞ্চালক’ ও মিশরের জনপ্রিয় তারকা হিসেবে চিত্রায়িত করলেও মিশরীয় আদালতের নথি ও বাস্তব অনুসন্ধানী তথ্য বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। গণমাধ্যমের বানিয়ে তোলা কৃত্রিম খ্যাতি, নাকি আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াই- কোনটি সারাহ খলিফার আসল পরিচয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

কে এই সারাহ খলিফা?

২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল সারাহ খলিফার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কায়রো ফৌজদারি আদালতের চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত মোট ৫০৬ দিন সময় লেগেছে। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই ২৮ জন আসামিকে বিচারে পাঠানো হয় ও ৬ সেপ্টেম্বর মূল বিচার শুরু হয়।

এরপর নভেম্বর মাসে ফরেনসিক প্রমাণ পরীক্ষা, ২০২৬ সালের জুনে বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিগত কমিটির মতামত গ্রহণ ও জুলাই মাসে অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণাদি যাচাই করা হয়। ৪ আগস্ট কেসটি গ্র্যান্ড মুফতির কার্যালয়ে পাঠানো হয় ও অবশেষে বিচার শুরুর ৩৬৪ দিন পর ৫ সেপ্টেম্বর আদালত সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায় অনুযায়ী, প্রতিটি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পাঁচ লাখ মিশরীয় পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে ও তাদের মাদক, যানবাহন, প্রস্তুতকরণ সরঞ্জাম, অলঙ্কার, মোবাইল ফোন ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলায় ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ও ৭ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। তবে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির অ-বাধ্যতামূলক ধর্মীয় মতামত নেওয়ার পর প্রদত্ত এই রায়টির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

সারাহ খলিফার আদালতের রেকর্ড ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বানানো পাবলিক ইমেজের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশাল ফারাক। তিনি মূলত টিভি সাংবাদিকতার চেয়ে সৌন্দর্য ব্যবসা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও বিনোদন জগতের সঙ্গেই বেশি যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে বিখ্যাত ফুটবলার মাহমুদ আবদেল-মোনেম ‘কাহরাবা’-এর সঙ্গে তার স্বল্পস্থায়ী বিয়ে এবং বিভিন্ন অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পিদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিপুল অনুসারী তৈরি হয়।

তার টেলিভিশন ক্যারিয়ার ছিল অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন ও অনিয়মিত। পূর্বে তিনি এআরটি (এআরটি)-এর ‘ফ্রম কায়রো’, ইরাকের ‘আল-শারকিয়া’ চ্যানেল ও ২০১৫ সালে বেসরকারি চ্যানেল আল-মেহওয়ারের ‘মুহিম্মা সাবা’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘টেন’ চ্যানেলে ‘ট্রেন্ড’ নামের শো পরিচালনা করেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো আরবি ‘মুহিম্মা সাবা’ (যার অর্থ কঠিন মিশন) শব্দটিকে অনুবাদ করে ‘মিশন ইম্পসিবল’ হিসেবে প্রচার করে, যা বিশ্বখ্যাত হলিউড ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম মনে করিয়ে দেয়। অথচ ২০২৪ সালে সারাহ খলিফাকে কেবল ‘হামো বিকা’ নামের এক উৎসব-সংগীত (মাহরাগানাথ) গায়কের সঙ্গে একটি অনলাইন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানেই দেখা গিয়েছিল।

গ্রেফতারের পর মিশরীয় মিডিয়া সিন্ডিকেটের প্রধান তারেক সাদা স্পষ্টভাবে জানান যে, সারাহ খলিফা তাদের নিবন্ধিত কোনো পেশাদার সাংবাদিক নন ও সংবাদমাধ্যমে কাজ করার মতো কোনো আইনি লাইসেন্সও তার ছিল না। তিনি তাকে একজন ছদ্মবেশী গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তবে লাইসেন্সহীন হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তিনি বিভিন্ন চ্যানেলে সময় পেলেন- তার নেপথ্যে উঠে এসেছে মিশরের সম্প্রচার জগতের ‘বেই আল-হাওয়া’ বা নামক বিতর্কিত প্রথা। সেখানে চ্যানেলগুলো অর্থের বিনিময়ে বাইরের প্রযোজকদের কাছে সময় স্লট বিক্রি করে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিশরের নাম না জানা চ্যানেলে ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত খরচে এক ঘণ্টার স্লট কেনা সম্ভব।

এরই মধ্যে ২০২৬ সালের আগস্টে শীর্ষ মিডিয়া রেগুলেটরি কাউন্সিল এমন ২১টি যৌথ-প্রযোজনা অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে পর্যালোচনা শুরু করেছে। ফলে অর্থের জোরেই তৈরি হয়েছিল তার টিভি উপস্থাপকের কৃত্রিম পরিচিতি। এমনকি, তার বয়স নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে; মিশরীয় নথিতে তার জন্ম ২৯ মার্চ ১৯৯৪ উল্লেখ থাকায় রায়ের সময় তার বয়স ৩২ বছর হলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাকে ৩৯ বছর বয়সী বলা হচ্ছে।

কায়রো ফৌজদারি আদালতে প্রসিকিউটররা সারাহ খলিফাকে অভিযুক্ত মাদক চক্রের ৪ নম্বর আসামি, মূল ব্যবস্থাপক, প্রধান অর্থায়নকারী এবং মিশরের ভেতরের ও বাইরের সদস্যদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেন। উদ্ধারকৃত ৭৫০ কেজিরও বেশি রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে প্রস্তুতকৃত মাদকের পাশাপাশি কাঁচামালও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আদালত গঠিত তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি নমুনা বিশ্লেষণ করে জানায়, এগুলো নিষিদ্ধ কৃত্রিম ক্যানাবিনয়েড তৈরির রাসায়নিক উপাদান। তবে সারাহ খলিফা ও তার আইনজীবী মোহাম্মদ আল-গেন্দি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, অফিশিয়াল গ্রেফতারের তারিখ, ফোন পরীক্ষা ও পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানান। আদালতের দীর্ঘ শুনানি ও জেরার পর ঘোষিত এই রায় সর্বোচ্চ আদালত বা কোর্ট অব ক্যাসেশনে রিভিউ করার পূর্ণ অধিকার আসামিপক্ষের রয়েছে।

এই মাদক মামলার বাইরেও সারাহ খলিফার বিরুদ্ধে আলাদা একটি অপরাধের রায় কার্যকর রয়েছে। শালীনতা ভঙ্গ, শারীরিক নির্যাতন ও এক যুবককে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করার অপরাধে মিশরের আদালত তাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন (কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভুলবশত ৫ বছর উল্লেখ করেছিল)।

সব মিলিয়ে, সারাহ খলিফা কেবল আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বানানো কোনো ‘বিখ্যাত অপরাধ বিষয়ক তারকা সঞ্চালক’ নন, আবার তিনি কোনো সাধারণ অভিযুক্তও নন। তিনি একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হওয়া এক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, যার আইনি ভবিষ্যতের চূড়ান্ত ফয়সালা এখনো সুপ্রিম কোর্টের আপিলের ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: আহরাম অনলাইন

এসএএইচ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সংসদে সারের চাহিদা ও যোগানের হিসাব দিলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন
সংসদে সারের চাহিদা ও যোগানের হিসাব দিলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন

সারের চাহিদা ও যোগানের হিসাব সংসদে তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন মৎস্য ও প্রানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। সে সময় বিরোধীদলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কারও ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েন না। বিস্তারিত ভিডিওতে...

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা
বস্তায় মিলল ১৪ লাখ ইয়াবা

নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা বস্তায় মিলল ১৪ লাখ ইয়াবা

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনায় গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনায় গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন

শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন

নদীতে ভেসে এল ৩০ ফুট লম্বা তিমি
নদীতে ভেসে এল ৩০ ফুট লম্বা তিমি

বরগুনার তালতলী উপজেলার আন্ধারমানিক নদের তীরে ভেসে এসেছে ৩০ ফুট লম্বা একটি মৃত তিমি মাছ। খবর পেয়ে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা তিমিটিকে উদ্ধার করেছেন। বিস্তারিত ভিডিওতে...

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
সংসদে রুমিনের বক্তব্যে হট্টগোল

সংসদে রুমিনের বক্তব্যে হট্টগোল

ফেইমল্যাব একাডেমির গ্র্যান্ড ফিনালে বিজয়ী হুমাইরা তাফসির সারা

ফেইমল্যাব একাডেমির গ্র্যান্ড ফিনালে বিজয়ী হুমাইরা তাফসির সারা

বাণিজ্য ও অর্থনীতি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে বিএফটিআই ও ইআরএফ ইনস্টিটিউট

বাণিজ্য ও অর্থনীতি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে বিএফটিআই ও ইআরএফ ইনস্টিটিউট

বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে শনিবার থেকে
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে শনিবার থেকে

বেকারি পণ্যের দাম আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। মালিকরা জানিয়েছেন, ওই সময় থেকে পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়বে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম ঠিক রেখে ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হবে। সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দাম বৃদ্ধির কোনো ঘোষণা আমরা দিইনি। তবে সবাই মিলে দাম সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দাম বাড়লে সেটা ২০ শতাংশ হারে বাড়াবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ওজন কমিয়ে দাম সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ ১০ টাকার রুটি ১০ টাকাই থাকবে। তবে যেটা ৪০০ গ্রাম ছিল, সেটা হয়তো ৩৫০ গ্রাম বা ৩২০ গ্রাম হবে।’ এর যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে ২৫-৩০ টাকার আটা ৪২ টাকা হয়ে গেলো, তিন হাজার টাকার ময়দার বস্তা পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা হয়ে গেলো, ২৫ হাজার টাকার ড্রামের তেল ৩৬ হাজার টাকা হয়ে গেলো। এখন আমরা কী করতে পারি? এছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, বাড়তি খরচ। আমরা টিকতে পারছি না। আমার কর্মচারী না খেয়ে থাকবে?’ আরও পড়ুন আগস্টে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানে কোটি টাকা জরিমানা এর মধ্যে কোনো বেকারি কি বন্ধ হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে জালাল উদ্দিন বলেন, ‘না, বন্ধ হয় নাই। তবে উৎপাদন কমাইছে। যে আগে পাঁচ বস্তা ময়দার কাজ করতো, সে এখন তিন বস্তায় চলে আসছে।’ এ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ক্ষুদ্র বেকারি আছে প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাত শতাধিক। তাদের দাবি, কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে গ্যাস-বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে গেছে। চলমান সংকট দীর্ঘ হলে ছয় মাসের মধ্যে বেকারি খাত ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন সমিতির নেতারা। এনএইচ/একিউএফ

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
বগুড়ায় ফুটবল খেলা দেখতে মাঠে, গাছে, টাওয়ারেও দর্শক

বগুড়ায় ফুটবল খেলা দেখতে মাঠে, গাছে, টাওয়ারেও দর্শক

আজ ৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সুডোকু দিবস

আজ ৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সুডোকু দিবস

বিগ ব্যাশের বেসরকারিকরণ, ঝাঁপিয়ে পড়বে আইপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিরা!

বিগ ব্যাশের বেসরকারিকরণ, ঝাঁপিয়ে পড়বে আইপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিরা!

0 Comments