জাতীয়

টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে দিলেন ব্রেন্ডন টেলর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে দিলেন ব্রেন্ডন টেলর
টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে দিলেন ব্রেন্ডন টেলর

২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জার্সি গায়ে নেমেছিলেন ১৮ বছরের এক তরুণ।

এরপর দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। নদীর জল অনেক গড়িয়েছে, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সোনালি দিনগুলো ধূসর হয়েছে, আবার কখনো নতুন আশায় আলো ছড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু সব ঝড়ের মাঝে যিনি নিঃশব্দে বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছেন, তিনি ব্রেন্ডন টেলর।

মাঝে কেটে গেছে ২২ বছর ১৪৮ দিন।

আজ ওই একই হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে যখন টস শেষে প্যাড পরে উইকেটের পেছনে দাঁড়ালেন টেলর, তখন নীরব এক ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে। শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে ছেলেদের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দীর্ঘতম ক্যারিয়ারের নতুন মালিক এখন ৪০ বছর বয়সী টেলর। ভারতের ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ খ্যাত টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব ছিল ২২ বছর ৯১ দিন। আজ মাঠে নেমে তাঁকে পেরিয়ে গেলেন টেলর।

তবে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের একসঙ্গে ধরলে ওয়ানডেতে সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মালিক এখনো সাবেক ভারতীয় ব্যাটার মিতালি রাজ। ১৯৯৯ সালে অভিষেকের পর মিতালি ওয়ানডে খেলেছেন ২০২২ পর্যন্ত। ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তি ২২ বছর ২৭৪ দিন!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রেকর্ড ভাঙা ম্যাচে ব্রেন্ডন টেলর (মাঝে)

টেন্ডুলকার ও টেলরের এই পথচলার গল্প অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তবতায় জিম্বাবুয়ের যে অবস্থান, তাতে টেলরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টেন্ডুলকারের মতো ব্যস্ততা ছিল না। টেন্ডুলকার বছরে গড়ে ২১টি ওয়ানডে খেলেছেন, টেলর বছরে খেলেছেন গড়ে ১০টির কম ম্যাচ। ২০২৫ সালের আগস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার পর দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় তাঁর কোনো ওয়ানডে খেলাই হয়নি। শুধু চোট নয়, আন্তর্জাতিক সূচির এই দীর্ঘ বিরতি সহ্য করেও টেলর নিজেকে টিকিয়ে রেখেছেন।

২০০৪ সালের সেই অভিষেকের পর থেকে আজ ২০৮তম ওয়ানডে খেলতে নেমে টেলর কেবল ক্রিকেট ইতিহাসেই নাম লেখাননি, হয়ে উঠেছেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ট্র্যাজেডি ও সাহসের প্রতীক। দল যখনই ভেঙে পড়েছে, বিপর্যয়ের মুখে তিনি সামনে দাঁড়িয়েছেন। ২০৭ ম্যাচে ৬৭০৪ রান আর ১১টি সেঞ্চুরি দিয়ে সাজানো তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ার। ৩৭ টেস্টে ২৪২০ ও ৫৮ টি-টুয়েন্টিতে ১১৮৫ রান প্রমাণ করে তিন ফরম্যাটেই এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান কতটা নির্ভরতার সমার্থক।

শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙেছেন ব্রেন্ডন টেলর

সবচেয়ে দীর্ঘ ওয়ানডে ক্যারিয়ার

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ম্যারাডোনা, প্রকাশ পেল ৩৭ বছর আগের ছবি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ম্যারাডোনা, প্রকাশ পেল ৩৭ বছর আগের ছবি

ফুটবলার হতে ছুটতে হয় বলের পিছু। তারপর একদিন ফুটবলার হয়ে ওঠার পর? তখন তো আরও বেশি জোরে দৌড়াতে হয়। তবে পৃথিবীতে এমন কেউ কেউ এসেছেন, বলই যাঁদের পিছু ছুটেছে সব সময়। অন্য চোখে আমরা তাঁদের বলি কিংবদন্তি। যেমন ডিয়েগো ম্যারাডোনা!বলের পিছু ছোটার বিষয়টি এমন, যেখানেই যান না কেন তাঁকে ঘিরে ফুটবল কিংবা ফুটবলের গল্পসল্পই উঠে এসেছে সবার আগে। জলে ও স্থলে কিংবা এখন যেমন অন্তরিক্ষে—২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনা প্রয়াত হয়ে ওই দূর আকাশে সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠার পর তাঁকে নিয়ে গল্পে, আড্ডায়, স্মৃতিচারণায় তো ফুটবলই উঠে আসে সবার আগে।দুই দিন আগে ফার্নান্দো সিনিওরিনিও ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি যেমন। ৭৬ বছর বয়সী এ ভদ্রলোক দীর্ঘদিন ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত ট্রেনার ছিলেন। সেটা কিংবদন্তির সোনালি দিনগুলোয়—১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪। তখন চোখের সামনে দেখেছেন ম্যারাডোনা যেখানেই গেছেন, ফুটবলও তাঁর পিছু ছুটেছে। সেটা হোক স্কুল–কলেজ থেকে গির্জা কিংবা যুদ্ধজাহাজ।সিনিওরিনি এর প্রমাণ হিসেবে তাঁর সেই পোস্টে কয়েকটি ছবিও পোস্ট করেন। সেটা ৩৭ বছর আগের ছবি। একটি যুদ্ধজাহাজে গুলি ছোড়ার বিশাল দুটি নলের মাঝে দাঁড়িয়ে বল পায়ে কসরত করছেন ম্যারাডোনা। ক্যাপশনে সেই চিরন্তন সত্যই লেখা, ‘সব জায়গাতেই ম্যারাডোনার সঙ্গে বল থাকতই। ১৫ নভেম্বর, ১৯৮৯।’সালটা যেদিন এই ছবি তোলা সেদিনের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যারাডোনার এই ছবিগুলো আলোড়ন তোলার একটি কারণও আছে। সাধারণত ম্যারাডোনার খেলোয়াড়ি কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের বারবার দেখা ছবি কিংবা ভিডিওগুলোই ঘুরেফিরে সামনে আসে। কিন্তু এই ছবিগুলো তেমন নয়। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘ক্লারিন’ জানিয়েছে, এই ছবিগুলো এত দিন অপ্রকাশিত ছিল।যুদ্ধজাহাজে গুলি ছোড়ার বিশাল দুটি নলের মাঝে দাঁড়িয়ে বল পায়ে কসরত করছেন ম্যারাডোনাসিনিওরিনি যেহেতু বহুদিন ম্যারাডোনার সঙ্গে ছিলেন, তাঁর মাঠ ও ব্যক্তিগত জীবনকে খোলনলচে জেনেছেন, চোখের সামনে অনেক কিছুর সাক্ষী ছিলেন, তাই ’৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তিকে নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণায় নতুন কিছু উঠে আসা স্বাভাবিক। সংবাদমাধ্যমটির ভাষায়, সিনিওরিনি ম্যারাডোনাকে স্মৃতির ঝাঁপি খুললে প্রতিবারই প্রকাশ পায় কিংবদন্তির জীবনঘনিষ্ঠ না বলা সব গল্প।কারণটা হয়তো আরেকটু গভীরে। সিনিওরিনি ম্যারাডোনাকে জানতেন, বুঝতেন। সে জন্যই একবার বলেছিলেন, ‘আমি ডিয়েগোর পেছনে পৃথিবীর শেষ সীমানা পর্যন্ত যেতে রাজি আছি, কিন্তু ম্যারাডোনার সঙ্গে রাস্তার মোড় পর্যন্তও যাব না।’ এ কথার ভেতরে তাকালে বোঝা যায়, সর্বকালের অন্যতম সেরা এ ফুটবলারের ভেতরে সিনিওরিনি আবিষ্কার করেছিলেন দুটি সত্তা; ডিয়েগো—নিখাদ মানুষ, সরল ও বন্ধুবৎসল, মাঠে ফুটবল জাদুকর কিন্তু ভেতরে শিশুর মতো মন। ম্যারাডোনা—প্রচারমাধ্যম, ভক্তদের অতিরিক্ত উন্মাদনা এবং খ্যাতির চরম চাপ থেকে তৈরি হওয়া এক ধ্বংসাত্মক চরিত্র, যা তাঁকে ধীরে ধীরে গ্রাস করেছিল।  ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল বিক্রি ৪১ কোটি টাকায়সে অন্য এক গল্প। সিনিওরিনির পোস্টে ফেরা যাক।ইউএসএস আইওয়ার নাম শুনেছেন? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এ রণতরি বেশ আগে থেকেই অবসরে। ১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রথম যে ছয়টি রণতরি বানায়, সেগুলোর মধ্যে ‘লিড শিপ’ ছিল এই আইওয়া। ওই ছয়টি রণতরিকে আইওয়ার নামেই ডাকা হয় ‘আইওয়া ক্লাস।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচল করা এ শ্রেণির একমাত্র রণতরি ছিল ‘ইউএসএস আইওয়া’। ইতিহাস–শিক্ষা বাদ দিয়ে প্রসঙ্গে ফেরা যাক। ১৯৮৯ সালের সেই নভেম্বরে ইতালির নেপলসে অবস্থান করছিল আইওয়া। ম্যারাডোনা তখন নাপোলিতে ‘মহানায়ক’। অনেকটাই ‘ঘর হতে দু পা ফেলিয়া’ কোনো কিছু দেখতে যাওয়ার মতো আইওয়া পরিদর্শনে গিয়েছিলেন কিংবদন্তি। তারই ছবিগুলো পোস্ট করে সেসব দিনের স্মৃতিচারণা করেন সিনিওরিনি।ম্যারাডোনার সঙ্গে সিনিওরিনিওসেই পরিদর্শনের পটভূমিও সিনিওরিনি জানিয়েছেন তাঁর পোস্টের ক্যাপশনে, ‘নেপলসে ন্যাটোর সদর দপ্তর থেকে ম্যারাডোনাকে ‘ইউএসএস আইওয়া’ রণতরি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত তাঁর সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম আমিও।’ম্যারাডোনা তত দিনে ’৮৬ বিশ্বকাপ জিতেছেন। নাপোলিকে জিতিয়েছেন লিগ ও উয়েফা কাপ। পাশাপাশি মাঠে ব্যক্তিগত ঝলকের পসরা তো ছিলই। আসলে মহাতারকা বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই। তা, এই মহাতারকাকে আইওয়ায় কেমন মর্যাদায় বরণ করে নেওয়া হয়েছিল, সেটাও জেনে নিতে পারেন সিনিওরিনির পোস্টে, ‘সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের মতোই অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন তিনি। আমাদের সময়টা দারুণ কাটছিল।’দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর একজন জো বার্নসকিন্তু ওই যে কথায় আছে না, বিধির লিখন না যায় খণ্ডন! ম্যারাডোনাও খণ্ডাতে পারেননি। বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাতে গেলেও তাঁকে সেখানে বল নিয়ে কায়দা–কসরত করে দেখাতে হয়েছে। ইউএসএস আইওয়ায় ব্যাপারটা তাই অবধারিতই ছিল।কারণ, সেই সময়ে ফুটবলকে বশ বানানোর মুনশিয়ানায় সম্ভবত ম্যারাডোনার চেয়ে ভালো কেউ ছিলেন না। নেপলসবাসী তা প্রতিদিনই দেখতেন। আর্জেন্টাইনরা তো তা দেখে আসছিলেন ম্যারাডোনার শৈশব থেকেই। আর বেসবল–পাগল যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ থেকে গোটা বিশ্ব হয়তো সেটাই ভালোভাবে দেখেছেন ’৮৬ বিশ্বকাপে। ফুটবলটা যে সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই পছন্দ করতেন, সেটার প্রমাণ হলো ম্যারাডোনা আইওয়ায় ওঠার পর কোত্থেকে যেন তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি ফুটবল।ওই তো, বল নিয়ে কিংবদন্তির অবিশ্বাস্য সব কারিকুরি দেখার আবদার!সিনিওরিনির পোস্টের ভাষায়, ‘হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটা বল চলে এল। বল পাওয়ামাত্রই একদম ছোটবেলার মতো নাচাতে (জাগলিং) শুরু করে দিলেন ম্যারাডোনা—যেটি আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সের ম্যাচে মধ্যবিরতিতে তিনি নিয়মিত করতেন। কিছু ভাবার সময়ই পাননি!’ হয়তো জানেন কিংবা না–ও জানতে পারেন, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সে থাকতে ম্যাচের বিরতিতে বল নিয়ে বিভিন্ন কারিকুরি দেখিয়ে দর্শককে আনন্দ দিতেন।আইওয়ার ডেকেও সবাইকে ম্যারাডোনা আনন্দ দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাংবাদিক অ্যাঞ্জেলো রসি। তৎকালীন নেপলস ও দক্ষিণ ইতালির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ইল মাতিনোতে কাজ করতেন। ম্যারাডোনার আইওয়া পরিদর্শন নিয়ে পরে প্রতিবেদনও করেছিলেন রসি।ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো দেখতে দেখতে একটি ভাবনা মনে আসতে পারে। ফুটবলে সব কিংবদন্তির পরিচয় বুঝি একটাই—বলের সঙ্গে সখ্য কত ভালো! নইলে রণতরি দেখতে গিয়েও ম্যারাডোনাকে কেন বল নিয়ে ‘জাগলিং’ প্রদর্শন করতে হবে? কেন প্রতিবারই এমন সব মুহূর্তে শিশুর মতো আনন্দ নিয়ে বলকে পোষ মানাতে দেখা যেত ম্যারাডোনাকে! কারণ সম্ভবত একটাই—পৃথিবীতে ম্যারাডোনার সঙ্গে শুধু একটি বস্তুর সম্পর্কেই কখনো চোট লাগেনি। ফুটবল!ম্যারাডোনার জন্মভিটায় এখন ক্ষুধার্তদের ভিড়

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
মোবাইলে ‘সুপার অ্যাপ’ ম্যাক্স, রুশদের ফোনের ‘গোপন প্রবেশদ্বার’

মোবাইলে ‘সুপার অ্যাপ’ ম্যাক্স, রুশদের ফোনের ‘গোপন প্রবেশদ্বার’

ঘরের এক কোণে যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠা এই গাছটি হতে পারে প্রাকৃতিক এয়ার পিউরিফায়ার

ঘরের এক কোণে যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠা এই গাছটি হতে পারে প্রাকৃতিক এয়ার পিউরিফায়ার

এবার ভিন্নরূপে ফিরলেন প্রসেনজিৎ

এবার ভিন্নরূপে ফিরলেন প্রসেনজিৎ

আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আজ ব্রাইটনের মুখোমুখি আর্সেনাল। রাতে আছে বার্সেলোনার ম্যাচ। ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা টি-টুয়েন্টিও আছে।এশিয়ান গেমসবিভিন্ন খেলাসকাল ৬টা, সনি স্পোর্টস ২ ও ৫উদ্বোধনী অনুষ্ঠানবেলা ২-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ২ ও ৫ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগটটেনহাম-অ্যাস্টন ভিলাবিকেল ৫-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও রাজধানীব্রাইটন-আর্সেনালরাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও রাজধানীনটিংহাম-কভেন্ট্রিরাত ১০-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও রাজধানী৩য় টি-টুয়েন্টিইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কাসন্ধ্যা ৭-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১লা লিগাসেল্তা ভিগো-রেসিংরাত ১০-৩০ মি., টি স্পোর্টসসেভিয়া-বার্সেলোনারাত ১টা, টি স্পোর্টস

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
মাত্র ৮৮ ঘণ্টায় ৯০ বছরের পুরোনো মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম সমাধান করল এআই

মাত্র ৮৮ ঘণ্টায় ৯০ বছরের পুরোনো মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম সমাধান করল এআই

আট দফা দাবিতে রংপুর অভিমুখে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ আজ

আট দফা দাবিতে রংপুর অভিমুখে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ আজ

পানি কি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম হতে পারে

পানি কি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম হতে পারে

হাঁচির দোয়া পাঠে নবীজির শেখানো ৭ আদব
হাঁচির দোয়া পাঠে নবীজির শেখানো ৭ আদব

হাঁচি মানবদেহের একটি স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হাঁচির মাধ্যমে শ্বাসনালির ক্ষতিকর ধূলিকণা ও জীবাণু দ্রুত বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়, যা মানবদেহের জন্য এক বিরাট স্বস্তির বিষয়।হাঁচি অনিচ্ছাকৃতভাবে এলেও তার প্রকাশভঙ্গিকে শালীন ও নিয়ন্ত্রিত রাখা ইসলামের সুন্নত। হাঁচির সময় মুখ খোলা রাখলে জীবাণু ও লালার কণা অন্যের গায়ে ছিটকে পড়তে পারে এবং বিকট শব্দ আশপাশের মানুষের অস্বস্তির কারণ হতে পারে।নবীজি (সা.) যখন হাঁচি দিতেন, তখন তিনি নিজের হাত অথবা পরিধেয় কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে নিতেন এবং হাঁচির শব্দ নিচু ও সংযত রাখতেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৪৫)ইসলামে হাঁচিকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; বিপরীতে অলসতাপ্রসূত হাই তোলাকে শয়তানের প্রভাব বলে সতর্ক করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৩)হাঁচির পরে নবীজি দোয়া পাঠ করতেন এবং কেউ দোয়া বললে তার উত্তরেও তিনি বলতেন। সাহাবিদের এই দোয়া পড়ার কয়েকটি আদব তিনি শিখিয়েছেন। আলোচনা করা হলো।১. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশহাঁচি আসার প্রক্রিয়াটি মানুষের ইচ্ছাধীন নয়, কিন্তু হাঁচির পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা সম্পূর্ণ মানুষের ইচ্ছাধীন আমল।রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয়, সে যেন বলে, আলহামদুলিল্লাহ (সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৪)হাঁচি দেওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র যে ক্ষতিকর চাপমুক্ত হয় এবং ফুসফুস স্বস্তি পায়, মুমিন সেই পার্থিব নিয়ামতের তাৎক্ষণিক শুকরিয়াস্বরূপ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ উচ্চারণ করে নিজের এই অজান্তিক ক্রিয়াটিকেও এক অনন্য ইবাদতে রূপান্তর করে।২. উপস্থিত জবাব বলাহাঁচিদাতা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তা শুনে উপস্থিত ভাই বা সঙ্গীর ওপর তার জবাব দেওয়া ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তার ভাই বা সঙ্গী যেন তার জবাবে বলে, ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৪)ইসলামে এই জবাবকে কোনো সাধারণ সামাজিক সৌজন্য হিসেবে রাখা হয়নি; বরং একে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে।রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট হক বা অধিকার রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো, হাঁচির জবাব দেওয়া (তাশমিতুল আতিস)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৪০)নবীজি (সা.) একজনের হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললেন, কিন্তু অপরজনের কোনো জবাব দিলেন না। বাদ পড়া ব্যক্তি জানতে চাইলেন, কেন তার হাঁচির জবাব দিলেন না।দোয়া কি ভাগ্য পরিবর্তন করে৩. উত্তরে কল্যাণের দোয়া করাইসলামি শিষ্টাচারের সৌন্দর্য হলো, দোয়ার জবাবেও আবার কল্যাণের প্রত্যুত্তর দিতে হয়। শ্রোতা যখন হাঁচিদাতাকে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে রহমতের দোয়া করবে, তখন হাঁচিদাতা এর জবাবে বলবে, ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’। (অর্থ: ‘আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত দান করুন এবং তোমাদের সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন।’ সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৪)এভাবে হাঁচি থেকে শুরু হওয়া একটি জৈবিক প্রক্রিয়া পারস্পরিক তিনটি দোয়ার এক অনন্য শৃঙ্খলে রূপ নেয়—প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ), এরপর রহমতের দোয়া এবং শেষে হেদায়েত ও সংশোধন কামনার দোয়া।৪. শুধু শুধু জবাব না দেওয়াহাঁচি শুনলেই অন্ধভাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা শ্রোতার দায়িত্ব নয়; বরং হাঁচিদাতা যদি মুখে আল্লাহর প্রশংসা উচ্চারণ করে, তবেই শুধু তার জবাব দিতে হবে।একবার রাসুলের মজলিসে উপস্থিত দুজনের একজন হাঁচি দিলেন, অতঃপর অপরজনও হাঁচি দিলেন। নবীজি (সা.) একজনের হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললেন, কিন্তু অপরজনের কোনো জবাব দিলেন না।বাদ পড়া ব্যক্তি জানতে চাইলেন, কেন তার হাঁচির জবাব দিলেন না। তখন নবীজি বললেন, ‘এই ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলেছে, কিন্তু তুমি বলোনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২১)অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজেই আল্লাহর দেওয়া স্বস্তির শুকরিয়া আদায় করতে গাফেল থাকে, সে অন্যের রহমতের দোয়ারও হকদার হয় না।৫. ক্রমাগত হাঁচি হলেকারও যদি ঠান্ডা বা অ্যালার্জির কারণে উপর্যুপরি হাঁচি আসতে থাকে, তবে প্রতিবারই কি জবাব দেওয়া আবশ্যক? হাদিস শরিফে এ বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সীমারেখা দেওয়া হয়েছে।নবীজি বললেন, ‘হাঁচিদাতাকে তিনবার পর্যন্ত জবাব দেওয়া হবে। যদি সে এর চেয়ে বেশি হাঁচি দেয়, তবে তা সাধারণ সর্দি; সুতরাং এরপর তুমি চাইলে জবাব দিতে পারো, চাইলে বিরতও থাকতে পারো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৪৪)তিনবারের পর নিয়মিত জবাব দেওয়া আবশ্যক নয়; বরং তাকে অসুস্থ বিবেচনা করে তার আরোগ্যের দোয়া করা যেতে পারে।আল্লাহর সঙ্গে ১০ আদব: মুমিনের সুন্দর ইবাদতের রহস্যঅর্থাৎ তিনবারের পর নিয়মিত জবাব দেওয়া আবশ্যক নয়; বরং তাকে অসুস্থ বিবেচনা করে তার আরোগ্যের দোয়া করা যেতে পারে।৬. অমুসলিম ব্যক্তি হাঁচি দিলেইসলাম অমুসলিমদের সঙ্গে মানবিক সদাচরণ ও তাদের হেদায়েত কামনার এক অনুপম শিক্ষা দেয়। মদিনার ইহুদিরা নবীজির সামনে এসে ইচ্ছা করে হাঁচি দিত, যেন তিনি তাদের জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলেন। কিন্তু নবীজি তাদের জবাবে বলতেন, ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ (আল্লাহ তোমাদের সুপথ দেখান এবং তোমাদের অন্তরের অবস্থা শুধরে দিন)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৩৮)এই হাদিস প্রমাণ করে যে অমুসলিমদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নয়; বরং তাদের আন্তরিকভাবে হেদায়েতের পথে ডাকার দোয়াই হলো ইসলামের শিক্ষা।৭. নামাজ অবস্থায় হাঁচি দিলেনামাজের বাইরের আদব এবং নামাজের ভেতরের বিধান সম্পূর্ণ ভিন্ন। নামাজ হলো রবের সঙ্গে একান্তে কথোপকথন। তাই নামাজরত অবস্থায় কোনো মুসল্লি অন্য কোনো হাঁচিদাতার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলতে পারবে না।হাদিসে এসেছে, সাহাবি মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস–সুলামি (রা.) একবার নামাজের মধ্যে এক ব্যক্তির হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে ফেলেছিলেন। নামাজ শেষে নবীজি অত্যন্ত স্নেহশীল ভাষায় তাঁকে বুঝিয়ে বললেন, ‘এই নামাজে মানুষের স্বাভাবিক কোনো কথাবার্তা বলা বৈধ নয়; নামাজ তো শুধু তাসবিহ, তাকবির এবং কোরআন পাঠ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৩৭)ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, নামাজের ভেতর কোনো মুসল্লির হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললে নামাজ ভেঙে যাবে। (ইবনে আবিদিন শামি, রদ্দুল মুহতার আলাদ–দুররিল মুখতার, ২/৩৭৮, দারু আলামিল কুতুব, রিয়াদ, ১৪২৩ হি.)তবে নামাজরত অবস্থায় নিজের হাঁচি এলে স্বাভাবিকভাবে হাত বা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে নেবে। মুখ দিয়ে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দ বের হয়েও যায়, তবে শুধু এর কারণে নামাজ নষ্ট হবে না।নাহিদা সুলতানা: আলেমা ও প্রাবন্ধিকnahidasultana753375@gmail.comখাওয়ার আদব ও দোয়া

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
চুপিসারে জীববিদ্যার গবেষণাগার চালু করল অ্যানথ্রপিক

চুপিসারে জীববিদ্যার গবেষণাগার চালু করল অ্যানথ্রপিক

প্রেক্ষাগৃহে ৭৫ দিন পার, আজ থেকে ঘরে বসেই দেখা যাবে জয়ার সিনেমা

প্রেক্ষাগৃহে ৭৫ দিন পার, আজ থেকে ঘরে বসেই দেখা যাবে জয়ার সিনেমা

দিনু বিল্লাহকে স্মরণ: আলোচনায় গণসংগীতের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ

দিনু বিল্লাহকে স্মরণ: আলোচনায় গণসংগীতের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ

0 Comments