জাতীয়

সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে ডেভিল ফ্লাওয়ার, কীভাবে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে ডেভিল ফ্লাওয়ার, কীভাবে
সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে ডেভিল ফ্লাওয়ার, কীভাবে

বেশির ভাগ উদ্ভিদ বেঁচে থাকার জন্য সূর্যের আলোর ওপর নির্ভর করে থাকে। তবে থাইল্যান্ডের থং ফা ফুম ন্যাশনাল পার্কের এক ছায়াঘেরা স্থানের মাটিতে এমন এক ক্ষুদ্র উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এই চিরন্তন নিয়ম ভেঙে দিয়েছে। দেখতে ভয়ংকর ও অদ্ভুত গড়নের এই উদ্ভিদের নাম থিসমিয়া ডেমোনা বা ডেভিল ফ্লাওয়ার। গত বছরের মে সাসে যৌথভাবে ডেভিল ফ্লাওয়ারের সন্ধান পান চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটি ও প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা।

ডেভিল ফ্লাওয়ারের মাথায় তিনটি লম্বা শিংয়ের মতো অংশ রয়েছে। এর লালচে-কমলা অংশগুলোকে জ্বলন্ত চোখের মতো দেখায়। উদ্ভিদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের মতো এতে কোনো ক্লোরোফিল নেই। ফলে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে এটি খাদ্য তৈরি করতে পারে না। বেঁচে থাকার জন্য এই উদ্ভিদ পুরোপুরি মাটির নিচের ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের ওপর নির্ভর করে। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মাইকোহেটারোট্রফি প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদটি মাটি থেকে কার্বন ও পুষ্টি সংগ্রহ করে থাকে, যা সূর্যালোকের পরিবর্তে সরাসরি মাটির নিচের ছত্রাক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আর তাই জীবনের বেশির ভাগ সময় পাতার স্তূপের নিচে লুকিয়ে থাকলেও ফুল ও ফল উৎপাদনের সময় এটি অল্প সময়ের জন্য মাটির ওপরে আত্মপ্রকাশ করে থাকে।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি বনাঞ্চলে ডেভিল ফ্লাওয়ার উদ্ভিদটির প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের ৯৩০ থেকে ৯৭০ মিটার উচ্চতায় এটি জন্মে থাকে। সাধারণত আর্দ্র রেইনফরেস্টে এই প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গেলেও পাহাড়ি অঞ্চলে এর উপস্থিতি অবাক করেছে বিজ্ঞানীদের।

প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদবিদ সাহুত চান্তানওররাপিন্ট জানান, এই আবিষ্কার একটি বড় বিস্ময় ছিল। উদ্ভিদটির উচ্চতা ফুলসহ প্রায় সাড়ে বারো সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর মূলগুলো লোমশ এবং প্রবালের মতো। উদ্ভিদটির ফুলের রং প্রায় কালো এবং এর ভেতরে আধা-স্বচ্ছ নীল পুংকেশর রয়েছে। উদ্ভিদটি ফেইরি ল্যান্টার্ন বা পরির লন্ঠন নামেও পরিচিত। বিশ্বজুড়ে এই গণের প্রায় ১২০টি প্রজাতি রয়েছে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
শিল্পে বিশ্বাসের নিপুণ বরাভয়
শিল্পে বিশ্বাসের নিপুণ বরাভয়

বাংলাদেশে ইসলামি ক্যালিগ্রাফি এখন আর কেবল আরবি অক্ষরের সৌন্দর্যচর্চা নয়, ধীরে ধীরে এটি হয়ে উঠছে স্বতন্ত্র এক ভিজ্যুয়াল আর্টের পরিসর। শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া আর্ট অব ফেইথ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬ সেই পরিবর্তনেরই একটি জোরালো প্রতিফলন। প্রদর্শনীটি শেষ হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। ইসলামি ক্যালিগ্রাফি বলতে বাংলাদেশে একসময় বোঝাত আরবি ও উর্দু নির্দিষ্ট অক্ষরের চর্চা। মাত্র দুই দশকে সেই চর্চা বদলে গেছে অনেকখানি। ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিং ও পেইন্টিং ক্যালিগ্রাফির নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, রং ও তার প্রয়োগে নৈপুণ্যের প্রভাব বেড়েছে বহুগুণ। একসময় যে চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল ড্রয়িংরুম আর ক্যালেন্ডারের পাতায়, তা এখন পৌঁছে গেছে পাবলিক ওয়ালেও। জুলাইয়ের গ্রাফিতি উৎসবে দেয়ালে দেয়ালে দেখা গেছে বাংলা ও আরবি ক্যালিগ্রাফির অনবদ্য ও শক্তিশালী প্রকাশ।মাধ্যমেও এসেছে বৈচিত্র্য। শিল্পীরা আর কাগজ-ক্যানভাসে সীমাবদ্ধ নেই; চট, কাঠ, রেজিন, স্টিল, বুনন ও বৈদ্যুতিক লাইটিংয়ের ব্যবহারেও হাত পাকিয়েছেন। বিষয়বস্তুতেও ধর্মীয় বাণীর পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রসঙ্গ। অক্ষর থেকে পেইন্টিং, দেয়াল থেকে পাবলিক স্পেস, কাগজ থেকে বহুমাত্রিক মাধ্যম, নিছক ধর্মীয় অলংকরণ থেকে সমকালীন ভাবনা—এ যাত্রাই সম্ভবত গত দুই দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।মাত্র দুই দশকে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামি ক্যালিগ্রাফির চর্চা করেন এমন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সহস্রাধিক। চাইলেই এখন ৫০-১০০ শিল্পীর প্রদর্শনী আয়োজন করে ফেলা যায়।রাজধানীর গ্যালারিগুলোতে সাধারণত যেসব আর্ট এক্সিবিশন হয়, তার তুলনায় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি। এর একটা কারণ সম্ভবত জাদুঘরের অবস্থান ও পরিচিতি। আরেকটা কারণ ধর্মীয় বিষয়বস্তুর প্রতি সাধারণ দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ, যা প্রচলিত সমকালীন শিল্প প্রদর্শনীতে সব সময় দেখা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রদর্শনীর প্রচার হয়েছে ভালোভাবে, যা তরুণ দর্শকদের টেনে আনতে সাহায্য করেছে বলে মনে হয়েছে। পুরো গ্যালারি ছিল ছবিতে ভরা, অধিকাংশ দেয়ালে দুই সারি ছবি টানানো, কিছু অংশে তিন সারি ছবিও দেখা গেছে।আয়োজক সংগঠন ইসলামিক কালচারাল অর্গানাইজেশনের সভাপতি ইসমাইল হুসাইন জানালেন, ২০১ জন শিল্পীর ৩১০টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে এই প্রদর্শনীতে। নবীন-প্রবীণ শিল্পীর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে ২১ জন শিশুশিল্পীর কাজও।প্রদর্শিত শিল্পকর্মের বেশির ভাগই ইসলামি ক্যালিগ্রাফি। কোরআনের আয়াত, হাদিসের বাণী আর মনীষীদের কথামালা আরবি ও বাংলায় নানা রঙে ও নৈপুণ্যে চিত্রিত হয়েছে। কিছু নিসর্গচিত্রও ছিল প্রদর্শনীতে, তার মধ্যে কিছু রিয়েলিস্টিক, কিছু সেমি–রিয়েলিস্টিক, কিছু আবার সম্পূর্ণ বিমূর্ত।শিল্পী আনাস খান তাঁর স্টিলের শিল্পকর্মে ব্যবহার করেছেন আরবের সুগন্ধি। তাঁর ভাষ্য, ‘শিল্পকর্ম সাধারণত দেখার বিষয়, আমি চেয়েছি সুগন্ধির ব্যবহারে একে বিশেষায়িত করতে। সম্ভবত আমি সফল, দর্শনার্থীরা ভালোই উপভোগ করছেন।’ ঘ্রাণকে শিল্পের উপকরণ বানানোর এই সিদ্ধান্ত প্রদর্শনীর মাধ্যম-বৈচিত্র্যের সবচেয়ে সাহসী উদাহরণগুলোর একটি।নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়। তাবাসসুম আম্বিয়া সামিরা, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ক্রাফট বিভাগে পড়েন, জানালেন শিল্পকর্মে বৈপ্লবিক থিমের ব্যবহার তাঁকে অন্য রকম অনুভূতি দেয়। তাঁর একটি ক্যানভাসে এঁকেছেন ফিলিস্তিনের পতাকা ও কেফিয়াহ, মাঝে ব্যবহৃত গ্রেনেটে ফুলগাছে ফুল ফুটে আছে। কেবল বিপ্লব বা প্রতিবাদ নয়, দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতিও তাঁর দরদ স্পষ্ট। আরেকটি কাজে এঁকেছেন জামদানির টেক্সচার ও চারপাশে অক্ষরের নানা শৈল্পিক উপস্থাপনা। ধর্মীয় ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতীক ও দেশীয় কারুকাজের এই মিশেল প্রদর্শনীর সবচেয়ে সমকালীন দিকটি স্পষ্ট করে তোলে।সিনিয়র শিল্পীদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার, আরিফুর রহমান, ইব্রাহীম মণ্ডল ও আমিনুল ইসলাম আমিনের শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আমিনের একটি কাজ বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। সাদা কাগজে কালো কলমের ক্রস-হ্যাচিং পদ্ধতিতে তিনি এঁকেছেন সুরা আর-রাহমানের সেই বিখ্যাত পুনরাবৃত্ত আয়াত, গোটা সুরাজুড়ে যা এসেছে ৩১ বার। এর বাংলা ভাবার্থ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে। কেবল আয়াতের অর্থ নয়, রেখার প্রতিটি স্তর কীভাবে একটির পর একটি বসেছে তার কারুকাজেই বোঝা যায় ধৈর্য আর মনোযোগের কতটা বিনিয়োগ হয়েছে এই একটি কাজে।শিল্পী জোবায়ের আহমদ জামিলের কাজও আলাদাভাবে বলার দাবি রাখে। তিনি শিল্পকর্ম গড়তে রংতুলির ব্যবহারই করেননি। ছালার চট, টুকরা টুকরা কাঠ ও পাটের রশি দিয়ে গড়েছেন এক অসাধারণ কম্পোজিশন, যার সামনে মুগ্ধ হয়ে লম্বা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মোল্লা হানিফ, উসাইদ মুহাম্মাদ, সুলতান আমানুর রহমান, সিফাতুল্লাহ, আব্দুর রহমান রুমি, ত্বাসীন ত্বাহা, ওসমান হায়াত, রেদওয়ান নুর, আজিজুল হক রিয়াজ, আবরারুল হক, আজমিরা মুনা, রাইসা তাসনিম, ইশরাত আমিনা, সাওদা ইসলাম, সুলতানা জয়নব ও মুশফিকা মেহেকের কাজও প্রশংসার দাবি রাখে, যদিও প্রতিটি নিয়ে আলাদা করে বলার সুযোগ এই স্বল্প পরিসরের লেখায় নেই।গত দুই যুগে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অনেক ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী হয়েছে, তার অধিকাংশই আমার দেখা। বিষয়, মাধ্যম ও নৈপুণ্যের বৈচিত্র্যের বিচারে এই প্রদর্শনী আমার কাছে বিশেষ মনে হয়েছে। শিল্পীর সংখ্যা ও প্রদর্শিত শিল্পকর্মের পরিমাণ বিবেচনায়, আমার দেখা প্রদর্শনীগুলোর মধ্যে এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম বৃহৎ, বরং বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ইসলামি ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়গুলোর একটি বলা যায়। বাংলাদেশি শিল্পীদের পাশাপাশি ভারতের দুজন শিল্পীও এবার তাঁদের শিল্পকর্ম পাঠিয়েছেন। আয়োজকদের আশা, আগামী বছর ঢাকায় তাঁরা আন্তর্জাতিক পরিসরে ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন করবেন।এই প্রদর্শনীর সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো শিল্পকর্মের সংখ্যা নয়, বরং ইসলামি ক্যালিগ্রাফিকে নিছক ধর্মীয় অলংকরণের গণ্ডি থেকে বের করে এক বিস্তৃত শিল্পভাষার দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস। এই ভাষা এখনো তার নিজস্ব নন্দনতত্ত্ব, সীমা ও সম্ভাবনা খুঁজে চলেছে। তবে আর্ট অব ফেইথ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬ দেখিয়ে দিল, সেই অনুসন্ধান ইতিমধ্যে অনেকখানি এগিয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
অপরাধীর আক্ষেপ

অপরাধীর আক্ষেপ

ছয় দিন সাগরে ভেসে ছিল এফভি কুলসুমা, শেষ দিনে জালে ২৬ লাখ টাকার ইলিশ

ছয় দিন সাগরে ভেসে ছিল এফভি কুলসুমা, শেষ দিনে জালে ২৬ লাখ টাকার ইলিশ

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উপভোগ করলেন খুলনার বন্ধুরা

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উপভোগ করলেন খুলনার বন্ধুরা

বেতনের পেছনে রিয়াল কত খরচ করতে পারবে, বার্সেলোনা কত
বেতনের পেছনে রিয়াল কত খরচ করতে পারবে, বার্সেলোনা কত

মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু আর সেভিয়ার রামোন সানচেজ পিসহুয়ান। স্পেনের মানচিত্রে স্টেডিয়াম দুটির দূরত্ব খুব বেশি নয়; কিন্তু লা লিগার নতুন আর্থিক হিসাবের খাতা খুললে মনে হবে, তারা যেন বাস করছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি গ্রহে। একদিকে উপচে পড়া সম্পদ, অন্যদিকে কেবলই টিকে থাকার লড়াই।এই বিভাজন অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে আসন্ন মৌসুমের জন্য লা লিগার ঘোষিত বেতনসীমা সেই ছবিটাকে যেন আরও প্রকট করে তুলেছে। রিয়াল মাদ্রিদ তো এমনিতেই যোজন যোজন এগিয়ে। তাদের নতুন বেতনসীমা এখন ৮৩ কোটি ইউরো। আগের মৌসুমের ৭৬ কোটি ১০ লাখ ইউরো থেকে এই বৃদ্ধি বুঝিয়ে দেয়, কেন তারা খরচের বেলায় ইউরোপের অবিসংবাদিত রাজা।আর বার্সেলোনা? একসময় আর্থিকভাবে খাদের কিনারে চলে যাওয়া কাতালান ক্লাবটি যেন আবার শ্বাস নিতে শুরু করেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাদের বেতনসীমা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ১৪ কোটি ৪০ লাখ ইউরোতে! সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে বার্সেলোনার এবারের বাজেট ৫৮ কোটি ২০ লাখ ইউরো।বেতন সীমায় রিয়াল ও বার্সার ঠিক পরেই আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। লা লিগার শীর্ষ পাঁচ ক্লাবের বেতনসীমা খেয়াল করলেই ক্লাবগুলোর আর্থিক সামর্থ্যের বৈষম্য পরিষ্কার হয়ে যায়। রিয়াল ও বার্সার ঠিক পরেই আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। তাদের বাজেট ৩৬ কোটি ১২ লাখ ইউরো। এরপরের দুটি নাম ভিয়ারিয়াল ও রিয়াল বেতিস, যাদের বাজেট যথাক্রমে ১৭ কোটি ৫ লাখ ইউরো এবং ১৪ কোটি ২৮ লাখ ইউরো। মুদ্রার উল্টো পিঠে আছে সেভিয়া। একসময় ইউরোপা লিগ নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা ক্লাবটির এবারের বাজেট মাত্র দুই কোটি এক লাখ ইউরো।অবশ্য বার্সেলোনার মাথায় এখনো আড়াই শ কোটি ইউরোর বিশাল ঋণের বোঝা। নিউইয়র্ক টাইমস তো তাদের বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত ক্লাবই বলে দিয়েছে। কিন্তু ফোর্বসের তালিকায় সবচেয়ে দামি ক্লাবের দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদের ঠিক পরেই আছে তারা। গত কয়েক মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আয় তাদের এই বিশাল দেনার ধাক্কা সামলে সামনে এগোতে সাহায্য করছে।লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসও বলেছেন, ‘আমি প্রায়ই পড়ি বার্সেলোনার কত কোটি ইউরো ঋণ আছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনার আয় আর সেই ঋণ শোধ করার সামর্থ্য। বার্সেলোনার ১০০ কোটি ইউরো আয় আছে। নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার সামর্থ্যও তাদের আছে।’বেতনসীমা কী২০১৩ সালে শুরু হওয়া এই নিয়ম মূলত ক্লাবের আয়, ব্যয় ও ধারের হিসাব মিলিয়ে ঠিক করা হয়। মূল দল, রিজার্ভ, একাডেমির খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বেতনের পেছনে কত টাকা খরচ করা যাবে, তারই একটা সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হয় এই নিয়মে। এই নিয়মের লক্ষ্য পরিষ্কার। অতিরিক্ত খরচ ঠেকানো, প্রতিযোগিতার ভারসাম্য রাখা।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
প্রতিবন্ধকতা জয় করে তাঁরা যেভাবে সফল হলেন

প্রতিবন্ধকতা জয় করে তাঁরা যেভাবে সফল হলেন

ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন জাহান

ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন জাহান

ইমিগ্রেশন ফাঁকি দিয়ে দিল্লি ছাড়লেন ৩ বিদেশি, ভারতে তোলপাড়

ইমিগ্রেশন ফাঁকি দিয়ে দিল্লি ছাড়লেন ৩ বিদেশি, ভারতে তোলপাড়

ডিএসসিসিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে
ডিএসসিসিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য মাসিক ফি ১০০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও অতিরিক্ত ফি আদায়ের ঘটনা চলছে। এ বছরের মে মাসে প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে নির্ধারিত ফির বাইরেও ময়লার জন্য বাড়তি টাকা দিতে হয় বলে জানিয়েছিল। যদিও সে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ডিএসসিসি প্রশাসক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তবু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ব্যবধানে যে কতটা ফারাক, তা সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।ডিএসসিসির কোথাও কোথাও রসিদে ১২০ টাকা লিখে বাড়তি ৫০ টাকা হাতে নেওয়া হচ্ছে, কোথাও নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এই অতিরিক্ত টাকার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। আবার নির্ধারিত টাকা দেওয়ার পরও নিয়মিত ময়লা না নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। নিয়মিত ময়লা না নেওয়ায় জমে থাকা ময়লা থেকে দুর্গন্ধসহ নাগরিকদের নানাবিধ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কোনো সন্দেহ নেই সেবা দেওয়ার নামে এই অতিরিক্ত ফি আদায় একধরনের চাঁদাবাজি।নির্ধারিত টাকার বেশি নিলে বা নিয়মিত ময়লা না সরালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি আরও মাস চারেক আগে দিলেও এখনো কোনো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সাত দিন অন্তর তদারকির প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে নির্দেশনা কাগজে–কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। আবার অভিযোগ দিলে ময়লা নেওয়াই বন্ধ হয়ে যায় কি না—এ আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নগরবাসীরা।অতিরিক্ত ফি আদায়ের সঙ্গে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন সময়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। নগরবাসীকে সেবা দেওয়ার নামে নাগরিককে জিম্মি করে অতিরিক্ত ফি আদায় চক্রের জন্য লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।আমরা মনে করি, এ সমস্যা সমাধানে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রশাসনিক নির্দেশনা যেন মাঠে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য সুষ্ঠুভাবে তদারক করতে হবে। মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যদি তদারকিতে অনীহা প্রকাশ করেন কিংবা নিয়মিত প্রতিবেদন না দেন, তবে তাঁদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।পাশাপাশি নগর-পরিকল্পনাবিদদের বিভিন্ন পরামর্শ আমলে নেওয়া জরুরি বলে মনে করি। ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর, অনিয়মে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে হবে। কেবল সদিচ্ছার কথা জানানোই পর্যাপ্ত নয়, বরং সেটা বাস্তবায়ন করেই ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতির সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। নগরবাসীকে অতিরিক্ত ফি ও দুর্গন্ধের ভোগান্তি থেকে বাঁচাতে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তদারকি জোরদার করবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে চাঁদাবাজিমুক্ত করবে—এটাই প্রত্যাশা।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
স্বর্ণজয়ী সতীর্থদের সঙ্গে দুপুরে আড্ডায় মাতবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

স্বর্ণজয়ী সতীর্থদের সঙ্গে দুপুরে আড্ডায় মাতবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

১০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁর মান নিশ্চিত করতে হবে

১০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁর মান নিশ্চিত করতে হবে

সৌদি আরবে হুথির মুহুর্মুহু হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা

সৌদি আরবে হুথির মুহুর্মুহু হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা

0 Comments